The Religious Advice
Статистикаহেদায়াতের পথে আসতে চাওয়া দ্বীনি ভাই-বোনদের আরেকটু দাওয়াহ দেওয়ার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা..।
- Последний пост
- 10 авг.
- Последнее чтение
- 14 авг.
- Постов за неделю
- 1
- Всего постов
- 22
- Тип
- открытый
- Язык
- bn
- В каталоге с
- 13 авг.
- 1/24сутки в ленте
- 33
- 1/48двое суток
- 37
- 1/72трое суток
- 40
Оценка по просмотрам недавних постов: пост набирает почти всё за первые сутки.
Посты
আমি বিয়ের আগেও স্ত্রীর বাহ্যিক সৌন্দর্য নিয়ে মাথা ঘামাইনি, বিয়ের এতো বছর পরও ঘামাই না। পাত্রী দেখার সময় মায়ের জিজ্ঞাসার সময়ও স্পষ্ট ভাষায় বলেছি : - চেহারার সৌন্দর্য নয়, মনের সৌন্দর্যটাই আমার আরাধ্য! আপনি তেমন কাউকে পান কি না দেখুন! আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা আমাকে নিরাশ করেননি। ঠিক যেমনটা চেয়েছি তার চেয়েও অনেক গুণ বেশি 'সুন্দর' মনের অধিকারী একজনকে পেয়েছি। অনেক সময় তার মানবিক সৌন্দর্যের দ্যুতি এত বেশি 'চমকদার' হয়ে উঠত যে, আমার সব সৌন্দর্য-যোগ্যতা তার সামনে ম্লান হয়ে যেত! দামেশক ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় আমাদের দুই'শ নম্বরের দর্শনের সাবসিডিয়ারি ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে হতো। পঞ্চাশ নম্বরের নন্দনতত্ত্বও পড়তে হতো। পড়াতেন ফরাসি এক ভদ্রলোক! নাম ভুলে গেছি! তিনি বলতেন : - সৌন্দর্যের মূল আধার বাইরের প্রকৃতিতে নয়! - কোথায় মশিঁয়ে? - তোমার চোখে! তোমার মনে! সেজন্য দেখো না, কুচকুচে কালো ছেলেটাও মায়ের চোখে 'ফুটফুটে'! প্রকৃত সৌন্দর্য কখনো খসে যায় না। সৌন্দর্য সম্পর্কে তোমার অনুভূতি-উপলব্ধি খসে যাওয়াকেই তুমি বলে বেড়াও সৌন্দর্য শেষ হয়ে গেছে! আসলে সৌন্দর্য কি তুমি সেটাই চেনো না। কতো পুরুষ দেখেছি, ঘরে অতি রূপসী স্ত্রী রেখে, আরেক বিদঘুটে নারীর পানে চেয়ে বেড়াচ্ছে, চেহারার সৌন্দর্যই শেষ কথা নয়, চামড়ার রংই সব নয়, মনের রংই আসল! বই : ওগো শুনছো; পৃ. ৬১-৬২। ©
আমি আজকে খুব খুশি, কেন জানেন? ফাইনালি এমন একটা বিশ্বস্ত জায়গা পেয়েছি, যেখান থেকে আমি নির্দ্বিধায় আমার ভাই বোনদের জন্য কিছু পাঠাতে পারবো। ৫ টাকা হোক, ১০ টাকা হোক, আমাকে টেনশন করতে হবে না যে, আদৌ কি তাদের কাছে পৌঁছাবে নাকি পৌঁছাবে না? পেইজটির নাম হচ্ছে - Gazzah এই টিম থেকে সরাসরি আমাদের মজলুম ভাই বোনদের কাছে অন-গ্রাউন্ডে পৌঁছে যাচ্ছে আপনাদের পাঠানো আলু, সবজি, পানির ট্রাক। কি যে ভয়াবহ অবস্থা আপনি সেখানে না থাকলে বুঝবেন না। একটা গ্রুপে ডিরেক্টলি গ|জ| থেকে একজন ভলেন্টীয়ার আপা বার বার অনুনয় করে বলছিলেন, 'ভাই, আমাদের ক্যাম্পের জন্য প্লিজ একটা Water truck দেন। ১ মাস হয়ে গেছে আর দিচ্ছেন না কেন? একটা সবজির ঝুড়ি লাগবে, দিবেন না? প্লিজ দেন। আমি চোখের সামনে আমার ক্যাম্পের মানুষকে মরে যেতে দেখতে পারি না।' আবার একটু পরেই ভদ্রমহিলা এতটা ডেস্পারেট ভাবে চাওয়ার জন্য এডমিনের কাছে ক্ষমা চাচ্ছেন। আল্লাহু আকবার! কতটা অসহায় হলে মানুষ এমন করে! (আমি স্ক্রিনশট এড করে দিচ্ছি দেখুন Umm Hima উনার মেসেজ। ছোট্ট একটা শহরের প্রত্যেকটা প্রান্তেই এত ডেসপারেট অবস্থা যে কাকে ছেড়ে কাকে দিবে, হিমশিম খেতে হচ্ছে। অতো ফান্ড ও নেই। রিচ নেই। তাই আপনারা এগিয়ে আসুন । অন্তত রিচ বাড়িয়ে দিন যেন আল্লাহ যাকে তাওফিক দিবেন, সে এগিয়ে আসতে পারে।) আমি উনাদের প্রজেক্ট গুলো যাইনাবের বাবাকে দিয়ে ভেরিভাই করিয়ে নিয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ। তাও আপনারা নিজেদের জায়গা থেকে নিজেরা ভেরিভাই করে নিয়েন। সব ভিডিও পেইজেই আছে। পেইজে গেলেই দেখতে পারবেন কাজের প্রমাণ। ঘুরে আসুন। আর কিছু সাদাকাহ করতে না পারলেও, পেইজটা ফলো দিয়ে রাখেন। ওদের প্রজেক্টগুলোর সরাসরি অন-গ্রাউন্ড থেকে ভিডিও আসছে রেগুলার। ভিডিও গুলোতে engage করে কমেন্ট করুন নিয়মিত, যেন রিচ বাড়ে এবং আরও মানুষ এগিয়ে আসে, ইনশাআল্লাহ। কি ভয়াবহ দুঃস্বপ্নের চেয়েও বাজে জীবনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এই পৃথিবীর কিছু মানুষ। আর অন্য প্রান্ত থেকে আমি হাসছি, খেলছি, রান্না করে টেবিল মুছে রাখছি, অদৃশ্য সমস্যা নিয়ে দুশ্চিন্তা করছি। কি অদ্ভুত দুনিয়া, তাই না? প্লিজ এগিয়ে আসুন। ৫ টাকা, ১০ টাকা যেভাবে যা পারেন, অন-গ্রাউন্ডে পৌঁছে যাবে আমাদের ভাই বোনদের কাছে ইনশাআল্লাহ। In order to contribute (Send money) ⚪ Bkash: 01992636297 ⚪ Nagad: 01752898448 ⚪ Rocket: 01892777317 ⚪ Bkash/Nagad/Rocket: 01952295824 ***. Please use reference: Gazzah ⚪ Bank: The City Bank Account: Md. Rafiul Hasan Account No.: 2403641563001 Branch: Gulshan Routing no: 225261729 Swift code: CIBLBDDH Cell & WhatsApp: +8801892768579 ⚪ PayPal & Zelle: (743) 895 0335 Please contact: +1 (743) 895 0335 ( এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া নিয়ে স্বচ্ছতার ব্যাপারে কোন প্রশ্ন থাকলে আপনি সরাসরি ওনাদের ফেসবুক পেইজের ইনবক্সে জিজ্ঞেস করে জেনে নিতে পারবেন। এডমিনরা আন্তরিক আলহামদুলিল্লাহ।)
видео или голосовое, без подписи
видео или голосовое, без подписи
আল্লাহর কাছে চেয়েই দেখুন। তিনি কখনো আপনাকে নিরাশ করবেন না। ছোট থেকে ছোট জিনিস, বড় থেকে বড় জিনিস---পদে পদে আল্লাহর কাছেই চাইবেন যেন তিনি আপনাকে আগলে রাখেন, তিনি যেন আপনাকে রহম করেন, তিনি যেন আপনাকে জীবনের সেরা স্বাদ দেন তাঁকে ভালোবাসার মাধ্যমে, তিনি যেন আপনাকে সেরা সাফল্য দেন তাঁর ইবাদাত করার মাধ্যমে, তিনি যেন আপনাকে মানুষের মুখাপেক্ষী না করেন, তিনি যেন আপনাকে ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স দেন। তিনি যেন মজলুমদের উপর রহম করেন, তিনি যেন আমাদেরকে প্রজ্ঞা দেন, রহমত দেন, আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের ভালোবাসা দেন, প্রিয় রসূল(সা) এর সাথে জান্নাতে দেখা করার তাওফিক দেন। একই ভাবে চাইবেন, যেন সকালে ঘুম থেকে সঠিক সময়ে আল্লাহ উঠিয়ে দেন, সারাদিনের ধকল আল্লাহ সামলিয়ে নেন, ভুল বুঝাবুঝি দূর করে দেন, রান্নাটা যেন মজা করে দেন, এসাইনমেন্ট এবং প্রেজেন্টেশন বেস্ট ভাবে গুছিয়ে দেন, যেন পড়াশোনা করা সহজ,সুন্দর, কল্যাণকর করে দেন, আল্লাহই যেন আপনার কাছে সুন্দর জামা এনে দেন, বাচ্চা যখন খুব করে কান্না শুরু করে, তখন যেন আল্লাহই সব সহজ করে দেন, কঠিন topic গুলো যেন হঠাৎ করেই easy আর clear হয়ে যায়, অযথা খরচ থেকে যেন বাঁচিয়ে, দরকারি জিনিসটাতেই বারাকাহ দেন, মানুষের কথায় কষ্ট পেলেও যেন আল্লাহ মনটাকে দ্রুত heal করে দেন, যে কথাটা না বললেই ভালো হতো, সেটা বলার আগে যেন আল্লাহ থামিয়ে দেন, যে কথাটা বলা দরকার, সেটা যেন হিকমাহ নিয়ে বলার তাওফিক দেন, প্রতিটা পদে পদেই আল্লাহর শান্তি, রহমত, বারাকাহ দেন। আল্লাহ না দিলে আর কে দিবেন এসব আমাদেরকে? #দুআ_থেরাপি #রাইটিং_থেরাপি শারিন
видео или голосовое, без подписи
পি'টিয়ে অজ্ঞান করে ফেলার পর জ্ঞান ফিরে সে পানি চাইলে তাকে খেতে দিচ্ছে থিনার। অথবা তারই শরীর ফেটে পড়া র'ক্ত ফ্লোর থেকে চে'টে খেতে বাধ্য করছে! ক্যান্সারের রোগী, একফোটা পানির জন্য যার গলাবুক কারবালার প্রান্তর হয়ে গেছে, তারে পানি না দিয়ে খাওয়াচ্ছে কমোডের পানি। ! পিটাতে পিটাতে হাড্ডি ভেঙে ইনফেকশন হয়ে পঁচা গন্ধ বের হলে কোনরকম অবশ করা ছাড়াই জিন্দা মানুষটার সেই অঙ্গ কেটে ফেলে দিচ্ছে! উ'লঙ্গ করে ক্ষুধার্ত কুকুর সাথে এক সেলে আটকে কুকুরের খাদ্য বানাচ্ছে! এখন কুমিরের খাঁচায় রাখতে চাচ্ছে, এ আর এমন কি! কুমিরের খাদ্য হবে! এতে খুবই বিশ্ববিবেক জেগে উঠবে ভেবেছেন! আরে নাহ। কারো কিসসু এসে যায় না। ইনজয়.. #গাজায়প্রতিদিন ১৮ জুলাই ২০২৬ *** ©Nayema tamanna
❖ দ্বীন মানতে গিয়ে আপনাকে একটু চালাক হতে হবে। উচু নিচু ক্লাস তো শুধু দুনিয়াতে নয়, জান্নাতেও আছে।আর এই চালাকি আল্লাহ পাক পছন্দও করবেন। জান্নাতে এতে আপনার মর্যাদাও বাড়বে। চালাকিটা কোথায় দেখাবেন বলি-- ◉১. ইশা ও ফজরের নামাজ জামাতের সাথে পড়ুন। (প্রতি ওয়াক্তই জামাতের সাথে পড়বেন। কিন্তু এই দুই ওয়াক্ত যেন কোন ভাবেই মিস না হয়)এক হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি ইশা ও ফজর জামাতের সঙ্গে পড়ল, সে যেন সারা রাত দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ল।’ (মুসলিম, হাদিস : ৬৫৬) অর্থাৎ ঘুমিয়ে থেকে সারারাত ইবাদতের নেকি পেলেন। ◉২. কোন ভাবেই কোন ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসী পড়া মিস দিবেন না।হাদিস শরিফে এসেছে, রাসূল (সা.) বলেন-"যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসী পড়বে তার জান্নাতে প্রবেশের মধ্যে কেবল মৃত্যুই একমাত্র বাঁধা।" (সুনানে নাসায়ী, হাদিস: ৯৯২৮) অর্থাৎ দুনিয়া ও জান্নাতের মধ্যে দূরত্ব শুধুই মৃত্যুর। ◉৩. রাতে ঘুমানোর আগে সুরা মুলক একবার পড়ে নেন।এক হাদিসে এসেছে, ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত,"যে ব্যক্তি প্রতি রাতে তাবারাকাল্লায়ী বিয়াদিহিল মুলক পড়বে, আল্লাহ তাআলা তাকে এই সূরার মাধ্যমে কবরের আযাব থেকে বাঁচিয়ে রাখবেন।’ (সহিহুত তারগিব ২/২৫৩, হাদিস: ১৫৮৯) ◉৪. তাহাজ্জুদের নিয়তে ঘুমাতে যান।এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আবু দারদা (রা.) বলেন, "রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করার নিয়তে বিছানায় আসে, কিন্তু তার চোখগুলো নিদ্রা প্রবল হয়ে যাওয়ায় ভোর পর্যন্ত সে ঘুমিয়ে থাকে, তার জন্য তার নিয়ত অনুসারে সওয়াব লেখা হবে, আর আল্লাহর পক্ষ থেকে তার নিদ্রা তার জন্য সদকাস্বরূপ হয়ে যাবে। (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ১৭৮৭)নিয়ত ঠিক করে ঘুমাতেন যান, আর কি। ◉৫. সন্তানকে কুরআনের হাফেজ/হাফিজা বানান। এটা মুস্তাহাব আমল। কিন্তু কাল আখিরাতে একজন হাফেজের বাবা হিসেবে আপনার মর্যাদা অনেক বাড়িয়ে দিবে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি কুরআন পড়বে এবং তার ওপর আমল করবে, তার পিতা-মাতাকে কিয়ামতের দিন একটি মুকুট পরানো হবে, যার আলো সূর্যের আলো অপেক্ষা বেশি হবে। যদি সেই সূর্য তোমাদের ঘরে হয়! সুতরাং যে ব্যক্তি নিজে কুরআনের উপর আমল করে তার সম্পর্কে তোমাদের কি ধারণা?!’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৪৫৩) ◉৬. প্রতিদিন দিনে অন্তত ১০০ বার ইস্তেগফার করুন।মুমিন তো গোনাহ নিয়ে বসে থাকতে পারে না। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা আমাদের সবাইকে আমল করার তাউফিক দান করুন
যে আমলে ২৭ দিনেই বিয়ের সুসংবাদ, আলহামদুলিল্লাহ এক বোনের বয়স বাড়ছিল, কিন্তু বিয়ের বিষয়টি বারবার নানা কারণে আটকে যাচ্ছিল। ভালো প্রস্তাব আসত, আবার কোনো না কোনো কারণে ভেঙেও যেত। এতে তিনি খুব কষ্ট পেতেন, কিন্তু আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হননি। একদিন তিনি নিয়ত করলেন, ৪০ দিনের একটি নফল আমল করবেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করা এবং নিজের প্রয়োজন আল্লাহর দরবারে পেশ করা। প্রতিদিন তিনি— 🌿 তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতেন 🌿 ইস্তিগফার পাঠ করতেন 🌿 দরূদ শরীফ পড়তেন 🌿 এরপর "ইয়া হাল্লালাল মুশকিলাত, ইয়া ক্বাদিয়াল হাজাত" জিকির করতেন তিনি ৪০ দিনে মোট ১,২৪,০০০ বার জিকির সম্পন্ন করার নিয়ত করেছিলেন। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছা ছিল আরও আগে। দিন গড়াতে লাগল। তিনি ধৈর্য ধরে আমল চালিয়ে যেতে থাকলেন। ২৭তম দিনে হঠাৎ একটি উপযুক্ত প্রস্তাব আসে। কথাবার্তা এগোয়, উভয় পরিবার সন্তুষ্ট হয়, এবং অল্প সময়ের মধ্যেই বিয়ের দিন ঠিক হয়ে যায়। সেদিন তিনি সেজদায় পড়ে অশ্রুসিক্ত চোখে বললেন— “আলহামদুলিল্লাহ! আমি আমল শেষ হওয়ার অপেক্ষা করছিলাম, কিন্তু আল্লাহ তাঁর রহমতে তার আগেই আমার জন্য উত্তম ফয়সালা করে দিলেন।” তিনি উপলব্ধি করলেন, কবুল হওয়ার শক্তি সংখ্যার মধ্যে নয়; বরং আল্লাহর রহমত, বান্দার আন্তরিকতা এবং ধৈর্যের মধ্যে। 🤲 হে আল্লাহ! আমাদের সকল বৈধ প্রয়োজন সহজ করে দিন, উত্তম ফয়সালা দান করুন এবং আমাদের দোয়াগুলো কবুল করুন। আমিন। ©
ইমাম সুফিয়ান ছাওরী (রহ.) বর্ণনা করেন, "আমি একবার কাবা শরিফ তাওয়াফ করার সময় একজন যুবককে দেখলাম। সে তাওয়াফের প্রতিটি পদক্ষেপে, সাফা-মারওয়া সাঈ করার সময় এবং আরাফাতের ময়দানেও অন্য কোনো তাসবিহ বা দোয়ার পরিবর্তে কেবল রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর ওপর দরুদ শরিফ পাঠ করছিল। আমি অবাক হয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, 'হে যুবক! তুমি তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ), তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) বা অন্যান্য মাসনুন দোয়া ছেড়ে শুধু দরুদ পড়ছ কেন? এর পেছনে বিশেষ কোনো কারণ আছে কি?' যুবকটি বলল, 'আপনি কে?' আমি বললাম, 'আমি সুফিয়ান ছাওরী।' সে বলল, 'আপনি যদি আপনার যুগের এক অনন্য ব্যক্তিত্ব না হতেন, তবে আমি আমার এই গোপন রহস্য আপনার কাছে বলতাম না।' এরপর যুবকটি তার ঘটনা বলতে শুরু করল: 'আমি এবং আমার বৃদ্ধ পিতা হজের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলাম। পথিমধ্যে এক মঞ্জিলে আমার পিতা হঠাৎ মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সেখানেই ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর পরপরই অলৌকিকভাবে আমার পিতার পুরো মুখমণ্ডল কালো হয়ে গেল এবং পেটটি ফুলে উঠল। আমি চরম লজ্জিত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়লাম। ভাবছিলাম, মানুষ দেখলে কী বলবে! আমি পিতার মুখের ওপর একটি কাপড় টেনে দিয়ে পাশে বসে কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়লাম। ঘুমের ঘোরে আমি এক স্বপ্ন দেখলাম। দেখলাম, এমন এক নূরানী ব্যক্তিত্ব আমার পিতার লাশের দিকে এগিয়ে আসছেন, যাঁর চেয়ে সুন্দর মুখমণ্ডল, পরিচ্ছন্ন পোশাক এবং সুগন্ধি আমি আর কখনো দেখিনি। তিনি এসে আমার পিতার মুখের কাপড়টি সরালেন এবং অত্যন্ত মমতার সাথে তাঁর পবিত্র হাতটি আমার পিতার মুখে বুলালেন। অলৌকিকভাবে সাথে সাথে আমার পিতার কালো মুখমণ্ডল চাঁদের আলোর মতো উজ্জ্বল ও শ্বেতশুভ্র হয়ে গেল এবং পেটের ফোলা ভাব কমে গেল! তিনি যখন চলে যেতে উদ্যত হলেন, আমি তাঁর কাপড়ের আঁচল ধরে আকুল হয়ে কেঁদে বললাম—হে আল্লাহর বান্দা! আল্লাহর ওয়াস্তে বলুন আপনি কে? যিনি এই মুসাফিরখানায় আমার এবং আমার পিতার ওপর এত বড় ইহসান করলেন? তিনি মৃদু হেসে বললেন, "তুমি কি আমাকে চেনোনি? আমি আল্লাহর রাসুল মুহাম্মদ ﷺ। তোমার পিতা জীবনে অনেক গুনাহ করেছে, যার কারণে তার এই দশা হয়েছিল। কিন্তু তার একটি ভালো গুণ ছিল—সে প্রতিদিন ঘুমানোর আগে অত্যন্ত মহব্বতের সাথে আমার ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ শরিফ পাঠ করত। যখন সে এই বিপদে পড়ল, তখন আমার দরুদ পাঠকারী উম্মতের ফরিয়াদ আমার কাছে পৌঁছাল। তাই আমি আল্লাহর দরবারে তার জন্য সুপারিশ করতে এবং নিজের হাতে তাকে মুক্ত করতে ছুটে এসেছি।" যুবকটি বলল, 'যখন আমার ঘুম ভাঙল, আমি কাপড়ের নিচে তাকিয়ে দেখলাম আমার পিতার মুখ সত্যিই নূরের মতো চমকাচ্ছে। হে সুফিয়ান! সেই দিন থেকে আমি প্রতিজ্ঞা করেছি, জীবনে মরণে কোনো অবস্থাতেই আমি আমার নবীজির ওপর দরুদ পড়া ছাড়ব না।' . اَللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍﷺ . 📚-আল-কাওলুল বাদী ফিল সালাতি আলান নাবিয়্যিল শাফী– ইমাম শামসুদ্দিন সাখাবী (রহ.), পৃষ্ঠা: ৩২৪-৩২৫। -ফাযায়েলে আমাল (ফাযায়েলে দরুদ)– শায়খুল হাদিস মাওলানা জাকারিয়া কান্ধলভী (রহ.), ঘটনা নম্বর: ৩। -কিতাবুত তাওয়াবীন– ইমাম ইবনে কুদামা আল-মাকদিসী (রহ.)। #শ্রেষ্ঠযুগের_গল্পগুলো
নারীদের মাহরাম মোটাদাগে ১৪ জন হলেও আরো কিছু আত্মীয় আছেন যারাও মাহরামের তালিকায় পড়েন। অথচ আমরা এ ব্যাপারে না জানার ফলে বিষয়গুলো অনেক জটিল করে ফেলি। তাই চলুন এক নজরে মেয়েদের সমস্ত মাহরামের তালিকাটা দেখে নেই ইন শা আল্লহ: তবে শুরুতে একটা মূলনীতি মনে রাখুন। যে সম্পর্ক গুলো নিজের ক্ষেত্রে মাহরাম হয়, সেগুলো দুধ সম্পর্কীয়/সৎ সম্পর্কেও মাহরাম হয়। যেমন: নিজের ভাই আমার মাহরাম। সৎ ভাই ও আমার মাহরাম। দুধ ভাই ও আমার মাহরাম। আবার, নিজের চাচা আমার মাহরাম। দুধ চাচাও মাহরাম। সৎ চাচাও মাহরাম। একইভাবে, নিজের দুলাভাই আমার মাহরাম না। কাজেই দুধ সম্পর্কীয় দুলাভাই ও মাহরাম না। সৎ সম্পর্কীয় দুলাভাই ও মাহরাম না৷ এবার আসুন, তালিকাটা দেখে নেই ইন শা আল্লহ: ক. বাবা সম্পর্কীয় ১। বাবা ২। চাচা (বাবার ভাই) ৩। দাদা (বাবার বাবা) ৪। দাদার বাবা (বাবার দাদা) ৫। দাদার আপন ভাই (বাবার চাচা) ৬। দাদীর বাবা (বাবার নানা) ৭। দাদীর আপন ভাই (বাবার মামা) খ. মা সম্পর্কীয় ১। আপন মামা (মায়ের আপন ভাই) ২। নানা (মায়ের বাবা) ৩। নানার বাবা (মায়ের দাদা) ৪। নানার আপন ভাই (মায়ের চাচা) ৫। নানীর বাবা (মায়ের নানা) ৬। নানীর আপন ভাই (মায়ের মামা) গ. ভাই সম্পর্কীয় ১। আপন ভাই ২। আপন ভাইয়ের ছেলে ঘ. বোন সম্পর্কীয় ১। আপন বোনের ছেলে(ভাগ্নে) ২। আপন ভাগ্নের ছেলে ঙ. স্বামী সম্পর্কীয়: ১। শ্বশুর (স্বামীর বাবা) ২। দাদা শ্বশুর (স্বামীর আপন দাদা) ৩। নানা শ্বশুর (স্বামীর আপন নানা) চ. ছেলে সম্পর্কীয় ১। আপন ছেলে ২। ছেলের ছেলে (নাতি) ৩। আপন নাতনির(ছেলের মেয়ে) স্বামী ছ. মেয়ে সম্পর্কীয় ১। আপন মেয়ের স্বামী ২। আপন মেয়ের ছেলে (নাতী) ৩। আপন নাতনির(মেয়ের মেয়ে) স্বামী জ. অন্যান্য: ১। এমন বালক যার মাঝে এখনও যৌণ আকর্ষন সৃষ্টি হয় নি। (বালেগ হওয়া শর্ত না।) ২। এমন যৌণ শক্তিহীন বৃদ্ধ পুরুষ যার মাঝে মহিলাদের প্রতি কোন আকর্ষণ নেই। আবার মহিলাদেরও তার প্রতি কোন আকর্ষণ নেই। [এই দুটি ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে বর্তমানে বাচ্চা ছেলেরাও আসলে আর বাচ্চা নেই। একইভাবে বৃদ্ধরাও দেখা যায়...। সেই হেতু বাচ্চাদের বুঝের বয়স হওয়ার পর থেকেই খেয়াল রাখতে হবে। আর যখন মনে হবে সে নারী-পুরুষের ব্যাপারগুলো বুঝতে পারছে তখন থেকেই অবশ্যই পর্দা শুরু করতে হবে। কপি—
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে একটা সুন্দর দুআ শিখিয়েছেন। দুআটি হচ্ছে, «رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ» . "হে আমাদের রব! আমাদের জন্য এমন স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি দান করুন যারা হবে আমাদের জন্য চোখজুড়ানো"। [১] . ইমাম হাসান আল বাসরীকে [রাহ.] এই আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, "এর মানে হচ্ছে আল্লাহ তাআলা তাঁর মুসলিম বান্দাকে দেখাবেন যে তার স্ত্রী, ভাই ও ঘনিষ্ঠজন আল্লাহর আনুগত্যশীল। আল্লাহর কসম, নিজের সন্তান, নাতি, ভাই ও ঘনিষ্ঠজনকে আল্লাহর অনুগত দেখার চেয়ে একজন মুসলিমের কাছে অধিক নয়নজুড়ানো কিছু হতে পারেনা"। [২] . [১) সূরা ফুরকান: ৭৪; ২) ইমাম ইবনু কাসির (রাহ.), তাফসিরুল কুরআনিল আযীম: ৫/৬১৫, উস্তায ড. হিকমাত বিন বাশীরের মতে সনদ হাসান] ©
অসম্ভবকে সম্ভব করার একটা আমল বলি। আপনার কোনো কিছুর খুব প্রয়োজন হয়েছে। ওটা পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন না। ধরেন, টাকা বা অন্যকিছুর জরুরত হয়েছে খুব। কোনো উপায় নেই, কী করবেন বুঝতে পারছেন না। উঠুন। সুন্দর করে ওযু করুন। উত্তম রূপে দরুদ ও ইসতেগফার পাঠ করুন। অতঃপর, সেই জরুরতটা মাথায় রেখে দুই রাকাত সালাতুল হাজত আদায় করুন। সালাত শেষে আবার দরুদ ও ইসতেগফার পাঠ করে রবের কাছে আকুতি মিনতি করে দোয়া করুন। যদি সেটা আপনার জন্য কল্যাণকর হয়, তাহলে নিশ্চিত আপনার সেই জরুরতটা পূরণ হবে ইনশাআল্লাহ। এটা পরীক্ষিত আমল। -মাহমুদ বিন নূর
অবাক করার ব্যাপার হলো, সূরা শামসের শুরুতে আল্লাহ তায়ালা ধারাবাহিকভাবে, টানা, নির্বিচ্ছিন্নভাবে ১১ বার শপথ করেছেন। কী এমন গুরুত্বপূর্ণ কথা, যেটা বান্দাকে বলার জন্য আল্লাহ তায়ালা ১১ বার শপথ করেছেন? এর ধারেকাছের সংখ্যার শপথ গোটা কুরআনের কোথাও নেই। আর সেটা হলো আত্মশুদ্ধি, আত্মনিয়ন্ত্রণ, আত্মসংযম। এ বিষয়টার গুরুত্ব বুঝাতে গিয়ে আল্লাহ ১১ বার শপথ করে বলেছেন, "কাদ আফলাহা মান ঝাক্কা-হা-, ওয়া কাদ খা-বা মান দাস-স-হা-!" যে নিজেকে পরিশোধিত করতে পারলো, নিজেকে পবিত্র করতে পারলো! __ সূরা শামস, আয়াত ৯-১০ তার অভ্যাস ছিল মিথ্যা বলা, কিন্তু সে ছেড়ে দিয়েছে! তার ব্যবহার খারাপ ছিল, কিন্তু সে ব্যবহারটাকে ভালো করার চেষ্টা করে সফল হয়েছে, নিজেকে শাসন করেছে! তার মধ্যে লোভ ছিল, মোহ ছিল, সে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে; তার বদভ্যাস ছিল মোবাইলে হারাম জিনিস দেখা, সে সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছে! তার বদভ্যাস ছিল হারাম জিনিস শোনা, সে সেখান থেকে সরে এসেছে, ট্র্যাক চেঞ্জ করেছে; জাহান্নামমুখী পথ থেকে জান্নাতমুখী পথে এসেছে—‘কাদ আফলাহা মান ঝাক্কা-হা’ যে পরিবর্তন করতে পারলো নিজেকে, পরিশোধিত করতে পারলো নিজেকে, নিয়ন্ত্রণ করতে পারলো নিজেকে, সংযমী করতে পারলো নিজেকে, আল্লাহ বলছেন—১১ বার শপথ করে বলেছেন—এই ব্যক্তি সফল হয়ে গেল।" শায়খ আহমাদুল্লাহ হাফি.
প্রতি শুক্রবার আমরা সূরা কাহাফ পড়ি। ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি—পড়লে নূর পাওয়া যায়, দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচা যায়। কিন্তু হঠাৎ একটা প্রশ্ন মাথায় এলো। দাজ্জাল তো এখনো আসেনি। তাহলে আজ, ২০২৬ সালে বসে আমি প্রতি শুক্রবার সূরা কাহাফ কেন পড়ছি? প্রশ্নটা নিয়ে ভাবতে গিয়ে একটা অদ্ভুত জিনিস বুঝলাম। দাজ্জাল শুধু ভবিষ্যতের কোনো ব্যক্তি না। দাজ্জালের ফিতনা আসলে আজও আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে আছে। সূরা কাহাফ খুলে দেখলাম, পুরো সূরাটা চারটা গল্পের মাধ্যমে চারটা পরীক্ষার কথা বলছে। প্রথম গল্প—গুহাবাসী যুবকদের। তারা ঈমান বাঁচানোর জন্য পুরো সমাজের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল। আজ আমাদেরও কি একই পরীক্ষা হচ্ছে না? সবাই যখন একটা দিকে দৌড়াচ্ছে, তখন আল্লাহর পথে অটল থাকা কি সহজ? দ্বিতীয় গল্প—দুই বাগানের মালিক। আল্লাহ তাকে সম্পদ দিয়েছিলেন। কিন্তু সে সম্পদকে আল্লাহর নিয়ামত না ভেবে নিজের কৃতিত্ব মনে করল। আমি হঠাৎ নিজের দিকে তাকালাম। আমরাও কি আজকাল একই কাজ করি না? ভালো রেজাল্ট হলে বলি—আমার মেধা। ভালো চাকরি হলে বলি—আমার যোগ্যতা। ভালো ব্যবসা হলে বলি—আমার পরিশ্রম। কিন্তু কতবার বলি—এটা আমার রবের অনুগ্রহ? তৃতীয় গল্প—মূসা (আ.) ও খিজির (আ.)। এই গল্পটা আমাকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দেয়। কারণ এখানে আল্লাহ শেখাচ্ছেন, সবকিছু বুঝতে না পারলেই সেটা ভুল হয়ে যায় না। আমাদের জীবনের কত ঘটনাই তো আমরা বুঝতে পারি না। কোনো দোয়া কবুল হতে দেরি হয়। কোনো স্বপ্ন ভেঙে যায়। কোনো প্রিয় মানুষ দূরে চলে যায়। আমরা ভাবি—কেন? কিন্তু খিজিরের ঘটনাগুলো শেষে যেমন রহস্য উন্মোচিত হয়েছিল, হয়তো আমাদের জীবনেও অনেক উত্তরের ব্যাখ্যা পরে জানা যাবে। শেষ গল্প—যুলকারনাইন। ক্ষমতা পেয়েও তিনি নিজেকে বড় ভাবেননি। আজকাল মানুষ সামান্য অনুসারী, সামান্য টাকা, সামান্য পরিচিতি পেলেই বদলে যায়। কিন্তু যুলকারনাইন আমাদের শেখান— ক্ষমতা মানুষের মর্যাদা বাড়ায় না। ক্ষমতার ব্যবহারই মানুষের মর্যাদা নির্ধারণ করে। তখন বুঝলাম, সূরা কাহাফ আসলে শুধু পড়ার জন্য না। এটা প্রতি সপ্তাহে নিজের হৃদয় পরীক্ষা করার একটা আয়না। আমি কি ঈমানের পরীক্ষায় আছি? আমি কি সম্পদের পরীক্ষায় আছি? আমি কি জ্ঞানের অহংকারে ভুগছি? আমি কি ক্ষমতার অপব্যবহার করছি? হয়তো এ কারণেই শুক্রবারে সূরা কাহাফ পড়তে বলা হয়েছে। কারণ পুরো সপ্তাহ দুনিয়ার ভিড়ে দৌড়ানোর পর মানুষ যেন অন্তত একদিন থেমে নিজের হৃদয়টাকে দেখে নিতে পারে। আর নিজেকে মনে করিয়ে দিতে পারে— দাজ্জালের ফিতনা আসার আগেই ছোট ছোট ফিতনাগুলো আমাদের চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে প্রতিনিয়ত। আর সূরা কাহাফ শুধু ভবিষ্যতের দাজ্জাল থেকে বাঁচার শিক্ষা নয়, এটা আজকের বিভ্রান্ত দুনিয়ায় ঈমান নিয়ে বেঁচে থাকারও পাঠ। ✍️ÛmMĕ Şă'Ađ ...
ডা: দীপ্রা তাবাসসুম মেয়েটার মৃত্যু হল। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদাউসবাসী করেন দোয়া করি। অন্তত তাকে আর ধুঁকে ধুঁকে কষ্ট পেতে হবে না... দিনের পর দিন। এটুকুন সান্তনা। ওনার ২ বছরের বাচ্চাটার কথা চিন্তা করছি। …
ডা: দীপ্রা তাবাসসুম মেয়েটার মৃত্যু হল। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদাউসবাসী করেন দোয়া করি। অন্তত তাকে আর ধুঁকে ধুঁকে কষ্ট পেতে হবে না... দিনের পর দিন। এটুকুন সান্তনা। ওনার ২ বছরের বাচ্চাটার কথা চিন্তা করছি। আল্লাহ যেন এই বাচ্চাটার জন্য অভিভাবক হিসেবে যথেষ্ট হয়ে যান। কি অদ্ভুত! নিজের শ্বশুর বাড়িতেই একটা রুমের মধ্যে লকড থাকা অবস্থায় প্রচন্ড মানসিক টর্চার/ শারীরিক টর্চার পেয়ে তিলে তিলে মেয়েটা মরে গেল। এই মেয়েটার শ্বশুর, শাশুড়ি, স্বামী সবাই বড় বড় ডাক্তার! বিরাট বিরাট এক একটা পদবী নিয়ে, নামকরা হাসপাতাল গুলোতে হেড হিসেবে আছে একেক জন। অথচ এরাই সবাই মিলে গ্যাং হয়ে একটা মেয়েকে অত্যাচার করতে করতে সর্বনিম্ন লেভেলে নেমে এসেছে। আসলে অত বড় বড় শিক্ষা, ডিগ্রী, আর প্রশিক্ষণ যতই থাকুক না কেন.... নিজের নাফস, ইগো, আর শয়তানের কৌশলের কাছে এসে সবাই ধর্না দিয়ে যায়। নামের পাশে পদবী যুক্ত থাকে। কিন্তু নিজ অহংকারের কাছে নিজেরাই গোলাম। তাদের থেকে একটু দুর্বল অবস্থায় যারা আছে, ওদের প্রতি এই এলিটদের পশুপ্রবণতাই বের হয়ে আসে... এরকম দীপ্রাদের মতন যারা অসহায় দিনের পর দিন মেন্টাল/শারীরিক টর্চারের শিকার, আই হ্যাভ নো আইডিয়া আমি তাদেরকে কি বলব? কীভাবে তাদেরকে সাহায্য করবো? কি বলবো আসলে তাদেরকে? আরে এই মেয়েটা তো একটা ডাক্তার! শিক্ষিত! তাকে এতটাই অসহায় করে দেওয়া হয়েছে যে, না সে বের হতে পারছে এই অত্যাচারের বলয় থেকে! না সে সংসারে বাঁচতে পারছে! ১০ বছর আগে কোন আপু যদি আমাকে বলতো, তার গায়ে হাত তোলা হচ্ছে, তাকে প্রচন্ড টর্চার করা হচ্ছে, আমি উত্তেজিত হয়ে বলে দিতাম, 'আপু বের হয়ে চলে আসেন। এভাবে কত দিন সহ্য করবেন?' এখন যতই দিন যাচ্ছে, যতই বড় হচ্ছি, মনে হচ্ছে একটা মেয়ে বের হয়ে কোথায় যাবে? কার কাছে যাবে? সে তো বাবার বাড়িতেও বোঝা হয়ে থাকতে পারবে না? আর নিজের সংসারেও অমানুষের মতো দিন কাটাতে পারবেনা? আর ছোট সন্তান হয়ে গেলে তো কথাই নেই! পরিবার টুকরা টুকরা হয়ে গেলে সন্তানের কি হবে? কোথায় যাবে মেয়েটা? এই টর্চার হচ্ছে যে মেয়েগুলো প্রতিনিয়ত প্রতিদিন! কত যে না বলা গল্প আছে দরজার পেছনেই রয়ে যায়। ওদের আসলেই যাওয়ার জায়গা নেই। ওদের একমাত্র যাওয়ার জায়গা: আল্লাহর কাছে! আল্লাহ যখন ওদেরকে আল্লাহর কাছে নিয়ে নেন, এটাই হয়তো ওদের একমাত্র নিঃশ্বাস ফেলার শান্তির জায়গা। কখনো জায়নামাজে কাঁদতে কাঁদতে... কখনো কাফনের কাপড়ে লাশ হয়ে... অনেকটা আছিয়া(আ) এর জান্নাতে আল্লাহর পাশে একটা ঘর পাওয়ার মিনতি করার মতই। ফেরাউনের অত্যাচার থেকে তিনি বেঁচেছিলেন জান্নাতে আল্লাহর কাছে গিয়েই। বুকটা এত ভারী হয়ে যায়, এক একটা জুলুমের খবর নিতে নিতে। তবে অবিবাহিত আপুদেরকে একটা ছোট্ট অনুরোধ করবো: আপু আপনারা যখন বিয়ের জন্য পাত্র খুঁজছেন এবং পরিবার খোঁজখবর নিচ্ছে, তখন একটা পরিবার আদৌ টক্সিক কিনা এটা আগে থেকে বুঝার খুব একটা উপায় নেই। আপনি অনেক ভালোভাবে খোঁজ নিতে পারেন। অবশ্যই চেষ্টা করবেন, হবু স্বামী/শ্বশুর বাড়ির মানুষদের কথাবার্তা/ বডি ল্যাঙ্গুয়েজ থেকে যতটুকু আঁচ করা যায়, একটু চোখ কান খোলা রাখতে। নিজেকে এত ফেলনা মনে করবেন না যে, আমার তো বিয়ে হচ্ছে না, তাই যাকে তাকেই বিয়ে করে ফেলি। তার আচার-আচরণে খুব খারাপ লাগলেও আমার তাকেই বিয়ে করতে হবে, এমন কোন কথা নেই। আপনার জীবনের মূল্য আছে। এর পাশাপাশি অবশ্যই আপনারা মন প্রাণ লাগিয়ে দোয়া করবেন। রাত জেগে জেগে ঘন্টার পর ঘন্টা দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন আপনাকে বিষাক্ত কোন শ্বশুরবাড়ি না দেন। জালেম, অহংকারী, অত্যাচার করার মানসিকতা রাখে --- এই ধরনের স্বামী, শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়-স্বজন অথবা ইন জেনারেল যেকোনো আত্মীয়/বন্ধু যারা আপনার সংস্পর্শে আসবে তারা কেউই যেন বিষাক্ত না হয়। এই ধরনের বিষাক্ততা থেকে আল্লাহ যেন আপনাকে রক্ষা করেন। আল্লাহ যেন আপনাকে পরম আদরে আগলে রাখেন। অদৃশ্য বিপদ থেকে আল্লাহই যেন আপনাকে হেফাজত করেন। শুধু এই একটা কথা নিয়েই বারবার কান্নাকাটি করে আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন। ঠিক আছে? টুকটাক ১০ টাকা ৫ টাকা সাদাকাহ করে দিবেন যখন আপনার বিয়ের কথা চলছে। জানেন তো? সাদাকার মাধ্যমে আল্লাহর অনুমতিতে বিপদ দূর হয়। আপনি যখন সাদাকাহ দিবেন, আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন, আল্লাহ আমি পাঁচ টাকা দান করছি আপনার সন্তুষ্টির জন্য। আমি জানি একমাত্র আপনিই পারেন, আমার জীবন থেকে অনাগত, অদেখা বিপদগুলো দূর করে দিতে। ডাঃ দীপ্রা মারা যাওয়ার আগে নাম গোপন রেখে একটা ফেসবুক গ্রুপে সাহায্য চেয়ে পোস্ট করে। বিভিন্ন সময় তার ফ্রেন্ডদের কাছে দুঃখের কথা বলে। অনেকেই তাকে হালকা-পাতলা করে বলেছে যে, আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও। এই ১০ দিনে দুআ কবুল হয়। নিজে শক্ত হও। নামাজ পড়ে সাহায্য চাও আল্লাহর কাছে।
আপন মানুষগুলোর প্রতিই অভিমান বেশী হয়। চিল্লা-পাল্লা, রাগারাগি বেশী হয় কাছের মানুষদের সাথেই। যেখানে ভালোবাসা বেশী, সেখানে আবেগ-আবদার বাঁধ মানতে চায় না। তবে ভারসাম্য হারিয়ে গেলে সম্পর্কগুলো আর ভালো থাকবে না। অতিরিক্ত কিছুই তো ভালো নয়। অতিরিক্ত মায়াও ভালো না। অতিরিক্ত রাগারাগিও ভালো না। সম্পর্কের ব্যলেন্স ছুটে গেলে জীবনজুড়ে আসে অশান্তি। হাজার হোক, ছোট ছোট সম্পর্কগুলোর মায়াজালেই তো আমাদের জীবন জড়ানো। যে কোন সম্পর্কে ভারসাম্য নিয়ে আসার সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হল, তাকওয়া দিয়ে সম্পর্কগুলোকে সংজ্ঞায়িত করা। যতটুকু সম্ভব সম্পর্ক নিয়ে আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার ভয় করা। আল্লাহর খুশির জন্য কিছু জিনিস ছেড়ে দেয়া। আবার আল্লাহর খুশির জন্যেই লেগে থাকা। সেটা কীভাবে করবো? নিচের পয়েন্টগুলো নিয়ে ভাবা শুরু করা একটা ভালো প্রাথমিক স্টেপ হতে পারে ইনশাআল্লাহ। ★ আমি কি এই সম্পর্কের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করছি? সব পরিস্থিতিতে ক্ষমা করা অথবা চাওয়া সাজে না। তবে যেসমস্ত পরিস্থিতিতে সাজে, সেখানে ক্ষমা করতে পারলে আপনার হালকা লাগবে। শান্তি লাগবে। অন্তরে জোর পাবেন ইনশাআল্লাহ। ★ সম্পর্কের প্রতিটা ধাপে আমার আল্লাহর সাথে নিয়তটা ঠিক রাখছি তো? ★ আমি কি সততার সাথে Openly communicate করতে পারি অপর পক্ষের সাথে? আমার প্রয়োজন এবং সম্পর্কের প্রত্যাশাগুলো তাকে বলেছি কখনো? নাকি ভেবে বসে থাকি যে, অন্য মানুষ আমার মনের কথা পড়ে নিবে? ★ তাকে সুন্দরভাবে বলতে জড়তা কাজ করে? কি সমস্যা হচ্ছে সেটা গুছিয়ে বলতে পারবো না, এই জড়তার ভয়ে চুপ থাকি? নাকি বলা শুরু করলে রেগে যাব ভেবে আর বলাই হয় না? ★ চেপে রাখা কথাগুলো কি সম্পর্ককে আরও ভালো করছে নাকি খারাপ করছে? ★ সম্পর্কের হক আদায় করতে পারছি? ★ হক আদায় করতে না পারলে সেটা কি ইচ্ছাকৃত নাকি অনিচ্ছাকৃত? আল্লাহর খুশির জন্য সম্পর্ক ভালো রাখার চেষ্টা করাটাই যে আসল। Outcome এর জন্য আমাকে ধরা হবে না, আমার চেষ্টার জন্য ধরা হবে, সেটা কি বুঝি? সব পরিস্থিতিতে ক্ষমা করা অথবা চাওয়া সাজে না। তবে যেসমস্ত পরিস্থিতিতে সাজে, সেখানে ক্ষমা করতে পারলে আপনার হালকা লাগবে। শান্তি লাগবে। অন্তরে জোর পাবেন ইনশাআল্লাহ। #রাইটিং_থেরাপি শারিন
تَقَبَّلَ اللَّهُ مِنَّا وَمِنكُمْ তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুন। সবাইকে পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা এবং ঈদ মোবারক 🌙✨ আল্লাহ সুবাহানু তা'য়ালা আমাদের এবং আমাদের পরিবারে উত্তম বারাকাহ দান করুন এবং আমাদের নেক আমলগুলো কবুল করে নিক। আল্লাহুম্মা আমিন।
বয়সে বৃদ্ধ। এসেছেন গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর থেকে। হোটেল লবিতে বসে কথাবার্তা বলছি। খুব আবেগী মনে হলো। জানতে চাইলাম ─ ─ কি কাজ করেন বাড়িতে? ─ ক্ষেত-খামার করি। ─ আচ্ছা ! তাহলে হজে আসলেন কীভাবে? উত্তর দিলেন :─ বাবা! ১৮ বছর আগে হজের ইচ্ছা করি। কাবা ঘরটা দেখার শখ ছিলো অনেক। হজের উদ্দেশ্যে ১৮ বছর আগে জমি ও ক্ষেতের আইলে ইউক্লেক্টারসহ কিছু গাছ রোপন করি। হজ করার আশা নিয়ে গাছের পরিচর্যা করতে থাকি। গাছগুলো বড় হয়। এবার সে গাছগুলোর বেচা টাকা দিয়েই হজে আসলাম। আমি বললাম ─ মাশাআল্লাহ। আপনার হজের টাকাটা কত পিওর ! কোন হারামের মিশ্রণ নেই। সম্পূর্ণই পরিশ্রমের টাকা। হাজি সাহেব বললেন─ আরেকটু শুনুন ! গাছগুলো বড় হওয়ার পর প্রায়ই যখন রাত হতো, মানুষ ঘুমিয়ে পড়তো, আমি গাছগুলোর কাছে যেতাম। গাছ ধরে ধরে কাঁদতাম, দোয়া করতাম— আল্লাহ যেনো আমাকে হজে নিয়ে যান। একটা গাছের বয়স আঠারো। সেটি বেচে ৩০ হাজার টাকা জোগাড় হলো। দেরি না করে সেই টাকা দিয়েই হজের রেজিস্ট্রেশন করে ফেলি। এরপর প্রথমে ২২টা। তারপর ২০ টা গাছ বিক্রি করে হজের টাকা সংগ্রহ করি। কাঁদোকাঁদো হয়ে গেলেন। বললেন ─ আল্লাহই আমারে নিয়ে এসেছেন। এরপরে আরও অনেক কথা হলো। আমি কাছ থেকে নিখাদ হৃদয়ের মানুষটিকে দেখতে থাকলাম। ভাবলাম এসব হাজিদের হজ কবুল হতে আর কত দেরি ! | সংগৃহীত |