tgindex
ইসলামী জিন্দেগী

ইসলামী জিন্দেগী

Статистика

এই চ্যানেলে বিভিন্ন আল্লাহ্ওয়ালাদের বয়ান, মালফূয, দ্বীনী পরামর্শ এবং মূল্যবান নসীহত আপলোড দেওয়া হয়। নিয়মিত পোস্ট পেতে সাথেই থাকুন।

Последний пост
14 авг.
Последнее чтение
15 авг.
Постов за неделю
28
Всего постов
28
Тип
открытый
Язык
bn
В каталоге с
13 авг.
Подписчики
798
0 за 1 дн.
Сутки
0
0,00%
Неделя
 
Месяц
 
Просмотров на пост
32
28 постов
Вовлечённость
4,0%
к подписчикам
Постов в день
4,0
всего 28
Упоминаний
1
каналов
Охват размещения
оценка
1/24сутки в ленте
38
1/48двое суток
43
1/72трое суток
46

Оценка по просмотрам недавних постов: пост набирает почти всё за первые сутки.

Посты

  • *টেনশন আল্লাহর একটা নেয়ামত। এটা না থাকলে মানুষ অনেক কিছুই পেত না। পরীক্ষার টেনশন না থাকলে পড়ত না; ব্যবসার টেনশন না থাকলে ব্যবসা ভালো করে করবে না; চরিত্র ঠিক করার টেনশন না থাকলে চরিত্র ঠিক করবে না ইত্যাদি। সুতরাং টেনশন যথাযথ জায়গায় হলে এটা খারাপ না। দুনিয়া টেনশনের জায়গা। কেবল জান্নাতে কোনো টেনশন থাকবে না। এখন মানুষ বেশি টেনশন করে কেন? দেখুন, সংসারে কামাই-রোযগারের ব্যাপারে স্ত্রীর কোনো টেনশন নাই। কারণ সে এটা তার অভিভাবক স্বামীর উপর ছেড়ে দিয়েছে। স্বামী যেভাবে পারে, তা করবে। কর্মচারীরা মাস শেষে বেতন পাবে। এ নিয়ে তার কোনো টেনশন নাই। সেটি তার অভিভাবক বসের ব্যাপার। বস যেভাবে পারে ম্যানেজ করবে। এরকম বাবার অধীনে থাকলে ছেলে-মেয়েদের টেনশন থাকে না। তারা মনে করে তাদের একজন অভিভাবক আছে। একজন অভিভাবক থাকলে টেনশন কমে যায়। তেমনি আমাদের একজন অভিভাবক আছে। আমাদের অভিভাবক কে? আল্লাহ। তিনি আমার ব্যাপারে যা ভালো, তা-ই করছেন। সুতরাং আমার এত টেনশন কিসের? এজন্য কুরআনে এসেছে, যে আল্লাহর উপর ভরসা করবে, আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট।*

  • без подписи

  • без подписи

  • без подписи

  • কিন্তু তারা আত্মহারা হতেন না এবং মুখ দিয়ে এমন কথাও বের করতেন না, যে কথায় মহান আল্লাহ অসুন্তুষ্ট হন। জীবন ও কুরআন ইমাম মালিক রহ. এর একজন ছাত্র ছিলেন বুহলুল ইবনে রাশিদ। মুসলিম-অমুসলিম সবার কাছেই তিনি শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। একদিন তিনি এক লোককে দু’টি দীনার দিয়ে কিছু তেল কিনতে পাঠালেন। সে যখন ভালো তেল তালাশ করছিল তখন লোকেরা তাকে বলল, অমুক খৃস্টানের দোকানে খুব ভালো তেল পাওয়া যায়। লোকটি সে দোকানে তেল কিনতে গেল। খৃস্টান দোকানী যখন জানল যে, সে বাহলুল রা.-এর জন্য তেল কিনতে এসেছে তখন বলল, তোমরা মুসলমানরা যেমন এই বুযুর্গের খিদমতের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি আশা কর, তেমনি আমরাও তা করি। একথা বলে সে দুই দীনারে অনেক বেশি তেল দিল। লোকটি খুশি মনে বুহলুল রহ.-এর কাছে এসে ঘটনা বর্ণনা করল। বুহলুল রহ. বললেন, ভাই,তুমি আমার একটি কাজ করেছিলে এবার আরেকটি কাজ করে দাও। অনুগ্রহপূর্বক এই তেল ফেরৎ দিয়ে আমার সে দীনার দু’টি নিয়ে এস। লোকটি অবাক হয়ে বলল, কেন জনাব? বুহলুল বললেন, তোমার তেল কেনার ঘটনা শোনার পর আমার এই আয়াতটি মনে পড়ল। আল্লাহ বলেছেন, ‘যে জাতি আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে তারা যেন কখনো ওই সব লোকের প্রতি মহব্বত পোষণ না করে যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সঙ্গে দুশমনী করেছে।’ আমার আশঙ্কা হচ্ছে, আমি যদি এই তেল ব্যবহার করি তাহলে সেই খৃস্টান দোকানীর কথা আমার মনে পড়বে এবং তার প্রতি আমার মনে কিছুটা মহব্বত সঞ্চারিত হবে। তাহলে বিষয়টা এই দাঁড়াবে যে, দুনিয়ার তুচ্ছ বস্তুর কারণে আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দুশমনীর মধ্যে পড়ে যাব।’ -তারতীবুল মাদারিক - টীকা,রিসালাতুল মুসতারশিদীন পৃ. ১৫২-১৫৩ ঝড়-বৃষ্টির সময়ের দু‘আ ১। উম্মুল মু‘মিনীন আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আকাশে মেঘ দেখলে বলতেন, اللهم إنا نعوذ بك من شر ما أرسل به ‘ইয়া আল্লাহ, আমরা আপনার কাছে এর অকল্যান থেকে আশ্রয় চাই।’ অতঃপর যদি তা থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হত তখন বলতেন, اللهم صيبا نافعا ইয়া আল্লাহ আপনার কাছে উপকারী বৃষ্টি প্রার্থনা করছি। - সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৫০৯৯ ২। অন্য হাদীসে এসেছে, বৃষ্টিপাতের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দু‘আ পড়তেন - اللهم صيبا نافعا ‘ইয়া আল্লাহ, আপনার কাছে উপকারী বৃষ্টি প্রার্থনা করছি।’ -সহীহ বুখারী, ১০৩২ অন্য একটি বেওয়ায়েতে এসেছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দু‘আ দুইবার বা তিনবার বলতেন। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৭/৩২ তাই উপরোক্ত দু‘আ তিনবার বলা ভালো। ৩। উম্মুল মু‘মিনীন আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, প্রবল বেগে বাতাস বইতে শুরু করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দু‘আ পড়তেন, اللهم إني أسألك خيرها وخير ما فيها وخير ما أرسلت به، وأعوذ بك من شرها وشر ما فيها وشر ما أرسلت به. ইয়া আল্লাহ, আমি আপনার কাছে কল্যাণকর বাতাস প্রার্থনা করি এবং অকল্যাণকর বাতাস থেকে আপনার আশ্রয় কামনা করি।-সহীহ মুসলিম, আয়াত ৮৯৯ ৪। চার দিক অন্ধকার করে ঝড়-তুফান শুরু হলে সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়বে। উকবা ইবনে আমির রা. বলেন, একবার এক সফরে আমরা ‘যুহফা’ ও ‘আবওয়া’র মাঝামাঝি জায়গায় ছিলাম। এমন সময় চারদিক অন্ধকার হয়ে এল এবং ঝড় শুরু হল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়তে লাগলেন এবং বললেন, হে উকবা, এই সূরা দ্বারা আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা কর। কেননা, কোনো আশ্রয়প্রার্থনাকারী এমন কথা দ্বারা আল্লাহর আশ্রয় চাইতে সমর্থ হয়নি। অর্থাৎ এই দুই সূরা হল আশ্রয়প্রার্থনার সর্বোত্তম কথা। -সুনানে আবু দাউদ ১৪৬৩ . [ মাসিক আলকাউসার রবিউল আখির ১৪২৮ মে ২০০৭ ]

  • মানুষের গল্প . সাহাবিয়াগণের জীবনযাত্রায় আড়ম্বর ছিল না কিন্তু সহজতা ও স্বাভাবিকতা ছিল। বিত্তের ঝলকানি ছিল না, কিন্তু চিত্তশালিতার স্নিগ্ধ আলো ছিল। জীবনযাত্রার টুকরো টুকরো ঘটনায় সেই উজ্জ্বল্য প্রকাশ পেত। দয়া, পরোপকার, ধৈর্য ও আত্মনিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি গুণ তাদের কাজকর্মকে ভিন্ন মাত্রা দান করেছিল। এখানে তাদের একটি গুণ- সবর ও আত্মনিয়ন্ত্রনের কিছু দৃষ্টান্ত পেশ করছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ জগতের অন্য সব নারীর মতোই স্বভাবগত মমতা ও কোমলতার অধিকারী ছিলেন। তাই তাঁরাও ছিলেন মমতাময়ী মা, স্নেহময়ী বোন এবং প্রেমময়ী স্ত্রী। কিন্তু এর পাশাপাশি নবী আলাইহিস সালামের শিক্ষা তাদেরকে সবর ও আত্মনিয়ন্ত্রনেরও অধিকারী করেছিল। হামনা রা. একজন সাহাবিয়া। উহুদ যুদ্ধের পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মদীনায় ফিরে এলেন তখন সাহাবিয়াগণ তাঁদের আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ-খবর জানতে উপস্থিত হন। হামনা রা.-এর ভাই ও অন্যান্য আত্মীয়ও উহুদ যুদ্ধে শরীক হয়েছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে লক্ষ করে বললেন, হামনা,তোমার ভাইয়ের ব্যাপারে সবর কর। হামনা ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন পড়লেন এবং ভাইয়ের জন্য মাগফিরাত কামনা করলেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘তোমার মামার ব্যাপারেও সবর কর।’ এবারও তিনি ইন্নালিল্লাহ পড়লেন এবং সবর ও আত্মনিয়ন্ত্রণের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। আবু ত্বালহা রা. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন বিশিষ্ট সাহাবী। তাঁর স্ত্রী উম্মে সুলাইম রা.ও একজন বিশিষ্ট সাহাবিয়া ছিলেন। হাদীস ও ইতিহাসের কিতাবসমূহে তাঁর প্রাজ্ঞতা ও সাহসিকতার চমৎকার ঘটনাবলি উল্লেখিত হয়েছে। তবে তাঁর সবর ও বুদ্ধিমত্তার যে অনন্য দৃষ্টান্ত নিম্নোক্ত ঘটনায় পাওয়া যায় তার নজীর সত্যিই দুর্লভ। ঘটনাটি ছিল তাদের সন্তানের মৃত্যুর ঘটনা। তাদের শিশু পুত্র অসুস্থ ছিল। আবু তালহা রা. বাইরে কাজে ব্যস্ত ছিলেন। সন্ধ্যায় ঘরে ফিরে আসার আগেই শিশুটি মৃত্যুবরণ করে। জননী উম্মে সুলাইম রা. সুন্দর ভাবে শিশুটিকে ‘ঘুম পাড়িয়ে’ রাখলেন এবং স্বামীর আগমনের প্রতীক্ষা করতে লাগলেন। সন্ধ্যাবেলা আবু তালহা ঘরে ফিরে সন্তানের কথা জিজ্ঞেস করলে উম্মে সুলাইম রা. বললেন, ‘সে আগের চেয়ে শান্ত হয়েছে’। ক্লান্ত স্বামীকে তৎক্ষণাৎ পুত্রের মৃত্যুসংবাদ দিলেন না। ঘরের লোকদেরকে নিষেধ করে রেখেছিলেন, তিনি ছাড়া অন্য কেউ যেন এ সংবাদ তাকে না জানায়। আবু তালহা ভাবলেন, পুত্র ভালো হয়ে উঠছে। তিনি শান্ত মনে রাতের খাবার খেলেন এবং বিশ্রাম নিলেন। সে রাতে উম্মে সুলাইম রা. অন্য দিনের তুলনায় বেশি সাজগোজ করলেন। স্বামীর সকল প্রয়োজন পূরণ হওয়ার পর তিনি তাকে বললেন, বলুন তো কেউ যদি কারো কাছে কোনো কিছু গচ্ছিত রাখে অতঃপর তা ফেরৎ নিতে চায় তবে কি তা আটকে রাখার অধিকার থাকে? আবু তালহা বললেন, না এ অধিকার থাকে, না। উম্মে সুলাইম রা. এবার অত্যন্ত স্নিগ্ধ কণ্ঠে বললেন, আপনার পুত্রের ব্যাপারে সবর করুন। আবু তালহা বিষয়টি বুঝতে পেরে মর্মাহত হলেন এবং রাতের আচরণে লজ্জিত হয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে স্ত্রীর নামে অভিযোগ দায়ের করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ঘটনা শুনে চমৎকৃত হলেন এবং দুআ করলেন, আল্লাহ তোমাদের এ রাতে বরকত দান করুন। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে একটি পুত্র সন্তান দান করেন যার নাম রাখা হয় আব্দুল্লাহ। আব্দুল্লা ইবনে আবু ত্বালহাকে সাতপুত্র দান করেন। যাদের সকলেই কুরআনের আলিম হয়েছেন। -সহীহ ফেতহুল বারী ৩/২০১-২০৪ আরেকজন মহিয়সী জননী হলেন হযরত আসমা রা.। পুত্র আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর ও হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ এর মধ্যে লড়াই হচ্ছিল। এক ফাঁকে আব্দুল্লাহ মাকে দেখতে এলেন। জননী আসমা অসুস্থ ছিলেন। এ অবস্থায়ই পুত্রকে লক্ষ করে বললেন, বেটা দু’বিষয়ের কোনো একটি না হওয়া পর্যন্ত আমি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে চাই না। হয় তুমি শহীদ হবে এবং আমি তোমার শাহাদাতের উপর ছবর করব কিংবা তুমি বিজয়ী হবে এবং আমি তা দেখে আমার চক্ষুকে শীতল করব। আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা. শহীদ হলেন। জালেম হাজ্জাজ এই সাহাবীকে শূলীতে চড়াল। বৃদ্ধা জননী ঘর ছেড়ে এসে এ দৃশ্য দেখলেন এবং সম্পূর্ণ শান্ত কণ্ঠে হাজ্জাজকে বললেন, ‘এই ঘোড়-সওয়ারের কি এখনো ঘোড়া থেকে নেমে আসার সময় হয়নি?’ মোটকথা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষার আশ্চর্য পরশে তাঁর মহিলা সাহাবীদের মধ্যেও এরূপ চারিত্রিক দৃঢ়তা সৃষ্টি হয়েছিল। আরব দেশের সাধারণ রীতি এই ছিল যে, আত্মীয়-স্বজনের মৃত্যুতে বিলাপের আসর বসানো হত। ভাড়াটে বিলাপকারিনীদের নিয়ে ঘরের মহিলারা বিলাপে রত হত। মাথার চুল ছেড়া, শরীরের কাপড় ছেড়া ইত্যাদি ছিল শোক প্রকাশের বিভিন্ন পদ্ধতি। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষার বদৌলতে এই অস্থিরতা ও আত্মবিস্মৃতির পরিবর্তে সবর ও আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্টি ও সওয়াবের আশা তাদের চরিত্রের অংশ হয়ে গিয়েছিল। তাদের হৃদয় ব্যথিত হত, চক্ষু অশ্রুসজল হত,

  • ভিত্তিহীন বর্ণনা : রবিউল আউয়াল কেন্দ্রিক বানোয়াট আমল ও তার ফযীলত বার চাঁদের আমল শিরোনামের কিছু পুস্তকে রবিউল আউয়াল মাস কেন্দ্রিক কিছু বানোয়াট আমল ও তার ফযীলত উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলোর একটিতে লেখা হয়েছে- রবিউল আউয়াল মাসে নিম্নোক্তরূপে আমল করলে আল্লাহ পাকের কৃপায় যে কোনো বাসনা সফল এবং অশেষ নিআমত লাভ হয়। আমল করার নিয়ম : মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে গোসল করত একটি নির্ধারিত স্থান সুগন্ধযুক্ত করবে, অতঃপর নতুন পোশাক পরিধান করে ঐ সুগন্ধযুক্ত স্থানে বসে সর্বপ্রথম একচল্লিশবার নিম্নোক্ত দুআটি পাঠ করে একবার সূরা মুয্যাম্মিল পাঠ করে একচল্লিশবার নিম্নোক্ত দ্বিতীয় দুআটি পাঠ করবে...প্রথম দুআ... দ্বিতীয় দুআ...। আরেকটিতে রবিউল আউয়ালের আমল হিসেবে লেখা হয়েছে- যদি কেউ এই মাসের ১২, ১৩, ১৪ তারিখের রাত্রিতে বিতিরের নামাযের পর ৭ হাজার ৭ শত ৪১ বার উক্ত দরূদ (নির্দিষ্ট একটি দরূদ) শরীফ পাঠ করে, তহলে সে গরীব থাকলে ধনী হবে। শর্ত হল, ১২ তারিখ দোয়া পাঠের শুরুর দিনটি সোমবার, বৃহস্পতিবার বা শুক্রবার হওয়া চাই। আরেকটি পুস্তকে লেখা হয়েছে- হাদীসের কিতাবে আছে, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিনে বেশি পরিমাণে নফল নামায, কোরআন তেলাওয়াত, যেকের, তসবীহ-তাহলীল পাঠ, দান-খয়রাত ও তাঁর পবিত্র সীরাত আলোচনা করা, তাঁর সুন্নতের কথা মানুষকে জানিয়ে দেয়া অনেক সওয়াবের কাজ। এতে গোনাহ মাফ হয়, মর্যাদা বৃদ্ধি পায়, অভাব দূর হয়। এভাবে বার চাঁদের আমল শিরোনামের বিভিন্নটাতে বিভিন্ন আমল মনগড়াভাবে বলা হয়েছে। এসবের কোনোটা উল্লেখ করতে গিয়ে তারা বলেছে, হাদীসের কিতাবে আছে...। অথচ হাদীসের কিতাবের সাথে এগুলোর ন্যূনতম কোনো সম্পর্ক নেই। মনগড়া কথাকে হাদীসের কিতাবে আছে বলে চালিয়ে দেয়া অনেক বড় অন্যায় ও গুনাহের কাজ। এগুলোর বর্ণনাভঙ্গি ও ভাষা-উপস্থাপন থেকেই স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে যে, এগুলো বানিয়ে বানিয়ে বলা হচ্ছে। সবচেয়ে বড়কথা হল, শরীয়তে রবিউল আউয়াল মাসের সাথে যুক্ত কোনো আমলেরই অস্তিত্ব নেই, সেখানে আমলের বিশেষ সূরত ও তার ফযীলত তো দূরের কথা। আল্লাহ আমাদের এজাতীয় ভিত্তিহীন বানোয়াট বিষয় বলা ও বিশ্বাস করা থেকে রক্ষা করুন। . [ মাসিক আলকাউসার রবিউল আউয়াল ১৪৪৪ অক্টোবর ২০২২ ] . #প্রচলিত_ভুল_মাসিক_আলকাউসার

  • উত্তম সম্ভাষণ কোনটি . মাহমুদাতুর রহমান . একদিন আমার বাসায় একজন সম্ভ্রান্ত মহিলা এলেন। তাঁর সাথে চার বছর বয়সের একটি কন্যাশিশু । কথা-বার্তা বলে উঠে যাওয়ার সময় মা বাচ্চাটিকে বললেন, “মনি! আন্টিকে টা টা দাও তো”। বাচ্চাটি তার মায়ের কথামতো হাত নেড়ে নেড়ে বলতে লাগল, ‘টা টা, টা টা’! আমি অবাক হয়ে গেলাম। একজন মুসলিম গৃহিনী তাঁর সন্তানকে সালামের পরিবর্তে ‘টা টা’ শেখাচ্ছেন। এটা ছিল প্রথম। এরপর আরও চার পাঁচ জন শিশুর কাছ থেকে একই ধরনের সম্ভাষণ পেয়েছি। সবাই তারা মুসলিম ঘরের সন্তান। তাদের মা বাবা তাদেরকে এসব শিখিয়ে আধুনিকতার সিঁড়িতে একধাপ এগিয়ে দিতে পেরেছেন বলে আত্মতৃপ্তি লাভ করেন। অথচ সালাম ইসলামের প্রতীকসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা মানে নিজের ইসলামী পরিচয়টাকে বাঁচিয়ে রাখা। এমনিতেই আমরা অনেক ক্ষেত্রে আমাদের স্বকীয়তাকে হারিয়ে ফেলেছি। এখন যদি এই প্রতীকগুলোও হারিয়ে যায় তবে মুসলমান বলে পরিচয় দেওয়ার আর কীই বা বাকী থাকবে। কুরআন শরীফে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর নিদর্শনগুলোর সম্মান করে তা তার অন্তরের তাকওয়াপ্রসূত।’ অর্থাৎ তা তার আন্তরিক তাক্বওয়া ও খোদাভীতির স্বাক্ষর বহনকারী। আমাদের কি একটু ভেবে দেখা দরকার নয় যে, আমরা যারা স্বেচ্ছায় নিজেদের জীবন থেকে ইসলামের এসব শাআয়ের তথা প্রতীকসমূহকে দূরে ঠেলে দিচ্ছি এবং পরবর্তী প্রজন্মকেও তাই শেখাচ্ছি তাদের অন্তরে কি বাস্তবিক অর্থেই তাক্বওয়া বা খোদাভীতির কোনো স্থান থাকছে? আরেকটি বিষয়ও আমাদের ভেবে দেখা দরকার যে, আধুনিকতার মোহে পড়ে যেসব আচার-আচরণকে আমরা সাদরে বরণ করে নিচ্ছি এবং প্রাচীন ও সেকেলে বলে যেগুলোকে বর্জন করছি তুলনামূলক বিবেচনায় এর মধ্যে কোনটি শ্রেষ্ঠ ও মার্জিত। টা টার আভিধানিক অর্থ, চলি, আসি বা বিদায়। এতে মর্মগত কোনো গভীরতা নেই। অন্যদিকে সালামে রয়েছে সামাজিক সৌজন্য, সম্প্রীতি ও শুভকামনার গভীর মর্মস্পর্শী ব্যাঞ্ছনা । সালামের বাক্য হল ‘আসসালামু আলাইকুম’ অর্থাৎ তোমার উপর শান্তি বর্ষিত হোক। ‘ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু’ এবং বর্ষিত হোক তাঁর করুণা ও কল্যাণ। কত চমৎকারভাবে শুভকামনার ভাষায় সম্ভাষণ জানানো হচ্ছে ! পৃথিবীর কোনো ভাষায় কোনো সমাজে এর কি কোনো তুলনা আছে? আর এতে যে শুধু সামাজিক সৌজন্যই প্রকাশ পায় তা নয়, বরং আল্লাহ পাক এতে সওয়াবের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, “যে কেবল ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে সালাম দেবে সে দশ নেকী পাবে, আর যে ‘ওয়ারাহমাতুল্লাহ’ বলবে সে বিশ নেকী পাবে, আর যে ‘ওয়াবারাকাতুহু’ পর্যন্ত বলবে সে ত্রিশ নেকী পাবে।’ -তিরমিযী জাগতিক, পারলৌকিক সবদিক দিয়ে এত সুন্দর বিধান নিজেদের কাছে থাকতে কেন আমরা বিজাতীয় সংস্কৃতির কাছে আত্মসমর্পণ করতে যাব এবং বুকের মানিকদেরকেও তাতে অভ্যস্ত করব? সম্মানিতা মায়েদের প্রতি অনুরোধ, আসুন আমরা আমাদের সন্তানদের ইসলামী আদব-কায়দায় অভ্যস্ত করে তুলি। তাদের অন্তরে ইসলামী তাহযীব-তামাদ্দুনের প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধা জাগিয়ে তুলি। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসতে শেখাই। হতে পারে আমাদের কাছ থেকে পাওয়া এই শিক্ষার আলোকেই তারা ভবিষ্যতে আরও লক্ষ জনের আলোর দিশারী হবে এবং পরকালে আমাদের মুক্তির উসীলা ও নাজাতের জরীয়া হবে। আল্লাহ আমাদের সকলকে তাওফীক দান করুন। (আমীন) . [ মাসিক আলকাউসার রবিউল আখির ১৪২৮ মে ২০০৭ ]

  • без подписи

  • без подписи

  • без подписи

  • কোনো ব্যক্তি যতক্ষণ আমার উপর দরূদ পাঠ করতে থাকে ফিরিশতারা তার জন্য দুআ-ইসতিগফার করতে থাকে। এখন ব্যক্তির ইচ্ছা, চাইলে আমার উপর অধিক পরিমাণে দরূদ পাঠ করুক অথবা কম। (যে পরিমাণে দরূদ পাঠ করবে সে হিসাবেই ফিরিশতাদের দুআ-ইসতিগফার লাভ করবে।) -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৫৬৮৯; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ৯০৭; আলমুনতাখাব মিন মুসনাদি আবদ ইবনু হুমাইদ, হাদীস ৩১৭ উবাই ইবনে কা‘ব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ...আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আপনার প্রতি বেশি বেশি দরূদ পড়ে থাকি।... (একপর্যায়ে) নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন- إِذًا تُكْفَى هَمَّكَ، وَيُغْفَرُ لَكَ ذَنْبُكَ. তাহলে তো তোমার (দুনিয়া-আখিরাতের) সকল প্রয়োজন পুরা হবে, সকল পেরেশানী দূর হবে এবং তোমার গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। -জামে তিরমিযী, হাদীস ২৪৫৭; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২১২৪২ আর নির্দিষ্ট দিনে দরূদ পড়ার বিষয়ে সহীহ হাদীসে যা পাওয়া যায় তা হল, জুমার দিন বেশি বেশি দরূদ পাঠ করা। হযরত আউস ইবনে আউস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন- إنَّ مِنْ أفضل أيامِكُم يومَ الجُمعة... فأكثروا عَلَيَّ مِن الصَّلاةِ فيه، فإنَّ صَلاتَكم مَعرُوضَةٌ عَلَيَّ... নিশ্চয়ই জুমার দিন শ্রেষ্ঠতম দিনগুলোর অন্যতম। ...সুতরাং সেদিন তোমরা আমার উপর বেশি বেশি দরূদ পড়। নিশ্চয় তোমাদের দরূদ আমার কাছে পেশ করা হয়। ... -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১০৪৭; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৬১৬২; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৯১০ অন্য হাদীসে হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- أَكْثِرُوا الصَّلَاةَ عَلَيَّ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَلَيْلَةَ الْجُمُعَةِ؛ فَمَنْ صَلَّى عَلَيَّ صَلَاةً صَلَّى الله عَلَيْهِ عَشْرًا. তোমরা জুমার রাত ও জুমার দিনে আমার উপর বেশি বেশি দরূদ পাঠ কর। যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পাঠ করে আল্লাহ তাআলা তার উপর দশবার রহমত নাযিল করেন। -সুনানে কুবরা, বায়হাকী (৩/২৪৯), হাদীস ৫৯৯৪;; ফাযাইলুল আওকাত, বায়হাকী, হাদীস ২৭৭; আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, ইবনুস সুন্নী, হাদীস ৩৭৯ দরূদ পাঠের ফযীলত বিষয়ক এরকম আরো অনেক সহীহ হাদীস রয়েছে। এসকল সহীহ বর্ণনা এবং সেগুলোতে দরূদের এত বড় বড় ফযীলত বর্ণিত হওয়া সত্ত্বেও একশ্রেণির মানুষ নিজে থেকে আরো বিভিন্ন ফযীলত আবিষ্কার করেছে। আল্লাহ তাদের মাফ করুন এবং আমাদেরকে সহীহটা জেনে আমল করার তাওফীক দান করুন। নবীজীর উপর বেশি বেশি দরূদ পাঠ এবং তাঁর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার মাধ্যমে তাঁর শাফাআত লাভে ধন্য করুন- আমীন। . [ মাসিক আলকাউসার রবিউল আখির ১৪৪২ ডিসেম্বর ২০২০ ] . #দরূদ_শরীফ_মাসিক_আলকাউসার #প্রচলিত_ভুল_মাসিক_আলকাউসার

  • ভিত্তিহীন বর্ণনা : রবিউল আউয়ালে বিশেষ নামায এবং দরূদ পাঠের ফযীলত বাজারে প্রচলিত বার চান্দের ফযীলত নামের কিছু পুস্তিকায় রবিউল আউয়াল মাসের আমল শিরোনামের অধীনে লেখা হয়েছে- এক. “যে ব্যক্তি রবীউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখে সে রাতে দুই দুই রকাত করে ১৬ রাকাত নামায আদায় করে। প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহার পর তিনবার সূরা ইখলাস পাঠ করবে। আর নামায শেষ করে নি¤েœাক্ত দরূদ শরীফ ১০০০ বার পাঠ করবে। এরূপ একাধারে ১২ দিন পর্যন্ত পাঠ করলে ১২ দিন যেতে না যেতেই সে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে স্বপ্নযোগে দেখতে পাবে। দরূদ শরীফটি হল...।” দুই. “যে ব্যক্তি এ মাসের প্রথম দিন হতে শুরু করে মাসের শেষ দিন পর্যন্ত প্রত্যহ এশার নামাযের পর নি¤েœাক্ত দরূদ...। ...সে ব্যক্তি প্রচুর পরিমাণে ধন-সম্পদের মালিক হবে এবং তার সংসারে সুখ-শান্তি বিরাজ করবে...।” তিন. “যে ব্যক্তি ১২ই রবিউল আউয়াল তারিখে বেশি পরিমাণে নফল নামায, কোরআন তেলাওয়াত, যিকির... তার গুনাহ মাফ করে সম্মান বৃদ্ধি করে দেবেন...। ” চার. “ যে ব্যক্তি এই দরূদ শরীফ সোয়া লক্ষ বার রবিউল আউয়াল মাসের মধ্যে পড়িবে সে...। ” পাঁচ. “১২ রবিউল আউয়ালে তাবে তাবেয়ীগণ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্র রূহের প্রতি হাদিয়া স্বরূপ ২০ রাকাত নফল নামায পড়িতেন। প্রত্যেক রাকাতে...।” এভাবে বিভিন্ন পুস্তকে রবিউল আউয়াল মাসের আমল হিসাবে বিভিন্ন ধরনের মনগড়া পদ্ধতির নামায ও দরূদ শরীফের আমল এবং তার মনগড়া ফযীলত লেখা হয়েছে। এগুলো সবই বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। সাখাবী রাহ. দরূদ শরীফ বিষয়ক তার কিতাব ‘আলকাওলুল বাদী’-এ সপ্তাহের বিভিন্ন দিনে বা নির্দিষ্ট মাসে বিশেষ ধরনের নামাযের সাথে সাথে দরূদ পাঠের ফযীলত বিষয়ক কিছু জাল বর্ণনা উল্লেখ করার পর বলেন- ولم أورد هذه وشبهه إلا للتنبيه على وهائه. এ বর্ণনাটি এবং এজাতীয় অন্যান্য যে (ভিত্তিহীন) বর্ণনা আমি এখানে উল্লেখ করেছি; তা কেবল এগুলোর অসারতা ও ভিত্তিহীন হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করার উদ্দেশ্যেই। -আলকাওলুল বাদী‘, পৃ. ২৯৮ আর আমাদের আলোচ্য বর্ণনাগুলো এমন ধরনের বানোয়াট কথা যে, জাল বর্ণনা বিষয়ক কিতাবাদিতেও তা পাওয়া যায় না। জাল বর্ণনা বিষয়ক বেশ কিছু কিতাব ঘেঁটেও রবিউল আউয়াল মাস কেন্দ্রিক বিশেষ কোনো নামাযের জাল বর্ণনাও পাওয়া যায়নি। পূর্ববর্তী হাদীস জালকারীরা বছরের অন্যান্য মাস বা দিনের আমল সম্পর্কে হাদীস জাল করেছে, কিন্তু রবিউল আউয়াল মাস বিষয়ে কোনো জাল বর্ণনা পাওয়া যায়নি। কারণ, রবিউল আউয়াল মাস-মুহাররম, রমযান, যিলহজ্ব ইত্যাদি মাসের মত বিশেষ আমলের মাস নয়। আল্লাহই ভালো জানেন, বার চান্দের আমল শিরোনামের পুস্তিকাওয়ালারা এসকল কথা কোথা থেকে পেল; যা তারা ‘কিতাবে উল্লেখ আছে’ বা ‘কিতাবে বর্ণিত আছে’ ইত্যাদি বলে পেশ করেছে। আর দরূদ শরীফ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ও বহুত বড় নেক আমল। আল্লাহ তাআলা কুরআনে কারীমে মুমিনদের দরূদ পাঠের নির্দেশ দিয়েছেন। এর সবচে বড় ফযীলত হল, দরূদ পাঠকারীর উপর আল্লাহ তাআলা রহমত নাযিল করেন। কেবল রহমতই নাযিল করেন না; একবার দরূদ পাঠ করার কারণে দশবার রহমত নাযিল করেন। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- مَنْ صَلَّى عَلَيَّ وَاحِدَةً صَلَّى الله عَلَيْهِ عَشْرًا. যে আমার প্রতি একবার দরূদ পাঠ করে আল্লাহ তার প্রতি দশবার রহমত বর্ষণ করেন। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৪০৮ এছাড়াও দরূদ পাঠের মাধ্যমে গুনাহ মাফ হয় এবং মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- مَنْ صَلَّى عَلَيَّ مِنْ أُمَّتِي صَلَاةً مُخْلِصًا مِنْ قَلْبِهِ، صَلَّى الله عَلَيْهِ بِهَا عَشْرَ صَلَوَاتٍ، وَرَفَعَهُ بِهَا عَشْرَ دَرَجَاتٍ، وَكَتَبَ لَهُ بِهَا عَشْرَ حَسَنَاتٍ، وَمَحَا عَنْهُ عَشْرَ سَيِّئَاتٍ. যে ব্যক্তি আমার প্রতি অন্তর থেকে একবার দরূদ পেশ করবে আল্লাহ তাআলা এর বিনিময়ে তার উপর দশবার রহমত বর্ষণ করবেন। তার মর্তবা দশ স্তর পর্যন্ত উন্নীত করবেন। তাকে দশটি নেকী দান করবেন এবং তার দশটি গুনাহ মাফ করে দেবেন। -সুনানে কুবরা, নাসায়ী, হাদীস ৯৮৯২, ৯৮৯৩; সুনানে নাসায়ী, হাদীস ১২৯৭; আমালুল ইয়াউমি ওয়াল লাইলাহ, নাসায়ী, হাদীস ৩৬২ তেমনি বেশি বেশি দরূদ পাঠের মাধ্যমে নবীজীর নৈকট্য লাভ হয়, ফিরিশতাদের দুআ লাভ হয়। চিন্তা-পেরেশানী দূর হয়। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- أَوْلَى النَّاسِ بِي يَوْمَ القِيَامَةِ أَكْثَرُهُمْ عَلَيَّ صَلاَةً. কিয়ামতের দিন আমার নৈকট্য লাভ করবে ঐ ব্যক্তি, যে আমার প্রতি অধিক পরিমাণে দরূদ পাঠ করে। -জামে তিরমিযী, হাদীস ৪৮৪ আমের ইবনে রবীআ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন- مَا صَلّى عَلَيّ أَحَدٌ صَلَاةً، إِلّا صَلّتْ عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةُ مَا دَامَ يُصَلِّي عَلَيّ، فَلْيُقِلّ عَبْدٌ مِنْ ذَلِكَ أَوْ لِيُكْثِرْ.

  • বিশ্বকাপ উন্মাদনা শেষে . ওয়ালিউল্লাহ আব্দুল জলীল . ৩৯ দিন ধরে চলা উন্মাদনা শেষ হয়েছে। মস্তিষ্কের কার্যকারিতা স্থগিত হয়ে গেলে যেমন বুঝিয়ে কাজ হয় না, তেমনই কাজ হয়নি এই ৩৯ দিন। কোথায় ইহকাল, কোথায় পরকাল! বিশ্বের বড় একটা অংশ তাকিয়ে ছিল গোল একটা বলের দিকে। রাত নেই, দিন নেই– খেলা আর খেলা। প্রিন্ট মিডিয়ায় খেলা, ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় খেলা, রাস্তায় হাঁটতে গেলে খেলা, স্বস্তির জন্য আকাশের দিকে তাকালেও অস্বস্তিকর বিদঘুটে সাইজের আদর্শগত বিপরীত মেরুর ছেয়ে থাকা পতাকা। এমন উন্মাদনা দেখে অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে বনী আদমকে বিভ্রান্ত করা শয়তানও হয়তো বিভ্রান্ত হয়ে গিয়েছিল। পৃথিবীতে মানুষকে পাঠানো হয়েছে আল্লাহর ইবাদত করার জন্য। সেই ইবাদত করতে শয়তানকে করতে হয় পরাজিত, শয়তানের যত রকমের জাল আছে সব করতে হয় ছিন্ন। এই ৩৯ দিন, তার আগের বেশ কিছুদিন এবং এই ৩৯ দিনের পরও আরও কিছুদিন মনে হচ্ছিল, বনী আদমই আমন্ত্রণ করে নিয়ে এসেছে এই শয়তানকে। স্রষ্টাকে অস্বীকার করে, শয়তানকে পথপ্রদর্শক বানিয়ে মানুষ বিভ্রান্ত হয়েছে। কিন্তু যারা اَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ (আমি কি তোমাদের রব নই?) -এর জবাবে بَلٰي (কেন নয়?) বলেছিল এবং এই পৃথিবীতে এসে সে স্বীকারোক্তি মনে রেখেছে, তারাও কী করে শয়তানের পথ ধরল। আল্লাহর দেওয়া জীবন কত মূল্যবান! সেই মূল্যবান জীবনের ১৭ জন মানুষ এই শয়তানী কাজের অংশ হয়ে দুনিয়া থেকে চির বিদায় নিল। শয়তানী কাজ, কাফেরদের সমর্থন, সেইসঙ্গে ভূরিভূরি পাপ আর এই অবস্থায় মৃত্যুবরণ! এরপর অন্তহীন জীবন! হিসাব-নিকাশ! পুলসিরাত! খোদা, আর ভাবতে পারি না। যারা ক্ষমতার মসনদে আছেন, জনতার দণ্ডমুন্ড যাদের হাতে, যারা পত্রিকা চালান, যারা টিভি চ্যানেল সম্প্রচার করেন, যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রভাবশালী হয়ে বিচরণ করেন, যাদের হাতে জনমত প্রভাবিত করার ক্ষমতা, তাদের মধ্যে যারা এমন অর্থহীন, ক্ষতিকর, জীবন বিরোধী কাজের প্রসার ঘটিয়েছেন, তারা কী জবাব দেবেন আল্লাহর সামনে? যখন নিজের রাশি রাশি পাপের সাথে এই কোটি কোটি মানুষের পাপ বহন করতে হবে! এখন তো আপনারা সামান্য বিক্ষোভ দেখলেই ভয়ে আঁতকে ওঠেন, সরকারের মন্ত্রী-যন্ত্রী ও গোয়েন্দা বিভাগের পায়ে পড়েন, যেদিন আহকামুল হাকিমীন ধরবেন, যেদিন সুপারিশ করার কেউ থাকবে না, সেদিন কী করবেন? যে জীবনের স্বর্ণ সময় এই অহেতুক কাজে নষ্ট করেছে, যে আল্লাহর দেওয়া রিযিক এ কাজে বিনষ্ট করেছে, শান্তির ধর্ম ইসলামে থেকেও এই খেলাকে কেন্দ্র করে অন্যের জীবন অশান্ত করেছে, পাড়াপড়শির ঘুম হারাম করেছে, কিন্তু অন্য ১৭টা প্রাণের মতো এখনও এই জীবন খোয়া যায়নি, তাদের কাছে আকুল আবেদন, এখনও সময় আছে ফিরে আসার, এখনও সময় আছে উপলব্ধি করার, এখনও সময় আছে তওবা করার, এক জীবনে কতই-বা আর উদাসীন থাকা যায়?! আল্লাহ তাআলার বাণীগুলো পড়ুন এবং মহান আল্লাহর দিকে দৌড়াতে শুরু করুন। নিম্নোক্ত আয়াতগুলো হৃদয় দিয়ে অনুভব করে পড়ুন– قُلْ يٰعِبَادِيَ الَّذِيْنَ اَسْرَفُوْا عَلٰۤي اَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوْا مِنْ رَّحْمَةِ اللهِ اِنَّ اللهَ يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ جَمِيْعًا اِنَّهٗ هُوَ الْغَفُوْرُ الرَّحِيْمُ، وَاَنِيْبُوْۤا اِلٰي رَبِّكُمْ وَاَسْلِمُوْا لَهٗ مِنْ قَبْلِ اَنْ يَّاْتِيَكُمُ الْعَذَابُ ثُمَّ لَا تُنْصَرُوْنَ، وَاتَّبِعُوْۤااَحْسَنَ مَاۤ اُنْزِلَ اِلَيْكُمْ مِّنْ رَّبِّكُمْ مِّنْ قَبْلِ اَنْ يَّاْتِيَكُمُ الْعَذَابُ بَغْتَةً وَّاَنْتُمْ لَا تَشْعُرُوْنَ ، اَنْ تَقُوْلَ نَفْسٌ يّٰحَسْرَتٰي عَلٰي مَا فَرَّطْتُ فِيْ جَنْۢبِ اللهِ وَ اِنْ كُنْتُ لَمِنَ السّٰخِرِيْنَ، اَوْ تَقُوْلَ لَوْ اَنَّ اللهَ هَدٰىنِيْ لَكُنْتُ مِنَ الْمُتَّقِيْنَ، اَوْتَقُوْلَ حِيْنَ تَرَي الْعَذَابَ لَوْ اَنَّ لِيْ كَرَّةً فَاَكُوْنَ مِنَ الْمُحْسِنِيْنَ . বলে দাও, হে আমার বান্দারা! যারা নিজের প্রতি সীমালঙ্ঘন করেছে, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত পাপ ক্ষমা করেন। নিশ্চয় তিনি অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের অভিমুখী হও এবং তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ কর তোমাদের নিকট শাস্তি আসার আগে, যার পর আর তোমাদেরকে সাহায্য করা হবে না। তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের ওপর উত্তম যা-কিছু অবতীর্ণ করা হয়েছে, তার অনুসরণ কর তোমাদের কাছে অতর্কিতভাবে শাস্তি আসার আগে, অথচ তোমরা তা জানতেও পারবে না। যাতে কাউকে বলতে না হয়, হায়! আল্লাহর ব্যাপারে আমি যে অবহেলা করেছি তার জন্য আফসোস! প্রকৃতপক্ষে আমি (আল্লাহ তাআলার বিধিবিধান নিয়ে) ঠাট্টাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছিলাম। অথবা কাউকে বলতে না হয়, আল্লাহ যদি আমাকে হেদায়েত দিতেন আমিও মুত্তাকীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতাম। অথবা শাস্তি চোখে দেখার পর যেন কাউকে বলতে না হয়, আহা! আমার যদি একটিবার ফিরে যাওয়ার সুযোগ হত, আমি সৎকর্মশীলদের একজন হয়ে যেতাম। –সূরা যুমার (৩৯) : ৫৩-৫৮ . [ মাসিক আলকাউসার সফর ১৪৪৮ আগস্ট ২০২৬ ]

  • রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর অনেক মসিবত এসেছে।আল্লাহ তাআলা তাকে নাজাত দিয়েছেন। তায়েফ ও ওহুদে আহত হয়েছেন, আল্লাহ তাআলা তাঁকে সুস্থ করেছেন। একবার ঘোড়া থেকে পড়ে পায়ে ব্যথা পেয়েছেন, যার কারণে মসজিদে যেতে পারেননি, আল্লাহ তাআলা তাঁকে সুস্থ করেছেন। তাঁর সুস্থতা লাভের এই সব আনন্দের স্মৃতিগুলোতে দিবস উদযাপনের কোনো নিয়ম আছে কি? তাহলে আখেরি চাহারশোম্বাহ, যার কোনো ভিত্তিই নেই, তা কীভাবে উদযাপনের বিষয় হতে পারে? ৪. কোনো দিনকে বিশেষ ফযীলতের দিবস মনে করা কিংবা বিশেষ কোনো আমল তাতে বিধিবদ্ধ রয়েছে এমন কথা বলা কিংবা তাকে ধর্মীয় দিবস হিসেবে উদযাপন করা-এই সবগুলো হচ্ছে মুসলমানদের জন্য শরীয়তের বিধানের অন্তর্ভু&ক্ত। অতএব এগুলো শরয়ী দলিল ছাড়া শুধু মনগড়া যুক্তির ভিত্তিতে সাব্যস্ত করা যায় না। এটা শরীয়তের একটি অবিসংবাদিত মূলনীতি। এজন্য উপরোক্ত তথ্য ইতিহাসের দৃষ্টিকোণ থেকে বিশুদ্ধ হলেও এ দিবসকে ঘিরে ওইসব রসম-রেওয়াজ জারি করার কোনো বৈধতা হয় না। ৫. মকসুদুল মোমেনীন পুস্তিকায় যা বলা হয়েছে তা-ও সঠিক নয়। রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাত হয়েছে সোমবারে। এর চার পাঁচ দিন আগে তাঁর সুস্থতার জন্য যে সাত কুঁয়া থেকে সাত মশক পানি আনা হয়েছিল এবং সুস্থতার জন্য তার দেহ মোবারককে ধৌত করা হয়েছিল তা কি বুধবারের ঘটনা না বৃহস্পতিবারের? ইবনে হাজার ও ইবনে কাছীর একে বৃহস্পতিবারের ঘটনা বলেছেন। -ফাতহুল বারী ৭/৭৪৮, কিতাবুল মাগাযী ৪৪৪২; আলবিদায়া ওয়ান্নিহায়া ৪/১৯৩; সীরাতুন নবী, শিবলী নুমানী ২/১১৩ যদি বুধবারের ঘটনা হয়ে থাকে তবে সফর মাসের শেষ বুধবার কীভাবে হচ্ছে? রসমের পৃষ্ঠপোষকতাকারীগণ সকলে ইন্তেকালের তারিখ বারো রবীউল আওয়াল বলে থাকেন। সোমবার যদি বারো রবীউল আওয়াল হয়ে থাকে তাহলে এর আগের বুধবার তো সফর নয়, রবীউল আওয়ালেই হচ্ছে। তাছাড়া এ তথ্যও সঠিক নয় যে, বুধবারের পর রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোসল করেননি। কেননা, এরপর একরাত ইশার নামাযের আগে গোসল করার কথা সহীহ হাদীসে স্পষ্টভাবে উল্লেখিত হয়েছে। -সহীহ মুসলিম হাদীস ৪১৮ [সহীহ বুখারী হাদীস নং ৬৮১-এর সাথে মিলিয়ে পড়ুন- আররাহীকুল মাখতূম, সফীউদ্দীন মোবারকপূরী পৃ. ৫২৫]। আর একথাও ঠিক নয় যে, বুধবারের পর অসুস্থতায় কোনোরূপ উন্নতি হয়নি। বরং এরপর আরেকদিন সুস্থবোধ করেছিলেন এবং যোহরের নামাযে শরীক হয়েছিলেন-একথা সহীহ হাদীসে রয়েছে।-সহীহ বুখারী, হাদীস ৬৬৪, ৬৮০ ও ৬৮১; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৪১৮, আররাহীকুল মাখতূম পৃ. ৫২৬; রাহমাতুল্লিল আলামীন, মানসূরপূরী সোমবার সকালেও সুস্থবোধ করেছিলেন, যার কারণে হযরত আবু বকর সিদ্দীক [রা.] অনুমতি নিয়ে নিজ ঘরে চলে গিয়েছিলেন। -সীরাতে ইবনে ইসহাক পৃ. ৭১১-৭১২; আররাওযুল উনুফ ৭/৫৪৭-৫৪৮ ৬. সারকথা এই যে, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহববত, তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা ও আনুগত্য এবং তাঁর পবিত্র সীরাত ও সুন্নতের অনুসরণ, তাঁর জীবনাদর্শে আপন জীবন গঠন, তাঁর শরীয়তের প্রচার-প্রসার ইত্যাদি হকসমূহ, যা উম্মতের জন্য অবশ্যপালনীয়-এগুলো থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া এবং গাফলতির এই প্রকৃত ব্যাধি সম্পর্কে অসচেতন রাখার জন্য এসব ভিত্তিহীন রসম-রেওয়াজের উৎপত্তি। আল্লাহ তাআলা উম্মতকে সঠিক বুঝ দান করুন এবং রসম ও মুনকারাত থেকে তাদেরকে রক্ষা করুন। আমীন। ৭. ইসলামী শরীয়তে ছুটির যে নীতিমালা রয়েছে সে আলোকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এ তারিখের ছুটি থাকা ঠিক নয়। . [ মাসিক আলকাউসার | রবিউল আউয়াল ১৪২৯ || মার্চ ২০০৮ ] . #প্রচলিত_ভুল_মাসিক_আলকাউসার

  • একটি ভিত্তিহীন রসম : আখেরি চাহার শোম্বা কি উদযাপনের দিবস? . সর্বপ্রথম একটি দৈনিক পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরেছি যে, বহু মানুষ সফর মাসের শেষ বুধবারকে একটি বিশেষ দিবস গণ্য করে এবং এতে বিশেষ আমল রয়েছে বলে মনে করে। পরে মনে হল, এ ধরনের ভিত্তিহীন রসম-রেওয়াজের উল্লেখ ‘মকসুদুল মোমেনীন’ জাতীয় পুস্তক-পুস্তিকায় থাকতে পারে। দেখলাম, ‘মকসুদুল মোমেনীন’ ও বার চাঁদের ফযীলতবিষয়ক যেসব অনির্ভরযোগ্য পুস্তক-পুস্তিকা এক শ্রেণীর মানুষের মধ্যে প্রচলিত তাতে এই বিষয়টি রয়েছে। যদি ওই দৈনিকে দিবসটি সম্পর্কে এভাবে মাহাত্ম্য ও করণীয়ের বয়ান না থাকত তবে সম্ভবত প্রচলিত ভুল শিরোনামেও তা উল্লেখ করার উপযুক্ত মনে করতাম না। খাইরুল কুরূনের হাজার বছরেরও বহু পরে উদ্ভাবিত এই রসমের পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানকারীদের মতামতও এ ভিত্তিহীন বিষয়ের ভিত্তি অন্বেষণে বিভিন্নমুখী। উপরোক্ত দৈনিকটির ২৩ সফর ১৪২৮ হিজরি বুধবারের সংখ্যায় লেখা হয়েছে- ‘‘আজ চান্দ্রমাস সফরের শেষ বুধবার। অর্থাৎ আখেরি চাহার শোম্বা। এদিন দু’জাহানের সর্দার মহানবী সাল্লল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রোগমুক্তির দিন। আর এ কারণেই এদিন মুসলমানদের জন্য আনন্দময় ও পবিত্র দিন। হাদীসে বর্ণিত আছে, এক ইহুদি কবিরাজ রাসূল [সা.]-এর চুল মোবারক নিয়ে জাদুটোনা করেছিল। ফলে মহানবী [সা.] অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। অসুস্থতার কারণে তিনি কিছুদিন মসজিদে নববীতে যেতে পারেননি। সফর মাসের শেষ বুধবার তিনি সুস্থতা বোধ করে গোছল করেন এবং দুজন সাহাবীর কাঁধে ভর করে মসজিদে নববীতে গিয়ে জামাআতে নামায আদায় করেন। আলহামদু লিল্লাহ। রাসূল [সা.]-এর রোগমুক্তির সংবাদে খুশি হয়েছিল মুসলিম জাহান। খুশি হয়ে হযরত ওসমান [রা.] তাঁর নিজ খামারের ৭০টি উট জবাই করে গরিব-দুঃখীদের মাঝে বিলিয়ে দিয়েছিলেন। খুশিতে আত্মহারা সাহাবীগণ আনন্দ প্রকাশ ও শুকরিয়া আদায় করেছিলেন রোযা রেখে, নফল নামায পড়ে এবং হামদ-নাত গেয়ে। পবিত্র আখেরি চাহার শোম্বার দিনে আজিমপুর দায়রা শরীফে ঐতিহ্যগতভাবে রোগমুক্তি ও মছিবত দূরের জন্য এক বিশেষ আংটি তৈরি করে থাকে। এছাড়াও এদিনে বিভিন্ন খানকা দরবারে রোগমুক্তির জন্য বিশেষ দুআ ও মোনাজাত করা হয়। অনেকে এদিনে রোগমুক্তির জন্য মান্নত করে গোছল করে থাকেন। অনেকে এদিনে গরিব-দুঃখীদের মাঝে তৈরি খাদ্য বিতরণ করে থাকেন। এ বিশেষ দিনটি সরকারি ঐচ্ছিক ছুটির দিন।এদিনে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকে।’’ অন্যদিকে মকসুদুল মোমেনীনে বলা হয়েছে- ‘‘এই মাসের শেষ বুধবারকে আখেরি চাহার শোম্বাহ বলা হয়। [আখেরি শব্দের অর্থ শেষ এবং চাহার শোম্বাহ শব্দের অর্থ বুধবার]। হিজরি একাদশ সনের সফর মাসের শেষভাগে নবী করীম [দা.] অত্যন্ত অসুস্থ এবং পীড়িত হয়ে পড়েন। তারপর এই মাসের শেষ বুধবার দিন তিনি শরীর একটু সুস্থ বোধ করায় গোছলাদি করে কিছুটা শান্তি লাভ করেন। এই গোছলই হুজুরের জীবনের শেষ গোছল ছিল। এর পর তাঁর জীবনে আর গোছল করার ভাগ্য হয় নাই। অতএব এই দিন মুসলমানদের বিশেষভাবে গোছলাদি করে নফল নামায এবং রোযা ইত্যাদি আদায় করে নবী করীম [দা.]-এর রূহের উপর সওয়াব বখশেষ করা উচিত।’’ এরপর এ দিন সম্পর্কে বিভিন্ন করণীয় উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলো একেবারেই ভিত্তিহীন। যেমনটি ভিত্তিহীন উপরোক্ত উভয় বিবরণ। ১. রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর এক ইহুদি জাদু করেছিল। এটা ছিল হোদায়বিয়ার সন্ধির পরে মহররম মাসের প্রথম দিকের ঘটনা। এ জাদুর প্রভাব কতদিন ছিল সে সম্পর্কে দুটি বর্ণনা রয়েছে। এক বর্ণনায় ছয় মাসের কথা এসেছে, অন্য বর্ণনায় এসেছে চল্লিশ দিনের কথা। কিন্তু এ দুই বিবরণে কোনো সংঘর্ষ নেই। এক বর্ণনায় পুরো সময়ের কথা এসেছে আর অপর বর্ণনায় এসেছে শুধু ওই সময়টুকুর কথা যাতে জাদুর প্রতিক্রিয়া বেশি ছিল। তবে যাইহোক সুস্থতার তারিখ কোনো হিসাব অনুযায়ীই সফরের আখেরি চাহারশোম্বাহ হতে পারে না। -ফাতহুল বারী ১০/২৩৭ : আলমাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়া ২/১৫৪; শরহুয যুরকানী ৯/৪৪৬-৪৪৭ ২. জাদুর ঘটনা হাদীস ও সীরাত গ্রন্থসমূহে বিস্তারিতভাবে এসেছে। কিন্তু সেখানে না একথা আছে যে, সে সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে জামাআতে শরীক হতে পারেননি; আর না আছে মুআওয়াযাতাইন [সূরা ফালাক ও নাস] দ্বারা জাদুর প্রভাব থেকে মুক্ত হওয়ার পর তার গোসলের বয়ান। ৩. রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুস্থতার কারণে খুশি হওয়া কিংবা তার সুস্থতার সংবাদ পড়ে আনন্দিত হওয়া প্রত্যেক মুমিনের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য, কিন্তু একথা দাবি করা যে, সাহাবায়ে কেরাম কিংবা পরবর্তী যুগের মনীষীগণ সে খুশি প্রকাশের জন্য উপরোক্ত পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন কিংবা একে উদযাপনের দিবস ঘোষণা করেছেন, জাহালাত ছাড়া আর কিছু নয়। কেননা, এ দাবির সপক্ষে দুর্বলতম কোনো দলিলও বিদ্যমান নেই।

  • তা'আল্লুক মা'আল্লাহ হাসিলের উদ্দেশ্যে মাসিক ইজতেমায় অংশগ্রহণের আহ্বান ইনশাআল্লাহ, ১৩ই আগস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ঢালকানগর বাইতুল হক জামে মসজিদে (সাবেক ছাপড়া মসজিদ) মাসিক ইজতেমা যথারীতি আসর থেকে এশা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। 🕌 বাদ এশা হযরতজ্বী দামাত বারাকাতুহুম আযীমুশশান গুরুত্বপূর্ণ বয়ান পেশ করবেন, ইনশাআল্লাহ। আসুন, তা'আল্লুক মা'আল্লাহ অর্জনের নিয়তে আমরা নিজেরা উপস্থিত হই এবং আমাদের আপনজন, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীদেরও মেসেজের মাধ্যমে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রাখি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে কবুল করুন। আমীন। 📌 মাসিক ইজতেমা সংক্রান্ত বিস্তারিত (পিন করা) মেসেজ: ⤵️ https://t.me/khanqahbd/8005 https://t.me/KhanqahBDLIVE/59504

  • আজ ঢালকানগর মাসিক ইজতেমা, আমি যাবো ইনশাআল্লাহ। কেউ আমার সঙ্গে যেতে চাইলে যোগাযোগ করবেন।

  • без подписи

  • без подписи