tgindex

Abdullah bin bashir

описание

প্রয়োজনীয় পিডিএফ ও ব্যক্তিগত নোট

11 256
подписчиков
Охват к подписчикам
11,8%
ERR
Реакции к просмотрам
2,04%
681 на 23 постов
Пересылки к просмотрам
0,43%
144
Постов в день
1,6
всего 23

Где отзываются чаще

доля реакций к просмотрам
  • 11 авг.# শাসক নিজে যদি আলিমের গৃহে আসেন, তবে তাকে স্বাগত জানাতে, সাক্ষাৎ দিতে অসুবিধা নেই। এমন সাক্ষাৎকে যদি সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করার সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানো হয়, শাসককে দীন ও উম্মাহর কল্যাণে কাজ করতে নসীহত করা হয়, তবে তা খুবই মুবারক কাজ। এমন আলিমের নামে বদনাম করা অন্যায়, এই প্রকৃতির সাক্ষাৎকে দরবারী আখ্যা দেয়া জুলুম। যাদের এটুকু শরঈ জ্ঞান নেই, আলিমদের প্রতি যাদের এটুকু শ্রদ্ধা ও আস্থা নেই, তারা রাষ্ট্রীয়ভাবে দীন কায়েম করবেন কী করে? # একই সঙ্গে বর্তমান সময়ের সেক্যুলার শাসকদের ব্যাপারে উলামায়ে কিরামকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। তাদের কারও কারও বংশীয় শারাফত ও সদাচার, ব্যক্তিগত ইসলাম ও উলামাপ্রীতির যাহের দেখে তাদের আদর্শিক বিচ্যুতি, শরীয়াহর সঙ্গে সেক্যুলার ও জাতীয়তাবাদী সিস্টেমের চিরন্তন সংঘাতের কথা এক মুহূর্তের জন্য নযরান্দায করা যাবে না। তারা ব্যক্তি জীবনে যতোই সৎ হোন, যেই সিস্টেমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তা যে সবচেয়ে বড়ো আদর্শিক অসততা, উলামাদের সামনে তারা যতোই বিনয়ী হোন, রাজনীতিতে তারা যে মহান আল্লাহর সামনে চরম দুর্বিনীত, তারা যতোই উলামাদের কাছে আসুন, আদর্শিকভাবে উলামারা যে তাদের সবচেয়ে বড়ো প্রতিপক্ষ এটা ভোলা যাবে না। ফলে উচ্ছ্বাস নয়, এই প্রকৃতির সাক্ষাৎ ঘিরে উলামাদের সতর্ক পাঠ ও পর্যবেক্ষণ থাকা দরকার। ©মাওলানা মিজান হারুন হাফি.5,30%
  • 12 авг.প্রতিদিনই আমার এই বিশ্বাস আরও দৃঢ় হচ্ছে যে, মুসলমান বর্তমানে যে সংকটে রয়েছে তা সংশয়ের সংকট নয়। যেগুলো দূর করার জন্য সংশয়ের খণ্ডন, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ইত্যাদি করার খুব বেশি প্রয়োজন রয়েছে। বরং এ সংকটটি দূর্বলতা ও ব্যর্থতার। যা মোকাবিলায় প্রয়োজন কর্মদক্ষতা, কাজ সম্পাদনের সামর্থ্য, এবং যোগ্য মানুষ ও প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সক্ষমতা। কারণ, কোনো সংশয় যতই দুর্বল ও ভিত্তিহীন হোক, তা যদি কোনো শক্তিশালী, বিজয়ী ও ক্ষমতাবান ব্যক্তি বলে, মানুষ তার কথাকে গুরুত্ব দেয়। আবার কোনো সত্য যতই সঠিক ও শক্তিশালী হোক, তা যদি কোনো দুর্বল ও বঞ্চিত মানুষের মুখে উচ্চারিত হয়, মানুষ সেটিকেও ত্রুটিপূর্ণ ও তুচ্ছ মনে করে। এটাই মানুষের স্বাভাবিক প্রবণতা। কিন্তু শক্তির ভারসাম্য যখন বদলে যায়, তখন দৃশ্যপটও বদলে যায়। যে সংশয় একসময় শক্তিশালী পক্ষের প্রভাবে মানুষের চিন্তায় আধিপত্য বিস্তার করেছিল, তা তখন গ্রীষ্মের মেঘের মতো মিলিয়ে যায়। আর যে সত্য এতদিন দুর্বল ও বঞ্চিত মানুষের মুখে থাকায় তুচ্ছজ্ঞান করা হয়েছিল, তার প্রবক্তা যখন বিজয়ী হয়, তখন সেই চিন্তাই মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে। মানুষও তখন অনায়াসে তার দিকে ফিরে আসে। -মুহাম্মদ ইলহামি সাবিলুর রশাদ: মাআলিমু তরিকিত তাহাররুরিল ইসলামি, পৃ. ১৩, তৃতীয় মূদ্রণ4,19%
  • 10 авг.আব্বাসী শাসনের প্রতিষ্ঠাতা সাফ্ফাহর চাচা ছিলেন আব্দুল্লাহ ইবনে আলী। সে ছিল অত্যন্ত কঠোর, নিষ্ঠুর এবং রক্তপাতপ্রবণ এক শাসক। শাম থেকে বনু উমাইয়াকে উৎখাত করে সেখানে সেই আব্বাসীদের শাসনের ভিত্তি স্থাপন করে। শামে প্রবেশের পর সেখানকার প্রসিদ্ধ আলেম ইমাম আওযায়ী রহিমাহুল্লাহকে তিনি নিজের দরবারে হাজির হওয়ার জন্য বার্তা পাঠালেন। আওয়াযী রহিমহুল্লাহ বুঝে যান আব্দুল্লাহ বিন আলীর উদ্দেশ্য। তাই তার আবেদনে সাড়া না দিয়ে তিনদিন পর্যন্ত আত্মগোপনে থাকেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর এড়িয়ে থাকা সম্ভব হলো না। তিনি আবদুল্লাহ ইবন আলীর দরবারে গিয়ে উপস্থিত হন। আওযায়ী রহিমাহুল্লাহ পরে সেই ভয়ংকর সাক্ষাতের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছিলেন, আমি তার সামনে প্রবেশ করলাম। দেখলাম, সে একটি খাটের ওপর বসে আছে। হাতে একটি বাঁশের ছড়ি। তার ডান পাশে ও বাঁ পাশে কালো পোশাক পরা সৈন্যরা দাঁড়িয়ে আছে। তাদের হাতে খোলা তরবারি, কোমরে লোহার খাপ। আমি তাকে সালাম দিলাম। সে আমার সালামের কোনো জবাব দিল না। বরং হাতে থাকা বাঁশের ছড়িটি দিয়ে মাটিতে টোকা দিতে লাগল। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘হে আওযায়ী! আমরা যা করেছি, অর্থাৎ উমাইয়া জালিমদের হাত থেকে মানুষ ও দেশকে মুক্ত করেছি, এটা কি জিহাদ ও সীমান্ত পাহারা দেওয়ার কাজ হিসেবে গণ্য হবে বলে তুমি মনে করো?’ আওযায়ী রহিমাহুল্লাহ জবাবে বললেন, ‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিয়ত অনুযায়ী ফল পাবে।”’ আমার কথা শেষ হতেই সে আগের চেয়ে আরও জোরে বাঁশের ছড়ি দিয়ে টোকা দিতে লাগল। তার চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা সৈন্যরাও একে একে নিজেদের তরবারির হাতল শক্ত করে মুঠোয় চেপে ধরল। তারপর সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘হে আওযায়ী! বনু উমাইয়ার লোকদের রক্ত সম্পর্কে তুমি কী বল?’ আমি বললাম, ‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তিন কারণ ছাড়া মুসলমানের রক্ত ঝড়ানো বৈধ নয়। কেউ কোনো মুসলমানকে অন্যায়ভাবে হ*ত্যা করলে, বিবাহিত কেউ যিনা করলে এবং ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে মুসলিম জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে।’ আমার উত্তর শুনে আব্দুল্লাহ বিন আলী আরও জোরে বাঁশের ছড়ি দিয়ে টোকা দিতে লাগল। তারপর বলল, ‘তাহলে তাদের সম্পদ সম্পর্কে তুমি কী বল?’ আমি বললাম, ‘যদি তাদের হাতে থাকা সম্পদ হারামভাবে অর্জিত হয়ে থাকে, তবে আপনার জন্যও তা হারাম। আর যদি তা বৈধভাবে অর্জিত হয়ে থাকে, তাহলে শরিয়তসম্মত কোনো উপায় ছাড়া তা আপনার জন্য বৈধ হবে না।’ এবার সে আগের চেয়েও প্রবলভাবে ছড়ি দিয়ে টোকা দিতে লাগল। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ বলল, ‘তাহলে কি তোমাকে বিচারকের পদে নিয়োগ দেব?’ আমি বললাম, ‘আপনার পূর্বসূরিরা আমাকে এ বিষয়ে কখনো কষ্ট দেননি। আর আমি চাই, তারা আমার প্রতি যে অনুগ্রহের রীতি শুরু করে গেছেন, সেটিই যেনো অব্যাহত থাকে।’ সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘মনে হচ্ছে, তুমি এখান থেকে চলে যেতে চাইছ?’ আমি বললাম, ‘আমার ঘরে কিছু নারী-স্বজন রয়েছেন। তারা অসহায় এবং তাদের দেখাশোনা ও নিরাপত্তার প্রয়োজন। আমার কারণে তাদের মনও এখন উদ্বেগে ভারাক্রান্ত।’ কথাগুলো বলার পর আমি মনে মনে অপেক্ষা করতে লাগলাম—এই বুঝি আমার মাথা আমার সামনে মাটিতে গড়িয়ে পড়বে! কিন্তু কিছুক্ষণ পর সে আমাকে বলল, ‘তুমি চলে যাও।’ আমি তখন সেখান থেকে বেরিয়ে এলাম। কিছুদূর যাওয়ার পর হঠাৎ দেখলাম, পেছন থেকে আমিরের একজন দূত আমার কাছে ছুটে আসছে। তার হাতে ছিল দুইশ দিনার। সে এসে বলল, ‘আমির আপনাকে বলেছেন, এগুলো নিজের প্রয়োজনে খরচ করুন।’ আমি কিছুটা ভয় পেলাম, যদি এই অর্থও এখন গ্রহণ না করি তাহলে আব্দুল্লাহ বিন আলী আমার হয়তো ক্ষতি করবেন। তাই নিরুপায় হয়ে তা গ্রহণ করে নিলাম এবং সাথে সাথে পুরো দুশো দিনারই সদকা করে দিলাম। যে তিনদিন আত্মগোপনে ছিলাম, সে তিনদিনই আমি রোজা রেখেছিলাম। আমির যখন বিষয়টি জানতে পারলেন আমাকে একদিন তার সাথে ইফতারের জন্য দাওয়াত করলেন। একজন জালেমের সাথে ইফতার করতে আমি সরাসরি অস্বীকৃতি জানালাম। . এইধরনের ব্যক্তিত্বের কারণে শামে ইমাম আওযায়ী রহিমাহুল্লাহের প্রভাব ছিলো অনেক বেশি। সেখানে তার প্রভাব ও কর্তৃত্ব ছিল এতটাই প্রবল যে, সাধারণ মানুষের কাছে তার নির্দেশ শাসকের নির্দেশের চেয়েও বেশি গুরুত্ব বহন করত। একবার শামের এক গভর্নর তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবলেন। তখন তার সঙ্গীরা তাকে বলল, ‘তাকে ছেড়ে দিন। আল্লাহর কসম! উনি যদি মানুষকে আদেশ করেন আপনাকে হত্যা করে ফেলতে তাহলে শামবাসী নির্দ্ধিধায় তাই করবে’ ইমাম আওযায়ী ইন্তেকাল করার পর একবার সেই গভর্নর তার কবরের পাশে বসে বললেন, ‘আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন। আল্লাহর কসম! যে খলিফা আমাকে গভর্নর করে এখানে পাঠিয়েছেন তার থেকেও আমি আপনাকে বেশি ভয় করতাম!’ . সূত্র : আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১০/১১৮, ১৫৭ হিজরীর আলোচনা দ্র.4,10%
  • 13 авг.без подписи3,74%
  • 6 авг.একজন মুহাদ্দিস হাদিস পড়াচ্ছেন আর তার দরসে একজন মন্ত্রী উপস্থিত হয়ে হাদিস শ্রবণ করছেন! . এগুলো বইয়ের পাতায় পড়েই অভ্যস্ত ছিলাম আমরা। কিন্তু আল্লাহর শুকরিয়া যে, বইয়ের পাতার ঘটনাগুলো আজ আমাদের সামনে জীবন্ত হয়ে ধরা দিয়েছে! . আফগানিস্তানের প্রখ্যাত আলেম মুফতি নাজিবুল্লাহ সাহেব সহিহ বুখারির দরস প্রদান করছিলেন। সেখানে তার দরসে উপস্থিত হয়ে মনোযোগ দিয়ে দরস শ্রবণ করছিলেন আফগানিস্তানের পরিবহন ও বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী হাজি মোল্লা ফাজিল আখুন্দ। .3,55%
  • 1 авг.রাহমানি সাহেবের বয়স হয়েছে তাই তিনি অভিজ্ঞ হয়েছেন। তার বক্তব্যটা এখন আপনার কাছে পরিপক্ক মনে করছেন; অথচ আপনারই এখনো বয়স হয় নাই। হতে পারে আরেকটু বয়স হলে রহমানি সাহেবের এই বক্তব্যটাও আপনার কাছে অপরিপক্ক মনে হবে। আবার এও হতে পারে আপনার মূলনীতি অনুযায়ী রাহমানি সাহেবের আরেকটু বয়স হলে, অভিজ্ঞতা বাড়লে - তিনি নিজেই এই মতামত বদলে ফেলছেন। তখন কী বলবেন? আসলে অভিজ্ঞতা আর পরিপক্কতা কিছুই না। আমার মতের সাথে মিললে সেটাই অভিজ্ঞতা লব্ধ আলাপ; আর না মিললে সেটার কোনও ভেল্যুই নেই। ©মহিউদ্দিন কাসেমী ভাই2,88%
  • 11 авг.বর্তমান যুগে মুসলমান-অমুসলিমদের মধ্যকার সম্পর্কের পার্থক্যরেখা মুছে যাচ্ছে। একই দেশ ও সমাজে একসাথে বসবাসের সুবাদে অতীতের তুলনায় বর্তমানে পারস্পরিক যোগাযোগ ও লেনদেনের প্রয়োজনীয়তা বেশি দেখা দিচ্ছে। তাই এই বিষয়টি বর্তমান জামানার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ব্যক্তি থেকে সামাজিক জীবনের প্রতিটি কদমে এর প্রয়োজনীয়তার সম্মুখীন হচ্ছি। এসব কারণে জরুরি হয়ে পড়েছে মুসলমান ও কাফেরদের মধ্যে সম্পর্কের বিভিন্ন দিক এবং তার শরয়ি বিধিবিধান ও মাসআলাগুলোকে ইলমি-আমলি দিক থেকে স্পষ্ট করা। বক্ষ্যমাণ বইটিতে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সে বিষয়টিই আলোকপাত করা হয়েছে। মুসলিম অমুসলিম সম্পর্ক লেখক: মুফতি উবাইদুর রহমান, অনুবাদ: শায়খ আব্দুল্লাহ বিন বশির মূল্য: ১৭০৳ (২৫% ছাড়ে!)2,85%
  • 3 авг.আসল বিষয়টি না বুঝে শাখা নিয়ে আমাদের কত পরিকল্পনা!2,67%
  • 9 авг.একজন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাধারণ মানুষের সাথে নিজের গায়ের রুমাল বিছিয়ে মাঠিতেই বসে যাচ্ছে!2,57%
  • 8 авг.ইতিহাস বিশ্লেষক মুহাম্মদ ইলহামি লেখেন, ‘দীর্ঘকাল ধরে এসব বিষয় গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও চিন্তা করার পর আমার যে দৃঢ় বিশ্বাস জন্মেছে তা হলো—বর্তমান মুসলিম উম্মাহের উপর চেপে থাকা শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ফলে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করা হয়, তা তাদের ক্ষমতায় বহাল থাকা ও ক্রমে শক্তিশালী হয়ে ওঠার ক্ষতির তুলনায় অনেক কম। কারণ মানুষ খুব দ্রুতই নিজেদের বিষয়াদি সুবিন্যস্ত করতে, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং নিজেদের অধিকাংশ স্বার্থ সংরক্ষণ করতে সক্ষম। অন্যদিকে, এসব শাসনব্যবস্থার টিকে থাকার অর্থ হলো বর্তমান পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থেকে ক্রমেই অবনতির দিকে যাওয়া এবং শত্রুর আধিপত্য আরও সুদৃঢ় হওয়া। এসব ব্যবস্থা হয় আমাদের সরাসরি দখলদারির দিকে নিয়ে যাবে, নয়তো তাদের স্বৈরাচার অব্যাহত থাকবে এবং প্রতিটি দিন আগের দিনের চেয়ে আরও কঠিন হয়ে উঠবে। প্রকৃতপক্ষে, বৈশ্বিক ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত জাতিরাষ্ট্রভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা জনগণের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণকারী একটি কারাগার ছাড়া আর কিছু নয়। এই রাষ্ট্রব্যবস্থার কার্যকারিতা মূলত নির্ভর করে কারাগারটি কতটা সুরক্ষিত ও দুর্ভেদ্যভাবে পরিচালিত হচ্ছে তার ওপর। সমকালীন রাজনৈতিক পরিভাষায় “ব্যর্থ রাষ্ট্র” বলতে এমন রাষ্ট্রকে বোঝানো হয়, যে এই ভূমিকা পালনে সক্ষম নয়। অথচ অনেক মানুষ মনে করেন, জনগণকে মর্যাদাপূর্ণ জীবন দিতে ব্যর্থ রাষ্ট্রই “ব্যর্থ রাষ্ট্র”—বিষয়টি আসলে তা নয়। আজকের শাসকদের বাস্তবতার সঙ্গে ইতিহাসের সবচেয়ে কাছাকাছি যে দৃষ্টান্তটি পাওয়া যায়, তা হলো ইসলাম গ্রহণকারী মঙ্গোল শাসকদের দৃষ্টান্ত। তারা প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণ করলেও তাদের শাসনব্যবস্থার মূল ভিত্তি ছিল চেঙ্গিস খানের বিধিবিধান। তারা সেসব আইনকানুনের ভিত্তিতেই বিচার-ফয়সালা করত। ইমাম ও আলেমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে ইবনু তাইমিয়্যাহ বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। এমনকি মামলুকদের পতাকার অধীন তিনি নিজেও তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ইতিহাসবিদরা এ কারণেই তইমুর লংকে আলেমদের কর্তৃক কা*ফির ঘোষণার কথাও উল্লেখ করেছেন। ইবনে হাজার রহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘সে চেঙ্গিস খানের বিধিবিধানকে অগ্রাধিকার দিত এবং সেগুলোকে মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করত। এ কারণে একদল আলেম তার কুফরের ফতোয়া দিয়েছিলেন, যদিও তার দেশে ইসলামের নিদর্শনগুলো প্রকাশ্য ছিল।’ আমাদের যুগে ঔপনিবেশিক শক্তি ও তাদের সহযোগীদের মাধ্যমে শরিয়াহর পরিবর্তন সাধিত হওয়ার পর থেকে বহু সমকালীন আলেমও এসব বিষয়ে সত্য কথা উচ্চারণ করেছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে তাদের বক্তব্য ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ করেনি। এর একমাত্র কারণ হলো—এসব শাসকের প্রবল ক্ষমতা ও দমননীতি এবং প্রচারমাধ্যম, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও গণমাধ্যমের ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ। এখানে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার অবকাশ নেই। আমরা বিষয়টি উল্লেখ করেছি একটি মাত্র উদ্দেশ্যে। তা হলো—যেসব আলেম নিজেদের গ্রন্থে ক্ষমতা দখলকারী শাসকের শাসন মেনে নেওয়ার কথা লিখেছেন, তারাই শরিয়াহর বিরোধিতা করে তা পরিবর্তনকারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন এবং তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন। তারা ছিলেন দ্বীনদার ও সাহসী মানুষ; সমকালীনদের অনেকে যেভাবে তাদের কল্পনা করেন, তেমন কাপুরুষ ও মুনাফিক ছিলেন না।’ . সূত্র : খুলাসাতু তারিখিল ইসলাম, ৩/১০২-১০৪2,32%
  • 4 авг.без подписи2,27%
  • 2 авг.মিস দিয়েন না।2,02%