মুক্ত বাতাসের খোঁজে⬇️
Статистикаতোমরা যা কিছু কর তিনি তা ভালোভাবেই দেখেন। (কুরআন- ১১:১১২) "অন্ধকার থেকে আলোতে ফেরা ও ফেরানো হচ্ছে আমাদের মূল উদ্দেশ্য"
- Последний пост
- 10 нояб.
- Последнее чтение
- 15 авг.
- Постов за неделю
- 0
- Всего постов
- 20
- Тип
- открытый
- Язык
- bn
- В каталоге с
- 15 авг.
- 1/24сутки в ленте
- —
- 1/48двое суток
- —
- 1/72трое суток
- —
Оценка по просмотрам недавних постов: пост набирает почти всё за первые сутки.
Посты
একটি পড়ন্ত বিকাল (পর্বঃ ০১) গরু-মুরগ মুসল্লম-খাসি কিছুই বাদ পড়লো না। ফল-পাকুড়ও কেনা হলো এন্তার!। ছ’হাত ভর্তি করে ফাঁপরে পড়া গেল, এবার কোথায় যাই? যাওয়ার জায়গার তো অভাব নেই! কিন্তু প্রাইভেসি? ঠিক হলো পার্কে বসা হবে। খোলা নীল আকাশের নিচে। দিঘীর পাড়ে। বিশাল সরোবর। স্বচ্ছতোয়া টলটলে পানি! আমরা বসলাম উত্তর পাড়ে। দক্ষিণে বিপুল জলরাশি! দখিনা বাতাস ক্লান্তিহীন বয়ে বেড়াচ্ছে। সারাদিনের রোজার ক্লান্তি নিমিষেই উবে হাওয়া! কর্পূর! কিন্তু সত্যিকারে রোযা শুরু হলো তখন। শরীর জুড়িয়ে গেল দখিনা সমিরনে। কিন্তু সামনে এতসব মজার পেটরোচক থাকলে জিবে জল-পানি-ওয়াটার-মা- নামবে নাতো কী?। কোথায় দিঘীর জলে কার ছায়া গো-এর শোভা দেখবো, তা না, চোখ শুধু ঘুরেফিরে খাবারের দিকেই বলে যাচ্ছে। অনেক খুঁজে পেতে যুতসই একটা আসন পাওয়া গেল। ঠিক মাঝ বরাবর। পুরো দিঘীটা এক নজরে দেখা যায়। আশেপাশে কী হচ্ছে না হচ্ছে সেদিকেও চোখ রাখা সহজ। রোযার দিন হওয়াতে তেমন মানুষজন নেই। ফাঁকা। খাঁ-খাঁ। একদম যে নেই, তাও নয়। ছড়িয়ে ছিটিয়ে কিছু কপোত-কপোতীর আনাগোনা বিরল নয়। এতক্ষণ চলছিল সবকিছু ঠিকঠাক! অদূরেই বসা ছিল একযুগল। খাঁটি হুযুর-হুযুরনী! আমরা পার্কে প্রবেশের পর থেকেই দেখলাম দু’জনের মধ্যে চাপা একটা অস্বস্তি কাজ করছিল। হুযুর বারবার আড়চোখে আমাদের দিকে তাকাচ্ছিলেন। ব্যাপারটা প্রথমে চোখে পড়েনি। সাইফুলের জুহুরি-চোখেই ব্যাপারটা ধরা পড়লো। একটু পরে আমাদেরকে অবাক করে দিয়ে, তারা দু‘জন অন্যদিকে চলে গেল। অন্য পাশে গিয়ে বসলো। আমাদের দৃষ্টির আড়ালে। ব্যাপারটা দৃষ্টিকটু ঠেকলো। সন্দেহজনক। তারা তো আমাদের অবস্থান থেকে বেশ দূরেই ছিল। একটা গাছের আড়ালে। তাদের কথাবার্তা আমাদের শোনার কথা নয়। এমনকি সরাসরি দেখাও যাচ্ছিল না। যাক আমরা গাল-গপ্পে ডুবে গেলাম। বিষয়টা নিয়ে ভাবার সময় পেলাম না। ইফতারির তখনো অনেক সময় বাকি। আমরা তিনজনে সাইফুলের আই-ফোনের বিভিন্ন তেলেসমাতি দেখা নিয়ে ব্যস্ত। সেই তরুণ হুযুর এলেন। আমাদের পাশ ঘেঁষে দাঁড়ালেন। কাঁচুমাঁচু ভঙ্গিতে বললেন: – ভাই! একটু হাম্মামের প্রয়োজন ছিল। কোথায় পাওয়া যায়? পার্কেরটা তো বন্ধ। তালা দেয়া। তিনজন একযোগে চোখ তুলে তাকালাম। চেহারা দেখেই বোঝা গেল, খুবই গরীব ঘরের মানুষ। শাদা জুব্বা-পায়জামা। কাঁধে খাঁটি হুযুরদের মতো রুমাল ঝোলানো। চাপ দাড়ি। গায়ের রঙ কালোর দিকে। চোখে দু’টোতে কেমন একটা অসহায়-নিরীহ দৃষ্টি। কথা বলার সময় ঠোঁটের কোণে কেমন একটা বিষন্ন হাসি লেপ্টে থাকে। দাঁতের পাটি খুবই বিন্যস্ত। অসম্ভব শাদা। মানুষটার সকরুণ হাসি দেখেই আমাদের তিনজনের মনটা কেমন হয়ে গেল। সাইফুল মানুষটার প্রশ্নের জবাব না দিয়ে পাল্টা বেয়াড়া প্রশ্ন করে বসলো। আসলে তাদের এমন বেমক্কা উঠে যাওয়াটা আমাদের মনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে: – আপনারা আমাদের দেখে চলে গেলেন কেন? – না না, ভাই অন্য কিছু মনে করবেন না। ও আমার স্ত্রী। – বাথরুম কি আপনার জন্যে? – জ্বি না। ওর জন্যে। সাইফুল সব কাজের কাযি। সে একদৌড়ে গিয়ে পার্কের অফিসে হম্বিতম্বি করে বাথরুমের চাবি নিয়ে এল। হুযুর এক দৌড়ে গিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে এলেন। আমাদের অবস্থান থেকে একটু দূরেই বাথরুম। অত্যন্ত পুরোনো জীর্ণ একটা বোরখা পরা। হাতমোজা-পা-মোজা পরা। জুতোগুলো ছেঁড়া। না চাইতেই বিষয়গুলো নজরে পড়ে গেল। স্বামীর জুতোগুলোও দেখলাম ছেঁড়া! পা ছেঁচড়ে-ছেঁচড়ে হাঁটছেন। সাইফুল হুযুরকে ডেকে বললো: – আমাদের সাথে ইফতারি করবেন? – জ্বি না, ভাই, লাগবে না। ও এনেছে। কথা আর এগুলো না, স্ত্রী প্রয়োজন সেরে বের হলো। আমরা বলে দিলাম: – যদি সম্ভব হয়, তাকে রেখে একটু আসবেন। আমরা ভেবেছিলাম হুযুর আসবেন না। আমাদের অবাক করে দিয়ে একটু পরেই চলে এলেন: – আপনারা এ সময় পার্কে কেন? বাসায় যাবেন না? প্রশ্নটা শুনে হুযুর একটু থমকে গেলেন। চুপচাপ থেকে যা বললেন, তা শোনার জন্যে আমরা তিনজনের কেউই প্রস্তুত ছিলাম না। আমাদের মনের মধ্যে, স্নেহ-করুণা-ভালোবাসা-শ্রদ্ধার এক অবিমিশ্র অনুভূতির সৃষ্টি হলো। হুযুর বললেন: – বাসা থাকলে তো যাবো! – মানে? – আমাদের দু’জনেরই আসলে কোনও বাড়িঘর নেই। – বলছেন কী! এটা কী করে সম্ভব? খুলে বলুন তো! হুযুর প্রশ্নটা শুনে একটু যেন বিমনা হয়ে গেলেন। চেহারায় সংকোচ ফুটে উঠলো। শরম-দ্বিধা-জড়তার মিশেলে অন্যরকম একটা অভিব্যক্তি। – আচ্ছা, সমস্যা থাকলে বলার দরকার নেই। থাক। – না না, বলছি। কথা তো অনেক লম্বা। দু-এক কথায় আসলে সব কথা বলা যাবে না। – আপনি খুলেই বলুন। আমরা শুনবো। – আমার বাবা ছিলেন গ্রামের মসজিদের মুয়াজ্জিন। খুবই গরীব। আত্মীয় স্বজন থেকেও নেই। জমিজমা বলতে ছোট্ট একটা ভিটে। সেটাও পৈতৃকসূত্রে পাওয়া নয়। আব্বা মসজিদে চাকুরি নিয়ে গ্রামে এলেন। অনেক দিনের চাকুরির সুবাদে, গ্রামের মানুষ ধরাধরি করে, সেখানেরই এক এতীম মেয়ের সাথে বিয়ের ব্যবস্থা করে দিলেন। সবাই বিয়ে করে স্বামীর বাড়ি গিয়ে ওঠে। আব্বাজান মরহুম বিয়ে করে বউয়ের বাড়ি গিয়ে উঠলেন। চলবে ইনশাআল্লাহ
без подписи
без подписи
без подписи
без подписи
без подписи
без подписи
ওয়ালপেপার
শহর থেকে একটু বাইরে আপনি যদি সনোলজিষ্ট(আল্ট্রাসাউন্ড) হিসাবে কাজ করতে যান আপনাকে বিচিত্র সব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। প্রথম প্রথম খুব খারাপ লাগত।কিন্তু এখন অভ্যাস হয়ে গেছে। কত আজগুবি কথা যে আপনাকে শুনতে হবে তার কোনো লাইসেন্স নাই।সেই আজগুবি কথার দিকে না গিয়ে একটা অদ্ভুত কিন্তু মজার ঘটনা শেয়ার করি– দুই বান্ধবী আসছে আমার চেম্বারে।দুজনেরই বয়স ২০ বা ২১ বছরের মধ্যে।ধরা যাক, একজনের নাম "X" আরেক জনের নাম "Y"! X হচ্ছে আমার রোগী। Y তাকে নিয়ে এসেছে। দুজনেই আানম্যারিড। কমপ্লেইন হল–তলপেটে ব্যথা..জ্বর জ্বর লাগে..রুচি নাই..শরীর দুর্বল..! মাথাও চক্কর দেয় মাঝে মাঝে। পিরিয়ডের হিস্ট্রি নিলাম। সে ঠিকমত বলতেই পারলো না। যেহেতু অবিবাহিতা সেহেতু সরাসরি কিছু জিজ্ঞেস করাও অশোভন।একটা আল্ট্রাসাউন্ড আর একটা প্রসাব পরীক্ষা দিলাম। আল্ট্রাসাউন্ডে দেখি ৩ মাসের প্রেগন্যান্ট। অবাক হইনি।কারণ এটা আমাদের জন্য নতুন কিছু না। সব সনোলজিষ্টই এমন ঘটনা অহরহ ফেস করেন। মেয়েটি যতটুকু নাটক করা দরকার সব করল । কিভাবে কি হলো সে জানেই না । এতেও অবাক হইনি । অনেকের বাতাসেই পেটে বাচ্চা আসে এ ঘটনাও আমরা জানি । এসব ক্ষেত্রে আমি একদম নিশ্চুপ থাকি।আমার ডায়াগনোসিস বলে আমি চুপ । যত বড় পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবিই হোক আমি চুপ তো চুপ । যাহোক, একটা আানম্যারিড মেয়ে প্রেগন্যান্ট এটা কিন্তু মূল বিষয় না । মূল বিষয়ে আসি এবার - বাচ্চা যেভাবেই আসুক(বাতাসে,স্বপ্নে,আগুনে, অথবা পানিতে ভেসে ভেসে) যেহেতু মেয়েটি আনম্যারিড সেহেতু সে বাচ্চা রাখবে না । আমি যেহেতু টারমিনেশন করি না এবং এ রিলেটেড অ্যাডভাইসও দেই না সেজন্য আমি পেশেন্টকে ছেড়ে দিছি । কিন্তু পেশেন্ট এম আর (বাচ্চা নষ্ট করার পদ্ধতি )এখানেই করবে । রীতিমত হাতে পায়ে ধরাধরি । কান্নাকাটি । ম্যাডাম কি হবে আমার ? আমাকে বাচাঁন । পরে পেশেন্টকে বুঝিয়ে কাউন্টারে পাঠাইছি । কাউন্টার আর আমার চেম্বার পাশাপাশি। উপরে খোলা। মাঝখানে থাইগ্লাস দিয়ে পার্টিশন করা। কথা বার্তা সব শোনা যায়। যেহেতু কৃমিনাল অ্যাবরশন,হসপিটাল কর্তৃপক্ষও মুখিয়ে থাকে। টাকার পরিমাণ নিয়ে দর কষাকষি হচ্ছিলো। টাকার পরিমাণ শুনে রোগীর বান্ধবী উত্তেজিত হয়ে উচ্চস্বরে বলে উঠল–"এখানে এত বেশি চান কেন ? আমি গতমাসে করাইছি ৩০০০ টাকা দিয়ে ! কি বুঝলেন ? না বুঝলে জাতীয় ওষুধ নাপা খান! -ডা.ফাহমিদা মাহবুবা
হে আদম সন্তান! আমরা এই ক্ষণস্থায়ী জীবনের জন্য কাঁদছি অথচ কখনো কোন জাতি ছিলো না যাদের মৃত্যু একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়নি। . "যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের অন্তর আল্লাহর স্মরণে প্রশান্ত হয়; জেনে রাখো যে- আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্তি অর্জন করে।" . আলোচক_ শেখ আব্দুল হামিদ কেঙ্ক - © Copyright Free Video ভিডিওটি দাওয়ার জন্য উন্মুক্ত আপনারা নিজ প্লাটফর্মে প্রচার করতে পারবেন ইনশাআল্লাহ অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন হবে না।
এক বোনের পর্দা! মাদরাসা থেকে দু'দিন যাবৎ আমার দেবর বাসায় আসছে। আমি বের হই না রুম থেকে, বলতে গেলে কড়াকড়িভাবে নিষেধ। বাইরের সব কাজ শাশুড়ি একাই সামাল দেয়। আমি রুমে টুকটাক কাজ করি আরকি! আমার কিছু প্রয়োজন হলে দরজায় নকড দেই। দুই ননদ এসে হাজির -কি লাগবে ভাবি? কাল শশুর দরজায় আওয়াজ দিচ্ছে -আমি ভেতর থেকে - জ্বি! আব্বু আসেন। একটা প্লেট হাতে আব্বু হাজির, কিছু ফল নিয়ে। আমাকে দিয়ে বলছে- এগুলা খেয়ে নিও। একটু পর তোমার ভাই (দেবর) চলে গেলে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে নিও। পুরো ফ্যামিলিটা মিলে আমাকে নন-মাহরাম আত্মীয়দের থেকে আড়াল করে রাখে। সুখি হতে আর কি লাগে? আমার মতো একজন দুনিয়ামুখী মানুষের জন্য এই দুনিয়াবী জীবনে এতটুকুই কি যথেষ্ট নয়? বাকি সুখ না হয় জান্নাতে যেয়ে কুড়িয়ে নিব। ইন-শা-আল্লাহ! বিঃদ্রঃ এটা বানানো গল্প নয়, বাস্তব ঘটনা।
ইলমের তৃষ্ণায় জেলখানায় অবস্থান। ইমাম তাইমিয়া রহ.-এর জীবনীতে পাওয়া যায়। একবার তৎকালীন সময়ের বাদশাহ তার নিকট কোনো বিষয়ের ফতওয়া চাইলেন। কিন্তু তিনি ফতওয়া দেননি। ফলে বাদশাহ তাকে জেলখানায় বন্দি করেন। এরপর জেলখানায় কেটে গেল টানা তিনটি দিন। একদিন বাদশাহ সিংহাসনে বসে আছেন। এমন সময় রাজদরবারে কাঁদতে কাঁদতে প্রবেশ করল এক তালিবে ইলম। সে ছিল সুন্দর, সুদর্শন যুবক। তার চেহারায় ছিল মায়াবি ছাপ। তাকে দেখামাত্র রাজদরবারে উপস্থিত সকলেরই মায়ার উদ্রেক হলো। এমনকি রাজার মনেও তার প্রতি মায়া জন্মাল। রাজা তাকে অভয় দিয়ে বললেন, হে যুবক! তুমি কাঁদছ কেন? তুমি এভাবে কেঁদো না। এখানে তোমার কোনো ভয় নেই। তুমি কী চাও বলো, আমি তোমার মনোবাসনা পূর্ণ করব। বাদশাহর অভয়বাণী শুনে যুবক বলল, বাদশাহ সালামত! আপনি আমাকে জেলখানায় বন্দি করুন। তার কথা শুনে বাদশাহ আশ্চর্য হয়ে গেলেন। জিজ্ঞাসা করলেন, জেলখানায় যাওয়ার জন্য তুমি এমন উৎসুক কেন? যুবক বলল, আজ তিন দিন হলো আপনি আমার উস্তাদকে জেলখানায় বন্দি করে রেখেছেন। যার ফলে আমি আমার উস্তাদের নিকট থেকে সবক পড়তে পারছি না। আপনি যদি আমাকে জেলখানায় বন্দি করেন, তাহলে আমি সেখানে আমার উস্তাদের নিকট থেকে সবক পড়তে পারব। কারাবরণ করার কষ্ট আমার কাছে কোনো কষ্টই মনে হবে না। এ তালিবুল ইলম ছিল হজরত তাইমিয়া রহ.-এর ছাত্র। কিন্তু আফসোস! বর্তমানে এমন দৃশ্য দেখা যায় না। এমন চরিত্র আমাদের থেকে বিদায় নিয়েছে। আমাদের সম্পর্ক বর্তমানে টিভি ও ছবির সঙ্গে। কুরআনের সঙ্গে আমাদেরকোনো সম্পর্ক নেই। কুরআন খুলে দেখার সময়ও আমাদের নেই। কিছু পরিবার তো এমন রয়েছে, যাদের কুরআন শরিফ খুলে দেখার সময়ই হয় না।
без подписи
ধ*র্ষি*তা মেয়ের বাপ বললেন, "মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মনির আজ রাত প্রায় একটার সময় একটা কাগজে আমার কাছ থেকে সই নিয়ে গেল। সেই কাগজে কী লেখা আছে, আমি জানিনা।" এই সেই এসআই মনির, যাকে আমি দুপুরে পুলিশের ভেরিফাইড পেইজের মিথ্যাচারের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে "একটু পরে ফোন করছি" বলে ফোন রেখে দেয়। পরবর্তীতে আমাকে ফোন করেনি এবং আমার ফোন রিসিভ করেনি। যার ফলে যদি আমাকে সুদূর যশোর থেকে গাজীপুরে যেতে হচ্ছে। ~আতাউর রহমান বিক্রমপুরী
ধর্ষণের শিকার মেয়ের বাবা এইমাত্র ফোন করে জানালো, তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে ফোন করে বলেছেন যে, আপনার সাক্ষাৎকার নিতে আসবো এবং এই এই প্রশ্ন করলে আপনি এই এই উত্তর দিবেন। এখন মেয়ের বাপ আমাকে জিজ্ঞাসা করছে, হুজুর! পুলিশের শিখিয়ে দেওয়া উত্তর কি আমি বলব? আমি বলেছি, না। যা সত্য তাই বলবেন। মেয়ের বাপ বলল: পুলিশ হয়তো জোর করবে। আমি বললাম, "যদি আপনার ভয় লাগে তাহলে পুলিশকে ফোন করে বলে দিন, এখন আসার প্রয়োজন নেই। এত রাতে (রাত: সাড়ে বারোটা) আমি সাক্ষাৎকার দিবো না। সকালে আসবেন আপনারা।" আর ততক্ষণে আমি গাজীপুর পৌঁছে যাব ইনশাআল্লাহ। [পুরো কল রেকর্ড সংরক্ষিত আছে] পুনশ্চ- পুলিশের ভেরিফাইড পেইজের দেওয়া তথ্যকে চ্যালেঞ্জ করতে আমি গাজীপুর যাচ্ছি এটা জানার পর কালিয়াকৈর থানা পুলিশ ঐ তথ্য কে সত্য প্রমাণ করার জন্য যা যা করছে তার কিঞ্চিত খবর আমার কাছে এসেছে। বললে আপনারাও মজা পাবেন। তবে তার জন্য আরো একটু অপেক্ষা করতে হবে। .
ইরানের একটা ছোট্ট গ্রাম। ওখানে সুরাইয়ার সংসার। স্বামী, দুই কন্যা আর দুই পুত্র সন্তান। স্বামীর হঠাৎ নজর পড়ে চৌদ্দ বৎসর বয়সী এক কিশোরীর ওপর। এবং তাকে বিয়ে করার আকাঙ্খা মাথায় চাপে। কিশোরীকে বিয়ে করার বিনিময়ে কিশোরীর অসুস্থ বাবার চিকিৎসার খচর বহন করতে রাজি হয়ে যায় সুরাইয়ার স্বামী। কিন্তু এদিকে ঘরে স্ত্রী থাকতে আরেকটা বিয়ে করা ঝামেলা। আবার সব মিনিয়ে খরচাপাতিও বেশী। তখন সুরাইয়ার স্বামী ফন্দি আঁটে। গ্রামের সর্দারের সাথে বোঝাপড়া করে। এবং নিজের স্ত্রীর নামে গুজব রটিয়ে দেয়। গুজব হলো, "তার স্ত্রীর একটা অ'বৈ'ধ সম্পর্ক আছে।" আর এই গুজবকে শক্তিশালী করার জন্য হুমকি ধমকি দিয়ে তারা মিথ্যা সাক্ষীও জোগাড় করে। ফলে অল্পতেই সুরাইয়ার অপরাধ প্রমাণিত হয়। নিয়ম অনুযায়ী সুরাইয়াকে মৃ'ত্যু'দ'ণ্ড দেওয়া হয়। মৃ'ত্যু'দ'ণ্ডটা খুব ভয়ানক ছিল। প্রকাশ্যে রাস্তায় গ'র্ত খোঁড়া হয়। সুরাইয়ার হাত-পা বাঁ ধা হয়। গর্তে কোমর পর্যন্ত পোঁতা হয় তাকে। মাটি দিয়ে ভরাট করা হয় তার চারপাশ। তারপর দূর থেকে পাথর ছোঁ'ড়া হয় সুরাইয়ার শরীর উদ্দেশ্য করে। প্রথম পাথর ছুঁ'ড়'তে হয় সুরাইয়ার পিতাকেই। তারপর সুরাইয়ার দুই পুত্রকেও জোর করে পাথর ছুঁ'ড়'তে বাধ্য করা হয় মায়ের দিকে। এরপর একেক করে অন্য সবাই পাথর ছু'ড়ে মা'রে। বেশ কিছুক্ষণ ধরে অনর্গল পাথর ছোঁ'ড়ার পর সুরাইয়ার চারপাশের মাটি লাল হয়ে আসে, ছিঁটে ছিঁটে র'ক্ত পড়ে। শরীরের নাড়াচাড়া বন্ধ হয়। তখন স্বামী উপুড় হয়ে পড়ে থাকা সুরাইয়ার র'ক্তা'ক্ত মুখের দিকে তাকিয়ে পরীক্ষা করে, সে বেঁচে আছে কিনা। সুরাইয়া বেঁচে ছিল অমন ক্ষত বিক্ষত হওয়ার পরও। সে চোখ খুলেছিল। তখনও ম'রে'নি বুঝতে পেরে স্বামী সহ গ্রামের সবাই সুরাইয়ার আশপাশে পড়ে থাকা র'ক্তা'ক্ত পাথর কুড়িয়ে নিয়ে পুনরায় পাথর ছুঁ'ড়'তে শুরু করে। সুরাইয়ার মৃ'ত্যু হয় অতঃপর। এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি লিখেন একজন ইরানি লেখক। নাম, ফ্রিদৌনি সাহেবজাম। সময় ১৯৯০ সাল। বইটি ইরান ব্যান করে দেয়। বাস্তবিক একটা ঘটনার আদলে লেখা এই বই ইন্টারন্যাশনাল বেস্টসেলার হয়। দুই হাজার আট সালে এই বইটি স্ক্রিনে আনা হয় প্রথমবার। একটা সিনেমা বানানো হয়। নাম, "দ্য স্টোনিং অফ সুরাইয়া এম"। এদিকে সুরাইয়ার মৃ'ত্যু'র পরদিন তার স্বামীর পছন্দ করা সেই চৌদ্দ বছরের কিশোরীর অসুস্থ বাবাও মা'রা যায়। ফলে তার চিকিৎসার খরচ দেওয়ার বিনিময়ে ওই কিশোরীকে যে বিয়ে করার কথা ছিল, তা আর হয়ে ওঠে না। (সৃষ্টিকর্তা যদি রিজিকে না লিখে, তাহলে আপনি তা কোনো দিনও গ্রহণ করতে পারবেন না। এটাই তার একটা উদাহরণ।) { সুরাইয়ার মলিন চোখজোড়া দেখে তুরস্কের একজন কবি'র কিছু উদ্ধৃতি...... 'আমি তোমাকে গোপন ক'রে রাখব, বিশ্বাস করো... আমি যা লিখি, যা আঁকি তার মধ্যে, আমি যা গাই, যা বলি তার মধ্যে। তুমি থাকবে অথচ কেউ জানবে না, এবং কেউ তোমাকে দেখতে পাবে না, শুধু আমার চোখে তুমি বেঁচে থাকবে।' }
без подписи
বাচ্চার সঙ্গী (প্রথম অংশ) আজকালকার বাচ্চার মায়েদের একটা বড় কনসার্ন থাকে, এবং খুবই ভ্যালিড একটা কনসার্ন—কীভাবে বাচ্চাদের স্ক্রিন টাইম কমাব? আমি অন্যদের কথা জানিনা, তবে নিজের তিন বাচ্চা এবং বোনের দুই বাচ্চাকে দেখাশোনা করার অভিজ্ঞতা থেকে একটা কথা বলতে পারি—বাচ্চাকে ভালো সঙ্গ দিতে হবে। সঙ্গ দিলে বাচ্চারা স্ক্রিন টাইমের কথা ভুলে যাবে। বিশ্বাস করুন, ওরা কার্টুন দেখার কথা মুখেও আনবে না। আমি বাচ্চাদের ছোটবেলাতেও, যখন বয়স হয়ত দুই-আড়াই বছর, কার্টুনের বদলে বই এবং গল্প শুনিয়ে ট্রাই করেছি৷ এবং সেই চেষ্টা কাজেও দিয়েছে, ওদেরকে বাবা-মা সঙ্গ দিলে সত্যি ওদের কার্টুন দেখার নেশা থাকে না। কিন্তু বাস্তবিক ভাবে একজন বড় মানুষ, একটা বাচ্চাকে সারাদিন সঙ্গ দেবে, এন্টারটেইন করবে, এবং একটার পর একটা গল্প শোনাবে, বাচ্চাদের মতো পুতুল বা গাড়িঘোড়া দিয়ে খেলবে—এটা আল্লাহ তা'আলা আমাদের নেচার এবং সামর্থ্যের মধ্যে দেন নি। আমি একজন ফুলটাইম মা। তবুও আমার পক্ষে সম্ভব না বাচ্চাকে নিয়ে সারাদিন খেলাধুলো করব আর বই পড়ে শোনাব। কেননা চব্বিশ ঘণ্টাই কমবেশি বাচ্চার আরো অনেক প্রয়োজন আমাকে দেখতে হয়, বাচ্চার জন্য একটা ফাংশনিং সেইফ হোম নিশ্চিত করার জন্য মা হিসেবে আমার উপর আরো অনেক দায়িত্ব থাকে। বাচ্চার খাবার তৈরি করা, কাপড় ধোয়া, মেলা, গুছিয়ে জায়গায় রাখা, ঘর পরিষ্কার রাখা, খেলনা সর্টিং, বাচ্চাদের প্রয়োজনীয় শপিং ইত্যাদি। এগুলো তো পর্দার পেছনের কাজ। এর পাশাপাশি বাচ্চার সাথে অ্যাক্টিভ টাইম কাটানোর ব্যাপারটা তো আছেই। বাচ্চাকে কোলে রাখা, বডি মাসাজ দেয়া, হাকু-হিসু-ন্যাপি চেইঞ্জ, কাপড় পরানো৷ বাচ্চার সাথে খেলা, গল্প শোনানো, খাইয়ে দেয়া, ঘুম পাড়ানো ইত্যাদি। এবং এরপরেও একজন মায়ের নিতান্ত নিজস্ব বেসিক কিছু কাজ রয়েই যায়, যেমন - নামাজ-ঘুম-খাওয়া ইত্যাদি৷ আর তার উপর ঘর-সংসারের কাজ, রান্নাবান্না ও অন্যান্য দায়িত্ব তো থাকেই। চিন্তা করে দেখুন, এতগুলো কাজের পরে ঠিক কত পার্সেন্ট টাইম বাচ্চাকে "পিওরলি এন্টারটেইন" করা সম্ভব? এমনভাবে এন্টারটেইন করতে হবে, যেন বাচ্চা "ঘ্যানঘ্যান" না করে, যেন বাচ্চা আনন্দে থাকে, খুশি থাকে, উৎফুল্ল থাকে? কতক্ষণ সম্ভব? আসলে কাজটা প্রায় অসম্ভব। বিশেষ করে তাদের জন্যে যাদের সাপোর্ট সিস্টেম বেশ লো। বাসায় কাজের লোক নেই কিংবা একা থাকতে হয়। ইভেন আমি দেখেছি, যৌথ পরিবারে থাকলেও অনেক মেয়েই সন্তানদের জন্য তেমন একটা সাপোর্ট সিস্টেম পায় না। কেননা শাশুড়ি হয়ত বয়সজনিত কারণে অসুস্থ থাকেন কিংবা তাদের উপরেও সংসারের অন্যান্য দায়দায়িত্ব থাকে। আবার, বাবাদের কাছেও আশা করা যায় না তারা খুব বেশি বাচ্চা দেখবেন। এমনকি একজন সাপোর্টিভ স্বামীও কত পার্সেন্ট টাইম বাসায় থাকেন? কতক্ষণ বাচ্চা দেখতে পারেন? তাকেও নিশ্চয়ই অফিস বা ব্যবসা সামলাতে হয়। বাকিটা পরের পর্বে ইনশাআল্লাহ
নামাজের মধ্যে ৬টি কাজ করা মুনাফিকের লক্ষণ, ১. নামাজে দাঁড়িয়ে অলসতা করা। ২. লোক দেখানোর ইচ্ছা পোষণ করা। ৩. ওয়াক্তের নামাজ দেরিতে পড়া। ৪. অত্যন্ত দ্রুত নামাজ পড়া। ৫. নামাজের মধ্যে আল্লাহকে খুব কম স্মরণ করা। ৬. জামাআতে নামাজ না পড়া। — ইমাম ইবনুল কাইয়িম (রহ.) [কিতাবুস সালাত ওয়া আহকামু তারিকিহা, পৃঃ ১০৫]
আলোকিত অন্তর গতকাল রাত ১১টা ৩০ মিনিট। সন্ধ্যা থেকে ঝুমঝুম বৃষ্টি শেষে ওই সময়টায় আকাশের পানি একটু কমছে। এমন সময় আমাদের সদর দরজায় কে যেনো কড়া নাড়ছে। জানতে পারলাম পাড়ার এক বড় আপা আমার সাথে দেখা করতে এসেছেন। উনার মুখে শুনলাম আমাদের এলাকার বিহারী বুড়ি নামে পরিচিত একজন মহিলা সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে ইন্তেকাল করেছেন কিন্তু লোকের অভাবে এখন পর্যন্ত গোসল দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরিবারের সদস্যরা রাতেই গোসল দিতে চাচ্ছেন, কোন ব্যবস্থা করা যাবে কিনা? শহরের অনেক জায়গায় ইলেক্ট্রিসিটি নাই। টিপ টিপ করে বৃষ্টি পড়ছে। এত রাতে অটো রিকশাও পাওয়া যাবে না। কে আসবে এখন! তবুও বেশ কয়েক জায়গায় ফোন দিলাম। কিন্তু কেউই আসতে রাজী হলোনা। অবশেষে একজন আপা আসার ব্যাপারে আগ্রহ দেখালেন। জানতে চাইলেন যেই মহিলা মারা গিয়েছে উনি সলাত আদায় করতেন কি না। আমরা হ্যাঁ সূচক জবাব দেওয়াতে উনি এক কথায় রাজী হয়ে গেলেন। বললাম আপা এত রাতে কিভাবে আসবেন, আপনার বাসা তো প্রায় তিন কিলো দূরে। উনি বললেন, আমার বাসাতে বৃষ্টির পানি উঠছে । বাসার সামনের গলিতেও পানি, তবু আমি আমার স্বামীকে নিয়ে পায়ে হেটেই রওনা দিচ্ছি। আপনারা কাফনের কাপড় রেডি করেন আর বড় কড়াইয়ে বরই পাতা দিয়ে পানি গরম করার ব্যবস্থা করেন। আল্লাহু আকবার! আমাদের বাসার পাশে পুলিশ লাইনের বাগান। সেখানে ইদানিং শিয়ালের খুব আমদানি বাড়ছে। তাই আমরা কয়েকজন বাশ হাতে নিয়ে পুলিশ লাইনের গেটে অপেক্ষা করা শুরু করলাম। এমন সময় একটা অটোরিকশাও পেয়ে গেলাম। আল্লাহ সহজ করে দিলেন। উনাদের কিছুটা পথ হাটার কষ্ট থেকে রক্ষা করতে অটো রিকাশ নিয়ে এগিয়ে গেলাম। দেখি রাস্তা পুরো জনমানব শুন্য। শুধু কালো বোরখা পড়া একজন মহিলা হেটে হেটে এগিয়ে চলেছেন। পিছন থেকে উনার স্বামী মাথায় ছাতা ধরে আছেন। হাতে টর্চ লাইট ও নাই। রাস্তার পোলে ইলেক্ট্রিক বাল্ব জ্বলছে না। উপরে আকাশে থেকে থেকে বিজলি চমকাচ্ছে। ভীতিকর একটা পরিবেশ। কিন্তু তাদের মনে যেনো কোন ভয়ডর নাই। অতঃপর রাত সাড়ে ১২টার দিকে আপা মৃত বিহারী বুড়ির বাসায় এসে উপস্থিত হলেন। আমাদের এলাকায় একটা নতুন বিদাত চালু হয়েছে। বিচি গনা। মৃতের পাশে বসে মহিলারা কি যেনো দোয়া পড়ে আর বিচি গুনে। আপা এসে সব বন্ধ করতে বললেন। স্পষ্ট কথায় জানিয়ে দিলেন এসব করাতে মৃত ব্যক্তির কোন উপকার নেই বরং তিনি আরো কষ্ট পাবেন। কিছু মহিলা দুই একটা কথা বলতে চাচ্ছিলো, কিন্তু তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন বিদাতের সাথে কোন আপোষ নাই তার। অতঃপর লাশ গোসল করানোর প্রক্রিয়া শুরু করলেন। আমি উনার হাজবেন্ড কে নিয়ে বাহিরে ছাতা মাথায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম। ভাইয়ের এক চোখ নষ্ট। উনি ইস্পাহানি কোম্পানীর সেলসম্যান। দোকানে দোকানে গিয়ে চা পাতা বিক্রি করেন। সেদিন সন্ধ্যায় উনার সাইকেল টা লিক হয়ে যায়। বৃষ্টির কারনে কোন সাইকেল মেকার না পাওয়াতে প্রায় ছয় কিলো রাস্তা সাইকেল হাটায় বাড়ি ফিরছেন। সে সময় আমার ফোন পেয়ে আবার স্ত্রীকে নিয়ে তিন কিলো হেটে এসেছেন লাশ গোসল করাতে। রাতের খাওয়াটাও ঠিক মত খেতে পারেননি। অনেক কষ্টে আড়াই শতকের একটা মাথা গোজার ঠাই আছে উনাদের। কিন্তু উনারা নিঃসন্তান দম্পতি। তাই সেই মাথা গোজার ঠাই টুকুও একটা মাদ্রাসাকে দান করে দেওয়ার মৌখিক সম্মতি দিয়ে রেখেছেন। দোকানে দোকানে চাপাতা বিক্রি করে ভাই প্রতিদিন পান ৩০০ টাকা। কাজে না গেলে কোন টাকা পান না। সন্ধ্যায় কাপড় আয়রণ করার একটা ছোট্ট দোকান দিয়েছিলেন, সেটাও হাউজিং লিমিটেডের জায়গা হওয়ায় কিছুদিন আগে প্রশাসন ভেংগে দিয়েছে। সেটা নিয়ে ভাইয়ের কোন আফসোস নেই। সল্পভাষী মানুষ, মুখে সবসময় হাসি। সন্তান নেই, অর্থকড়ি নেই, এক চোখ নষ্ট তবু চোখ মুখ থেকে সুখের আভা ঠিকরে বের হচ্ছে। গল্পে গল্পে রাত প্রায় পৌনে দুইটা বেজে গেলো। এমন সময় আপা মৃত বিহারি বুড়ির গোসল কাফন শেষ করে ফিরলেন। টিপটিপ বৃষ্টি তখনো পড়ছে। আবার স্বামী স্ত্রী কে ছাতা মাথায় দিয়ে প্রায় তিন কিলো রাস্তা হেটে বাসায় ফিরতে হবে। আমি মৃত বিহারী বুড়ির পরিবারের লোকদের বললাম পুলিশ লাইনের মার্কেটর পর্যন্ত তাদের একটু এগিয়ে দিতে। শেয়ালের খুব উপদ্রব বাড়ছে। তারা তাদের বাসায় ফেরার উদ্দেশ্যে আবার হাটা শুরু করলো। আমার কাছে মনে হচ্ছিলো জান্নাতী দম্পতি হেটে যাচ্ছে। আল্লাহ এই দম্পতির ইহকাল ও পরকাল কে মর্যাদাবান করুক। জান্নাতে উচ্চ মাকাম দান করুন, আমীন।