সালাফি ARTICLE
Статистикаالسلام عليكم ورحمة الله وبركاته দ্বীনের সঠিক জ্ঞানের সমুদ্রে ডুব দিন, আত্মিক পরিশুদ্ধি অর্জন করুন।
- Последний пост
- 11 авг.
- Последнее чтение
- 15 авг.
- Постов за неделю
- 2
- Всего постов
- 20
- Тип
- открытый
- Язык
- bn
- В каталоге с
- 13 авг.
- 1/24сутки в ленте
- 100
- 1/48двое суток
- 114
- 1/72трое суток
- 123
Оценка по просмотрам недавних постов: пост набирает почти всё за первые сутки.
Посты
যে সকল নাম দ্বারা সন্তানের নামকরণ অনুচিত: সৌদি আরবের বিশিষ্ট আলেম, ও সিনিয়র স্কলার পরিষদের সদস্য এবং মসজিদে নববীর মুদাররিস শায়খ বকর বিন আব্দুল্লাহ আবু যাইদ (রাহ.) বলেছেন: "وَمِنْ هٰذَا الغَلَطِ التَّعْبِيدُ لِأَسْمَاءٍ يُظَنُّ أَنَّهَا مِنْ أَسْمَاءِ اللهِ تَعَالَى، وَهِيَ لَيْسَتْ كَذٰلِكَ، مِثْلُ: عَبْدُ المَقْصُودِ، عَبْدُ السَّتَّارِ، عَبْدُ المَوْجُودِ، عَبْدُ المَعْبُودِ، عَبْدُ الهُوٰى، عَبْدُ المُرْسِلِ، عَبْدُ الوَحِيدِ، عَبْدُ الطَّالِبِ، عَبْدُ النَّاصِرِ، عَبْدُ القَاضِي، عَبْدُ جَامِعٍ، عَبْدُ الحَنَّانِ، عَبْدُ الصَّاحِبِ. فَهٰذِهِ يَكُونُ الخَطَأُ فِيهَا مِنْ جِهَتَيْنِ: مِنْ جِهَةِ تَسْمِيَةِ اللهِ بِمَا لَمْ يَرِدْ بِهِ السَّمْعُ، وَأَسْمَاؤُهُ سُبْحَانَهُ تَوْقِيفِيَّةٌ عَلَى النَّصِّ مِنْ كِتَابٍ أَوْ سُنَّةٍ. وَالجِهَةُ الثَّانِيَةُ: التَّعَبُّدُ بِمَا لَمْ يُسَمِّ اللهُ بِهِ نَفْسَهُ وَلَا رَسُولُهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. وَكَثِيرٌ مِنْهَا مِنْ صِفَاتِ اللهِ؛ وَلٰكِنْ قَدْ غَلِطَ غَلَطًا بَيِّنًا مَنْ جَعَلَ لِلّٰهِ مِنْ كُلِّ صِفَةٍ أَسْمَاءً وَاشْتَقَّ مِنْهَا، فَقَوْلُ اللهِ تَعَالَى: ﴿وَاللَّهُ يَقْضِي بِالْحَقِّ﴾ [غافر: ٢٠] لَا يُشْتَقُّ مِنْهَا اسْمُ (القَاضِي)، لِهٰذَا لَا يُقَالُ: (عَبْدُ القَاضِي)، وَهٰكَذَا." "এই ভুলের অন্তর্ভুক্ত হলো এমন কিছু নামের সাথে 'আব্দ' (দাস) শব্দ যুক্ত করে নাম রাখা, যেগুলোকে মহান আল্লাহর নাম মনে করা হয়; অথচ প্রকৃতপক্ষে সেগুলো আল্লাহর নাম নয়। যেমন: ১. আবদুল মাকসুদ ২. আবদুস সাত্তার [এই নামটি আমাদের সমাজে ব্যাপকভাবে প্রচলিত হলেও প্রকৃতপক্ষে মহান আল্লাহর নাম হিসেবে 'সাত্তার' (الستار) নামটি বিশুদ্ধ সনদে প্রমাণিত নয়। সঠিক হল 'সিত্তীর' (الستير), যদিও উভয়টি একই অর্থবোধক। তা হলো: পাপ গোপনকারী] ৩. আবদুল মাওজুদ ৪. আবদুল মাবুদ ৫. আবদুল হাওয়া ৬. আবদুল মুরসিল ৭. আবদুল ওয়াহীদ [আল ওয়াহীদ (الوحيد) নামটি আল্লাহর নাম হিসেবে সাব্যস্ত নয়। তবে ওয়াহেদ (الواحد) এবং আহাদ (الاحد) আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত। ৮. আবদুত তালিব ৯. আবদুন নাসির [উল্লেখ্য যে, আব্দুন নাসীর (عبد النصير) নামে কোন সমস্যা নেই] ১০. আবদুল কাদী ১১. আবদু জামি‘ ১২. আবদুল হান্নান ১৩. আবদুস সাহিব এই নামগুলোর ক্ষেত্রে ভুলটি দুটি দিক থেকে ঘটে থাকে: ১. প্রথমত: এই নামগুলোতে আল্লাহর এমন সব নাম রয়েছে যেগুলো দলিল দ্বারা প্রমাণিত নয়। অথচ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নামসমূহ সম্পূর্ণরূপে কুরআন ও সুন্নাহর দলিলের ওপর নির্ভরশীল (তাওকিফিয়্যাহ)। ২. দ্বিতীয়ত: আল্লাহ তাআলা নিজের জন্য এবং তাঁর রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জন্য যেসব নাম নির্ধারণ করেননি, সেগুলোর সাথে দাসত্ব বা 'আব্দ' সম্বন্ধ প্রকাশ করা হয়েছে। হ্যাঁ, এসবের অনেকগুলোই আল্লাহর সিফাত বা গুণের অন্তর্ভুক্ত শব্দ থেকে গঠিত তবে যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতিটি সিফাত থেকে নাম গঠন করে সেখান থেকে (আব্দ যুক্ত) নতুন নাম বের করেছে, সে স্পষ্ট ভুল করেছে। যেমন: মহান আল্লাহর বাণী: ﴿وَاللَّهُ يَقْضِي بِالْحَقِّ﴾ "আর আল্লাহ ন্যায়সঙ্গতভাবে ফয়সালা করেন।" [গাফির/মুমিন: ২০] এই আয়াত থেকে 'আল কাদী' (বিচারক) নামটি গ্রহণ বা উদ্ভাবন করা যাবে না। এ কারণেই 'আবদুল কাদী' বলা যাবে না। একইভাবে বাকি নামগুলোও বুঝে নিতে হবে।" বই: মু‘জামুল মানাহিল লাফযিয়্যাহ (مُعْجَمُ المَنَاهِي اللَّفْظِيَّةِ) লেখক: শাইখ বকর ইবনে আব্দুল্লাহ আবু যাইদ (রহ.) অধ্যায়: হারফুল ‘আইন (حَرْفُ العَيْنِ) পরিচ্ছেদ: আবদুল মুক্তাদির, আবদুল মাকসুদ (عَبْدُ المُقْتَدِرِ، عَبْدُ المَقْصُودِ) অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
видео или голосовое, без подписи
ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কি একজন মুসলিমকে হত্যা করে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছিলেন? আমাদের দেশের ওয়াজ মাহফিলে প্রায় বক্তা তাদের বক্তৃতায় এই কাহীনিটা বলে থাকেন যে, ওমর রাদিআল্লাহু আনহু বিচারের সময় একজন মুসলিমকে হত্যা করে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে নবী (সা) এর প্রতি ভালোবাসা দেখিয়েছিলেন। কিন্তু উক্ত কাহীনিটা আসলে কতটুকু যৌক্তিক? সানাদসহ বর্ননা حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى قِرَاءَةً، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، وأخبرني عَبْدُ اللَّهِ بْنُ لَهِيعَةَ عَنْ أَبِي الْأُسُودِ، قَالَ: اخْتَصَمَ رَجُلَانِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى الله عليه وسلم فقضى بينهما، فقال المقضي عَلَيْهِ: رُدَّنَا إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «نَعَمْ» ، انطلقا إليه، فلما أتيا إليه، فقال الرَّجُلُ: يَا ابْنَ الْخَطَّابِ قَضَى لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى هَذَا.فقال: ردنا إلى عمر بن الخطاب، فردنا إليك: فقال: أكذاك؟قال: نَعَمْ. فَقَالَ عُمَرُ:مَكَانَكُمَا حَتَّى أَخْرُجَ إِلَيْكُمَا فأقضي بينكما. فخرج إليها مُشْتَمِلًا عَلَى سَيْفِهِ فَضَرَبَ الَّذِي قَالَ: رُدَّنَا إلى عمر فقتله، وأدبر الآخر فأتى إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَتَلَ عُمَرُ وَاللَّهِ صَاحِبِي، وَلَوْلَا أَنِّي أَعْجَزْتُهُ لَقَتَلَنِي، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا كُنْتُ أَظُنُّ أَنْ يَجْتَرِئَ عُمَرُ عَلَى قَتْلِ مُؤْمِنٍ একদা দুব্যক্তি তাদের বিবাদ মীমাংসার জন্যে মুহাম্মাদ ﷺ এর দরবারে উপস্থিত হয় তিনি একটা মীমাংসা করে দেন। কিন্তু মীমাংসা যার বিপক্ষে গিয়েছিল সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল ﷺ মীমাংসার জন্যে আপনি আমাদেরকে হযরত ওমর রাদিআল্লাহু আনহু এর নিকট পাঠিয়ে দিন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন ঠিক আছে, তোমরা সেখানেই যাও। তারা এখানে আসলে যার পক্ষে ফয়সালা হয়েছিল সে সমস্ত ঘটনা হযরত উমারের নিকট বর্ণনা করে। উমার (রাঃ) অপর ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করেন, এটা সত্যা কি?' সে স্বীকার করে নেয়। ওমর রাদিআল্লাহু আনহু তখন তাদেরকে বলেন, এখানে তোমরা থাম, আমি এসে ফায়সালা করছি।' তিনি তরবারী নিয়ে আসলেন এবং যে ব্যক্তি বলেছিল, আমাদেরকে ওমর রাদিআল্লাহু আনহু এর নিকট পাঠিয়ে দিন তার গর্দান উড়িয়ে দেন। অপর ব্যক্তি এটা দেখেই দৌড়ে পালিয়ে আসে এবং রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলে হে আল্লাহর রাসূল ﷺ আমার সঙ্গীকে হত্যা করা হয়েছে এবং আমি পালিয়ে না আসলে আমার মঙ্গল ছিল না। রাসূলুল্লাহ (সঃ) তখন বলেন আমি উমার-কে এরুপ জানতাম না যে, তিনি এরুপ বীরত্বপনা দেখিয়ে একজন মুসলমানের রক্ত প্রবাহিত করবেন। [তাফসিরে ইবনে আবি হাতিম, হা/৫৫৬০; তাফসিরে ইবনে ওয়াহাব, হা/১৬০] তাহক্বীক্ব: এর সানাদ বিশুদ্ধ নয় তাই এই ঘটনা শুদ্ধ নয়। হাফিয ইবনে কাসীর রহিমাহুল্লাহ বলেন, এর সানাদ মুরসাল (বিচ্ছিন্ন) এবং গারীব যিদ্দান (খুবই দুর্বল); সানাদে ইবনে লাহিয়া 'দ্বঈফ (দুর্বল বর্ননাকারী)। [তাফসির ইবনে কাসীর, ২/৩০৮; সূরা নিসার ৬৫ নং আয়াতের তাফসির]। হাফিয ইবনে হাজার আস্কালানী রহিমাহুল্লাহ বলেন, ইবনে লাহিয়া পঞ্চম স্তরের মুদাল্লিস রাবি ছিলেন, দুর্বল বর্ননাকারীদের থেকে তাদলিস করতেন (كان يدلس عن الضعفاء)। আর মুদাল্লিস রাবির আন বর্ননা গ্রহনযোগ্য নয়। [তাবাকাতুল মুদাল্লিসিন রাবি নং ১৪০; আসমাউল মুদাল্লিসিন, রাবি নং ৩৯] আর এরকম অনেক হাদিস বর্নিত হয়েছে উমার (রা.) কোন অপরাধীকে হত্যা করার আগে রাসুল (সা.) এর কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছেন। [সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩৬১০, ৪৯০৫, ৩০০৭ ] তাই এ ধরনের অসত্য বর্ননা গ্রহনযোগ্য নয় এবং আত্মরক্ষা ছাড়া আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোন নির্দেশনা ইসলামে নেই। এ ব্যাপারে ইমামদের ইজমা (ঐক্যমত) রয়েছে যে ইসলামের দন্ডবিধি বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব শাসকের। 🖋️ আবূ মুয়াবিয়াহ সিহাব মুহতাদি।
видео или голосовое, без подписи
কারণঃ ১.সানাদের রাবী 'يونس بن خباب' এর ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণ জারাহ (সমালোচনা) ছিলেন। তিনি খারাপ মানুষ ছিলেন। তিনি রাফেদ্বী, শী'আ, মিথ্যুক ছিলেন। তিনি 'উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু) কে গালি দিতেন। হাদিস বর্ণনায় অনির্ভরযোগ্য, মুনকার রাবী ছিলেন। (মিযানুল ই'তিদাল, রাবী নং ৯৯০৩; তাহযীবুল কামাল লিল মিযযী,রাবী নং ৭১৭৪; দ্বু'আফা ওয়াল মাতরূকীন লি ইবনুল জাওযী,রাবী নং ৩৮৬৫)। — সানাদে রাফেদ্বী খবিস, অনির্ভরযোগ্য রাবী থাকায় বর্ণনাটি বিশুদ্ধ নয়। পরিশেষে বলব, “তা'বীজ ঝুলানোর বিষয়ে মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবাহ গ্রন্থের আসারসমূহ বিশুদ্ধ সূত্রে প্রমাণিত নয়।” তাই তাবীজ থেকে বিরত থাকাই উত্তম। উপস্থাপক: এইচ.আর শিহাব মুহতাদী।
'আব্দুল্লাহ ইবনে 'আমর (রাদ্বিয়াল্লাহু 'আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যদি কেউ ঘুমাতে ভয় পায়, তাহলে তাকে বলতে দেও (এই বাক্যগুলো): "بِسْمِ اللَّهِ، أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ غَضَبِهِ وَسُوءِ عِقَابِهِ، وَمِنْ شَرِّ عِبَادِهِ، وَمِنْ شَرِّ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ" আব্দুল্লাহ ইবনে 'আমর এই বাক্যগুলো তার সন্তানকে শিখাতেন, যারা পড়তে (মুখস্ত) পারত আর যারা মুখস্ত করতে পারত না,তাদের জন্য এই বাক্যগুলো লিখে দিতেন। [ মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবাহ,হা/২৩৫৪৭ ]। 🔲তাহক্বীক্বঃ সানাদ দ্বঈফ। 🔳কারণঃ ১.সানাদের রাবী 'مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ' সত্যবাদী,সিক্বাহ। তবে তিনি প্রসিদ্ধ মুদাল্লিস রাবী ছিলেন। উনার তাদলীসের জন্য মুহাদ্দিসগণ তার ব্যাপারে জারাহ করেন। 🍂বর্ণনা নং: ০৪ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ: «أَنَّهُ كَانَ لَا يَرَى بَأْسًا بِالشَّيْءِ مِنَ الْقُرْآنِ» “মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন (রহিমাহুল্লাহ) ক্বুর'আন থেকে কিছু লিখে তা'বীজ বানানোর মাঝে কোন সমস্যা দেখতেন না।” (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবাহ, হাদিস নং ২৩৫৪৮) 🔳তাহক্বীক্বঃ সানাদ দ্বঈফ। 🔳কারণ: ১.সানাদের রাবী 'إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُسْلِمٍ' হচ্ছেন 'إسحاق بن مسلم، أبو إسحاق المكي، البصري'। যেমনটা ইমাম দারাক্বুতনী তার 'দ্বু'আফা ওয়াল মাতরূকীন' গ্রন্থে (১/২৫৫), এবং ইমাম মিযযী তার তাহযীবুল কামাল গ্রন্থে (৩/১৯৯) স্পষ্ট করেছেন। রাবী 'إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُسْلِمٍ' এর ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণ জারাহ (সমালোচনা) করেছেন। 🎓ইমাম বুখারী এই রাবীর ব্যাপারে বলেন, ইমাম ইয়াহইয়া ইবনু সা'ঈদ আল ক্বাত্ত্বান তাকে বর্জন করেছেন। ইমাম 'আব্দুর রহমান ইবনু মাহদী তাকে বর্জন করেছেন। ইমাম 'আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক তাকে বর্জন করেছেন। (তারীখ আল আওসাত্ব, রাবী নং ১৮৮৮) 🎓ইমাম 'ইয়াহইয়া ইবনু মা'ঈন' বলেন, "তিনি হাদিস বর্ণনায় কিছুই না।" (দ্বু'আফা আল কাবীর লিল 'উক্বাঈলী,১/৯২) 🎓ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল তাকে 'দ্বঈফ,মুনকারুল হাদিস (হাদিস বর্ণনায় প্রত্যাখ্যাত)' বলেছেন। (দ্বু'আফা আল কাবীর লিল 'উক্বাঈলী,১/৯২; আল জারহু ওয়াত তা'দীল,২/১৯৮) 🎓ইমাম নাসাঈ তাকে 'মাতরূকীল হাদিস (হাদিস বর্ণনায় পরিত্যাজ্য)' বলেছেন। (দ্বু'আফা ওয়াল মাতরূকীন লিল নাসাঈ, রাবী নং ৩৬) 🎓ইমাম ইয়া'ক্বুব ইবনে ইব্রাহীম আল জাওযুজানী বলেন, "তিনি হাদিস বর্ণনায় খুবই দূর্বল-বিভ্রান্তিকর।" 'আলী ইবনুল মাদিনী বলেছেন, "আমাদের সাথীগণ তার হাদিস বর্জিত হওয়ার ব্যাপারে একমত।" "إسماعيل بن مسلم واهي الحديث جدا قال علي أجمع أصحابنا على ترك حديثه" (আহওয়ালুর রিজাল,রাবী নং ২৬১) 🎓ইমাম 'আলী ইবনুল মাদিনী' বলেছেন, "তার হাদিস লিখা যাবে না।" (আল জারহু ওয়াত তা'দীল, ২/১৯৯) 🎓ইমাম দারাক্বুতনী তাকে 'দ্বঈফ এবং মাতরূক' বলেছেন। (দ্বু'আফা ওয়াল মাতরূকীন, রাবী নং ৭৬; সুওয়ালাতু বুরক্বানী লিদ দারাক্বুতনী, রাবী নং ০৬) . 💠সানাদে মাতরূক রাবী থাকায় বর্ণনাটি বিশুদ্ধ নয়। ... 🍂বর্ণনা নং: ০৫ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَسَنٌ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ عَطَاءٍ، قَالَ: «لَا بَأْسَ أَنْ يُعَلِّقَ الْقُرْآنَ» আত্বা ইবনে আবী রবাহ বলেন, “ক্বুর'আন থেকে লিখে তা'বীজ বানিয়ে ঝুলিয়ে দেয়ার মাঝে কোন সমস্যা নেই।” (মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবাহ, হা/২৩৫৫০) 🔲তাহক্বীক্ব: সানাদ দ্বঈফ। 🔳কারণ: ১.সানাদের রাবী 'لَيْثٍ' হচ্ছে 'ليث بن أبي سليم'। তিনি দ্বঈফ, বিকৃত হিফযের অধিকারী,মুযত্বারিবুল হাদিস, মুখতালিত্ব রাবী। মুহাদ্দিসগণের নিকট সমালোচিত রাবী হিসেবে বিবেচিত। ( দ্বু'আফা আল কাবীর লিল 'উক্বাঈলী,রাবী নং ১৫৬৯; আল কামিল ফিদ দ্বু'আফা লি ইবনু 'আদী, রাবী নং ১৬১৭; আল মাজরূহীন লি ইবনু হিব্বান, রাবী নং ৯০৬; দ্বু'আফা ওয়াল মাতরূকীন লি ইবনুল জাওযী,রাবী নং ২৮১৫; তাহযীবুল কামাল লিল মিযযী, রাবী নং ৫০১৭) ইমাম আবূ যুর'আহ আর রাযী বলেন, “আহলুল 'ইলমদের নিকট তার হাদিস বর্ণনা দ্বারা হুজ্জাত (দলীল) কায়েম (প্রতিষ্ঠা) হত না।” "لا تقوم به الحجة عند أهل العلم بالحديث" (আল জারহু ওয়াত তা'দীল,৭/১৭৯) . 💠সানাদে সমালোচিত রাবী বিদ্যমান থাকায় বর্ণনাটি দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। ... 🍂বর্ণনা নং: ০৬ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، عَنْ أَبَانَ بْنِ تغلَبٍ، عَنْ يُونُسَ بْنِ خَبَّابٍ، قَالَ: سَأَلْتُ أَبَا جَعْفَرٍ عَنِ التَّعْوِيذِ يُعَلَّقُ عَلَى الصِّبْيَانِ، «فَرَخَّصَ فِيهِ» ইউনুস ইবনে খব্বাব বলেন, “আবূ জা'ফার এর নিকট বালকদের (গলায়) তা'বীজ ঝুলিয়ে রাখার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে, তিনি এতে সম্মতি জানান (অনুমোদন করেন)।” (মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবাহ, হা/২৩৫৫১) তাহক্বীক্ব: বর্ণনাটি খুবই দূর্বল (জাল পর্যায়ের)।
▌তাবীজ ঝুলানোর বিষয়ে মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ গ্রন্থের আসারসমূহের তাহক্বীক হানাফী সম্প্রদায়ের মূর্খ হুজুররা তা'বীজ বিষয়ে মুসান্নাফ ইবনু শাইবাহ গ্রন্থের "مَنْ رَخَّصَ فِي تَعْلِيقِ التَّعَاوِيذِ ( যারা তা'বীয ঝুলিয়ে রাখায় সম্মতি দিতেন)" অধ্যায়ের আসারসমূহ পেশ করে তাদের তা'বীযের ব্যবসা চালিয়ে থাকে। কিন্তু ঐ আসারসমূহ কি বিশুদ্ধ সূত্রে প্রমাণিত? আসুন যেনে নেই। 🍂 বর্ণনা নং: ০১ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ أَبِي عِصْمَةَ، قَالَ: سَأَلْتُ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيِّبِ عَنِ التَّعْوِيذِ، فَقَالَ: «لَا بَأْسَ إِذَا كَانَ فِي أَدِيمٍ» সা'য়িদ ইবনুল মুসায়্যিব এর নিকট তা'বীজ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হল। তিনি জবাবে বললেন,কোন সমস্যা নাই যদি তা (তা'বীয) মানুষের জন্য হয়। [ মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ, হা/ ২৩৫৪৩,"কামাল ইউসুফ এর তাহক্বীক্বকৃত" ]। তাহক্বীক্ব : বর্ণনাটি জাল। কারণ : ১. ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল এর নিকট তার পুত্র 'আব্দুল্লাহ 'أَبِي عِصْمَةَ' এর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি জবাবে বলেন, “তিনি সেই আবূ 'ইসমাহ নয়,যিনি নু'আইম ইবনে হাম্মাদ এর সাথী। তা'বীয বিষয়ে একটি বর্ণনা শু'বাহ, আবূ 'ইসমাহ থেকে; আবূ 'ইসমাহ, জনৈক ব্যক্তি থেকে; জনৈক ব্যক্তি সা'য়িদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে বর্ণনা করেন। "سَأَلت أبي عَن أبي عصمَة الَّذِي حدث عَنهُ شُعْبَة عَن الْأَعْمَش عَن عبيد بن حسن عَن بن أبي أوفى قَالَ لَيْسَ هُوَ أَبُو عصمَة صَاحب نعيم بن حَمَّاد وَقد روى شُعْبَة عَن أبي عصمَة عَن رجل عَن بن الْمسيب فِي التعويذ" [ আল 'ইলাল ওয়া মা'রিফাতু রিজাল রিওয়াইয়াতু 'আব্দুল্লাহ, ক্রমিক নং ১৪৬০ ]। তা'বীয মুসান্নাফ ইবনু শাইবাহর এই বর্ণনাটি ইমাম ইবনে আবীদ দুনইয়া তার 'আল 'ইয়াল' গ্রন্থে (২/৮৬৪) নিয়ে আসেন এই সানাদে ~ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ رَجُلَيْنِ مِنْ أَهْلِ خُرَاسَانَ يُقَالُ لِأَحَدِهِمَا أَبُو عِصْمَةَ , عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ , أَنَّهُ سَأَلَ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيِّبِ عَنِ التَّعْوِيذِ فَقَالَ: "لَا بَأْسَ إِذَا كَانَ فِي أَدِيمٍ أَوْ فِضَّةٍ" এখানে রাবী 'أَبُو عِصْمَةَ', জনৈক ব্যক্তি (رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ) থেকে বর্ণনা করেছেন স্পষ্টভাবে বুঝা যাচ্ছে। . সুতরাং এই বর্ণনাটি রাবী 'أَبُو عِصْمَةَ', জনৈক ব্যক্তি (মাজহুল) থেকে বর্ণনা করেছেন যেমনটা ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল বলেছেন এবং ইমাম ইবনে আবীদ দুনইয়া সানাদ পেশ করে স্পষ্ট করেছেন। . ২.সানাদের রাবী 'أَبُو عِصْمَةَ' এর নাম পুরো নাম হচ্ছে 'نوح بن أبي مريم، أبو عِصْمة المروزي'। তিনি জাল হাদিস বর্ণনাকারী, হাদিস বর্ণনায় মাতরূক (পরিত্যাজ্য), অনির্ভরযোগ্য। তিনি জাহমীদের পথে চলতেন। [ তাক্বরীবুত তাহযীব লিল হাফিয,রাবী নং ৭২১০; দ্বু'আফা ওয়াল মাতরূকীন লি ইবনুল জাওযী, রাবী নং ৩৫৫৭; তাহযীবুত তাহযীব লিল হাফিয, ১০/৪৮৬-৪৮৮ ]। সানাদে মাতরুক,জাল হাদিস বর্ণনাকারী এবং জাহালাত থাকায় বর্ণনাটি মাওদ্বু' (জাল)। 🍂বর্ণনা নং: ০২ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ ثُوَيْرٍ، قَالَ: «كَانَ مُجَاهِدٌ يَكْتُبُ لِلنَّاسِ التَّعْوِيذَ فَيُعَلِّقُهُ عَلَيْهِمْ» সুয়াইর বলেন, মুজাহিদ রহিমাহুল্লাহ লোকদের জন্য তা'বীজ লিখে দিতেন এবং ঝুলিয়ে দিতেন। [ মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবাহ, হাদিস নং ২৩৫৪৫ ]। তাহক্বীক্ব: সানাদ দ্বঈফ। 🔳কারণ: ১.সানাদের রাবী 'ثُوَيْرٍ' হচ্ছেন 'ثُوَيْر بن أبي فَاخِتَة'। তিনি হাদিস বর্ণনায় অনির্ভরযোগ্য, দ্বঈফ (মাতরূক পর্যায়ের)। তিনি রাফেদ্বীদের মতো ছিলেন। ইমাম সুফইয়ান আস সাওরী তার ব্যাপারে সমালোচনা করে বলেন, সুয়াইর হচ্ছে মিথ্যার খু্ঁটির মাঝে একটি খুঁটি (ثوير ركن من أركان الكذب)। [ দ্বু'আফা ওয়াল মাতরূকীন লি ইবনুল জাওযী,রাবী নং ৬২২; তাহযীবুত তাহযীব, ২/৩৬-৩৭; মিযানুল ই'তিদাল, রাবী নং ১৪০৮ ]। 💠 সানাদে অনির্ভরযোগ্য,দ্বঈফ রাবী থাকায় বর্ণনাটি বিশুদ্ধ নয়। 🍂 বর্ণনা নং: ০৩ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِذَا فَزِعَ أَحَدُكُمْ فِي نَوْمِهِ فَلْيَقُلْ: بِسْمِ اللَّهِ، أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ غَضَبِهِ وَسُوءِ عِقَابِهِ، وَمِنْ شَرِّ عِبَادِهِ، وَمِنْ شَرِّ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ" «فَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ يُعَلِّمُهَا وَلَدَهُ مَنْ أَدْرَكَ مِنْهُمْ، وَمَنْ لَمْ يُدْرِكْ كَتَبَهَا وَعَلَّقَهَا عَلَيْهِ»
видео или голосовое, без подписи
তাআলাও প্রতিটি স্থানে বিদ্যমান, কোনো স্থানই তাঁর থেকে খালি নয়, অথচ তিনি স্থান ও কাল থেকে উর্ধ্বে বা মুক্ত)। [আল-হাভী লিল-ফাতাওয়া, ২/২৮৯] আল্লাহ তাআলা বলেন: “পরম দয়াময় আল্লাহ আরশে সমুন্নত হয়েছেন।” [সূরা ত্বাহা, ৫] ইমাম আদ-দারেমী বলেছেন: “এটিও কুফরি [যখন কেউ দাবি করে যে তিনি (আল্লাহ) প্রতিটি নোংরা, অপবিত্র ও নিকৃষ্ট স্থানে প্রবেশ করেছেন]”। [আর-রদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়াজ জানাদিকা; ইমাম আহমাদ, তাহকীক: সাবরি; পৃ. ১৫৬] (٤) القول إن الله في كل مكان قال السيوطي: «لَمَّا كَانَ الرُّوحُ فِي الْجَسَدِ لَا يُعْلَمُ لَهُ أَيْنِيَّةٌ عَلِمْنَا أَنَّهُ مُنَزَّهٌ عَنِ الْكَيْفِيَّةِ وَالْأَيْنِيَّةِ فَلَا يُوصَفُ بِأَيْنَ وَلَا كَيْفَ بَلِ الرُّوحُ مَوْجُودَةٌ فِي كُلِّ الْجَسَدِ مَا خَلَا مِنْهَا شَيْءٌ مِنَ الْجَسَدِ، وَكَذَلِكَ الْحَقُّ سبحانه وتعالى مَوْجُودٌ فِي كُلِّ مَكَانٍ مَا خَلَا مِنْهُ مَكَانٌ وَتَنَزَّهَ عَنِ الْمَكَانِ وَالزَّمَانِ». [الحاوي للفتاوي (2/ 289)] قال تعالى" ﴿ ٱلرَّحْمَـٰنُ عَلَى ٱلْعَرْشِ ٱسْتَوَىٰ ﴾[سورة طه 5] قال الدارمي: «كان هذا كفرًا أيضًا [حين زعم أنه دخل في كل مكان وحش قذر رديء». [الرد على الجهمية والزنادقة للإمام أحمد ت صبري (ص156)] (৫) রাসূলুল্লাহ (সা.) সশরীরে জীবিত থেকে মহাবিশ্ব পরিচালনা করছেন বলে দাবি করা — সুয়ূতী বলেছেন: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দেহ ও আত্মা সহিত জীবিত রয়েছেন। তিনি যেভাবে চান পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে এবং মালাইকা বা ফেরেশতাদের জগতে চলাফেরা ও পরিচালনা করেন। মৃত্যুর আগে তিনি যে আকৃতিতে ছিলেন, তিনি সেই আকৃতিতেই আছেন, তাঁর কোনো পরিবর্তন হয়নি। ফেরেশতারা সশরীরে জীবিত থাকা সত্ত্বেও যেভাবে চোখের আড়ালে থাকে, তিনিও সেভাবে চোখের আড়ালে আছেন। আল্লাহ যখন তাঁর কোনো বান্দাকে তাঁর দর্শনের মর্যাদা দিয়ে সম্মানিত করতে চান, তখন তিনি পর্দা তুলে নেন এবং বান্দা তাঁকে তাঁর আসল আকৃতিতেই দেখতে পান। [আল-হাভী লিল-ফাতাওয়া, ২/৩১৯] আল্লাহ তাআলা বলেন: “নিশ্চয়ই তোমারও মৃত্যু হবে এবং তাদেরও মৃত্যু হবে।” [সূরা আয-যুমার, ৩০] (٥) ادعاء أن رسول الله حي بجسده يتصرف في الكون. قال السيوطي: «النبي صلى الله عليه وسلم #حي #بجسده وروحه، وأنه يتصرف ويسير حيث شاء في أقطار الأرض وفي الملكوت وهو بهيئته التي كان عليها قبل وفاته لم يتبدل منه شيء، وأنه مغيب عن الأبصار كما غيبت الملائكة مع كونهم أحياء بأجسادهم، فإذا أراد الله رفع الحجاب عمن أراد إكرامه برؤيته رآه على هيئته التي هو عليها». [الحاوي للفتاوي (2/ 319)] قال تعالى: ﴿ إِنَّكَ مَيِّتٌ وَإِنَّهُم مَّيِّتُونَ ﴾ [سورة الزمر 30] এমন কিছু বিষয় যা স্পষ্ট কুফরির দলিল নয়, তবে ফায়দার জন্য উল্লেখ করা হলো: (১) তাঁর দিকে জাদুর কিছু বই সম্বন্ধ করা হয়, তবে তা প্রমাণিত নয়। কিন্তু তাঁর ছাত্র আশ-শাযিলী বলেছেন যে, সুয়ূতী তাঁর ছাত্রকে আসইউত থেকে মক্কায় মাত্র ২৭ কদমে নিয়ে গিয়েছিলেন; আর এটি জাদু হওয়া অসম্ভব কিছু নয়। তবে আমরা জানি না যে, সূফীরা যখন মসজিদের টাকা চুরির অপবাদে তাঁকে কাঠের জুতো (খড়ম) দিয়ে মারধর করেছিল, তখন কেন তিনি সূফীদের হাত থেকে বাঁচতে মক্কায় হেঁটে চলে যাননি! [বাহজাতুল আবিদীন, পৃ. ৫৬] (২) তিনি দাবি করেছেন যে, তিনি জাগ্রত অবস্থায় সশরীরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাঁর কাছে জান্নাতে প্রবেশের অনুরোধ জানালে নবী (সা.) তা নিশ্চিত করেছেন [বাহজাতুল আবিদীন, পৃ. ১৫৩]। — এটি নবী (সা.) ওপর একটি মিথ্যাচার, আর কোনো কোনো আলেম আল্লাহর রাসূলের ওপর মিথ্যা আরোপ করাকে কুফরি বলে গণ্য করেছেন। (أ) نُسِب له كتب في السحر، ولا تثبت، ولكن قال تلميذه الشاذلي إن السيوطي أخذ تلميذه من أسيوط إلى مكة ب27 خطوة، ولا يبعد أن ذلك سحر. ولا ندري لماذا لم يهرب من الصوفية الذين ضربوه بالقباقيب أيام اتِّهامِه بسرقة مال المسجد لم يمش إلى مكة. [بهجة العابدين ص56] (ب) زعم أنه التقى بالنبي صلى الله عليه وسلم، حقيقة يقظة، وطلب منه أن يدخُلَ الجنة فضمِنَها له [بهجة العابدين ص153] وهذا كذب على النبي صلى الله عليه وسلم، وقد اعتبر بعض العلماء الكذب على رسول الله كف. 📄 পোস্ট: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত & ভিডিও: মুহাম্মদ ইকবাল আওযাঈ।
মুবাহালাহ | মুহাম্মদ বিন শামসুদ্দিন বনাম আবু উমার আল বাহিছ | মুবাহালার একটি বিষয় হলো ইমাম জালালুদ্দিন সুয়ূতী রাহিমাহুল্লাহ কাফের কিনা? (পক্ষে, মুহাম্মদ বিন শামসুদ্দিন; বিপক্ষে, আবু উমার আল বাহিছ) — মুবাহালার আরও ১টি বিষয় হল: আবু হানিফা ও ইমাম নববী বিদআতি ছিলেন কিনা? (পক্ষে, মুহাম্মদ বিন শামসুদ্দিন; বিপক্ষে, আবু উমার আল বাহিছ।) (আমরা পক্ষে-বিপক্ষে কিছুই বলছি না। দেখা যাক, ক্ষতিগ্রস্ত কে হয়। আমিন ইয়া রব্ব। যে সত্যবাদী তাকে হেফাজতে রাখুন আর যে মিথ্যুক তাকে ধ্বংস করে দিন।) সুয়ূতীকে কুফরীর অভিযোগে অভিযুক্ত করার পক্ষে মুহাম্মদ বিন শামসুদ্দিন এর আনীত দলিলসমূহ দেখুন: সুয়ূতীর ইসলাম ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ: (১) নিজের কবরের ইবাদত করার আহ্বান জানানো — তার ছাত্র আশ-শাযিলী বলেছেন: “তিনি তার পরিবারের লোকদের বলেছিলেন, “যখন তোমাদের কোনো প্রয়োজন দেখা দেবে, তখন আমার কবরের কাছে এসো এবং তা আমার কাছে উল্লেখ করো, কারণ তা পূরণ করা হবে।” তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর একদল সঙ্গী গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনে তাঁর কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন এবং তাঁর বরকতে তাদের প্রয়োজন পূরণ হয়েছিল। [বাহজাতুল আবিদীন, পৃ.২৫৮] (١) دعا لعبادة قبره قال تلميذه الشاذلي: ولقد قالَ لأهل بيته، إذا كانت لكم حاجة فأتوا إلى قبري واذكروها لي فإنها تُقضى» وقد استنجدَ به جماعةٌ من أصحابه بعد موتِه في حوائجَ مهمةٍ فقضيت لهم ببركته [بهجة العابدين 258ص] (২) আল্লাহ ছাড়া অন্যের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা (ইস্তিগাসা) — সুয়ূতী বলেছেন: “এবং আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেছি। (ইস্তিগাসা করেছি।)” [হুসনুল মুহাদারা ফী তারিখি মিসর ওয়াল কাহেরা, ১/৬০৩] নোট: মুদ্রিত সংস্করণে এটি পরিবর্তন করে “তিনি সাহায্য প্রার্থনা করলেন” লেখা হয়েছে; কিন্তু পাণ্ডুলিপিতে “আমি সাহায্য প্রার্থনা করেছি” রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: “তোমরা তাদেরকে ডাকলে তারা তোমাদের ডাক শুনবে না; শুনলেও তোমাদের ডাকে সাড়া দেবে না। আর কিয়ামতের দিনে তারা তোমাদের শিরক অস্বীকার করবে। সর্বজ্ঞ আল্লাহর মতো কেউ তোমাকে খবর দিতে পারবে না।” [সূরা ফাতির, ১৪] লাজনা দায়িমার (স্থায়ী কমিটির) আলেমগণ বলেছেন: “ইস্তিগাসা (সাহায্য প্রার্থনা) হলো একটি ইবাদত ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম। তাই এটি একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিবেদন করা তাওহীদ, আর আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও উদ্দেশ্যে নিবেদন করা শির্কে আকবর (বড় শিরক)।” [ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমা, ১/১৩১] (٢) الاستغاثة بغير الله قال السيوطي: «واستغثت بالنبي صلى الله عليه وسلم» [حسن المحاضرة في تاريخ مصر والقاهرة (1/ 603)] تنبيه: في المطبوع حرفوها وكتبوا (واستغاث) وهي في المخطوط (واستغثت) قال تعالى: ﴿ إِن تَدْعُوهُمْ لَا يَسْمَعُوا۠ دُعَآءَكُمْ وَلَوْ سَمِعُوا۠ مَا ٱسْتَجَابُوا۠ لَكُمْ ۖ وَيَوْمَ ٱلْقِيَـٰمَةِ يَكْفُرُونَ بِشِرْكِكُمْ ۚ وَلَا يُنَبِّئُكَ مِثْلُ خَبِيرٍ ﴾ [سورة فاطر 14] قال علماء اللجنة الدائمة: «الاستغاثة عبادة وقربة فالتوجه بها إلى الله وحده توحيد، وصرفها لغيره شرك أكبر». [فتاوى اللجنة الدائمة - المجموعة الأولى (1/ 131)] (৩) পবিত্র কুরআন এবং শরীয়তের পরিভাষা অবমাননা করা — তিনি তাঁর “আস-সিহরুল হালাল” (যৌন বিষয়ক গল্পের ওপর রচিত) বইয়ে বলেছেন: (অতঃপর আমরা আরশে সমুন্নত হলাম)। এরপর তিনি তাজবীদের নিয়মাবলী এনে তা দিয়ে নারীর গোপনাঙ্গের বর্ণনা দিয়েছেন এবং বলেছেন: (এর দুটি ঠোঁট রয়েছে, যার একটি সাকিন যুক্ত 'নূন'-এর মতো এবং অন্যটি তানভীনের মতো)। তিনি আরও বলেছেন: (এবং আমি তার নিতম্ব থেকে {মাজমাউল বাহরাইন - দুই সমুদ্রের মিলনস্থল} লাভ করেছি) [পৃষ্ঠা, ২৯]। তিনি তার গুপ্তাঙ্গ সম্পর্কে বলেছেন: (এবং আমি সেই তাওয়াফের স্থানে সাঈ করার জন্য প্রস্তুতি নিলাম) [পৃষ্ঠা, ৪৭]। তিনি তার যৌনাঙ্গের ওপর আযান দেওয়াকে বৈধ মনে করে বলেছেন: (আমি যদি এটি থেকে মিনার হিসেবে ব্যবহার করতাম, তবে মুয়াযযিনের আযান মৃতদের শুনিয়ে দিতাম)। (٣) إهانة القرآن الكريم والمصطلحات الشرعية قال في كتابه "السحر الحلال" الذي ألفه في قصص الجنس: (ثم استوينا على العرش) ثم جاء بأحكام التجويد ووصف بها فرج المرأة، فقال: (وله شفران أحدهما كالنون الساكنة والآخر كالتنوين) وقال (وحصلت من أردافها على {مجمع البحرين}) [ص29] وقال عن فجرجها (وشمرت للسعي في ذلك المطاف) [ص47] واستجاز الأذان على عورته (لو استعملتُ منه منارة [مئذنة] لأسمعتُ الموتى نداء المؤذن). (৪) আল্লাহ সর্বস্তরে বা সব জায়গায় আছেন (হুলুল) বলা — সুয়ূতী বলেছেন: “দেহ যতক্ষণ জীবিত থাকে, ততক্ষণ তার ভেতরে আত্মার কোনো নির্দিষ্ট স্থান বা দিক জানা যায় না। এ থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, আত্মা রূপ ও স্থান থেকে মুক্ত। তাই আত্মাকে 'কোথায়' বা 'কেমন' দিয়ে বর্ণনা করা যায় না; বরং আত্মা পুরো দেহেই বিদ্যমান, দেহের কোনো অংশই তা থেকে খালি নয়। একইভাবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া
видео или голосовое, без подписи
শিয়াদের ব্যাপারে আমাদের অনেকের মধ্যেই অজ্ঞতা ও বিভ্রান্তি রয়েছে। অনেকে মনে করেন অন্যান্য মাযহাবের মতোই শিয়া বুঝি আরেকটি মাযহাব! মহররম, আশুরা ইত্যাদির ইতিহাস, মুয়াবিয়া (রা.) ও ইয়াযিদ নিয়েও সমাজে অনেক ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। তাই শিয়া প্রসঙ্গে কিছু বই, ওয়েবসাইট ও ভিডিওর তালিকা উল্লেখ করা হল — 🎬 শিয়া মতবাদ খন্ডনে ভিডিও: কারবালার প্রকৃত ইতিহাস - ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর https://youtu.be/s0fxy5vC6yc মহরম ও আশুরার ভুল আমল - ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর https://youtu.be/yGOcf_cbiNw শিয়ারা কি কা|ফের ? শিয়া সম্প্রদায় সম্পর্কে একটি তথ্যবহুল আলোচনা || ড. আবু বকর যাকারিয়া https://youtu.be/9I-lPI7L39c হৃদয়ে রক্তক্ষরণ (শিয়া আকীদা) || ড. আবু বকর যাকারিয়া https://youtu.be/BO3r-0mKUVY শিয়াদের ব্যাপারে আমাদের ধারণা কি হবে? শায়খ আহমাদুল্লাহ https://youtu.be/Aqqjug2JhRQ ইয়াজিদ সম্পর্কে আমাদের আকিদা কেমন হবে? শায়খ আহমাদুল্লাহ https://youtu.be/KEiA7oiRvSQ 📕 শিয়া মতবাদ খন্ডনে বই: শিয়াদের আকিদার বিশ্লেষণ এবং তাদের খণ্ডনে অনেক বই একসাথেঃ islamhouse.com/bn/category/193766/showall/showall/1/ ইতিহাসের কাঠগড়ায় হযরত মু’আবিয়া (রা)- মুফতি তাকি উসমানি https://ia800409.us.archive.org/3/items/taqiusmani/Itihaser-Kathgorai-Muabia(Almodina.com).pdf শিয়াদের অনেক ভ্রান্ত দাবির জবাব সহকারে সাহাবী(রা.)দের কিছু জীবনী বইঃ 'খালীফাতু রাসূলিল্লাহ আবূ বাক্র আছ্ছিদ্দীক রাদিআল্লাহু ‘আনহু' - ড. আহমদ আলী https://xeroxtree.com/pdf/khalifatu_rasulillah_abu_bakr_as_siddik_r.pdf 'আমীরুল মুমিনীন উসমান ইবনু আফফান রাদিআল্লাহু 'আনহু' - যুবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হক https://xeroxtree.com/pdf/amirul_muminin_usman_ibnu_affan_r.pdf হযরত মু'আবিয়া রা. এর জীবনচরিত - নাসিম আরাফাত https://ia803205.us.archive.org/34/items/islamibook/Hazrat-Muyabia(Almodina.com).pdf — শিয়া সম্প্রদায় বিষয়ক বাংলা বইয়ের একটি পূর্নাঙ্গ তালিকা | সালাফি Article লিংক - https://t.me/salafiarticle/753 — শিয়া সম্প্রদায় বিষয়ক আরও অনেক বাংলা বই ডাউনলোড করতে চাইলে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে সার্চ করুন: লিংক - https://t.me/salafipdfbd 🖥️ শিয়া মতবাদ খণ্ডনে ওয়েবসাইট: http://www.twelvershia.net/ https://islamistruth.wordpress.com/ http://www.chiite.fr/en/ http://ghadirkhumm.com/ http://nahjul-balagha.net/ https://gift2shias.com/ https://alsonnah.wordpress.com/ https://aaunveiled.wordpress.com/ https://youpuncturedtheark.wordpress.com/
видео или голосовое, без подписи
রাফিযী শিয়াদের সম্পর্কে সালাফদের বক্তব্য। ১. ইমাম তলহা ইবন মুসাররিফ (রহ.) [ মৃ. ১১২ হি. ] বলেন, «الرافضة لا تُنكح نساؤهم، ولا تؤكل ذبائحهم؛ لأنهم أهل ردة.» “রাফিযী সম্প্রদায়ের নারীদের বিয়ে করা যাবে না এবং তাদের জবাইকৃত পশু খাওয়া যাবে না; কারণ তারা মুরতাদ।” — [ আল-ইবানাহ আস-সুগরা, ইবন বাত্তাহ, পৃ. ১০৩ ] ২. ইমাম আহমাদ ইবন ইউনুস (রহ.) [ মৃ. ১৩৪ হি. ] বলেন, «أنا لا آكل ذبيحة رجل رافضي؛ فإنه عندي مرتد.» “আমি কোনো রাফিযীর জবাইকৃত পশু খাই না; কারণ আমার নিকট সে একজন মুরতাদ।” —[ শারহু উসূল ই‘তিকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আহ, আল-লালাকাঈ, ৪/৩৪ ] ৩. ইমাম মালিক ইবন আনাস (রহ.) [মৃ. ১৭৯ হি.] বলেন, «الذي يشتم أصحاب النبي ﷺ ليس لهم سهم - أو قال: نصيب - في الإسلام.» “যে ব্যক্তি নবী ﷺ-এর সাহাবীদের গালি দেয়, ইসলামে তার কোনো অংশ নেই।” — [ কিতাবুস সুন্নাহ, আল-খাল্লাল, নং ৩৯৮ ] ৪. ইমাম সুফিয়ান ইবন উয়াইনাহ (রহ.) [ মৃ. ১৯৮ হি. ] এক ব্যক্তিকে বলেন, «لا أحدثك بحديث سنة! فاستغفر الله ولا تعد، نظرت إلى رجل يشتم أصحاب محمد ﷺ فاتبعت جنازته؟!» “আমি তোমাকে সুন্নাহর কোনো হাদিস বর্ণনা করব না! আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও এবং আর কখনো এমন কাজ করো না। তুমি এমন এক ব্যক্তিকে দেখেছ, যে মুহাম্মদ ﷺ-এর সাহাবীদের গালি দিত, অথচ তুমি তার জানাজায় অংশগ্রহণ করেছ?!” — [ শারহ উসূল ই‘তিকাদ আহলিস সুন্নাহ, আল-লালাকাঈ, ৩/৩৭০ ] ৫. ইমাম আবদুর রহমান ইবন মাহদী (রহ.) [ মৃ. ১৯৮ হি.] বলেন, «هما ملتان الجهمية والرافضة.» “জাহমিয়্যাহ ও রাফিযাহ, এ দুটি স্বতন্ত্র ধর্ম (ইসলাম থেকে ভিন্ন)।” — [ খালকু আফ‘আলিল ‘ইবাদ, ইমাম বুখারী, পৃ. ৩৩ ] ৬. ইমাম শাফিঈ (রহ.) [ মৃ. ২০৪ হি. ] বলেন, «ما رأيت قوماً أشهد للزور من الرافضة.» “আমি প্রবৃত্তিপূজারীদের মধ্যে রাফিযাদের চেয়ে অধিক মিথ্যা সাক্ষ্যদাতা আর কাউকে দেখিনি।” — [ আদাব আশ-শাফিঈ ওয়া মানাকিবুহ, ইবন আবী হাতিম, পৃ. ২৩৩ ] ৭. ইমাম মুহাম্মাদ ইবন ইউসুফ (রহ.) [মৃ. ২১২ হি.] -কে আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে গালি দানকারীর ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, «كافر. لا تمسوه بأيديكم، ارفعوه بالخشب حتى تواروه في حفرته.» “সে কাফের। (তার মৃত্যুর পর) তাকে হাত দিয়ে স্পর্শ করো না; কাঠের সাহায্যে বহন করো, যতক্ষণ না তাকে কবরে দেওয়া হয়।” — [ কিতাবুস সুন্নাহ, আল-খাল্লাল, ১/৪০৬ ] ৮. ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল (রহ.) [ মৃ. ২৪১ হি.] বলেন, «من شتم أصحاب النبي ﷺ لا نأمن أن يكون قد مرق عن الدين.» “যে ব্যক্তি নবী ﷺ-এর সাহাবীদের গালি দেয়, তার সম্পর্কে আমরা আশঙ্কা করি যে সে দ্বীন থেকে বের হয়ে গেছে।” — [ কিতাবুস সুন্নাহ, আল-খাল্লাল, ১/৩৯৮ ] ৯. ইমাম বুখারী (রহ.) [ মৃ. ২৫৬ হি.] বলেন, «ما أبالي أصليت خلف الجهمي والرافضي أم صليت خلف اليهود والنصارى، ولا يُسلّم عليهم ولا يُعادون ولا يُناكحون ولا يُشهدون، ولا تؤكل ذبائحهم.» “আমি একজন জাহমী বা রাফিযীর পেছনে সালাত আদায় করা এবং একজন ইহুদি বা খ্রিষ্টানের পেছনে সালাত আদায় করার মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখি না। তাদের সালাম দেওয়া হবে না, তাদের সাক্ষাৎ করা হবে না, তাদের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করা হবে না, তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে না এবং তাদের জবাইকৃত পশু খাওয়া হবে না।” — [ খালকু আফ‘আলিল ‘ইবাদ, পৃ. ৩৩ ] ১০. ইমাম ইবন কুতায়বাহ আদ-দীনাওয়ারী (রহ.) [ মৃ. ২৭৬ হি.] বলেন, «وقد رأيت هؤلاء أيضاً حين رأوا غلو الرافضة في حب علي وتقديمه على ما قدمه رسول الله ﷺ وصحابته عليه وادعاءهم له شركة النبي ﷺ في نبوته، وعلم الغيب للأئمة من ولده وتلك الأقاويل والأمور السرية التي جمعت إلى الكذب والكفر إفراط الجهل والغباوة،......» “আমি দেখেছি, যখন কিছু লোক রাফিযাদের আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ব্যাপারে চরমপন্থা প্রত্যক্ষ করল, যেখানে তারা তাঁকে এমন বিষয়ে অগ্রাধিকার দেয় যা রাসূলুল্লাহ ﷺ এবং তাঁর সাহাবীগণ দেননি; এমনকি তারা দাবি করে যে তিনি নবুওয়াতে রাসূল ﷺ-এর অংশীদার ছিলেন এবং তাঁর বংশধর ইমামগণ গায়েবের জ্ঞান রাখেন। এ ধরনের বক্তব্য ও গোপন বিশ্বাসগুলো মিথ্যা, কুফরি, চরম অজ্ঞতা ও নির্বুদ্ধিতার সমন্বয়।.....” —[ আল-ইখতিলাফ ফিল-লাফয ওয়ার-রাদ্দু ‘আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়াল মুশাব্বিহাহ, পৃ. ৫৪ ] ১১. ইমাম হারব আল-কিরমানী (রহ.) [ মৃ. ২৮০ হি.] বলেন, «والرافضة: وهم الذين يتبرؤون من أصحاب النبي ﷺ، ويسبونهم، وينتقصونهم، ويكفرون الأمة إلا نفراً يسيراً. وليست الرافضة من الإسلام في شيء.» “রাফিযারা হলো তারা, যারা নবী ﷺ-এর সাহাবীদের থেকে নিজেদের সম্পর্কচ্ছেদ করে, তাদের গালি দেয়, হেয় করে এবং অল্প কয়েকজন ছাড়া সমগ্র উম্মাহকে কাফের সাব্যস্ত করে। রাফিযাদের সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই।” — [ কিতাবুস সুন্নাহ, হারব আল-কিরমানী, পৃ. ৭১ ]
видео или голосовое, без подписи
[দারউ তা‘আরুযুল আকলি ওয়ান নাকলি ১/৩৫৭ পৃ.] জানা গেল, আহলে বাতিল ও অজ্ঞ লোকদেরকে কিতাব ও সুন্নাতের দলিল শুনিয়ে হক্ব স্পষ্ট করা দ্বীনের অনেক বড় খিদমত। মূল উর্দু: ফাতওয়া ইলমিয়া ১/ ১০৮-১১১ লেখক: শায়খ যুবায়ের আলী যাঈ (রহ) অনুবাদ: কামাল আহমাদ [শায়খ যুবায়ের আলী যাঈ (রহ)-এর ‘ফাতাওয়া ইলমিয়্যাহ’ ১ম খণ্ড ১০৮-১১১ পৃ.]
প্রসঙ্গ: রাসূলুল্লাহ ﷺ কি বাহাস/মুনাযারা করতে নিষেধ বা অনুৎসাহিত করেছেন? প্রশ্ন: রসূলুল্লাহ (স) বলেছেন: أَنَا زَعِيمٌ بِبَيْتٍ فِي رَبَضِ الْجَنَّةِ لِمَنْ تَرَكَ الْمِرَاءَ وَإِنْ كَانَ مُحِقًّا “যে ব্যক্তি ন্যায়সঙ্গত হওয়া সত্ত্বেও ঝগড়া (الْمِرَاء) পরিহার করবে আমি তার জন্য জান্নাতের বেষ্টনীর মধ্যে একটি ঘরের যিম্মাদার।”[আবূ দাউদ ৪৮০০-এর সনদ হাসান] এই হাদীসটি পড়ার পর থেকে আমার চিন্তা উলট-পালট হয়ে গেছে। আমার অধিকাংশ সহপাঠী হানাফী এবং তাদের সাথে আমার গরম-গরম বাহাস হয়ে থাকে। আর আমি সব-সময় কুরআন ও হাদীস দ্বারা তাদেরকে লা-জবাব করে দিই। কিন্তু যখন আমি তাদেরকে এই হাদীসটি শোনায়, তখন তারা আমার পিছে লেগে যায়, (আর বলে:) “এই হাদীসটি তোর মতো লোকদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে। কেননা তুই খুব বেশি বাহাস করিস।” আমার প্রশ্ন হল: যদি কোন ব্যক্তি শিরক ও বিদআতের তাবলীগ করতে থাকে, তার উপর হক্ব স্পষ্ট করা উচিত, যার ফলে বাহ্যিকভাবে বাহাস সংঘটিত হলে একটি বা দুটি বাক্যে তো তাকে শান্ত করা যায় না। তা ছাড়া আল্লাহ তা‘আলা কুরআন মাজীদে বলেন: وَجَادِلْهُم بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ “তাদের সাথে উত্তম পন্থায় বিতর্ক করা।” [সূরা নাহল: ১২৫ আয়াত] এ পর্যায়ে যদি কেউ কুরআন ও হাদীসের খণ্ডিতাংশ উপস্থাপন করে শিরক ও বিদআত নির্ভরযোগ্য করার উদ্দেশ্যে মনগড়া ব্যাখ্যা করে, তার মোকাবেলায় দলিল দ্বারা সবকিছু সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করা উচিত। তেমনি আলেমদের মতবিরোধপূর্ণ মাসায়েল নিয়ে বাহাস কোন কোন ক্ষেত্রে হতে পারে? আশা করি আপনাকে বুঝাতে পেরেছি। জবাব: হাদীসে ব্যবহৃত الْمِرَاء শব্দের আভিধানিক অর্থ হল: ঝগড়া, কাট-হুজ্জাতি, বাহাস। [কামূসুল ওয়াহিদ ৫৪৬ পৃ.] আল্লামা ইবনুল আসির (রহ. মৃত: ৬০৬ হি.) বলেছেন: المراء: الجدال، والتمارى والمماراة: المجادلة على مذهب الشكِّ والريبة، এখানে الْمِرَاء- ঝগড়া, التمارى والمماراة অর্থ- সন্দেহ- সংশয়বশত ঝগড়া করা।” [ইবনুল আসির, আন-নিহায়াহ ফী গারিবল হাদীস ৪/৩২২] বুঝা গেল, আলোচ্য হাদীসে উল্লিখিত ‘ঝগড়া’ শব্দটি আহকাম ও ইখতিলাফি মাসায়েল নিয়ে বাহাস-মুবাহাসা উদ্দেশ্য নয়। আল্লামা ইবনুল আসির (রহ) (لَا تَمَارَوْا فِي الْقُرْآنِ ‘তোমরা কুরআন নিয়ে ঝগড়া করো না’-মর্মের হাদীস) প্রসঙ্গে আরও লিখেছেন: وقيل: إنما جاء هذا في الجدال والمراء في الآيات التي فيها ذكر القدر ونحوه من المعاني، على مذهب أهل الكلام، وأصحاب الأهواء والآراء، دون ما تضمنت من الاحكام، وأبواب الحلال والحرام، لان ذلك قد جرى بين الصحابة ومن بعدهم من العلماء، وذلك فيما يكون الغرض والباعث عليه ظهور الحق ليتبع دون الغلبة والتعجيز، والله أعلم. “বলা হয়: উক্ত হাদীসে বর্ণিত ‘ঝগড়া ও বিতর্ক’ অর্থ হল, তাক্বদীর ও অনুরূপ আয়াত-সম্পর্কে আহলে কালাম, আহলে বিদআত ও আহলুর রায়দের মতো ঝগড়া করা। এর দ্বারা আহকাম ও হালাল-হারাম বিষয়ক বিতর্ক ধর্তব্য নয়। কেননা, নিশ্চয় এ ধরণের বিতর্ক সাহাবী (রা) ও তাদের পরবর্তী আলেমদের থেকে জারি আছে। এর উদ্দেশ্য ও ভিত্তি হল, হক্ককে সুস্পষ্ট করা। যার ফলে হক্বের অনুসরণ করা হবে, কিন্তু (বিরোধীদের উপর) বিজয়ী হওয়া এবং তাদের নিস্তেজ করা উদ্দেশ্য নয়।” [ইবনুল আসির, আন-নিহায়াহ ফী গারিবল হাদীস ৪/৩২২] বাহাস মুনাযারা করার প্রমাণ: তাছাড়া আল্লাহ তা‘আলার বাণী: وَجَادِلْهُم بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ “তাদের সাথে উত্তম পন্থায় বিতর্ক কর।” [সূরা নাহল: ১২৫] আয়াতটি উত্তম পন্থায় মুনাযারা করার দলিল। রসূলুল্লাহ (স) বলেন:بَلِّغُوْا عَنِّيْ وَلَوْ آيَةً “আমার পক্ষ থেকে একটি আয়াত হলেও লোকদের মাঝে প্রচার কর।” [সহীহ বুখারী ৩৪৬১] কিছু বাহাস মুনাযারার প্রমাণ: (১) ইবরাহীম (আ)-এর সাথে একজন কাফিরের মুনাযারা কুরআন মাজীদে বর্ণিত হয়েছে। [দ্র. সূরা বাক্বারাহ: ২৫৮ আয়াত] (২) মুস্তাদরাক হাকিমে (৩/৫৯৩ হা/৪১৫৭) নাজরানের ঈসায়ী (খ্রিস্টান)-দের সাথে নবী (স)-এর বাহাস-মুবাহাসা’র উল্লেখ আছে। (৩) সহীহ বুখারীতে (হা/৩৪৬) একটি ফিক্বহী মাসআলা সম্পর্কে সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ ও সাহাবী আবূ মূসা আশ‘আরী (রা)-এর মুনাযারা উল্লেখ আছে। (৪) সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা)-এর সাথে খারিজীদের মুনাজারা প্রমাণিত। [সুনানুল কুবরা লিলবায়হাক্বী ৮/১৭৯-এর সনদ হাসান] শায়খুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া (রহ) বলেন: فَكُلُّ مَنْ لَمْ يُنَاظِرْ أَهْلَ الْإِلْحَادِ وَالْبِدَعِ مُنَاظَرَةً تَقْطَعُ دَابِرَهُمْ لَمْ يَكُنْ أَعْطَى الْإِسْلَامَ حَقَّهُ وَلَا وَفَى بِمُوجِبِ الْعِلْمِ وَالْإِيمَانِ وَلَا حَصَلَ بِكَلَامِهِ شِفَاءُ الصُّدُورِ وَطُمَأْنِينَةُ النُّفُوسِ وَلَا أَفَادَ كَلَامُهُ الْعِلْمَ وَالْيَقِينَ . মুলহিদ ও বিদআতীদের বিপরীতে (আলিম হওয়া সত্ত্বেও)--যে তাদের স্বরূপ উন্মোচনে বিতর্ক করে না---সে ইসলামের হক আদায় করল না। আর না সে ইলম ও ঈমানের দাবি পূরণ করল। তার আলোচনা দ্বারা অন্তরসমূহ আরোগ্য ও প্রশান্তি লাভ করে না; আর না ইলম-ইয়াকীন উন্নীত করে।
видео или голосовое, без подписи
এছাড়াও স্যারের ভিডিয়ো বিবৃতিটি ছিল তাঁর তাফসিরের ব্যাপারে। পক্ষান্তরে আমার প্রবন্ধে স্পেসিফিকলি ‘আল হামাউইয়্যাহ’ কিতাবের প্লেজারিজম নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নিই, তাফসিরের মধ্যে কোনো প্লেজারিজম নেই; কিন্তু ‘আল হামাউইয়্যাহ’ কিতাবে স্যারের ব্যাপক মাত্রার প্লেজারিজমকে কীভাবে ডিফেন্ড করা সম্ভব?! যেই কিতাব থেকে ৮২ জায়গায় প্রমাণিত প্লেজারিজমের উদাহরণ আনা হয়েছে প্রবন্ধের মধ্যে! ইমাম আলবানি রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, “কোনো মুসলিমের জন্য একটি গ্রন্থ থেকে ইলম নিয়ে তা নিজের দিকে সম্পৃক্ত করা জায়েজ নয়। যদিও তা একটিমাত্র আলোচনা বা একটিমাত্র তাহকিক হয়ে থাকে। তাহলে পুরো একটি গ্রন্থ নিয়ে তা নিজের বলে প্রচার করাটা কেমন হতে পারে?” [আল-আলবানি, জামিউ তুরাসিল আল্লামা আল-আলবানি ফিল ফিকহ, খ. ১৪, পৃ. ২৪-২৫।] শাইখ আলবানির সম্পূর্ণ ফতোয়াটি প্রবন্ধে উল্লেখ করেছি। · সংশয়-১০ : ড. যাকারিয়া স্যার যেসব কপিপেস্ট করেছেন, তা প্লেজারিজম (লেখাচুরি) হিসেবে বিবেচিত না। যখন কেউ পিএইচডি থিসিস কিংবা নিজস্ব গবেষণাপত্র লিখে, কেবল তখন কপিপেস্ট করলে সেটা প্লেজারিজম হয়। এছাড়া প্লেজারিজম হয় না। জবাব : শুধু পিএইচডি থিসিস কিংবা নিজস্ব গবেষণাপত্র না, বরং অন্য যেকোনো বইতে অন্যের লেখা নিয়ে নিজের নামে চালিয়ে দিলে তা প্লেজারিজম হিসেবে বিবেচিত হবে। ইমাম আলবানি, আল্লামা বাকার আবু জাইদ, শাইখ সুলাইমান আর-রুহাইলি-সহ আরও অনেক প্রাজ্ঞ আলিম প্লেজারিজমের এই সংজ্ঞাই উল্লেখ করেছেন। তাঁরা কেউ প্লেজারিজমকে শুধু পিএইচডি থিসিস বা রিসার্চপেপারের সাথে খাস করেননি। 🖋️ আব্দুল্লাহ মৃধা হাফিজাহুল্লাহ। বই: https://t.me/salafipdfbd/12114
জবাব : সালাফি লেখকদের মধ্যে আমি ছাড়া কেউ ড. যাকারিয়া স্যারের ভুল নিয়ে তেমন একটা কথা বলেন না। তাই এমনটা কারও কারও মনে হতে পারে। যাকারিয়া স্যারের ব্যাপার অনেকটা এরকম হয়ে গেছে—তিনি অন্যদের নিয়ে বলবেন; কিন্তু তাঁর ব্যাপারে কেউ বলবে না। আমি আলহামদুলিল্লাহ এমন কোনো নিয়মের অনুসারী না। অন্যরা যদি তাঁর ভুল নিয়ে বলতো, তাহলে আমি যতবার তাঁর ভুল নিয়ে বলেছি, এতবার আমাকে বলতে হতো না। আর আমার আইডি ঘুরলে যে কেউ বুঝবে, আমি শুধু তাঁর ভুল না—বরং অনেকের ভুল নিয়েই কথা বলেছি। এছাড়া আমি বইপত্র, আলিমগণের বিভিন্ন উক্তি ইত্যাদি অনুবাদের কাজও নিয়মিত করি। তাই কেউ যদি ভাবে, আমি ড. যাকারিয়া স্যারের সমালোচনা নিয়ে পড়ে আছি; তার এমন ভাবাটা সঠিক হবে না। · সংশয়-৬ : যাকারিয়া স্যারের কপিপেস্ট নিয়ে সমালোচনা করার কারণে বিদাতিদের লাভ হচ্ছে। জবাব : এটা একটা কুযুক্তি। এটা যদি মেনে নেন, তাহলে বিদাতিরা এসে বলবে, ‘আমাদের অমুক ইমাম-আল্লামার বিরুদ্ধে সালাফিদের সমালোচনার কারণে উম্মতের মধ্যে বিভক্তি তৈরি হয়। আর এতে অমুসলিমদের লাভ হচ্ছে।’ এই কুযুক্তির কারণে কি বিদাতিদের ব্যাপারে ন্যায্য সমালোচনা বন্ধ করা অপরিহার্য হয়ে যাবে? যদি না হয়, তাহলে একইভাবে যাকারিয়া স্যারের করা জুলুমের প্রতিবাদে তাঁর সম্পর্কে ন্যায়সঙ্গত সমালোচনা বন্ধ করাও জরুরি হবে না। · সংশয়-৭ : ড. যাকারিয়া স্যার আপনাকে মুরজিয়া বলেছেন, সেজন্য এই ক্ষোভ থেকে এই প্রবন্ধ লিখেছেন। এটা কি ঠিক হলো? জবাব : কী আশ্চর্য! যিনি বিনা দলিলে একজন সুন্নাহপন্থি দায়িকে মুরজিয়া বলে দিয়েছেন অবলীলায়, তাঁর কাজ কি সঠিক হয়েছে?! এই নিকৃষ্ট ট্যাগবাজির জন্য যাকারিয়া স্যারকে ধরলেন না কেন? এর মানে দাঁড়াল, স্যার অন্যের ব্যাপারে বিনা দলিলে যাচ্ছেতাই ট্যাগ লাগাবেন, বিদাতি হুকুম জারি করবেন, গাইরুল্লাহর আইন দিয়ে বিচার করার মতো কুফরকে নর্মালাইজ করার মিথ্যা অভিযোগ আনবেন; কিন্তু সেই অন্যজনকে সব মাথা পেতে নিতে হবে। স্যারের জুলুমের বিরুদ্ধে টুঁ শব্দটি করতে পারবে না! আর জি হ্যাঁ, অন্যায়ভাবে মুরজিয়া ট্যাগ দেওয়াও এই প্রবন্ধ লেখার অন্যতম কারণ। আমার বইয়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অসত্য কথা ছড়িয়ে আমার বই থেকে যাকারিয়া স্যার ওয়ার্ন করেছেন। সেটাও এই প্রবন্ধ লেখার অন্যতম কারণ। আমি প্রবন্ধের ভূমিকায় স্পষ্টভাবে লিখেই দিয়েছি, “তিনি (যাকারিয়া স্যার) যেমন আমার প্রতি অন্যায় করেছেন, তেমনি আরও অনেক মানুষের প্রতি জুলুম করেছেন। আমরা হাদিসে পড়েছি, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তুমি তোমার ভাইকে সাহায্য করো—সে জালেম হোক, চাই মজলুম।’ সাহাবিগণ জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রসুল, মজলুমকে সাহায্য করার বিষয়টি তো বুঝলাম। কিন্তু জালেমকে কীভাবে সাহায্য করব?’ নবিজি বললেন, ‘জুলুম থেকে তাকে বিরত রাখবে। তাহলেই তাকে সাহায্য করা হবে।’ উক্ত হাদিসের আলোকে, ড. যাকারিয়ার ধারাবাহিক জুলুম থেকে তাঁকে নিবৃত্ত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এ কারণে আমরা এই গ্রন্থ রচনায় আগ্রহী হয়েছি। ড. যাকারিয়া আমাদের থেকে অন্যায়ভাবে মানুষকে ওয়ার্ন করে দাওয়াতের পথে বাধা সৃষ্টি করেছেন। তাই দাওয়াতের পথকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করার নিমিত্তে বক্ষ্যমাণ গ্রন্থ লেখা জরুরি মনে করেছি।” · সংশয়-৮ : যাকারিয়া স্যার কপিপেস্ট করেছেন; মূল লেখককে ক্রেডিট দেননি। তাঁর এই কাজ সঠিক নয়। কিন্তু তাঁর কাজকে ‘চুরি’ বলাও সঠিক নয়। জবাব : মূল লেখককে ক্রেডিট না দিয়ে কপিপেস্ট করাকেই ‘প্লেজারিজম তথা লেখাচুরি’ বলা হয়। এই কাজকে স্বয়ং আলিমগণ চুরি বলেছেন। এ বিষয়ে আমি প্রবন্ধের মধ্যে একটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদ পর্যন্ত রচনা করেছি। আমি প্রবন্ধে উল্লেখ করেছি, মূল লেখককে ক্রেডিট না দিয়ে কপিপেস্ট করাকে—শাইখ আলবানি, শাইখ মাহমুদ শাকির, শাইখ বাকার আবু জাইদ, শাইখ সুলাইমান আর-রুহাইলি, শাইখ মুহাম্মাদ হিশাম তাহিরি প্রমুখ ‘চুরি’ আখ্যা দিয়েছেন। এমনকি শাইখ আলবানি রাহিমাহুল্লাহ লেখাচোরের নাম ধরে তাঁর ‘সিলসিলা সহিহা’ গ্রন্থে চোরের বিরুদ্ধে প্লেজারিজমের অভিযোগ এনেছেন এবং চোরকে এক্সপোজ করেছেন। · সংশয়-৯ : যাকারিয়া স্যার তো কপিপেস্টের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি তাঁর তাফসিরের কপিপেস্ট প্রসঙ্গে এ ধরনের মন্তব্য করেছিলেন, তিনি কপিপেস্ট করেই লিখেন! তাই তাঁর এই কাজের বিরুদ্ধে বলা ঠিক নয়। জবাব : কিছুক্ষণের জন্য যাকারিয়া স্যারের কথা মাথা থেকে বাদ দিন। যেকোনো চোর যদি বলে, ‘আমি চুরি করেছি; আমি স্বীকার করে নিচ্ছি।’ তাহলে কি সেই চোরের কাজ হালাল হয়ে যাবে? তার চুরির বিরুদ্ধে বলা নিষিদ্ধ হয়ে যাবে? ঠিক একইভাবে যাকারিয়া স্যার যেই কাজটি করেছেন, সেটা স্পষ্ট লেখাচুরি। যা কিবার আলিমগণের ফতোয়া থেকে সুপ্রমাণিত। স্যার ভিডিয়ো বিবৃতিতে কপিপেস্টের কথা স্বীকার করলেই তাঁর কাজ হালাল হয়ে যাবে না। বরং অবশ্যই তাঁকে লেখাচুরি থেকে প্রকাশ্যে তওবা করতে হবে। এই সংশয়ের জবাব বিশদ আকারে প্রবন্ধের মধ্যেও লিখেছি।