- Последний пост
- 10 апр.
- Последнее чтение
- 15 авг.
- Постов за неделю
- 0
- Всего постов
- 20
- Тип
- открытый
- Язык
- bn
- Категория
- Новости и СМИ (по похожим)
- В каталоге с
- 13 авг.
- 1/24сутки в ленте
- —
- 1/48двое суток
- —
- 1/72трое суток
- —
Оценка по просмотрам недавних постов: пост набирает почти всё за первые сутки.
Посты
видео или голосовое, без подписи
видео или голосовое, без подписи
এই ছবিটা গত পরশুদিন তুললাম। জায়গাটা লিবিয়ার জালো শহরের কাছাকাছি। আশেপাশে যেকোনো দিকে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত ধু ধু মরুভূমি। তার মাঝে ছোট্ট একটা মরুদ্যান। এই যে কয়েকটা গাছ দেখা যাচ্ছে, কাছে গেলে দেখা যায়, এখানকার বালি ভিজে আছে। অর্থাৎ এখানে মাটি থেকে পানির ঝর্ণা বেরিয়ে আসছে। আর সেজন্যই এখানে ঘন একগুচ্ছ গাছ জন্মাতে পেরেছে। শুধু এই কয়েকটা গাছই অবশ্য না। পুরো এলাকায় এরকম মোটামুটি পঞ্চাশ-ষাট গুচ্ছের মতো গাছ আছে। একটু দূরে দূরে। অর্থাৎ যেখানেই পানি মরুর বালি ভেদ করে বাইরে বেরিয়ে আসার পথ পেয়েছে, সেখানেই গাছ জন্মে উঠেছে। এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এক একটা গুচ্ছে এতগুলো গাছ, একটার সাথে আরেকটা এমন ঘনভাবে লেগে আছে, ঠিক কয়টা গাছ সেখানে আছে, সেটা বোঝাই কঠিন হয়ে পড়েছে। নিচে আরও দুইটা ছবি দিচ্ছি। আক্ষরিক অর্থেই সুবহানাল্লাহ বলার মতো দৃশ্য।
ইরানিয়ান ট্রোলিং অ্যাট ইটস বেস্ট। এক বান্ধবী আরেক বান্ধবীকে বলছে: সবচেয়ে দুঃখের ব্যাপার কি, জানো? ইসরায়েল আমাদের ঐতিহাসিক স্থানগুলোতে আক্রমণ করছে, কিন্তু আমরা পাল্টা আক্রমণ করতে পারছি না। কারণ তাদের কোনো ঐতিহাসিক স্থানই নাই। আয়াতুল্লাহ জান্নাতির বয়সও ইসরায়েলের চেয়ে বেশি 😂😂😂
ভেরি ইন্টারেস্টিং। ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ আজ ফরেন অ্যাফেয়ার্স ম্যাগাজিনে একটা আর্টিকেল লিখেছেন, যেখানে তিনি ইরানের সাথে আমেরিকার সম্ভাব্য একটা শান্তিচুক্তির রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করেছেন। জারিফের যুক্তি, ইরান এই মুহূর্তে যথেষ্ট শক্তিশালী অবস্থানে আছে। আর সে কারণেই এই শক্তির মুহূর্তটাই তাদের জন্য যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তির পথে হাঁটার সঠিক সময়। কারণ এই মুহূর্তে ইরান সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও যুদ্ধ চলতে থাকলে অনর্দিষ্টিকালের জন্য ধ্বংসযজ্ঞ বাড়তেই থাকবে। এবং ভবিষ্যতে হয়তো এই মুহূর্তের মতো বেটার ডিল ইরান আর বের করে আনতে পারবে না। তাই তার প্রস্তাব, ইরানের উচিত তাদের বর্তমান অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বিজয় ঘোষণা করা এবং আলোচনায় বসা। তার প্রস্তাবিত সম্ভাব্য চুক্তিটা হতে পারে এরকম: ১। পারমাণবিক সীমাবদ্ধতা: ইরান তাদের ইউরেনিয়াম এনরিচমেন্ট ৩.৬৭%-এর নিচে নামিয়ে আনবে এবং সব স্থাপনা স্থায়ীভাবে IAEA-এর পর্যবেক্ষণের জন্য উন্মুক্ত করে দিবে। তারা পারমাণবিক বোমা বানাবে না, কিন্তু আমেরিকার যে দাবি ছিল, জিরো এনরিচমেন্ট, তাতেও একমত হবে না। ২। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: আমেরিকা ইরানের উপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিবে, ফ্রোজেন ফান্ড অবমুক্ত করে দিবে এবং ইরানকে গ্লোবাল মার্কেটে ইন্টিগ্রেট হওয়ার সুযোগ দিবে। ৩। অনাক্রমণ চুক্তি: উভয় পক্ষ একটা স্থায়ী 'অনাক্রমণ চুক্তি'তে স্বাক্ষর করবে। একে অপরের বিরুদ্ধে তারা আর কোনো আক্রমণ করবে না। দুই দেশের মধ্যে শত্রুতার অবসান ঘটবে এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হবে। ৪। হরমুজ প্রণালী: ইরান হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করে দিবে। ভবিষ্যতে সংঘাত এড়াতে তারা উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে একটা বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গঠন করবে। ৫। অর্থনৈতিক সহযোগিতা: যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য আমেরিকা ইরানের পুনর্গঠন কার্যক্রমে "অর্থায়ন" করবে। উল্লেখ্য, জাভেদ জারিফ বর্তমানে ইরানের কোনো রাষ্ট্রীয় পদবী ধারণ করেন না। আর্টিকেলটা তিনি ইরানের রাষ্ট্রীয় অবস্থানের পক্ষ থেকে লেখেননি। বরং তিনি "ইরানের উচিত" টাইপের শব্দ ব্যবহার করেছেন। ফলে এটা তিনি নিজের উদ্যোগেই লিখেছেন, নাকি ইরানের সমর্থন নিয়ে আমেরিকাকে পরোক্ষভাবে প্রস্তাব দিচ্ছেন, সেটা পরিষ্কার না। ইরানের রাজনীতিতে সব সময়ই দুইটা স্রোত ছিল - রক্ষণশীল এবং সংস্ককারপন্থী। জাভেদ জারিফ সংস্কারপন্থী মনোভাবের ব্যক্তি। কাজেই এমনও হতে পারে, তিনি হয়তো জাস্ট নিজের এবং তার সমমনা রাজনীতিবিদদের মনোভাবটাই প্রকাশ করেছেন।
আল-জাজিরার এই অনুষ্ঠানে কুয়েতি আলোচকের সাথে ইরানি আলোচকের তর্কাতর্কির একটা অংশ: কুয়েতি অতিথি: আমরা দেখতে পাচ্ছি ইরান প্রতিদিন উপসাগরীয় দেশগুলোর বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে রকেট এবং ড্রোন হামলা হচ্ছে। এর কোনো নৈতিক বা আইনগত ভিত্তি নেই। ইরানি অতিথি: আচ্ছা, আর অন্য দেশকে নিজেদের আকাশসীমা, ভূমি এবং সমুদ্র ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে দেওয়া কি নৈতিক? আপনারাও তো এই যুদ্ধের শরিক। কুয়েতি অতিথি: আপনার এই দাবির প্রমাণ কী? ইরানি অতিথি: আপনারা তিনটা মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছিলেন কেন? সেটা তো করেছিলেন ইরানি বিমান মনে করে! কেন আপনারা মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ করেন? রিয়াদে কেন রিফুয়েলিং জেটে হামলা করা হয়েছে? কারণ সেগুলো আমেরিকান প্লেন ছিল। এখন পর্যন্ত যতজন মার্কিন আহত এবং নিহত হয়েছে, সবার অবস্থান ছিল এই আরব দেশগুলোতে। এখন পযর্ন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্প তিন বার পাঁচটা আরব দেশকে এই যুদ্ধে তাদেরকে সহায়তা করার জন্য ধন্যবাদ দিয়েছে। অথচ একটা দেশও আমেরিকাকে সাহায্য করার এই বক্তব্যকে মিথ্যা দাবি করে প্রতিবাদ করেনি। অবশ্যই আপনারা এই যুদ্ধে শরিক।
গতকাল একদিনে ইরানে একটা F-15E এবং একটা A-10 Warthog প্লেন ভূপাতিত হয়েছে, আরেকটা A-10 ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আরও একটা F-16 এবং একটা KC-135 জরুরী অবতরণ করেছে। এর বাইরে আরও দুইটা হেলিকপ্টারও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। এটা যে কত বড় ব্যাপার, সেটা বোঝার জন্য তুলনা দেই: অ্যাজ পার জেমিনি এআই সার্চ, ২০ বছরের আফগানিস্তান যুদ্ধে তালেবান একটা সিঙ্গেল প্লেনও আকাশ থেকে ফেলতে পারেনি। ৮ বছরের ইরাক যুদ্ধে ইরাকিদের হাতে এবং দুর্ঘটনায় মিলিয়ে মোট ২০টা প্লেন ধ্বংস হয়েছিল। আফগানিস্তানেও অবশ্য ২০ বছরে মোট ১০-১২ প্লেন ধ্বংস হয়েছিল, কিন্তু সেগুলো প্রধানত মাটিতে থাকা অবস্থায় বা দুর্ঘটনায়। হেলিকপ্টার অবশ্য দুই দেশেই অনেকগুলো ধ্বংস হয়েছিল। অথচ ইরানে গত একমাসের যুদ্ধেই আফগানিস্তানের ২০ বছরের এবং ইরাকের ৮ বছরের রেকর্ড ভেঙে গেছে। গত এক মাসেই ইরানে ২০ টা আমেরিকান প্লেন ধ্বংস হয়েছে। এরমধ্যে কয়েকটা ইরান আকাশে ধ্বংস করেছে, তিনটা কুয়েতে ফ্রেন্ডলি ফায়ারে ধ্বংস হয়েছে, বাকিগুলো ইরান সৌদি আরবের ঘাঁটিতে মিসাইল মেরে ধ্বংস করেছে। আমেরিকান জেনারেলরা, বিশ্লেষকরা, ইভেন ইকোনমিস্টের মতো পত্রিকাও যে এবার ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলছে, সেটার কারণ হচ্ছে তারা বাস্তবতাটা বুঝতে পারছে। ইরানে গ্রাউন্ড ইনভেশন চালালে সেটা যে আফগানিস্তান আর ইরাকের মতো সহজ হবে না, সেখানে যে আমেরিকানরা প্রতিদিন মার খেয়ে ফেরত আসতে বাধ্য হবে, সেটা তারা ভালোভাবেই জানে।
পাকিস্তান জেনুইনলি মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছে। এবং সেটা তারা চেষ্টা করছে ইরানের স্বার্থ রক্ষা করেই। আমেরিকা এবং আরবদের দাবির সামনে মাথা নত না করেই। পাকিস্তানের এই অবস্থানে আরব রাষ্ট্রগুলো তাদের উপর কিছুটা অসন্তুষ্টই হয়েছে। আরব আমিরাত গতকাল পাকিস্তানকে তাদের ৩.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ ফেরত দিতে বলেছে। নিজের উপর ঝুঁকি টেনে এনেও পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে ইরানি জনগণ সাধুবাদ জানিয়েছে। আজ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি একটা ভিডিও শেয়ার করেছেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে, ইরানি জনগণ ইরানের পতাকার পাশাপাশি পাকিস্তানের পতাকা ওড়াচ্ছে এবং শ্লোগান দিচ্ছে: পাকিস্তান, শুকরিয়া! ভিডিওটা শেয়ার করে আরাগচি লেখেন: ইরানের অবস্থান মার্কিন সংবাদমাধ্যমে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। আমরা পাকিস্তানের প্রচেষ্টার জন্য তাদের কাছে গভীরভাবে কৃতজ্ঞ এবং ইসলামাবাদে যেতে আমরা কখনোই অস্বীকার করিনি। আমরা যেটাতে গুরুত্ব দিচ্ছি সেটা হচ্ছে আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এই অবৈধ যুদ্ধের একটা চূড়ান্ত এবং স্থায়ী সমাপ্তির শর্তাবলি। টুইটের শেষে তিনি উর্দুতে লেখেন: পাকিস্তান জিন্দাবাদ!
আহমেদ আল-শারার সাথে আল-কায়েদার সম্পর্কটা জটিল। সে আইসিসের ডেপুটি লিডার ছিল, আল-কায়েদার সিরিয়া ব্রাঞ্চের লিডার ছিল, কিন্তু সে সময় তার বয়স ছিল খুবই কম। এখনই তার বয়স ৪৪ বছর। ২০১১ সালে সেটা ছিল মাত্র ২৯ বছর। আইএসের পূর্বসূরী সংগঠন একিউআইয়ে সে যোগ দিয়েছিল আরও কম বয়সে। এত অল্প বয়সেও সে যে ঐ পদগুলো পেয়েছিল, সেটা তার লিডারশিপ কোয়ালিটিকেই নির্দেষ করে। আইএস এবং আল-কায়েদার লিডার হলেও শুরু থেকেই তার কর্মকাণ্ড দেখলে বোঝা যায়, সে কখনোই তাদের প্রতি অন্ধ অনুগত ছিল না। একেবারে শুরুতেই সে বাগদাদীর নির্দেশ অমান্য করে আইএস থেকে নুসরাকে বের করে এনেছিল। এবং ধারণা করা হয়, সে যে আল-কায়েদায় যোগ দিয়েছিল, সেটা মূলত একইসাথে বাশারের এবং আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য যে একটা স্ট্রং সাপোর্ট বেজ দরকার, সেজন্যই করেছিল। সেটা যদি দরকার না হতো, তাহলে সে জাওয়াহিরির ভ্যালিডেশন খুঁজতে যেত না। আইএস থ্রেট মোকাবেলা করার পর সে আল-কায়েদা থেকেও বেরিয়ে যায়। সেই ২০১৭ সালেই। সে সময় অবশ্য অনেকে সেই বেরিয়ে যাওয়াকে নাটক মনে করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তার কর্মকাণ্ড দিয়ে সে প্রমাণ করেছে, সে আসলেই তাদের থেকে বেরিয়ে গেছে। ইদলিবে তাদের বিরুদ্ধে সে কঠোর ক্র্যাকডাউনও চালিয়েছে। এটা শুধু ২০২৪ সালের শেষে তারা যখন সিরিয়া জয় করে, তখন পরিষ্কার হয়নি। এর আগে অন্তত তিন-চার বছর ধরেই ধীরে ধীরে পরিষ্কার হয়েছে। তখন থেকেই সে বিভিন্নভাবে পরিষ্কার করেছে - সে আল-কায়েদার মতো দেশ চালাতে চায় না। সে নিজেও মডারেট হয়ে উঠতে চায়, দেশও সেভাবেই চালাতে চায়। পুরো সিরিয়ার ক্ষমতা গ্রহণ করার আগে বেশ কয়েক বছর সে ইদলিব শাসন করেছে। এবং সেখানে সে "শরিয়া" কায়েম করে নাই। আফগানিস্তানে তো বটেই, সৌদি আরব এবং ইরানেও ইদলিবের চেয়ে বেশি শরিয়া কার্যকর ছিল। এবং তার এইসব কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়েই দিয়ে পশ্চিমাদেরকে ম্যাসেজ দিয়েছে - দেখ, আমি আর জিহাদি নাই। তোমরা আমাকে সাপোর্ট দিতে পারো। সে ক্ষমতায় আসার পরপরই যে পশ্চিমারা তাকে আপন করে নিয়েছে, সেটা তো এমনি এমনি হয়নি। পশ্চিমাদের কাছে গোয়েন্দা রিপোর্ট ছিল যে সে আসলেই আগের জোলানি নাই। গত পরশুদিন চ্যাথাম হাউজে উপস্থাপিকা তাকে জিজ্ঞেস করে, আপনি কি এখনও আল-কায়েদার লক্ষ্যগুলোকে কাঙ্ক্ষিত মনে করেন, নাকি তাদের লক্ষ্য পূরণ হয়েছে বলে মনে করেন? অন্য অনেক প্রশ্নের উত্তর ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে ডিপ্লোম্যাটিক্যালি দিলেও এই প্রশ্নের উত্তর কিন্তু শারা একেবারে সরাসরিই দিয়েছে। সে বলেছে: সে সময়ের বাস্তবতায় অন্য কোনো বিকল্প না থাকায় তরুণদের অনেকেই অনেক পথ বেছে নিয়েছিল। কিন্তু আমি আল-কায়েদার নীতিগুলোর সাথে একমত ছিলাম। যদি একমত হতাম, তাহলে আমি তাদের সাথেই থাকতাম ... আমি মনে করি না আল-কায়েদা জনগণের স্বার্থে কাজ করে। সে জন্যই আমি ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছি। এর জন্য আমি মূল্যও দিয়েছি। কিন্তু আমি মনে করি এটাই সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। অতি আবেগী হলে শারাকে এখনও আল-কায়েদার প্রতি অনুগত মনে করে শান্তি পাওয়া যেতে পারে। বা কন্সপিরেসি থিওরিতে বিশ্বাস করতে চাইলে শারা শুরু থেকেই সিআইএ-মোসাদের এজেন্ট বলেও সন্দেহ করা যেতে পারে। কিন্তু সিরিয়া নিয়ে যত গবেষকের লেখালেখি আমি পড়েছি, ব্যতিক্রমি ইসলামোফোব টাইপের কয়েকজন ছাড়া প্রায় সবাই মোটামুটি একমত যে, তার এই বক্তব্যই বাস্তবতার কাছাকাছি।
আহমেদ আল-শারার সাক্ষাৎকার সব সময়ই ইন্টারেস্টিং হয়। প্রায় কোনো প্রশ্নের উত্তরই সে হ্যাঁ বা না দিয়ে দেয় না। অত্যন্ত ডিপ্লোম্যাটিক্যালি উত্তর দেয়। এবং যেসব ক্ষেত্রে প্রশ্ন করাই হয় তাকে প্যাঁচে ফেলার জন্য, সেগুলোর উত্তরে নার্ভাস না হয়ে বা রেগে না গিয়ে বরং প্রশ্নটাকেই সে রিফ্রেম করে ফেলে। যেমন গতকাল লন্ডনে চ্যাথাম হাউজে উপস্থাপক তাকে প্রশ্ন করেছিল - আপনার নিজের তো দুই মেয়ে আছে। আপনি কি কখনও কোনো মেয়েকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে চাইবেন? এখানে প্রশ্নটার মূল উদ্দেশ্য নারী নেতৃত্ব সম্পর্ক আহমেদ আল-শারার অবস্থান জানতে চাওয়া। তার নিজের দুই মেয়ে আছে - এটা বলা হয়েছে কনটেক্সট হিসেবে। কিন্তু আহমেদ আল-শারা দ্বিতীয় অংশে ফোকাস না করে পুরো উত্তরটাকেই তার নিজের পারিবারিক প্রায়োরিটি হিসেবে রিফ্রেম করেছে। উত্তরে সে বলেছে: প্রথমে ঠিক করে দেই - আমার দুইটা না, একটা মেয়ে আছে। দুই ছেলে, এক মেয়ে। আমার মনে হয় জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কাজে জড়িত যে কেউ এটা স্বীকার করবে যে, এটা বিশাল একটা দায়িত্ব। আমি চাই না আমার ছেলেমেয়েরা এই বিশাল দায়িত্বে আসুক। অর্থাৎ নারীর ক্ষমতার প্রশ্নে তো সে যায়ই নি, সরাসরি নিজের মেয়ের কথাও বলেনি। নিজের "ছেলেমেয়ে"দের উপর ফোকাস করে বিতর্কের সম্ভাবনা বন্ধ করে দিয়েছে। এটা জাস্ট একটা উদাহরণ। কিন্তু পুরো সাক্ষাৎকারে হেজবুল্লাহ প্রসঙ্গ, রাশিয়ান ঘাঁটির প্রশ্ন, সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ আইন এবং বিচার সংক্রান্ত প্রশ্নগুলোর উত্তরের ক্ষেত্রেও সে একই কাজ করেছে। সরাসরি উত্তর না দিয়ে এমনভাবে শব্দচয়ন করেছে, এমনভাবে উত্তরগুলোকে উপস্থাপন করেছে, অপ্রয়োজনীয় বিতর্কের বা মিসকোট করার সুযোগ খুব কম। আহমেদ আল-শারাকে বিভিন্ন কারণে অনেকেই পছন্দ করবে না। তার অতীত ইতিহাসের কারণে, এই মুহূর্তে তার পশ্চিমাদের সাথে অতি সুসম্পর্কের কারণে। কিন্তু আমার মতে সে শুধু যোদ্ধা হিসেবেই সফল না, বরং পলিটিশিয়ান হিসেবেও সে সবচেয়ে প্র্যাগম্যাটিক, সবচেয়ে শ্রুড এবং সবচেয়ে যোগ্য নেতাদের মধ্যে একজন।
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের টোল বসানো নিয়ে ব্লুমবার্গ নিউজ আজ ডিটেইলড একটা রিপোর্ট করেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী টোল বসানোর কাজটা ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে। কার কাছ থেকে কীভাবে কত টোল আদায় করা হবে, সেটা এখন অনেকটাই একটা স্ট্রাকচারের মধ্যে চলে এসেছে। কোনো দেশ যদি তাদের জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার করতে চায়, তাহলে তাদেরকে প্রথমে ইরানের মিত্র কোনো দেশের মধ্যস্থতায় আইআরজিসি লিঙ্কড একটা প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। ঐ প্রতিষ্ঠানের কাছে তাদেরকে জাহাজের মালিকানা, পতাকা, কার্গো ম্যানিফেস্ট, গন্তব্য, ক্রুদের তালিকা এবং AIS (Automated Identification System) সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য হস্তান্তর করতে হবে। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে যদি তারা উত্তীর্ণ হয়, এরপর শুরু হবে টোল সংক্রান্ত নেগোশিয়েশন। রিপোর্ট অনুযায়ী ইরান তাদের সাথে সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা অনুযায়ী দেশগুলোকে পাঁচটা ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছে। যেসব রাষ্ট্রের সাথে ইরানের সম্পর্ক সবচেয়ে ভালো, তাদেরকে সবচেয়ে কম টোল দিতে হবে। কিন্তু তাদের ক্ষেত্রেও এই টোল হবে ব্যারেল প্রতি কমপক্ষে ১ ডলার। অর্থাৎ ১ মিলিয়ন ব্যারেল তেল নিয়ে কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে চাইলে টোল বাবদ তাদেরকে দিতে হবে কমপক্ষে ১ মিলিয়ন ডলার। আর সেই জাহাজের মালিকানা যদি ইরানের ঘনিষ্ঠ কোনো রাষ্ট্রের না হয়, তাহলে এই টোলের পরিমাণ আরও বেশিও হতে পারে। এই টোল ইরানকে পরিশোধ করতে হবে হয় চাইনিজ মুদ্রা ইউয়ানে, অথবা ক্রিপ্টোকারেন্সি স্টেবলকয়েনসে। টাকা বুঝে পাওয়ার পর ইরান জাহাজের মালিকপক্ষের কাছে গোপন একটা কোড এবং রুটের ডিটেইলস হস্তান্তর করবে। ঐ নির্দিষ্ট রুট ধরে ঐ জাহাজকে হরমুজ প্রণালিতে আসতে হবে। যে দেশটা এই নেগোশিয়েশনে মধ্যস্থতা করিয়ে দিয়েছিল, তাদেরকে ঐ দেশের পতাকা ওড়াতে হবে। এবং প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছার পর থেকেই তাদেরকে নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সিতে ঐ কোড প্রেরণ করতে হবে। সব ঠিকঠাক থাকলে ইরানের আইআরজিসি লিঙ্কড পেট্রোল বোট এসে তাদেরকে নিরাপদে হরমুজ প্রণালি পার করিয়ে দিবে। রিপোর্টে আরেকটা ইন্টারেস্টিং তথ্যও উঠে এসেছে। পাকিস্তানকে যে ইরান যে বিশটা জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার করার অনুমতি দিয়েছিল, ততগুলো জাহাজ আসলে পাকিস্তানের এই মুহূর্তে হরমুজে নাই। সেজন্য পাকিস্তান এখন হরমুজে আটকে থাকা অন্যান্য দেশের জাহাজ মালিকদেরকে প্রস্তাব দিচ্ছে, তোমরা যদি ইরানিদেরকে এই টোল দিতে রাজি থাক, তাহলে তোমাদেরকে আমরা রেজিস্ট্রেশন পরিবর্তন করে আমাদের পতাকা ব্যবহার করে হরমুজ পার হতে সাহায্য করব। আমেরিকা এবং ইসরায়েল একদিকে ইরানের উপর বম্বিং করে তাদের উপর ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে ঠিকই। কিন্তু অন্যদিকে ইরান ঠিকই সেই ক্ষতির কিছুটা অংশ উঠিয়ে আনার ব্যবস্থা করে ফেলেছে।
গতকাল রাতে তেহরানের রাজপথে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সাংবাদিক: আমার মনে হচ্ছে আপনি মানুষের মাঝে একটু ভিন্নভাবে উপস্থিত হতে চেয়েছেন। কেন? আরাগচি: বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। আমি শুধু অনুপ্রেরণা পেতে এসেছি। এই মানুষগুলোকে দেখা সত্যিই সবার জন্য অনেক বড় অনুপ্রেরণা। আমিও এই সাধারণ মানুষদেরই একজন। আমি এখানে এসেছি তাদের সাথে এই গণআন্দোলনে শরিক হতে এবং নিজের মনোবল বৃদ্ধি করতে। আমি সত্যিই মানুষের একতা ও সংহতি দেখে আনন্দিত। সাংবাদিক: আপনার কাছে এই সমাবেশ কেমন লাগছে, ডক্টর? আরাগচি: অত্যন্ত চমৎকার! সত্যিই চমৎকার। এই মানুষদের দেখে যে কেউ গর্বিত হবে। এদের মধ্যে এত উৎসাহ, উদ্দীপনা! এত দৃঢ় মনোবল নিয়ে এরা দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করছে, দেশকে রক্ষা করছে এবং সামাজিক সংহতি বজায় রাখছে! আল্লাহ আপনাদের সবার সহায় হোন।
видео или голосовое, без подписи
যেকোনো যুদ্ধের সময় মিলিটারি স্পোক্সম্যানরা হয়ে ওঠে সবচেয়ে পরিচিত মুখ এবং সবচেয়ে আলোচ্য ব্যক্তি। অনেকেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে দিন শেষে তাদের বক্তব্য দেখার জন্য। আর যুদ্ধে যদি সফলতা আসতে থাকে, বা অ্যাটলিস্ট যুদ্ধের সমর্থকদের মোরালিটি যদি হাই থাকে, তাহলে পলিটিক্যাল লিডারদের চেয়েও অনেক সময় এই স্পোক্সম্যানরাই অনেকের কাছে হিরো হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোতে আবু উবায়দা ছিল সেরকমই একজন হিরো। কিন্তু গত দুই বছর ধরে হুথিদের স্পোক্সম্যান ইয়াহইয়া সারি এবং বর্তমান যুদ্ধে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীগুলোর অপারেশনাল হেডকোয়ার্টার খাতামুল আম্বিয়ার স্পোক্সম্যান ইবরাহিম জুলফাগারিও কম আলোচিত না। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ইবরাহিম জুলফাগারিকে নিয়ে বানানো রিলগুলো ইনস্টাগ্রামে খুবই ট্রেন্ডিং। তার ট্রাম্পকে মক করে দেওয়া বক্তব্যগুলো রীতিমতো ভাইরাল। কয়েকটা ভিডিওতে দেখলাম কয়েকজনে ইয়াহইয়া সারির ডাকনাম বলছে আবু গালা তা'আলা, আর ইবরাহিম জুলফাগারিকে বলছে আবু বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। আবু শব্দটার আভিধানিক অর্থ যদিও "বাবা", কিন্তু প্রায়োগিক ক্ষেত্রে এটার ব্যবহার ব্যাপক। কোনো ব্যক্তি কোনো কিছুর মালিক হলে, বা কোনো কিছুর দ্বারা ইউনিকলি বিখ্যাত হলে, সেটা বোঝাতেও আবু শব্দটা ব্যবহৃত হয়। যেমন সাহাবি আবু হুরায়রার নামের আক্ষরিক অর্থ বিড়ালের বাবা। কিন্তু বাস্তবে তাকে এই উপাধি দেওয়া হয়েছিল তিনি বিড়াল অত্যন্ত পছন্দ করতেন এবং সব সময় বিড়াল পাশে রাখতেন বলে। অর্থাৎ এখানে আবু হুরায়রার অর্থ অনেকটা "বিড়ালওয়ালা"। আবু গালা তা'আলা এবং আবু বিসমিল্লাহ নামকরণের পেছনেও কারণটা একই রকম। এই দুই মুখপাত্র এই দুইটা বাক্যের জন্যই বিখ্যাত। হুথিদের মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি তার প্রতিটা বক্তব্য শুরু করেন কুরআনের আয়াত দিয়ে। এবং সেটা তিনি শুরু করেন এভাবে - ক্বালা তা'আলা... অর্থাৎ, আল্লাহ তা'আলা বলেছেন...। ইয়েমেনি উচ্চারণে তার "গালা তা'আলা" ফ্রেজটা তার মতোই সমান বিখ্যাত। একইভাবে, খাতামুল আম্বিয়ার মুখপাত্র ইবরাহিম জুলফাগারি তার প্রতিটা বক্তব্য শুরু করেন বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বলে। কিন্তু তার ভারি পারসিয়ান অ্যাকসেন্টে সেটা খুবই ইউনিক শোনায়। একবার শুনেই দুনিয়ার যোকোনো কারও বিসমিল্লাহ থেকে সেটা পৃথক করে ফেলা যায়। সেজন্যই এই দুইজনের এই দুই ইউনিক বৈশিষ্ট্যের কারণে এদের ডাকনাম আবু গালা তা'আলা এবং আবু বিসমিল্লাহ।
https://youtu.be/hnJghwfoxwU
আল-জাজিরার সানা' প্রতিনিধি জানাচ্ছে, হুথিদের মিলিটারি লিডারশিপ তাকে বলেছে, এই যুদ্ধে তারা তিনটা ধাপে অংশগ্রহণ করবে। প্রথম ধাপে তারা ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে মিসাইল নিক্ষেপ করবে। এরপর যদি দ্বিতীয় ধাপে যেতে হয়, সেক্ষেত্রে তারা বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে ইসরায়েলি লিঙ্কড জাহাজের ব্লকেড দিবে। লক্ষণীয়, পুরো প্রণালি তারা বন্ধ করার কথা বলছে না। বা আমেরিকান লিঙ্কড জাহাজের কথাও বলছে না। শুধুমাত্র ইসরায়েলি লিঙ্কড জাহাজের কথা বলছে। সেটাই অবশ্য ইসরায়েলের জন্য যথেষ্ট ক্ষতির কারণ হবে। কারণ ইসরায়েলের প্রায় ৩০% বাণিজ্যিক পণ্য এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে। কিন্তু যেটা সবচেয়ে ইন্টারেসটিং, সেটা হচ্ছে দ্বিতীয় ধাপ পর্যন্তও হুথিরা আমেরিকান কোনো স্থাপনার উপর আক্রমণ করবে না। কেবলমাত্র আমেরিকা যদি আগে তাদের উপর আক্রমণ করে, তাহলে তার জবাবে তারা তৃতীয় ধাপে প্রবেশ করবে এবং মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আক্রমণ করবে। কেন তারা নিজেরা প্রথমে আমেরিকার উপর আক্রমণ করবে না? কারণটা হচ্ছে, হুথিদের সাথে গত বছর মে মাসে আমেরিকার একটা সীজফায়ার অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তার আগে আমেরিকা ইসরায়েলের হয়ে হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দিয়েছিল। কিন্তু ঐ যুদ্ধে হুথিরা আমেরিকাকে নাকানি-চুবানি খাইয়ে দিয়েছিল। সে সময় হুথিরা আমেরিকার ৭টা MQ-9 Reaper ড্রোন ফেলে দিয়েছিল, যার প্রতিটার মূল্য ৩০ মিলিয়ন ডলার। তারা আমেরিকান নৌবাহিনীর জাহাজগুলোতেও অ্যাটাক করেছিল। তাদের আক্রমণে আমেরিকার দুইটা ৬৭ মিলিয়ন ডলারের F/A-18 Super Hornets ক্যারিয়ার থেকে "অ্যাক্সিডেন্টালি" সমুদ্রে পড়ে গিয়েছিল। সব মিলিয়ে প্রথম মাসেই আমেরিকার ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ হয়েছিল। তারচেয়েও বড় কথা, কয়েকটা F-16 এবং একটা F-35 বিমান একটুর জন্য হুথিদের মিসাইল থেকে বেঁচে গিয়েছিল। এগুলোতে মিসাইল আঘাত করলে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির চেয়েও পাইলটের মৃত্যু আর মান-সম্মানের ক্ষতিই বেশি হতো। ফলে আর বেশি ঝুঁকি না নিয়ে সময় থাকতেই ট্রাম্প হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থেকে সরে এসেছিল। সে হুথিদের সাথে একতরফা যুদ্ধবিরতিতে গিয়েছিল। অর্থাৎ সেই যুদ্ধবিরতির শর্তে কোথাও ইসরায়েলের কথা উল্লেখ ছিল না। সেজন্যই হুথিরা এখন আমেরিকার সাথে গত বছরের সেই সীজফায়ার মেন্টেইন করেই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করতে পারবে। পরবর্তীতে যদি আমেরিকা সীজফায়ার ভঙ্গ করে তাদের উপর আক্রমণ করে, তাহলেই কেবল তারা পাল্টা আমেরিকান টার্গেটে আক্রমণ করবে।
গত পরশুদিন ইন্টারেস্টিং একটা ঘটনা ঘটেছে। ইরানের মার খেয়ে আরব আমিরাত আবার নরম সুরে কথা বলতে শুরু করেছে। মনে থাকার কথা, গত সপ্তাহ ধরে আরব আমিরাত ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দিচ্ছিল। আমিরাতের পুলিশের ডেপুটি চীফ সিরিজ টুইট করে ইরানের বিরুদ্ধে বিষেদগার করছিল। ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সে আরব রাষ্ট্রগুলোকেই বেঈমান বলছিল। আরব জনগণকে ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক করার আহ্বান জানাচ্ছিল। শুধু ডেপুটি পুলিশ চীফ না। আমিরাতের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ টুইট করে বলছিল, ইরানের সাথে তারা আর কোনো সীজফায়ার চায় না। তারা স্থায়ী সমাধান চায়। আমেরিকায় আরব আমিরাতের দূতাবাস থেকেও একই ধরনের টুইট করা হয়েছে। রাষ্ট্রদূত ইউসুফ ওতাইবার বরাতে রিপোর্ট এসেছে, আমিরাত ইরানের বিরুদ্ধে স্থল অভিযানে অংশগ্রহণ করতেও প্রস্তুত। কিন্তু শুক্রবার রাতে ইরানের স্টিল প্ল্যান্টগুলোতে ইসরায়েলি হামলার পর সেদিন রাতে এবং শনিবার দিনে ইরান আরব আমিরাতের একাধিক টার্গেটে হামলা করে। এরমধ্যে মার্কিন ঘাঁটি তো ছিলই, কিন্তু সেই সাথে ইকোনমিক টার্গেটও ছিল। বিশেষ করে তারা আবুধাবির খালিফা ইকোনমিক জোনে অবস্থিত এমিরেটস গ্লোবাল অ্যালুমিনিয়াম ফ্যাক্টরিতে হামলা করে। এমিরেটস গ্লোবাল অ্যালুমিনিয়াম ফ্যাক্টরি হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অ্যালুমিনিয়াম প্রস্তুতকারক ফ্যাক্টরি। বছরে এখানে দেড় মিলিয়ন টনেরও বেশি অ্যালুমিনিয়াম তৈরি হয়, যা সারা বিশ্বের মোট উৎপাদনের ৪%। তেল এবং গ্যাসের পর এটাই আরব আমিরাতের আর্থিক আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস। প্রায় ৫০ টা দেশে এখান থেকে অ্যালুমিনিয়ান রপ্তানি হয়। এবং এই ফ্যাক্টরিতে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ চাকরি করে। ইরানের মিসাইল এবং ড্রোন আক্রমণে গতকাল এই ফ্যাক্টরিতে আগুন ধরে যায়, ফ্যাক্টরি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বেশ কিছু কর্মী আহত হয়। গেস হোয়াট, দিনের বেলা এই আক্রমণের পর, রাতের বেলাই আরব আমিরাতের সুর পাল্টে যায়। যেই আনোয়ার গারগাশ (প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা) এক সপ্তাহ আগেও কোনো সীজফায়ার হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছিল, সে রাতের বেলা টুইট করে, মিডিয়া নাকি আরব আমিরাতের অবস্থান মিস-ইন্টারপ্রেট করছে। বাস্তবে তারা নাকি পলিটিক্যাল সমাধান চায় :D :D :D আরব আমিরাত আসলেই তাদের অবস্থান পাল্টে ফেলেছে - এটা মনে করার অবশ্য কোনো কারণ নাই। কিন্তু সন্দেহ নাই, আরও আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য আপাতত তারা সুর নরম করতে বাধ্য হয়েছে। এটাকেই বলে, মাইরের উপর কোনো ওষুধ নাই।
https://youtube.com/shorts/MYCKf5eh4RA
https://www.facebook.com/reel/1278922127518891
ইরানি মিডিয়ার বরাত দিয়ে পাকিস্তানি মিডিয়া দাবি করছে, গতকাল ইসরায়েল তেহরানে পাকিস্তানি দূতাবাসের এবং পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূতের বাসভবনের কাছাকাছি বিমান হামলা করেছে। টুইটারে পাকিস্তানি সাংবাদিক এবং অ্যাক্টিভিস্টদের দাবি, পাকিস্তান যে ইরানের সাথে আমেরিকার মধ্যস্থতা করিয়ে দিতে চাইছে, সেজন্যই হয়তো ইসরায়েল "পাকিস্তানি দূতাবাসে" হামলা করতে চেয়েছে। এই কথা সত্য যে ইসরায়েলের এই ধরনের কাজের রেকর্ড আছে। তারা এর আগে ফিলিস্তিন এবং ইরানসহ একাধিক দেশে বারবার নেগোশিয়েটরদেরকে হত্যা করেছে বা করার চেষ্টা করেছে। ফলে সম্প্রতি পাকিস্তান যে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছে, এটা ইসরায়েলের অপছন্দই হওয়ার কথা। তার উপর গতকাল রয়টার্সে একটা রিপোর্ট এসেছিল যে, আলোচনা সফল করার জন্য পাকিস্তান আমেরিকাকে রিকোয়েস্ট করেছে ইসরায়েলের উপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য, যেন তারা ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পীকার গালিবাফকে হিটলিস্ট থেকে সরিয়ে নেয়। এবং ইসরায়েল সেটা করতে বাধ্যও হয়েছে। ফলে এই সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না যে ইসরায়েল হয়তো ইচ্ছা করেই পাকিস্তানি দূতাবাসের আশেপাশে হামলা করেছে। হয়তো ভয় দেখানোর জন্য বা চাপ সৃষ্টি করার জন্য যেন পাকিস্তান পিছিয়ে যায়। কিন্তু বিপরীতে এই সম্ভাবনাও আছে যে পাকিস্তানিরা ব্যাপারটাকে যেভাবে উপস্থাপন করছে, বাস্তবে সেটা এতটা ড্রামাটিক না। কারণ এখন পর্যন্ত রয়টার্স এএফপি, আল-জাজিরা বা এরকম কেউ এই ন্যারেটিভে নিউজটা প্রকাশ করেনি। ফলে ইসরায়েল হয়তো তেহরানের অন্য কোনো টার্গেটেই হামলা করেছে, হয়তো সরকারি কোনো টার্গেটে, বাই চান্স সেটার অবস্থান পাকিস্তানি দূবাতাস এবং রাষ্ট্রদূতের বাসভবনের কাছে।