tgindex
Al Afiyah

আমাদের ফেসবুকঃ https://www.facebook.com/profile.php?id=100087238790186 @Afiyah24hours প্রয়োজনে: @HopeDM

Последний пост
13 авг.
Последнее чтение
15 авг.
Постов за неделю
1
Всего постов
21
Тип
открытый
Язык
bn
Категория
Новости и СМИ (по похожим)
В каталоге с
13 авг.
Подписчики
3 962
−6 за 4 дн.
Сутки
−4
−0,10%
Неделя
 
Месяц
 
Просмотров на пост
815
21 постов
Вовлечённость
20,6%
к подписчикам
Постов в день
0,1
всего 21
Упоминаний
2
каналов
Охват размещения
оценка
1/24сутки в ленте
117
1/48двое суток
134
1/72трое суток
144

Оценка по просмотрам недавних постов: пост набирает почти всё за первые сутки.

Посты

  • এ কথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই, উমরার সফরগুলোতে এখন আর আগের মতো সেই রুহানিয়্যাত অনুভূত হয় না। অন্তত আমার নিজের অভিজ্ঞতা তা-ই বলে। আমার প্রথম উমরার সফরে হৃদয়ে যে পরিমাণ ইশক, আকুলতা ও রুহানি আবহ অনুভব করেছিলাম, পরবর্তী কোনো সফরেই তা আর সেভাবে ফিরে পাইনি। এর পেছনে হয়তো অনেক কারণ রয়েছে। একদিকে মক্কা-মদীনার চারপাশে ক্রমবর্ধমান জাঁকজমক ও ভোগবাদী আয়োজন, অন্যদিকে প্রতিনিয়ত বদলে যাওয়া আমাদের নিজেদের অন্তর। উমরার সফরেও এখন নতুন নতুন দর্শনীয় স্থানে ঘুরে বেড়ানো, কফিশপে দীর্ঘ আড্ডা, প্রয়োজনহীন কেনাকাটা এবং উদ্দেশ্যহীন ঘোরাঘুরি, সবকিছু মিলিয়ে ইবাদতের এই মহিমান্বিত সফরটি ধীরে ধীরে পর্যটনের রূপ নিচ্ছে। এমনকি হারামাইনের আশপাশেও নফসে আম্মারাকে আকৃষ্ট করার মতো উপকরণ এতটাই বেড়েছে যে, অবচেতনেই আমাদের অন্তর ইবাদতের একাগ্রতা ও রুহানিয়্যাত থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এখানে আমরা শরীয়তের সীমারেখা আলোচনা করতে পারি, হালাল-হারামের মানদণ্ড সামনে আনতে পারি, জায়েয-নাজায়েয কিংবা উত্তম-অনুত্তমের মাসআলাও বলতে পারি। কিন্তু প্রকৃত কথা হলো, উমরার সফর হওয়া উচিত আযিমত, সংযম ও আত্মনিয়ন্ত্রণের এক বিশেষ সফর। কারণ, কোনো কাজ শরীয়তের দৃষ্টিতে বৈধ হলেই যে তা সব সময় অন্তরের জন্য কল্যাণকর হবে এমন নয়। কখনো কখনো সামান্য ও অপ্রয়োজনীয় রুখসতও উমরাহ সফরের রুহানিয়্যাত ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য যথেষ্ট হয়ে ওঠে। অথচ আমরা জেনে কিংবা না জেনে, উমরার রুহানিয়্যাত ধ্বংসের প্রায় সব আয়োজনই সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছি। যে সফর আমাদের দুনিয়া থেকে কিছু সময়ের জন্য বিচ্ছিন্ন করে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার কথা, সেই সফরেও আমরা দুনিয়ার বিনোদন, ব্যস্ততা ও ভোগের উপকরণ খুঁজে বেড়াচ্ছি। উমরাহ যেন শুধু মক্কা-মদীনা ঘুরে আসার নাম না হয়, বরং তা যেন হয় অন্তরের পরিবর্তন, নফসের পরিশুদ্ধি এবং রবের দিকে সত্যিকারের প্রত্যাবর্তনের সফর। আল্লাহ তাআলা আমাদের অন্তরকে হেফাজত করুন এবং তাঁর ঘরের সফরের হক যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমীন। - আদনান ভাই

  • 10 авг.2911211

    শয়তানের ক্ষমতা সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকার। যদি কোনো মানুষ দৃঢ়ভাবে সিদ্ধান্ত নেয়—আমি এই গুনাহ করব না, তাহলে অসংখ্য শয়তান একত্র হলেও তাকে জোর করে সেই গুনাহে লিপ্ত করতে পারবে না। ধরা যাক, একজন মানুষ একা একটি ঘরে রয়েছে। তার হাতে স্মার্টফোন, ইন্টারনেট—সবকিছুই আছে। সে চাইলে মুহূর্তেই গুনাহে ডুবে যেতে পারে। কিন্তু যদি সে আল্লাহর ভয়ে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেয় যে গুনাহ করবে না, তাহলে শয়তান তাকে বাধ্য করতে পারবে না। শয়তানের কাজ কেবল কুমন্ত্রণা দেওয়া এবং গুনাহকে আকর্ষণীয় করে উপস্থাপন করা। সে মানুষের ওপর গুনাহ চাপিয়ে দিতে পারে না। শয়তান কিয়ামতের দিন বলবে وَمَا كَانَ لِيَ عَلَيْكُمْ مِنْ سُلْطَانٍ إِلَّا أَنْ دَعَوْتُكُمْ فَاسْتَجَبْتُمْ لِي তোমাদের ওপর আমার কোনো ক্ষমতা ছিল না। আমি শুধু তোমাদের আহ্বান করেছিলাম, আর তোমরাই আমার ডাকে সাড়া দিয়েছিলে। [সূরা ইবরাহিম : ২২] অর্থাৎ, শয়তান গুনাহকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করে, কিন্তু গুনাহ করার সিদ্ধান্ত মানুষ নিজেই নেয়। শয়তানকে একটি শোরুমের সঙ্গে তুলনা করা যায়। সে গুনাহকে আকর্ষণীয়ভাবে সাজিয়ে উপস্থাপন করে। কিন্তু গুনাহের আসল উৎস হলো মানুষের নফস। মানুষ যদি নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং শয়তানের কুমন্ত্রণায় সাড়া না দেয়, তাহলে শয়তান তাকে কোনোভাবেই গুনাহে বাধ্য করতে পারে না। #খুতুবাত

  • 9 авг.329125

    দুনিয়ায় মানুষের প্রশংসা পরকালে আমাদের বিন্দুমাত্র উপকার করবে না। তাই, নেকআমলগুলো মানুষের প্রশংসার পাওয়ার জন্য নয়, একমাত্র আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টির জন্য করা উচিত। দাউদ বিন আবু হিন্দ (রাহ.) ৪০ বছর যাবৎ নফল রোজা রেখেছেন, অথচ তার পরিবার তা জানতে পারেনি। তিনি খাবার সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে কাজের উদ্দেশে বের হতেন, পরিবারের লোকেরা ভাবত, তিনি দিনের বেলা খাবার খান। কিন্তু রাস্তায় গিয়ে তিনি সেই খাবার সদকা করে দিতেন। অতঃপর দিনশেষে পরিবারের কাছে ফিরে এসে তাদের সঙ্গে একত্রে রাতের খাবার খেতেন। সিয়ারু আলামিন নুবালা : ৬/৩৭৮

  • যে আল্লাহর বান্দারা কষ্টে থাকতেন, তারা দিনে অন্তত এক হাজার বার ইস্তিগফার পাঠ করতেন। শয়তানের এক কৌশল হলো— মানুষকে দুঃখী রাখা। সুতরাং যেকোনো দুঃখ, সমস্যা বা কঠিন সময়ে আল্লাহর সাথে যুক্ত থাকুন। — ইমাম ইবনু তৈমিয়্যাহ (রহ.) #nurulquranacademy

  • 6 авг.557146

    ছয় দিন। একটা মা ডলফিন তার মরা বাচ্চাটাকে পিঠে নিয়ে ঘুরছিল ছয়টা দিন। ছেড়ে দিচ্ছিল না। মাঝে মাঝে বাচ্চাটা পানিতে পড়ে যাচ্ছিল। মা আবার ডুব দিয়ে তুলে আনছিল। বুকে চেপে ধরছিল। যেন ঘুমিয়ে আছে, যেন এক্ষুনি জেগে উঠবে। বাচ্চাটার বয়স হয়েছিল মাত্র দুই সপ্তাহ। আর এই মা এর আগেও বারবার সন্তান হারিয়েছে। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার শান্ত এক মোহনায় ড্রোনে ধরা পড়া এই দৃশ্যটা সারা পৃথিবী দেখেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন — এটা নিছক অভ্যাস নয়। এটা শোক। মায়ের মমতা মৃত্যুর পরও থামে না। একটা কথা জানেন কি? গবেষণা বলছে, ডলফিন কুড়ি বছর পরও একজন পুরোনো সঙ্গীর ডাক চিনে ফেলতে পারে। তার মানে এই মা তার হারানো বাচ্চাটার কথা কোনোদিন ভুলবে না। বছরের পর বছর মনে রাখবে। ভাবতে পারেন? একটা প্রাণী, যার কোনো ভাষা নেই, কোনো নামাজ নেই, কোনো আখিরাতের হিসাব নেই — তার বুকেও আল্লাহ এত গভীর মমতা রেখে দিয়েছেন। এই মমতাটা কোত্থেকে এলো? মা ডলফিন নিজে বানায়নি। নিজে শেখেনি। এটা তার ভেতরে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। যিনি বসিয়েছেন, তিনি আর-রাহমান — পরম দয়াময়। সাগরের একটা প্রাণীর বুকে যিনি এত মায়া দিতে পারেন, তাঁর নিজের মায়াটা তাহলে কত গভীর? এবার একটা হাদিস শুনুন। বুকে গেঁথে যাওয়ার মতো। একবার কিছু যুদ্ধবন্দিকে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে আনা হলো। তাদের মধ্যে এক মা ছিলেন, যিনি নিজের হারানো সন্তানকে খুঁজছিলেন। বুক দুধে ভরে উঠছিল। তিনি বন্দিদের ভেতর যে শিশুকেই পাচ্ছিলেন, বুকে চেপে ধরে দুধ খাওয়াচ্ছিলেন। তারপর তিনি নিজের হারানো সন্তানকে খুঁজে পেলেন। জড়িয়ে ধরলেন বুকের সাথে। রাসূলুল্লাহ ﷺ সাহাবিদের জিজ্ঞেস করলেন — "তোমরা কি মনে করো, এই মা তার সন্তানকে আগুনে ছুঁড়ে ফেলতে পারবে?" সাহাবিরা বললেন — "না, কখনোই না। যদি ঠেকানোর সামান্যতম ক্ষমতাও তার থাকে।" তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন — "আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি এই মায়ের চেয়েও বেশি দয়ালু।" (সহিহ বুখারি) যে মা সন্তানকে আগুন থেকে বাঁচাতে নিজের জীবন দিয়ে দেবে — আল্লাহ আপনার প্রতি তার চেয়েও বেশি দয়ালু। ডলফিন মা ছয় দিন মরা বাচ্চাকে ছাড়েনি। মানুষ মা সন্তানকে আগুনে ফেলতে পারে না। এগুলো তো আল্লাহর দয়ার একটা ছোট্ট প্রতিফলন মাত্র। মূল উৎসটা তাহলে কত বিশাল? আমরা ভাবি আল্লাহ বুঝি রাগ করে বসে আছেন। ভুল করলেই বুঝি শাস্তি। অথচ তিনি নিজেই লিখে রেখেছেন "নিশ্চয়ই আমার রহমত আমার ক্রোধের ওপর জয়ী হয়েছে"। (সহিহ বুখারি) আপনি যতবার ফিরে আসবেন, আর-রহমান ততবার বুকে টেনে নেবেন। একটা মা যেমন হারানো সন্তানকে খুঁজে পেয়ে আর ছাড়ে না — ঠিক তেমনি, তার চেয়েও গভীরভাবে। গুনাহের বোঝা নিয়ে যে ভাবছেন "আমাকে দিয়ে আর হবে না" — একবার শুধু ফিরে দেখুন। যিনি ডলফিনের বুকে এত মমতা রেখেছেন, তিনি আপনার জন্য অপেক্ষা করে আছেন। আল্লাহ সূরা আয-যুমারের ৫৩ নাম্বার আয়াতে বলেন, "যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" আল্লাহ আমাদের তাঁর সেই অসীম দয়ার ছায়ায় জায়গা দিন। আর তাঁর রহমত থেকে কখনো নিরাশ না হওয়ার তাওফিক দিন। আমীন। 🤍 লেখাঃ Abu MuHammad Rafiuzzaman

  • без подписи

  • 5 авг.1 5165

    وَلَنۡ تَسۡتَطِیۡعُوۡۤا اَنۡ تَعۡدِلُوۡا بَیۡنَ النِّسَآءِ وَلَوۡ حَرَصۡتُمۡ فَلَا تَمِیۡلُوۡا کُلَّ الۡمَیۡلِ فَتَذَرُوۡہَا کَالۡمُعَلَّقَۃِ ؕ وَاِنۡ تُصۡلِحُوۡا وَتَتَّقُوۡا فَاِنَّ اللّٰہَ کَانَ غَفُوۡرًا رَّحِیۡمًا আর তোমরা যতই ইচ্ছে কর না কেন তোমাদের স্ত্রীদের প্রতি সমান ব্যবহার করতে কখনই পারবে না, তবে তোমরা কোনো একজনের দিকে সম্পূর্ণভাবে ঝুঁকে পড়ো না ও অপরকে ঝুলানো অবস্থায় রেখো না; যদি তোমরা নিজেদেরকে সংশোধন কর এবং তাকওয়া অবলম্বন কর তবে নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। [সূরা: নিসা, আয়াত: ১২৯] عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَنْ كَانَتْ لَهُ امْرَأَتَانِ، فَمَالَ إِلَى إِحْدَاهُمَا، جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَشِقُّهُ مَائِل হযরত আবু হোরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যার দুইজন স্ত্রী থাকবে, অতঃপর সে তাদের একজনের প্রতি (অন্যায়ভাবে) ঝুঁকে পড়বে, সে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে যে তার শরীরের এক পাশ ঝুলে থাকবে।” [সুনানে আবূ দাউদ, হাদিস নং ২১৩৩] পুনঃশ্চ- ইতিপূর্বে বহুবিবাহের পক্ষ নিয়ে অনেক লিখেছি। কিন্তু এখন আমার মনে হয়েছে, আমাদের লেখা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বাস্তবতা না বুঝে কেউ হয়তো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তাই সতর্কতা হিসেবে কিছু কথা লিখলাম। মনে রাখবেন, পুরুষের জন্য একাধিক স্ত্রী মহান আল্লাহ তা'লার পক্ষ থেকে হালাল করা হয়েছে। এই বিধানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে মুমিন থাকার কোন সুযোগ নেই। - আতাউর রহমান বিক্রমপুরী

  • 5 авг.1 476313

    আজ হঠাৎ জনৈকা আহলিয়ার অনুমতিক্রমে তার ডায়েরির কয়েকটা পাতা উল্টালাম। কোন্ আহলিয়ার সাথে কত রাত্রি যাপন করেছি এবং কতদিন সফরে ছিলাম—এর পূর্ণ ডিটেইলস লেখা দেখে আমি রীতিমত অবাক। এমনকি কোন্ দিন রাত কতটা কত মিনিটে তার ঘরে প্রবেশ করেছি—তাও লেখা। যখন বৌ একটা ছিল তখন 'খেয়ে থাকি, আর না খেয়ে থাকি' যেন জান্নাতে ছিলাম। আর দ্বিতীয় বিবাহের পর সেই তুলনায় অনেক প্রাচুর্যে থাকা সত্ত্বেও আছি যেন আরাফে (অর্থাৎ জান্নাত-জাহান্নামের ঠিক মাঝখানে)। ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় সামান্য উনিশ-বিশ হলে কোন্ বউ ধাক্কা দিয়ে জাহান্নামে ফেলে দিবে—এই আশঙ্কায় ভুগি সব সময়। এজন্য ইনসাফের দাঁড়িপাল্লার দুই প্রান্ত সমান্তরাল আছে কিনা—এই আশঙ্কায় হৃদয়ে রোমান্টিকতার খরা চলতে থাকা অবস্থায়ও রোমান্টিকতার অভিনয় চালিয়ে যেতে হয় পুরোদমে। কখনো বাস্তবেই একটু রোমান্টিক হওয়ার জন্য একজনকে নিয়ে ঘুরতে গিয়ে একটু আচার কিনে দিলেও স্মরণ রাখতে হয় এর বিপরীতে আরেকজনকেও যেন কিছু দিতে পারি। কারণ আরেকজন অনুপস্থিত হলেও তার পক্ষে আল্লাহ দেখছেন, ফেরেশতারা লিখছেন। ফলে কখনো কখনো একটা ভালো জিনিস পছন্দ হলেও জোড়া না মিললে কিংবা দুটো কেনার সামর্থ্য না থাকলে নিতে পারি না। কখনো কখনো একই জিনিস ভিন্ন রঙের পাওয়া গেলেও দেখা যায় দুজনেরই একই রঙ পছন্দ। নিজের জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতার সামান্য কিছু কথা এজন্যই শেয়ার করলাম, যাতে কেউ বহু বিবাহের ফ্যান্টাসিতে না ভুগে বাস্তববাদী হয়। কেননা, অনেকেই বউকে শুধু ফিরাশ বা বিছানা হিসেবেই কল্পনা করে। দুই বউ মানে দুটো বিছানা। আজ এই বিছানায় শোবে। তো, কালো ও বিছানায়। জীবনের বাস্তবতা না বুঝে যারা এমন ফ্যান্টাসিতে ভোগে তারা দ্বিতীয় বিবাহ করে কখনোই ইনসাফ করা তো দূরের কথা স্ত্রীদের ন্যূনতম হকও আদায় করতে পারবে না। এজন্য বলি, মাছনা-ব্যবসায়ীদের উস্কানিতে কেউ দ্বিতীয় বিবাহের ফাঁদে পা দিবেন না। এই সেকুলার সমাজে দুই স্ত্রী নিয়ে সুখে থাকা অনেক চ্যালেঞ্জিং বিষয়। এজন্য ভেবেচিন্তে পা ফেলা উচিত। দ্বিতীয় বিবাহ করে সুখে থাকতে হলে যে বিষয়গুলো জরুরি সেগুলোর মধ্যে কয়েকটা হল: ১) কোন অবস্থাতেই বিবাহের বিষয় গোপন রাখা যাবে না। কারণ যাকে গোপন রাখা হবে সে সব সময় ইনসিকিউর ফিল করবে। অথচ বিবাহের অন্যতম উদ্দেশ্য إحصان তথা নারীর নিরাপত্তা। তাছাড়া গোপনে বিবাহ করলে রাত্রিযাপনসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে বৈষম্য অবধারিত হয়ে দাঁড়াবে। আর বিশেষ অফার হিসেবে রয়েছে, গোপন স্ত্রীর কাছে গিয়ে জনতার হাতে ধরা খেয়ে মান-ইজ্জত চলে যাওয়ার অবিরাম আতঙ্ক। ২) সেকুলার সমাজ দ্বিতীয় বিবাহকে কোনোভাবেই ভালো চোখে দেখবে না। এজন্য সমাজের মোকাবেলা করার জন্য দৃঢ় ও শক্তিশালী মানসিক ব্যক্তিত্বের অধিকারী হতে হবে। কেননা অনেক সময় দেখা যায়, আবেগের বশে অনেকেই দ্বিতীয় বিবাহ করেন। এরপর সেকুলার সমাজের চাপে পড়ে স্ত্রীকে তালাক দিতে বাধ্য হন। ৩) একাধিক স্ত্রীর উপর প্রভাব বিস্তার করার মত ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হতে হবে। মনে রাখবেন, ব্যক্তিত্বহীন ব্যক্তি একাধিক বিবাহ করলে সে হবে মাঠের ফুটবলের মত। ৪) শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি স্ত্রীদের অন্যান্য মৌলিক চাহিদা (খাদ্য, বস্ত্র আলাদা বাসস্থান, চিকিৎসা ইত্যাদি) পূরণ করার জন্য আর্থিক সামর্থ্য থাকতে হবে এবং বিবাহের পর যে কোন সময় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হলে স্ত্রীরা যাতে পরিস্থিতিকে মেনে নিয়ে সবর করতে পারে—এজন্য অল্পে তুষ্টি রয়েছে এমন মানসিকতা সম্পন্ন পাত্রী নির্বাচন করতে হবে। ৫) মনে রাখতে হবে, ইসলাম সকল ক্ষেত্রেই ইনসাফ বজায় রাখার কথা বলে এবং বিশেষভাবে স্ত্রীদের ক্ষেত্রে। সুতরাং একাধিক বিবাহ করার আগে অন্যান্য বিধান পালনের ক্ষেত্রে (যেমন, পিতা মাতা, সন্তান-সন্ততি, আত্মীয়-স্বজনের হক ইত্যাদির ক্ষেত্রে) ইনসাফ করার অভ্যাস রয়েছে কিনা—এ ব্যাপারে নিজেকে যাচাই করতে হবে। কারণ যে অন্যান্যদের ব্যাপারে ইনসাফ রক্ষা করে না সে কিছুতেই স্ত্রীদের ক্ষেত্রে ইনসাফ রক্ষা করতে পারবে না। কেননা আল কোরআনের ভাষ্যমতে, স্ত্রীদের মাঝে শতভাগ ইনসাফ রক্ষা করা প্রায় অসম্ভব বিষয়। ৬) দীনদারীর পাশাপাশি বংশ মর্যাদা ও আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন পাত্রী নির্বাচন করা। কেননা নিচু জাতের নারীরা হুকুকুল্লাহর ক্ষেত্রে সচেতন হওয়া সত্ত্বেও অল্পতেই মানুষের কাছে স্বামী, শশুর-শাশুড়ী কিংবা সতীনের বদনাম করে নিজের মর্যাদাও কমিয়ে ফেলে। পক্ষান্তরে ভালো বংশের নারীরা নিজের মর্যাদা রক্ষার জন্য হলেও এসব নোংরামি থেকে বিরত থাকে। আলহামদুলিল্লাহ প্রথম বিবাহ করার আগেই উপরোক্ত বিষয়গুলোর উপলব্ধি আমার ছিল এবং এগুলোর প্রতি শতভাগ খেয়াল রাখার চেষ্টা করেছি। তবুও আমার বর্তমান অবস্থান জান্নাত টু আরাফ। তবে আশাবাদী, দুজনকে সাথে নিয়েই আরাফ থেকে জান্নাতের দিকেই ইউটার্ন করবো ইনশাআল্লাহ।

  • 25 июл.2 509148

    এক সাহাবির অদ্ভুত নবীপ্রেম . হযরত তালহা ইবন বারা রাযি.। তিনি ছিলেন অল্প বয়সের সাহাবি। জীবনের শুরুতেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। একদিন তিনি ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়লেন। এমন অসুস্থতা—যা দেখে বোঝা যাচ্ছিল, এটাই হয়তো শেষ সময়। খবর পৌঁছাল রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে। প্রিয় নবী নিজে ছুটে এলেন তাঁর খোঁজ নিতে। ঘরে ঢুকেই বুঝে গেলেন—এই রোগ থেকে তাঁর আর ফেরা নেই। নবীজি ﷺ সেদিন উপস্থিত লোকদের বললেন, ‘তালহার যখন ইন্তেকাল হবে, আমাকে খবর দিও। আমি এসে জানাযার নামায পড়াব।’ ভাবুন একবার! যার জানাযা রাসূলুল্লাহ ﷺ পড়াবেন—তার মর্যাদা কতটা মহান! এটা কি ছোট সম্মান? এটা তো দুনিয়া-আখিরাতের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য! নবীজি কথা বলে চলে গেলেন। কিন্তু এখানেই দেখা গেল তালহার প্রকৃত নবীপ্রেম। তিনি উপস্থিত লোকদের ডেকে বললেন, ‘যদি রাতে আমার মৃত্যু হয়, দয়া করে রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে খবর দিও না।’ সুবহানাল্লাহ! কেন এই নিষেধ? কারণ তিনি জানতেন—রাসূল ﷺ-এর বাড়ি থেকে তাঁর বাড়ি তিন-চার মাইল দূরে। পথে ইহুদিদের বসতি। রাতের অন্ধকারে চলাফেরা কষ্টকর।নিরাপত্তার ঝুঁকি আছে। তিনি ভাবলেন, আমার জানাযার জন্য নবীজি কেন কষ্ট করবেন? আমার কারণে কেন আমার প্রিয় নবীর কষ্ট হবে? যদিও নবীজি জানাযা পড়ালে তাঁর জন্য বিশাল ফজিলত ছিল, তবুও তিনি সেই সুযোগ নিজের হাতে ছেড়ে দিলেন। এটাই তো প্রেম! এটাই তো নিঃস্বার্থ ভালোবাসা! অবশেষে রাতে তাঁর ইন্তেকাল হয়ে গেল।পরিবার তাঁর ওসিয়ত অনুযায়ী রাসূল ﷺ-কে খবর দিল না। পরদিন সকালে নবীজি জানতে পারলেন। খুব আফসোস করলেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর কবরের কাছে গেলেন। কবরের পাশে দাঁড়িয়ে এই দোয়া করলেন اللَّهُمَّ الْقَ طَلْحَةَ تَضْحَكُ إِلَيْهِ وَيَضْحَكُ إِلَيْكَ হে আল্লাহ! তালহার সাথে আপনি এমন অবস্থায় মিলিত হোন, যেন আপনি তাকে দেখে হাসছেন, আর সে আপনাকে দেখে হাসছে। [মাজমাউয যাওয়াইদ : ১৫৯৬৯] ভাবুন একবার—রাসূল ﷺ নিজে নাম ধরে দোয়া করছেন! যদি নবীজি জানাযায় আসতেন, তাহলে সাধারণ জানাযার দোয়া পড়তেন اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا, وَمَيِّتِنَا হে আল্লাহ! আমাদের জীবিত ও মৃত সবাইকে ক্ষমা করে দিন...। এই দোয়ায় তালহার নাম আসত না। সাধারণ দোয়ার মধ্যে মিশে যেত। কিন্তু তালহা নিজের সুবিধা ত্যাগ করলেন, নবীর কষ্ট এড়াতে চাইলেন, নবীকে আরাম দিলেন। ফলাফল কী হলো? নবীর জবান দিয়ে তাঁর নাম ধরে দোয়া বের হয়ে এল! এটাকেই বলে—দোয়া বের করানো। অনেকে আছে—দোয়া চায়, আমার জন্য দোয়া করবেন। কিন্তু খুব কম মানুষ আছে—যারা এমন কাজ করে যার কারণে বড় মানুষের মুখ থেকেই আপনা-আপনি দোয়া বের হয়ে আসে।একটু খেদমত, একটু আদব, একটু ভালো ব্যবহার—কখনো কখনো দোয়ার দরজা খুলে দেয়। - খুতুবাত @Afiyah24hours

  • ধরুন আপনার একটা গোপন পাপ আছে, একটা অতীত আছে, যা কেউ জানুক তা আপনি চান না। সেটা জেনে গেলে সমাজের কেউ আপনাকে দাম দিবে না। সালামটুকুও না৷ নিজের স্ত্রীর কাছে হবেন অবজ্ঞার পাত্র। নিজ সন্তানদের চোখে হবেন ভণ্ড-প্রতারক! যারা আপনাকে বুযুর্গ মনে করে, তারা থুতু ফেলবে! কিন্তু সেই পাপ কিংবা সেই অতীত মসজিদে মাইকে ঘোষণা করা হবে- আপনার নাম নিয়ে! আপনার একালাতে! আপনার মনে হবে- হায়! এর আগেই যদি আমি মরে যেতাম! মানুষের স্মৃতি থেকে সম্পূর্ণ মুছে যেতাম! অপমানিত হওয়ার চেয়ে তখন দশ তলা ভবন থেকে আপনার জন্য লাফিয়ে পড়া সহজ হবে! অথবা সাজানো সংসার ও আদরের সন্তান ছেড়ে দূরে কোথাও পালিয়ে যেতে মন চাইবে! আল্লাহ তাআলার অনেক বড় দয়া যে, তিনি আমাদের অতীত ঢেকে রেখেছেন! কিন্তু চিন্তার বিষয় হল সেই অতীত না তিনি হাশরের মাঠে ঘোষণা করে দেন! সেদিন না স্মৃতি মুছে যাবে, না পালানো যাবে, আর না আত্মহত্যা! يَوْمَ تُبْلَى السَّرَائِرُ ۝ فَمَا لَهُ مِنْ قُوَّةٍ وَلَا نَاصِرٍ "যেদিন সব গোপন বিষয় প্রকাশ করে দেওয়া হবে। তখন তার (মানুষের) নিজের কোনো শক্তি থাকবে না এবং কোনো সাহায্যকারীও থাকবে না।" — সূরা আত-তারিক, আয়াত ৯–১০ দয়াময় রব! আমাদের অতীত ক্ষমা করুন। মানুষের স্মৃতি থেকে তা মুছে দিন। সম্মানিত করুন এ জগতে এবং ঐ জগতে। - মাসুদ ভাই

  • . এছাড়া সামগ্রিকভাবে সমাজের মানুষের মধ্যে ইসলামী দাওয়াহর প্রতি নেগেটিভ মনোভাব তৈরির আশঙ্কাও থাকবে। . . কোনো এক অজ্ঞাত কারণে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে আমার ছবি প্রোফাইল পিকচার হিসেবে ব্যবহার করেন। এর মধ্যে আবার কাউকে কাউকে দেখা যায় বিভিন্ন পেইজ বা পোস্টের কমেন্টবক্সে গিয়ে মানুষকে অকাতরে গালিগালাজ করছেন। বিশেষভাবে এ ধরনের প্রত্যেকের প্রতি আমার নাসীহাহ হলো: . প্রথমত, যেকোনো পরিস্থিতিতেই গালিগালাজ এবং অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করা থেকে দূরে থাকুন। . দ্বিতীয়ত, দয়া করে আমার ছবি প্রোফাইল পিকচার হিসেবে ব্যবহার করবেন না। . . ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্ল।আহ) থেকে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন: আমাকে উত্তম আখলাকের পূর্ণতা দান করার জন্য পাঠানো হয়েছে। [মুয়াত্তা মালিক] . নিজেদের সংশোধনের জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এই একটা কথা যথেষ্ট হওয়া উচিত। - আসিফ আদনান

  • গালাগালি আর অশ্লীল ভাষার ব্যবহার এখন খুব নরমালাইযড হয়ে গেছে। পথেঘাটে, অনলাইনে, পলিটিকাল কিংবা সোশ্যাল ডিসকোর্সেও গালি দেয়াকে সা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ধরে নেয়া হচ্ছে। . কিছুদিন আগে একজন ছাত্রী (সম্ভবত এইচএসসি পরীক্ষার্থী) শিক্ষামন্ত্রীর সমালোচনা করে ভিডিও আপলোড করেছিলেন। সরকারী দলের সমর্থকদের গালিগালাজ আর আর কমেন্টের জ্বালায় তাকে পরে আরেকটা ভিডিও করে নিজের অবস্থার কথা তুলে ধরতে হয়। . মাসকয়েক আগে এক বিখ্যাত ইংরেজি দৈনিকের সম্পাদক আক্ষেপ করে বলেছিলেন—তার মা মারা গেছেন এটা তার সৌভাগ্য। মা বেঁচে থাকলে বিরোধী দল ও তাদের ছাত্রসংগঠনের সমর্থকরা সোশ্যাল মিডিয়াতে তার মাকে জড়িয়ে যেসব যৌনতাসম্পর্কিত গালিগালাজ আর কমেন্ট করেছে, সেগুলো তাকে দেখতে হতো। . বিশ্বকাপ ফুটবলের সময়ে দেখলাম এক জনপ্রিয় দল নিয়ে পোস্ট করায় এক মীম পেইজের কমেন্টবক্স জুড়ে শুধু গালি আর গালি। যেন কে কার চাইতে ক্রিয়েটিভ গালি দিতে পারে তা নিয়ে প্রতিযোগিতা চলছে। . গালাগালি এবং অশ্লীলতার এই মচ্ছব যারা নিজেদের ‘প্র্যাকটিসিং মুসলিম’ বা ‘দ্বীনি’ হিসেবে পরিচয় দেন তাদেরকেও গ্রাস করেছে। গতো ৩/৪ বছরে এটা ব্যাপক পরিমাণে বেড়েছে। . বিশেষ করে নারীদের ব্যাপারে কোন প্রসঙ্গ এলেই বিদ্যুতবেগে তা যৌনতার সাথে জুড়ে ‘রসালো’ মন্তব্য করার যে কুৎসিত স্বভাব সমাজে আছে, ইসলামপন্থীদের অনেকেই এখন সেটাকে ‘ঔন’ করতে শুরু করেছেন। যাদের দায়িত্ব ছিল সমাজকে সংশোধন করা, তাঁরা নিজেরাই সমাজের চলতি ট্রেন্ডের অনুগামী হয়েছেন। . তরুণ রাজনৈতিক নেতা আর প্রখ্যাত ইউটিউবারদের অনুকরণে কিংবা মূলধারার সামাজিক ডিসকোর্সের তোড়ে ভেসে গিয়ে অনেকে গালাগালিকে স্মার্টনেস, অথেনটিসিটি কিংবা কনফিডেন্ট-ডমিন্যান্ট আচরনের মার্কার হিসেবে নিয়েছেন। অথবা যারা আগে থেকেই গালাগালিতে অভ্যস্ত ছিলেন, তাঁরা ইসলাম চর্চা শুরু করার পরও এই মনস্তাত্ত্বিক ব্যাগেজ ছেড়ে আসতে পারেননি। . অথচ ইসলাম এই বিষয়ে বিন্দুমাত্র অস্পষ্টতা রাখেনি। মুমিন গালি দেয় না, এবং অশ্লীলভাষী হয় না। . . সাইয়্যিদিনা আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: . মুমিন কখনো খোঁটা বা ত্রুটি অন্বেষণকারী হয় না, অভিশাপকারী হয় না, এবং নির্লজ্জ ও অশ্লীল-ভাষী হয় না। [সুনান তিরমিযী] . সাইয়্যিদিনা আবু দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: . কিয়ামতের দিন মুমিনের আমলনামায় সৎ চরিত্রের চেয়ে ভারী আর কিছুই হবে না। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ অশালীন ও নির্লজ্জ ব্যক্তিকে ঘৃণা করেন। [সুনান তিরমিযী] . . যে ব্যক্তি গালিগালাজ ও অভিশাপ দিতে অভ্যস্ত সে নিশ্চিতভাবেই নিন্দনীয় দোষে আক্রান্ত। ইমাম ইবনু ক্বুদামাহ (রাহিমাহুল্লাহ) একে জিহ্বার ব্যাধি হিসেবে চিহ্নিত করে বলেছেন: . “চতুর্থ ব্যাধি: অশালীন কথা, গালিগালাজ এবং মুখে কটু ভাষা ব্যবহার করা; যার সবই নিন্দনীয় ও হারাম। এর মূল উৎস হলো খবীস স্বভাব ও ধূর্ততা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা অশালীনতা থেকে বেঁচে থাকো; কারণ আল্লাহ অশালীনতা ও নির্লজ্জ কথাবার্তা পছন্দ করেন না।’ ‘প্রত্যেক অশ্লীল ব্যক্তির জন্য জান্নাত হারাম।’ ‘মুমিন কখনো খোঁটা বা ত্রুটি অন্বেষণকারী হয় না, অভিশাপকারী হয় না, এবং নির্লজ্জ ও অশ্লীল-ভাষী হয় না।”[মিনহাজুল কাসিদীন] . . অশ্লীল ভাষা, এবং গালির ব্যাপারে আল-গাযযালি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, . “…এর সিংহভাগই মূলত যৌনতা প্রকাশ করে এমন সব শব্দ ও তার অনুষঙ্গকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। . দুশ্চরিত্র ও পথভ্রষ্ট লোকেরা এমন সব শব্দ ব্যবহার করে যা বেপরোয়া ও অশ্লীল; পক্ষান্তরে, মুত্তাকী ব্যক্তিরা এই ধরণের ভাষা ব্যবহার থেকে বিরত থাকেন। বরং তারা এসব বিষয় সরাসরি না বলে রূপক, ইঙ্গিত বা পরোক্ষ ভাষায় প্রকাশ করেন। (ইহিয়া উলূমিদ্দীন) . . আল-মুনাউয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, . “যে ব্যক্তি তার জিহ্বাকে লাগামহীন ছেড়ে দেয়, শয়তান তাকে সবদিকে চালিত করে এবং শেষ পর্যন্ত ধ্বংসের মুখে নিয়ে যায়। শরীয়তের লাগাম ছাড়া আর কিছুই মানুষকে জিহ্বার ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারে না।” . . যারা জেনেবুঝে আল্লাহর দ্বীন মেনে চলার চেষ্টা করেন, তাঁদের দায়িত্ব হলো সমাজের ইসলাহ বা সংশোধনের চেষ্টা করা। সমাজের মানুষ যখন খারাপ কোন ট্রেন্ডে গা ভাসায় তখন তাদেরকে বুঝিয়েশুনিয়ে কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনার দিকে ফিরিয়ে আনা তাঁদের কাজ। . তাঁরা নিজেরাই যদি আর দশজনের মতো খারাপ আচরণকেই বেছে নেয়, তখন ইসলামের একজন প্রতিনিধি হবার অবস্থান তারা হারাবেন। কারণ মানুষ তখন মনে করবে— . আমরা যা যা খারাপ কাজ করি তার সবই তো এরা করে। এরা জাস্ট ইসলামের নামে আরেকটা দল। যারা ইসলামের একটা মুখোশ ব্যবহার করছে।

  • পরিবেশ পাল্টান . গুনাহের পরিবেশ থেকে দূরে থাকুন। গুনাহের পরিবেশ থেকে নিজেকে দূরে রাখা এটা নবীগণের একটি তরিকা। হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম জুলাইখার কাছে ছিলেন। জুলাইখা তাঁকে গুনাহের প্রতি আহ্বান করেছিল। গোপন গুনাহের পরিবেশও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ইউসুফ আলাইহিস সালাম এই পরিবেশকে পছন্দ করলেন না। তিনি গুনাহের পরিবেশ- যদিও তা ছিল আরাম-আয়েশের- বর্জন করে জেলখানার পরিবেশ বেছে নিলেন। তবুও গুনাহের পরিবেশে থাকাটাকে তিনি পছন্দ করেননি; বরং তিনি আল্লাহর কাছে এ দোয়া করেছিলেন رَبِّ السِّجْنُ أَحَبُّ إِلَيَّ مِمَّا يَدْعُونَنِي إِلَيْهِ আমার রব! তারা আমাকে যে কাজের দিকে আহ্বান করে, তার চেয়ে আমি কারাগারই পছন্দ করি। (সূরা ইউসুফ, ৩০) সুতরাং আমরাও এটা করবো। গুনাহের পরিবেশ থেকে নিজেকে দূরে রাখবো। বাসায় টিভি ভিসিয়ারের পরিবেশ পাল্টিয়ে সেখানে তালীমের পরিবেশ, আমলের পরিবেশ, তেলাওয়াতের পরিবেশ, জিকির-মোরাকাবা, দোয়ার পরিবেশ গড়ে তুলবো। এর কারণে দুনিয়ার কিছু মজা তো ছাড়তে হবে। কিন্তু ছাড়বেন কার জন্য? আল্লাহর জন্য। আল্লাহর জন্য গুনাহের মজা ছাড়তে পারলে এর পরিবর্তে তিনি ঈমানের মজা দান করবেন। আর ঈমানের মজা তো এমন মজা যার জন্য কত মানুষ তাদের জানও দিয়ে দিয়েছে। সাহাবায়ে কেরামের ইতিহাসে যার প্রমাণ হাজার হাজার আছে। হাদীসে কুদসিতে এসেছে, আল্লাহ তাআলা বলেন, مَنْ تَرَكَهَا مِنْ مَخَافَتِي أَبْدَلْتُهُ إِيمَاناً يَجِدُ حَلَاوَتَهُ فِي قَلْبِهِ যে আমার ভয়ে এগুলো ত্যাগ করবে, আমি তার অন্তরে এমন ঈমান সৃষ্টি করবো যে, সে তার স্বাদ পাবে। -খুতুবাত

  • এক কাঠুরিয়ার ঘটনা মসনবী শরীফে মাওলানা রূমী রহ. ঘটনাটি লিখেছেন। এক কাঠুরিয়ার ঘটনা। প্রতিদিন সে জঙ্গলে যেতো, লাকড়ি জোগাড় করতো, তারপর বাজারে বিক্রি করে দিতো, এভাবেই তার পরিবার চলতো। প্রতিদিনের মতো আজও সে জঙ্গলে গেলো। লাকড়ি কুড়িয়ে আঁটি বেধে বাড়িতে নিয়ে এলো। এরই মধ্যে ঘটে গেলো এক ভয়াবহ ঘটনা। লাকড়ির আঁটির ভেতরে চলে এলো একটি বিষধর সাপ। তবে জীবিত নয়, মনে হয় মৃত। কাঠুরিয়া ভাবলো, মরা সাপ আর কীইবা করতে পারবে, তাই সে এর প্রতি বিশেষ মনোযোগী হলো না। রাতে সে ঘুমিয়ে পড়লো। অপরদিকে সাপটি তো আসলে মৃত ছিলো না, বরং জীবিতই ছিলো। হয়ত তার শরীরটার ওপর বিশাল ধকল গিয়েছিলো, তাই আধমরা হয়ে গিয়েছিলো। কাঠুরিয়া একেই ভেবেছিলো মৃত। এখন সাপটি দীর্ঘ বিশ্রাম পেয়ে সুস্থ হয়ে ওঠলো, ধীরে ধীরে ফোঁস ফোঁস শুরু করে দিলো। এতকিছু ঘটে যাচ্ছিলো, অথচ কাঠুরিয়া ও তার পরিবার ছিলো সম্পূর্ণ বেখবর। এক পর্যায়ে সাপটি ফণা তুললো এবং কাঠুরিয়াকে দংশন করে নিজের ঠিকানায় চলে গেলো। আর কাঠুরিয়া মারা গেলো। সকাল বেলা ওঠে পরিবারের সকলেই তো হতবাক, কী থেকে কী হয়ে গেলো! একটি মরা সাপ কিভাবে একজন জলজ্যান্ত লোককে এভাবে মেরে ফেললো! উক্ত ঘটনা বর্ণনা করার পর মাওলানা রূমী রহ. বলেন, মানুষের নফসও একটি বিষধর সাপের মতো। মানুষ যখন আল্লাহওয়ালার সোহবতে থাকে, রিয়াযত-মুজাহাদা করে, তখন নফস কিছু সময়ের জন্য হয়ত নিস্তেজ হয়ে পড়ে, কিন্তু মরে তো যায় না। সময় মতো সে আবার জেগে ওঠতে পারে, ফণা তুলতে পারে এবং বিষ ঢেলে দিতে পারে। সুতরাং তাকে মৃত ভাবার কোনো কারণ নেই। মাওলানা রূমীর ভাষায় نفس اژد ها است مرده است از غمے بے آتی افسرده است অর্থাৎ- মানুষের নফসও ওই বিষাক্ত সাপের মতো, এখনও যার মৃত্যু হয়নি। রিয়াযত, মুজাহাদা ও সাধনার ঝড়ে সে হয়তো কিছুটা নেতিয়ে পড়েছে, তবে মারা যায়নি। যে-কোনো সময় সে তেজী হয়ে ওঠতে পারে, ছোবল মারতে পারে, ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারে। . অতএব, এর ধ্বংস-ক্ষমতা সম্পর্কে উদাস থাকা যাবে না মোটেও। এক মুহূর্তের অসতর্কতার সুযোগে সে ধ্বংস করে দিতে পারে অনেক কিছু। - খুতুবাত

  • অনেক সময় আমরা বাহিরে খুব পরিপাটি হয়ে সেজেগুজে যাই। বাহিরের মানুষজনের সাথেও আমাদের আচার-আচরণ থাকে পরিপাটি সুন্দর গোছানো। কিন্তু যখনই বাহির থেকে ঘরে ফিরে এসে জামা পাল্টাই, তখন শুধু জামাই পাল্টাই না; বরং এর সাথে আমাদের আখলাকও পাল্টে ফেলি। ঘরের ভেতরে আমাদের আচার-ব্যবহার আর বাহিরের মতো থাকে না। অথচ ঘরের ভেতরে পরিবার-পরিজনের সাথে উত্তম আখলাক অবলম্বন করা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দরসে শামায়েলে তিরমিজি মসজিদুল হারাম শায়েখ হাসান বুখারী উম্মুল কুরা ইউনিভার্সিটি

  • হাসান ইবন আলী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: “তোমাদের পূর্ববর্তী নেককার মানুষরা কুরআনকে তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রেরিত চিঠিপত্র (বার্তা) মনে করতেন। তাই তারা রাতের বেলায় গভীরভাবে তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা (তাদাব্বুর) করতেন এবং দিনের বেলায় তা বারবার পাঠ ও পুনরালোচনা করতেন।” (আত-তিবইয়ান, পৃষ্ঠা ৫) ইমাম আন-নওয়াবী (রহ.)

  • 13 июл.1 1351023

    ৩৬টি বালা-মুসীবত থেকে রাসূলুল্লাহ (সা.) আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন, ১- অপারগতা। ২- অলসতা। ৩- ভীরুতা। (কাপুরুষতা) ৪- কৃপণতা। ৫- অতিশয় বৃদ্ধাবস্থা। ৬- কঠোরতা। ৭- অমনোযোগিতা। ৮- সামর্থহীনতা। ৯- অপমান। ১০- দারিদ্রতা। ১১- কপর্দকহীনতা। ১২- কুফর। ১৩- শির্ক। ১৪- দীন বিরোধিতা। ১৫- দীনের অবাধ্যতা। ১৬- মুনাফেকী। ১৭- শোনানোর প্রবণতা। ১৮- প্রদর্শনেচ্ছা। ১৯- বধিরতা। ২০- মুক অবস্থা। ২১- অপ্রকৃতিস্থতা। (পাগলামী) ২২- কুষ্ঠ। ২৩- শ্বেত (ধবল)। ২৪- খারাপ রোগ। ২৫- ঋণের প্রাদুর্ভাব। ২৬- মানুষের নীপিড়ন। ২৭- নেয়ামত চলে যাওয়া। ২৮- নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া। ২৯- হঠাৎ বিপদ। ৩০- আল্লাহর সবধরণের অসন্তুষ্টি। ৩১- অধৈর্য করে দেয়া বিপদ। ৩২- দু্র্ভাগা হওয়া। ৩৩- ফয়সালার খারাপি। ৩৪- শত্রুদের দ্বারা জিঘাংসা চরিতার্থ করা। ৩৫- দুশ্চিন্তা। ৩৬- পেরেশানী। সুতরাং প্রতিটি মুসলিমের উচিত এগুলো থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা। © ড। আবু বকর মোহাম্মদ জাকারিয়া (হাফি.)

  • 12 июл.1 9091514

    যখন হযরত ইব্রাহীম (আ.)-কে অগ্নিকুণ্ডের কাছে আনা হলো, তাঁর গায়ের কাপড় খুলে ফেলা হলো এবং তাঁর হাত-পা শক্ত করে বেঁধে মিনজানিক (পাথর বা মানুষ ছুঁড়ে মারার প্রাচীন যন্ত্র)-এ রাখা হলো, তখন এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখে পুরো সৃষ্টিজগত এবং ফেরেশতাগণ কেঁদে উঠল! সবাই আল্লাহর দরবারে আকুল হয়ে বলতে লাগল, "হে আমাদের প্রতিপালক! আপনার একনিষ্ঠ বান্দাকে আগুনে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে, দয়া করে আমাদের অনুমতি দিন যেন আমরা তাকে সাহায্য করতে পারি।" এমনকি স্বয়ং আগুনও কেঁদে উঠে বলল, "হে রব! আপনি আমাকে মানুষের অধীন করেছেন, আর আজ আপনারই প্রিয় বান্দাকে আমার ভেতরে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে!" তখন আল্লাহ তা’আলা সবার উদ্দেশ্যে বললেন, "নিশ্চয়ই আমার এই বান্দা কেবল আমারই ইবাদত করেছে এবং আমার পথেই সে আজ এত কষ্ট ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। সে যদি আমার কাছে সাহায্য চায়, আমি নিজেই তার ডাকে সাড়া দেব। আর সে যদি তোমাদের কাছে সাহায্য চায়, তবেই কেবল তোমরা তাকে সাহায্য করো।" এরপর যখন হযরত ইব্রাহীম (আ.)-কে মিনজানিক থেকে আগুনের দিকে ছুঁড়ে দেওয়া হলো, তখন মিনজানিক ও আগুনের মাঝখানের শূন্যস্থানে স্বয়ং প্রধান ফেরেশতা হযরত জিবরাইল (আ.) তাঁর সামনে হাজির হলেন। জিবরাইল (আ.) বললেন, "আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, হে ইব্রাহীম! আমি জিবরাইল। আপনার কি কোনো সাহায্য লাগবে? আপনার কি কোনো প্রয়োজন আছে?" ইব্রাহীম (আ.) অত্যন্ত দৃঢ় কণ্ঠে উত্তর দিলেন, "তোমার কাছে? না, তোমার কাছে আমার কোনো প্রয়োজন নেই! আমার যা কিছু প্রয়োজন, তা কেবল আমার রবের কাছেই।" সুবহানাল্লাহ! আমাদের জীবনে সামান্য কোনো বিপদ-আপদ বা সংকট আসলে আমরা আল্লাহর কথা ভুলে গিয়ে দুনিয়ার মানুষের পেছনে ছুটি। একটু টাকা-পয়সার সমস্যা হলে, চাকরি চলে গেলে বা কোনো বিপদে পড়লে আমরা ভাবি অমুক নেতা, অমুক বন্ধু বা অমুক আত্মীয় বুঝি আমাদের বাঁচিয়ে দেবে। অথচ ইব্রাহীম (আ.)-এর ঈমান দেখুন — সামনে লেলিহান আগুন, হাত-পা বাঁধা, আর সাহায্য করতে এসেছেন স্বয়ং ফেরেশতাদের সর্দার জিবরাইল (আ.), যার এক ডানার ঝাপটায় পুরো নমরুদের রাজত্ব ধ্বংস হয়ে যেতে পারত! কিন্তু ইব্রাহীম (আ.) সৃষ্টির সাহায্য চাননি, তিনি চেয়েছেন সরাসরি স্রষ্টার সাহায্য। আমরা মনে করি, সব উপায়-উপকরণ ঠিক থাকলে বুঝি বিপদ কেটে যাবে। কিন্তু উপায় যার হাতে, সেই আল্লাহর ওপর যদি ভরসা ১০০% খাঁটি হয়, তবে দুনিয়ার কোনো শক্তি আপনার ক্ষতি করতে পারবে না। ইব্রাহীম (আ.) যখন জিবরাইল (আ.)-কেও ফিরিয়ে দিয়ে আল্লাহর ওপর পুরো ফয়সালা ছেড়ে দিলেন, তখন আল্লাহ আগুনকে নির্দেশ দিলেন, "ইয়া নারু কূনী বারদান ওয়া সালামান আলা ইব্রাহীম" হে আগুন! তুমি ইব্রাহীমের জন্য ঠাণ্ডা ও শান্তিদায়ক হয়ে যাও। (সূূরা আম্বিয়া) আগুন তার পোড়ানোর ক্ষমতা হারিয়ে ইব্রাহীম (আ.)-এর জন্য আরামদায়ক বাগান হয়ে গেল। আল্লাহ তা’আলা আমাদের অন্তরে হযরত ইব্রাহীম (আ.)-এর মতো খাঁটি ঈমান ও তাওয়াক্কুলের নেয়ামত নসিব করুন। জীবনের প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে দুনিয়ার সমস্ত সৃষ্টির মায়া ছেড়ে কেবল আল্লাহর ওপর ভরসা রাখার তাওফিক দান করুন,আমীন ইয়া রাব্বাল আলামীন। © Salman Farsi তথ্যসূত্র: الرقة والبكاء لابن قدامة @Afiyah24hours

  • রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে স্বপ্নযোগে দেখার আগ্রহ আমার ১৪ বছর বয়স থেকে। মাদ্রাসায় থাকতে ঘুমের আগে রেগুলার ১০০ বার দুরুদ পড়ে ঘুমাতাম। একবার মসজিদে নববীর খেজুরের ডালের স্ট্রাকচারে আবুবকর (রা:) বিলাল (রা:)কে দেখতে পেলেও নবীজিকে দেখার সুযোগ হয়নি। আমার শাইখের কাছে জানালে তিনি বললেন আরো আমল করো ভালোভাবে। জেলে থাকার দিন গুলোকে গনীমত হিসেবে নিয়েছিলাম কারন সেখানে গুনাহ করার তেমন সুযোগ নেই। তাই সর্বোচ্চ দুরুদ পড়তাম। ঘুমানোর আগে ২০০ বার পড়ে ঘুমাতাম। লাগাতার দুই বছর আমল করেছি কিন্ত সৌভাগ্য হয়নি। অন্যদিকে কারাগারে একজন আলিমের সাথে একই ব্লগে বেশ কিছুদিন ছিলাম। তিনি অসং্খ্য বার আম্মাজান আয়িশা (রা:) ও নবীজীকে স্বপ্নে দেখেছেন। আবার বেশ কিছুদিন আগে আমার মামাতো ভাই যিনি সাধারন একজন মুসলিম। তিনি স্বপ্নে বায়তুল্লাহ জিয়ারত করা ও মদীনাতুন্নাবীতে গিয়ে সরাসরি রাসুল (সা:)কে স্বপ্নে দেখেছেন বলে আমাকে জানিয়েছে। সে এই স্বপ্ন দেখার পরে আগামী বছর হজে যাবার নিয়ত করে ফেলেছে। সব মিলিয়ে আমি যতটুকু জেনেছি তা হলো : ১. চোখের হেফাজত করা ( সর্ব প্রকার হারাম থেকে দৃস্টি বাচিয়ে রাখা)। ২. সর্বোচ্চ দুরুদ পড়া। স্পেশালী ঘুমানোর আগে নিয়মিত দুরুদ পড়া। ৩. সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আকড়ে ধরা। কখনো আদনা থেকে আদনা সুন্নাত না ছাড়া। ৪. সর্বদা ওজুর হালতে থাকে। খাস করে ঘুমানোর আগে ওজু করে ঘুমানো। পাক পবিত্র বিছানার ব্যবহার করা এবং ঘুমের আগের সুন্নাহগুলো আমল করা। ৫. আল্লাহর কাছে এই সৌভাগ্য চাওয়া। সর্বোপরি কথা হলো, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে স্বপ্নে দেখাটা খোশ নসীবের বিষয়। তবে কেউ যদি আজীবন না দেখেও সুন্নাতের উপরে আকড়ে থাকে সেটা হলো চুড়ান্ত কামিয়াবী। আল্লাহ তায়ালা প্রথমে আমাকে সহ অন্যন্য সবাইকে আমল করার তাওফিক দিন। আমিন।- কপিড

  • без подписи