ইসলামী আকিদাহ
Статистика- Последний пост
- 13 июл.
- Последнее чтение
- 13 авг.
- Постов за неделю
- 0
- Всего постов
- 20
- Тип
- открытый
- Язык
- bn
- В каталоге с
- 13 авг.
- 1/24сутки в ленте
- —
- 1/48двое суток
- —
- 1/72трое суток
- —
Оценка по просмотрам недавних постов: пост набирает почти всё за первые сутки.
Посты
ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন হারাম: মুফতি তাকি উসমানির ফতোয়া পাকিস্তানের দারুল উলুম করাচির প্রেসিডেন্ট ও ফেডারেশন অব আরব স্কুলসের সভাপতি মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি ক্রিপ্টোকারেন্সির কেনাবেচাকে ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী অবৈধ (হারাম) ঘোষণা করে একটি বিস্তারিত ফতোয়া প্রকাশ করেছেন। ফতোয়ায় বলা হয়েছে, বর্তমান বিশেষজ্ঞদের গবেষণা ও মতামতের ভিত্তিতে ক্রিপ্টোকারেন্সি শরয়ী দৃষ্টিতে ‘মাল’ (বিনিময়যোগ্য বৈধ সম্পদ) হিসেবে গণ্য হয় না। বরং এটি কেবল ডিজিটাল অ্যাকাউন্টে সংরক্ষিত কিছু ভার্চুয়াল সংখ্যার নিবন্ধন মাত্র। তাই শরিয়াহ অনুযায়ী এটি বৈধ ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যম হতে পারে না। মুফতি তাকি উসমানি বলেন, ইসলামী শরীয়াহে কোনো বস্তুকে বৈধ সম্পদ হিসেবে গণ্য হওয়ার জন্য যেসব মৌলিক শর্ত রয়েছে, ক্রিপ্টোকারেন্সি সেগুলো পূরণ করতে পারেনি। ফলে এর মাধ্যমে সম্পাদিত ক্রয়-বিক্রয় ও আর্থিক লেনদেন শরিয়াহসম্মত নয়। ফতোয়ায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিটকয়েন (Bitcoin), ইউএসডিটি (USDT), বিভিন্ন স্টেবলকয়েন (Stablecoin) কিংবা অন্য যেকোনো ধরনের ক্রিপ্টো টোকেন—যে নামেই পরিচিত হোক না কেন, সেগুলোর মাধ্যমে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় বা আর্থিক লেনদেন একই বিধানের অন্তর্ভুক্ত হবে। ফতোয়ায় আরও বলা হয়েছে, যেহেতু ক্রিপ্টোকারেন্সি শরয়ী অর্থে বৈধ সম্পদের সংজ্ঞা পূরণ করে না, তাই এতে বিনিয়োগ, ট্রেডিং ও লেনদেন বৈধ নয়। — মুফতি মুহাম্মাদ তাকি উসমানি (হাফি.) প্রেসিডেন্ট, জামিয়া দারুল উলুম করাচি, পাকিস্তান।
জাদু টোনা থেকে বাঁচার সুন্নাহা পদ্ধতীতে অনেক আমল রয়েছে।আপনার যেটা ইচ্ছা আমল করতে পারেন আবার সবগুলিই আমল করতে পারেন।যাদু টোনা থেকে বাঁচার উপায়: ১. সকাল-সন্ধ্যায় ৩ সুরার আমল > রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সকাল-সন্ধ্যা তিনবার করে সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক এবং সুরা নাস পড়বে। এ সুরাগুলো সব বিপদাপদের মোকাবেলায় যথেষ্ট হবে।’ (মুসলিম) > হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি রাতে যখন ঘুমাতে যেতেন, তখন নিজের উভয় হাত এক সঙ্গে মিলাতেন। তারপর সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক, সুরা নাস পড়তেন এবং উভয় হাতে ফুঁক দিতেন। তারপর দেহের যতটুকু অংশ সম্ভব হাত বুলিয়ে নিতেন। তিনি মাথা, মুখমণ্ডল ও শরীরের সামনের অংশ থেকে শুরু করতেন। তিনি এরূপ তিনবার করতেন।’ (বুখারি) ২. নিয়মিত আয়াতুল কুরসি একবার পড়া নিয়মিত আয়াতুল কুরসি পড়লে জাদু-টোনার প্রভাব ও আক্রমণ থেকে মুক্ত থাকা যাবে। যারা নামাজ পড়েন প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর তারা আয়াতুল কুরসির আমল করেন। এটিই তাদের জাদু-টোনা থেকে বেঁচে থাকার অন্যতম উপায়। ৩. প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজের পরের আমল প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার পর একবার আয়াতুল কুরসি ও উক্ত তিনটি সুরা (ইখলাস, ফালাক ও নাস) একবার করে পাঠ করা। ৪. রাতে ঘুমানোর আগের আমল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাতে ঘুমানোর আগে সুরা তিনটি (ইখলাস, ফালাক ও নাস) পড়ে দুই হাত একত্রিত করে উভয় হাতের তালুতে ফুঁ দিয়ে মাথা, মুখমণ্ডল ও শরীরের উপরিভাগ যতদূর সম্ভব হাত দ্বারা মাসেহ করা। (এভাবে তিন বার করা) ৫. সুরা বাকারা ও আল-ইমরান পড়া হজরত আবু উমামাহ আল-বাহিলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি- তোমরা দুটি উজ্জ্বল সুরা অর্থাৎ সুরা বাকারা এবং আল-ইমরান তেলাওয়াত কর। কিয়ামতের দিন এ দুটি সুরা এমনভাবে আসবে যেন তা দু খণ্ড মেঘ অথবা দুটি ছায়াদানকারী অথবা দুই ঝাঁক উড়ন্ত পাখি যা তার পাঠকারীর পক্ষ হয়ে কথা বলবে। আর তোমরা সুরা বাকারা পাঠ কর। এ সুরাটিকে গ্রহণ করা বরকতের কাজ এবং পরিত্যাগ করা পরিতাপের কাজ। আর বাতিলের অনুসারীগণ এর মোকাবেলা করতে পারে না। হাদিসের বর্ণনাকারী আবু মুআবিয়াহ বলেছেন, ‘আমি জানতে পেরেছি যে, বাতিলের অনুসারী বলে জাদুকরদের কথা বলা হয়েছে।’ (মুসলিম) ৬. সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত তেলাওয়াত করা বিশেষভাবে রাতে নামাজের মধ্যে কিংবা বাইরে সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত তেলাওয়াত করা। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যাক্তি রাতে সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করবে তার জন্য তা যথেষ্ট হয়ে যাবে।’ (বুখারি) অর্থাৎ যে ব্যক্তি রাতের বেলা সুরা বাকারা শেষ দুটি আয়াত (২৮৫-২৮৬) পাঠ করবে আল্লাহর রহমতে তা জিনের সংক্রমণ, জাদু-টোনা ও বদনজর ইত্যাদি সব অনিষ্ট থেকে সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবে। ৭. এ ছাড়াও হাদিসে বর্ণিত এ দোয়াগুলো পড়া- - أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ উচ্চারণ : ‘আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাকা।’ (৩ বার)
বিভিন্ন দল বা খেলোয়াড়ের জার্সি পরিধান জায়েজ নয়। কারণ এগুলো আধুনিক খেলাধুলা ও বিনোদনব্যবস্থার প্রতীক। এগুলোর সাথে জাহেলিয়াতের সম্পর্ক ও প্রচারণা সুস্পষ্ট। মুফতি ইবরাহিম দেশাই দেওবন্দি রহিমাহুল্লাহ জার্সি সম্পর্কিত এক ফতোয়ায় লেখেন, যে ফুটবল জার্সিতে কারও নাম লেখা আছে, তা মুসলিমের নাম হোক বা অন্য কারও, তা পরিধান করা জায়েজ নয়। কারণ ফুটবল জার্সিতে থাকা নাম ও লোগো বাণিজ্যিক ক্রীড়াজগতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আর এ ক্রীড়াজগতে বহু অনৈসলামিক কর্মকাণ্ড বিদ্যমান। সুতরাং এসব জার্সি ক্রয় করা ও পরিধান করা গুনাহের কাজে সহযোগিতা করার অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, وَلَا تَعَاوَنُوۡا عَلَى الۡاِثۡمِ وَالۡعُدۡوَانِ. ‘তোমরা পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করো না।’ [সুরা মায়েদা, আয়াত ২] শায়খ সালেহ আল ফাওজান হাফিজাহুল্লাহ বলেছেন, ‘এমন কাপড় পরিধান করা জায়েজ নেই, যে কাপড়ের ওপর খেলোয়াড়দের নাম লেখা থাকে। কেননা এর মাঝে কাফেরদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ব্যাপারটি পাওয়া যায়।’ একইভাবে যেসব প্রতীকে মুভি জগৎসহ জাহেলিয়াতের সেলিব্রিটিদের প্রতি ভালোবাসা ও উন্মাদনা প্রকাশ পায়, তা হারাম। কারণ এগুলো মূলত হারামের প্রতি ভালোবাসা ও হারাম প্রচার-প্রসারের অন্তর্ভুক্ত। কুফর, শিরক ও হারামের কোনো শিআর ধারণ করা, প্রচার করা ও ভালোবাসা দেখানো ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পুঁজিবাদের আফিম: আধুনিক খেলাধুলা ও বিনোদন ব্যবস্থার চরিত্র বিশ্লেষণ বই থেকে
দুই দশক আগেও বিষয়গুলো এত জটিল ছিল না। দ্বীনের পথে মানুষের আগমন হত তাবলিগের মাধ্যমে, খানকাহর মাধ্যমে, কিংবা ওয়াজ মাহফিল বা কোনো আলেমের সোহবতের মাধ্যমে। এর সুবিধা ছিল দ্বীনে ফেরা ব্যক্তি শুরুতেই নিজের জন্য একজন মেন্টর পেয়ে যেতেন, যিনি তাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতেন, করণীয় বলে দিতেন। ফলে দেখা যেত তাবলিগে এক চিল্লা দিয়ে আসা ব্যক্তিটির নামাজ শুদ্ধ হওয়া পরিমান কোরআনুল কারিম শুদ্ধ হয়ে গেছে। নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় মাসআলা মাসায়েল শেখা হয়ে গেছে। ভারী ভারী তাত্ত্বিক আলাপে হয়তো তারা পিছিয়ে থাকতেন, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা ফরজ পরিমান ইলম অর্জন করে ফেলতেন। যেহেতু দ্বীনে আসার শুরুতেই তারা একজন মেন্টর পেয়ে যেতেন এবং এলোপাথাড়ি অধ্যয়নের পরিবর্তে সীমিত কিন্তু ধারাবাহিক পড়াশোনার একটা ধারা অতিক্রম করতেন, ফলে দেখা যেত তারা অনেক প্রান্তিকতা থেকে মুক্ত থেকেছেন। কিন্তু প্রযুক্তির উৎকর্ষ ও বিকাশের ফলে বিষয়গুলো আর আগের মত সহজ নেই। এখন মানুষ নানাভাবে দ্বীনের পথে আসছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের কোনো মেন্টর নেই, কোনো গাইডলাইন নেই, তারাও কারো কাছে পরামর্শ নেয়ার দরকার মনে করেন না, যখন যা দরকার মনে করেন নেটে সার্চ করে পড়ে নেন। তারা মনে করেন সব বিষয়ে এখন পর্যাপ্ত বইপত্র, প্রবন্ধ ও অনলাইন কন্টেন্ট আছে, ফলে একজন ব্যক্তি চাইলে সহজেই দরকারি বিষয়টি খুঁজে নিতে পারবে। এক্ষেত্রে সেক্যুলার শিক্ষাব্যবস্থায় গড়ে উঠা অহংকারও বেশ দায়ী, যার ফলে মনে করা হয় নিজের মেধা দিয়েই সব বিষয়ে আয়ত্ত করা যাবে কোনো উস্তাদের সান্নিধ্য জরুরি নয়। একবার একজন গর্বভরে বলেছিলেন, দ্বীনের পথে এসেছি ৫ বছর হলো, আলহামদুলিল্লাহ কোনো হুজুরের সাথে কথা বলারও দরকার পড়েনি। এই দ্রুতগতির নিঃসঙ্গ যাত্রার সমস্যা হলো, ব্যক্তির মনে নানা প্রান্তিকতা বাসা বাঁধে এ সময়। দেখা যায় অনেক অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে প্রচুর তথ্য জানা হয়ে গেছে কিন্তু এখনো দ্বীনের বেসিক জিনিসগুলো জানা হয়নি। এমন অনেকে আছেন দাজ্জাল ইলুমিনাতির সব তথ্য ঠোটস্থ, কিন্তু এখনো প্রয়োজনীয় অনেক মাসআলা জানা হয়নি। পবিত্রতার মাসআলাগুলোও অজানা। এই নিঃসঙ্গ যাত্রার ফলে ব্যক্তি এখানে নিজের সীমাবদ্ধতা ও ত্রুটিগুলো বুঝে উঠার সময় পায় না। আশপাশের সবাইকে নানা প্রশ্নবানে জর্জরিত করার মাঝেই তিনি খুঁজে পান স্বার্থকতা। আমাদের মাঝে নানা ধরণের যে প্রান্তিকতা ও বিদ্বেষ দেখা যায়, তার বড় একটা কারণ দ্বীনে প্রবেশের পর আমরা ধারাবাহিকতা রক্ষা করে ইলম অর্জন করি না, আলেমদের সোহবতে বসি না। দূর থেকে মনে মনে একটা বিষয় ধরে নিয়ে ঢালাওভাবে মন্তব্য করে বসি। দ্বীনে ফেরার পর অনেককেই দেখা যায় একদিকে তিনি ইলম অর্জনের দাবী করছেন অপরদিকে তিনি ক্রমাগত আলেমবিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন। একটু তলিয়ে দেখলে স্পষ্ট হয়, তার কাছে এখনো ইলমের পরিচয়ই স্পষ্ট হয়নি। উস্তাদ নির্বাচনের গুরুত্ব, উস্তাদের আদব এসব সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই নেই। কেউ কেউ আবার এমন কাউকে শিক্ষক হিসেবে গ্রহণ করেছে যারা সমাজে ক্রমাগত উত্তেজনা ছড়ানোর মাধ্যমে তাদের দল টিকিয়ে রাখার চেষ্টায় ব্যস্ত। এ ধরণের উস্তাদ বা শায়খরা উত্তেজনা ছড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে এই ব্যক্তিদের ব্যবহার করে। তারা বলেন, প্রতিটি মুসলমান একজন দাঈ। তুমিও দাঈ। এখন তোমার কাজ অনলাইনে লেখালেখি করা, লাইভে বক্তব্য রাখা। হানাফি, আশআরি, মাতুরিদিদের ভুলগুলো মানুষকে ধরিয়ে দেয়া। ওদের ইমামদের অজ্ঞতা সবার সামনে স্পষ্ট করা। কাজ শুরু কর। একদিকে শায়খদের লোভনীয় প্রস্তাব , অপরদিকে ট্রাডিশনাল আলেমদের কাছে গেলে শুনতে হয়, কোরআনুল কারিম শুদ্ধ কর, প্রয়োজনীয় মাসায়েল শিখে নাও। এরপর আলেম হতে ইচ্ছা করলে ধীরে ধীরে নাহু সরফ, বালাগাত পড়ে ধাপগুলো অতিক্রম করে এগিয়ে যাও। ট্রাডিশনাল আলেমদের কাছে যখন কেউ আসেন তখন কখনোই তাকে হানাফি মাজহাব বা দেওবন্দিয়ত রক্ষার ঠিকাদারি দিয়ে অন্যের সাথে তর্ক-বিতর্ক করতে বলা হয় না। বরং বলা হয় প্রয়োজনীয় ইলম অর্জন করে নিজের আত্মশুদ্ধির দিকে মনোযোগ দিতে। বলাবাহুল্য এটি বেশ কষ্টকর প্রক্রিয়া এবং সময়সাপেক্ষও। এই পরামর্শ মেনে নেয়ার চেয়ে দলান্ধ ব্যক্তিদের পরামর্শ মেনে নেয়া বেশি সহজ। তাতে নফসও বেশি তৃপ্ত হয়। ফলে দেখা যায় নিত্যপ্রয়োজনীয় মাসআলা শিখে উঠার আগেই আকিদার সুক্ষ্ম বিষয়ে তর্কে মেতে উঠছে অনেকে, নুন্যতম আরবী জ্ঞান ছাড়াই জরাহ-তাদিলের মত কঠিন ও স্পর্শকাতর শাস্ত্রে নাক গলাচ্ছে কেউ কেউ। এতে একদিকে কাজ করে নিজের জ্ঞান ও যোগ্যতা সম্পর্কে কাল্পনিক আত্মবিশ্বাস, অন্যদিকে কাজ করে অল্পসময়ে শায়খ কিংবা রাহবার হয়ে উঠার স্বপ্ন। 🖋️ মাওলানা ইমরান রাইহান
জি-হাদ কোনো জঙ্গীপনা নয়, জঙ্গীপনা কোনো জি-হাদ নয়। দুটি বিষয়ই সম্পূর্ণ আলাদা জিনিস। এই কথাটা কি আমাদের ওই ‘খাস দাঈরা’ বুঝেন, যারা দ্রুত উম্মাহর বিজয় দেখতে অতি অস্থির ও উদগ্রীব? তারা বুঝেন বলে এ যাবত মনে হয়নি। নচেৎ তারা যখন তখন যে-কোনো টাউট বাটপার সন্ত্রাসী শত্রুর চরদের পক্ষে দাঁড়িয়ে যান কেন, যারা জি-হা-দের নামে জঙ্গীপনা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে তরুণদের শত্রুর হাতে তুলে দেওয়ার সওদা করে? শুধু মুখে তাকবীর, মাথায় কালো পাগড়ি, হাতে কালিমার সাদাকালো পতাকা হলেই তার পেছনে ছুটে চলেন এসব ভাইয়েরা। অথচ এ সব জিনিস বাজারে কিনলেও পাওয়া যায়। জি-হাদ এসব জিনিসে নয়, জি-হাদ শুদ্ধ নিয়াত, বিশুদ্ধ চিন্তা ও সঠিক কর্মপদ্ধতির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। ৭১ এর যুদ্ধে বহু হিন্দু মুখে কালিমা ও তাকবীর বলেছিল, কিন্তু তারা কেউ মুসলিম নয়। বোরকা পরে পতিতাবৃত্তি করা পতিতার সংখ্যা কম নয়, অথচ কোনো মুসলিম নারী তা করতে পারে না। মাথায় টুপি-পাগড়ি পরে, মুখে দাড়ি রেখে ঘুষ, সুদ, ভূমিদখল ইত্যাদি নানার কুকাজের সাথে জড়িত, অথচ এগুলোর কোনোটিই ইসলামের সাথে যায় না। তাবলীগের নামে ধান্দাবাজী আছে, পীরমুরিদির নামে ভণ্ডামি আছে, ইসলামি শিক্ষার নামে ব্যবসা আছে, ইসলামী রাজনীতির নামে ধোঁকাবাজি আছে, মাজারের নামে ধর্মব্যবসা আছে, এসব আমরা বিশ্বাস করি। আমাদের জি-হাদি ভাইয়েরা একটু বেশি বিশ্বাস করেন এবং জোরসে প্রচার করেন। কিন্তু তারা জি-হাদের নামে জঘন্য প্রতারণা আছে, একথা তারা সহজে কবুল করতে চান না। এ অঙ্গনে যে মুসলিম তরুণদের জীবন ও জযবা নিয়ে সবচে বেশি বানিজ্য হয়, তা তারা মানতেই নারাজ। যত নকল বাজারের পণ্যে, যত তাহরীফ অন্যান্য ময়দানে, জি-হাদের ময়দান সকল বিকৃতি হতে পূতপবিত্র, এটাই ওইসব ভাইদের বিশ্বাস। অথচ জি-হাদের নামে যে একদল লোক সবচে বেশি আমলী তাহরীফ বা বিকৃতিতে লিপ্ত, তারা ক্ষুণ্নাক্ষরেও বিশ্বাস করেন না। এখানে খারেজিপনা আছে, আছে শত্রু নিয়োজিত এজেন্ট, যারা ইসলাম, মুসলমান, আলেম উলামাকে ধ্বংস করার জন্যে সবচে জঘন্য চালটি চালে, একথা এদের বেশির ভাগই বুঝতে চান না। যে কারণে তাকবীর বা জি-হাদী নাশিদ শুনলে, কালোপতাকা দেখলেই আর ই’দাদের কথা বললেই তারা হ্যামিলনের বাঁশিওলার পেছনে অবুঝ বালকদের মত ছুটতে থাকে। বড়দের কোনো বারণে তারা কর্ণপাত করে না। ফলে তারা হারিয়ে যায় কোনো এক দুর্গম উপত্যকায়। ইদানিং কিছু ভাইদের মধ্যে সম্বিত ফিরেছে বলে মনে হয়, যা আগে দেখা যায়নি। ট্রেনিংয়ের নামে সবটাই যে জি-হাদ নয়, বরং খারেজিপনা ও শত্রুর ফাঁদ আছে, তাদের কারও কারও লেখায় বুঝার আলামত লক্ষ করা যাচ্ছে। এটা ভালো লক্ষণ। তবে এতটুকুতেই যথেষ্ট নয়। বরং ওইসব দুর্বৃত্তদের থেকে নিজেদের বারআত ঘোষণা করতে হবে, যারা এই প্রতিকূল জনপদে অতিজযবার কথা ও উস্কানীমূলক বক্তব্য প্রচার করে এবং ট্রেইনিং ইত্যাদির দাওয়াত দিয়ে এ মুসলিম জনগোষ্ঠীকে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। আপনি বিশুদ্ধতা গ্রহণ করুন, ইসলামের মূলে ফেরার দাওয়াত দিন, খুব ভালো কথা। কিন্তু অন্য মুসলমাদের প্রতিপক্ষ বানিয়ে নয়। উলামায়ে কেরামকে অসম্মান করে নয়। জমহূর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নয়। বড়দের বারণকে উপেক্ষা করে নয়। বরং অন্যান্য ইসলামী দাওয়াতী অঙ্গনের সাথে সমন্বয় করে চলুন। অন্য দীনী কাজগুলো ও তার ব্যক্তিত্বদের প্রাপ্য সম্মান ও স্বীকৃতি দিন। এদেশে দীন ও ঈমান আপনার-আমার একার মেহনতের ফসল নয়। আমরা এখনো সামান্য কীর্তিও স্থাপন করতে পারিনি। বরং পূর্বতনদের ত্যাগ ও কুরবানীর বদৌলতে আমরা দীন পেয়েছি। আর আমাদের সবার বিক্ষিপ্ত ও সম্মিলিত মেহনতেই এ জনপদে এখনো ইসলাম টিকে আছে। কাজেই কারও অবদানকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। আমাদের কোনো হটকারিতা যেন বড়দের রেখে যাওয়া আমানতকে নষ্ট করতে না পারে, সে দিকে নজর রাখতে হবে সবার। তারপর অন্যকিছু। মনে রাখবেন, দীনের অন্যান্য অঙ্গনে কর্মরতদের মধ্যে- যাদের আপনি নিজেদের মনে করেন না- বহু বীর-মুজাহিদ লুকিয়ে আছে। ঘুমিয়ে আছে হামজা খালিদ সকল মুমিনের অন্তরে। যারা যথাসময়ে নিজেদের সর্বোচ্চ কুরবানী পেশ করবেন ইনশাআল্লাহ। আবার এটাও মনে রাখবেন, জিহাদি পতাকার আড়ালে লুকিয়ে আছে বহু রাহযন, যারা আপনার সর্বোচ্চটা কেড়ে নিয়ে আপনাকে নিঃস্ব করে দিতে চায়। সুতরাং পথচলুন সাবধানে, পা রাখুন মাঝখানে। ওয়াসসালাম! ০৭।০৭।২৬ 🖋️সাইফুদ্দীন গাযী হাফিঃ
(৪) পুরুষ জ্বীন দ্বারা আক্রান্ত মেয়েরা সাধারণত পুরুষদের পছন্দ করে না। একাকী থাকতে পছন্দ করে। বিবাহিত মেয়েরা স্বামী থেকে দুরে থাকতে পছন্দ করে।অনেক সময় স্বামীর সাথে মিলনের আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।অবিবাহিত মেয়ের সাথে জ্বীন শারীরিক সম্পর্ক করলে সেই মেয়ে বিয়ে বসতে চায় না। এছাড়াও আরো অনেক আলামত রয়েছে ভুক্তভোগীগনই তা অনুভব করে। উত্তর প্রদান করেছেন ড. মাওলানা Shahidul Islam Faruqi হাফি:
#ফিকহুল_জিন : ০১ প্রশ্নঃ জ্বিনের সাথে মানুষের শারীরিক মিলন কি সম্ভব? কিভাবে সম্ভব? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব। প্রশ্ন : কোনো ঘুমন্ত মহিলার সাথে কি জিন সহবাস করতে পারে? উত্তর : ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, জিন জাতি মানুষের মতোই পুরুষ ও স্ত্রী জাতিতে বিভক্ত। জিনরা মানুষের সাথে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে, এমনকি শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টিও কিছু বর্ণনায় উঠে এসেছে। তবে, এই বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কিছু কিছু ইসলামিক স্কলার মনে করেন যে, জিনের সাথে মানুষের শারীরিক সম্পর্ক সম্ভব নয়। এর কারণ হিসেবে তারা বলেন যে, জিন এবং মানুষ দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন সৃষ্টি, এবং তাদের শারীরিক গঠন ও প্রকৃতি একে অপরের সাথে সঙ্গম করার জন্য উপযুক্ত নয়। অন্যদিকে, কিছু বর্ণনায় এমন ঘটনার কথা বলা হয়েছে, যেখানে জিনরা মানুষের সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তারা বলেন, জাগ্রত ও ঘুমন্ত উভয় অবস্থায় মহিলার সাথে জিন সহবাস করতে পারে। আর মানুষের সাথে জিনের মিলন সম্ভব বলেই রাসূল (সা.) মিলনের পূর্বে দুআ শিখিয়ে দিয়েছেন— 'আল্লাহুম্মা জান্নিবনিশ শায়তানা ওয়া জান্নিবিশ শায়তানা মা রাযাক্বতানা' (বুখারী হা/৫১৬৫; ফাতহুল বারী। জ্বিনের সাথে মানুষের শারীরিক মিলন সম্ভব। আল্লাহ তায়ালা বলেন, فِيهِنَّ قَاصِرَاتُ الطَّرْفِ لَمْ يَطْمِثْهُنَّ إِنسٌ قَبْلَهُمْ وَلَا جَانٌّ 'তথায় (জান্নাতে) থাকবে আয়ত নয়না রমনীগণ, কোনো জিন ও মানব পূর্বে যাদের ব্যবহার করেনি।' (সুরা আর-রহমান -৫৬) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম বাগাবী তাফসীরে বাগাবীতে লিখেছেন, في الآية دليل على أن الجني يغشى كما يغشى الإنسي. "এই আয়াতে দলীল রয়েছে যে, মানুষের মতো জিনের সাথেও মানুষের শারীরিক মিলন সম্ভব।" (তাফসীরে বাগাবি : ৪/২৭৫) ইমাম খাযেন তাফসীরে খাযেনে লিখেছেন, في الآية دليل على أن الجني يغشى كما يغشى الإنسي. "এই আয়াতে দলীল রয়েছে যে, মানুষের মতো জিনের সাথেও যৌন সঙ্গম সম্ভব।" (৬/৩১) ইমাম ইবনুল জাওযী রহ. লিখেছেন, فيه دليل على أن الجني يغشى المرأة كالإنس "এই আয়াতে দলীল রয়েছে যে, জিনের সাথে মানুষের শারীরিক মিলন সম্ভব।" (যাদুল মাসীর, ৪/২১৪) আর মানুষের সাথে জিনের মিলন সম্ভব বলেই রাসূল (সা.) মিলনের পূর্বে দুআ শিখিয়ে দিয়েছেন— 'আল্লাহুম্মা জান্নিবনিশ শায়তানা ওয়া জান্নিবিশ শায়তানা মা রাযাক্বতানা' (বুখারী হা/৫১৬৫; ফাতহুল বারী। ইমাম ইবনে তাইমিয়ার রহ. বলেন, وصرعهم للإنس قد يكون عن شهوة وهوى وعشق كما يتفق للإنس مع الإنس وقد يتناكح الإنس والجن ويولد بينهما ولد "মানুষের মতো জিনের সাথেও শারীরিক সম্পর্ক হতে পারে আবেগ বা প্রেম-ভালোবাসার কারনে। এমনিভাবে জিন ও মানুষের মাঝে বিবাহ ও সন্তানও হতে পারে।" (মাজমাউল ফাতাওয়া, ১৯/৩৯) ইমাম সুয়ূতী রহ. বলেন, মানুষের সাথে জ্বিনের শারীরিক সম্পর্ক করা সম্ভব। (আল আলাম, পৃ. ৩০১) শায়খ উসাইমীন রহ. বলেন, يقول العلماء: إن هذا ممكن، وإنه يمكن للجني أن يجامع امرأة، وإنها تحس بذلك، وكذلك الإنسي يجامع الجنية، الشيخ ابن عثيمين من لقاءات الباب المفتوح، لقاء رقم(٥) আলেমগণ বলেছেন, কোনো পুরুষ জিন কোনো মহিলা মানুষের সাথে যৌন মিলনে সক্ষম, এমনিভাবে কোনো পুরুষ মানুষ কোনো মহিলা জিনের সাথে যৌন মিলনে সক্ষম। তারা সেটা অনুভবও করতে পারে। বাস্তবতার নিরিখে দেখা যায় জ্বিন যখন কারো সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে তখন তা ঘুমন্ত ও জাগ্রত উভয় অবস্থাতেই হতে পারে (১) ঘুমন্ত অবস্থায়: কোনো জ্বীন যদি কোনো মানুষকে পছন্দ করে তখন ওই জ্বীন সব সময় তার আশেপাশে থাকে।সে যখন ঘুমায় তখন আসে। ঘুমের মধ্যেই শারীরিক সম্পর্ক করে। রোগী তখন বাস্তবতা অনুভব করতে পারে কিন্তু কাউকে দেখে না এবং বলার মতো অনুভূতি শক্তি থাকে না। অর্থাৎ স্বপ্নদোষের মাধ্যমে হয়। তখন অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ হয়। এটা অনেক সময় বদনজরে আক্রান্ত বা যাদুগ্রস্ত হলে অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ হয়। নারী পুরুষ উভয়ের হয়। (২) জাগ্রত অবস্থায়: রোগীর শরীর সাময়িকের জন্য অবশ হয়ে যায় বিশেষ করে তার হাত-পা। আর জ্বীন যখন তার সংগে মিলন করে যা রোগী বুঝতে পারে কিন্তু কাউকে ডাক দেওয়া বা কিছু করার উপায় থাকেনা। জাগ্রত অবস্থায় মিলনের সময় জ্বীনকে রোগী দেখতেও পারে, নাও দেখতে পারে। তবে অনুভব হয়।মিলনের সময় যৌনাঙ্গে গরম বাতাসের মত অনুভূত হয়। আরো বিশেষ কিছু লক্ষ্মণ যা রোগীর মাঝে পরিলক্ষিত হয় (১) জ্বীনরা দীর্ঘক্ষণ সঙ্গম করে। তাই এই সঙ্গমের পরে রোগী দুর্বল হয়ে যায়, খুব শুকিয়ে যায়, শরীরে ব্যথা অনুভব করে অনেক। এসব লক্ষণ নারী পুরুষ সকলের অনুভব হয়। (২) রোগী গায়ে বিভিন্ন জায়গায় লাল দাগ দেখা যায়। খামচি বা কামড়ের দাগ। বিশেষ করে গলার নিচের দিকে। শারীরিক সম্পর্ক না হলেও এ রকম দাগ দেখা যায়। (৩) রোগীর স্মৃতি শক্তি কমে যায়, খাওয়ায় অনীহা সৃষ্টি হয়, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায় এবং পড়াশোনা ও সংসারের প্রতি অমনোযোগী হয়ে যায়।
কীসের জন্য কোন সূরা ১. সূরা হজ্ব পড়লে বিয়ে সহজ হয়। ২. সূরা আম্বিয়া পড়লে যাদের বাচ্চা কাচ্চা হচ্ছে না তাদের বাচ্চা হবে। ৩. সূরা মারইয়াম পড়লে গর্ভধারণ সহজ হবে। ৪. সূরা ইনশিক্বাক পড়লে ডেলিভারি সহজ হয়। ৫. নিউবর্ন বাচ্চাকে ঘুম পাড়াতে সূরা গাশিয়াহ পড়ে শুনাবেন। © আম্মারুল হক হাফিযাহুল্লাহ
নরমাল বনাম সিজার—আমাদের কি করণীয় বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম। • কোন গর্ভবতী নারীর নরমালে বাচ্চা হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও মিথ্যা ভয় দেখিয়ে অনর্থক সিজার করতে বাধ্য করা প্রতারনা ও জুলুম। সুস্পষ্ট না জায়েজ। এবং প্রতারণা ও জুলুমের মাধ্যমে উপার্জিত টাকাও অবৈধ। • সত্যিকারের ন্যায়পরায়ণ, দ্বীনদার, অভিজ্ঞ, মুসলিম ডাক্তার যদি কোন পেশেন্টের ক্ষেত্রে বলেন যে, 'সিজার' না করলে বাচ্চা অথবা মায়ের জীবন বিপন্ন হতে পারে কিংবা অঙ্গহানীর প্রবল আশঙ্কা আছে তখন সিজার করা ওয়াজিব। এ ধরণের পরিস্থিতিতে স্বামী/শশুর/শাশুড়ী কিংবা অন্য কেউ 'নরমাল' ডেলিভারীর জন্য গর্ভবতী মেয়েকে বাধ্য করা না জায়েজ। • যদি ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতেও ন্যায়পরায়ণ অভিজ্ঞ ডাক্তারের সিদ্ধান্তের বিপরীতে গিয়ে পরিবারের লোকজন নরমালে বাধ্য করে, সুযোগ ও সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও উপযুক্ত ব্যাবস্থা গ্রহণ না করে এবং এ কারনে মা কিংবা সন্তান মারা যায় অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে ইসলামী আইনে (ইসলামী শাসনাধীন অঞ্চলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) তারা কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হবে। ক্ষেত্রবিশেষে সংশ্লিষ্টদেরকে রক্তপণ (দিয়ত) দেয়া লাগতে পারে। • নরমাল ডেলিভারী করতে গিয়ে ইন্তিকাল করলে, এবং কষ্ট সহ্য করলে যে সওয়াব হয় সিজার করতে গিয়ে মারা গেলে কিংবা অপারেশনের পরে নারীদের যে কষ্টের সম্মুখীন হতে হয় তাতেও ইনশাআল্লাহ একই রকম সওয়াব হবে। কারন এই ফযীলত নির্দিষ্টভাবে নরমাল ডেলিভারীর সাথে সম্পৃক্ত না বরং সন্তান জন্মদানের সাথে সম্পৃক্ত। • নরমাল ডেলিভারী অবশ্যই প্রাকৃতিক কারনে উত্তম। নিজের সাধ্য ও সহ্যক্ষমতা অনুসারে প্রতিটি মায়েরই আল্লাহ প্রদত্ত এই পদ্ধতিতে ডেলিভারীর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা উচিত। তবে অবশ্যই সেটা দক্ষ ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে হতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতেও পরিবারের সদস্যদের খেয়াল খুশি ও স্বেচ্ছাচারিতার ফলে জোরপূর্বক নরমাল ডেলিভারী করতে গিয়ে স্ত্রী বা বাচ্চার জীবনকে হুমকির মুখে ফেলার নাম তক্বওয়া না বরং জাহালত। নিরেট মূর্খতা। • মাওলানা গুনবী সাহেবের এ সংক্রান্ত বক্তব্যে আবেগ নির্ভর অতিরঞ্জন ও সুস্পষ্ট ভুল দৃশ্যমান। পাবলিক প্লেসে মাসআলা বলার ক্ষেত্রে তার আরও সতর্ক হওয়া উচিত। • মনে রাখবেন, আপনাদের পছন্দ অপছন্দের নাম ইসলাম না। ইসলামী আইনের নিজস্ব মূলনীতি আছে। তাই যারা শরীয়ত ও চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রাখেননা তারা এই বিষয়ে অন্যদের উপরে কোন ধরনের মতামত চাপিয়ে দেয়া বৈধ না। শুধুমাত্র আবেগের বশে যারা এই টপিকে অনর্থক ঝগড়া বিবাদ ও গালাগালি করছেন তাদের উচিত আল্লাহকে ভয় করা এবং নিজেদেরকে নিয়ন্ত্রন করা। মাসআলা মাসাইল ও চিকিৎসা বিষয়ে শুধুমাত্র সার্টিফাইড মুফতী ও ডাক্তাররা কথা বলা উচিত। বাকিদের জন্য চুপ থাকা আবশ্যক। মুফতী Affan Bin Sharfuddin হাফি. বিভাগীয় প্রধান, উচ্চতর ইসলামী আইন অনুষদ, জামিয়া উসমান রা. ইমাম ও খতীব, বাইতুল মাহফুয জামে মসজিদ, নিকুঞ্জ- ২, খিলক্ষেত, ঢাকা
রুচির বিশুদ্ধতা এবং স্বভাব-প্রকৃতির সুস্থতা নিয়ে স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোকে যদি রোগের জীবাণু সংক্রমণের বিষয়টি সুনিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়, তাহলে আর চুমু দেয়াকেও বৈধ বলার অবকাশ নেই। আমি সংক্ষিপ্তসারে যতোটুকু অধ্যয়ন করেছি, তাতে আমার সামনে প্রতিভাত হয়েছে, মেডিকেল সায়েন্সের অনেক বিশেষজ্ঞের কাছেই ওরাল সেক্সের মাধ্যমে রোগের জীবাণু সংক্রমিত হওয়ার বিষয়টি সংশয় ছাড়াই প্রমাণিত।
ড. ইউসুফ কারজাবির পুরো বক্তব্য এই— وقد أجاز الفقهاء تقبيل الزوجة فرج زوجها ولو قبَّل الزوج فرج زوجته هذا لا حرج فيه، أما إذا كان القصد منه الإنزال فهذا الذي يمكن أن يكون فيه شيء من الكراهة،ولا أستطيع أن أقول الحرمة لأنه لا يوجد دليل على التحريم القاطع، فهذا ليس موضع قذر مثل الدبر، ولم يجئ فيه نص معين إنما هذا شيء يستقذره الإنسان، إذا كان الإنسان يستمتع عن طريق الفم فهو تصرف غير سوي، إنما لا نستطيع أن نحرمه خصوصاً إذا كان برضا المرأةوتلذذ المرأة (وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ * الا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ * فَمَنِ ابْتَغَى وَرَاء ذَلِكَ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الْعَادُونَ) المؤمنون : 5- 7. فهذا هو الأصل ড. আলী জুমআর বক্তব্য— ويجوز للرجل والمرأة الاستمتاع بكل أنواع التلذذ فيما عدا الإيلاج في الدبر؛ فإنه محرم أما ما ورد في السؤال من المص واللعق والتقبيل وما لم يرد من اللمس والجنس الشفوي عبر الكلام فكله مباح ইমাম মালিক রহ. সূত্রে এক বর্ণনায় পাওয়া যায়, তিনি বলেন, সহবাসের সময় স্বামী স্ত্রীর লজ্জাস্থান চুষতে পারে। প্রসিদ্ধ মালেকি ফকিহ হাত্তাব রহ. বলেন, স্পর্শের বৈধতার প্রতি অধিক গুরুত্বারোপ করতে গিয়ে এমন বলা হয়েছে। এটা তার বাহ্যিক অর্থে নয়। (অর্থাৎ হাত্তাব রহ. লজ্জাস্থান Suck করাকে বৈধ মনে করেন না।) { মাওয়াহিবুল জালিল— ৩/৪০৬; আলখিরাশি আলা মুখতাসারিল খালিল— ৩/১৬০} শাফেয়ি ফকিহ ফানানি রহ. বলেন, নিতম্বের বৃত্ত বাদ দিয়ে স্বামীর জন্য স্ত্রীকে সব উপায়ে ভোগ করা জায়িয, যদিও তার লজ্জাস্থান চুষেও হয়। {ইআনাতুত তালিবিন— ৩/৩৪০} শাফেয়ি মাযহাবের অন্যান্য হাম্বলি মাযহাবের উল্লেখযোগ্য ফকিহগণ এ বক্তব্যকে বাহ্যিক অর্থে নিয়েছেন বলেও প্রমাণ পাওয়া যায় না। আমাদের আকাবিরগণ এই মাসআলার ব্যাপারে অনেক কঠোরতা করেছেন। আহসানুল ফাতাওয়া, ফাতাওয়া মাহমুদিয়া, ফাতাওয়া রাহিমিয়া প্রভৃতিতে ওরাল সেক্সকে নাজায়িয বলা হয়েছে, এমনকি এটাকে পশুত্বের নিদর্শন বলেও অভিহিত করা হয়েছে। (উল্লেখ্য, অধুনা জীববিজ্ঞানের সূত্রে অনেক পশুর মধ্যে ওরাল সেক্সের অস্তিত্বের প্রমাণ মেলে। Stacey Grenrock রচিত Do Animals Have Oral Sex বইয়ে এ বিষয়ে সবিস্তারে আলোচনা পাওয়া যাবে।) ফাতাওয়া হিন্দিয়াতে হানাফি ফকিহগনের দু’ধরনের অভিমতই ব্যক্ত করা হয়েছে। কেউ বলেছেন, মাকরুহ আর কেউ বলেছেন, মাকরুহ নয়। এছাড়া হানাফি ফিকহের অন্যান্য কিতাবাদিতে এ নিয়ে তেমন একটা আলোচনা চোখে পড়ে না। ওরাল সেক্সের কদর্যতার আরো কিছু প্রমাণ— ১. লজ্জাস্থান Suck করা হলে স্বাভাবিক হলো, লজ্জাস্থান থেকে নির্গত নাপাক (বীর্য, মযি ইত্যাদি) জিহ্বা, মুখ ইত্যাদিতে লাগবে। আর জরুরত ছাড়া নাপাক স্পর্শ করাকে ফকিহগণ বৈধ মনে করেন না। আর নাপাক চুষে ফেলা বা পান করাকে তো বৈধ বলার প্রশ্নই আসে না। ২. মানুষের শরীরের সবচে সম্মানিত অঙ্গ হলো চেহারা। আর লজ্জাস্থান হলো নাপাকির জায়গা। সুতরাং সম্মানিত জায়গাকে নাপাকির জায়গায় স্পর্শ করানো অবশ্যই নিন্দনীয়। ৩. মুখ দ্বারা আল্লাহর কালাম তিলাওয়াত করা হয়, যিকির করা হয়। এই মুখে নাপাক লাগানো এবং নাপাকির স্থান Suck করা বড় গর্হিত কাজ। ৪. মুখের অনেক জীবাণু লজ্জাস্থানে রোগ সংক্রামণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাছাড়া লজ্জাস্থানের জীবাণু মুখে এবং মুখের ভায়া হয়ে ভেতরে রোগ সংক্রামণ করার আশংকা থাকে। দুর্ঘটনাবশত ধারালো দাঁতও বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সারকথা মূলনীতির আলোকে দেখা হলে ওরাল সেক্স নাজায়িয প্রমাণিত হয়। ফকিহগণের যারা জায়িয বলেছেন, তাদের বক্তব্য থেকেও সর্বোচ্চ যা অনুমিত হয়, তা হলো, লজ্জাস্থানে চুমু দেয়ার বৈধতা। এই বৈধতার বিষয়টিকেই কেউ অধিক গুরুত্বের সঙ্গে বর্ণনা করতে গিয়ে চোষা শব্দ ব্যবহার করেছেন। কিন্তু তাদের বক্তব্য থেকেও সাধারণত অন্যরা সেই বাহ্যিক অর্থ না নিয়ে শুধু স্পর্শ করা ও চুমু দেয়ার কথাই বুঝেছেন। যদি চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোকে রোগের জীবাণু সংক্রমণের বিষয়টি প্রমাণিত না হয়, তাহলে যে-সকল ফকিহের থেকে বৈধতার অভিমত বর্ণিত হয়েছে, তাদের বক্তব্যের আলোকে সর্বোচ্চ সহবাসের পূর্বে নাপাক না লাগার শর্তে লজ্জাস্থানে চুমু দেয়াকে জায়িয বলা যেতে পারে। আর জরুরত ছাড়া নাপাক লাগানোকে ফকিহগণ বৈধ মনে করেন না। তাই তাদের বক্তব্য থেকে ওরাল সেক্সকে জায়িয বলার চেষ্টা করা নির্বুদ্ধিতা বৈ কিছু নয়। কেউ যদি এই গণ্ডির মধ্যে থাকতে পারে, তাহলে তার জন্য সহবাসের পূর্বে নাপাক না লাগার শর্তে লজ্জাস্থানে চুমু দেয়ার অবকাশ গণ্য করা যায়, যদিও উত্তম হবে তা-ও পরিহার করা। তবে এটাকে অভ্যেসে পরিণত করলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলাটাই স্বাভাবিক। এসব কারণেই আমাদের আকাবিরগণ কঠোরভাবে এ থেকে বারণ করেছেন। মানুষের সুস্থ স্বাভাবিক স্বভাব-প্রকৃতিও বিষয়টিকে ভালোভাবে নেয়ার কথা নয়। হাঁ, যাদের স্বভাব বিকৃত হয়ে যায়, তারা তো কতো জঘন্য কাজই করে। পজিশন 69 এ মেতে ওঠাকে যে-সকল দম্পতিরা যৌন-সম্ভোগের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করে, তাদের
প্রশ্ন: ওরাল সেক্স জায়েজ কিনা? উত্তর: এখানে ওরাল সেক্স বলতে বোঝানো হচ্ছে— মুখ গহ্বর কিবা জিহ্বা দ্বারা একে অপরের যৌনাঙ্গ চোষা (Suck করা) বা লেহন করা। উল্লেখ্য, যৌনাঙ্গে সাধারণভাবে মুখ ছোঁয়ানো অর্থাৎ চুমু দেয়া আর জিহ্বা দ্বারা স্ত্রীর যৌনাঙ্গের ভেতরাংশ কিবা স্ত্রী কর্তৃক স্বামীর যৌনাঙ্গ মুখের ভেতরে নিয়ে Suck করা এক বিষয় নয়। অনেককে দেখা যায়, খুব স্বাভাবিকভাবেই ফকিহগণের এক জায়গার বক্তব্য অপর জায়গায় প্রয়োগ করে বিধান বর্ণনা করে দেন। অথচ উপরিউক্ত দ্বিতীয় বিষয়টা আরেকটু গভীর এবং জটিল। প্রাসঙ্গিক আলোচনা ১. স্বামী স্ত্রী একে অপরের যৌনাঙ্গ দেখা জায়িয হলেও তা অনুত্তম। রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন— إِذَا أَتَى أَحَدُكُمْ أَهْلَهُ فَلْيَسْتَتِرْ وَلاَ يَتَجَرَّدْ تَجَرُّدَ الْعَيْرَيْنِ তোমাদের কেউ যখন স্ত্রীর সঙ্গে মিলন করে, তখন সে যেনো আবৃত থাকে, গাধা যুগলের মতো যেনো একেবারে নগ্ন না হয়ে যায়। {সুনানে ইবনে মাজাহ— ১/৬১৯, ১৯২১} আম্মিজান আয়িশা রা. বলেন— مَا رَأَيْتُهُ مِنْ رَسُول اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلاَ رَآهُ مِنِّي আমি রাসুলুল্লাহর সা. এর থেকে তা কখনো দেখিনি এবং তিনিও আমার থেকে কখনো তা দেখেননি। {সুনানে ইবনে মাজাহ— প্রাগুক্ত; জামউল ওয়াসায়িল ফি শারহিশ শামায়িল। বুসিরি রহ. মিসবাহুয যুজাজাহ (১/৩৩৭) গ্রন্থে উভয় হাদিসকে যয়িফ বলেছেন। তবে একাধিক হাদিস থেকে এ বিষয়ে প্রমাণ মেলে।} ২. এ ব্যাপারে ফকিহগণের ঐকমত্য রয়েছে যে, যৌনাঙ্গ স্পর্শ করা কোনো প্রকার কারাহাত ছাড়াই জায়িয। ফাতাওয়া শামিতে বলা হয়েছে— سَأَل أَبُو يُوسُفَ أَبَا حَنِيفَةَ عَنِ الرَّجُل يَمَسُّ فَرْجَ امْرَأَتِهِ وَهِيَ تَمَسُّ فَرْجَهُ لِيَتَحَرَّكَ عَلَيْهَا هَل تَرَى بِذَلِكَ بَأْسًا؟ قَال: لاَ، وَأَرْجُو أَنْ يَعْظُمَ الأْجْرُ . ইমাম আবু ইউসুফ আবু হানিফা রহ. কে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, যে তার স্ত্রীর যৌনাঙ্গ স্পর্শ করে এবং স্ত্রী তার যৌনাঙ্গ স্পর্শ করে, যেনো স্ত্রীর ওপর স্বামীর প্রবল আকর্ষণ জাগে— আপনি কি তাতে কোনো সমস্যা দেখেন? ইমাম আবু হানিফা রহ. বললেন, না, বরং আমি আশা করি, তাদের প্রতিদান আরো বেড়ে যাবে। {দেখুন— ফাতাওয়া শামি— ৫/২৩৪; মাওয়াহিবুল জালিল— ৩/৪০৬; আলখিরাশি আলা মুখতাসারিল খালিল— ৩/১৬০; ইআনাতুত তালিবিন— ৩/৩৪০; আলমাওসুআতুল ফিকহিয়্যা আলকুয়েতিয়্যা, ফারজুন শব্দের অধীনে} হাম্বলি ফকিহগণ আরো একধাপ অগ্রসর হয়ে লজ্জাস্থানে চুমু দেয়ার বৈধতার কথাও বলেছেন। তবে তা সহবাসের আগে, পরে নয়। {কাশশাফুল কিনা’— ৫/১৬-১৭}। কারণ তো স্পষ্ট। কেননা সহবাসের পরে সে জায়গায় নাপাকি থাকবে। আর নাপাকির ওপর চুমু দেয়ার বৈধতার কথা কেইবা বলবেন! এবার আমরা মূল আলোচনায় আসি। কোনো বিষয় হারাম হওয়ার জন্য সুস্পষ্ট নস (কোরআনের আয়াত বা সুনিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হাদিস) থাকা জরুরি। লজ্জাস্বানে চুমু দেয়া বা Suck করার নিষিদ্ধতার ব্যাপারে কোরআন হাদিসে কোনো কথাই পাওয়া যায় না। সুতরাং বিষয়টিকে অকাট্য হারাম বলার সুযোগ নেই। হাঁ, বাকি থাকলো মাকরুহে তাহরিমি এবং নাজায়িয বলা যাবে কি? (উল্লেখ্য, মাকরুহ দুই প্রকারঃ ১. মাকরুহে তাহরিমি— যা সম্পূর্ণ নাজায়িয। ২. মাকরুহে তানযিহি— যা থেকে বিরত থাকা উত্তম, তবে কেউ তাতে একান্ত লিপ্ত হলে গুনাহগার হবে না।) ফিকহের স্বীকৃত মূলনীতি হলো— الأصل في العادات/الأشياء الإباحة حتى يأتي دليل التحريم যে কোনো বিষয়ে মূল অবস্থা হলো বৈধতা, যতোক্ষণ না নিষিদ্ধতার দলিল পাওয়া যায়। সহবাসের ক্ষেত্রে শরিয়ত পায়ুপথে স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হওয়াকে হারাম করেছে। রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন— إِنَّ اللَّهَ لاَ يَسْتَحْيِي مِنَ الْحَقِّ، فَلاَ تَأْتُوا النِّسَاءَ فِي أَدْبَارِهِنَّ. এ ছাড়া সহবাস সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে শরিয়ত নীরব। তাহলে স্বাভাবিক হলো, যে কোনো পন্থায় স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হওয়াই বৈধ হবে। সুরা বাকারার ২৩৩ নাম্বার আয়াত থেকেও এ কথার প্রমাণ মেলে। এবার আমরা দেখি, ওরাল সেক্সের নিষিদ্ধতার ব্যাপারে কোনো দলিল রয়েছে কিনা। মেডিকেল সায়েন্সের সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেক বিশেষজ্ঞই এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন— ওরাল সেক্স মানব্যস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং মানবদেহে অনেক রোগের জীবাণু উৎপত্তি ও সংক্রামণের কারণ। তারা এর ক্ষতির অনেক দিক উল্লেখ করেছেন। বিস্তারিত জানার জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয় দ্রষ্টব্য। তাদের এই মতামতের ওপর ভিত্তি করে শায়খ ড. মুহাম্মাদ আদদাসুকি ওরাল সেক্সকে নাজায়িয বলেছেন। কেননা শরিয়তের মূলনীতি হলো— لا ضرر ولا ضرار চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই অভিমতটি প্রমাণিত হলে ওরাল সেক্স নিষিদ্ধই সাব্যস্ত হবে। হাঁ, যারা এই অভিমতটি জানেন না বা মানেন না, তারা পূর্বোক্ত মূলনীতির আলোকে ওরাল সেক্সের বৈধতার কথা বলেছেন। ড. ইউসুফ কারজাবি এবং ড. আলী জুমআ লজ্জাস্থানে চুমু দেয়াকে বৈধ মনে করেন। তবে ড. ইউসুফ কারজাবিও মুখে বীর্যস্খলনের উদ্দেশ্যে হলে তা মাকরুহ মনে করেন।
ঈদের দিনের সুন্নত
যে ব্যক্তি ঈদের নামাযে ঈমাম সাহেবের অতিরিক্ত তাকবির বলার পর নামাযে শরিক হয়, অর্থাৎ প্রথম রাকাতের তাকবির মিস হয়, তাহলে তার জন্য হুকুম হলো, তাকবিরে তাহরিমা বলার সাথে সাথেই অতিরিক্ত তাকবিরগুলো বলে ফেলেবে (ইমাম ইতিমধ্যে তেলাওয়াত শুরু করলেও এই বিধান)। কেউ যদি ঈদের নামাযের প্রথম রাকাত মিস করে তাহলে সে ইমামের সালামের পর উঠে দাঁড়াবে, সানা, আওজুবিল্লাহ, বিসমিল্লাহ, সুরা ফাতিহা ও অন্য সুরা পড়ার পর অতিরিক্ত তিন তাকবির দিবে, এরপর রুকু করে বাকি নামায পূর্ণ করবে। অতিরিক্ত তাকবির কিরাত পড়ার আগে আদায় করারও সুযোগ আছে।
পুরুষদের মেহেদি লাগানো পুরুষের হাত পায়ে মেহেদি লাগানো নাজায়েয। এমনিভাবে নাবালেগ ছেলের হাত পায়ে মেহেদি লাগানোও নিষেধ। [খোলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩৭৩, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৮/১০৯]
ঈদের তাকবীরে হাত কানের লতি বরাবর তুলবো। জানাযার তাকবীরে হাত বেঁধে রাখবো; তুলবো না। ঈদের তাকবীর আনন্দের, জানাযার তাকবীর শোকের। আনন্দে হাত আন্দোলিত হবে; শোকে স্থীর থাকবে। এটা কোন শরয়ী উসূল (মূলনীতি) না; মনে রাখার জন্য সহজ।
কারো যদি দীর্ঘদিন ধরে কোন রোগ এমন থাকে যা ভালো হচ্ছে না, তাহলে সূরা মুমিনুন এর শেষ ৪ আয়াত ( ১৮ পারা, ১১৫-১১৮) দিয়ে সকাল-সন্ধ্যা রুকইয়্যাহ করলে ইন শা আল্লাহ আরোগ্য লাভ হবে। ~ শাইখ আব্দুল আজিজ খতিবি হাফিযাহুল্লাহ।
• তারাবীতে যেকোনো একটি সূরার শুরুতে উচ্চস্বরে বিসমিল্লাহ পড়তে হবে, সকল সূরার শুরুতে বিসমিল্লাহ উচ্চস্বরে পড়া অনুত্তম • কুরআন খতম করার জন্য সূরা ইখলাস তিনবার পড়ার প্রচলনটি ঠিক নয় • তারাবীর নামাযে খতম শেষ করার পর আবার শুরু থেকে পড়ার কী হুকুম? . ২৪১৯ . নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক . হাটহাজারী, চট্টগ্রাম প্রশ্ন: আমাদের দেশে যে সকল মসজিদে তারাবীতে খতমে কুরআন হয় সেখানে দেখা যায়- ক) যে কোনো একটি সূরার শুরুতে বড় আওয়াজে বিসমিল্লাহ পড়া হয়। বলা হয়ে থাকে, এ রকম পড়া সুন্নত। খ) সূরা ইখলাস তিনবার পড়া হয়। বলা হয়ে থাকে, এ রকম পড়া মুস্তাহাব। অনুগ্রহপূর্বক এই দুই মাসআলার বিষয়ে শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে ফয়সালা জানানোর অনুরোধ রইল। উত্তর: ক) বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম কুরআন মজীদের স্বতন্ত্র একটি আয়াত, যা দুই সূরার মাঝে পার্থক্য করার জন্য আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করেছেন। সুতরাং মুসল্লিদেরকে পরিপূর্ণ খতম শোনাতে চাইলে যে কোনো একটি সূরার শুরুতে উঁচু আওয়াজে বিসমিল্লাহ পড়তে হবে। অন্যথায় এ কারণে মুসল্লিদের খতম অপূর্ণ থেকে যাবে। আর ইমামের জন্য সব নামাযেই সূরা ফাতিহা এবং সকল সূরার শুরুতে অনুচ্চস্বরে বিসমিল্লাহ বলা মুস্তাহাব।-আসসিআয়াহ ২/১৭০; ইহকামুল কানত্বরা ফী আহকামিল বাসমালাহ ১/৭১; ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৩২৮; মাজমুআতুল ফাতাওয়া, লাখনভী রাহ. ১/৩১৫ খ) কুরআন মজীদ খতম করার ক্ষেত্রে সূরা ইখলাস তিনবার পড়ার কোনো বিধান শরীয়তে নেই। সাহাবা-তাবেয়ীন থেকেও এমন কোনো আমলের প্রমাণ নেই। ফিকহবিদগণ এই আমলকে অপছন্দ করেছেন। সুতরাং তারাবীতে কুরআন খতমের সময় সূরা ইখলাস তিনবার পড়ার প্রচলনটি ঠিক নয়। তাই এ থেকে বিরত থাকবে এবং অন্য সূরার ন্যায় যথানিয়মে একবারই পড়বে।-ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৩২৬; আহসানুল ফাতাওয়া ৩/৫০৯; ফাতাওয়া উসমানী ১/৫১০ * ১৩৫৫. প্রশ্ন আমাদের ইমাম সাহেব তারাবীর নামাযে সূরার প্রথমে ‘বিসমিল্লাহ’ উচ্চস্বরে পড়েন এবং বলেন, উচ্চস্বরে ‘বিসমিল্লাহ’ না পড়লে মুক্তাদির তারাবীতে খতমে কুরআন হবে না বা খতমে কুরআনের ছওয়াব পাবে না। ইতোপূর্বে কোথাও এরূপ পড়তে দেখিনি। এমনকি মক্কা ও মদীনা শরীফের মসজিদেও তারাবীতে সূরার প্রথমে এরূপ উচ্চস্বরে পড়তে দেখিনি। উল্লেখিত বিষয় সম্পর্কে শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে মুফতী সাহেবদের মতামত জানতে ইচ্ছা রাখি। আশা করি বাংলা ভাষায় উত্তর দিয়ে বাধিত করবেন। উত্তর নামাযে পুরো কুরআন মজীদ খতম করলে যে কোনো একটি সূরার শুরুতে একবার বিসমিল্লাহ উচ্চ স্বরে পড়া নিয়ম। তাই একবারই উচ্চস্বরে বিসমিল্লাহ পড়বে। একটি সূরা ছাড়া বাকি সূরাগুলোতে নিঃশব্দে বিসমিল্লাহ পড়বে। নামাযে সকল সূরার শুরুতে বিসমিল্লাহ উচ্চস্বরে পড়া অনুত্তম। প্রশ্নে উল্লেখ নেই যে, ঐ ইমাম সাহেব প্রত্যেক সূরার শুরুতেই জোরে বিসমিল্লাহ পড়ে থাকেন, না পুরো খতমে একবার জোরে পড়েন। যদি তিনি সকল সূরার শুরুতে পড়ে থাকেন তবে তা অনুত্তম হয়েছে। আর যদি যেকোনো এক সূরার শুরুতে পড়ে থাকেন তবে তা ঠিকই আছে। -আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৯১; ইমদাদুল আহকাম ১/৩২৮; ইমদাদুল আহকাম ১/৬৩০ * ২০২৪. প্রশ্ন হাফেয সাহেবগণ রমযান মাসে তারাবীর নামাযে কুরআন খতম করার পর সূর বাকারার কিছু অংশ পড়ে থাকেন। এ ব্যাপারে শরীয়তের বিধান কী? উত্তর হাদীস শরীফে কুরআন মজীদ একবার খতম হলে পুনরায় তা শুরু করার কথা বলা হয়েছে। সুতরাং এ নিয়মটি নামাযের বাইরের তেলাওয়াতে যেমন মুস্তাহাব তেমনিভাবে নামাযের খতমেও অনুসরণীয়। অবশ্য ১৯ তম রাকাতে খতম করে ২০ তম রাকাতে শুরু থেকে পড়ার চেয়ে উত্তম হল, ১৮ তম রাকাতে খতম করে শেষ দুই রাকাতে শুরু থেকে কিছু অংশ তিলাওয়াত করা। যেন প্রথম ও দ্বিতীয় রাকাতে কিরাতের ধারাবাহিকতা বহাল থাকে। -জামে তিরমিযী ২/১৪৩; আলইতকান ১/৩০০; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৯৮; আদ্দুররুল মুখতার ১/৫৪৬ . [ মাসিক আলকাউসার ]
কিয়ামুল লাইল বা রাতজাগরণ কী এবং কীভাবে? ‘কিয়ামুল লাইল’ মানে রাত জেগে নামায আদায় করা, যেভাবে কিয়ামে রমাযান মানে রাতজেগে তারাবীহ পড়া। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযের মাধ্যমে রাতজাগরণ করতেন। নামাযেই তিনি কুরআন পড়তেন এবং এতেই তিনি বেশিরভাগ দুআ করতেন। লম্বা কেরাত ও রুকু সেজদা বৈঠক ও এ মধ্যবর্তী সময়গুলোতে তাসবীহ ও দুআ করতেন বলে তাঁর নামায অনেক দীর্ঘ হয়ে যেত। লাইলাতুল কদর ও শবে বরাতে যে রাতজাগরণের কথা বলা হয়েছে, তা মূলত নামায পড়ার দ্বারা পূর্ণ হয়ে থাকে। এটাই তার প্রথম উদ্দেশ্য। অন্যান্য আমলগুলো তার অনুগামী। স্বতন্ত্র কুরআন তেলাওয়াত, সুন্নাহমত যিকির করা, তাসবীহ, তাহলীল, তাকবীর, ইস্তিগফার, দরূদ শরীফ পড়া, হাত তুলে দোআ কান্নাকাটি করা এ রাতগুলোর দ্বিতীয় পর্যায়ের আমল। শুধুমাত্র উপরুক্ত আমলগুলো করার দ্বারাও রাতজাগরণের আমল আদায় হয়ে যাবে। তবে উত্তম হল রাতব্যাপী নামায আদায় করা এবং নামাযের মধ্যে অন্যআমলগুলো আদায় করা। যারা হাফিযে কুরআন বা দীর্ঘ কেরাত ও দুআ-আদিয়া মুখস্ত রাখেন, তাদের পক্ষে নামাযের মধ্যে সব আমল করে নেওয়া সম্ভব। আর যারা এ পর্যায়ের নন, তারা কিছুক্ষণ নফল নামায পড়বেন। আর অবশিষ্ট সময় অন্যান্য আমলগুলো করবেন। এতে তার কিয়ামুল লাইলের আমল পূর্ণ হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহই সর্বজ্ঞ। 🖋️ Saifuddin Gazi ২৬রমাযান ১৪৪৭হি. ১৬মার্চ ২০২৬
জীবনে অনেক তো মুনাজাত করেছেন! এবার উত্তমরূপে এইভাবে একবার করুন। ✅নিজের জন্য দোয়ার লিস্ট আমাদের দু'আর সবচেয়ে বেশি হক্কদার আমরা নিজেরাই। রাসুলুল্লাহ্ (সা)এর সুন্নাহ, কারো জন্য দু'আ করলে প্রথমে নিজের জন্য দু'আ করা। (মুসনাদে আহমদ ২১২৪৭ (৫/১২১) দু'আ লিস্টটাতে আমি নিজের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের বেসিক চাওয়াগুলোই লেখার চেষ্টা করেছি। আপনারা অবশ্যই আপনাদের নোটবুকে দু'আগুলো নোট করে নিবেন। এসব ছাড়াও আমাদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত অনেক অনেক প্রয়োজন আছে। সেসবও নোট করে রাখার চেষ্টা করবেন। ছোট-বড় সকল প্রয়োজন আল্লাহকে বলবেন। খুব করে আল্লাহর কাছে চাইবেন। বেশি বেশি চাইবেন। দু'আতেই সব সুখ! একমাত্র দোয়াই ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে, মৃত্যু পর্যন্ত পিছিয়ে যায় (নেক হায়াৎ বৃদ্ধি পায়)। ইয়া আল্লাহ, ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুম, ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম, আমাকে দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ দাও। তুমিই আল্লাহ, তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি জাহান্নাম ও কবরের আযাব থেকে। আমি তোমার কাছে পানাহ চাই তাকদিরের খারাপ কিছু থেকে। হে আল্লাহ! আমার উপর তোমার রহমত, দয়া, বরকত, শান্তি, ক্ষমা বর্ষণ করো। ক্ষমা করে দাও আমার আগের পাপ, আমার পরের পাপ, আমার ছোট-বড় সকল পাপ, আমার গোপন পাপ, আমার প্রকাশ্য পাপ। আমার বাড়াবাড়ি এবং যে সকল পাপের কথা তুমি ভালো জানো। ক্ষমা করো সেসব পাপ, যা আমি ভুলে যাই। ক্ষমা করো সেসব পাপ, যা আমি পাপই মনে করি না। আমাকে আশ্রয় দাও বিতাড়িত শয়তান থেকে, তার ওয়াসওয়াসা থেকে ও অতৃপ্ত নফস থেকে। আমাকে আশ্রয় দাও দুনিয়ার জীবনের ফিতনা ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে। এবং দাজ্জালের অমঙ্গল থেকে। আমার জন্য তোমার করুনার দরজা, তোমার রহমতের দরজা খুলে দাও। আমার রিজিকে প্রশস্ততা দাও। অঢেল বরকতময় রিজিক দাও। বেহিসাবি রিজিক দাও। এবং সেসব তোমার সন্তুষ্টি অনুযায়ী তোমার পথে ব্যয় করার নসীব দাও। আমাকে সন্তুষ্টি ও কৃতজ্ঞতার জীবন দাও। পরিপূর্ণ সুস্থতা, নিরাপত্তা দাও। আমাকে মৃত্যু অবধি পরিপূর্ণ হিদায়তের উপর অটল রাখো। আমাকে এক মূহুর্তের জন্যও নিজের জিম্মায় ছেড়ে দিও না। ইয়া রব্ব, আমার অভিভাবক, বন্ধু হিসেবে তুমিই যথেষ্ট হয়ে যাও। হে আমার প্রতিপালক, আমাকে বানিয়ে দাও তোমার জন্য অধিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারী, অধিক যিকরকারী, অধিক তাকওয়াবান, তোমার প্রতি অধিক বিনয়ী, অধিক আনুগত্যকারী, তোমার প্রতি বেশি বেশি তওবাকারী। আমার জিহ্বাকে তোমার যিকর দ্বারা সুসজ্জিত, পবিত্র করে দাও। আমার কলবকে আখিরাতের ফিকির দ্বারা পূর্ণ করে দাও। আমার তওবা কবুল করে নাও। আমার পাপকে ধুয়ে দাও, আমার দুআ কবুল করো। আমার জিহ্বাকে পবিত্র ও সুসংরক্ষিত রাখো। আমার অন্তরকে সুপথে পরিচালিত করো। হিংসা, বিদ্বেষ, সংকীর্ণতাসহ সমস্ত অন্তরের রোগ থেকে আমার অন্তরকে পবিত্র রাখো। আমার হৃদয়কে আজীবনের জন্য প্রশান্ত করে দাও। যা কিছু আমাকে পীড়িত করে, সেসব কিছু আমার কাছ থেকে সরিয়ে নাও। আমার ইজ্জত-আব্রুকে হেফাজত করো আমার মৃত্যু অবধি এবং এর পরেও। দুনিয়ার কারো কাছে আমার মাথা নত হতে দিও না। সৃষ্টির মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে পানাহ দাও। আল্লাহ! আমাকে দুনিয়া ও আখিরাতে আফিয়াতের সাথে সম্মানিত করো। আমাকে দুনিয়ায় দাও উত্তম বাসস্থান, উত্তম পরিজন, উত্তম সঙ্গী ও উত্তম রিজিক। আখিরাতকে করো দুনিয়ার চেয়ে বহুগুণে উত্তম, পবিত্র ও সম্মানিত। মৃত্যুকে আমার জন্য সহজ ও আনন্দদায়ক করে দাও। ইজ্জতের সাথে আমার মৃত্যু দাও। জবানে কালিমা রেখে, অন্তরে তোমার ভরপুর ভালোবাসা, তাকওয়া রেখে মৃত্যুবরণ করার তওফিক দাও। আমাকে শাহাদাতের মৃত্যু দাও। রাসুলের শহরে আমার মৃত্যু দাও। জান্নাতুল বাকিতে দাফন হওয়ার নসীব দাও। আমার কবরকে প্রশস্ত, আরামদায়ক করে দাও। তোমার নিয়ামত দেওয়ার পর তা ছিনিয়ে নিও না। এবং এর সাথে পরীক্ষাও রেখো না। আমাকে এমন কষ্ট দিও না, যা আমার ইমানকে সংকটে ফেলবে, আমার অন্তর বিধ্বস্ত করে দিবে। আমার শরীর ভেঙে দিবে। আমলে ঘাটতি আনবে। আমি তোমার কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের যাবতীয় কল্যাণ চাই। আমার জানা-অজানা যত কল্যাণ, সব তুমি আমায় দাও। আমার জানা-অজানা সমস্ত অকল্যাণ থেকে আমাকে আজীবন পানাহ দাও। ইয়া রব্ব! তোমার কোনো বান্দা আমার উপর যেন প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে জুলুম করতে না পারে। আমিও যেন তোমার কোনো বান্দার উপর জুলুম না করি। আমাকে সবসময় এমন মানুষদের সঙ্গে রেখো, যাদের সঙ্গ ঈমানকে বৃদ্ধি করে। মা-বাবা ও জীবনসঙ্গীর সন্তুষ্টি নিয়ে তোমার সাথে সাক্ষাতের তওফিক দাও। ইয়া রব্ব। এমন দু'আ থেকে পানাহ চাই, যে দু'আ কবুল হয় না। আমার অন্তরের চাওয়াগুলো আমার চেয়ে তুমি ভালো জানো। আমার চাওয়াগুলো আফিয়াতের সাথে, উত্তমভাবে কবুল করে নাও। আমিন