- Последний пост
- 16 янв.
- Последнее чтение
- 15 авг.
- Постов за неделю
- 0
- Всего постов
- 20
- Тип
- открытый
- Язык
- bn
- Категория
- Новости и СМИ (по похожим)
- В каталоге с
- 13 авг.
- 1/24сутки в ленте
- —
- 1/48двое суток
- —
- 1/72трое суток
- —
Оценка по просмотрам недавних постов: пост набирает почти всё за первые сутки.
Посты
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ আপনাদের প্রিয় Al Firdaws ও AFN Radio এর সম্মানিত উপস্থাপক মুহতারাম রায়হান আব্দুল্লাহ হাফিঃ এখন ফেসবুকে। শুভাকাঙ্খীদের মুহতারাম কে ফলো করার আহ্বান জানাই। আইডি লিঙ্ক: https://www.facebook.com/Raihan.Abdullah.AlFirdaws
এটাই গু-নতান্ত্রিক বাঙ্গুল্যান্ডের সৌন্দর্য।
видео или голосовое, без подписи
বাংলাদেশে মুসলিম বোনদের উপর হি_ন্দুত্ব-বাদী স_ন্ত্রাসের কালো ছায়া: নব•বী মান_হাজ অনুযায়ী উম্মাহর করণীয় বাংলাদেশের মাটি র"ক্তে ভিজছে। প্রকাশ্য দিবালোকে এডভোকেট আলিফের মতো সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো মানুষকে নির্মমভাবে হ*ত্যা করছে হি_ন্দুত্ব^বাদী স^ন্ত্রা^সীরা। এখন তারা তাদের কলুষিত হাত বাড়িয়েছে আরেক নির্যাতিত মুসলিম বোনের পাশে দাঁড়ানো আলেমের দিকে—তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে তারা তাদের ঘৃণ্য অভিপ্রায় স্পষ্ট করেছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে ধ*র্ষ*ণের খবর, আর্তনাদের কান্না, আর অসহায় বোনদের ক্রন্দন। এ যেন এক ঘোষিত যু*দ্ধ—আমাদের মুসলিম বোনদের ইজ্জত লুণ্ঠনের নোংরা খেলায় মেতে উঠেছে হি_ন্দুত্ব^বাদী নরপিশাচরা। রাস্তা থেকে, ঘর থেকে তুলে নিয়ে আমাদের বোনদের দিনের পর দিন ধ*র্ষ*ণ করছে এই হিংস্র হায়েনারা। তথাকথিত "ভাগওয়া লাভ ট্র্যাপ" নামক যৌন স*ন্ত্রা°সী কার্যক্রম তাদের অপকর্মের আরেক কালো অধ্যায়। সময়ের সাথে সাথে এই ভূখণ্ড আমাদের মা-বোনদের জন্য জাহান্নামে পরিণত হচ্ছে। তারা যেন হিংস্র জানোয়ারের খাঁচায় বন্দী হয়ে পড়েছে। এদেশের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠছে নির্যাতিত বোনের আর্তনাদে, কিন্তু মূলধারার মিডিয়া নীরব! এক অদৃশ্য শক্তি যেন এই নির্যাতনের খবর চাপা দিচ্ছে। ধ°র্ষ°করা চিহ্নিত হলেও, তাদের পেছনে থাকা অপশক্তি তাদের নিরাপদ পথ করে দিচ্ছে, যা তাদের এই ঘৃণ্য কাজে আরও উৎসাহ যোগাচ্ছে। প্রশাসন নিশ্চুপ, বিচারের কোনো আশা দেখা যাচ্ছে না। এই মাটিতে মুহাম্মদ বিন কাসিমের বোনেরা আজ নরপিশাচদের খাবারে পরিণত হচ্ছে। অথচ মুহাম্মদ বিন কাসিম এক বোনের আর্তনাদের ডাকে এই হি°ন্দু°স্তানে ছুটে এসেছিলেন। আব্বাসী খলিফা মু'তাসিম তাঁর এক বোনের ক্রন্দনরত ডাক (ওয়া মু'তাসিমা) শুনে রোমানদের হাত থেকে মুসলিম বোনকে উদ্ধারে ছুটে গিয়েছিলেন এবং পুরো আমুরিয়া নগরীটিই ধ্বংস করে ফেলেন! ১৯৯৪ সালের দিকে আ°ফ°গানি°স্তানে যখন কয়েকজন মুসলিম বোনের ইজ্জত হরণের উদ্দেশ্যে তাদের অপহরণ করা হয়, তখন তা°লে°বা°নের প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা মুহাম্মদ উম°র রহিমাহুল্লাহ অপহরণকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক অভিযান পরিচালনা করেন এবং তাদের প্রকাশ্যে শাস্তি কার্যকর করেন। পরবর্তীতে মো°ল্লা মুহাম্মদ উ°মর রহিমাহুল্লাহ তাঁর সাথীদের নিয়ে নারীদের ইজ্জত হেফাজতের জন্য শরি°য়াহর আলোকে কার্যকর স্টেপ নেন- যাতে নারীরা নিরাপত্তা পেয়েছিলেন। কিন্তু আজ আমাদের ঈমান? আমাদের দায়িত্ববোধ? আমাদের বোনদের ডাক কি আমাদের হৃদয়ে পৌঁছাচ্ছে না? হে উম্মাহ! এই হি_ন্দুত্ব^বাদী শক্তির ছত্রছায়ায় পরিচালিত সে°ক্যুলার শাসনব্যবস্থা আমাদের বোনদের নিরাপত্তা দিবে না। এই ব্যবস্থায় আমাদের মা-বোন, আমাদের উত্তরসূরীদের জন্য কোনো নিরাপদ ভবিষ্যৎ নেই। হি°ন্দু কর্তৃক ছাড়াও মুসলিম বোনেরা ধ°র্ষি°ত হচ্ছে। এই সে°ক্যুলা°র শাসনব্যবস্থায় তাদের কোন নিরাপত্তা নেই, যেন তারা অবলা প্রাণীতে পরিণত হয়েছে। তাদের উপর হওয়া নির্যাতনের সুবিচার পাচ্ছে না। যার ফলে এই নরপিশাচ ধ°র্ষ^কেরা এই অপকর্ম করতে উৎসাহ পাচ্ছ! ধ*র্ষ^ক যেই হোক, একমাত্র শরি°য়াহ'র আলোকে শাস্তি হলেই এই অপরাধ হ্রাস পাবে। শুধুমাত্র ইসলামী শরি°য়াহর মধ্যেই নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, সকল মানুষ তাদের ন্যায্য বিচার পাবে। এই সেক্যুলার সিস্টেম নারীদের শুধুমাত্র ভোগের বস্তুতে পরিণত করেছে, অথচ ইসলামী শরি°য়ায় নারীদের দেয়া হয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান-মর্যাদা ও নিরাপত্তা। আমাদের নিজেদের হাতেই এই নিরাপত্তার দায়িত্ব তুলে নিতে হবে। হে মুসলিম যুবক! জেগে উঠুন! প্রস্তুতি নিন! দাও•য়াহ, ই'^দা°দ, আর জি^হা•দের পথে নিজেকে তৈরি করুন। প্রতিটি নির্যাতিত বোনের ইজ্জতের বদলা নেওয়ার শপথ নিন। নিজেকে সংশোধন করুন, তা°ও•হি•দের পতাকা তুলে ধরুন, আর নববী মান°হাজে আল্লাহর যমিনে ন্যায় ও ইনসাফের সমাজ গড়ার জন্য কুর^বানীর শপথ নিন। এই নির্যাতনের বিরুদ্ধে নীরব থাকা মানে আমাদের নিজেদের ঈমানের পরাজয়। আরেকটি দিন নীরব থাকা মানে আরেকটি বোনের ইজ্জত লুণ্ঠিত হওয়া। আমরা আর চুপ থাকব না। আমরা উঠে দাঁড়াব, লড়াই করব, আর আমাদের বোনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করব ইনশাআল্লাহ। এই মাটি আমাদের, এই ভূখণ্ড ইসলামের—এখানে হি_ন্দুত্ব^বাদী স•ন্ত্রা•সের কোনো স্থান হবে না। হি_ন্দুত্ব^বাদী ও ইসলাম বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে জি•হা•দে তা•ও•হি•দের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হোন। এ ভূখণ্ডে আল্লাহর বি•ধান প্রতিষ্ঠার লড়া•ইয়ে শামিল হোন। -মুহতারাম ইবরাহীম হাসান
видео или голосовое, без подписи
জাতীয়তাবাদের স্বরূপ হলো: আ'রা'কা'নে আঘাত হানা হবে, কা*শ্মী'রকে জিম্মি করে রাখা হবে, গা-জ্জা'কে শেষ করে দেওয়া হবে। আপনি ভাববেন এটা তাদের অভ্যন্তরীন ব্যাপার; আপনাকে তো কিছু করা হয়নি। ফিতরাতগতভাবে কখনও কখনও প্রতিক্রিয়া দেখালেও, প্রতিরোধে কার্যকর কিছু করবেন না; যেমনটা করতেন যদি আঘাত আপনার নিজ গায়েই পড়ত। তাদের প্রতিরোধের দায়িত্ব তাদের হাতেই ছেড়ে দেবেন। তারপর একদিন আঘাতটা যখন আপনার ঘারেই পড়বে, আপনি আশপাশে তাকিয়েও কাউকে অবশিষ্ট পাবেন না। এর বিপরীতে উম্মাহ কনসেপ্টের স্বরূপ হলো: সীমান্তের তার-কাটা পেরিয়ে, সব রাষ্ট্র মিলে একটি একক দেহের মতো ফাংশান করবে। এক একটি রাষ্ট্র হবে তার একটি অঙ্গ, ঠিক যেমন একটি মানবদেহ (Human Body)। যখন এই দেহের পায়ে আঘাত করা হবে, সেটা তো আপনারই পা। যখন হাতে আঘাত করা হবে, সেটাও তো আপনারই হাত। যখন বুকে আঘাত করা হবে, সেটাও তো আপনারই বুক। আঘাত যেখানেই করা হোক না কেন, তা আপনাকেই করা হয়েছে। ফলে, উম্মাহর কোনো এক অংশে আঘাত হানলে আপনি সেটাকে নিজের ওপর আঘাত হিসেবে গণ্য করবেন। তাদের একই ব্যথায় আপনি নিজেও ব্যথিত হবেন এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রতিক্রিয়া দেখাবেন, প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। আপনার পা বা হাতে আঘাত হানলে আপনি তো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে, বাধা প্রদান না করে থেমে থাকবেন না। এবং এভাবে উম্মাহর এক অংশে টুকা দেওয়া হলে, উম্মাহর গোটা অংশ একত্রে আন্দোলিত হবে। আর আপনার শত্রুরা ঠিক এটাকেই সবচেয়ে বেশি ভয় করে। ~ Ustad Ahmad Faiyaaz
Word (941 KB)
এই মহান উম্মত কী গাজার ক্ষুধার্ত মানুষদের জন্য ঔষধ, খাদ্য এবং পানির ফোঁটা পৌঁছে দিতে পারে না!? উপমহাদেশ ও বিশ্বব্যাপী দ্বীনের বিজয়ের দিকে আহ্বানকারী নাওয়ায়ে গাজওয়াতুল হিন্দ ম্যাগাজিন
এই মহান উম্মত কী গাজার ক্ষুধার্ত মানুষদের জন্য ঔষধ, খাদ্য এবং পানির ফোঁটা পৌঁছে দিতে পারে না!?
বিয়ানীবাজারের ঘটনা: হিন্দু*ত্ববাদী ভয়াল থাবায় মুসলিম বোনেরা গত ১২ সেপ্টেম্বর, সিলেটের বিয়ানীবাজারে একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা আমাদের হৃদয়কে ক্ষতবিক্ষত করেছ। সন্দিপ পাল নামে এক হি*ন্দু পুরোহিত, ১২ বছরের এক মুসলিম বোনকে জোরপূর্বক ধ@র্ষণ করেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, পুরোহিত টেইলার্স সন্দিপ পাল ভুক্তভোগী ওই মুসলিম বোনকে কাপড় দেওয়ার কথা বলে নিজের দোকানে ডেকে নেয় । তারপর জোর*পূর্বক তার তাঁর হাত ও মুখ বেঁধে তাকে ধ*র্ষ*ণ করে পুরোহিত নরপশু সন্দিপ পাল। সিসিটিভি ফুটেজ ও মেডিকেল রিপোর্ট এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। জুমার নামাজ শেষে ওই পথে যাওয়ার সময় দুই মুসল্লি ওই মুসলিম কিশোরীর চিৎকারের আওয়াজ শুনে এগিয়ে এসে দেখে দোকানের শাটার লাগানো। পরে তারা দোকানে শাটার খুলে হাতেনাতে ধরে নরপশু সন্দিপ পালকে। কিন্তু এরপর যা ঘটেছে, তা আরও ভয়াবহ—স্থানীয় প্রভাবশালী হি*ন্দু গোষ্ঠী ভুক্তভোগীর পরিবারকে হুমকি দিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে! এই ঘটনা কি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ? না, এটি হিন্দু&ত্ববাদীদের পরিকল্পিত ষড়!যন্ত্রের একটি অংশ, যার লক্ষ্য মুসলিম উম্মাহকে দুর্বল করা, হিন্দু!ত্ববাদী অখন্ড ভারত প্রতিষ্ঠা করা। হিন্দু*ত্ব!বাদীদের ষড়যন্ত্র: ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ইতিহাস সাক্ষী, হি*ন্দুত্ব!বাদী শক্তি বারবার মুসলিম নারীদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে। এই ঘটনা নতুন নয়। ভারতের গুজরাট দা*ঙ্গা (২০০২), যেখানে হি&ন্দুত্ববাদী জনতা মুসলিম নারীদের ওপর নির্মম ধর্ষণ ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। সেই সময় মুসলিমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আইনি ও সামাজিক লড়াইয়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের জন্য সংগ্রাম করেছিল। বাংলাদেশেও এমন ঘটনা নতুন নয়। আজও এই ষড়যন্ত্র চলছে—হি"ন্দুত্ব"বাদী শক্তি মুসলিম নারীদের টার্গেট করে তাদের ইজ্জত ও সম্মান ধ্বং"স করতে চায়। এই ঘটনায় সন্দিপ পালের পেছনে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর হুম"কি প্রমাণ করে যে এটি কোনো ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, বরং একটি সমন্বিত পরিকল্পনা। সুশীল সমাজ ও মিডিয়ার নীরবতা: এই ঘটনায় বাংলাদেশের তথাকথিত সুশীল সমাজ ও নারীবাদীদের নীরবতা হৃদয়ে দাগ কাটে। যখন অমুসলিমদের কেউ নির্যাতিত হয়, তখন এই সুশীলরা রাস্তায় নেমে আসে, মিডিয়া হৈচৈ করে, নারীবাদীরা "জাস্টিস ফর অল" স্লোগানে মুখরিত হয়। কিন্তু যখন শিকার মুসলিম কন্যা, তখন তাদের কণ্ঠ রুদ্ধ! এই নীরবতা কি প্রমাণ করে না যে তাদের নৈতিকতা দ্বিমুখী? যখন মুসলিম নারী ধ^র্ষি^ত হয়, তখন মিডিয়া বলে, "এটা তো ছোট ঘটনা!" নারীবাদীরা ভুলে যায় যে নারী অধিকার মানে সকল নারীর অধিকার, শুধু তাদের পছন্দের কেউ নয়। এই নীরবতা শুধু উদাসীনতা নয়, এটি মুসলিম উম্মাহর প্রতি ঘৃ^ণার বহিঃপ্রকাশ। ইসলামের ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা দেখি ৭১২ খ্রিস্টাব্দে হি^ন্দু^স্তানে যখন আমাদের এক বোন হি^ন্দুত্ব^বাদীদের দ্বারা নি^র্যাতনের শিকার হয়েছিল তখন তার ডাকে সাড়া দিয়ে ইরাক থেকে ছুটে এসেছিলেন মুহাম্মাদ বিন কাসিম। প্রিয় উম্মাহ, আমরা আপনাদের আহ্বান জানাই আপনারা জেগে উঠুন, সচেতন হোন, কাফেরদের ষড়^যন্ত্রের বিরুদ্ধে নিজেদের হাতকে মুষ্টি^বদ্ধ করুন। হি^ন্দু^ত্ববাদীদের ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে সবাইকে সচেতন করুন। এবং ভুক্তভোগীর পরিবারকে আইনি সহায়তা দিন এবং হিন্দুত্ববাদী ধ^র্ষ^ক পুরোহিত সন্দিপ পাল কে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনার জন্য প্রশাসনকে সর্বোচ্চ চাপ দিন। হি^ন্দু^ত্ববাদীদের ভাগওয়া লাভ ট্র্যাপ (অর্থাৎ মুসলিম মা বোনদের বিভিন্ন কৌশলে যৌন নি^র্যা^তন) সম্পর্কে ব্যাপক আকারে প্রচার-প্রচারণা চালান। হি^ন্দুত্ব^বাদীদের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের এবং অপকর্মের ব্যাপারেও সামাজিকভাবে রুখে দাঁড়ান -মুহতারাম ইব্রাহিম হাসান
একদিন আমাদের হাতে এক চিঠি আসে। সেটি পড়ার পর অন্তরটা যেন দুমড়ে-মুচড়ে যায়, হৃদয়জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে অদ্ভুত এক হাহাকার। সেই চিঠি পাওয়ার পর আজ কয়েক বছর পেরিয়ে গেল। অবশেষে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, চিঠিটি আপনাদের সাথে শেয়ার করব। চিঠিটি আগামীকাল রাত ৮টায় উম্মাহ নিউজ টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশ করা হবে, ইনশাআল্লাহ। সবাই এখনই দ্রুত উম্মাহ নিউজ টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে নিন। টেলিগ্রাম এপের সার্চবার এ নিচের ইউজার নেইমটি টাইপ করুনঃ @ummaahnews অথবা নিচের লিংকে ক্লিক করে যুক্ত হয়ে নিনঃ t.me/ummaahnews
– মিসর, সৌদি আরব, ইরাক, জর্ডান, ফিলিপাইন এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো বিভিন্ন অঞ্চলে যখন মুসলিমদের উপর স্বৈরশাসকদের জুলুম নির্যাতন চলছিল, তখন এই সরকারগুলোর অবস্থান মজবুত করতে তাদেরকে সমর্থন দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেই বছরগুলিতেও ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনা ঘটেনি। উদাহরণ স্বরূপ, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মিশরে আনোয়ার সাদাত এবং হোসনি মুবারকের মতো স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার প্রতি সমর্থন ১৯৭০ থেকে ২০০০ এর দশকের গোড়ার দিক পর্যন্ত অব্যাহত রেখেছিল, ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনা তখনও অনেক বছর দূরে ছিল। এই অঞ্চলগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মুসলমানদেরকে বন্দী, নির্যাতন, হত্যা, নির্বাসন এবং তাদের সাথে অকল্পনীয় আচরণ করার ক্ষেত্রে এই শাসনব্যবস্থাকে সমর্থন ও শক্তি জুগিয়েছিল। ১১ সেপ্টেম্বরের অভিযান যারা পরিচালনা করেছিলেন, তারা তখনও জন্মগ্রহণ করেনি। – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন ৯০-এর দশকে বসনিয়ায় মুসলিম স্বেচ্ছাসেবকদের বিরুদ্ধে অপহরণ, মৃত্যুদণ্ড, নির্বাসন এবং বন্দী করার মিশন চালিয়েছে, ১১ সেপ্টেম্বর কোন অস্তিত্ব তখন ছিল না। সেপ্টেম্বরের ঘটনাগুলি ১৯৯৩ সাল থেকেও অনেক বছর দূরে ছিল, যখন আমেরিকান সৈন্যরা সোমালিয়ায় প্রবেশ করেছিল, হাজার হাজার মুসলমানকে হত্যা করেছিল এবং তারপর অপমানিত হয়ে পালিয়েও গিয়েছিল। – যখন একই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯৬-এর পর আফগানিস্তান সরকারের সর্বোচ্চ নেতা ও এর কর্মকর্তাদের অবস্থানে বোমাবর্ষণ করছিল, বিদ্রোহীদের সহায়তা করছিল, এবং ১৯৯০-এর দশকে ইরাকে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বোমাবর্ষণ করে লক্ষ লক্ষ মানুষ ক্ষুধায় ও রোগে ভুগিয়ে হত্যা করছিল, ১১ সেপ্টেম্বর তখনও ঘটেনি। – যদি আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমের বাইরে আরেকটু বিস্তৃত হই… তাহলে দেখা যাবে, ইংল্যান্ড আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যে, ফ্রান্স আলজেরিয়া এবং আফ্রিকার বাকি অংশে, রাশিয়া ককেশাসে এবং পূর্ব তুর্কিস্তানে চীন মুসলমানদের প্রতি শত্রুতা ও তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে, তখনও কোন ‘১১ সেপ্টেম্বর’ ছিল না। এই উদাহরণগুলোর তালিকা আরও দীর্ঘায়িত করার সুযোগ ছিল। তবে এই পর্যন্ত আমাদের আলোচনার ব্যাখ্যায় যে দৃষ্টান্তগুলো এসেছে, আশা করা যায় সেগুলো সচেতন মুসলিম ও বিবেকবান বিশ্ববাসির উপর থেকে মার্কিন প্রোপ্যাগান্ডার প্রভাব দূর করতে যথেষ্ট হবে ইনশাআল্লাহ্। সংক্ষেপে, ইসলামি বিশ্ব ও মুসলমানদের প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং ইসলামের অন্যান্য শত্রুদের বিদ্বেষের কারণ ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনা ছিল না। এই বিদ্বেষ হক্কের প্রতি বাতিলের চিরায়ত বিদ্বেষ, এই বিদ্বেষ রব্বে কারিম প্রদত্ত আসমানি মতবাদের প্রতি মনগড়া কল্পনাপ্রসূত মতবাদের বিদ্বেষ। ইসলাম এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে অবিশ্বাসীদের এই শত্রুতা পরিচালিত হয়ে আসছে ১১ সেপ্টেম্বরের বহু শতাব্দী আগে থেকেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার প্রক্সিরা, যারা ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনার আগে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সহিংস বৈরিতা প্রদর্শন করেছিল এবং লক্ষ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছিল, তারা ৯/১১ না ঘটলেও এটি চালিয়ে যেত, বরং এটি আরও গভীর পৌঁছাতো। ১১ই সেপ্টেম্বরের আগে আমেরিকার বিদ্বেষ, আগ্রাসন ও শত্রুতা ১১ সেপ্টেম্বরের পরের ঘৃণা, আগ্রাসন ও শত্রুতার চেয়ে কম ছিল না। উদাহরণস্বরূপ, ইরাকের বিরুদ্ধে ১৯৯০ সালে শুরু হওয়া নিষেধাজ্ঞার কারণে লক্ষ লক্ষ ইরাকি রোগ ও অপুষ্টিতে মারা গিয়েছিল। বিশ্ব এর আগে কখনও এমন নিষেধাজ্ঞা দেখেনি। ঘটে যাওয়া অসংখ্য ঘটনার মাঝে এটি মাত্র একটি উদাহরণ। যদি আমরা ইতিহাসের দৃষ্টিকোণ থেকে ১১ সেপ্টেম্বরের ভূমিকা মূল্যায়ন করি, তবে আমরা এই ঘটনাকে ১০৭১-এর মানজিকার্ট, ১১৮৭-এর জেরুজালেম বিজয়, ১৪৫৩-তে ইস্তাম্বুল বিজয়ের মতো ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোর সাথে তুলনা করতে পারি। কেননা এর প্রত্যাকটিই মানব ইতিহাসে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটিয়েছে, জালিমদের বিরুদ্ধে নিপিড়ীত জনতাকে ঘুরে দাঁড়াবার সাহস জুগিয়েছে। হারানো ভূমি পুনরুদ্ধারে ঘুমন্ত শার্দূলদের জাগ্রত করেছে। মুসলিমদেরকে কাফেরদের প্রতিটি ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া জানানোর হিম্মত জুগিয়েছে। পরিশেষে, বিশ্বপরাশক্তির লেবাসধারী জালেমদের কবর খুঁড়েছে। সুতরাং, গ্লোবাল নর্থ, ওয়েস্টার্ন ব্লক, ক্রুসেডার ওয়ার্ল্ড বা পশ্চিম ইউরোপ… আমরা যে নামেই বলি না কেন, ইসলাম এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিশ্বের এই শক্তিগুলোর মনস্তাত্ত্বিক ও সামরিক যুদ্ধ ১০০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসছে। তাই এটি বলা ঠিক হবে না যে, ইসলামি বিশ্বের বিরুদ্ধে এই আগ্রাসনের ইতিহাস ১১ সেপ্টেম্বর, ২০০১-এ শুরু হয়েছে, কিংবা ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনার কারণে মুসলিমরা আজ বিশ্বব্যাপি করুণ পরিণতি বরণ করছে। বরং, এটা তো ছিল মুসলিমদের বেহাল দশার শেষের শুরু, রাতের গভীর অমানিসার শেষপ্রান্তে দিগন্ত চিঁরে উন্মেষ ঘটা এক চিলতে আলো। মানবতার দুশমনদের জুলুমের প্রদীপ নিভে যাওয়ার আগে দপ করে জ্বলে উঠার গোঙানি-আস্ফালন আর আমাদের ভীত না করুক।
মুসলিমদের বিরুদ্ধে সংঘাতের এই ইতিহাস ১১ সেপ্টেম্বর শুরু হয়নি -ত্বহা আলী আদনান Al Firdaus news এটা সত্য যে ১১ সেপ্টেম্বর, ২০০১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এবং ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ ডিফেন্সে (পেন্টাগন) আল-কায়েদার ঐতিহাসিক আক্রমণ সাম্প্রতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। সর্বোপরি, আমরা ইতিমধ্যেই ৯/১১-পরবর্তী বিশ্বে বাস করছি। যদিও আমরা এখন আর সরাসরি ১১ সেপ্টেম্বরের প্রভাব অনুভব করি না। তথাপি এই আক্রমণ ও এর ফলাফল বিশ্ব ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। কেননা এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হৃদপিণ্ডে পরিচালিত এমন এক আঘাত ছিলো, যা রাজনৈতিক, সামাজিক এবং সামরিক অঙ্গনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সৃষ্টি করেছে। তাই এই প্রবন্ধে বিষয়টি নিয়ে লিখা ও বলার পরিবর্তে নতুন বিষয়ে কথা বলা প্রয়োজন বলে মনে করি। কারণ এখন পর্যন্ত গত ২২ বছরে যা বলা যায় প্রায় সবই বলা হয়ে গেছে, হয়তো আরও বলা হবে। এই আক্রমণের এতোবছর পরেও এখনো একটি বিষয় মানুষকে জোরেশোরে গেলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে যে, ৯/১১-এর প্রেক্ষিতেই বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালানো শুরু হয়েছে। মোদ্দা কথা হল, অনেকেই এখনো এমন ধারণা পোষণ করেন, যেন হক্কের সাথে বাতিলের সংঘাত ১১ সেপ্টেম্বর, ২০০১ থেকে শুরু হয়েছিল। শুধু সাধারণ মানুষই নন, বরং কলমধারী ও পদধারীদের মধ্যেও অনেকই আছেন, যারা ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনাগুলিকে দূরদৃষ্টি দিয়ে বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে তারা ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় এখনো মার্কিনী ও শিয়াদের ছড়ানো এই ধ্যান-ধারণায় প্রভাবিত হয়ে চলেছেন যে, ৯/১১ হামলাই মার্কিন নেতৃত্বাধীন জায়নবাদি জোটকে মুসলিম বিশ্বে আগ্রাসন চালানোর সুযোগ করে দিয়েছে। ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনাগুলি ইতিহাসের একটি বিন্দু, অবশ্যই এর গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না। আমাদেরকে এসব ঘটনাকে কারণ হিসেবে না দেখে ফলাফল হিসেবে দেখা উচিত। আমাদের বিশ্বাস, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০০১ তারিখে ইতিহাস শুরুও হয়নি এবং সেদিনের ঘটনাপ্রবাহ এখনো চূড়ান্ত রূপও নেয়নি। বরং ১১ সেপ্টেম্বরে সংঘটিত ঘটনাগুলি লক্ষ লক্ষ ঘটনার মাঝে ইতিহাসের একটি ছোট অংশ মাত্র। আর এই ধরনের ঘটনাগুলো জনগণের কুসংস্কার, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি, ধর্মীয় উপলব্ধি, রাজনীতি এবং মানবতার ইতিহাসে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটায়। পরিস্থিতির বোধগম্যতা বৃদ্ধিকল্পে আমরা কিছু উদাহরণ পেশ করা সমীচীন মনে করছি। ইতিহাস ১১ সেপ্টেম্বর শুরু হয়নি – ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে ইউরোপীয়দের কুসংস্কার ও যুদ্ধ ১১ সেপ্টেম্বরের বহু শতাব্দী আগে শুরু হয়েছে। তুর্কিরা যখন আনাতোলিয়া থেকে বাইজেন্টিয়ানদের বিতাড়িত করেছিল এবং ১৪৫৩ সালে ইস্তাম্বুলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল, তখন সময়টি ছিলো ১১ সেপ্টেম্বরের ৬ শতাব্দী আগে। একইভাবে, যে বছরগুলিতে আরবরা স্পেন থেকে ফ্রান্সে আক্রমণ করেছিল সেগুলিও ১১ সেপ্টেম্বরের ১৩ শতাব্দী আগের। এই সময়ে ইউরোপে ইসলামের প্রতি নেতিবাচক চিন্তাধারা ও শত্রুতা শুরু হয়। যে বছরগুলিতে আন্দালুসিয়ার পতন হয়েছিল, তখন ইউরোপীয়রা লক্ষ লক্ষ মুসলমানকে নির্যাতন ও হত্যা করে। এটিও ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনাগুলির প্রায় ৭ শতাব্দী আগে ঘটেছিল। – ইসলামী বিশ্বে আক্রমন করা, ইসলামের সঠিক ব্যাখ্যাকে বিকৃত করা এবং ইসলামী বিশ্বে পুতুল শাসন প্রতিষ্ঠার চিন্তাও ১১ সেপ্টেম্বর, ২০০১ এর প্রায় ২ শতাব্দী আগে শুরু হয়েছিল। মুসলমানদের শেষ স্বাধীন ভূমি ১৯০০ এর দশকের গোড়ার দিকে দখল করা হয়েছিল। এই বছরগুলিতে পতন হয়েছিল খিলাফতের কেন্দ্র ইস্তাম্বুলের। এই বছরগুলিতেই পশ্চিমাদের হাতে ইসলামি ভূমিগুলি বিভক্ত হয়েছিল; ১১ সেপ্টেম্বরের এক শতাব্দী আগে। – পশ্চিমারা ১১ সেপ্টেম্বরের প্রায় দেড় শতাব্দী আগে, ১৯ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ইসলামী বিশ্বের কেন্দ্রস্থলে একটি কৃত্রিম ইহুদি রাষ্ট্র গড়ার পরিকল্পনা শুরু করে। আর ১১ সেপ্টেম্বরের এক শতাব্দী আগে, ১৯১৭ সালে ব্রিটিশদের দ্বারা প্যালেস্টাইন দখলের সাথে এই পরিকল্পনাগুলি কংক্রিট হয়ে ওঠে। বেলফোর ঘোষণার মাধ্যমে ব্রিটিশরা ইহুদিদের ফিলিস্তিন দিয়েছিল এবং এই অঞ্চল থেকে মুসলমানদের সম্পূর্ণরূপে বিতাড়িত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছিল, সেই ঘটনাও ১১ সেপ্টেম্বরের ৮৪ বছর আগে। এমনিভাবে ইসরায়েল রাষ্ট্রটি ১১ সেপ্টেম্বরের ৫৩ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এখানে মুসলমানদের গণহত্যা শুরু করা হয়েছিল। – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটিশদের কাছ থেকে মধ্যপ্রাচ্য দখল করা শুরু করে ১৯৫০-এর দশকে। সেই সাথে ১১ সেপ্টেম্বরের ৫০ বছর আগে থেকেই এই অঞ্চলে কৃত্রিম শাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। আর মুসলিমদের নিপীড়নকারী এই সরকারগুলোকে পুরোপুরি সমর্থন দিতে থাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। একইভাবে, যখন ১১ সেপ্টেম্বর ঘটেনি, তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র লেবাননে ১৯৫৮ সালের গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে। পরবর্তী বছরগুলিতে এটি ইসরায়েলের এক নম্বর বিদেশী সমর্থক ও গণহত্যার পৃষ্ঠপোষক হয়ে ওঠে; ৯/১১-এর অনেক আগেই।
видео или голосовое, без подписи
এখানে উল্লেখযোগ্য আরেকটি বিষয় হলো, এই প্রোপ্যাগান্ডা চালানোয় অন্যতম ভূমিকা পালন করেছে ইরান নেতৃত্বাধীন শিয়া রাফেজিরা। তারা নিজেদেরকে অ্যামেরিকা ও পশ্চিমাবিরোধী প্রমাণ করতে এই বলে জোরালো প্রচার চালিয়েছে যে, ৯/১১ অ্যামেরিকা নিজেই ঘটিয়েছে, আর আল-কায়েদা তালিবান সবাই অ্যামেরিকার সৃষ্টি! আর এই প্রচারণায় তাদের সাথে তাল মিলিয়েছে চীন-রাশিয়া ব্লক। আরব শাসক ও মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের শাসকদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ইরানের নেতৃত্বে শিয়া রাফেজিরা একমাত্র নিজেদেরকেই খাঁটি মুসলিম ও উম্মাহর কল্যাণকামী হিসেবে দাবি ও প্রচার করে। সাধারণ মুসলিমদের অনেকেই আবার ইরানের অ্যামেরিকা-ইসরাইল বিরোধি নানান মুখরোচক কথা-বার্তার কারণে তাদেরকে মুসলিম বিশ্বের ত্রানকর্তা ভেবে বসে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, ৯/১১ পরবর্তী সময়ে অ্যামেরিকার কথিত ‘ওয়ার অন টেররে’র ময়দানে ইরানের অংশগ্রহণ ছিল সরাসরি ও স্পষ্ট। তারা অ্যামেরিকার সাথে মিলে আফগানিস্তানের মাটিতে আগ্রাসন চালিয়েছে, লড়াই করেছে ন্যাটো ও পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত তালিবান মুজাহিদিনের বিরুদ্ধে। ইরাকে অ্যামেরিকার আক্রমণের পর সেখানে শিয়ারা ক্ষমতার মসনদে আসিন হয়েছে; আহলুস সুন্নাহর অনুসারী মুসলিমদের উপর চালিয়েছে বর্বরতম নির্যাতন। ইয়েমেন ও সিরিয়াতেও তারা মুসলিমদের রক্ত ঝরিয়ে যাচ্ছে ক্রমাগত। আর ইয়েমেনের চতুর্দিকে অ্যামেরিকার ঘাঁটি থাকলেও, সেখানে তারা ইরান সমর্থিত শিয়া হুথি বাহিনীর উপর একটি আক্রমণও চালায়নি; সিরিয়াতেও না। ৯/১১ ও তৎপরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ আমাদের সামনে অ্যামেরিকা-ইসরাইল নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা বিশ্বের সাথে ইরান নেতৃত্বাধীন শিয়া রাফেজিদের গোপন আঁতাতের বিষয়টি কিছুটা স্পষ্ট করে দিয়েছে। বাস্তবতা হচ্ছে, ইরান মুখে পশ্চিমাবিরোধী কথা বললেও, অ্যামেরিকা মুসলিম বিশ্বের যত জায়গায় হস্তক্ষেপ করেছে, ইরান তথা শিয়া রাফেজিরা ততো জায়গাতেই শক্তিশালী হয়েছে। ইরাক, সিরিয়া ও ইয়েমেন তার জলন্ত দৃষ্টান্ত। কয়েক মাস আগে ইরান-আফগান সীমান্তে উত্তেজনার সময় সিনিয়র তালিবান কমান্ডার আব্দুল হামিদ খোরাসানি নির্দেশ পেলে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে ইরান দখলের হুমকি দিয়েছিলেন। পাশাপাশি তিনি এও বলেছেন যে, “ইরান দেখাচ্ছে পশ্চিমাদের সাথে তাদের সম্পর্ক খারাপ। বাস্তবতা হচ্ছে, পশ্চিমাদের সঙ্গে জোট বেধেছে তারা।…” তাঁর কথাতেও ৯/১১ পরবর্তী পরিক্রমায় পশ্চিমাদের সঙ্গে ইরানের আঁতাতের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। মূলত, ৯/১১ এর ঘটনা ইহুদি-খ্রিস্টান নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থার মূলে আঘাত করে বহুপাক্ষিক বিশ্বব্যবস্থার দ্বার উন্মোচন করে দিয়েছিল। মুসলিম বিশ্ব এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে এবং শত্রু-মিত্র চিনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারলে, হারানো নেতৃত্ব ফিরে পাওয়াটা কেবল সময়ের ব্যাপার। ভবিষ্যৎ ঘটনাপ্রবাহে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখা প্রতিটি মুসলিমের জন্য জরুরী, অবশ্যই কোরআন-হাদিস এবং জ্ঞানীদের জ্ঞানের আলোকে। এটিও ৯/১১ এর তাৎপর্যপূর্ণ আহ্বানসমূহের মধ্যে অন্যতম। তথ্যসূত্র: 1. 9/11 was an inside job – Iran president – https://tinyurl.com/ywe2v8vb 2. Debunking Paranoia: ‘9/11 was not an inside job’ – https://tinyurl.com/22dvf3m5 3. বিশ্ব মানচিত্র থেকে ইরানকে মুছে ফেলার হুমকি তালেবানের | Taliban | – https://www.youtube.com/watch?v=CLW3IWlEk8w 4. ৯/১১ অভিযান : জিহাদি মেরুকরণের শক্তিশালী অনুঘটক – https://tinyurl.com/bddd9va9
৯/১১ অভিযান: যে আলোচনা প্রতিষ্ঠিত হওয়া জরুরী -আব্দুল্লাহ্ বিন নজর Al Firdaus news ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর অ্যামেরিকার অর্থনৈতিক (টুইন টাওয়ার), সামরিক(পেন্টাগন) ও রাজনৈতিকভাবে (ক্যাপিটাল হিল) সবচাইতে গুরত্বপূর্ণ ৩টি অবস্থান লক্ষ্য করে একযোগে আক্রমণ চালায় আল-কায়েদা। আর এই হামলার ফাঁদে ফেলেই অ্যামেরিকাকে আফগানের উত্তপ্ত রণাঙ্গনে, ইরাকের মরু প্রান্তরে ও আফ্রিকার দুই প্রান্তে এবং ইয়েমেনে আটকে তাদের শক্তিকে বিক্ষিপ্ত করে ফেলা হয়; ফলশ্রুতিতে অ্যামেরিকা আজ একক বিশ্বমোড়লের পদবি হারানোর দ্বারপ্রান্তে। আজ আমরা এই আক্রমণের বিরুদ্ধে ইহুদি-খ্রিস্টান মিলিত শক্তির ছড়ানো প্রোপ্যাগান্ডার বিশেষ কয়েকটি দিকের উপর আলোকপাত করবো ইনশাআল্লাহ্; ঘটনাচক্রে যে দিকটি থেকে যাচ্ছে অনেকটা আড়ালেই। মুসলিমবিরোধী ও অভিযানবিরোধী প্রোপ্যাগান্ডা ৯/১১ অভিযানের আগে ধূর্ত অ্যামেরিকা মুসলিমদের সাথে স্ব-শরীরে যুদ্ধের ময়দানে তেমনভাবে না আসলেও, পরোক্ষভাবে সে প্রতিটি মুসলিম রাষ্ট্রে পরিচালিত হত্যাযজ্ঞের নেতৃত্ব দিয়েছে; যার শিকার হয়েছে ফিলিস্তিন, ইয়েমেন, ইরাক, সুদান, লিবিয়া, সোমালিয়া, চেচনিয়া, বসনিয়াসহ বিশ্বের বহু মুসলিম দেশ। এতোগুলি রাষ্ট্রে আগ্রাসন চালানোর পরেও অ্যামেরিকা বিশ্ববাসীর কাছে ছিলো ‘মানবতাবাদী ও জনদরদী’। কিন্তু এই অভিযানের পর অ্যামেরিকার কথিত মানবতাবাদী মুখোশ ধীরে ধীরে খসে পরতে শুরু করে। তবে এটা ঠেকাতে প্রোপ্যাগান্ডা ও মিডিয়া আগ্রাসন চালানোর ক্ষেত্রে কোন কমতি করেনি অ্যামেরিকা। অ্যামেরিকার কথিত থিংকট্যাঙ্ক র্যান্ড-এর বিভিন্ন নথি ফাঁস হওয়ার পর এসব প্রোপ্যাগান্ডা-ষড়যন্ত্রের অনেক অজানা বিষয় উঠে আসে বিশ্ববাসির সামনে। ইতিমধ্যে ৯/১১ অভিযান নিয়ে উত্থাপিত প্রায় সকল অভিযোগের জবাবই দিয়েছেন হক্কানি উলামায়ে কেরাম ও মুজাহিদ উমারাগণ। তবে বহুল চর্চিত বিষয়গুলোর মধ্যেই কিছু বিষয় ঢাকা পরে যায় স্মৃতির আড়ালে; ইতিহাসের পালাবদলের সন্ধিক্ষণে যেগুলোর চর্চা জারি থাকা ও বিষয়গুলো প্রতিষ্ঠিত হওয়া জরুরী। বিশ্বমিডিয়া যেহেতু ইহুদি-খ্রিস্টান জোটের নিয়ন্ত্রণে, এবং পৃথিবীর বেশিরভাগ প্রভাবশালী মিডিয়া আউটলেটের মালিকানায় সরাসরি ইহুদিরা রয়েছে, তাই তারা সাধ্যের সবটুকু দিয়েই মুসলিমদের কোণঠাসা করতে তাদের মিডিয়াযন্ত্রের ব্যবহার করেছে। ৯/১১ হামলায় নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে জায়নবাদী অ্যামেরিকা ইসলামের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা পর্যন্ত বদলে দিতে চেষ্টা চালিয়েছে। ইসলাম অর্থ ‘শান্তি’ আর ইসলামকে তাদের সংজ্ঞানুযায়ী শান্তির ধর্ম আখ্যা দিয়ে তারা মুসলিমদেরকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করেছে। মুজাহিদদেরকে কলঙ্কিত করতে এবং তাঁদেরকে মুসলিম উম্মাহ থেকে বিচ্ছিন্ন করতেও তারা চেষ্টার কোন ত্রুটি করেনি। আর একারণেই তারা নিজেদের সামরিক সদর দফতর পেন্টাগনে হামলার বিষয়টিকে আড়াল করতে বাণিজ্যিক কেন্দ্র টুইন টাওয়ারে হামলার বিষয়টিকে প্রচারনার পাদপ্রদীপে নিয়ে আসে। মুসলিম ভূমিগুলোতে পশ্চিমাপন্থী দুর্নীতিবাজ শাসকদের বিরুদ্ধে পরিচালিত জিহাদকে কলঙ্কিত করতে তারা কখনো কখনো বেসামরিক মুসলিমদের উপর হামলা চালিয়ে মুজাহিদদের উপর দোষ চাপিয়েছে- এমন অসংখ্য প্রমাণও বিদ্যমান। ৯/১১ পরবর্তী সময়ে অ্যামেরিকার অন্যতম সফল একটি প্রোপ্যাগান্ডা ছিল এই যে, ইহুদি নিয়ন্ত্রিত বিশ্বমিডিয়া এটা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে যে, এই আক্রমণ আসলে বৈশ্বিক ইসলামি প্রতিরোধ বাহিনী আল-কায়েদা চালায়নি। ‘মুসলিমরা দোর্দণ্ড প্রতাপশালী অ্যামেরিকার মাটিতে আক্রমণ করার সামর্থ্য রাখে না’ – এমন বিশ্বাস প্রতিষ্ঠা করার জন্য তারা এই বলে গুজব রটিয়েছে যে, এই হামলা বুশ নিজেই করিয়েছে! যুগ যুগ ধরে অমুসলিমদের শাসনাধীনে থাকা মুসলিম উম্মাহর উপর জেঁকে বসা পরাজিত মানসিকতার সুযোগ তারা ভালভাবেই কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে। তাদের এই প্রচারণাটি এতই প্রভাব সৃষ্টিকারী ছিল যে, এমনকি খ্যাতনামা অনেক মুসলিম স্কলার পর্যন্ত এই প্রচারণায় জড়িয়ে পড়েছে। কোন বিমান কোন দিক দিয়ে হামলা করেছে, কোন বিল্ডিং কোন দিকে হেলে পড়েছে, ইঞ্জিনিয়াররা কি বলছে – ইত্যাদি নানা যুক্তি-পাল্টাযুক্তি দেখিয় তারা প্রমান করার চেষ্টা করেছেন যে, মুসলিমরা এই হামলা করে নি, বরং এটা বুশ নিজেই আভ্যন্তরীণভাবে করিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনার সম্পর্কে নীরব থাকলেও, আল-কায়েদা নেতৃত্ব পরবর্তীতে নিজেদের নানান লেখনি ও বার্তায় ইতিহাসের দিক পরিবর্তনকারী এই হামলায় দায় স্বীকার ও নিজেদের জড়িত থাকার তথ্য প্রমাণ পেশ করেছেন। শিয়ারা কেন এই প্রোপ্যাগান্ডা চালায়? ৯/১১ তথা অপারেশন ম্যানহাটন সম্পর্কে ইহুদি-খ্রিস্টান জোটের প্রোপ্যাগান্ডা চালানোর কারণ সম্পর্কে ইতিমধ্যে আলোচনা এসেছে। মুসলিমদের পরাজিত মানসিকতার মধ্যে জিইয়ে রাখা, জিহাদ ও মুজাহিদদেরকে কলুষিত করার চেষ্টা করা, নিজেদের শক্তিশালী হিসেবে জাহির করা – ইত্যাদি নানা কারণেই তারা বিশেষ এই ধরণের প্রোপ্যাগান্ডা চালিয়েছে।
видео или голосовое, без подписи
”اے امریکہ اور اس کے اتحادیو! سن لو! کہ ہم امتِ محمد ﷺ اللہ کے سوا کسی کے سامنے جھکنے والے نہیں۔ ہم اللہ کی راہ کے مجاہد ہیں، ہم اپنی تنگی و آسانی، غمی و خوشحالی اور زندگی و موت کو نہیں دیکھتے، ہم تو بس اس وحدہ لاشریک کے سوا نہ کسی کے سامنے سر تسلیم خم کرتے ہیں اور نہ ہی ہم اس کے سوا کسی سے ڈرتے ہیں“ فضیلة الشیخ ایمن الظواہری 🔈 t.me/MediaWar1_bot
видео или голосовое, без подписи
এই অঞ্চলগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মুসলমানদেরকে বন্দী, নির্যাতন, হত্যা, নির্বাসন এবং তাদের সাথে অকল্পনীয় আচরণ করার ক্ষেত্রে এই শাসনব্যবস্থাকে সমর্থন ও শক্তি জুগিয়েছিল। ১১ সেপ্টেম্বরের অভিযান যারা পরিচালনা করেছিলেন, তারা তখনও জন্মগ্রহণ করেনি। – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন ৯০-এর দশকে বসনিয়ায় মুসলিম স্বেচ্ছাসেবকদের বিরুদ্ধে অপহরণ, মৃত্যুদণ্ড, নির্বাসন এবং বন্দী করার মিশন চালিয়েছে, ১১ সেপ্টেম্বর তখনো ঘটে নি। সেপ্টেম্বরের ঘটনাগুলি ১৯৯৩ সাল থেকেও অনেক বছর দূরে ছিল, যখন আমেরিকান সৈন্যরা সোমালিয়ায় প্রবেশ করেছিল, হাজার হাজার মুসলমানকে হত্যা করেছিল এবং তারপর অপমানিত হয়ে পালিয়েও গিয়েছিল। – যখন একই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯৬-এর পর আফগানিস্তান সরকারের সর্বোচ্চ নেতা ও এর কর্মকর্তাদের অবস্থানে বোমাবর্ষণ করছিল, বিদ্রোহীদের সহায়তা করছিল, এবং ১৯৯০-এর দশকে ইরাকে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বোমাবর্ষণ করে লক্ষ লক্ষ মানুষ ক্ষুধায় ও রোগে ভুগিয়ে হত্যা করছিল, ১১ সেপ্টেম্বর তখনও ঘটেনি। – যদি আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমের বাইরে আরেকটু বিস্তৃত হই… তাহলে দেখা যাবে, ইংল্যান্ড আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যে, ফ্রান্স আলজেরিয়া এবং আফ্রিকার বাকি অংশে, রাশিয়া ককেশাসে এবং পূর্ব তুর্কিস্তানে চীন মুসলমানদের প্রতি শত্রুতা ও তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে, তখনও কোন ‘১১ সেপ্টেম্বর’ ছিল না। এই উদাহরণগুলোর তালিকা আরও দীর্ঘায়িত করার সুযোগ ছিল। তবে এই পর্যন্ত আমাদের আলোচনার ব্যাখ্যায় যে দৃষ্টান্তগুলো এসেছে, আশা করা যায় সেগুলো সচেতন মুসলিম ও বিবেকবান বিশ্ববাসির উপর থেকে মার্কিন প্রোপ্যাগান্ডার প্রভাব দূর করতে যথেষ্ট হবে ইনশাআল্লাহ্। সংক্ষেপে, ইসলামি বিশ্ব ও মুসলমানদের প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং ইসলামের অন্যান্য শত্রুদের বিদ্বেষের কারণ ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনা ছিল না। এই বিদ্বেষ হক্কের প্রতি বাতিলের চিরায়ত বিদ্বেষ, এই বিদ্বেষ রব্বে কারিম প্রদত্ত আসমানি মতবাদের প্রতি মনগড়া কল্পনাপ্রসূত মতবাদের বিদ্বেষ। ইসলাম এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে অবিশ্বাসীদের এই শত্রুতা পরিচালিত হয়ে আসছে ১১ সেপ্টেম্বরের বহু শতাব্দী আগে থেকেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার প্রক্সিরা, যারা ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনার আগে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সহিংস বৈরিতা প্রদর্শন করেছিল এবং লক্ষ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছিল, তারা ৯/১১ না ঘটলেও এটি চালিয়ে যেত, বরং এটি আরও গভীরে পৌঁছাতো। ১১ই সেপ্টেম্বরের আগে আমেরিকার বিদ্বেষ, আগ্রাসন ও শত্রুতা ১১ সেপ্টেম্বরের পরের ঘৃণা, আগ্রাসন ও শত্রুতার চেয়ে কম ছিল না। উদাহরণস্বরূপ, ইরাকের বিরুদ্ধে ১৯৯০ সালে শুরু হওয়া নিষেধাজ্ঞার কারণে লক্ষ লক্ষ ইরাকি রোগ ও অপুষ্টিতে মারা গিয়েছিল। বিশ্ব এর আগে কখনও এমন নিষেধাজ্ঞা দেখেনি। ঘটে যাওয়া অসংখ্য ঘটনার মাঝে এটি মাত্র একটি উদাহরণ। যদি আমরা ইতিহাসের দৃষ্টিকোণ থেকে ১১ সেপ্টেম্বরের ভূমিকা মূল্যায়ন করি, তবে আমরা এই ঘটনাকে ১০৭১-এর মানজিকার্ট, ১১৮৭-এর জেরুজালেম বিজয়, ১৪৫৩-তে ইস্তাম্বুল বিজয়ের মতো ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোর সাথে তুলনা করতে পারি। কেননা এর প্রত্যাকটিই মানব ইতিহাসে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটিয়েছে, জালিমদের বিরুদ্ধে নিপীড়িত জনতাকে ঘুরে দাঁড়াবার সাহস জুগিয়েছে। হারানো ভূমি পুনরুদ্ধারে ঘুমন্ত শার্দূলদের জাগ্রত করেছে। মুসলিমদেরকে কাফেরদের প্রতিটি ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া জানানোর হিম্মত জুগিয়েছে। পরিশেষে, বিশ্বপরাশক্তির লেবাসধারী জালেমদের কবর খুঁড়েছে। সুতরাং, গ্লোবাল নর্থ, ওয়েস্টার্ন ব্লক, ক্রুসেডার ওয়ার্ল্ড বা পশ্চিম ইউরোপ… আমরা যে নামেই বলি না কেন, ইসলাম এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিশ্বের এই শক্তিগুলোর মনস্তাত্ত্বিক ও সামরিক যুদ্ধ ১০০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসছে। তাই এটি বলা ঠিক হবে না যে, ইসলামি বিশ্বের বিরুদ্ধে এই আগ্রাসনের ইতিহাস ১১ সেপ্টেম্বর, ২০০১-এ শুরু হয়েছে, কিংবা ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনার কারণে মুসলিমরা আজ বিশ্বব্যাপি করুণ পরিণতি বরণ করছে। বরং, এটা তো ছিল মুসলিমদের বেহাল দশার শেষের শুরু, রাতের গভীর অমানিসার শেষপ্রান্তে দিগন্ত চিঁরে উন্মেষ ঘটা এক চিলতে আলো। মানবতার দুশমনদের জুলুমের প্রদীপ নিভে যাওয়ার আগে দপ করে জ্বলে উঠার গোঙানি-আস্ফালন আর আমাদের ভীত না করুক।