- Последний пост
- 13 авг.
- Последнее чтение
- 15 авг.
- Постов за неделю
- 9
- Всего постов
- 21
- Тип
- открытый
- Язык
- bn
- Категория
- Новости и СМИ (по похожим)
- В каталоге с
- 12 авг.
- 1/24сутки в ленте
- 2 183
- 1/48двое суток
- 2 501
- 1/72трое суток
- 2 698
Оценка по просмотрам недавних постов: пост набирает почти всё за первые сутки.
Посты
আপনি কি আমার সাথে একমত?
কালের স্রোতে কওমির শিক্ষা ব্যবস্থায় নানান ত্রুটি প্রবেশ করলেও ইলমি যোগ্যতা তৈরির ক্ষেত্রে এটি এখনও এদেশের অপ্রতিদ্বন্দ্বী শিক্ষা-ব্যবস্থা এবং এখনও এর মজবুত কোন বিকল্প গড়ে উঠে নাই। এই বাস্তব সত্যকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কেউ অস্বীকার করতে চাইলে সে আসলে অন্ধকারের বাসিন্ধা। বাস্তবতা সম্পর্কে তার কোনই জানাশোনা নেই। প্রতি বছর এদেশে যত বই আরবি থেকে অনুবাদ হয়ে বাংলা-জ্ঞানভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করছে তার ৯৫%-ই কওমিপড়ুয়াদের হাত ধরে হচ্ছে। এছাড়া আরবিতে কিংবা বাংলাতে এদেশে মৌলিকভাবে ফিকহ-ফতোয়া-হাদিস ইত্যাদির যেসব খালেস ইলমি কাজ হচ্ছে সেগুলোরও প্রায় ৯৫% কওমি আলেমরা বা তালিবুল ইলমরা আঞ্জাম দিচ্ছে আলহামদুলিল্লাহ। এমনকি যারা কওমিদের দেখতে পারে না, তারা নিজেরাও নানানভাবে এর সুবিধাভোগী। উদাহরণস্বরূপ আলি হাসান ওসামাকে দেখুন। সে সম্প্রতি মাওলানা মওদুদির পক্ষ নিয়ে যে বই রচনা করেছে, আজ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর এদেশের কোন আলেমের চিন্তায় এমন বইয়ের কনসেপ্ট আসেনি বা আসলেও সেটা আলোর মুখ দেখেনি। কিন্তু আলি হাসান ওসামা এসেই অল্প কয়েকদিনে তাদের পক্ষে এমন একটা ভিন্ন কনসেপ্টের বই রচনা করে ফেলেছে। বইয়ের ভাল-মন্দ ভিন্ন আলাপ। কিন্তু সে যে এটা করে দেখিয়েছে, আমি সেটা ফোকাস করছি। আলি হাসান ওসামার এই যোগ্যতাও কওমি মাদ্রাসাগুলোর অবদান। কওমির স্বল্প বেতনে মাদ্রাসায় কষ্টক্লিশে পড়ে থাকা নিভৃতচারী উস্তাদদের হাত ধরেই তার এই ইলমি যোগ্যতা গড়ে উঠেছে। যদিও সে স্বার্থের বশে সেটাকে ভিন্ন জায়গায় ব্যবহার করছে এখন। রাজনৈতিক কারণে সারাদিন কওমিদের পেছনে লেগে থাকা ও তাদের বিরোধিতা করা সহজ, কিন্তু তাদের এই অবদানকে কীভাবে অস্বীকার করবেন বা একেবারে অন্ধ হওয়া ছাড়া আদৌ কী তা সম্ভব?
তিন তালাক একসাথে দিলে যে তিন তালাকই হয় এটা আব্বাসি খিলাফতের শুরুর সময়েও সমাজে প্রচলিত ছিল এবং সবাই এভাবেই জানতো। এটা নিয়ে মূলতো সমাজে বিতর্কটা জোরালো করেন ইবনু তাইমিয়া রাহ. অষ্টম শতাব্দিতে। যাইহোক, আহলে ইলমরা ঘটনাটা পড়তে পারেন।
এক ব্যক্তি ইবনে আব্বাস রা.-কে বললেন: “আল্লাহর কাছে দুআ করুন, যেন তিনি আমাকে মানুষের মুখাপেক্ষিতা থেকে মুক্ত করে দেন।” তখন ইবনে আব্বাস রা. বললেন: “কোনো মানুষই অন্য মানুষের প্রয়োজন থেকে পুরোপুরি অমুখাপেক্ষী হতে পারে না। বরং আল্লাহর কাছে দুআ করো, যেন তিনি তোমাকে নীচ ও হীন চরিত্রের মানুষের মুখাপেক্ষিতা থেকে মুক্ত রাখেন।” — আন-নাওয়াদির ওয়াত-তুহাফ, পৃ. ৩২৮
ধরেন কুরআন ইংরেজিতেই নাযিল হলো। তখন আরবের লোকেরা বলত, এটা এমন এক ভাষায় নাযিল হয়েছে যে আমরা এই ভাষা জানিই না। ফলে তারা এটা প্রত্যাখ্যান করতো এবং মূল উদ্দেশ্য অর্জিত হতো না। যদি বলা হয়, নবিকে ইউরোপিয়ান করেই পাঠাতো যেতো। তাহলেও কিন্তু সমাধান হতো না৷ কারণ সমগ্র ইউরোপের ভাষা ইংরেজি না। আর যদি ইংরেজি হতোও, তখন আরবের লোকেরা সেম প্রশ্ন তুলত যে কেন এটা ইংরেজিতে নাযিল হলো, আরবিতে কেন নয়? মোটকথা যে ভাষাতেই নাযিল হোক না কেন, এসব প্রশ্ন আসতোই। ফলে যেটা করা হয়েছে, অর্থাৎ আরব দেশে অবতীর্ণ হবার কারণে সেই অঞ্চলের ভাষাতে আসাটাই সবচে যুক্তিযুক্ত ছিল। কারণ শেষ পর্যন্ত কোনো না কোনো ভাষাকে তো বেছে নিতে হতোই।
অযোগ্যতা আমার পছন্দ না। পছন্দ না বলতে বিষয়টা আরেকটু ব্যাখ্যা করে বলি৷ সব বিষয়ে তো সবার যোগ্যতা থাকবে না। যেমন আমার মধ্যে গাড়ি চালানোর যোগ্যতা নেই। মোবাইল সার্ভিসিং এর যোগ্যতা নেই৷ তো এমন অনেক কিছুই নেই। এসব কোনো অযোগ্যতা না৷ অযোগ্যতা পছন্দ না বলতে বুঝানো হচ্ছে, আপনি যে বিষয়ে নিজের যোগ্যতা আছে দাবী করছেন বা কোনো না কোনোভাবে বুঝাচ্ছেন, সেই বিষয়ে বাস্তবে যোগ্যতা না থাকা।
অনেক বার উমরা করার তাওফীক হলেও হজ করার সুযোগ হয়নি এখনো। আগে থেকেই নিয়ত ছিল ২০২৭ সালে হজ করব ইনশাআল্লাহ। তবে কাদের সাথে যাব সেটা নিয়ে দ্বিধান্বিত ছিলাম। শেষমেশ সিদ্ধান্ত নিলাম Qibla Caravan এর সাথে যাব ইনশাআল্লাহ। কারণ সর্বশেষ উমরার সফরে অত্যন্ত চমৎকার সার্ভিস পেয়েছি। শুধু যে যাবো তা না, আমি নিজে শরঈ বিষয়গুলো তত্ত্বাবধানও করব। এবারের উমরার সফরে সাধারণ যিয়ারার বাইরেও আলাদাভাবে হজের মানাসিকগুলো আলাদাভাবে সময় নিয়ে ঘুরে দেখেছি। আল্লাহ যদি কবুল করেন এবং সব ঠিকঠাক থাকে, তাহলে ২৭ সালে আসবে সেই বহুল কাঙ্খিত সময়। যারা ২৭ এ হজ করার নিয়ত করেছেন তারা সঙ্গী হতে পারেন আমাদের সাথে৷ হজের প্রতিটি বিষয় সঠিকভাবে পালন করার পাশাপাশি অন্যান্য সুবিধাগুলো ঠিক সেভাবেই পাবেন, যেভাবে বলা হবে। বিস্তারিত জানার জন্য- Qibla Caravan, Hajj & Umrah Services WhatsApp : 01409-700800, 01613-711811
ইবনুল কাইয়্যিম রহ. বলেছেন, “দুনিয়াতে সবচেয়ে কঠিন শাস্তি হলো—আল্লাহ তোমার জিহ্বাকে তাঁর যিকির থেকে বিরত করে দেবেন।”
এবারের উমরার সফরে তায়েফ যিয়ারতের সময় মসজিদে ইবনে আব্বাসের চত্তরে কাফেলার সবাইকে তায়েফে ইসলাম প্রচারের ইতিহাস বলার পর ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত একটা দুআর ছোট অংশ মুখস্ত করিয়েছিলাম। সেটা ছিল- اللَّهُمَّ أَعِنِّي وَلَا تُعِنْ عَلَيَّ 'হে আল্লাহ! আমাকে সাহায্য করুন, আমার বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্য করবেন না।' খুবই ছোট দুআ, তবে অত্যন্ত পাওয়ারফুল। আপনারাও চাইলে মুখস্ত করে নিতে পারেন।
বাইতুল্লাহর সফরে চোখের হেফাজত সবচে কঠিন কাজগুলোর একটি। কারণ নানান দেশের মানুষের আগমন ঘটে। সবার পর্দার সেন্স সমান হয় না। কিন্তু যদি কেউ কষ্ট করে চোখের হেফাজত করে নিতে পারে, তবে আমার বিশ্বাস এই নেক আমলের উসিলা দিয়ে দুআ করলে আল্লাহ সেটা কবুল করে নিবেন। একটা বাস্তব ঘটনা শেয়ার করি। আমি আরবীভাষা শিক্ষা বিষয়ক কিতাব 'হাইয়া আলাল আরাবিইয়া' এর কাজ শেষ করার জন্য বাইতুল্লাহ সফরে গিয়েছিলাম দু বছর আগে। সেবার শুরু থেকেই নিয়ত ছিল চোখের ব্যাপারে সবচে যত্নবান থাকব। আলহামদুলিল্লাহ, পুরো সফরে একবারও নজরের খেয়ানত হয়নি। সফরে আমার কিতাবটার কাজও শেষ হলো। আমি মহা খুশি। মনের আনন্দে ফিরতি পথ ধরলাম। জেদ্দা এয়ারপোর্টের ইমিগ্রেশনে বাঁধলো বিপত্তি। চেকিং-এ আমার লেপটপের ব্যাগ হাওয়া। মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। আমার কিতাবটা ছিল লেপটপে। আলাদা ব্যাকআপও রাখিনি৷ লেপটপের জন্য অতো কষ্ট হচ্ছিল না, কষ্ট হচ্ছিল দীর্ঘ সাধনার পরিসমাপ্তির পর সেটা হাতছাড়া হবার কারণে। ইমিগ্রেশনের সিকিউরিটিকে বললাম। তারা সিসি টিভি চেক করতে বললা। সিসি টিভির রুমে গিয়ে সব খুলে বলার পর তারা চেক করে দেখল কালো প্যান্ট আর সাদা গেঞ্জি পরা টাক মাথার এক যুবক ব্যাগটা তুলে নিয়ে চলে যাচ্ছে৷ তাকে ধরার জন্য পুলিশে কমপ্লেইন করার জন্য বলল সিকিউরিটির লোকরা। কারণ এটা ওদের কাজের অংশ না। এখন আমি কোথায় পুলিশের অফিস খুঁজব! এই পুরো ঘটনা আমি কয়েক লাইনে লেখলেও সবকিছু করতে পার হয়ে গেছিল এক ঘন্টারও উপরে। এদিকে বিমান ছেড়ে দেবারও সময় ঘনিয়ে আসছে। সব সাথীরা বহু আগেই চলে গেছে নির্ধারিত গেটে৷ শুধু আমি একা তখনও পড়ে আছি ইমিগ্রেশনে৷ মনের অবস্থা কেমন ছিল তখন বুঝতেই পারছেন৷ দুনিয়াবি সব উপায় থেকে নিরাশ হয়ে শেষমেশ আল্লাহর কাছে দুআতে মনোনিবেশ করলাম। ইমিগ্রেশন ছাড়ার আগে এই সফরে আমার পরিপূর্ণ চোখের হেফাজতের আমলের উসিলা দিয়ে দুআ করলাম যেন লেপটপটা ফিরে পাই৷ নইলে আমার এত কষ্ট এত পরিশ্রম সব মাটি হয়ে যাবে! কারণ হাদিসে এসেছে, নেক কাজের উসিলা দিয়ে দুআ করলে কবুল হবার সম্ভাবনা বাড়ে। এই বিষয়ে বনী ইসরাইলের তিন ব্যক্তির ঘটনা আমরা সবাই কমবেশ জানি। দুআ শেষ করে ইমিগ্রেশের এরিয়া ছেড়ে চলন্ত সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতেই এক লোক পেছন থেকে এসে কাঁধে হাত রাখলো। আমি ভুত দেখার মতো চমকে উঠলাম। আরে! সিসি টিভিতে দেখা সেই ছেলেটাই তো! গায়ে সাদা গেঞ্জি, পরনে কালো প্যান্ট, মাথায় চুল নেই৷ সে আমার লেপটপের ব্যাগটা এগিয়ে দিয়ে বলল, আমি ভুলে এটা নিয়ে ফেলেছিলাম। পরে যখন বুঝলাম এটা আমার না, তখন তোমাকে খোঁজা শুরু করলাম এবং এই এক ঘন্টা যাবৎ আমি এখানেই তোমার খোঁজে আছি। আমার বিমান ছেড়ে দিবে, এক্ষুনি যেতে হবে। সবকিছু আমার কাছে স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছিল। যে জিনিস পাবার আশা আমি একেবারে ছেড়ে দিয়েছিলাম এবং ব্যর্থ মনোরথে ফিরে যাচ্ছিলাম আল্লাহ গায়েবিভাবে সাহায্য করে সেটা মিলিয়ে দিলেন৷ সেসময় কতোটা খুশি হয়েছিলাম লিখে বুঝানো সম্ভব নয়৷ আমি বিস্মায়াবিষ্ট হয়ে বোবার মতো দাঁড়িয়ে ঘটনা দেখে যাচ্ছিলাম। এমনকি সেই ছেলের নাম পর্যন্ত জিগ্যেস করতে মনে নেই। আমার মনে দৃঢ় বিশ্বাস জন্মেছিল যে, এটা আমার সেই দুআ কবুলের ফসল, যেখানে চোখের হিফাজতের আমলের উসিলা দিয়ে দুআ করেছিলাম। পুনশ্চ: পরবর্তীতে সেই বইটি প্রকাশিত হয়েছে। সম্প্রতি এর পরিমার্জিত সংস্করণও হয়েছে। সেটার শর্ট পিডিএফ লিংক কমেন্টে দিয়ে রাখব। দেখতে পারেন৷
আজকে উদ্বোধন হবে ২০ নং ব্যাচের। যারা মূলত কুরআনের অর্থ বুঝার জন্য আরবীভাষা শিখতে আগ্রহী, তবে কর্ম-ব্যস্ততার কারণে সময় পান কম, তাদের জন্য কোর্সটি উপযোগী। ধীরেসুস্থে পড়ানো হয়। পুরুষ-মহিলা আলাদা ব্যাচ। আরো বিস্তারিত জানার জন্য কমেন্টে দেওয়া লিংক চেক করুন। ভর্তি হতে চাইলে মেসেজ করুন- ফেসবুক পেইজ- www.facebook.com/NLQURAN হোয়াটসআপ- https://wa.me/8801700946569
ভারতে মুসলিমরা সংখ্যায় সংখ্যালঘু হওয়া সত্ত্বেও সেখানে যুগে যুগে বহু খ্যাতিমান ইসলামিক স্কলারের জন্ম হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমপর্যায়ের ইসলামিক গবেষক ও চিন্তাবিদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। এর পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও শিক্ষাগত কারণ রয়েছে। প্রথমত, একজন বড় ইসলামিক স্কলার গড়ে উঠতে কেবল মেধাই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি জ্ঞানচর্চার পরিবেশ। এমন পরিবেশে নিয়মিত গবেষণা, বিতর্ক, রচনা, শিক্ষক-শিষ্য পরম্পরা এবং উচ্চতর একাডেমিক চর্চার সুযোগ থাকতে হয়। দ্বিতীয়ত, ইসলামী জ্ঞানের ক্ষেত্রে দীর্ঘ ধারাবাহিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে; বিশেষত দিল্লি, লখনউ, সাহারানপুর, দেওবন্দ, নদওয়া প্রভৃতি কেন্দ্রকে ঘিরে শত শত বছর ধরে হাদিস, তাফসির, ফিকহ, আরবি ভাষা ও ইসলামী চিন্তাধারার সমৃদ্ধ ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে। এক প্রজন্মের আলেম পরবর্তী প্রজন্মকে তৈরি করেছেন, ফলে একটি শক্তিশালী জ্ঞান-ঐতিহ্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তৃতীয়ত, বড় স্কলার তৈরির জন্য বড় স্কলারদের সান্নিধ্য অপরিহার্য। একজন শিক্ষার্থী যখন দীর্ঘ সময় ধরে অভিজ্ঞ মুহাক্কিক, মুফাসসির, মুহাদ্দিস বা ফকিহদের কাছে পড়ার সুযোগ পান, তখন তাঁর চিন্তার গভীরতা, গবেষণার পদ্ধতি এবং বিশ্লেষণী সক্ষমতা স্বাভাবিকভাবেই বিকশিত হয়। এ ধরনের সুযোগ ভারতে তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল এবং এখনও অনেক ক্ষেত্রে রয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশে ইসলামী শিক্ষার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও গবেষণামুখী উচ্চতর শিক্ষার পরিমণ্ডল, আন্তর্জাতিক মানের একাডেমিক যোগাযোগ, দীর্ঘদিনের গবেষণা-ঐতিহ্য এবং বিশ্ববরেণ্য স্কলারদের ধারাবাহিক উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে সীমিত। ফলে আন্তর্জাতিক মানের ইসলামিক গবেষক তৈরি হওয়ার পথ কিছুটা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে বর্তমানে বাংলাদেশেও ইসলামী শিক্ষা ও গবেষণার নতুন নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যদি গবেষণামুখী শিক্ষা, আরবি ভাষায় দক্ষতা, মৌলিক রচনা, আন্তর্জাতিক একাডেমিক যোগাযোগ এবং যোগ্য আলেম তৈরির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকেও বিশ্বমানের ইসলামিক স্কলারের আবির্ভাব ঘটতে পারে ইনশাআল্লাহ।
মাদরাসাগুলোর নানান সমস্যা নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। মুরুব্বিরা কেন উদ্যোগ নেন না, এটা নিয়ে অনেক মতামত চোখে পড়ছে। আমি ঢাকার বৃহত্তর দুইটি মাদরাসায় পড়েছি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে একটু ভিন্ন এঙ্গেল থেকে বিষয়টাকে দেখি। সেটা হলো, যেসব সমস্যা নিয়ে সবাই আলাপ করছে, বড় মাদরাসাগুলো এর থেকে সাধারণভাবে মুক্ত বলা যায়। সাধারণত এসব ঘটে ছোট/প্রাইভেট মাদরাসাগুলোতে। আর মাদরাসাগুলোর সর্বোচ্চ অথরিটির দায়িত্বশীলরা সবাই বড় বড় মাদরাসাগুলোর দায়িত্বশীল। তাছাড়া তারা অনলাইন থেকেও দূরে। একদিকে তাদের প্রতিষ্ঠানে এসব ঘটছে না বলে যেমন তারা ধরে নিচ্ছে সবকিছু শান্ত, তেমনি অন্যত্র যেসব ঘটছে সেসবও জানতে পারছে না বিধায় এগুলো নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না। এর বাইরে আরো কারণ আছে৷ সেগুলো অনেকেই আলাপে আনছে, তাই ওদিকে গেলাম না।
বিখ্যাত তাফসীর 'আদ্বওয়াউল বায়ান' এর লেখক আল্লামা আমিন শানক্বিতির ছেলে আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল-আমীন শানক্বিতির তাফসীরের দারসে বসার সুযোগ হয়েছিল। তাঁর একটা কথা খুবই ভালো লেগেছে। তিনি বলেছেন, 'গুনাহগার ব্যক্তি যদি জানত যে, গুনাহের কারণে দুনিয়াবি দিক দিয়ে কী কী ক্ষতি হয় তাহলে সে তার দুনিয়া রক্ষা করার জন্য হলেও গুনাহ ছেড়ে দিত।'
কুরআন না থাকলে যে আরবীভাষা পরিবর্তিত হয়ে যেতো সেটা আরবে আসলে ভালোভাবেই উপলব্ধিতে আসে। এটা ভাষার একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া যে, সময়ের সাথে সাথে তাতে বিবর্তন ঘটতে থাকবে। সেই বিবর্তনটা এতোই ব্যাপক যে, কয়েকশ বছর আগের ভাষাকে অপরিচিত ভাষা মনে হয়। এক হাজার বছর আগের আদি বাংলায় রচিত চর্যাপদ আমরা বুঝবোই না। কিন্তু দেখেন, দেড় হাজার বছর আগের কুরআন এই জামানাতে এসেও আমাদের অর্থ বুঝতে অসুবিধা হয় না৷ কুরআনই মূলত খাঁটি আরবীভাষাকে টিকিয়ে রেখেছে শতাব্দির পর শতাব্দি। এটা কুরআনের একটা মুজিযাও বটে। কুরআনের ভাষাকে অবিকল রাখার জন্য আলেমরা প্রতি যুগেই সচেষ্ট ছিলেন। ভাষার শুদ্ধতাকে তারা খুব গুরুত্ব দিয়েছেন। যেহেতু এর সাথে কুরআনের একটা বলিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। আপনি আরবীভাষা যদি শিখতেই চান, তবে বিশুদ্ধ আরবী শিখুন। অনেকেই দেখি কথ্য আরবীর পেছনে ছুটে৷ হ্যা, যারা আরবে কাজকর্ম করতে যাবেন, তাদের জন্য এটা ঠিকাছে। কিন্তু উদ্দেশ্য যদি হয় কুরআনের অর্থ বুঝা, তবে বিশুদ্ধ আরবীভাষা শেখার কোন বিকল্প নেই৷ বিশুদ্ধ আরবীভাষা (ফুসহা) শেখার জন্য আমাদের কোর্সটাও দেখতে পারেন৷ চাকরি-সংসার বা পড়ালেখার ব্যস্ততার ভেতর দিয়ে যারা ধীরেসুস্থে কুরআনের অর্থ বুঝার উদ্দেশ্যে আরবীভাষা শিখতে চান, এটা মূলত তাদের জন্য৷ বিস্তারিত কমেন্টে পাবেন।
কথায় কথায় একজন বলল, 'আমাদের দেশে মেয়েরা অনেক সময় স্বামীর দ্বারা নানান ধরনের টর্চারের শিকার হয় এটা তো বাস্তব সত্য। এবং এই বিষয়গুলো অনেক বেশি আমাদের সামনেও আসে, চর্চা হয়। কারণ মেয়েরা এসব বিষয় নিয়ে প্রচুর আলাপ করে। কিন্তু এদেশে ছেলেরাও প্রচুর পরিমাণে স্ত্রীদের দ্বারা মেন্টাল টর্চারের শিকার হয়। মুড সুইং, রাগ-অভিমানসহ আরও নানান নামে তারা এই টর্চারগুলো করে। কিন্তু ছেলেরা এগুলো তাদের আলাপে আনে না বললেই চলে। ফেসবুকেও দেখবেন নানান গ্রুপ আছে, যেখানে মেয়েরা তাদের জামাইদের নিয়ে অভিযোগের বাক্স খুলে বসেছে। কিন্তু ছেলেদের এমন গ্রুপ পাবেন না। কারণ দু'টো। এক হলো, ছেলেদের সবর বেশি। তারা এসব কষ্ট বুকে চাপা দিয়েই দিব্যি হাসিমুখে চলে। দুই হলো, স্ত্রীদের এই ব্যাপারগুলো অন্যদের সাথে আলোচনা করাটা পুরুষদের পছন্দ না। কারণ এটা তাদের পৌরুষের সাথে যায় না৷ এছাড়াও গসিপ মেয়েদের কাছে যতোটা প্রিয়, ছেলেদের কাছে ততোটা না। ফলে ছেলেদের বিষয়গুলো বারবার আলোচিত হলেও মেয়েদের ব্যাপারগুলো অনালোচিতই থেকে যায়।' ভেবে দেখলাম, কথা একেবারে খারাপ বলেনি। কারণ ফেসবুকে এই পর্যন্ত মেয়েদের যত পোস্ট দেখেছি জামাইদের নিয়ে অভিযোগ করা নিয়ে, তার সিকিভাগও ছেলেদের দেখিনি৷
এবারের বাইতুল্লাহর সফরটা ছিল আমার জন্য নতুন এক অভিজ্ঞতার। গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলো যিয়ারাতে আমি ব্রিফ করেছি। চেষ্টা করেছি তিনটা বিষয়ের সমন্বয় ঘটাতে— ১. ইতিহাস ও পরিচয়, ২. সংশ্লিষ্ট জায়গা সংক্রান্ত আয়াত-হাদীস, ৩. আমাদের জন্য শিক্ষণীয় দিক। একটা বিষয় ভালোভাবে চোখে পড়ছে। সেটা হলো, সৌদি সরকারের ভিশন-৩০ এর ছাপ। সবকিছুকে কমার্শিয়াল ও টুরিজমের দিকে নিয়ে যাবার প্রবণতা। ওহুদের ময়দানে এখন আর জাবালে রুমাতে রিয়াল দিয়ে টিকেট কেনা ছাড়া আপনি চড়তে পারবেন না। অথচ এগুলো সব আগে উন্মুক্ত ছিল সবার জন্য।
মাদরাসায় একটা ছেলেকে একজন হুজুর জানোয়ারের মতো পেটাচ্ছে, এমন একটা ভিডিও সামনে এসেছে। মনটা এতো খারাপ হলো দেখে, যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। এই যে শিক্ষকদের এমন আচরণ, এটার পেছনে একটা বড় কারণ হলো, শিক্ষক প্রশিক্ষণের ঘাটতি। আমি হিফজখানায় পড়া অবস্থায় মাইর খেয়েছি কখনো কখনো। পড়ালেখার জন্য না, ঘুরাঘুরি বা দুষ্টামির জন্য৷ এগুলো নিয়ে আমার কোন কষ্ট নেই। কারণ অনেক সময় মাইর খাওয়ারই উপযুক্ত ছিলাম। ফলে এগুলো আজ আর আমার স্মৃতিতে নেই। কোন উস্তাদের উপর কষ্টও নেই এসব নিয়ে। শুধু একটা ঘটনা ছাড়া। রুটিন ছিল নাস্তা খেয়ে ১০টার মধ্যে ঘুমানোর জন্য বিছানায় যেতে হবে। একদিন আমার ১০টা ৫/১০ বেজে গেছিল নাস্তা শেষ করতে করতে। একজন উস্তাদ এসে আমাকে এত জোরে ২টা বেতের বাড়ি দিয়েছে যে, সেই স্মৃতি মনে পড়লে এখনো কষ্ট লাগে৷ কষ্ট লাগে এজন্য যে, তিনি বাড়ি দুইটা দেবার সময় নাকমুখ কুঁচকে শরীরের সব শক্তি একত্রিত করে বাড়ি দিয়েছেন৷ দেখে মনে হচ্ছিল তার কোন মহা শত্রুর উপর জিঘাংসা মিটাচ্ছেন। অথচ এটা এমন কোন বিষয়ই ছিল না। তিনি হালকাভাবে বা একটু জোরেও বাড়ি দিতে পারতেন। ১০ মিনিট দেরি করা এমন কোন বিষয় ছিল না, যার কারণে এমনভাবে চোখমুখ কুঁচকে শরীরের সব শক্তি একসাথে করে বাড়ি দিতে হবে। মাদরাসাগুলোতে এখন অবশ্য মারামারি অনেক কমে এসেছে আগের তুলনায়৷ তবুও মাঝেসাঝে যা সামনে আসে, সেগুলোও নিশ্চিহ্ন হওয়া উচিত। এর জন্য শিক্ষক প্রশিক্ষণের কোন বিকল্প নেই। কিন্তু এদেশের হিফজখানার শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের কোন নিয়মতান্ত্রিক বিধি নেই৷ বিভিন্ন ব্যক্তি উদ্যোগে যা হয়, সেখানে চাইল্ড সাইকোলজি বোঝা ও শিশু শিক্ষার ক্ষেত্রে করণীয়-বর্জনীয় জিনিসগুলো খুব কমই আলোচিত হয়। মাদরাসাগুলোর শিক্ষাব্যবস্থার এই বিশৃঙ্খল অবস্থা যত দ্রুত মিটবে ততোই কল্যাণ। নইলে এর দেনার দায় মেটাতে হবে বড় পরিসরে।
বাইতুল্লাহর সফরে অতীতে কখনো অসুস্থ হইনি আমি আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু এবার বেশ ভালোভাবে জ্বরে ধরেছে। জ্বরের থেকেও বড় সমস্যা, পুরো শরীর ব্যাথা। বিশেষকরে হাড্ডির জয়েন্টে জয়েন্টে ব্যাথা। হাত-পায়ের পেশীগুলো মনে হয় চাবাচ্ছে। আর খুবই দুর্বল লাগছে। এমন অসুস্থ শরীরে কিছুই করতে মনে চায় না। অথচ 'কুরআনী শব্দের তাফসীর' বইটার কাজ এই পবিত্র শহরেই শেষ করার নিয়ত নিয়ে এসেছিলাম।
যতবারই জাবালে নুরে যাই, আমি অবাক বিস্ময়ে থাকি। খাদিজা রা. এর আত্মত্যাগের কথা ভেবে হয়রান হই। নবীজিকে কতোটা ভালোবাসতেন তিনি যে, এত বড় উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত হেরা গুহাতে তাঁর জন্য খাবার নিয়ে উঠে যেতেন৷ তখনও কিন্তু তিনি নবী হননি। আর দশজন স্বামীর মতোই একজন স্বামী ছিলেন খাদিজা রা. এর কাছে। স্বামীভক্তির এমন নজির দুনিয়ায় কি দ্বিতীয়টা খুঁজে পাওয়া যাবে?