tgindex
Nazrul Islam

سَمِعۡنَا وَاَطَعۡنَا‌ غُفۡرَانَكَ رَبَّنَا وَاِلَيۡكَ الۡمَصِيۡرُ আমরা শুনলাম এবং মানলাম। হে আমাদের রব! আমরা আপনারই ক্ষমা প্রার্থনা করি, আর আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল। [২:২৮৫]

Последний пост
12 авг.
Последнее чтение
15 авг.
Постов за неделю
1
Всего постов
21
Тип
открытый
Язык
bn
Категория
Религия
В каталоге с
14 авг.
Подписчики
2 154
+1 за 3 дн.
Сутки
+1
+0,05%
Неделя
 
Месяц
 
Просмотров на пост
649
21 постов
Вовлечённость
30,1%
к подписчикам
Постов в день
0,1
всего 21
Упоминаний
0
каналов
Охват размещения
оценка
1/24сутки в ленте
88
1/48двое суток
100
1/72трое суток
108

Оценка по просмотрам недавних постов: пост набирает почти всё за первые сутки.

Посты

  • আমাদের দেহে রক্তচাপ কমে গেলে, রক্তের ভলিউম হ্রাস পেলে বা রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা নিম্নগামী হতে থাকলে কিডনির কোষগুলো তা বুঝতে পারে। বুঝে নিশ্চুপ থাকে না। তড়িঘড়ি করে রক্তে রেণিন নামক এনজাইম নিঃসরণ করে। এই রেণিন লিভার থেকে আসা অ্যানজিওটেনসিনোজেনকে ভেঙে অ্যানজিওটেনসিন-১-এ রূপান্তর করে। পরবর্তীতে অ্যানজিওটেনসিন-১-কে রূপান্তর করে অ্যানজিওটেনসিন-২-তে। এটিই অ্যালডোস্টেরন নিঃসরণ করতে বিশেষ সঙ্কেত বহন করে। অ্যালডোস্টেরন (Aldosterone) কিডনির ওপর অবস্থিত অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি (Adrenal gland) থেকে নিঃসৃত একটি স্টেরয়েড হরমোন। এটি কিডনিকে নির্দেশ দেয় রক্ত থেকে অতিরিক্ত পটাশিয়াম প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দিতে এবং সোডিয়াম ও পানি পুনর্শোষণ করে রক্তে ধরে রাখতে। রক্তে পানি ও সোডিয়ামের পরিমাণ বেড়ে গেলে রক্তের মোট আয়তন (Blood volume) বৃদ্ধি পায়, যা সরাসরি রক্তচাপকে বাড়িয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় নিয়ে আসে। সহজ ভাষায় বোঝার চেষ্টা করি। রেনিন হচ্ছে একটা এনজাইম, অ্যালডোস্টেরন হচ্ছে হরমোন। দুটো মিলে হয় একটা টিম। তাদের টিমওয়ার্ক হচ্ছে: রেনিন হলো সাইরেন বা সংকেতদাতা। শরীরে রক্তচাপ কমে গেলে রেনিন সতর্কবার্তা দেয় এবং অ্যালডোস্টেরন তৈরির পথ তৈরি করে। ​অ্যালডোস্টেরন হলো পলিসি বাস্তবায়নকারী। রেনিনের সংকেত পেয়ে সে কিডনি থেকে লবণ ও পানি শুষে নেয় এবং ক্ষতিকর পটাশিয়াম ফেলে দিয়ে রক্তচাপ স্বাভাবিক করে। আমাদের অজান্তেই ২৪ ঘণ্টা শরীরের ভেতরে রক্তচাপ ও তরলের ভারসাম্য ধরে রাখার জন্য এই জটিল ব্যবস্থাটি নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। আমরাও সেই নেয়ামতের একদম ভুলে আল্লাহর নাফরমানি করেই যাচ্ছি। রবের একচ্ছত্র আনুগত্যে ফিরে আসুন বেলা ফোরাবার আগেই!

  • без подписи

  • ক. দি প্যারাডক্স অব ডেথ বা মৃত্যুর বিপরীত আকাঙ্ক্ষা। দুনিয়ার বুকে মানুষের সবচেয়ে বড় ভয় মৃত্যু। এই মৃত্যুকে ঠেকাতে মানুষ কত আয়োজনই না করে! সম্পদ সঞ্চয় করে, চিকিৎসার পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করে, নিরাপত্তার জন্য নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। কারণ সে বেঁচে থাকতে চায়, আরও কিছুদিন এই পৃথিবীর স্বাদ উপভোগ করতে চায়। কিন্তু হাশরের ময়দানে দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে যাবে। মানুষ দুনিয়াকে আখেরাতের উর্বর শস্যক্ষেতে পরিণত করতে ব্যর্থ হলে বিচার শেষে তার আমলনামা বাম হাতে তুলে দেওয়া হবে এবং সে নিজের ভয়াবহ পরিণতি চোখের সামনে দেখতে পাবে, তখন অনুশোচনায় চিৎকার করে উঠবে—"হায়! আমার মৃত্যুই যদি সবকিছুর শেষ হতো!" সে চাইবে, যদি মৃত্যুর পর আর কখনো জীবিত হতে না হতো! যদি মাটিতেই চিরতরে মিশে যেত! কী নির্মম বৈপরীত্য! যে মৃত্যুকে একসময় সে সবচেয়ে বেশি ভয় করত, সেই মৃত্যুই তখন তার সবচেয়ে বড় কামনায় পরিণত হবে। কিন্তু তখন আর মৃত্যুও তাকে মুক্তি দেবে না। কারণ আখিরাত হলো চিরস্থায়ী জীবনের সূচনা, যেখানে পালিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। খ. দি ইলিউশান অব ওয়েলথ অ্যান্ড পাওয়ার বা দুনিয়ার দুটি শক্তির চরম ব্যর্থতা। মানুষকে পথভ্রষ্ট করার সবচেয়ে বড় দুটি মোহ হলো, সম্পদ এবং ক্ষমতা। অনেকেই মনে করে, অর্থ থাকলে সবকিছু কেনা যায়, আর ক্ষমতা থাকলে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কিন্তু কিয়ামতের দিন এই দুই শক্তির প্রকৃত মূল্য প্রকাশ পাবে। তখন মানুষ আফসোস করে বলবে— ﴿مَا أَغْنَىٰ عَنِّي مَالِيَهْ ۜ هَلَكَ عَنِّي سُلْطَانِيَهْ﴾ "আমার সম্পদ আমার কোনো উপকারে এলো না। আমার সব ক্ষমতা ও প্রভাব আজ বিলীন হয়ে গেল।" যে সম্পদের জন্য মানুষ হালাল-হারামের সীমা অতিক্রম করেছিল, যে পদ-মর্যাদা ও ক্ষমতার অহংকারে অন্যদের ওপর জুলুম করেছিল, আজ তার কিছুই অবশিষ্ট নেই। কোটি কোটি টাকা, ব্যাংক ব্যালেন্স, ব্যবসা, রাজপ্রাসাদ, রাজনৈতিক ক্ষমতা কিংবা সামাজিক মর্যাদা—সবকিছু এক মুহূর্তে অর্থহীন হয়ে যাবে। আল্লাহর আদালতে মানুষের সঙ্গে যাবে না তার সম্পদ বা প্রভাব; যাবে শুধু তার ঈমান ও আমল। গ. স্পিরিচুয়াল অ্যান্ড সোশ্যাল ফেইলিউর বা জাহান্নামে যাওয়ার মূল দুই কারণ। এরপর আল্লাহ তাআলা মানুষের এই ভয়াবহ পরিণতির মূল কারণও জানিয়ে দিয়েছেন। লক্ষ্য করলে দেখা যায়, এই দুটি কারণ মানুষের জীবনের দুটি সম্পর্ককে নির্দেশ করে—একটি আল্লাহর সঙ্গে, অন্যটি সৃষ্টির সঙ্গে। প্রথমত: সে মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে নি। নিজের রবকে অস্বীকার করেছে, তাঁর নির্দেশকে তুচ্ছ করেছে এবং তাঁর সামনে জবাবদিহির বিশ্বাস হৃদয়ে ধারণ করে নি, তারা পরকালে চরমভাবে লাঞ্ছিত হবে। দ্বিতীয়ত: সে অভাবী মানুষকে খাদ্য তো দিতই না; বরং অন্যদেরকেও সাহায্য করতে কাউকে উৎসাহিতও করত না। অর্থাৎ তার হৃদয়ে ছিল না আল্লাহর প্রতি আনুগত্য, আবার ছিল না মানুষের প্রতি দয়া ও দায়িত্ববোধ। এখানেই ইসলামের সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। ইসলাম শুধু মসজিদের ভেতরের ইবাদতের নাম নয়; ইসলাম মানুষের অধিকার রক্ষারও শিক্ষা দেয়। যে ব্যক্তি অভাবী মানুষের কষ্ট দেখে নির্বিকার থাকে, এমনকি সমাজকেও তাদের পাশে দাঁড়াতে উদ্বুদ্ধ করে না, সে নিজের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে। এটা বিস্তৃত বিষয়। আলোচনা দীর্ঘ হবে এটা খোলাসা করতে। ঘ. আলটিমেট আইসোলেশন বা চরম একাকীত্ব ও নিঃসঙ্গতা। দুনিয়ায় ধনী ও ক্ষমতাবান মানুষের চারপাশে মানুষের অভাব হয় না। বন্ধু, অনুসারী, প্রশংসাকারী, তোষামোদকারী—সবসময় ভিড় লেগেই থাকে। মানুষ মনে করে, এই সম্পর্কগুলোই তার শক্তি। কিন্তু হাশরের ময়দানে সেই সমস্ত মুখ অদৃশ্য হয়ে যাবে। সেখানে তার কোনো 'হামীম' অর্থাৎ অন্তরঙ্গ বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী কিংবা রক্ষাকারী থাকবে না। সে থাকবে সম্পূর্ণ একা, সম্পূর্ণ অসহায়। শুধু তাই নয়, তার জন্য কোনো সম্মানজনক আপ্যায়নও থাকবে না। তার খাদ্য হবে গিসলীন বা জাহান্নামীদের ক্ষত থেকে নির্গত পুঁজ, যা ভক্ষণ করবে কেবল চরম অপরাধীরাই। দুনিয়ায় যে মানুষ নিজেকে অপরাজেয় ভাবত, অসংখ্য মানুষের ভিড়ে নিজেকে শক্তিশালী মনে করত, আখিরাতে সে একাই দাঁড়িয়ে থাকবে তার রবের সামনে। সেদিন কোনো সম্পদ, কোনো ক্ষমতা, কোনো আত্মীয় কিংবা কোনো বন্ধু তার বিন্দুমাত্র উপকারে আসবে না। মুক্তির একমাত্র পথ হবে বিশুদ্ধ ঈমান, সৎ আমল এবং আল্লাহর রহমত।

  • বাংলাদেশের মতো অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশের জন্য লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি একটা অভিশাপ। এই অভিশাপ থেকে বের হওয়ার আগপর্যন্ত এই জাতির কোনো মুক্তি নেই। অন্ধ দলীয় আনুগত্য অনুন্নত দেশের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দুর্বল করে জাতীয় অগ্রগতিকে থমকে দেয়। রাজনীতি যখন নীতি ও আদর্শ ছেড়ে কেবল দলীয় সুবিধা বণ্টন ও ক্ষমতার টিকিয়ে রাখার হাতিয়ার হয়, তখন দেশ ক্রমাগত পেছাতে থাকে। মেধা ও যোগ্যতার জায়গায় দলীয় আনুগত্য অগ্রাধিকার পাওয়ায় সিভিল সার্ভিস, বিচার বিভাগ ও প্রশাসনিক কাঠামোর ভিত্তি নষ্ট হয়। ক্ষমতা পরিবর্তনের সাথে সাথে কেবল রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে আগের মেয়াদের ভালো উন্নয়ন প্রকল্প বা নীতিগুলো বাতিল করা হয়। এতে জাতীয় সম্পদের বিপুল অপচয় ঘটে। দলের আশ্রয়ে থাকা নির্দিষ্ট গোষ্ঠী টেন্ডার, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বাজার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। সমাজের সবচেয়ে জুলুমবাজ লোকও হয়ে যায় সামগ্রিক বিষয়ের নিয়ন্ত্রক। এসব লোকদের মুখে যত সুন্দর স্লোগানই থাকুক না কেন, কাজে "দেশের চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থ বড়" প্রতিফলিত হয়। ফলে মুক্ত প্রতিযোগিতা ব্যাহত হয়, পেশিশক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পায় এবং সাধারণ মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ে। বিশ্ববিদ্যালয় ও পেশাজীবী সংগঠনগুলোতে গবেষণা বা মানোন্নয়নের চেয়ে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন প্রধান হয়ে ওঠে, যা নতুন চিন্তাশীল নেতৃত্ব তৈরির পথ রুদ্ধ করে। যোগ্যতা অনুযায়ী মূল্যায়ন ও নিরাপত্তার অভাবে দেশের সবচেয়ে দক্ষ তরুণ ও পেশাজীবী জনগোষ্ঠী বিদেশমুখী হতে বাধ্য হয়। বিদেশে না গেলেও তারা দেশের হয়ে কাজ করতে বা দেশের কল্যাণে এগিয়ে আসতে অনীহা প্রকাশ করে। মূল্যায়ন না থাকলে কেউ-ই কাজে একাগ্রতা ধরে রাখতে পারে না। এই 'মরার ওপর খাঁড়ার ঘা' হিসেবে আবির্ভূত হয় পাঁচ অন্তর অন্তর বিশাল বাজেটের জাতীয় নির্বাচন। নিছক ভোট গ্রহণের পেছনে যে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়, তা মূলধনী বিনিয়োগ নয়। স্বাস্থ্য, শিক্ষা বা স্থায়ী অবকাঠামোর মতো উৎপাদনশীল খাতে এই অর্থ ব্যবহার করলে দীর্ঘমেয়াদি রিটার্ন পাওয়া যেত। দেশ উন্নতির পথে একধাপ এগিয়ে যেত। এখন প্রতি পাঁচ বছর পর তিন ধাপ পিছনে চলে আসে। নির্বাচনের আগে ও পরের কয়েক মাস নীতি পরিবর্তনের আশঙ্কা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ স্থগিত থাকে। এমনকি এই সময়ে মূলধন পাচারের (Capital Flight) প্রবণতাও বৃদ্ধি পায়। নির্বাচনী প্রচারণায় বিপুল পরিমাণ অপ্রদর্শিত অর্থ বাজারে আসার ফলে সাময়িক ও কৃত্রিম মূল্যস্ফীতি দেখা দেয়, যা সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এটার প্রভাব নির্বাচনের পরও দীর্ঘ একটা সময় পর্যন্ত থাকে। যেমন আমরা এখনো গেল নির্বাচনের কালো অর্থনৈতিক থাবা থেকে বের হতেই পারছি না। দিনদিন অবস্থার অবনতিই ঘটছে। নির্বাচনে বিজয়ী হতে প্রার্থীরা যে বিশাল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেন, ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতি, বাজার সিন্ডিকেটিং, বেপরোয়া টেন্ডারবাজি ও সরকারি কেনাকাটায় চড়া মূল্য ধরে তা তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ফলে নির্বাচনের প্রকৃত ব্যয় আদতে বহু গুণ হয়ে জনগণের ওপরই বর্তায়। ৫ বছর পর পর ক্ষমতা বা নীতি পরিবর্তনের আশঙ্কায় দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বা মেগা প্রকল্পগুলোর গতি ধীর হয়ে যায়। ফলে মানুষ উন্নয়নের গালভরা গল্প শুনলেও বাস্তবে সেগুলোর অস্তিত্ব খুঁজে পায় না। শক্তিশালী বিচার বিভাগ ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান না থাকলে নির্বাচন বিজয়ী দলের জন্য "বিজয়ী সব পাবে" লাইসেন্স হয়ে দাঁড়ায়, যা দুর্নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক দখলদারিত্বকে প্রশ্রয় দেয়। ৫ বছরের নির্বাচনী মেয়াদের কারণে দলগুলো শিক্ষা, গবেষণা ও স্থায়ী অর্থনৈতিক কাঠামোর মতো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার চেয়ে সাময়িক পপুলিস্ট নীতি গ্রহণ করে। সাধারণ মানুষের অধিকার, বাকস্বাধীনতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করার চেয়ে কেবল ৫ বছর পর পর একটি ভোটাভুটির আয়োজনকেই 'গণতন্ত্র' হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। শাসক দল বদলালেও অর্থনৈতিক সিন্ডিকেট, প্রশাসনিক তোষামোদি ও দুর্নীতির মূল কাঠামো একই থেকে যায়। ফলে সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয় না। মুক্তি? লেজুড়বৃত্তিক ও অন্ধ আনুগত্যের কথিত রাজনীতির বিপরীতে নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে পরিচালিত দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী ইনসাফপূর্ণ ব্যবস্থাই বাংলাদেশের মতো একটা দেশকে বিপর্যয়ের গহবর থেকে টেনে তুলে সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যেতে পারে। তার আগপর্যন্ত এই পাঁচ বছরী ধ্বংসাত্মক "ভোটকেন্দ্রিক গণতন্ত্র" শুধুই ধ্বংসই ডেকে আনবে। কখনোই স্থায়ী কোনো সমাধান এই সিস্টেমে নেই।

  • এই রুহুল আমীন কি ওই রুহুল আমীন, যিনি হাসিনাকে 'কওমী জননী' উপাধি দিয়ে কওমী মাদ্রাসার শুভ্র চেহারায় কালিমা লেপ্টে দিয়েছিলেন? যদি তিনিই হন, তাহলে এসব সেল-টেলের দিকে না তাকিয়ে থেকে "ইয়া নাফসি, ইয়া নাফসি" জপা ঢের ভালো।

  • সুসময়ে আসলে মানুষ দুঃসময়ের স্মৃতি ভুলে যায়। ক্ষমতায় বা ক্ষমতার কাছাকাছি আসলে মানুষ তার অতীত ভুলে যায়। আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল হয় এবং উম্মাহর বৃহত্তর কল্যাণচিন্তা থেকে বের হয়ে এসে সংকীর্ণ গণ্ডিবদ্ধ দলীয় চিন্তায় আবদ্ধ হয়ে যায়। আপনি পৃথিবীর ইতিহাসের অলিগলি চষে একটা জিনিসই পাবেন, প্রত্যেক জালিম তৈরি হয়েছে তার সেরা সময়ে। মানুষের মনস্তাত্ত্বিক এই ইস্কেলেশন তার চূড়ান্ত ধ্বংস ঢেকে আনে। ঠিক একারণে ইসলামী দর্শনে ক্ষমতা বা সুসময়কে একাধারে আমানত ও পরীক্ষা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। উত্তাল নদীতে নৌকা যখন ঝড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে ডুবুডুবু অবস্থায় থাকে তখন আরোহীরা রবের দরবারে নতজানু হয়। আল্লাহকে ডাকেন কায়মনোবাক্যে। মুখে আল্লাহর নাম ছাড়া দ্বিতীয় কিছুই থাকে না। সেই একই নৌকা যখন শান্ত নদীতে চলে তখন আরোহীরা গান গায়, বাদ্য বাজায়, আমোদ করে, মদ খায়, নাচে মিউজিকের তালেতালে। এমন ভাবে থাকে, যেন তাদেরকে পাকড়াও করার কেউ নেই। ডুবতে থাকা নৌকার ইতিহাস ভুলে প্রবৃত্তির দাস হয়ে সীমালঙ্ঘন করে। আল্লাহ কুরআনে এই শ্রেণির উদাহরণ নিয়ে এসেছেন। সূরা ইসরার ৬৭ নাম্বার আয়াতে পাবেন। আল্লাহ বিপদ দিয়েও বান্দাকে দেখেন, বিপদ দূর করেও বান্দার মানসিকতা মাপেন। বিপদে পতিত বান্দারা সাধারণত আনুগত্যশীল থাকে। শুইতে, বসতে, উঠতে আল্লাহকে ডাকে। রাত জেগে তাহাজ্জুদ পড়ে। সেই একই বিপদ দূর হয়ে গেলে বেপরোয়া হয়ে যায়। যাকে ভালো লাগে না তাকে বধ করার চিন্তা করে। অন্তত কোণঠাসা করে রাখার সবধরনের চেষ্টা অব্যাহত রাখে। যে পথ তার অনুসৃত পথের মতো নয় সেই পথও চিরতরে বন্ধ করে দিতে চায়। এক্ষেত্রে ইসলাম কী বলে, তা দেখার সময় তার নেই। কারণ সে আছে এখন সুসময়ে। এই শ্রেণির উদাহরণ আল্লাহ কুরআনে নিয়ে এসেছেন। সূরা ইউনুসের ১২ নাম্বার আয়াতে বিস্তারিত পাবেন। এই প্রকারের মানুষদেরকে আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারী হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। আমি নিজে ইসলামিক। সুসময়ে আমি যার বিরুদ্ধে লেগে যাচ্ছি সেও ইসলামিক। এই ভ্রাতৃঘাতী দ্বন্দ্ব আমাদেরকে সাময়িক সুখ দিলেও ছিন্নভিন্ন করেই ছাড়বে। একদিন আফসোস করা ছাড়া দ্বিতীয় কোনো পথ থাকবে না। কারণ আল্লাহ কখনোই এমন ইসলামিকদের হাতে ইসলামের নামে ক্ষমতা দেবেন না। ইতিহাসে এমন নজির নেই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাতে গড়া সাহাবায়ে কেরাম (রা.) ক্ষমতার ব্যাপারে এতটাই সতর্ক, ভীত ও দায়িত্বশীল ছিলেন যে, আজকের দিনে তা ভাবলেও অবাক হতে হয়। ক্ষমতা বা সুসময়কে তারা কোনো 'পুরস্কার' বা 'মর্যাদা' মনে করতেন না, বরং এটিকে আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশাল 'বোঝা' এবং 'দায়িত্বে বেখেয়াল হলে জাহান্নামের কারণ হতে পারে' এমন এক পরীক্ষা হিসেবে দেখতেন। আর আমরা দেখি প্রতিশোধের হাতিয়ার হিসেবে। হযরত আলী (রা.) যখন খলিফা তখন তাঁর একটি মূল্যবান বর্ম হারিয়ে যায়। পরে তিনি সেটি এক ইহুদির কাছে পান। খলিফা হিসেবে তিনি চাইলে ক্ষমতা খাটিয়ে বর্মটি কেড়ে নিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে সাধারণ নাগরিকের মতো কাজী (বিচারক) শুরাইহ-এর আদালতে মামলা করেন। ​আদালতে খলিফা তাঁর পক্ষে কোনো উপযুক্ত প্রমাণ বা সাক্ষী দিতে না পারায় বিচারক ইহুদির পক্ষে রায় দেন। খলিফা হাসিমুখে সেই রায় মেনে নেন। ইসলামের এই পরম ন্যায়বিচার ও ক্ষমতার নির্মোহ রূপ দেখে সেই ইহুদি তৎক্ষণাৎ ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। আর আমরা একটু সমালোচনা শুনলেও হজম করতে না পেরে সমালোচনাকারীদের মূলোৎপাটন করতে যত ধরনের ষড়যন্ত্র, মিথ্যাচার, তোহমদ ও ট্যাগিং আছে, সবই ব্যবহার করি। এগুলো করার শেষে বলি, আমরা রাসূল ﷺ-এর দেখানো পথ এবং সাহাবীদের আমলে অবিচল। আল্লাহ কিয়ামতের দিন আমাদের এই মিথ্যাচারের হিসাবও নেবেন। ইসলামের সুমহান আদর্শ যেন আজ ইসলামিক দাবিকারী গোষ্ঠী, ব্যক্তি বা দল দ্বারাই নিঃশেষ হচ্ছে।

  • আমরা সবকিছুকে ষড়যন্ত্রের চোখে দেখতে দেখতে এখন সত্যিকার অন্যায় বা নীতিবহির্ভূত কাজ কেউ দেখিয়ে দিলেও ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখি এবং প্রতিহত করার ক্যাম্পেইন করি। চোখে ভাসে শুধুই কন্সপিরেসি। অথচ ইসলাম এই ধরনের মানসিকতাকে কখনোই প্রশ্রয় দেয় না। আমরা ইসলামের হেফাজতের কথা বলে বলে নিজেরাই ইসলামের আদর্শ জলাঞ্জলী দিচ্ছি অনেকক্ষেত্রে। জানি না আমাদের হুঁশ কবে ফিরবে। নিজেদেরকে অতি বিশুদ্ধবাদী করে সমাজবিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার যে প্রবণতা, তা আমাদের সামগ্রিক অগ্রগতি মারাত্মক ব্যহত করবে। প্লিজ, আপনার অঞ্চলে আপনি শক্তিশালী হোন। এক ভোরে ফাতাহ করে ফেলার ক্ষতিকর চিন্তা থেকে ফিরে আসুন।

  • 9 июл.516101

    নেত্রকোনা ২ আসনের এমপি ডা. আনোয়ারুল হকের সংসদে দেওয়া বক্তব্যে কওমী মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র খুঁজতে যাবেন না। পতিত সরকারের আমলে দেওয়া বক্তব্যের মতো বক্তব্য ছিল না মোটেও। সবকিছুকে ষড়যন্ত্রের লেন্সে দেখলে সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব হবে না। ভবিষ্যতে শুভাকাঙ্ক্ষীর সংখ্যাও কমে যাবে। তিনি যা বলেছেন, যেভাবে বলেছেন তা অনেকটাই সত্য। কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের বহির্ভূত প্রতিষ্ঠান দ্বারাই সবচেয়ে বেশি দুর্নাম হচ্ছে। কোনোমতে পাশ করেই দরস-তাদরিসের সাধারণ জ্ঞান ও প্রশিক্ষণ না নিয়েই দুই-তিন রুম ভাড়া নিয়ে আজগুবি সাইনবোর্ড লাগিয়ে মাদ্রাসা খোলার হার বহুগুণ বেড়েছে। এগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ অবশ্যই জরুরি। এই পয়েন্টে দ্বিমত থাকার কারণ নেই। জাস্ট আলোচনা হতে পারে নিয়ন্ত্রণ নীতিমালার প্রসেস এবং বাস্তবায়নের রূপ নিয়ে। সরকার নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইলে বাধা দেওয়া এবং নিজেদের কন্ট্রোলিং পাওয়ারকে শাণিত ও আধুনিক করা কওমী নীতিনির্ধারণী বোর্ডের জন্য জরুরি। সত্য এবং বাস্তব চিত্র যে-ই তুলে ধরুক, মেনে নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

  • জিজ্ঞাসাবাদ করার ক্ষমতা রাখেন। ফলে আইনি মারপ্যাঁচে মামলা দীর্ঘায়িত করার সুযোগ থাকে না। সুতরাং শর'ঈ আইনে মামলার দীর্ঘসূত্রিতা সাধারণত ঘটে না। কারণ, সেখানে আইনজীবীদের মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর যুক্তি দেওয়ার সুযোগ নেই এবং বিচারক নিজেই সত্য উদঘাটনে সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী। অপরাধ প্রমাণিত হলে দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করা এবং মজলুমকে দ্রুত ইনসাফ দেওয়া ইসলামী বিচারের অন্যতম মৌলিক বৈশিষ্ট্য। ঠিক একারণে শর'ঈ কোর্টে দ্রুত রায় হয় এবং যেকোনো সময়ক্ষেপণ ছাড়াই রায় কার্যকর করা হয়।

  • প্রচলিত কোর্টে মামলার রায়ে যে দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি করা হয় তা কখনোই শর'ঈ কোর্টে সম্ভব নয়। প্রচলিত বিচার ব্যবস্থায় স্পর্শকাতর একটি মামলার রায়ের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়। একটার পর একটা শুনানির জালে আটকে যায় মামলার রায়। ততোদিনে জালিম আশাবাদী হয় এবং মজলুম হতাশ হয়ে মনোবল হারায়। পুরো বিচারিক কাঠামোর প্রতিই সাধারণ মানুষের আগ্রহ কমে যায়। শর'ঈ কোর্ট ঠিক এই পয়েন্টে একেবারে ভিন্ন ও স্বতন্ত্র। ইসলামী বিচার ব্যবস্থার মূল দর্শনই হল, দ্রুত ও কার্যকর বিচার নিশ্চিত করা। প্রচলিত কোর্টে রায় আসতে কেন বিলম্ব হয়, তা অনুধাবন করা জরুরি সবার আগে। মূল কারণ বের করতে না পারলে পার্থক্য নির্ণয় করা সম্ভব হবে না। বিচারিক দীর্ঘসূত্রিতার পেছনে আইনি মারপ্যাঁচ বা কৌশলী আইনজীবীদের ভূমিকা যে একটি বড় কারণ, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। জালিম বা অপরাধীর পক্ষে কৌশলী উকিলরা যখন মামলাকে দীর্ঘায়িত করার জন্য নানাবিধ আইনি জটিলতা সৃষ্টি করেন, তখন বিচারের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়। যেখানে এক মাস পর্যাপ্ত, সেখানে এক বছরেও অর্ধেক শুনানি শেষ হয় না। প্রচলিত বিচারব্যবস্থায় আইনজীবীদের একটি বড় কৌশল হলো প্রসিডিউরাল ডিলে বা পদ্ধতিগত উপায়ে দেরি করানো। যেমন: অকারণে শুনানির সময় চাওয়া, সাক্ষীদের জেরা করার নামে হয়রানি করা, বা মামলার মূল মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য অপ্রাসঙ্গিক আইনি যুক্তি উত্থাপন করা। আইনি এই সুবিধা নেওয়ার জন্য এজন্য জালিমপক্ষ দেশসেরা ব্যারিস্টার নিয়োগ করেন। তারা মোটা অংকের টাকা নিয়ে রাতকে দিন বানাতে যা যা মিথ্যা যুক্তি এবং আইনি ফাঁকফোকর ব্যবহার করা দরকার, সবই করেন নির্লজ্জভাবে। যার ফলে মামলার রায় আসতে বছরের পর বছর ভিক্টিমকে অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু শর'ঈ কোর্টে উকিলের ধারণা, দায়িত্ব এবং জবাবদিহিতা একেবারে ভিন্ন। ইসলামে আইনজীবী কেবল মক্কেলের বেতনভুক কর্মচারী নন, তিনি বিচারব্যবস্থার একজন অংশী বা সহকারী। প্রচলিত ব্যবস্থায় আইনজীবীর প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায় মক্কেলকে জেতানো, আর শর'ঈ আইনজীবীর লক্ষ্য হচ্ছে বিচারককে সত্য উদঘাটনে সাহায্য করা। যেহেতু ইসলামী বিচার ব্যবস্থায় ‘বিচার দ্রুত করা’ অন্যতম প্রধান লক্ষ্য, সেহেতু সেখানে বিচারক সরাসরি সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই করেন এবং জটিল আইনি প্যাঁচের চেয়ে ‘হক’ বা ‘সত্য’ কী, তার ওপর বেশি গুরুত্বারোপ করেন। শরীয়াহ কোর্টে উকিলরা চাইলেই মক্কেলকে বাঁচাতে মিথ্যার আশ্রয় নিতে পারেন না বলেই সেখানে মামলা দীর্ঘদিন কোর্টের ফাইলে আটকে থাকার সুযোগ অনেক কম। শর'ঈ কোর্টে কোনো উকিল জেনেশুনে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে মামলা টেনে নেওয়ার পথ বের করলে উকিল নিজেও অপরাধী সাব্যস্ত হন। তাকেও আইনের আওতায় এনে বিচার করা হয়। শর'ঈ কোর্টের একজন আইনজীবীর করণীয়: (ক)​ আইনজীবী এমন কোনো মামলা গ্রহণ করতে পারবেন না, যা স্পষ্টত মিথ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে এবং মিথ্যাকে প্রতিহত করতে সাহায্য করবেন। (খ) ​মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া, তথ্য গোপন করা, ঘুষ দেওয়া বা আইনি মারপ্যাঁচে সত্যকে মিথ্যা প্রমাণ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেছেন, "তোমরা বিশ্বাসঘাতকদের পক্ষ থেকে বিতর্ককারী হয়ো না" (সূরা আন-নিসা: ১০৫)। ​ (গ) যদি কেউ নিরপরাধ হয় এবং তার ওপর অবিচার করা হয়, তবে তাকে আইনি সহায়তা দেওয়া এবং নির্দোষ প্রমাণ করা একজন আইনজীবীর জন্য ইবাদততুল্য কাজ হিসেবে গণ্য হবে। বিপরীতে টাকার বিনিময়ে জানাশোনা অপরাধীকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে আদালতে অভিযুক্ত হবেন। আমরা এতটুকু বুঝতে সক্ষম হলাম যে, শর'ঈ কোর্টে ওকালতির মূল উদ্দেশ্য হতে হবে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা, সত্যকে তুলে ধরা এবং মজলুমকে সাহায্য করা। প্রচলিত বিচারব্যবস্থায় অনেক সময় অর্থের বিনিময়ে সত্য-মিথ্যা মিশ্রিত করে বা কৌশলে অপরাধীকে খালাস করার যে প্রথা রয়েছে, শরীয়াহর দৃষ্টিতে তা অত্যন্ত গর্হিত ও দণ্ডনীয় অপরাধ। এবার আপনিই বলুন তো, যদি জালিমের পক্ষে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে লড়ার মতো কেউ না থাকত, তাহলে অপরাধীর অপরাধ খুব দ্রুতই স্পষ্ট হয়ে যেত না? অবশ্যই স্পষ্ট হয়ে যেত। প্রচলিত সিস্টেমে অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীরা তাদের উকিলদের ওপর ভরসা করেই সত্য গোপন করতে বা প্রমাণ ধ্বংস করতে উৎসাহিত হয়। আইনজীবী যদি পরিষ্কারভাবে বলে দিতেন, "আমি মিথ্যা মামলায় লড়ব না," তবে অনেক অপরাধী অপরাধ করার সাহসই পেত না বা অপরাধ বাধ্য হয়ে প্রথমেই স্বীকার করে নিত। এই অস্বাভাবিক দীর্ঘসূত্রিতা কেন হচ্ছে, কাদের কারণে হচ্ছে, সিস্টেমের কোন লসের কারণে হচ্ছে, তা ভেঙে বলার কি দরকার আছে আর! আরেকটা জায়গায় সূক্ষ্ম বৈপরীত্য বিদ্যমান। প্রচলিত ব্যবস্থায় জজ বা বিচারক মূলত একটি নিরপেক্ষ আর্বিটার বা সালিশকারী হিসেবে কাজ করেন, যিনি দুই পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তি ও সাক্ষী শুনে একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে রায় দেন। কিন্তু ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী বিচারক বা কাজির ভূমিকা অনেক বেশি সক্রিয়। তিনি কেবল আইনজীবীদের উপস্থাপিত তথ্যের ওপর নির্ভর করেন না, বরং সত্য উদঘাটনের জন্য তিনি নিজেই তদন্তকারী ও সাক্ষীদের

  • 6 мая625252

    আরবদের ত্বকে আক্রান্ত একটা বিরক্তিকর রোগের তিক্ত অভিজ্ঞতা ছিল। এই চর্মরোগকে পিঁপড়ার সাথে তুলনা করত তারা। নাম দিয়েছিল নামলা। এই রোগের চিকিৎসাকে বলা হত রুকইয়াতুন নামলা। কারণ এই রোগে আক্রান্ত স্থানে চুলকানি বা জ্বালাপোড়া করলে মনে হতো, যেন পিঁপড়া কামড়াচ্ছে বা হেঁটে যাচ্ছে। রুকইয়াতুন নামলাতে সবচেয়ে বেশি দক্ষ ছিলেন শিফা বিনতে আব্দুল্লাহ রা.। তৎকালীন যুগে কেউ এই রোগে আক্রান্ত হলেই উচ্চতর সঠিক চিকিৎসার জন্য শিফা রা.—এর শরণাপন্ন হতেন। তিনি কেবল মুখেই দোয়া পড়তেন না, বরং তাঁর একটি বিশেষ ভেষজ পদ্ধতিও ছিল। ​তিনি উদ্ভিদ বা ভেষজ উপাদান ব্যবহার করে একটি প্রলেপ তৈরি করতেন। ​সেই প্রলেপটি আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে দোয়াটি পাঠ করতেন। মহিমান্বিতা এই সাহাবীর মূল নাম ছিল লাইলা বিনতে আব্দুল্লাহ। চিকিৎসা বিদ্যায় দক্ষতা অর্জনের ফলে তিনি একসময় শিফা (নিরাময়) নামেই প্রসিদ্ধি লাভ করেন। এখানেই তাঁর বিশেষত্ব সীমাবদ্ধ নয়। ইসলামপূর্ব যুগে মক্কায় সর্বসাকুল্যে ১৭ জন, মতান্তরে ৭০ জন লিখতে-পড়তে জানা মানুষদের যে তালিকা ইতিহাসের পাতায় রয়েছে বলে ইতিহাসবিদরা জানান, সেই তালিকায় আছেন লাইলা বিনতে আব্দুল্লাহ রা.। তিনি চমৎকার লেখ্যগুণে গুণান্বিত ছিলেন। তাঁর থেকে লেখা শিখেছেন আম্মাজান হযরত হাফসা রা.। আল্লাহর রাসূল ﷺ স্বয়ং তাঁকে শিক্ষিকা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। এই কোর্স সফলভাবে শেষ হলে নবী ﷺ লায়লা রা.-কে লক্ষ্য করে বললেন, "তুমি যেভাবে হাফসাকে লেখা শিখিয়েছো, সেভাবে কেন তাকে নামলার (চর্মরোগের) দোয়াটিও শিখিয়ে দাও না?'" (আবু দাউদ) তিনি একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি নবী ﷺ-এর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করেন যে, তিনি তাঁর এই পুরনো চিকিৎসা পদ্ধতি চালিয়ে যেতে পারবেন কি না। নবী ﷺ তাঁর পদ্ধতি পরীক্ষা করে তাকে অনুমতি দেন এবং অন্যদেরও তা শেখাতে উৎসাহিত করেন। সুতরাং বোঝা গেল, নিজের মতো করে কিছু উদ্ভাবন করে চিকিৎসা বলে চালিয়ে দেওয়ার আগে তা আধ্যাত্মিক ও জাগতিক উভয় পর্যায়ের নিরীক্ষণ জরুরি। পূর্বের কথায় ফিরে আসি। জাহেলিয়াত যুগেই শিফা রা. লিখতে ও পড়তে জানতেন, যা সেই সময়ে বিরল ছিল। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি কেবল নিজে শিক্ষিত থাকেননি, বরং অন্য নারীদেরও শিক্ষা দিতে শুরু করেন। এ কারণে তাকে ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম প্রথম নারী শিক্ষিকা হিসেবে গণ্য করা হয়। নবী ﷺ তাঁকে অনেক কদর করতেন। তিনি যখন শিফা রা.-এর ঘরে যেতেন, তখন তিনি তাঁর জন্য একটি বিশেষ বিছানা ও চাদর বরাদ্দ রাখতেন। নবী ﷺ সেখানে বিশ্রাম নিতেন। নবী ﷺ-এর ওফাতের পর শিফা রা. সেই চাদর ও বিছানা অত্যন্ত যত্নের সাথে সংরক্ষণ করেছিলেন। আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর যুগে নারী শিক্ষিকা তৈরি হয়েছিল। তিনি এবং তাঁর সাহাবারা শিক্ষিকা সাহাবীদেরকে অত্যন্ত কদর করতেন। আল্লাহর রাসূল ﷺ নিজে আম্মাজান হাফসা রা.-এর কিতাবাত এবং চিকিৎসাবিদ্যা শেখানোর জন্য নারী শিক্ষিকা শিফা রা.—কে নিয়োগ দেন। প্রমাণিত হয় যে: শরীয়াহর সীমার ভেতরে থেকে নারীদেরকে শিক্ষিত করতে হবে। সমাজে প্রচুর দক্ষ নারী শিক্ষিকা প্যানেল তৈরি করতে হবে, যারা শরীয়াহর সীমা মেনে অন্য নারীদেরকে শিক্ষিত হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন। শিক্ষার পাশাপাশি নারীদের অন্যান্য স্কিল রপ্ত করাতে হবে। ফাস্ট-এইড জ্ঞান বাধ্যতামূলক করার চেষ্টা করতে হবে। তবে এগুলো করার চেষ্টা করতে হবে পরিপূর্ণ নারীবান্ধব অবকাঠামোর ভেতরে থেকে। সেরকম না পেলে যোগ্য নারীদের সোহবতে রেখে আলাদা করে শেখাতে হবে। বিশাল একটা গোষ্ঠীকে অন্ধকারে রাখা যেমন যাবে না, ঠিক তদ্রূপ তাদেরকে পুরুষের বলয়ে ঠেলে দেওয়া যাবে না। তবে নারীদেরকে নিরাপদ ও উন্নত অবকাঠামো একমাত্র শর'ঈ রাষ্ট্রই দিতে পারবে। আমরা একসাথে সব সীমাবদ্ধতা ঠেলে এগিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।

  • без подписи

  • 6 мая595115

    এবার উপরের লেখাটুকু এক পাশে রেখে নারী-পুরুষের সহাবস্থান ও চলাফেরা সম্পর্কিত শর'ঈ বিধানগুলো নিয়ে ভাবুন একটু। মাথা নুইয়ে পড়বে তৎক্ষনাৎ, যদি আপনার দিল সত্যান্বেষী হয়। আহ আমাদের কলিজার শরীয়াহ! ইসলামী আইনশাস্ত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো 'সাদ্দুজ যারা'ই' (سد الذرائع—Blocking the means)। সাদ্দ হল দেয়াল তোলা এবং যারা'ই হল উপায় বা মাধ্যম। মিলিত অর্থ দাঁড়ায়, হারামের কিনারা ঘেঁষে একটি শক্তিশালী দেয়াল তৈরি করা, যাতে অন্যায়ের পথ আগেই বন্ধ হয়ে যায়। যেহেতু নারী-পুরুষের নৈকট্য জৈবিকভাবে আকর্ষণ তৈরি করে এবং শয়তান সেটাকে কাজে লাগিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে, তাই এই আকর্ষণ যাতে সামাজিক অস্থিরতা বা অনৈতিকতার দিকে না যায়, সেজন্যই পর্দার বিধান ও দূরত্বের কথা বলা হয়েছে। সাদ্দুজ যারা'ই' একটা সহজ উদাহরণ দিই। যেমন: মদ খাওয়া হারাম। এখন মদ যে পাত্রে রাখা হয় বা যে গ্লাসে খেলে মদের কথা মনে পড়ে যেতে পারে, সেই পরিবেশ বা মাধ্যমগুলো এড়িয়ে চলাই হলো 'সাদ্দুজ যারা’ই'। নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার ক্ষেত্রেও এই নীতিটি প্রয়োগ করা হয়, যাতে জৈবিক আকর্ষণের ফলে কেউ ব্যভিচারের (যিনা) মতো বড় পাপে জড়িয়ে না পড়ে। এটি মূলত একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যখনই একজন পুরুষ ও একজন নারী নির্জনে একত্রিত হয়, সেখানে তৃতীয় জন হিসেবে শয়তান উপস্থিত থাকে।" (তিরমিযী)। সুতরাং আপনি যখন একজন পুরুষ হয়ে মহিলাদের ভেতর (হোক না তারা বোরকাবৃতা) যাবেন, তখন আপনাকে শয়তান ঘিরে ধরবেই। শয়তান আপনার স্থিরতা ধ্বংস করবে এবং শরীরের প্রাকৃতিক জৈবিক পরিবর্তন আপনাকে উত্তেজিত করবে। দয়া করে ভাবুন, আপনাদের এই সিস্টেমে কী পরিবর্তন আনা যায়। একটা পরিবর্তন কিন্তু আনতেই হবে আপনাদের।

  • হরমোনাল ও স্নায়ুতান্ত্রিক নানান ডিফল্ট ফাংশনের কারণে একজন পুরুষের মধ্যে বিপরীত লিঙ্গের উপস্থিতি শারীরিক বা মানসিক উত্তেজনা তৈরি করে। পরিবর্তন একটা আসবেই—কিন্তু এই পরিবর্তনকে যে নিয়ন্ত্রণ করতে জানে সেই সুপুরুষ। একটু ধৈর্যের সাথে পড়তে হবে আপনাদের। আমি যে ধরনের বিষয় নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হই সেগুলো নিবিষ্ট মন কামনা করে। মনোযোগী হলে বিষয়টি সহজেই বোধগম্য হবে এবং শর'ঈ বিধানের সাথে খুব সহজেই মজবুত সেতুবন্ধন তৈরি করতে পারবেন ইনশাআল্লাহ। প্রথমেই ফেরোমন (Pheromones) নামক হরমোন নিয়ে আলোচনা করি। এটি অদৃশ্য রাসায়নিক বার্তাবাহক। বার্তা পেয়েই ছড়িয়ে দেওয়া এটির কাজ। ফেরোমন হলো শরীরের ঘাম বা ত্বকের গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ। এটি হরমোনের মতো হলেও বড় ধরনের একটা পার্থক্য বিদ্যমান। অন্যান্য হরমোন শরীরের ভেতরে কাজ করে, আর ফেরোমন শরীরের বাইরে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে অন্য ব্যক্তির ওপর প্রভাব ফেলে। পুরুষ-মহিলা চরিত্র দাঁড় করিয়ে বোঝার চেষ্টা করি। প্রথমে মহিলার শরীর থেকে ফেরোমন নামক রাসায়নিক পদার্থ বাতাসে মিশে যায়। সেই ফেরোমন মিশ্রিত বাতাস পুরুষের নাকের ভেতরে থাকা ভেমেরোনাসাল অর্গান (Vomeronasal Organ - VNO) নামক একটি ক্ষুদ্র অংশ শনাক্ত করে। শনাক্ত করেই সে তার কাজ শেষ করে না৷ খুব দ্রুত মস্তিষ্কের ঘ্রাণতন্ত্রের মাধ্যমে হাইপোথ্যালামাসে পাঠিয়ে দেয়। হাইপোথ্যালামাস সংকেত পেয়েই বুঝে গেল পরিস্থিতি ভিন্ন। কন্ট্রোল রুমে একটিভ মোডে বসে থাকা সদাপ্রস্তুত হাইপোথ্যালামাস সাথে সাথে শরীরের ফ্যাক্টরিতে (গ্রন্থিগুলোতে) GnRH (Gonadotropin-releasing hormone) রাসায়নিক পদার্থ ছেড়ে আর্জেন্ট অর্ডার পাঠায়— "এক্ষুণি জাগো! টেস্টোস্টেরন হরমোন বের করো! ঘুমিয়ে থাকার সময় এখন নয়।" হাইপোথ্যালামাস আমাদের শরীরের আল্লাহ নির্ধারিত কন্ট্রোল সেন্টার। ​মস্তিষ্কের এই ক্ষুদ্র অংশটি লিউম্বিক সিস্টেমের অংশ এবং একে আমাদের শরীরের "মাস্টার রেগুলেটর" বলা হয়। এটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব স্বয়ংক্রিয় কাজ আল্লাহর বেধে দেওয়া নিয়মে নিয়ন্ত্রণ করে। ​এটিই পিটুইটারি গ্রন্থিকে নির্দেশ দেয় কখন টেস্টোস্টেরন বা ইস্ট্রোজেন নিঃসরণ করতে হবে। ভয়, তৃষ্ণা, ক্ষুধা এবং যৌন আকাঙ্ক্ষা—এই সবগুলোর মূল কেন্দ্র হলো হাইপোথ্যালামাস। ফেরোমন ও হাইপোথ্যালামাসের একটা সহজ উদাহরণ দিই। ফেরোমনকে অদৃশ্য সুগন্ধি হিসেবে কল্পনা করুন। ধরুন, আপনি একটি ঘরে ঢুকলেন যেখানে কেউ একজন সুস্বাদু বিরিয়ানি রান্না করছে। বিরিয়ানিটা কিন্তু আপনার চোখের সামনে নেই—কিন্তু বাতাস থেকে তার ঘ্রাণ নাকে আসামাত্রই আপনার জিভে জল চলে আসল। একটু চেখে দেখার বাসনা মনের অজান্তেই তৈরি হয়ে গেল। হয় না এমন? ​ফেরোমন ঠিক এই বিরিয়ানির ঘ্রাণটার মতোই কাজ করে। এটি শরীর থেকে বের হওয়া এমন এক অদৃশ্য কেমিক্যাল সুগন্ধি, যা সরাসরি চোখে দেখা যায় না ঠিক—কিন্তু অন্যজনের নাকে পৌঁছালে তার মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায় যে, "পাশে একজন আকর্ষণীয় মানুষ আছে। একটু নড়েচড়ে বসো।" এবার উদাহরণের মাধ্যমে হাইপোথ্যালামাসকে বোঝার চেষ্টা করি। ধরুন, হাইপোথ্যালামাস হচ্ছে বাড়ির মেইন সুইচবোর্ড। ​একটি বাড়ির বিদ্যুৎ ব্যবস্থার কথা একটু ভাবুন। সারা বাড়িতে আলো জ্বলবে নাকি ফ্যান চলবে, সেটা নির্ভর করে মেইন সুইচবোর্ডের ওপর। সুইচ টিপলেই লাইট জ্বলে ওঠে। ​আমাদের শরীরে এই মাদার সুইচবোর্ড হলো হাইপোথ্যালামাস। ​যখন ফেরোমন (ঘ্রাণ) বা কোনো দৃশ্য (চোখের দেখা) সংকেত হিসেবে মস্তিষ্কে পৌঁছায়, তখন হাইপোথ্যালামাস নামক সেই মেইন সুইচবোর্ডটি "উত্তেজনা" বা "আকর্ষণ" এর সুইচটা টিপে দেয় তৎক্ষনাৎ। ​সুইচ টেপা মাত্রই শরীরের সব হরমোন (যেমন বিদ্যুৎ) কাজ শুরু করে দেয়। তারই ধারাবাহিকতায় শারীরিকভাবে সুস্থ পুরুষরা ব্যর্থ হয় নিজেদেরকে অবৈধ কাজে জড়িয়ে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে। এবার একেবারে বাস্তব জীবনে নেমে কল্পনা করুন। ধরুন, আপনি একটি মহিলা মাদ্রাসায় উস্তাদ হিসেবে গেলেন। পর্দা রক্ষা করে আপনার সামনে অনেক ছাত্রী বসল। তাদের মধ্যে আপনিই একমাত্র পুরুষ। আপনি হয়তো তাদের দিকে তাকাচ্ছেনও না, খারাপ কোনো ভাবনা নিয়েও যান নি— কিন্তু কিছুক্ষণ পর অনুভব করলেন আপনি কিছুটা সচেতন বা উত্তেজিত বোধ করছেন। এখানে যা ঘটে সাধারণত: মনের অজান্তেই খুব কাছাকাছি উপস্থিত ছাত্রীদের শরীর থেকে নিঃসৃত ফেরোমন আপনার নাকের ভেতরে প্রবেশ করল। এই ফেরোমন গিয়ে আপনার মস্তিষ্কের দরজায় কড়া নাড়ল। হাইপোথ্যালামাস সংকেত পেয়েই বুঝে গেল পরিস্থিতি আসলে কী ঘটতে যাচ্ছে। এরপর টেস্টোস্টেরন নদীতে শুরু হয় নব জোয়ার। এই জোয়ার ঠেলে উজানে চলা তখন অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না। কারণ দুর্বল সময়েও শয়তান আরো চড়াও হয় বান্দার ওপর। এতো চাপ সামলে যত বুজুর্গ পুরুষই হোক, টিকে থাকতে হিমশিম খায়। দুর্বল হলে তো সেখানেই কাত।

  • 28 февр.1 030231

    বাহরাইনের রাজধানী মানামায় অবস্থিত ইউএসের মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি ফিফথ ফ্লিট হেডকোয়ার্টারে ইরানে মিশাইল নিক্ষেপ করে। আবুধাবি ও কুয়েতেও একাধিক মিশাইল ছোঁড়া হয়। কী এক অনিশ্চিত এবং ধ্বংসের দিকে ধাবমান আমরা! আল্লাহ জালিমদেরকে নিশ্চিহ্ন করে দিন। ওদেরকে নিশ্চিহ্ন করার মতো রিজাল তৈরি করুন।

  • без подписи

  • без подписи

  • без подписи

  • без подписи

  • без подписи