Message of Hidayah
Статистикаআল্লাহ তা'য়ালা যার জন্য হিদায়াত কামনা করেন, ইসলামের জন্য তার অন্তরকে খুলে দেন। [৬:১২৫]
- Последний пост
- 26 июн.
- Последнее чтение
- 13 авг.
- Постов за неделю
- 0
- Всего постов
- 20
- Тип
- открытый
- Язык
- bn
- В каталоге с
- 13 авг.
- 1/24сутки в ленте
- —
- 1/48двое суток
- —
- 1/72трое суток
- —
Оценка по просмотрам недавних постов: пост набирает почти всё за первые сутки.
Посты
“আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন মানুষের মাঝে এমন নিখুঁতভাবে বিচার ফয়সালা করবেন যে– শিংবিহীন ভেড়াকে সেই শিংওয়ালা ভেড়ার কাছ থেকে প্রতিশোধ পাইয়ে দেওয়া হবে, যে তাকে দুনিয়াতে শিং দিয়ে আঘাত করেছিল।” ~সালমান আল-ফারিসী (রাদি.) সূত্র: [মাসাইলু সালিহ লি-আবিহিল, ১০০৫]
“আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন মানুষের মাঝে এমন নিখুঁতভাবে বিচার ফয়সালা করবেন যে– শিংবিহীন ভেড়াকে সেই শিংওয়ালা ভেড়ার কাছ থেকে প্রতিশোধ পাইয়ে দেওয়া হবে, যে তাকে দুনিয়াতে শিং দিয়ে আঘাত করেছিল।” ~সালমান আল-ফারিসী (রাদি.) সূত্র: [মাসাইলু সালিহ লি-আবিহিল, ১০০৫]
"সুলাইমান (আঃ) এর বিশাল সেনাবাহিনী যখন এগিয়ে আসছিল তখন একটি ক্ষুদ্র পিঁপড়া তার সঙ্গীদের বলেছিল—' নিজেদের ঘরে ঢুকে পড়ো যেন সুলাইমান ও তাঁর বাহিনী অজান্তে তোমাদের পিষে না ফেলে।' আল্লাহ এই ঘটনাটি কুরআনে উল্লেখ করেছেন এটি বোঝাতে যে, তিনি ক্ষুদ্রতম একটি প্রাণীর জীবন এবং তার আশ্রয়ের ব্যাপারেও সচেতন। যদি আল্লাহ একটি পিঁপড়ার ঘর এবং তার নিরাপত্তার গুরুত্ব দেন তবে তিনি আপনার জীবন এবং আপনার ঘরের সংকটের কথা কি ভুলে যাবেন? আপনি একা নন, আপনার প্রতিটি ক্ষুদ্র উদ্বেগের খবর আসমানে পৌঁছে যায়।" ~নোমান আলী খান
একজন ব্যক্তি হাকিমুল উম্মাহ হযরত আশরাফ আলী থানভী (রহ.) কে প্রশ্ন করলেন— “হুজুর আপনারা বলে থাকেন, যার মন ভেঙে যায় আল্লাহ তার নিকটে থাকেন। (এ ধরনের একটি কথা প্রচলিত আছে যে, আল্লাহ ভগ্ন হৃদয়দের সাথে থাকেন) আমার প্রশ্ন হলো– “গান শুনলে আমার মন নরম হয় ও ভেঙে যায়, তাহলে কি আমার জন্য গান শোনা বৈধ হবে?” . হাকিমুল উম্মাহ (রহ.) তার প্রশ্ন শুনে একটি সুন্দর উদাহরণ দিয়ে উত্তর দিলেন। তিনি বললেন— “ধরো, তুমি বাজার থেকে একটি পাউরুটি কিনেছ। এখন এই পাউরুটিকে নরম করার জন্য তোমার সামনে দুটি উপায় আছে; তুমি চাইলে সেটাকে পরিষ্কার পানিতে ভিজাতে পারো আবার চাইলে অপবিত্র জিনিস প্রস্রাব দিয়েও ভিজাতে পারো। এখন তুমি কোনটা দিয়ে পাউরুটি ভিজাবে?” তারপর তিনি ব্যাখ্যা করলেন– “ঠিক তেমনই মানুষের হৃদয় নরম হওয়া একটি উদ্দেশ্য হতে পারে। কিন্তু সেই হৃদয় নরম করার মাধ্যম যদি হয় হারাম বা অপবিত্র নিষিদ্ধ কিছু তাহলে তা কখনো গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ হৃদয় নরম করার জন্য আল্লাহ তা‘আলা নিজেই পবিত্র ও উত্তম মাধ্যম নির্ধারণ করে দিয়েছেন– কুরআন তিলাওয়াত, যিকির, তাওবা, আখিরাতের স্মরণ এবং ওয়াজ-নসীহত। এগুলোর মাধ্যমে হৃদয় নরম হয় এবং তা হয় পবিত্র ও বরকতময়।” আজ যারা সিনেমা-নাটক বা গান থেকে “আত্মিক অনুভূতি” নিতে চায় বা শিক্ষা গ্রহণ করতে চায় তাদের জন্য রয়েছে এ ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। ~মুফতী শাখাওয়াত হোসাইন রাজি (হাফি.)
সমুদ্রের পানি কেন মিষ্টি হলো না? . কখনো কি সমুদ্রের এক ফোঁটা পানি ভুল করে মুখে পড়েছে? তীব্র নোনতা আর তেতো স্বাদে পুরো মুখটা কেমন যেন হয়ে যায়, তাই না? তেষ্টায় বুক ফেটে গেলেও সাগরের এই পানি আমরা এক ফোঁটাও পান করতে পারি না। . কখনো কি সমুদ্রের পাড়ে দাঁড়িয়ে গভীরভাবে ভেবে দেখেছেন—আল্লাহ তাআলা পৃথিবীর তিন ভাগ পানিই কেন এমন তীব্র লবণাক্ত করে রাখলেন? কেন এটাকে আমাদের পানের যোগ্য মিষ্টি পানি বানালেন না? . জানলে অবাক হবেন, এই তীব্র লবণাক্ততাই আসলে এই পৃথিবীতে আমাদের বেঁচে থাকার চাবিকাঠি! . সাগরের পানি যদি সাধারণ মিষ্টি পানি হতো, তবে কোটি কোটি জলজ প্রাণীর বর্জ্য আর সমুদ্রে পড়া যাবতীয় ময়লা-আবর্জনার কারণে এত বিশাল জলরাশি পচে দুর্গন্ধ ছড়াত। পুরো পৃথিবী একটা নরককুণ্ডে পরিণত হতো, কোনো মানুষ বা প্রাণী পৃথিবীতে নিঃশ্বাস নিতে পারত না। সমুদ্রের এই অতি উচ্চ মাত্রার লবণই আসলে পুরো সাগরের পানিকে পচন থেকে বাঁচিয়ে রাখছে, প্রাকৃতিক ‘অ্যান্টিসেপটিক’ হিসেবে কাজ করছে। . সবচেয়ে অবিশ্বাস্য তথ্যটি কী জানেন? আমাদের মনে হতে পারে পৃথিবীর সিংহভাগ অক্সিজেন আসে সুন্দরবন বা আমাজনের মতো বিশাল জঙ্গল থেকে। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, আমাদের নেওয়া প্রতি ১০টি শ্বাসের ৮টি অক্সিজেনই আসে সমুদ্রের উপরিভাগে থাকা অত্যন্ত ক্ষুদ্র এক ধরণের উদ্ভিদ ‘ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন’ (Phytoplankton) থেকে! . সাগরের পানি লবণাক্ত না হলে এই ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনগুলো বাঁচতে পারত না। তারা মারা গেলে সমুদ্রের সব মাছ ও প্রাণী মারা যেত এবং পুরো পৃথিবীর অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে আমরা সবাই এক নিমেষে দম আটকে মারা যেতাম। অর্থাৎ, সাগরের যে নোনা পানিকে আমরা অপ্রয়োজনীয় ভাবি, তারই কল্যাণে আমরা প্রতিদিন বুক ভরে নিখরচায় অক্সিজেন নিচ্ছি! . গল্পটা এখানেই শেষ নয়। দয়াময় রবের ভালোবাসার কারিশমা দেখুন—এই যে সাগরের তেতো নোনা পানি, একেই যখন আমাদের পানের জন্য মিষ্টি পানি বানানোর প্রয়োজন হয়, তখন প্রকৃতিতে চালু হয়ে যায় এক অলৌকিক ‘ওয়াটার ফিল্টার’। . সূর্যের তাপে সাগরের পানি যখন বাষ্প হয়ে আকাশে ওড়ে, তখন রবের এক অদ্ভুত নিয়মে সব বিষাক্ত লবণ আর ক্ষতিকারক উপাদান নিচে জমা পড়ে থাকে। কেবল খাঁটি, বিশুদ্ধ ও পরিষ্কার পানিটুকুই বাষ্প হয়ে মেঘে পরিণত হয়। এরপর ল্যাবরেটরির সবচেয়ে আধুনিক ফিল্টারের চেয়েও নিখুঁতভাবে, পৃথিবীর বিশুদ্ধতম ‘পাতিত পানি’ (Distilled Water) হয়ে তা পৃথিবীতে শান্তিময় বৃষ্টিরূপে ঝরে পড়ে। . যে পানি লবনের জন্য মুখে দেয়া যায় না, তাকেই আমাদের জন্য মিষ্টি পানি বানিয়ে দিলেন কে? . আসলে, প্রকৃতির এই জাদুকরী ভারসাম্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়—তিনিই ‘আল-লাতিফ’। যাঁর দয়া আর কাজের কৌশল অত্যন্ত সূক্ষ্ম, গভীর এবং নিখুঁত। যিনি মানুষের চোখের আড়ালে, অত্যন্ত গোপনে ও সূক্ষ্ম উপায়ে তাঁর সৃষ্টির জন্য পরম অনুগ্রহের ব্যবস্থা করে রাখেন। . আমাদের জীবনটাও মাঝে মাঝে এই সাগরের নোনা পানির মতোই তেতো আর কঠিন সমস্যায় ঘেরাও হয়ে যায়। আমরা হতাশ হয়ে ভাবি, "আমার সাথেই কেন এমন হলো?" কিন্তু আমরা জানি না, রবের সুনিপুণ পরিকল্পনায় সেই কষ্টের ভেতরই লুকিয়ে আছে আমাদের ভবিষ্যতের কোনো বড় কল্যাণ কিংবা নতুন কোনো সুসংবাদের বৃষ্টি। ~বই: তিনিই আমার রব
কত তাহাজ্জুদগুজার বান্দাকে আল্লাহর রাস্তা থেকে হারিয়ে যেতে দেখেছি! জেগে থেকেও ফরজ সালাত পর্যন্ত অবহেলা করার দুঃসাহস করতে দেখেছি! ভয় লাগে… রাস্তা ভুলে হারিয়ে যাওয়াটা মাত্র এক পলকের ব্যাপার। আবার এই আধুনিক সময়েও এমন অনেক বান্দাকে দেখেছি, যারা ইশার সালাতের পরই ঘুমিয়ে যেত—শুধু এই ভয়ে, যেন সুন্নাহর খেলাফ না হয়, তাহাজ্জুদ ছুটে না যায়, ফরজ যেন অটুট ও সুন্দর থাকে। সবকিছুই আসলে— “প্রায়োরিটি”, আর কিছু না। আপনি হয়তো আস্তে আস্তে হারিয়ে গেছেন। নিজেকে নানান বুঝ দিয়ে দুনিয়ার ব্যস্ততায় ডুবতে ডুবতে নিজের রব্বকে ভুলে গেছেন, দূরে সরিয়ে দিয়েছেন। একবার ভেবে দেখুন— আজকের এই অবস্থা, দুনিয়া নিয়ে অতিরিক্ত ব্যস্ততা, আল্লাহ থেকে দূরে সরে যাওয়া—সবটাই ছিল আপনার নিজের সিদ্ধান্ত, আপনার নিজের চয়েস। তাই আপনাকে আপনার অজুহাত আর ভানিতার উপরেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এভাবেই থাকবেন কিনা, এভাবেই চলতে থাকবেন কিনা—সেটাও আপনার ব্যাপার। কেউ জোর করবে না। যে সত্যিই আল্লাহকে চায়, আল্লাহ তাকে নিজের দিকে টেনে নেন। তাকে আল্লাহর সান্নিধ্যে রাখেন, ইবাদাত সহজ করে দেন, অন্তরকে প্রশান্তি ও প্রাচুর্যে ভরিয়ে দেন। আরও বেশি ইবাদাতের তৌফিক দান করেন। কারণ, আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন। আর যে মানুষ আল্লাহকে চিনার পরেও একবারের জন্য অন্যদিকে তাকাতে চায় না—তার জন্য সবচেয়ে বড় নিয়ামত হলো, ফেরার রাস্তা এখনো খোলা। এই লেখাটা পড়ার তৌফিক হয়েছে মানেই এখনো সুযোগ আছে। কত মানুষ গোপনে গোপনে তাদের রবের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে— কাউকে না জানিয়ে, কারও দিকে না তাকিয়ে। নিজের কবর, আখিরাত, পুলসিরাত আর জাহান্নামের কথা ভেবে তারা চোখ লাল করে, গাল ভিজিয়ে দিনরাত প্রস্তুতি নিচ্ছে। কেউ তাদের চিনে না—দরকারও নেই। তারাও শুধু চায়, তাদের রব্ব যেন তাদের চিনেন। তারা শুধু তাদের রব্বকে চিনতে চায়, ভালোবাসতে চায়, সেই দয়াময় রব্বের সাথে সময় কাটাতে চায়। আপনিও আজ থেকেই তাদের একজন হয়ে যেতে পারেন। আলহামদুলিল্লাহ ফেরার সুযোগ এখনো আছে। “সিদ্ধান্ত নিলেই আজ থেকেই বদলে যেতে পারে সবকিছু।” ~সংগ্রহীত
শক্তিশালী ঈমানের আলামত হচ্ছে– আল্লাহর জিকির ছেড়ে দিলে ভেতরে এক ধরণের অস্বস্তি অতৃপ্তিমাখা হাহাকার অনুভব হতে থাকা। ঠিক শরীর যেমন পেটে খাবার না থাকলে ক্ষুধা অনুভব করতে থাকে। ~আতীক উল্লাহ (হাফি)
একজন মানুষ যদি মন থেকে দৃঢ়ভাবে এই সংকল্প করে এবং এটার উপর অটল থাকে যে সে তার সমস্ত দুঃখ-কষ্ট, প্রয়োজন, চাওয়া-পাওয়া একমাত্র আল্লাহর সাথেই শেয়ার করবে, তার কষ্ট হয়তো সাথে সাথে দূর হবে না, তার সমস্যাও হয়তো সাথে সাথেই মিটবে না, তার প্রয়োজনও হয়তো তৎক্ষণাৎ পূরণ হবে না, কিন্তু তার মন আর মানুষের দরজায় দরজায় ঘুরবে না। সে জানবে, তার কথা এমন এক সত্তা শুনছেন যিনি কখনো বিরক্ত হন না, কখনো ভুলে যান না, আর কখনোই বান্দাকে নিরাশ করেন না। ভাল থাকার জন্য এর চেয়ে বড় শক্তি আর কিছু হতে পারে না। ~রিজয়ানুল কবির (হাফি)
আরাফার দিনের শ্রেষ্ঠ দোয়া- আরাফার দিন হল বছরের শ্রেষ্ঠ দিন, আল্লাহ তাআলা আমাদের উপর অধিক পরিমাণে রহমত নাযিল করেন, এদিন তিনি কারো দোয়া ফিরিয়ে দেন না। তাই সবাই বিশেষভাবে দোয়ায় মনোযোগী হবো ইনশাআল্লাহ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, خَيْرُ الدّعَاءِ دُعَاءُ يَوْمِ عَرَفَةَ، وَخَيْرُ مَا قُلْتُ أَنَا وَالنَّبِيُّونَ مِنْ قَبْلِي: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ. শ্রেষ্ঠ দুআ হল আরাফার দুআ। এ দিনের দুআ এবং যিকির হিসেবে সর্বোত্তম হল ঐ দুআ, যা আমি এবং আমার পূর্ববর্তী নবীগণ করতেন। তা হল- لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ [জামে তিরমিজী, হাদীস ৩৫৮৫] দোয়ার পাশাপাশি গুরুত্ব ও মুহাব্বাতের সাথে অধিক পরিমাণে নেক আমলে যত্নবান হবো। রোজা রাখা, তাওবাহ তাহলীল, ইস্তিগফার করা, দান-খয়রাত করা—সর্বোপরি আল্লাহর সাথে নিজের সম্পর্ক কে উন্নত করার ব্যাপারেও খেয়াল রাখব ইনশাআল্লাহ।
একবার এক ব্যক্তি কোনো এক পরিবারের কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে গেল। তখন (কনের পক্ষের) একজন বলল: তুমি যদি একজন মেয়ের প্রকৃত অধিকার ও প্রাপ্য সম্মান সম্পর্কে অবগত থাকো, তবেই আমরা তোমার কাছে বিয়ে দেব। তখন সেই ব্যক্তিটি উত্তর দিল: "একটি মেয়ের অধিকার হলো-কখনোই যেন তার অবদান ও অস্তিত্বকে অতল গভীরে হারিয়ে যেতে দেওয়া না হয়, দ্বিতীয়ত তার পর্দার অন্তরাল ও সম্মান যেন ক্ষুণ্ণ করা না হয় এবং তাকে যেন (নিজের খরচের জন্য) কখনো তার বাপের বাড়ির মুখাপেক্ষী হতে না হয়।" (ছেলেটির এই উত্তর শুনে পর্দার আড়াল থেকেই) কনে নিজে বলে উঠল: "তোমরা উনার সাথেই আমার বিয়ে দিয়ে দাও। সূত্র: [মুহাদারাতুল উদাবা - রাগেব আসফাহানী, ২/২৩২]
সুরা আল-আম্বিয়ার সেই সুরক্ষিত ছাদ আসলে কী? প্রতি মুহূর্তে আমরা মাথার ওপর এমন এক অদৃশ্য ছাদ নিয়ে ঘুরি—যার সিকিউরিটির কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে দামি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটও স্রেফ খেলনা! যদি বলি, এখনই আপনার মাথার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় হাজার হাজার কিলোমিটার বেগে বিশালাকার সব জ্বলন্ত পাথর উড়ে যাচ্ছে, আর আপনি তা টেরই পাচ্ছেন না? শুনতে সাইন্স-ফিকশন সিনেমার গল্প মনে হলেও এটাই বাস্তব। এই ঘটনাটি প্রতি মুহূর্তে ঘটছে। প্রতিদিন মহাকাশ থেকে হাজার হাজার বিশালাকার উল্কাপিন্ড পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসে। কিন্তু আমরা নিশ্চিন্তে চা খাচ্ছি, ঘুমাচ্ছি, রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি—কোনো টেনশনই নেই। কেন জানেন? কারণ আমাদের মাথার ওপর আছে এমন এক অদৃশ্য 'বর্ম' বা 'সিকিউরিটি সিস্টেম', যার কাছে পৃথিবীর সব নামী ব্র্যান্ডের বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটও নস্যি! বিজ্ঞান যেটাকে বলে বায়ুমণ্ডল বা 'অ্যাটমোস্ফিয়ার'। মহাকাশের ওই ধেয়ে আসা জ্বলন্ত পাথরগুলো যখনই এই বায়ুমণ্ডলে ঢুকতে যায়, তখনই বাতাসের সাথে এমন প্রচণ্ড ঘর্ষণ তৈরি হয় যে ওগুলো মাঝপথেই পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আমাদের পর্যন্ত পৌঁছানোর সুযোগই পায় না। শুধু কি তাই? সূর্যের যে ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি বা আল্ট্রাভায়োলেট রে আমাদের চামড়া পুড়িয়ে ক্যানসার বানিয়ে দিতে পারত, এই বায়ুমণ্ডল ছাঁকনির মতো ওটাকেও শুষে নেয়। ভাবুন তো—কোটি কোটি বছর ধরে এই অদৃশ্য এয়ারব্যাগ বা ছাদটা কে আমাদের মাথার ওপর ধরে রেখেছেন? আমরা কি কখনো এই সিকিউরিটির জন্য কোনো ট্যাক্স দিয়েছি? বা কোনো মেইনটেইন্যান্স বিল? আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে, যখন বিজ্ঞানের এই 'অ্যাটমোস্ফিয়ার' শব্দটার জন্মই হয়নি, তখন পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা এই মিরাকলটা আমাদের জানিয়ে দিয়েছিলেন: "এবং আমি আকাশকে একটি সুরক্ষিত ছাদ করেছি..." — (সুরা আল-আম্বিয়া: ৩২) সুবহানাল্লাহ! আমরা কতশত ছোটখাটো বিষয় নিয়ে হতাশ হয়ে যাই, অথচ কত বড় এক ঐশ্বরিক নিরাপত্তার ছায়াতলে আমরা প্রতি সেকেন্ড পার করছি, তা কখনো ভেবেই দেখি না। এই অদৃশ্য দেয়ালটা যদি এক সেকেন্ডের জন্য গায়েব হয়ে যেত, পৃথিবীর অস্তিত্বই থাকত না। তাইতো আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে বলেছেন: "তোমরা তোমাদের রবের আর কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?" —সুরা আর-রহমান ~সমকালীন প্রকাশন
যখন চারপাশে শুকনো খটখটে পরিবেশ ছিল এবং বৃষ্টির কোনো নামগন্ধ ছিল না, তখন নূহ (আঃ) জাহাজ তৈরি করছিলেন। লোকেরা তাঁকে উপহাস করত, কারণ মরুভূমিতে জাহাজ চালানো অসম্ভব ছিল। কিন্তু তিনি মানুষের কথায় কান দেননি, কারণ তাঁর কাছে আল্লাহর নির্দেশ ছিল। আমাদের শিক্ষা হলো—যখন আপনি সঠিক পথে থাকেন, তখন দুনিয়া আপনাকে 'পাগল' বললেও আপনি আপনার কাজে অবিচল থাকুন। প্লাবন যখন আসবে, তখন এই 'পাগলামিই' আপনাকে উদ্ধার করবে। ~নোমান আলী খান
ইমাম সুফিয়ান আস-সাওরী (রাহিমাহুল্লাহ)-কে যখন কুরআন মাজীদের এই আয়াতটি– وخلق الإنسان ضعيفًا "আর মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে দূর্বল করে।" [৪:২৮] উল্লেখ করে প্রশ্ন করা হলো যে, এখানে মানুষের দূর্বলতা বলতে কি বুঝানো হয়েছে? তখন তিনি এর উত্তরে বললেন, “যখন কোনো পুরুষের পাশ দিয়ে একজন বেগানা নারী অতিক্রম করে, তখন সে তার দিকে নিজের দৃষ্টিকে অবাধে ছেড়ে দেয়। তার চোখকে সে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়। অথচ এই দৃষ্টিপাতের মধ্যে তার কোনো স্বার্থ বা ফায়দা কিছুই নেই।” একজন মানুষের জন্য এরচেয়ে বড় দুর্বলতা আর কী হতে পারে? সূত্র: [মাওসুআ'তুত তাফসির আল-মা'সুর, হা: ১৭৫৫০]
হযরত মুসা (আ.) যখন ইন্তেকাল করেন তখন আল্লাহ তাআলা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, মৃত্যুকে তোমার কেমন লাগল? তিনি উত্তর দিলেন: এর উপমা এমন, যেন জীবন্ত পাখিকে আগুনে ঝলসানো হচ্ছে! পাখিটি মরতেও পারছে না, উড়তেও পারছে না। ~বই :আল্লাহর পথে শাহাদাত
মাসউদ আল হামাযানী নামে এক ব্যক্তি ছিলেন। সিয়ারু আলামিন নুবালায় তার জীবন নিয়ে আলোচনা আছে। তার একটা অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিলো। কেউ কষ্ট দিলে মাফ করে দিতেন। মাফ চাইতে এলে বলতেন: الماضي لا يذكر আগের কথা বলে লাভ নাই। যা হওয়ার হয়ে গেছে। থাক। মাসউদ আল হামাযানী ইন্তিকাল করলে কেউ তাকে স্বপ্নে দেখলো। জিজ্ঞেস করল: আল্লাহ আপনার সাথে কেমন আচরণ করেছেন? আল হামাযানী বললেন: আল্লাহ তায়ালাও বলেছেন - الماضي لا يذكر অতীতের কথা বলে লাভ নেই। যাও তোমাকে মাফ করে দিলাম। ~আম্মারুল হক (হাফি)
গুনাহকে যেমন অনেকে নিত্যদিনের অভ্যাস বানিয়ে নেয়, তেমনি তাওবাকেও নিত্যদিনের অভ্যাস বানাতে হবে। গুনাহ হোক বা না হোক, প্রতিদিনই একনিষ্ঠতার সাথে তাওবা করা উচিত। তাওবার জন্য কোনো বিশেষ শর্ত-শারায়েত নেই, বিশেষ নিয়ম-কানুন নেই। শুধু অন্তরের একনিষ্ঠতার সাথে আল্লাহ তাআলার কাছে পূর্বের গুনাহের ক্ষমা চেয়ে ভবিষ্যতে গুনাহ থেকে দূরে থাকার দৃঢ় সংকল্পের নামই তাওবা। ~বই: দ্বীনের পথে যাত্রা
কিয়ামতের দিন আদম সন্তানের সামনে তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত (ঘণ্টায় ঘণ্টায়) প্রদর্শন করা হবে। অতঃপর প্রতিটি মুহূর্ত-যেখানে সে কোনো কল্যাণকর কাজ করেনি, তা দেখে তার আত্মা তীব্র অনুশোচনা ও আক্ষেপে ফেটে পড়বে। ~ইমাম হাসান আল-বসরী (রাহিমাহুল্লাহ) সূত্র: [হিফযুল উমার, পৃঃ ৬৩)
কেউ কেউ বেপর্দা ও দ্বীনবিমুখ মেয়েকে বিয়ে করতে চান এটা ভেবে যে বিয়ের পর তাকে দ্বীনের পথে ফিরিয়ে আনবেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়– দ্বীন সম্পর্কে উদাসীন মানুষটাকে দ্বীনের পথে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে উল্টো নিজেই দ্বীনহারা হয়ে যেতে হয়। এর প্রধানতম কারণ হলো নিজের ঈমান-আমল তেমন সবল না হওয়ার কারণে দ্বীনহীন মেয়েকে ঘরে এনে একপর্যায়ে নিজেরই দ্বীন হারিয়ে যায়। এ জন্য নিজের ও পরিবারের ঈমান-আমলের হালত যদি সবল না থাকে, তাহলে এমন মেয়েকে বিয়ে না করাই উত্তম। ~বই: বিয়ের আগে, পৃষ্ঠা: ৫১
শয়তান যখন আপনাকে কোনো গুনাহে প্ররোচিত করে, তখন সে আপনার ইমান কেড়ে নেওয়ার চেয়ে বেশি আপনার 'তওবা করার সাহস' কেড়ে নিতে চায়। সে আপনার কানে ফিসফিস করে বলে—'তুমি এতই নোংরা যে আল্লাহ তোমাকে আর ক্ষমা করবেন না।' মনে রাখবেন, আপনার গুনাহ যদি সমুদ্রের সমান হয়, তবে আল্লাহর দয়া সেই আকাশের চেয়েও বিশাল। তওবা করতে লজ্জা পাওয়া মানে শয়তানের কাছে আত্মসমর্পণ করা। ~নোমান আলী খান
সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদি.) বলেন- “নিশ্চয়ই তোমরা দিন ও রাতের আবর্তনের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হোচ্ছ। যেখানে তোমাদের আয়ু ক্রমাগত কমছে, তোমাদের আমলগুলো সংরক্ষিত হচ্ছে এবং মৃত্যু আসবে হঠাৎ করে। যে ব্যক্তি ভালো (আমলের) বীজ বপন করবে, সে দ্রুতই আনন্দের ফসল ঘরে তুলবে। আর যে খারাপ (কাজের) বীজ বপন করবে, সে দ্রুতই লজ্জা ও অনুশোচনার ফসল কাটবে। প্রত্যেক বপনকারী তাই-ই পাবে যা সে বপন করেছে। . ধীরস্থির ব্যক্তি তার নির্ধারিত রিযিক থেকে বঞ্চিত হবে না। আবার অতি লোভী ব্যক্তি তা অর্জন করতে পারবে না যা তার জন্য তাকদীরে নেই। যাকে কোনো কল্যাণ দান করা হয়েছে, তা আল্লাহ-ই তাকে দিয়েছেন। আর যাকে কোনো মন্দ থেকে রক্ষা করা হয়েছে, আল্লাহ-ই তাকে রক্ষা করেছেন। মুত্তাকীরাই হলেন প্রকৃত নেতা, ফকীহগণ হলেন পথপ্রদর্শক এবং তাঁদের মজলিসে বসা ইলম ও বরকত বৃদ্ধি করে।” সূত্র: [সিয়ারু আলামিন নুবালা: ১/৪৯৭]