Ahmad Khan Articles
Статистика- Последний пост
- 22 апр.
- Последнее чтение
- 13 авг.
- Постов за неделю
- 0
- Всего постов
- 20
- Тип
- открытый
- Язык
- bn
- В каталоге с
- 13 авг.
- 1/24сутки в ленте
- —
- 1/48двое суток
- —
- 1/72трое суток
- —
Оценка по просмотрам недавних постов: пост набирает почти всё за первые сутки.
Посты
প্যাক্স জুডাইকা ******** ইরান যুদ্ধের একেবারে শুরুতে ভাইরাল হয়েছিলেন প্রফেসর(?) জিয়াং। যিনি যুদ্ধ শুরুর ৮ মাস আগেই এই যুদ্ধ প্রেডিক্ট করেছিলেন। তার অধিকাংশ কথাই আমার পছন্দ না। তবে তার কাছে কিছু প্রশ্নের উত্তর পেয়েছি যেগুলো বহুদিন ধরে খুঁজে বেড়াচ্ছিলাম। যেমন, গাজা। গাজায় ইসরাইল আসলে কী করেছে এবং কেন? কেন কয়েক লাখ মানুষকে কোনো দ্বিধা ছাড়াই, নিয়ম ছাড়াই মেরে ফেলে দিলো? ৭০-৮০ ভাগ ঘরবাড়ী জাস্ট মাটিতে মিশিয়ে দিলো? আবার ঘরহারা মানুষেরা পলিথিনের তাবুর নিচে ঘুমোতে গেলে সেই তাবুর উপরেও বোমা মারলো? মুলতঃ এই হিসাবটাই মিলছিলো না। কারণ আপনি দেখুন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি থেকে এখন পর্যন্ত ইসরাইল যা করছে, তা ইকোনমিক এবং সামরিক দিক দিয়ে পুরোপুরি লস প্রজেক্ট। ইকোনোমিক দিক থেকে দেখলে, একটা ২০০ টাকার তাবুর উপরে ফেলা হচ্ছে ৬০-৭০ লাখ টাকার জিবিউ বোম। মাঝে ইসরাইল মুয়াসি শরণার্থি ক্যাম্পে স্পাইস বোম ফেলেছিলো, যার একেকটার মুল্য দেড়কোটি টাকা। আমি টেলিগ্রামে বলেছিলাম এই ব্যাপারটা। আবার সামরিক দিক দেখুন, এই আধাটন - ১ টনের বোমাগুলো ফেলা হচ্ছে হয়তো তিনটা বাচ্চা আর একজন বিধবা আশ্রয় নিয়েছে পলিথিনের নিচে, ঠিক তাদের উপর। যারা মেবি লাস্ট দুইদিন না খেয়ে আছে। এই টার্গেটের মিলিটারি সিগ্নিফিকেন্স তো জিরো। ইসরাইল তাহলে এত বিশালাকারের ওভারকিল দিয়ে আসলে কী অর্জন করতে চাইছে? এখানে প্রফেসর জিয়াংয়ের উত্তরটা লজিকাল। তিনি বলেন, গাজা ছিলো ইসরাইলের অডিশন, নিজেদের প্রমাণ করার জায়গা। কার সামনে অডিশন, কেন অডিশন? ইসরাইল মুলতঃ গ্লোবাল এলিটদের সামনে এটা প্রমাণ করতে চাইছে, তারা তাদের স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো এক্সটেন্ট পর্যন্ত যেতে প্রস্তত। একটা টার্গেট দিলে তারা পুরোপুরি হাত খুলে, কোনোরকম মোরাল নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে শত্রুকে নিশ্চিহ্ন করতে সক্ষম। প্রথমে গাজা, এখন লেবানন। ইরান এখানে সাইড কোয়েস্ট, যেটা আমেরিকাকে দিয়ে করিয়ে নিতে চাচ্ছে। ইসরাইলের এখন নিজেদেরকে প্রমাণ করার দরকার পড়লো কেন? কারণ এলিটেরা সাবেক এম্পায়ার অর্থাৎ আমেরিকার উপর ভরসা করতে পারছে না। একটা এম্পায়ারের বয়স বেশী হয়ে গেলে তাদের নিজেদের ভেতরেই অনেক দায়বদ্ধতা তৈরী হয়, মানে একধরণের চক্ষুলজ্জা টাইপের। যেকারণে তারা হাত খুলে খেলতে পারে না। ধর্ম, সমাজ, নানান কিছু বিবেচনায় নিতে হয়। লক্ষ্য করুন, ইসরাইল আজ গাজা-বৈরুতে যা করেছে, আমেরিকা একদম একই কাজ করেছিলো ভিয়েতনামে। কিন্তু আজকে করতে পারছে না। কারণ এম্পায়ারের লুটের ফল খেতে খেতে জনগণ রিলাক্স হয়ে যায়, ধর্ম কিছু জায়গা দখল করে। আজকে ইরান যুদ্ধ আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশী অজনপ্রিয় যুদ্ধ। আবার ধর্ম, ট্রাম্প যীশুখ্রিস্টের ছবি পোস্ট করে ভালো বিপদে পড়েছিলো। পক্ষান্তরে, ইসরাইলের এসব সমস্যা নেই। তারা রিলেটিভলি নতুন এম্পায়ার। আবার তাদের অধিকাংশ জনগণ খুবই নিচুশ্রেণির ইতর, তারা নিষ্পাপ শিশুখুনেও কোন ভুল কিছু দেখে না। এজন্য তারা অফ লিমিট যেতে পারে। প্রফেসর জিয়াং বলেন, পুরো দুনিয়া এখন প্যাক্স আমেরিকানা' থেকে 'প্যাক্স জুডাইকা' তে শিফট হচ্ছে। ইরান যুদ্ধ হচ্ছে সেই প্রক্রিয়ার সম্মুখভাগ। (পুরো বিষয়টি জিয়াং তার 'প্যাক্স জুডাইকা রাইজিং' টাইটেলের ভিডিওতে বলেছেন। চাইলে দেখতে পারেন। চেয়েছিলাম পুরো ভিডিওটাই সামারি করতে। কিন্তু সময়ের অনেক অভাব হয়ে গেছে আজকাল। তারপরেও মাথায় রইলো, হলে শুক্রবার পাবেন, নয়তো না। লিংক এখানে)
তো প্যাগান নেতারা অবশ্যই চায় সর্বোচ্চ সংখ্যক সাধারণ নিউট্রাল লোক তাদের উৎসবে যোগ দেয়। এজন্য তারা সরাসরি প্যাগানিজমে না গিয়ে একটা কমন গ্রাউন্ড খোঁজার ট্রাই করে। যেমন ধরুন, দুর্গাপুজো। এটা আসলেই আমাদের দেশের ফেমিনিস্ট স্ফিয়ারে একধরণের ড্রয়িং ছড়িয়ে পড়ে, যে নারীর অনেকগুলো হাত, একেকটা হাত দিয়ে একেক কাজ করছে - খানিকটা পাওয়ারফুল উইমেন পোর্ট্রে করার চেষ্টা করে। আর দেশি মুসলমানের মেয়েরা সেসব শেয়ার দিয়ে দুর্গোপুজোয় অংশ নেয়। (ঈমান গেলে যাক, প্যাট্রিয়ার্কির শেষ দেখতে হবে) একইভাবে, পহেলা বৈশাখের মত একটা ধর্মীয় উৎসবকে দেশি কৃষকের উৎসব হিসেবে দেখাতে চায়। যেহেতু আমাদের ৮০% মানুষের রুট কৃষি, খুব সেন্সিটিভ এটা। **************** এবারের পহেলা বৈশাখে আমার বা সমমনাদের রাগের কারণ এটাই, এই জিনিস তো মারাত্মক অজনপ্রিয় হয়ে গেছিলো। This shit was dead! সেকুলারদের কালচারাল উইংটা প্যানিক করছিলো, পহেলা বৈশাখে কেউ যোগ দেয় না। পত্রিকাতেও আসছিলো ব্যাপারটা। আর শুভ...নব...বর্ষ তো জলন্ত নিদর্শন হয়ে আছে। ভাই আমরা বাইনারি করে ফেলছিলাম লীগের শেষের দিকে, যে পহেলা বৈশাখ মুসলমানের না। এই ২০২৫ এবং ২০২৬ এ গান্ডু মডারেটদের হাত ধরে একটা প্যাগান উৎসব রিভাইভ হলো। লাস্ট পাঁচ বছরে এত লোক রাস্তায় নামেনি ১৪ই এপ্রিলে। *********** মাথা কাজ করছে না। আজ তিন দিন হলো, এই পরাজয় মানা যাচ্ছে না। শাহবাগীদের মোকাবেলার উপায় হলো, মুর্তিপুজক এবং মুর্তি দুটোকেই শেষ করা। শাহবাগীরা লাল রঙের মুর্তি বানিয়েছে দেখে আপনি নীল রঙের মুর্তি বানালে জিতলো তো ওরাই। ওরা লিটারালি হাসছে মোসলমানের এই পরাজয় দেখে। এই পরাজয়ের কারণ যারা, যারা এটাকে নরমালাইজ করলো, প্রাসংগিক করলো - আল্লাহ তাদের শাস্তি দিন, আমাদের হাত দিয়ে কাজটা হয় যেন।
এই পরাজয় মানা যাচ্ছে না। *************** নাইন্টিজ কিডস বা আমাদের মত জেন-জি, তাদের ছোটবেলায় ওয়াজ মাহফিল ছিলো একটা ফর্ম-অব-এন্টারটেইনমেন্ট। আমাদের ছোটবেলায় মোটাদাগে ওয়াজের দুটো ধারা ছিলো। একটা ধারা হচ্ছে, লোকাল পীর-মুরিদি ও প্রফেশনাল বক্তাদের ধারা। এইসব ওয়াজে সুর থাকতো, গল্প, প্যারানরমাল ঘটনা, মুজেযা-কারামত আর কিছু উপদেশ। বাংলাদেশে তখন 'শিক্ষিত' সেকেন্ড জেনারেশনের উঠে আসা চলছে, তারা এইসব ওয়াজ শুনতেন না, পছন্দও করতেন না। কারণ এগুলো তাদের লাইফস্টাইল-অ্যাম্বিশন বা বইতে যা পড়েছেন তার সাথে মিলতো না। আরেকটা ধারা, যেটাকে আমি বলি জামায়াতি ধারা, এগুলোতে শিক্ষিত লোকের একটা অংশ কানেক্ট করতে পারতেন। যার একেবারে মাথায় ছিলেন সাঈদী সাহেব। অনেকে জামায়াতের রাজনীতি পছন্দ করতেন না, কিন্তু সাঈদী সাহেবের ওয়াজ শুনতেন। তার রাজনীতি টেনে আনার ব্যাপারে আপত্তি থাকলেও লোকে ক্যাসেটে, মাইকে, সিডিতে শুনত। তিনি ছাড়াও লোকাল জামায়াতি বক্তারা প্রায় একই ধরণের ওয়াজ করতেন। এই ধারার বৈশিষ্ট্য ছিল, প্রচুর রেফারেন্স থাকতো, কেচ্ছা কাহিনী কম থাকতো, এবং জীবনমুখি বিষয়ের আলোচনা থাকতো, যা মানুষের রিয়েল লাইফে কাজে লাগতো। এই প্রসঙ্গ আনার কারণ হলো, মুলতঃ জামায়াতি ধারার বক্তাদের বছরের পর বছর পরিশ্রমের মাধ্যমে মানুষ কয়েকটি ব্যাপারে স্পষ্ট হতে পেরেছিলো। যেমনঃ - মাজার রিলেটেড ভন্ডামিগুলো ধর্মবিরোধী। - পাবলিক প্লেসে বানানো মুর্তি বা ভাস্কর্য্য এটি শেরেক এবং এদেশীয় মুসলমানদের জন্য অপমানজনক। - জাতীয় দিবস যেমন একুশে ফেব্রুয়ারিতে শহীদ মিনার এবং অন্যান্য দিবসে স্মৃতিসৌধে ফুল দিলে মানুষ মুসলিম থাকে না। - পহেলা বৈশাখ হিন্দুদের জিনিস এবং মুসলমান এটা সেলিব্রেট করতে পারে না। লক্ষ্য করুন, প্রথমটি বাদে সবগুলো উপলক্ষই আমাদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে মানতে বাধ্য করা হতো এবং হচ্ছে। তা সত্বেও মানুষ মেনে নিয়েছিলো যে এগুলো মুসলমান করতে পারে না। *** ইসলামাইজেশন/হালালফিকেশন হচ্ছে ধর্মের একেবারে শত্রুপক্ষের জিনিসকে ইসলামী ছাপ দেওয়ার এক ক্রিঞ্জি প্রচেষ্টা। যারা এটা করেন তাদের যুক্তি হলো, একটা বিশাল সংখ্যক মুসলিম সেখানে যাচ্ছেন, অংশ নিচ্ছেন, সুতরাং এটাকে হালালিফাই করতে হবে কিছু মডিফিকেশনের মাধ্যমে। না হলে সেক্যুলাররা সেটা দখল করে নেবে। যুক্তিটি ভেঙ্গে দেখা যাক। বিপুল পরিমাণ মুসলিম ভীড় করে এরকম একটা কমন জায়গা হচ্ছে পর্ন সাইটগুলো। এটা সবাই জানে। এখানেও কি একই যুক্তি দেওয়া যাবে যে, বিপুল পরিমাণ মুসলিম পর্ন দেখে, সুতরাং আমাদের 'হালাল পর্ন' বানাতে হবে। না হলে জায়গাটা কাফেরদের দখলে চলে যাবে? পর্নের মোকাবেলায় আমরা যেমন হালাল পর্নের কথা বলি না, পর্ন জিনিসটাকেই পুরোপুরি অ্যাভয়েড করার কথা বলি। সেখানে স্পষ্ট শেরকি জিনিস হালাল করার চিন্তা কোন ছাগলের মাথা থেকে বেরোলো? ******** পহেলা বৈশাখ একটি আউটরাইট প্যাগান ফেস্টিভাল। প্যাগান ফেস্টিভাল সম্পর্কে দুটো ফিচার বোঝা দরকার। প্রথমতঃ এই উৎসবগুলো অনেকবেশী ভিজ্যুয়াল নির্ভর হবে। আমাদের তথা ইসলামের ইবাদৎ এবং উৎসবের সবচেয়ে বড় বড় অনুষঙ্গগুলো সবই অ্যাবস্ট্রাক্ট, চোখে দেখা যায় না। যেমন, ইখলাস, তাকওয়া ইত্যাদি। অন্যদিকে প্যাগান ফেস্টিভালে ভিজ্যুয়াল এলিমেন্টগুলোই আসল। যেমন, আপনি সাদা-কালো যে রঙ্গের জামা-ই পরেন না কেন, নামাজ হয়ে যাবে। কিন্তু প্যাগান উৎসবে যেখানে লাল রঙ্গ দেওয়ার কথা সেখানে লাল রঙ্গ দিতে হবে। যেখানে ঢাক বাজানোর সেখানে ঢাকই বাজাতে হবে। এজন্য পৃথিবীর ম্যাক্সিমাম প্যাগান ফেস্টিভাল অনেক কালারফুল হয়। এখানে নোটের মত করে বলে রাখি, ভাগওয়া লাভ ট্রাপের অন্যতম আকর্ষক জিনিস এই প্যাগান ইবাদতগুলো। ইসলামী ইবাদতগুলো মোটাদাগে সাইলেন্ট, মাঝখানে লম্বা ব্রেক থাকে। কিন্তু পুজোগুলো অনেক স্টেপ থাকে, অনেক কিছুতে ইনক্লুড হবার সুযোগ থাকে, লম্বা সময় ধরে মজে থাকে। এজন্য দেখবেন একেবারে হিজাব-টিজাব পরে পুজোয় চলে যাচ্ছে। দ্বিতীয়তঃ একটা প্যাগান উৎসব সাকসেস হয়েছে কি হয়নি এটা বোঝার মাপকাঠিই হলো এখানে কতজন লোক অংশ নিয়েছে। ধরুন, আপনাদের ঈদগাহে প্রতিবছর ঈদের নামাজে ২০০ লোক হয়। কিন্তু এবার ২০ জন হয়েছে। এর মানে কি কেউ বলতে পারবে, এই ঈদের নামাজ হয়নি? কারণ ইসলামি উৎসব কালেক্টিভের উপর নির্ভরই করে না। (যদিও মানুষ কালেক্টিভলিই অংশ নেয়, কিন্তু এটা সাকসেস-ফেইলের মাপকাঠি না) পক্ষান্তরে, একটা মংগল শোভাযাত্রা, প্রতিবছর ২০০ লোক হয়, এবার ২০ জন। তার মানে এটা অসফল।
**************** গতমাসের শেষের দিকে 'বাল্যবিয়ে' নিয়ে অনেক আলোচনা হলো। বহু জ্ঞানীগুনী বহু 'ফ্যাক্টর' বিবেচনায় নিয়ে অনেক জ্ঞান ঝাড়লেন। বাল্যবিয়ের ইকোনমিক, স্বাস্থ্যগত নানা ফ্যাক্টর দিয়ে ব্যাশিং চললো। কিছু 'হুজুর' আবার ধর্মের লেখা এনে দেখালেন, বাল্যবিয়ে আসলে হারাম! কিন্তু একটা ফ্যাক্টর বিবেচনায় নিতে কাউকে দেখলাম না। সেটা হলো, আমাদের স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়েরা ব্যাভিচারে জড়াচ্ছে, এই অপরাধ যে নর্মালাইজ হচ্ছে, সামাজিক জীব হিসেবে আমাদের কাছে কী সমাধান আছে? আমরা সামাজিক জীব, আমরা এতবড় সামাজিক অপরাধ কিভাবে মেনে নিই? *********** একটা ঘরে আপনার সন্তান বা ছোট ভাই-বোন গেলে সে মারা যাওয়ার ৫০% নিশ্চিত সম্ভাবনা আছে। পৃথিবীর কোনো সুস্থ অভিভাবক সেখানে স্বেচ্ছায় বাচ্চাকে পাঠাবে? মারা যাওয়ার ব্যপারটা এখানে হাইপোথিটিকাল। কিন্তু ব্যাভিচারের ব্যাপারটা তো রিয়েল। এটা ঘটছে। আপনি একটা সমাধান দিলেন। নারীর পাব্লিক প্রেসেন্সে লাগাম টানতে হবে। মন্তব্য আসবে,'তোর মত অশিক্ষিত-ভিখারী, জীবনে ভার্সিটির বারান্দায় যাসনি। দুনিয়া যেখানে এআই নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, তোরা পড়ে আছিস এসব নিয়ে। এজন্যই লাইফে কিছু করতে পারবি না।' আপুটার কথাটার অনুবাদ হচ্ছে, অশিক্ষিত-দরিদ্র লোকেদের মতামত হচ্ছে নারীর উপর নিয়ন্ত্রণ টানা। শিক্ষিত-ধনী হলে সে এরকম বলতে পারতো না। আপনি উত্তর দিলেন, আসলে আপু আমি অ্যাপ্লাইড ডাটা সায়েন্সে ব্যাচেলর করেছি। কিংস থেকে দুটো পেপার পাবলিশ করেছি। আর এন্ট্রি লেভেলের একটা স্পোর্টস কার ড্রাইভ করি। এবং আমি মনে করি নারীর পাব্লিক প্রেসেন্সে লাগাম টানা উচিত। উত্তর আসলো, পড়াশোনা করেও শিক্ষিত হতে পারিসনি। এর মানে কী? এইমাত্র না বললো, পড়াশোনা না করায় ওগুলো বলেছেন? আসলে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা, আর্থিক অবস্থা কোনো সমস্যা ছিলো না। আসল সমস্যা আপনার কথা তার পছন্দ হয়নাই। তার কথামতো হলে এই ফেমিগুলো ন্যাশনালে বাংলা সাহিত্যে পড়া ছেলেকেও মাথায় করে রাখে। ************ যাইহোক, আদর্শের ভাষা দুনিয়া বোঝে না। আপনার গান যতই আর্টিস্টিক সেন্সে ভালো হোক, দুনিয়া গাইবে না। আপনার পোশাক দুনিয়া পরবে না। কিন্তু যেইমাত্র আপনি সামরিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠবেন, দুনিয়া আপনার সবকিছু কবুল করে নেবে। আপনার মত পোশাক পরবে, আপনার ভাষা শিখবে, আপনার মত করে কথা বলবে। আপনার কথা ভুল-সঠিক কিনা কেয়ার করবে না। হলিউড এই জিনিসটা ৮ দশক ধরে এনজয় করেছে। ইরান তার কিছুটা স্বাদ পাচ্ছে। এটাই দুনিয়ার রুল। চিন্তা করুন ইসলাম সর্বোত্তম আদর্শ হওয়া সত্বেও মানুষ বড় সংখ্যায় মুসলিম হবে না। কিন্তু যখন সামরিকভাবে জিতবে, একটা ম্যাসিভ নাম্বার নতুন করে মুসলিম হবে (সুরা নাসর)। ****** এটাই মুলতঃ কারণ আমার সমস্ত মানসিক এফোর্ট সামরিক দিকে দেওয়ার। আঘাত করার ক্ষমতা অর্জন করার। দ্রুতই দেখা হচ্ছে। পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
অনেকদিন পর ফিরলাম। কয়েক বছরের টানা অবজারভেশনের পর এই ২০২৬ সালে একটা বিষয় আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে - ফেমিনিজম বা লিবারেলিজমের মত বিষাক্ত আইডিওলজিগুলোকে কেবল আদর্শিকভাবে মোকাবেলা মোটেও যথেষ্ট নয়। কারণ ফেমিনিজম যারা প্রমোট করছে তারা আপনার ফিল্ডে খেলছে না। আপনি চাচ্ছেন এটাকে আদর্শিকভাবে প্রতিপন্ন করে নিশ্চিহ্ন করবেন, কিন্ত তারা তো এই লড়াইয়েই নেই। একটা আইডিওলজি তারা আপনাকে পুরোপুরি চাপিয়ে দিচ্ছে। কখনো সিলেবাসের মাধ্যমে, তাদের কথামত না লিখলে আপনি পাশ করতে পারবেন না। কখনো বা প্রশাসন, কখনো আবার কোর্টের মাধ্যমে তাদের আইন, সিদ্ধান্তগুলো চাপিয়ে দিচ্ছে। এবং ওগুলোর উপর আপনার দখল নেই। আপনি ফেইসবুকে লিখে বোঝানোর চেষ্টা করছেন, একশজন বুঝতে পারছে, ওদিকে একেকটা একাডেমিক ইয়ারে পঞ্চাশ হাজার ফেমিনিস্ট পয়দা হচ্ছে। সুতরাং, ওই শক্তিগুলোর দখল আপনার দরকার। আপনার বিজয়ের পর ফেমিস্টদের করজোড় দশা আপনি গিফট হিসেবে পাবেন, আলাদা করে কিছু করতে হবে না। ২০২২ সাল থেকে আমরা বলে আসছি, একটা নিস্তরঙ্গ, নিরুপদ্রব সমাজেই কেবল লিবারেলিজম-ফেমিনিজমের বিষ বেড়ে উঠতে পারে। যেকোনো ক্রাইসিসের মুহুর্তে নারী-পুরুষ তার জেন্ডার রোলে ফেরত যায়। তাদের এক দশকের এফোর্ট নষ্ট হতে সময় লাগে একদিন। এবং এই হাইপোথিসিস বছরের পর বছর বারবার প্রমাণিত হয়েছে। এই গত সপ্তাহেও হলো। চলুন সেই ব্যাপারে কথা বলা যাক। ********** জেন্ডার ইকুয়ালিটিতে বিশ্বের অন্যতম চ্যাম্পিয়ন দেশ - জার্মানি। দেশটিতে নারী-পুরূষের সমানাধিকার তো বটেই, সেটা পার করে এখন নারীরা অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া শুরু করেছে। তাদের মিনিস্ট্রিগুলোর অর্ধেকই নারী। জার্মানির বড় কোম্পানিগুলোর জন্য একটা নারী কোটার আইন আছে, FüPoG নামে ( Führungspositionen-Gesetz)। এই আইনের আওতায় যেকোনো মিড থেকে বড় কোম্পানির সুপারভাইজরি বোর্ড থেকে উপরের সবগুলো পদে ৩০% নারী রাখতে হয় বাধ্যতামূলকভাবে। এবং যোগ্য নারী না পাওয়া গেলে ওই চেয়ারগুলো খালি থাকে, পুরুষ নিয়োগ দিলে তা বাতিল হয়। সরকারী কোম্পানিগুলোতে (Deutsche Bahn) ৩০% নারী কোটা বাধ্যতামুলক। এখানে মনে রাখা দরকার, বাকী ৭০% পদেও যেকোনো সংখ্যক নারী যেতে পারে। আরো খেয়াল রাখা দরকার, কোটা কেবল ডেস্ক জবের জন্য। শারীরিক পরিশ্রম আছে এরকম পদের জন্য না। এই পরিমাণ নারী না নিলে জরিমানা দেওয়া লাগে। (FüPoG নিয়ে আমার পার্সোনাল অভিজ্ঞতার কথা অন্য কোনোদিন বলবো) জার্মানি বিশ্বের ৬ষ্ঠ দেশ হিসেবে ২০২৩ সালে Feminist Foreign Policy (FFP) অ্যাডপ্ট করে। মানে তারা নিজ দেশের অভ্যন্তরেই কেবল জেন্ডার ইকুয়ালিটি প্রমোট করবে না, বরং জার্মানির সাথে সম্পর্ক আছে এরকম যেকোনো দেশেই তারা এটি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে। FFP এর আওতায় জার্মানির বৈদেশিক সাহায্যের ৮৫%ই জেন্ডার ইকুয়ালিটি বা নারীর ক্ষমতায়নের জন্য ব্যয় করতে হবে। অর্থাৎ, তারা বাংলাদেশকে ১ কোটি টাকা দিলে তার ৮৫ লাখ টাকাই নারী রিলেটেড কাজে খরচ করতে হবে। এবং বাংলাদেশে প্রায় তিনশোর মত জার্মান এনজিও আছে যারা এসব করছে। বাংলা জার্মান সম্প্রীতি (BGS - এদের অধীনে দেড়শোর মত), Friedrich-Ebert-Stiftung - এগুলো বাদেও ব্রাকের সাথে কয়েকটা আছে। তো এই তথ্যগুলো দিয়ে আসলে কী বোঝা যায়? জার্মানি, দেশটা এত ইফোর্ট দিয়ে পৃথিবীর হাজার হাজার বছরের জেন্ডার রোলকে অস্বীকার করার চেষ্টা করেছে। পুরুষ বাইরে ব্রেডউইনার হিসেবে থাকবে, নারী ঘরে পরিবার দেখবে - এই নর্মকে ডিফাই করার জন্য গত কয়েক দশক ধরে হেভি ইনভেস্ট করেছে। এবং এটা একধরণের প্রতিষ্ঠাও করে ফেলেছে। নারী পুরুষের মতই শক্তিশালী, বা পুরুষের চেয়েও শক্তিশালী, ইভেন পুরুষের দরকার নেই - এটার অ্যাকচুয়ালাইজেশন তারা নিজের দেশেই না, বাইরের দেশগুলোতেও পয়সা ঢেলে প্রচার করেছে। কিন্তু গত সপ্তাহে কী ঘটেছে? এই বছরের পহেলা জানুয়ারী থেকে 'সামরিক সেবা আধুনিকীকরণ আইন' এর আওতায় এতে ১৭ থেকে ৪৫ বছর বয়সী সব জার্মান পুরুষ (ছেলে/পুরুষ) যদি তিন মাসের বেশি সময় বিদেশে থাকতে চায় (পড়াশোনা, চাকরি, ভ্রমণ — যেকোনো কারণে), তাহলে আগে থেকে Bundeswehr (জার্মান সেনাবাহিনী)-এর ক্যারিয়ার সেন্টার থেকে অনুমতি নিতে হবে। এই ধারাটি আইন পাসের সময় খুব একটা নজরে পড়েনি। গত সপ্তাহে (৪-৫ এপ্রিল ২০২৬) কয়েকটি পত্রিকা এটি তুলে ধরার পর ব্যাপক আলোচনা, ক্ষোভ দেখা দেয়। এই জার্মানির রাষ্ট্রযন্ত্র এতবছর ধরে চেঁচিয়ে বেড়ালো নারী-পুরুষ সমান, যারা এটা মানে না তাদের অসভ্য সাব্যাস্ত করে সভ্য করার কাজে লেগে গেলো, তারাই আবার যুদ্ধ আসন্ন আঁচ করে হাজার বছরের পুরোনো জেন্ডার রোলে ফেরত গেল। তাদের হঠাৎ মনে পড়লো, যুদ্ধের জন্য পুরুষ, ঘরের জন্য নারী। ৪০ বছরের ফেমিনিজম ফ্যাক্টরি রিসেট মোডে ফেরত গেলো।
➤ ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রমিজ ছিলো, ব্রিকস যেহেতু ডলার দুর্বল করতে চায়, সে ব্রিকসকেই দুর্বল করে দেবে। এবং এটাও ঘটেছে। আপনারা জানেন, ইরান এবং সৌদি দুটোই ব্রিকসের মেম্বার। ২০২৪ সালের পর থেকে প্রক্রিয়ার শুরু এবং ২০২৫ এ ফাইনালাইজড। ইরান যখন সৌদি আক্রমণ করে তখন এটা টেকনিকালি ব্রিকসের অন্ত্ররঘাতি দ্বন্দ। আরো জটিল হয়ে যায় যখন চীন অফিসিয়ালি ইরানের পক্ষে দাঁড়ায়। ফলে যেটা হয়েছে, ব্রিকসে সৌদির মত দেশ যোগ দেয়ায় ক্ষমতা যতটা বেড়েছিলো, সেখানে প্রচুর আস্থার সংকট। আপনি ভাবুন, ব্রিকসের পরবর্তি সম্মেলন, যেটা ভারতে হবে, সেখানে ইরান-সৌদি কিভাবে একসাথে বসবে? একে তো ইন্ডিয়ার গাদ্দারির কারনে ইরান সোলেমানি ক্লাস যুদ্ধজাহাজ হারিয়েছে। আবার চীনের মুখ বুজে থাকা তো দুনিয়া দেখেছে। এই অবস্থায় একটা নতুন দেশ কিভাবে ব্রিকসের মেম্বার হতে ভরসা পাবে? ইরান যুদ্ধের ফলে ব্রিকসের ক্ষমতা প্রায় অর্ধেক শেষ। ********************* কুর্দি প্রসঙ্গ আমেরিকা ইরানে অনেক বড় বাজি ধরেছে। এতটাই বড় বাজি যে, সাউথ চায়না সাগর থেকে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন সরিয়ে এনেছে জানুয়ারিতে। যা কিনা চীনের পক্ষে লাস্ট কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সিকিউরিটি দুর্বলতা। ইউএসের প্রাথমিক লক্ষ্য তথা রেজিম চেঞ্জ ব্যর্থ হয়েছে। দ্বিতীয় লক্ষ্য, মিসাইল বিনাশ, এটাতে তারা রিস্ক নিতে চায় নি। কিন্তু আজ সপ্তাহ পার হয়েছে, এতগুলো B2 ইউজের পরেও ইরান থেকে ঠিকই ড্রোন+মিসাইল উড়ছে। মুলতঃ ইরানের যে স্টোর স্ট্রাকচার, অনেকগুলো এমন আছে এক কিলোমিটার পাহাড়ের গভীরে। তার উপরে ইরানের আয়তন হিউজ, ইসরাইলের প্রায় ৭৫ গুণ। সুতরাং, এখানে একমাত্র উপায় পদাতিক সেনা পাঠানো। কিন্তু ট্রাম্প সেটা আমেরিকান ট্রুপ দিয়ে করতে পারবে না, ভিয়েতনাম, ইরাক, আফগান - সবাই জানে কি ঘটেছে। সামনে আবার মিডটার্ম ইলেকশন। এজন্য মার্কিনিদের সবচেয়ে বেটার অপশন কুর্দিরা। কিন্তু ওয়েট, সিরিয়াতে এই কুর্দিদেরই না কিছুদিন আগে টিস্যুর মত ছুড়ে ফেললো? ট্রাম্প জাওলানির পক্ষ নিলো, আর কুর্দিরা বহু বছর দখল করা পজিশনগুলো হারালো। তারা আবার আমেরিকাকে বিশ্বাস করবে? কোন দুঃখে? আবার ধরুন পিকেকে। গত বছর তুর্কি যখন তাদের নিকেশ করে আনলো, পিকেকে তাকিয়ে ছিলো আমেরিকা কিছু করে কিনা। যখন আমেরিকা মুখ ফিরিয়ে নিলো, তখন অর্থাৎ গত বছরের মে মাসে পিকেকে অস্ত্র সমর্পণে বাধ্য হলো। তারাও বা কিভাবে বিশ্বাস করে? সুতরাং, গ্রাউন্ড অপারেশনের দিক থেকে ইরান খুব সুবিধাজনক পজিশনে আছে। ********************* তবে হরমুজ আমেরিকার ক্ষতি না করতে পারলেও ইউরোপ এবং আমাদের মত ছোট দেশগুলোকে ভালোই ক্ষতিতে ফেলবে। আপনারা অলরেডি একটা সেমি-প্যানিক দেখতে পাচ্ছেন তেল পাম্পগুলোতে। বিএনপি একমাসও ক্ষমতায় আসে নি, এর মধ্যে এই চ্যালেঞ্জ। কারণ জালানি এমন জিনিস, এটা সরকার ফেলতে পারে, যুদ্ধ লাগাতে পারে, সরকারে বসাতেও পারে। ************ সামনের দিন ভালো ঠেকছে না। খুব দ্রুতই আমাদের পালা। ভারত খুব বেশিদিন অপেক্ষা করতে পারবে না। এই গুলো আপনার লাগবে - - একটা স্বাধীন এনার্জি সোর্স (মেবি সোলার) - ইলেক্ট্রিক কার/বাইক - স্যাটেলাইট ইন্টারনেট - ইমারজেন্সি খাবার/ঔষধের স্টক - চাষের জমি এবং স্বাধীন খাওয়ার পানির সোর্স ********************* এতক্ষণ পড়ার জন্য ধন্যবাদ/
যুদ্ধের ব্রুটাল দিক, ট্রাম্প, কুর্দি, আপনার প্রস্ততি আমরাই প্রথম জেনারেশন যারা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে রিয়েল টাইম যুদ্ধ দেখছি। ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে চলমান ইরান যুদ্ধ। একইসাথে ইতিহাসে প্রথমবার মূলধারার মিডিয়ার পরিবর্তে সোশ্যাল মিডিয়াই খবর জানার প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে। অর্থাৎ পেশাদার সাংবাদিকের ক্যামেরায় তোলা ফুটেজের পরিবর্তে সাধারণ মানুষের ফোনের ক্যামেরাগুলোই আমাদের নিউজফিড ভরিয়ে দিচ্ছে। আসলে কি হচ্ছে ? ➤ যুদ্ধের অন্যতম নিষ্ঠুর সত্য, যুদ্ধের নিউজ কিছুদিন পরেই বোরিং হয়ে যায়। কয়েক বছর আগের একটা স্টাডি অনুযায়ী, একটা বড় ঘটনার ব্যাপারে মাস পিপলের অ্যাটেনশন থাকে মাত্র ১৭ ঘন্টা। তারপর কমতে থাকে। যুদ্ধের খবরের বেলায় এটা একটু বেশি, পার্সলির গবেষণা বলছে গত কয়েকটি যুদ্ধের বেলায় মানুষের পিক অ্যাটেনশন ছিলো ২.৬ দিন। আর দুই সপ্তাহ পর মানুষ সামনে আসলেও সেই খবর এড়িয়ে যেতে শুরু করে। যুদ্ধের খবর বোরিং হয়ে যাওয়ার অন্যতম বড় কারণ হচ্ছে এটা খুবই একঘেয়ে। যদিও মানুষ মরার চেয়ে বড় খবর আর হয় না, কিন্তু পুরোনো এবং চলমান যুদ্ধের খবরে মানুষ বিরক্ত হয়। যেমন, ঠিক আমাদের পাশের রাষ্ট্র মায়ানমারে কিন্তু একটি যুদ্ধ চলছে। গত ৩ দিনের (মার্চ ৩-৫, ২০২৬) মিয়ানমার সংঘাতের খবর যদি দিই: • জান্তা প্রাইভেট গাড়ির জ্বালানি রেশনিং ঘোষণা করেছে (মার্চ ৭ থেকে শুরু)। • মিন অং হ্লাইং সেনাপ্রধান পদ ছেড়ে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরিকল্পনা করছেন। • আউংলান টাউনশিপে জান্তার আর্টিলারি-ড্রোন হামলায় ৩০০০ লোক বাস্তুচ্যুত। আপনার কাছে এই নিউজগুলোর মানে কী? কোনো মানে নেই। এবং এটাই রিয়েলিটি। বিষয়টা কত নিষ্ঠুর ভেবে দেখেছেন? আমরা একদম তাদের পাশের দেশ। একইভাবে, আজ থেকে তিন সপ্তাহ পরে ইরান যুদ্ধ নিয়ে আপনি এখনকার মত মাথা ঘামাবেন না। শনিবার দুইজন নিহত, রবিবার চারজন - যুদ্ধের খবর এরকমই বোরিং হয়ে যায়। শুধু নাম্বার চেঞ্জ হয় এবং ওই নাম্বার বড় না হলে কেউ কেয়ার করে না। ইভেন যারা জিওপলিটিক্স চর্চা করে দুইবেলা তারাও সামনে আসলে এড়িয়ে যান। ইউক্রেন, গাজা, সুদান, বার্মা - সব জায়গাতেই একই চিত্র। ➤ যুদ্ধের সংবাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা বায়াস ও ইকো চেম্বার। সঙ্গত কারণেই চলমান যুদ্ধে পশ্চিমের মোকাবেলায় আমাদের অন্তর কিছুটা ইরানের ফেভারে। কিন্তু আপনি শুধু আপনার সার্কেলের নিউজ দেখলে মনে হবে ইরান জিতছে। এবং সেটা সাপোর্ট করার মত যথেষ্ট খবরও পাবেন। আবার পশ্চিমের সার্কেলে গেলে মনে হবে ইরান নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এজন্য আপনাকে জুম-আউট করে সিচুয়েশনটা বোঝার চেষ্টা করতে হবে। সাথে দুই পক্ষের কোর আইডিওলজি এবং ইতিহাস আমলে নিতে হবে। বাস্তবতা হচ্ছে, ইরান জিততে পারবে না। এইভাবে ঘিরে ধরলে মিড টায়ারের একটা মিলিটারি টিকতে পারে না। ইরানি নেভি শেষ। লঞ্চিং সাইটগুলোর ম্যাক্সিমামই বোম্বড। ভুগর্ভস্থ মিসাইল সিটিগুলোর এন্ট্রেন্স বারবার করে ধ্বংস করেছে। কিন্তু তারপরেও ইরান যে ড্রোন+মিসাইল লঞ্চ করতে পারছে এটা খুবই ইম্প্রেসিভ। সেগুলো আবার মিনিমাম চারটা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমকে ফাঁকি দিয়ে তেল-আবিবে পড়ছে, এটাও বিস্ময়কর। ********************* এবার দেখা যাক ট্রাম্পের দুটো মাস্টারস্ট্রোক। তাকে যে জন্য এলিটরা ক্ষমতায় এনেছিলো তা সে করে দেখিয়েছে। ➤ প্রথমতঃ ইরান আক্রমণের পিছনে সবচেয়ে বড় বাঁধা ছিলো হরমুজ প্রণালী। এখান থেকে তেল না সরলে ইউএসের মাটিতে তেলের দাম বেড়ে যায়, জনগণ অখুশী হয়। ট্রাম্পের পলিসির অন্যতম ছিলো, এটা গুরুত্বহীন করে ফেলা যেন এই অস্ত্র আমেরিকার উপর আর কাজ না করে। তেলের খনি - কথাটা শুনলে সবার আগে আরব দেশগুলোর কথা মাথায় আসে। কিন্তু আমেরিকা নিজেও টপ টেনের মধ্যে। কিন্তু নানান কারণে মার্কিনিরা তেল উত্তোলন করতো না। এজন্য ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই একটা প্রতিশ্রুতি দেয়, নাম - 'ড্রিল বেবি ড্রিল'। অর্থাৎ, সে ক্ষমতায় আসলে লোকাল তেল উত্তোলন বাড়াবে। এবং করেছেও তাই। গত বছরের ১০ই জানুয়ারী থেকে এটা শুরু হয়। এবং আমেরিকার লোকাল তেল উৎপাদন এখন পর্যন্ত ৫৫% বেড়েছে। এটার ইফেক্ট এত বেশি ছিলো, বাইডেনের সময় যেই তেল ৩ ডলার/গ্যালন ছিলো, সেটা এখন দুই ডলার। এছাড়া বড় ঘটনাটা সবাই জানেন, ভেনিজুয়েলা, যাদের কিনা বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেলের রিজার্ভ আছে, সেটা এখন আমেরিকার। এই কারণে আমেরিকা এখন এত রিস্কি একটা যুদ্ধে জড়িয়েছে, প্রতিদিন ১ বিলিয়ন ডলার খরচ, হরমুজ বন্ধ - কিন্তু আমেরিকাতে তেলের দাম বাড়ছে না! এবং এজন্যই যুদ্ধ বন্ধের পলিটিকাল চাপ কম, মার্কিনিদের পেটে টান পড়ে নি।
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬। বাংলাদেশ সময় বেলা সকাল ১১:৩০। ইসরাইল-আমেরিকার যৌথ আক্রমণ শুরু। প্রথমে আক্রমণ করে ইসরাইল। সকাল ১১:৩১ ইরানের মিনিমাম ৪০ জন উচ্চপদস্থ সামরিক অফিসার নিহত। কিছু সোর্স থেকে এরকমও শোনা গেছে, এরমধ্যে চিফ অব স্টাফ (সেনাপ্রধান)ও ছিলো। মানে ইসরাইল-আমেরিকা মাত্র এক মিনিটে ৪০+ হাই র্যাংকিং অফিসার মেরে ফেলেছে। সিরিয়াসলি ইম্প্রেসিভ। অর্থাৎ, আক্রমণ শুরুর আগেই তারা ঠিক সাড়ে এগারোটায় কোথায় থাকবে তার ইঞ্চি লেভেলের অ্যাকুরেট ইনফরমেশন তাদের কাছে ছিলো। এইধরণের ইনফরমেশন একভাবেই পাওয়া যায়। স্পাই। ইরানের খোদ ওয়াররুমের মধ্যে ইসরাইলী স্পাই ছিলো। এখনো আছে। এই অস্থির সময়ে শিয়া-সুন্নী আলাপ অনেকের কাছে অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এটা আপনি এড়াতে পারবেন না। শিয়াদের মধ্যে স্পাইয়িং, সেলআউটের সম্ভাবনা বেশী। খোমেনি নিজেও সেলআউটের শিকার। > মার্কিন গর্ব প্যাট্রিয়টের আবারো ব্যাপক বেইজ্জ্বতি হলো। অন্ততঃ ৮টি দেশে ফেইল করেছে। এরমধ্যে কাতারের ১.১ বিলিয়ন ডলারের রাডার, বাহরাইনের ফিফথ বেইস, ইরাকের বেইস উল্লেখযোগ্য। > ইরান তথা অক্ষশক্তির জন্য ডু অর ডাই সিচুয়েশন। আমরা যার সাক্ষী হচ্ছি তা গত ৩০-৩৫ বছর ধরে হওয়ার অপেক্ষায় ছিলো। > বাচ্চা বলি ছাড়া ইসরাইলের হামলা তো অসম্পূর্ণ। শাজারেহ তাইয়েবেহ স্কুলের বাচ্চাদের জন্য প্রচন্ড খারাপ লেগেছে। বিবিসিসহ পশ্চিমা মিডিয়ায় নিউজটা খুজলাম। পেলাম না। এখানে আরেকটা ব্যাপার আমার চোখে পড়েছে। এই স্কুলে ইসরাইল সম্ভবতঃ থার্মাল ওয়েপন ইউজ করেছে। এই ধরণের মিসাইল অতি উচ্চতাপের হয়, মানুষের বডিকে ভস্ম করে নিশ্চিহ্ন করে দেয়। অনেক বাচ্চার ব্যাগ, জুতা পাওয়া গেলেও বডি পাওয়া যায় নি। এর আগে তারা গাজায় এরকম জিনিস ইউজ করেছে। > পাকিস্তানের ইউএস অ্যাম্বাসিতে আম্রিকা আবার জাত চেনালো। গুলি করা ছাড়াও হ্যান্ডেল করা যেত। কিন্তু গরীব দেশ, রক্ত সিরিয়াস রকমের চিপ। > ভেনিজুয়েলায় যেমন সনিক বুম ইউজ করেছিলো, ইরানে হয়ত আগে দেখা যায়নি এমন অস্ত্র টেস্ট করা হতে পারে। > ইরানের বর্তমান সরকার থাক আর যাক, এই অঞ্চলে সিভিল ওয়ারসহ অনেক কিছু আসবে সামনে। মোটেও আগের মত শান্ত হবে না। > কাতার-দুবাই-কুয়েতের সেফটির ইলিউশন ভেঙ্গে গেছে। ভোগে ডুবে থাকা গাদ্দার আরবগুলো ভালোরকমের রিয়েলিটি চেক পেয়েছে। > চলমান সংঘাতে পশ্চিম, জায়ো এবং তাদের ল্যাপডগের উপর ইরানের চাবুক মারতে দেখা অবশ্যই উপভোগ্য। এবং পশ্চিমের বিরুদ্ধে পলিটিকাল কারণে ইরান এখানে সমর্থন পাওয়ার যোগ্য। > তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ অফিসিয়ালি শুরু। > ট্রিগার হিসেবে গৌরবময় ৭ই অক্টোবর সমস্ত ক্রেডিট পাবে।
অনেক সময় এরকম হয়, খুব দ্রুত কিছু জিনিস শেখা দরকার। মানে শেখা লাগবেই, আর কোনো অপশন নেই। আমি একবার এরকম একটা সিচুয়েশনে পড়েছিলাম। এবং সেই সময়ে ম্যাট ওয়াকারের এই লেকচারটা আমার চরমভাবে উপকার করেছিলো। লাইফে যদি একটা টেড-টক থেকে উপকার পেয়ে থাকি তাহলে এটাই সেই ভিডিও,'ঘুম হচ্ছে তোমার সুপারপাওয়ার'। ঘটনাটা বলি। তখন সবে ক্যাম্পাসে ফার্স্ট ইয়ার শেষ করেছি। সবদিকে চেঞ্জ এসছে। কিছুদিন আগেই বড় একটা পেমেন্ট পেয়েছিলাম যা দিয়ে এক্সবক্স, ড্রোন - এইসবে পুরোটা উড়িয়ে দিলাম। হাত খালি হয়ে গেলো-বোকামির শাস্তি পাচ্ছিলাম। এরমধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার এক বায়ার একটা কাজ দিতে চাইলো। লারাভেল দিয়ে একটা ডাটাবেজ বানাতে হবে। ৪০০ ডলার বাজেট। আমি লারাভেলের 'ল'-ও জানি না। কিন্তু হ্যাঁ বলে দিলাম। কারণ টাকা লাগবে। কাজ তো পেলাম। কিন্তু লারাভেল শিখবো কিভাবে? কিছু বেসিক টিউটোরিয়াল দেখে মাথা ঘুরে গেলো। ওইদিক বাদ দিয়ে সাইকোলজির ভিডিও দেখা শুরু করলাম। কিভাবে সহজে শেখা যায়। কারণ সময় আছে ৪-৫ দিন। তারমধ্যেই টেড-টকের এই লেকচারটা পেলাম। ম্যাট ওয়াকারের থিওরী খুবই সিম্পল। কোনোকিছু শেখার পর আপনি ঘুমোতে যাবেন, অনেকটা সেভ বাটনে ক্লিক করার মতো। আবার শেখার আগেও কিছুক্ষণ ঘুমোবেন যাতে ব্রেইন আপনার মেমোরি ক্লিয়ার করে। এতে করে যেহেতু ওই জিনিসটা আপনার মেমোরির সর্বোচ্চ অ্যাটেনশন পাচ্ছে, এবং শেখার পরে নতুন কোনো মেমোরি ওটা এলোমেলো করে দিচ্ছে না - জিনিসটা একদম স্থায়ী হয়ে যাচ্ছে। ম্যাটের গবেষণা অনুযায়ী, এটা অন্ততঃ ৪০% বেশী কার্যকর, শেখার ক্ষেত্রে। একদম ঔষধের মত কাজ করেছিলো। এখানে বলে নিই, ছাত্রাবস্থায় আমি খুব শর্ট ন্যাপ নিতে পারতাম। সেমিস্টার ফাইনালের দিনগুলোতে, ধরা যাক পরীক্ষা সাড়ে নয়টায়, আমি নয়টায় হলেরই কোন বন্ধুর বেডে ঘুমিয়ে পড়তাম। ওরা যাওয়ার আগে ডেকে দিত। হয়ে গেলো ১৫ মিনিটের ঘুম। যাইহোক, ওই এক্সপেরিমেন্টের সময় দুপুরের ঘুম থেকে উঠেই ইউটিউবে যেতাম। সাথে ভিএসকোড ওপেন থাকতো। আধাঘন্টা পর আবার ঘুমোতাম। এভাবে করে আমি সত্যি সত্যি ৫ দিনের মাথায় ফুলি ফাংশনাল ডেমো বানিয়ে দিয়েছিলাম। ======== পরেও অনেকবার এই টেকনিক ফলো করেছি। প্রায় প্রতিবারই কাজে দিয়েছে। একবার ট্রাই করে দেখতে পারেন। টেড টকের ইউটিউব লিংক
আবার আমার ভার্সিটির প্রফেসর, যেই কোর্সে আমি একটা ফটোকপি শীট পড়েছি, সেই একই টপিকে তিনি ৮০+ বই পড়েছেন, পিএইচডি করেছেন। ডেমোক্রেসি বলবে, আমার আর প্রফেসরের ভোটের ভ্যালু এক। তো উনার অত পড়াশোনার মানে কি? +++++ গণতন্ত্র একটি ব্যর্থ, মেয়াদোত্তীর্ণ সিস্টেম। ভোট হচ্ছে তার একেবারে মৌলিক অঙ্গ। এবং এতে আমি অংশ নিতে চাই না। ++++++ ভোটদাতাদের প্রতি ক্ষোভ - বিদ্বেষ কোনোটাই রাখছি না। জাস্ট মতামত দিলাম।
বাংলাদেশে রাত পোহালেই ভোট। এবং আমি ভোট দিচ্ছি না। এই লেখাটি কোন বিতর্ক, আহ্বান বা প্রত্যুত্তর না। জাস্ট একটা খবর জানানো যে, আমি কী করছি। যাইহোক, আমার ভোট না দেওয়ার কারণ নিচে অল্প করে বলে দিচ্ছি- ১। থিওলজিকাল বা ধর্মীয় কারণঃ অধ্যায়ন ও গবেষণার পর আমি পুরোপুরি কনভিন্সড যে গণতন্ত্র একটি ইসলামবিরোধী শাসন পদ্ধ্বতি। সুতরাং, মুসলিম হিসেবে এই প্রক্রিয়ায় আমার অংশ নেওয়া উচিত নয়। অনেকে বলেন, কেবল ভোট দিলে কী প্রবলেম? গনতন্ত্র না মানলেই হলো। এটা অ্যাবসার্ডিটি। কারণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার শুরুই হয় ভোটের মাধ্যমে। একটা ব্লাংক পার্লামেন্ট নির্বাচিত এমপিদের দিয়ে ভর্তি হয়। ভোট ছাড়া গনতন্ত্র আছে, এমন দেশ দেখান? যাইহোক, এইগুলোই যথেষ্ট হওয়ার কথা ছিলো। গণতন্ত্রের অসারতা নিয়ে সারাবছর লেখা যায়। আমি আমার টেইকগুলো বলছি। ২। ফেমিনিজমের পলিটিকাল শেল্টারঃ আধুনিক ফেমিনিজম গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রের বাইরে সারভাইভ করতে পারে না। সত্তরের দশকে ডেমোক্রেসি থেকে লিবারেল ডেমোক্রেসিতে শিফট করে দুনিয়া। কাকতালীয়ভাবে তখনই সেকেন্ড ওয়েভ ফেমিনিজমের শুরু। নারীর এমপাওয়ারমেন্ট সেটা অনেক মতবাদেই আছে সেটা হোক চায়নার আয়রনগার্ল বা সোভিয়েতের স্থাখানোভাইত । কিন্তু অল আউট পুরুষবিদ্বেষী ফেমিনিজম পয়দা হয়েছে ডেমোক্রেসির ছাতার নিচে। ডেমোক্রেসি একমাত্র মতবাদ যা ফেমিনিজমকে প্রশাসনিক এবং জুডিশিয়ালি প্রাতিষ্ঠানিক করেছে। যার ভিকটিম সাধারণ শ্রেণীর পুরুষ তো বটেই, খোদ নারীরাও। ৩. Dampening the youth spirit: তরুণদের ক্ষমতা থাকে একশনের, কিন্তু ডেমোক্রেসি তাদের ধরিয়ে দেয় ড্রামা। তোমার বাপকে ডাকাতেরা মেরে ফেলেছে, তুমি কিন্তু নিজেই ডাকাত ধরতে যেতে পারবা না। ডেমোক্রেসি বলবে, একটা ব্যানার নিয়ে দাঁড়াও। লোক জোগাড় করো। এনাফ পরিমাণ পাবলিক সাপোর্ট পেলে কিছু একটা হতে পারে। বিপ্লবী, পুরুষালি কিছু করতে পারে এমন তরুণদের হাতে ডেমোক্রেসি ধরিয়ে দেয় সফট-মিনমিনে কিছু। ৪। ভায়োলেন্ট: গতো ৪০ বছরে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। এটা একটা বিরাট নাম্বার। কারণ ডেমোক্রেসিকে আমাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় একটা ভদ্রলোকের ব্যাপার হিসেবে, যেটা কিনা উগ্রপন্থার বিকল্প। অথচ আমরা দেখতে পাই, এই ডেমোক্রেসি এতো পরিমাণ খুন করেছে, এটা স্বাভাবিক না। ৫। কম্প্রোমাইজিং- ডেমোক্রেসি আপনার থেকে ব্যাপক পরিমাণ কম্প্রোমাইজ দাবি করে। ধরুন, নারীর ক্ষমতায়ন। প্রথমে বলবে ৩০% আসন কিংবা জব নারীদের দিতে হবে। আপনি দিলেন। পশ্চিম বলে হয়নাই, আরো লাগবে। আপনি ৫০% দিলেন। হয়নাই, আরো লাগবে। আফ্রিকাতে অনেক অতিদরিদ্র দেশ আছে যাদের এমপির ৫৫-৬৫% নারী। কিন্তু ক্ষমতায়নই শেষ হচ্ছে না। ডেমোক্রেসি প্রথমে আপনার কর্মসূচিতে কম্প্রোমাইজ করতে বলবে। তার কোর ভ্যালুগুলোতে। শুধু ডেমোক্রেটিক রেইসে টিকে থাকতে এইভাবে ছাড় দিতে দিতে শেষে গিয়ে আপনি আর আপনি থাকছেন না। আমি আমার কোর ভ্যালুগুলোতে ছাড় দিতে রাজি না। 6. A dying system, A sinking Ship : গতবছরের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত International Institute for Democracy and Electoral Assistance (IDEA) যে রিপোর্ট প্রকাশ করে, তাতে দেখা যায়, ডেমোক্রেসির জনপ্রিয়তা ইতিহাসের যেকোন সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন। কারণ? ইরাক বা ভেনিজুয়েলার ঘটনাগুলোর পর এটি স্পষ্ট, ডেমোক্রেসি পশ্চিমের বাকি সব অস্ত্রগুলোর মতোই একটা অস্ত্র। জি জিনপিং আজীবনের জন্য প্রেসিডেন্ট, আমেরিকা সেখানে ডেমোক্রেসির প্রতিষ্ঠার কথা বলে না। কাতারে আরবের মধ্যে সবচেয়ে বড় মার্কিন ঘাঁটি, সেখানে ডেমোক্রেসি নাই। বা মার্কিন অস্ত্র ক্রেতা সৌদি, সেখানে ডেমোক্রেসি নাই। ইউক্রেনে বছরের পর বছর ইলেকশন হয় না, কই, ডেমোক্রেটিক পশ্চিম তো জেলনস্কিকে সাপোর্ট করা থামায় না। ডেমোক্রেসি জিইয়ে রাখার দায় কেবল আমাদের মতো গরীব দেশের। ডেমোক্রেসি হচ্ছে একটা পুরনো মডেলের টিভির মতো, যা এক বড়লোক দীর্ঘদিন ইউজ করার পর ফেলে দিয়েছে। কিছু গরীব সেটাকে থাপ্পড় দিয়ে, নাট মুড়িয়ে চালানোর চেষ্টা করছে। আমি ওই পড়ে পাওয়া টিভি ঘাটতে চাই না। আমি সচল, ঝকঝকে, নিজের টাকায় কেনা টিভি চাই। ++++++++ ২০ লাখ টিচার এক হয়ে এক হাজার টাকা বেতন বাড়াতে পারে না, ২০ লাখ কৃষক আন্দোলন করে ৫০ টাকা বেশি লাভ আদায় করতে পারে না। এই একই সিস্টেম আবার আমাদের বিশ্বাস করতে বলে, এদের হাতে নাকি শাসক চেন্জ করার ক্ষমতা আছে! একজন এমপির সাথে আপনার কাজ থাকে কয়দিন? কিন্তু ভূমি অফিসের কর্মকর্তার সঙ্গে আপনার কাজ আছে। সে কিন্তু আপনার ভোটে নির্বাচিত নয়। কিভাবে কী? +++++++ আমার বেসিক আত্মসম্মানবোধটা আছে। গণতন্ত্র বলছে, একজন পকেটমারের ভোটের ভ্যালু, এবং আমার, একজন সাধারণ অনেস্ট মানুষের ভোটের ভ্যালু এক। তো আমার ভালো থাকার মূল্যায়ন কোথায়?
পড়ুন নিচের পোস্টে👇👇👇
সত্যি বলতে, এগুলোর একটাও অনুমান না। আমরা ধীরে ধীরে একটা জাতিসংঘহীন বিশ্বের দিকে যাচ্ছি। আমরা এমন সময়ে আছি যেটা আমাদের আগের তিন জেনারেশন দেখেনি (২৫ বছরে এক জেনারেশন)। এইভাবে চলতে থাকলে ভারত অবশ্যই বড় কিছু ট্রাই করবে। পুরো দেশ না হোক, চট্টগ্রাম গেলে বাংলাদেশ লজিস্টিকালি ফকির। এবং ঘটনাগুলো বলছে,এভাবেই চলবে। *********************** আমাদের বাঁচার একটাই উপায়, নিউক এবং নিউক।
বাংলাদেশের সামনে মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকি ______________________________________ আমরা খুবই সাম্প্রতিক দুটি ঘটনা পাশাপাশি দেখবো। ঘটনাদুটো পুরোপুরি আন্তর্জাতিক। কিন্তু এর সাথে বাংলাদেশের অস্ত্বিত্ব থাকা-না থাকার সম্ভাবনা আছে। চলুন দেখি- ১) আপনারা জানেন, বোর্ড অফ পিস নামে একটি আন্তর্জাতিক কমিটি গঠন হয়েছে। ট্রাম্প যার আজীবন চেয়ারম্যান এবং ভেটো ক্ষমতার অধিকারী। বর্তমানে সংগঠনের সদস্য ২৫টি দেশ, যারমধ্যে কাতার ও পাকিস্তানের মত মুসলিম দেশও আছে। তো কী এই বোর্ড অব পিস? এটি হচ্ছে আক্রান্ত গাজা উপত্যকা পুনর্গঠনের একটি কমিটি। এখানে যে দেশ সদস্য হতে চায় তাদেরকে ১ বিলিয়ন ডলার করে দিতে হবে। যেটা দিয়ে তারা গাজাতে বিনিয়োগ করবে মানবিক সাহায্য এবং আধুনিক অবকাঠামো নির্মানের কাজে। এছাড়া আরো একটি কাজ করবে, সদস্য দেশ থেকে আর্মিদের নিয়ে একটি স্পেশাল মিলিটারি গঠন করবে, যাদের কাজ হবে গাজাবাসীর যেকোনো স$শ$স্ত্র ও রাজনৈতিক প্রতিরোধকে নিশ্চিহ্ন করা। আপনারা জানেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয়ভাবে এই বাহিনীতে যোগ দেওয়ার জন্য লাফাচ্ছে, যাদের কাজ হবে ফিলিস্তিনি মুসলিমদের হ%$3ত্যা করা। কিন্তু...ওয়েট...এইসব মানবিক সাহায্য, শান্তি রক্ষায় বাহিনী বানানো - এসব পরিচিত মনে হচ্ছে না? কারা যেন করে কাজটা? হ্যাঁ, জাতিসংঘ। ট্রাম্প যেটা করছে সেটা স্পষ্টভাবে জাতিসংঘকে রিপ্লেস করার কাজ। এমনিতেও জাতিসংঘ যে গাজার খুব উপকার করছিলো এমন না, গাজাবাসীর নিরাপত্তায় কিছু করা তো দুরের কথা, নিজেদের কর্মীদেরও বাচাতে পারেনি। জায়োদের নৃশংসতার বিপরীতে ইউএনের ভুমিকা ছিলো সেই ভবঘুরে বুড়োর মতো, যে বলছে, বাবারা থামো। কিন্তু আগ্রাসীরা বিন্দুমাত্র কেয়ারটাও করছে না। ঘটনাটার স্কেল বোঝার চেষ্টা করুন। জাতিসংঘ, যেই সংগঠনের ফুল মেম্বারশীপ না পেলে একটা দেশকে দেশই মনে করা হয় না, তাকে ঘাড় ধরে এক সাইডে সরিয়ে দিচ্ছে একজন মানুষ, এবং ২০০ দেশ মেম্বারওয়ালা সংস্থা কিছুই করতে পারছে না! তাহলে কি জাতিসংঘের ঝাঁঝ শেষ? চলুন দ্বিতীয় খবরটা দেখি। ২) এখানে বিস্তারিত কিছু বলার দরকার নেই, জাস্ট শিরোনামগুলো পড়ুনঃ > "আর্থিক ধসের মুখে জাতিসংঘ, জুলাইয়ের মধ্যেই ফুরিয়ে যেতে পারে নগদ অর্থ" /আল-জাজিরা, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬ > "অর্থ সংকটে জাতিসংঘ: বিশ্বজুড়ে কমানো হচ্ছে ২৫ শতাংশ শান্তিরক্ষী" /আরব নিউজ, ৯ই অক্টোবর, ২০২৫ > "আর্থিক সংকটের মুখে জাতিসংঘ, সদস্য দেশগুলোকে গুতেরেসের জরুরি চিঠি" / আল-জাজিরা ৩১/০১/২৬ >"জাতিসংঘের ও আন্তর্জাতিক ৬৬ সংস্থা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের" /রয়টার্স, ৮ই জানুয়ারী, ২০২৬ ট্রেন্ডটা ধরতে পেরেছেন? কোনো মিরাকল না ঘটলে জাতিসঙ্ঘ একটি সংগঠন হিসেবে ধ্বংসের পথে। শান্তি প্রতিষ্ঠায় তো ব্যর্থ বটেই, অশান্তি প্রতিষ্ঠাতেও জাতিসংঘ ব্যর্থ। বাংলাদেশের উদাহরণ দিয়েই বোঝাই। জাতিসংঘের সাসটেইনেবল গোল (SDG 5:3) ২০২৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশী মেয়েদের ১৮ বছরের আগে বিয়ের হার নামিয়ে আনার লক্ষ্য ছিল ৩৪% এ। কিন্তু বাস্তবে এই হার ৫১.৪%! যা কিনা এশিয়ায় সর্বোচ্চ। আবার এই গত মাসে আমেরিকা UN Women থেকে বেরিয়ে গেছে, মানে ফান্ডিং হারালো ব্যাপকহারে। ৫ঃ৩ অনুযায়ী ২০৩০ সাল নাগাদ আর্লি ম্যারেজ জিরোতে আনার কথা। কিন্তু টার্গেটের অর্ধেকই হয়নি, ত্রিশ নাগাদ জাতিসংঘ নিজেই থাকে কিনা ঠিক নেই। হাজারো অন্যায়ে নির্বিকার থাকা ও অত্যাচারীকে সুযোগ করে দেওয়া এই সংগঠন তার পাপের শাস্তি পাওয়ার পথে। ************************ এবার আসি মূল প্রসঙ্গে। ভারতের মানচিত্র দেখলে সাথে বাংলাদেশেরটাও দেখা হয়ে যায়, আমরা লিটারালি পেটের ভিতরে। ভারতের ৯টি রাজ্যের আয়তন বাংলাদেশের চেয়ে বড়। একটা পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। ক্যাপসুলের মত বাংলাদেশকে এখনো গিলে নিতে পারেনি কেন? মূল কারণগুলো এরকমঃ ‣ বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য। জাতিসঙ্ঘ থেকে নানান নিষেধাজ্ঞা আসবে। ‣ 'ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটি'র (ইউরোপ-নর্থ আমেরিকা-ওশেনিয়া) চাপ আসবে, তাদের স্বার্থ আছে। ‣ সুপারপাওয়ারগুলোর স্বার্থ আছে। ‣ বাংলাদেশ আর্মি-নেভি। ‣ বিরাট সংখ্যক ইয়াং মুসলিম পপুলেশনের কারণে মিলিট্যান্সির ঝুঁকি। চলুন কারণগুলোর হাল দেখে নিই। • জাতিসংঘ মরার পথে। কী ঘটবে যখন তাদের 'কঠোর নিন্দার' আর কোনো ভ্যালু থাকবে না? • ইউরোপ নিজেই যুদ্ধের কাছাকাছি। নিশ্চিত থাকেন আমেরিকা কেবল গ্রিনল্যান্ডে থামবে না। কী ঘটবে যখন তারা নিজেরাই যুদ্ধে ব্যস্ত এবং এরকম পুঁচকে দেশের পরিণতির ব্যাপারে মাথা ঘামাবে না? • কী ঘটবে যখন চীন বরাবরের মতই নিশ্চুপ থাকবে? যাইহোক, এতগুলো ঘটনা ঘটার পর বাংলাদেশ প্রাক্টিকালি তখন ভারতের পেটে। • বাংলাদেশ আর্মি আসলে একটা বড় পদাতিক বাহিনী। এয়ার পাওয়ার আমাদের নেই, একটা অগ্নি মিসাইলে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট শেষ। • ভারত এতদিনে এই কনফিডেন্স পেয়েছে যে তারা মিলিটান্সি থামাতে পারবে। যদিও সেটা ভুল কনফিডেন্স। কিন্তু তার উপর বেইস করে যে তারা দখল নিতে চাইবে না এমন নয়।
জানুয়ারি ৬, ২০২১ - তারিখটার কথা মনে করুন। ট্রাম্প ভোটে হেরে গেলো। তার সমর্থকরা মার্কিন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ ভবন তথা ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ে ঢুকে পড়লো। তারা ভোট চুরির অভিযোগ আনে এবং নতুন সরকার গড়তে বাঁধা দেওয়াই ছিলো উদ্দেশ্য। ঘটনা এখানে যা-ই ছিলো, এটা ছিলো পরিষ্কার রাষ্ট্রদ্রোহ। এবং সেই রাষ্ট্রদ্রোহের উসকানিদাতা হিসেবে ট্রাম্পের ডেথ সেন্টেন্স কিংবা কমপক্ষে বাকি জীবন জেলে থাকার কথা। আজকে প্রেসিডেন্ট হওয়া দূরে থাক ইভেন চব্বিশের নির্বাচন পর্যন্ত করার কথা না। কিন্তু সে পার পেয়ে গেলো কিভাবে? এখানেই আসে পৃথিবীর 'সর্বশ্রেষ্ঠ' রাষ্ট্র আমেরিকার ব্যাপক এক জুডিশিয়াল দেউলিয়াত্ব। মার্কিন আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টকে তার প্রেসিডেন্সিয়াল কোনো আদেশের জন্যই অভিযুক্ত করা যায় না। আপনি রুপকথার 'সাত খুন মাফের' কথা শুনেছেন না? ওয়েল, এখানে লাখো খুন মাফ ধরুন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিটারালি কাউকে মেরে ফেলার আদেশ দিতে পারে, কিন্তু কোনো আদালতই তার বিচার করতে পারবে না। ট্রাম্প যখন ক্যাপিটলের দিকে সবাইকে যেতে বলে তখন সে আর মাত্র কয়েক ঘন্টার জন্য প্রেসীডেন্ট ছিলো। ওইদিনই নতুন সরকার হবে। কিন্তু টেকনিকালি সে প্রেসিডেন্ট, এবং প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেওয়া আদেশের কারণে তাকে অভিযুক্ত করা যাবে না - তার উকিলেরা এই যুক্তি দেখায় এবং জিতে যায়। ___ এপ্সটিন ফাইল নিয়ে কী হচ্ছে আপনারা জানেন, নতুন করে বলার কিছু নেই। আগের চালানের লিকে পাওয়া গিয়েছিলো, ট্রাম্পের রেইপের ফলে এক কিশোরী এক বাচ্চার জন্ম দেয়। ট্রাম্প নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সেই বাচ্চাকে হত্যা করে বাড়ির পাশের লেকে ছুড়ে ফেলতে বাধ্য করে। এপ্সটিন ফাইলে বর্ণিত ঘটনাগুলো বেশ পুরোনো। প্রশ্ন হলো, এখন এটা রিলিজের কারণ কী? ট্রাম্পের তো কিছুই হবে না। বাকি যারা আছে অধিকাংশেরই কিছু হবে না। কিন্তু এই ফাঁসের কারণ হলো মুলতঃ ট্রাম্পের ইরানে হামলা করতে দেরী করা। ইজরায়েল ১২ দিনের যুদ্ধের সময় থেকেই আশা করে ছিলো মার্কিন হামলা হবে। কিন্তু ইরানে মার্কিন মিলিটারি ক্যাম্পেইন মানেই বিশ্বযুদ্ধ অফিসিয়ালি শুরু। নেক্সট বিশ্বযুদ্ধ মানে বিশ্বব্যাপি মার্কিন আধিপত্যের সমাপ্তি। অথবা নিউক্লিয়ার যুদ্ধের মাধ্যমে বিশ্বেরই সমাপ্তি। এপ্সটিন নিজে ইহুদী, এবং ইজরায়েলের সাথে তার সম্পর্কের কথা খোদ এপ্সটিন ফাইলেই আছে। বিশ্বজুড়ে যত চাইল্ড অ্যাবিউজের রিং আছে, কোন না কোন ইহুদী আপনি পাবেনই। এই ফাইল ফাঁসের মত করেই কাজ করে তারা - এটাই গেম প্লান। আপনি নিশ্চিতভাবে বলতে পারেন, ট্রাম্প ইরানে অ্যাটাক এতদিনে করলে এটা ফাঁস হতো না। এই ফাইল এক উভয়সংকট। হয় ভালোমানুষি মুখোশ বাঁচাতে হবে, নইলে আমেরিকার হেজেমনির কবর নিজে খুড়ে যেতে হবে। ----------- ট্রাম্প যত দেরী করবে আরো বিভৎস লিক বের হবে। এছাড়া লিক হওয়া ফাইলগুলোতেও যে কালো কালি দিয়ে ঢেকে দেওয়া, সেগুলোও বেরোতে পারে। ------------ এইগুলো যদি স্রেফ লিপিবদ্ধ এবং সেন্সর করার পরের অবস্থা হয়, তাহলে যা লিপিবদ্ধ হয়নি তার মাত্রা কেমন? ------------ বাই দ্যা ওয়ে, এই পিশাচগুলো যাদের জঙ্গি বলে, তারা কিন্তু জঙ্গিই, হুম।
********************* আগামীতে প্রো-মাস্কুলিন কন্টেন্ট আরো পুশ করা হবে। পশ্চিম নিজেই করবে। এটা গ্লোবাল ফিনোমেনন। ভিয়েতনাম বা সুদান, পৃথিবীর সব দেশের তরুণদের ক্রাইসিস একই রকম। এখানে একটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস আছে। ধরুন, একটা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তরুণ তাদের ফিজিক, ফাইনান্স উন্নত করলো, লাইফে ডিসিপ্লিন আনলো। আপনি যদি একত্রে তাদেরকে দেখেন, তাহলে এটা একটা শক্তি। প্রশ্ন হলো, এই শক্তি থেকে ফায়দা তুলবে কে? উত্তর হলো, এই তরুণদের স্প্রিচুয়ালিটি যে কন্ট্রোল করবে। আপনাদের মনে থাকার কথা, আমরা সেই ২০২২ সাল থেকে আত্মউন্নয়নের যে বিষয়গুলো বলে আসছি - ফিজিক - ফিটনেস, ফাইনান্স ও স্প্রিচুয়ালিটি। স্প্রিচুয়ালিটি যদি আপনি নিজের ইচ্ছায় না বেছে নেন, অন্য কেউ বেছে দেবে। আপনি যদি প্রো-ইসলামিস্ট না হন, আপনার অজান্তেই আপনি প্রো-জায়ো বা প্রো-হিন্দুত্ব বা প্র-ওয়েস্ট গ্রহণ করে ফেলবেন। ********** আজ এ পর্যন্তই।
পশ্চিম কেন হঠাৎ করে মাস্কুলিনিটি পুশ করছে? আজকে আপনি যদি পশ্চিমা কোনো দেশ থেকে বা ওই দেশের আইপি দিয়ে কোনো সোশ্যাল মিডিয়া আইডি খোলেন, এবং জেন্ডার হিসেবে পুরুষ সিলেক্ট করেন, তাহলে একটা ব্যপার ঘটবে। স্ক্রোলেবল সোশ্যাল মিডিয়া, যেমন ফেইসবুক, ইন্সটাগ্রাম, ইউটিউব শর্টস বা এক্স -এগুলোতে একদম নিরপেক্ষ স্ক্রোল করতে থাকলে সর্বোচ্চ ২০ মিনিটের মধ্যে আপনি প্রো-মাসকুলিনিটির কন্টেন্ট পাবেন। এবার সেগুলোতে লাইক-কমেন্ট করলে, কিংবা ইভেন শেষ পর্যন্ত দেখলে আপনাকে আরো এই ধরণের কন্টেন্ট দেখানো শুরু করবে। ওয়ার্কআউট, ডিসিপ্লিন, অ্যান্ড্রু-টেইট, ফ্রিডম, রিলেশনশীপ - এইধরণের। মুলতঃ ট্রাডিশনাল মাসকুলিনিটি, সেই পুরোনো যোদ্ধা স্প্রিট। এগুলো কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়াগুলো ইচ্ছে করেই পুশ করছে। স্পেশালি ইউরোপ আমেরিকার ছেলেদের টার্গেট করে। আপনার আইপি যদি ইন্ডিয়ান বা আরব হয় আপনাকে এসব কম দেখাবে। যাইহোক, এসব নিয়ে বর্তমানে ব্যাপক গবেষণা হচ্ছে, সামনে কোনোদিন বিস্তারিত বলা যাবে। আপাতত কথা বলতে চাই গত তিন বছর ধরে চলা এক কৌতুহলের উত্তর মিলে যাওয়ার ব্যাপারে। *************** আমি কিছুতেই হিসাব মেলাতে পারছিলাম না। ধরুন এই পেইজ-চ্যানেল চালানোর জন্যই হোক বা নিজের ডিসিপ্লিনের জন্য, আমাকে এসবের গভীরে যাওয়া লাগেই। কিন্তু যেটা খটকা লেগেছে, ধরুন ইন্সটাগ্রাম। আপনি চাইলে অ্যালগরিদম এমন করে নিতে পারবেন যেখানে আপনার প্রত্যেকটা রিল হিটলার রিলেটেড থাকবে। বা কট্টর হিন্দুত্ববাদী বা মুসলিম জেহাদি কন্টেন্ট দিয়ে ভরে ফেলতে পারবেন। প্রশ্ন হলো, মেটার মালিক জুকারবার্গ না ইহুদী? সে কেনো তার প্লাটফর্মে এরকম ওপেনলি ইহুদীবিরোধী, হিটলারপন্থী কন্টেন্ট অ্যালাউ করছে? তারা কিন্তু চাইলেই এসব আটকাতে পারে ব্যান, শ্যাডোব্যান করে। কিন্তু করছে না কেন? আবার ধরুন, পশ্চিম বেসিকালী নারী অধিকারের ঠিকাদার। আজকে একটা তরমুজ চাষের প্রশিক্ষণে গেলেও তারা আপনাকে নারীর ক্ষমতায়ন শেখাবে। তারাই কিভাবে আজকে এরকম প্রো-মেল হয়ে গেলো? ****** উত্তরটা পেলাম এই সপ্তাহে। আপনারা জানেন, ওয়ার্ল ইকোনমিক ফোরামের কনফারেন্স হয়ে গেলো। জাতিসঙ্ঘ সম্মেলন একটা ক্লাউন শো, আসল ক্ষমতা আসলে এই ফোরামে। পুরো দুনিয়া যেটাতে স্তম্ভিত হয়েছে, ফোরামে একাধিক বক্তা স্বীকার করেছেন যে, গ্লোবালাইজেশন অফিশিয়ালি ডেড। বিশ্ব নতুন ব্যবস্থার দিকে যাচ্ছে। কী ব্যবস্থা আমরা জানি না, কিন্তু আগেরটা মরে গেছে, কবর দেওয়া বাকি। এখানেই আসল ঘটনা। একটা সিস্টেম যখন নষ্ট হয় তখন ওই সিস্টেমের রাজ করা লোকেরাও ক্ষমতা হারায়। ব্যাপারটা মাঝি আর ব্রিজ দিয়ে বুঝতে পারেন। একদল মাঝি লোকেদের নদী পার করায়। কিন্তু তারা ব্যাপক স্বেচ্ছাচারী। ইচ্ছেমত ভাড়া নেয়, অপছন্দের লোকেদের নৌকায় তোলে না। এলাকাবাসী কয়েকবার ব্রিজ বানাতে গিয়েছিলো, কিন্তু মাঝিরা সেটা শুরুর আগেই ভেঙ্গে দেয়। কিন্তু এইভাবে আর কতদিন? লোকেরা এবার সত্যি সত্যি বড় ব্রিজ বানিয়ে ফেলেছে প্রায়। এখন মাঝিরা জানে, ব্রিজ হলে তাদের দাদাগীরি শেষ। এজন্য তারা কিন্তু ওই ব্রিজ অত সহজে বানাতে দেবে না, মরণকামড় দেবে। ওই মাঝিদের দল আসলে আমেরিকা। গ্লোবালাইজেশনের রাজা হয়ে যখন যাকে ইচ্ছে মেরেছে ধরেছে, নিজেদের শর্তে ব্যবসা করতে বাধ্য করেছে। যে অন্যাথা করেছে তার পয়সা আটকে দিয়েছে, বোমা মেরেছে। আমেরিকা থেকে হাজার কিলো দূরের পাশাপাশি দুই দেশের ব্যবসায়ী ব্যবসা করতে চাইলেও আমেরিকাকে ট্যক্স দিতে হয়েছে। মার্কিনিদের এসব অপকর্মের ফলে নেতাগীরি যায় যায়। কিন্তু বাস্তবতা যাই হোক, কেউ কি তার হাতের ক্ষমতা এমনি এমনি যেতে দেবে? একটা শেষ চেষ্টা করবে না? সেই চেষ্টার মানে কিন্তু যুদ্ধ। পশ্চিমে একটা যুদ্ধ প্রায় শুরু হলো বলে। ***** শুরুতে যা বলেছিলাম। পশ্চিমে প্রো-মেল কন্টেন্ট পুশ করার একটাই উদ্দেশ্য, নতুন জেনারেশন থেকে যোদ্ধা বের করে আনা। ফেমিনিজম মাত্রাতিরিক্ত পুশ করার ফলে পশ্চিমা সমাজের যে ফেমিনাইজেশন হয়েছে, তাতে তাদের অস্ত্বিত্ব টেকানোর মত যথেষ্ট যোদ্ধা তৈরী হচ্ছে না। ফেমিনিজম, সাথে ট্রান্স অতিরিক্ত সেন্সিটিভ ও সফট শাসনের ফলে পশ্চিমের বহু দেশ আর্মির রিক্রুটমেন্ট টার্গেট পূরণ হচ্ছে না। এটা ধারণা করে বলা না, একদম জাতীয় পত্রিকার খবর। তাই যখন আমেরিকার চাবুকের ছায়া বড় হতে শুরু করেছে, রাষ্ট্রগুলো যেন কারেন্ট শক পেয়েছে। যেন যুদ্ধের আগের রাতে তারা দেখছে যথেষ্ট যোদ্ধা নেই। ************** পৃথিবীর কোনোকালের ইতিহাসে এমন কোনো ডিফেন্স ছিলো না যেখানে পুরুষ যোদ্ধার বিকল্প আছে। পশ্চিম যতই আজকে অর্ধেক সিনেমার প্রোটাগনিস্ট নারী বানাক, যে কিনা ৫-৬ জন ষন্ডামার্কা পুরুষের সাথে ফাইটে জিতছে, কর্তাব্যক্তিরা ঠিকই জানে এগুলো পর্দার বিনোদন মাত্র। ছুরির বিকল্প রাইফেল হতে পারে, কিন্তু মাসলের বিকল্প কিন্ত দুর্বল মেয়েলী মাসল না।
ব্যাড বয়, ব্যাড চয়েস, ব্যাড এন্ডিং " এইসব গুন্ডা-মস্তান বেশিদিন বাঁচবে কিনা তার নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু যত অল্প দিনই বাঁচুক, তুই নিশ্চিত থাক এরা ভার্জিন মরে না।" বলেছিলেন এক ভাই। এর মত সত্যি খুব কমই আছে। নারীর ডেটিং প্রিফারেন্সের বেলায় সবার আগে থাকে গাঞ্জুটি-প্লেবয়-সন্ত্রাসী। কারণ এদের লাইফ 'অ্যাডভেঞ্চারাস'। একজন ওয়েল সেটেল্ড গাই্, পড়ুয়া ছাত্র - এরা পুরো লাইফ সিঙ্গেল কাটালেও সেটা অস্বাভাবিক ঘটনা না। কারণ তার জীবন নিস্তরংগ, সারপ্রাইজ নেই। এটা এমনই প্রতিষ্ঠিত সত্য যে আপনি নিজেই এরকম কয়েকশ ঘটনা জানেন। পশ্চিমে বহু এরকম দেখেছি, ডেটিং প্রোফাইলে ক্রিমিনাল রেকর্ড অ্যাড করার পর মেয়েদের তরফ থেকে রেসপন্স আসা বেড়ে গেছে। এগুলো এজন্য বলছি, আলোচিত সাদ্দামের স্ত্রী, সে কিন্তু জেনেশুনেই তাকে বিয়ে করেছিলো। এমন না যে ফ্যামিলি থেকে জোর করে দিয়েছে, পাঁচ বছরের রিলেশনের পর বিয়ে। আপনি আমাকে বলুন, ঐসময়ে বাংলাদেশের কোন লোকটা জানতো না যে ছাত্রলীগের নেতাদের চরিত্র কেমন? কোন অপকর্মটা তারা করে নাই? কিন্তু তাদের তো সিঙ্গেল থাকা লাগে নি। এমন ঘটনা আমি শুনিনি যে, শুধু ছাত্রলীগ বলে বিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে। তারা জেনেশুনেই তাদের লাইফের সাথে নিজেকে জুড়ে নিয়েছে। আপনি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন, গাড়ী মেরে দিলো - এটা দুর্ঘটনা। পা পিছলে রাস্তায় পড়লেন, গাড়ী মেরে দিলো - এটা মিসটেইক। কিন্তু গাড়ী জোরে আসছে দেখেও আপনি রাস্তার মাঝে গেলেন, এটা হচ্ছে চয়েস। সুবর্না জেনেশুনেই বিয়ে করেছিলো। স্বামী ছাত্রলীগ নেতা হওয়ার সমস্ত বেনিফিট সে নিয়েছে। এখানে সে ভিকটিম না। পরবর্তি প্যারাতে বিস্তারিত দেখুন। *************** পুরুষকে ধরা হয় একটা সোসাইটির সেইফগার্ড হিসেবে। যুদ্ধ লাগলে পুরুষের লাইফ সবার আগে বাজি রাখতে হয়। ইউক্রেনে যেমন দেখেছেন, লিটারালি সীমান্ত বন্ধ করে ছেলেদের যুদ্ধে আনা হয়েছে। এরকমই চলে আসছে সৃষ্টির শুরু থেকে। এখানে একটা ফেমিনিস্ট হিপোক্রেসি দেখা যায়। যখন বলা হয়, তোমরা ইকুয়াল রাইটস চাও, ওয়েল পুরুষের মত যুদ্ধে যাও। তখন ফেমিনিস্ট যে উত্তরগুলো আসে, সেগুলো খানিকটা এরকম 'যুদ্ধ কী নারীরা লাগিয়েছে? যুদ্ধ তো পুরুষের সৃষ্টি, 'প্যাট্রিয়ার্কির' সৃষ্টি। ফেমিনিজম এমন একটা সোসাইটি আনবে যেখানে যুদ্ধই থাকবে না।' আপনি কি যুক্তির স্টুপিডিটিগুলো বুঝতে পেরেছেন? ফেমিনিস্টদের ওই লজিক অনুযায়ী, পুরুষের যুদ্ধে যদি পুরুষেরই লড়া লাগে, একটা কোম্পানী পুরুষের তৈরি হলে সেখানে তো নারীকে জব দেওয়া উচিত নয়। বা একটা রাস্তা পুরুষের তৈরি হলে সেখানে নারীকে চলতে দেওয়া উচিত নয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এরা যুদ্ধে যাবার বেলা এমন উদ্ভট লজিক দেখায়। কিন্তু যুদ্ধের ফায়দা আবার ষোলআনা খায়। ধরুন, ফ্রান্স। ফ্রান্সের গোল্ড, পারফিউম, চকলেট সব আফ্রিকা কলোনাইজ করে বহু যুদ্ধের মাধ্যমে প্যারিসে আসে। একজন ফেমিনিস্ট বলে না, এই জিনিস আমি নেবো না, এটা পুরুষের যুদ্ধলদ্ধ পণ্য। বা আমেরিকার ইরাক থেকে চুরি করা তেল, তারা বলবে না, আমি এই সস্তা তেল নেবো না, এটা পুরুষের যুদ্ধের লুট। ফায়দাগুলো নেবে, রাইটগুলো নেবে, লেফটগুলো নিতে বললে অবলা। একজন ছাত্রলীগ নেতার স্ত্রী, সে কিন্তু পলিটিক্স বোঝে না। আবার ছোটভাইয়ের বাইক পুলিশ ধরলে ঠিকই স্বামীকে দিয়ে ফোন করায়। কোর্টের ডেট, ডাক্তারের সিরিয়াল, সস্তা মাছ - কোন সুবিধাটা এই অরাজনৈতিক বৌয়েরা নেয়নি? কিন্তু কোনো বৌকে রিফিউজ করতে দেখিনি যে, স্বামীর চান্দার পয়সা সে খাবে না। এই যে স্বামীর ক্ষমতা থাকাকালীন ১০০% সুবিধা নিলো, কেউ যদি আবার সেই নেতাকে খসিয়ে দেয় তখন কিন্তু এরা আবার 'ইনোসেন্ট ঘোমটা টানা বধু' হয়ে যায়। ************** সুবর্না ভিক্টিম নয়। এরা 'নাইস গাই'দের মানুষই মনে করে না চামড়া টানটান থাকা অবস্থায়, কারণ তারা 'ফান লাইফ' দিতে পারবে না। বেঁচে থাকলে হয়তো কোনো ত্রিশোর্ধ ওয়েল সেটেলড 'নাইস গাই'কেই খুঁজত। 'ব্যাড বয়'দের সাথে ঘটা 'ব্যাড' পরিণতির ক্ষতিপুরণ আদায় করতে চায় এভ্রিডে পুরুষের কাছ থেকে। ***************** সাদ্দামের স্ত্রী সুবর্নার আত্মহত্যা নিয়ে যতটা কথা হচ্ছে, সে মরার আগে যেটা করেছে সেটা নিয়ে তেমন কথা হচ্ছে না। সে তার মাত্র কয়েক মাসের বাচ্চাকে পানিতে চুবিয়েছে। বাচ্চাটা মারা যাবার আগ পর্যন্ত পানির নিচে রেখেছিলো। ছোট মানুষটা ক্যাপসুলের মত আঙ্গুল ছোড়াছুড়ি করেছে, হাত-পা ছুড়ে বাঁচার চেষ্টা করেছে, হয়ত পানির নিচে কাঁদার চেষ্টাও করেছে। তারপর আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে গেছে। ঘটনাটা আমি ভিজ্যুয়ালাইজ করতে পারছি না। আমার সবচেয়ে বড় ফ্যান হলো আমার ফ্যামিলির বাচ্চারা। আমি যতক্ষণ থাকবো আমার সাথেই ঘুম-খাওয়া, ২৪/৭ কোলে-পিঠে চড়ে থাকবে। এদের কারো ব্যাপারে এরকম কিছুর ছবি আমার মাথা জেনারেট করতে পারে না। কী ধরণের পিশাচিনী এত ছোট, নিষ্পাপ মানবশিশুকে এভাবে নিঃশ্বাস আটকে মারতে পারে? পত্রকাররা বলছে, এই পিশাচিনীর জন্য আমাদের খারাপ ফিল করতে হবে!
Ahmad Khan Articles pinned «আমার প্রায় ১০০টি লেখার লিংক ভারত ও হিন্দুত্ববাদ ১. বিশ্বাসঘাতক এপিজে আব্দুল কালামঃ https://t.me/akwritings/105 ২. ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় নিরাপত্ত্বা ঝুঁকি কোনটি?: https://t.me/akwritings/109 ৩. ইন্ডিয়ান মিসাইল থ্রেটঃ https://t.me/akwritings/118 ৪. স্যাবোটাজঃ…»
মেরি কম ও 'চিয়ারলিডার' পুরুষদের পরিণতি আপনারা এই কথাটা প্রায়ই শুনে থাকবেন 'ফিউচার ইজ ফিমেল'। অর্থাৎ, ফেমিনিজিম যেই ভবিষ্যতের লক্ষ্যে কাজ করছে, সেটা বর্তমানের গাইনোসেন্ট্রিক (নারীকেন্দ্রিক) সোসাইটি থেকে কনভার্ট হয়ে গাইনোক্রেটিক (নারীশাসিত) সোসাইটিতে পরিণত হবে। এখানে বেশ ইন্টারেস্টিং একটা প্রশ্ন সাথে সাথেই আসে। সেটা হলো, সেই সমাজে পুরুষের ভূমিকা কেমন হবে? অর্থাৎ, যেভাবে সবকিছুতে অটোমেশন চলে আসছে, শারীরিক পরিশ্রমের ক্ষেত্র কমে যাচ্ছে, সামনে আরো কমবে। বাকি থাকবে কেবল লিডারের পজিশনগুলো, সেখানেও অবধারিতভাবে নারী বসবে। তাহলে পুরুষের ভূমিকা কী? গত মার্কিন নির্বাচনের এই প্রশ্নটি বেশ জোরেশোরে উঠতে শুরু করে কামালা হারিসকে কেন্দ্র করে। একজন নারী যদি হন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী পদধারী, তাহলে তার স্বামী ডগলাস, তার প্রাসঙ্গিকতা কোন ক্ষেত্রে থাকবে? ফেমিনিজিম এটার উত্তর দেয় এভাবে, পুরুষ হবে 'চিয়ারলিডার'। নারী স্ব স্ব ক্ষেত্রে এগিয়ে যাবে, পুরুষ কেবল তার মোটিভেশন আর মনোরঞ্জনের জন্য থাকবে। নারীর উপর নির্ভরশীল হবে। বেসিক্যালি, হাউজওয়াইফ। ফেমিনিজমের বাকি সব ক্ষেত্রের মতই এই থিওরীর উৎস হচ্ছে পুরুষের মত হওয়া, এবং না হতে পারার ফ্রাস্ট্রেশন। ফেমিনিজম আমাদের ধরে নিতে বলে, একজন পুরুষ যেভাবে বিনাপ্রশ্নে একজন নারী ও একটা পরিবারের পূর্ন দায়িত্ব নেয় খোঁটা দেওয়া ছাড়াই, নারী দায়িত্ব নিলে এরকম নিঃস্বার্থই থাকবে। কিন্তু এই থিওরী সম্পূর্ণ অবাস্তব, পৃথিবীর ইতিহাসে কোথাও প্রমাণিত না। এরকম আরো একাডেমিক আলাপ করা যায়, সামনে করার ইচ্ছে আছে। আপাততঃ আসুন আমরা খুবই রিসেন্ট একটা ঘটনা থেকে এই 'ফিউচার ইজ ফিমেল' ও 'চিয়ারলিডারের' বাস্তবতা প্রাক্টিকালি দেখে আসি। ******************* কিছুদিন আগে আমাদের পার্শ্ববর্তি দেশ ভারতের একটি অনুষ্ঠানে ইন্টারভিউ দেন ভারতীয় নারী বক্সার মেরি কম। সেখানে তিনি তার সাবেক স্বামী কারং অংখোলার সম্পর্কে কিছু কুৎসিত মন্তব্য করেন, যা নিয়ে বিতর্ক এখনো চলছে। চলুন কিছু ব্যাপার জেনে নিন। > মেরি ও কারংয়ের বিয়ে হয় ২০০৫ সালে। কারং তার স্ত্রীর ক্যারিয়ারের প্রতি সাপোর্টিভ ছিলেন। তিনি নিজের ক্যারিয়ার গড়ার পরিবর্তে তাদের দুই সন্তান ও তার ঘর দেখাশোনার দায়িত্ব নেন। > মেরি ২০১৩ সালে এক জুনিয়র বক্সারের সাথে পরকীয়ায় জড়ান। কারং প্রথমে না জানলেও কিছুদিন পর জানতে পারেন। মেরি ও তার পরকীয়া প্রেমিকের ছবি এখনো অনলাইনে পাওয়া যায়। > সন্তানদের দিকে তাকিয়ে কারং স্ত্রীকে ক্ষমা করে দেন। জানা যায়, ওই সময়ে মেরি তার স্বামী ও দুই সন্তানের জন্য মাসে মাত্র ১৬,০০০ রুপি পাঠাতেন। > ২০১৭ সালে মেরি আবার পরকীয়ায় জড়ায় তারই বক্সিং একাডেমীর এক স্টাফের সাথে। ওই বছরই তিনি ভারতীয় রাজ্যসভার মেম্বার হন। > ২০২৩ সালে মেরি ও কারংয়ের ডিভোর্স হয়। যার স্যাক্রিফাইসের উপর দাঁড়িয়ে মেরির আজকের ক্যারিয়ার আর খ্যাতি, তাকে একরকম শুন্য হাতে বের করে দেন। কারং তার ১৮ বছরের স্যাক্রিফাইসের প্রতিদান পান চিটিং ওয়াইফ, ব্রোকেন ফ্যামিলি আর ন্যাশনাল টিভিতে বেইজ্জ্বতি। কারণ গত সপ্তাহে মেরি আপ কি আদালতে গিয়ে বলে, 'মেরে পায়সে পে খায়া...' 'কেমন পুরুষ, তার লজ্জ্বা করেনি স্ত্রীর টাকায় চলতে?' মেরির ভয়েসে কোনো কৃতজ্ঞতা ছিলো না, নিজের পরকীয়ার জন্য শরম ছিলো না। *************** মেরি কমের এই ঘটনা কয়েকটা বিষয় আবারো স্পষ্ট করে, যেগুলো আমরা সবসময় বলে থাকি। > পুরুষের ভ্যালু ততক্ষণই, যতক্ষণ সে প্রোভাইড করতে পারে। এর ব্যাতিরেকে তার উপস্থিতি, সাপোর্ট পুরোপুরি মূল্যহীন। > নারী হাইপারগামাস। পুরুষের ফিয়ান্সিয়াল গ্রোথ মানে তার ফ্যামিলির বেটার লাইফ। নারীর গ্রোথ মানে ব্রোকেন ফ্যামিলি। একইসাথে নারী যে সৃষ্টিগতভাবে অকৃতজ্ঞ, সেটা লাইফের কোনো না কোনো পর্যায়ে গিয়ে প্রকাশ পায়ই। যেটা হাদীসে পর্যন্ত উল্লেখিত। > কারং একজন বেটা মেল। সে ফেমিনিজমের সান্তনা গিলেছিলো। ফেমিনিজমের অধিকাংশ থিওরী রিয়েলিটির সাথে বিপরীত। স্ত্রীর ক্যারিয়ারকে সাপোর্ট করতে গিয়ে সে স্ত্রীকে ভিন্ন শহরে একা পাঠাচ্ছে পরপুরুষের ক্রাউডে - এইধরণের নারীরা চিট করবেই। > পুরুষ ফেমিনিজমের চিয়ারলিডার হলে এরকম ব্রুটাল লাথিই জুটবে। > ফিউচার ইজ (নট) ফিমেল।