আরিফ আজাদ কহেন
Статистикаএটি আরিফ আজাদ ভাইয়ের একটি Fan Channel. উনার পোস্ট ও Article গুলো পেতে সাথেই থাকবেন আশা রাখি। আমাদের অন্যান্য channel গুলোঃ বাছাইকৃত ইসলামিক বই @islamicbookbangla বাছাইকৃত ওয়াজ শর্ট ক্লিপ @wazShortClip ইসলামিক বাংলা Podcasts @podca5t @quranicAyat
- Последний пост
- 17 июл.
- Последнее чтение
- 13 авг.
- Постов за неделю
- 0
- Всего постов
- 20
- Тип
- открытый
- Язык
- bn
- Категория
- Новости и СМИ (по похожим)
- В каталоге с
- 13 авг.
- 1/24сутки в ленте
- —
- 1/48двое суток
- —
- 1/72трое суток
- —
Оценка по просмотрам недавних постов: пост набирает почти всё за первые сутки.
Посты
এই দুনিয়ায় যদি আপনার দরকার হয় এক/একাধিক "The most precious gift" এর তাহলে এই দোআ আপনার জন্য...
দুরুদ এর মত ছোট, সহজ কিন্তু ইফেক্টিভ আমল আর নেই...
মানুষ চেনার এই বাজারে, ক্লান্ত না হওয়াই আমার একমাত্র মাকসাদ।
চার তলা ভবনের তিন তলা ভাড়া হবে দেখে মালিকের সাথে কথা বলতে গেলাম। জরুরী ভিত্তিতে আমার এক পরিচিত ব্যক্তির জন্য বাসা প্রয়োজন ছিলো। কাঁচা পাকা চুল দাঁড়ির লোকটিকে দেখে জিজ্ঞেস করলাম, "আপনি বাড়ির মালিক?" উনি বললেন, "না।" জিজ্ঞেস করলাম, "তাহলে মালিক কে?" - মালিক আল্লাহ তায়ালা। আমি একটু অপ্রস্তুত হয়ে বললাম, "না মানে, সব কিছুর মালিকই তো আল্লাহ। তবু এটা তো তিনি আপনাকে করার তাওফিক দিয়েছেন। এর ভাড়া তো আপনি পাবেন?" - না বাবা, ভাড়াও আমি পাবো না। আল্লাহ তায়ালাই পাবেন। আমি এবার একটু চমকালাম। ভালো করে ভদ্রলোকের দিকে তাকালাম। মনে মনে ভাবলাম, "মনে হয় মাথায় গন্ডগোল আছে।" তিনি আমাকে বাসার ভেতরে নিয়ে গেলেন। ড্রইংরুমে বসে চা খেতে খেতে বললাম, "আল্লাহ ভাড়া পাবেন বিষয়টা ঠিক বুঝলাম না আঙ্কেল।" - আচ্ছা বুঝিয়ে দিচ্ছি। আমার ছয় ছেলেমেয়ে। চার তলা বিল্ডিয়ে ফ্ল্যাট আছে আটটা। ছয় ছেলেমেয়ের জন্য ছয়টা। আমরা বুড়াবুড়ি থাকি একটায়। বাকি ফ্ল্যাটটি আল্লাহ তায়ালার নামে ওয়াকফ করা। সেটি থেকে যা আয় হবে তা আল্লাহ তায়ালার পথে খরচ হবে। সেভাবেই ডিড করে দিয়েছি। -বাহ্ বেশ ভালো তো বিষয়টা। তা তিন তলা আল্লাহ তায়ালা পেলেন কেন? অন্য কোন ফ্ল্যাট নয় কেন? - সব ছেলেমেয়েদের নিয়ে বসে লটারী করেছি। যার ভাগ্যে যে ফ্ল্যাট পড়েছে, সেটা তার। আমি একটু নড়েচড়ে বসলাম। বললাম, "এটা কেন করলেন?" চাচা বললেন, "বাবা, মনে করো, আল্লাহ তায়ালা এসে বললেন, আমি তোর পরিবারের সাথে থাকতে চাই তাহলে আমি কী করতাম! আমি কী পাগল হয়ে যেতাম না আল্লাহ তায়ালাকে রাখার জন্যে?" - নিশ্চয়। - সেটাই হয়েছে। আমি বাসা করার সময় আটজনকে পরিবারের সদস্য মনে করেছি। একজন সদস্য মহান আল্লাহ। সেজন্য সবকিছুতেই তার জন্য একটা ভাগ থাকে। - সবকিছু বলতে? -সবকিছু বলতে মনে করো, যখন চাকুরী করতাম তখন বেতনকে পরিবারের সদস্য দিয়ে ভাগ করতাম। যখন আমাদের প্রথম সন্তান হলো তখন আমরা তিনজন সদস্য হলাম। তিন জনের জন্য যা খরচ হতো, সে অনুপাতে আরেকজনের খরচ বের করে নিতাম। সেটা আল্লাহ তায়ালার পথে ব্যয় করতাম। এরপর যখন সদস্য বেড়েছে, তখন সে অনুপাতে আল্লাহ তায়ালাও ভাগ পেয়েছেন। আবার আমার আম বাগানের ক্ষেত্রেও তাই। আট ভাগে ভাগ করে কিছু আম গাছ আল্লাহ তায়ালার ভাগে পড়েছে। সেগুলোর আম বিক্রি করা টাকা আল্লাহ তায়ালার পথে খরচ হয়। আমি চাচার কথা শুনে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। আমার মনের মধ্যে তোলপাড় হতে লাগলো। একটু আগে যাকে দেখে মানসিক সমস্যার কথা মনে হয়েছিলো, এখন তার প্রতি শ্রদ্ধায় আমার চোখ দিয়ে পানি গড়াতে লাগলো। ভাবলাম, এই লোকগুলোর আমল কোন পর্যায়ের। মহান রব ইনাদের ভেতরে কী অসীম জায়গা করে নিয়েছেন! — লেখা : সংগৃহীত
видео или голосовое, без подписи
“মু*তা যু*দ্ধের একটি আনুমানিক চিত্র! যেখানে মুসলিম বাহিনীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৩,০০০, আর রোমান বাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় ২,০০,০০০। وَلِلَّهِ ٱلۡعِزَّةُ وَلِرَسُولِهِۦ وَلِلۡمُؤۡمِنِینَ وَلَـٰكِنَّ ٱلۡمُنَـٰفِقِینَ لَا یَعۡلَمُونَ “আর সম্মান তো আল্লাহর, তাঁর রাসূলের এবং মুমিনদের জন্য; কিন্তু মুনাফিকরা তা জানে না।” [সূরা আল-মুনাফিকুন, আয়াত: ৮] কালেক্টেড ফ্রম সিরাতুল জরহ। আমাদের জন্য সংখ্যা কোন সমস্যা না। ঈমান আমাদের বড় শক্তি ❤️🔥❤️🔥
মাঝে মাঝে ভাবি যদি স্মৃতি প্রতারণা করত আর পৃথিবী ফিরে যেত আরো আদিম সময়ে সাড়ে চৌদ্দ’শ বছর আগে। ধরা যাক একদিন একটা পুরোনো মানুষ বিক্রির হাটে একটা অগভীর কূপ আর বয়সের ভারে হেলে পড়া খেজুর গাছের পাশে এক অনারব বণিক আমাকে নিলামে তুলল। এবং এক ধনাঢ্য আরব— আমাকে ক্রয় করল একেবারে সস্তা দামে। যেহেতু যুগটা আদিম এবং আমাকে সে কিনে এনেছে মানুষ বেচাকেনার হাট থেকে সুতরাং সে আমার মনিব আর আমি তার ক্রয়কৃত গোলাম। আমি তার বেঁধে দেওয়া কাজ করি পানি টানা, বাগান পরিচর্যা আর মেষ চরানো। যুগটা আদিম এবং এখানে মানুষই মানুষের প্রভু। তাই মনিবের সেবা আর শুশ্রূষায় গুণ আর কীর্তনে আদেশ আর নির্দেশের ঘূর্ণন চক্রেই কেটে যাচ্ছিল যাপিত জীবন। তারপর একদিন বিষণ্ণ বিকেলের সূর্যটা ঢলে পড়ছিল পাথুরে পাহাড়ের কোলে। লু হাওয়ার গায়ে লাগছিল শীতলতার প্রলেপ আসমান গুটিয়ে নিচ্ছিল তার নীলবরণ চাদর। এমনই মন উদাস করা একখণ্ড বিকেলবেলায় হয়তো আধো ঘুম আর আধো জাগরণের কোনো এক মুহূর্ত হবে সেটা কতিপয় অপরিচিত শব্দের কলকাকলিতে সচকিত হয়ে উঠবে আমার কান; দিঘির জলে ডুব দিয়ে উঠে যেভাবে গা ঝেড়ে নেয় ডুবো-হাঁস। কয়েকজন মানুষের একটি ছোট্ট কাফেলা চেহারায় তাদের পথের ক্লান্তি শরীরে অপুষ্টির অবসাদ তবু দীপ্তিময় তাদের চোখ হাস্যোজ্জ্বল তাদের মুখাবয়ব। তাদের একজন এসে বলবে ‘শোনো ভাই! গোলামি করো শুধু আল্লাহর তিনি ছাড়া আর কোনো প্রভু নেই, নেই ইশ্বর।’ বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে আমি জানতে চাইব, ‘আল্লাহ? তিনি কে?’ ‘তিনি এক এবং অদ্বিতীয়৷ তাঁর নেই কোনো অংশীদার। সমস্ত রাজত্ব তাঁরই। তিনিই রাজাধিরাজ।’ ‘তিনি কোথায় থাকেন?’ ‘রাহমান! তিনি আরশের ওপরে সমাসীন। বান্দার অতি নিকটেও তাঁর বাস যতোখানি নিকটে আসলে টের পাওয়া যায় শ্বাসের আওয়াজ।’ ‘কে তাঁকে চিনিয়েছেন?’ ‘মুহাম্মাদ! তিনি আল্লাহর বান্দা ও রাসুল; তাঁর কাছে নাযিল হয়েছে কিতাব।’ ‘তিনি কি রাজা?’ ‘তা নয়। তাঁর জীবন বড় সাদামাটা!’ ‘গরিবদের সাথে মেশেন?’ ‘গরিবেরাই তাঁর অধিক অনুসারী।’ ‘অভাবীকে খাওয়ান?’ ‘নিজের পাত্রেরটুকও তুলে দেন।’ ‘কী তাঁর প্রচারিত বাণী?’ ‘আহাদ! আহাদ! আল্লাহ এক! আল্লাহ এক!’ তারপর— আমি ভুলে যাব দুনিয়ার সমস্ত সুর; সমস্ত গান আর কবিতা বিস্মৃত হয়ে সেই ‘আহাদ’ শব্দই হয়ে উঠবে আমার একমাত্র ভাষা। এবং সেই আরব ব্যক্তি একদিন যে আমাকে কিনেছিল আদম কেনাবেচার হাট থেকে একেবারে সস্তা দামে; আমার পদযুগলে এতোদিন বাঁধা ছিল যার গোলামির শক্ত শেকল— আমাকে সে শুইয়ে দিবে তপ্ত বালুকাময় প্রান্তরে। মাথার ওপরে গনগনে সূর্য পিটের নিচে কয়লা-পোড়া বালি; তৃষ্ণায় আমার বুক ফেটে যাবে তপ্ত বালির বিছানাও ফুলে ফেঁপে উঠবে আমার গায়ের ঘামে। তবু আমার ভাষা হারাবে না ‘আহাদ আহাদ বলে কাঁদতে কাঁদতে অথবা চিৎকার করতে করতে নতুবা ফোঁপাতে ফোঁপাতে আমি দুনিয়াকে জানিয়ে দেবো তোমাদের কারো গোলামিই মানি না আর! তারপর— আমার চোখ ভেঙে ঘুম নামবে; পরিশ্রান্ত, ক্লান্ত আর ঘর্মাক্ত ঘুমের আবেশে জড়ানো স্বপ্নে ধরা দেবেন এক সুদর্শন মানব। তিনি বলবেন—সুসংবাদ লও! তোমাকে দান করা হয়েছে বিরল সম্মান! ‘আহাদ আহাদ’ বলে যে কন্ঠকে উচ্চকিত করেছ আজ বাতাসের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ভাসিয়ে দিয়েছ তাওহিদের যে ব্যঞ্জনা আজ হাত পেতে নাও তার পুরস্কার। তোমার কন্ঠধ্বনিতে প্রতিধ্বনিত হবে দুনিয়া; সালাত আর কল্যাণের দিকে তুমিই হবে আহ্বানকারী; ইসলামের তুমিই হবে মুয়াজ্জিন। তারপর এক ধনাঢ্য আরব লোক আবু বাকার—ভারি ভালো মানুষ; আমাকে পুনরায় ক্রয় করে মুক্ত করে দেবেন। মানুষের গোলামির শেকল ছেড়ে আমি গায়ে জড়াব তাওহিদের শেকল যে শেকলে আমি পেয়ে যাব শ্বাশ্বত মুক্তি! মুহাম্মাদ সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম— যার কন্ঠ থেকে একদিন ধার করেছিলাম ‘আহাদ’ শব্দ আমাকে দেখে তিনি ভারি উচ্ছ্বসিত হবেন! তাঁর অবয়বজুড়ে থাকা বেহেস্তের প্রশান্তি আমার দেহ আর মনে বইয়ে দেবে খুশির কল্লোল। তাঁর দুহাতে চুমু খেতে খেতে আমি বলব— ফিদাকা ইয়া আবি ওয়া উম্মি ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার পিতা মাতা আপনার তরে কোরবানি হোক হে আল্লাহর রাসুল! আলগোছে তিনি আমাকে বুকে টেনে নেবেন; বুকে পাথর চাপার যে যন্ত্রণা এতদিন আমাকে তাড়িয়ে বেড়াত; তপ্ত বালুতে দগ্ধ হওয়া যে শরীরে ছিল ব্যথার দহন নবিজির আলিঙ্গনে সে যন্ত্রণা উধাও হয়ে যাবে। মাঝে মাঝে ভাবি যদি স্মৃতি প্রতারণা করত আর পৃথিবী ফিরে যেত আরও আদিম সময়ে; সাড়ে চৌদ্দ’শ বছর আগে। নবিজির দেখা পাওয়ার আশা পেলে আমি নিঃসংকোচে হাটে মাঠে বিক্রি হতে রাজি আরব আর অনারব— যতো খুশি আমার বুকের ওপর তুলে দিক শক্ত পাথর। নবিজির আলিঙ্গন পেলে বুকে উহুদ পাহাড় উঠে গেলেও ক্ষতি নেই। . ( এই কবিতাটি আমার লেখা ‘কথা বলো যয়তুন বৃক্ষ’ নামক কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া৷ )
রাসুলুল্লাহ সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে দুয়াটা দৈনিক সবচেয়ে বেশিবার করতেন সেটা দুনিয়াবি বিষয়াদি নিয়ে ছিল না৷ এমনকি, যুদ্ধজয় কিংবা দ্বীনের অন্য কোনো ব্যাপারেও তিনি সাহায্য কামনা করতেন না সেই পুনঃ পুনঃ আওড়ানো দুয়াতে। তিনি কি চাইতেন, জানেন? তিনি বলতেন, ‘হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আপনি আমার অন্তরকে দ্বীনের উপর দৃঢ় রাখুন।’ এই দুয়াটাই ছিল দিনের মধ্যে আল্লাহর রাসুল সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত দুয়া। এই দুয়ায় তিনি আল্লাহকে বলতেন যেন মহান রব তাঁর অন্তরকে দ্বীনের উপর অটল রাখেন। কোনো বিচ্যুতি যেন সেখানে প্রবেশ করতে না পারে। দুয়াটার শুরুতে যে ‘ইয়া মুকাল্লিবাল ক্বুলুব’ অংশটা রয়েছে, সেটা অত্যন্ত ভয় জাগানিয়া একটা অংশ। ‘ইয়া মুকাল্লিবাল ক্বুলুব’ মানে হলো—হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার অসীম কুদরতের একটা উদাহরণ হলো এই—তিনি যখন তখন যেকোনো অন্তরকে, যেকোনো পথে ফিরিয়ে দিতে বা পরিচালিত করতে পারেন। এই কাজটা এতো দ্রুত ঘটে যে, চোখের পলক ফেলতে যে সময়টুকু লাগে আমাদের, সেই সময়টাকে যদি হাজারকোটি অংশে ভাগ করা হয়, সেই হাজারকোটি ভাগের এক ভাগেরও কম সময়ে এটা ঘটে যাওয়া সম্ভব। আদতে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কোনো কাজকে কি সময়ের ফ্রেমে বন্দী করা যায়? তিনি যখন কোনোকিছু করতে ইচ্ছা করেন তখন কেবল বলেন ‘হও’, আর তা হয়ে যায়। তিনি যে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী, এই ব্যাপারটা বোঝার জন্য আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনাচারের দিকে তাকালেই ভালো বুঝতে পারব। ধরুন, এইমাত্র একজন লোক পাঁচ পৃষ্ঠা কুরআন তিলাওয়াত করে উঠেছেন। সালাতের আগে আর পরের যিকির আযকার, নফল আর সুন্নাহ সালাতগুলোও আদায় করেছেন অপূর্ব মনোযোগ আর প্রশান্তির সাথে। সব মিলিয়ে, দিলজুড়ে তার বইছে রবের স্মরণের ফল্গুধারা। তারপর, নৈমিত্তিক রুটিনের অংশ হিশেবে তিনি ফেইসবুকে আসলেন। কিছুদূর স্ক্রল করতেই বুঝলেন গোটা ফেইসবুক দুনিয়া একটা ব্লকবাস্টার মুভির রিভিউতে সয়লাভ। এতো ভালো মুভি নাকি মুভি ইন্ড্রাস্ট্রিতে এর আগে কখনো নির্মিতই হয়নি। যেহেতু ফেইসবুক এখন ফলো করলে তার লেখাও দেখায়, ফলো করা হয় না এমন লোকের লেখাজোকাও দেখায়, তার হোমফিড যেন সেই মুভির রিভিউতে ছেঁয়ে আছে। তার মন তখন একটু ওয়াসওয়াসা পাওয়া শুরু করবে৷ এতো এতো মানুষ দেখছে, সবাই এতো ভালো রিভিউ দিচ্ছে, খুব ক্রিটিক্যাল মানুষজনও ভূয়সী প্রশংসা করছে, তার মানে কাজটা মনে হয় আসলেই দারুন হয়েছে। তার অন্তরের একটা অংশ বলবে—‘মুভিটা দেখে ফেললে মন্দ হয় না। এই একটাই তো মুভি। নিত্যদিন তো আর দেখা হচ্ছে না।’ অন্তরের আরেকটা অংশ স্মরণ করিয়ে দিবে, ‘না না৷ ভুলেও ও পথে যাওয়া যাবে না৷ তোমার অন্তরে এক দারুন প্রফুল্লতা বিরাজ করছে। আজ সারাদিন তুমি অনেক আমলের মধ্যে ছিলে। দিনের শেষে এই কাজের মাধ্যমে নিজের গুনাহের খতিয়ান শুরু করো না।’ অন্তরের এই দুই অংশের দ্বৈরথ একটা ভয়াবহ পর্যায়ে চলে যায় এবং অধিকাংশের বেলায় প্রথম অংশ, অর্থাৎ ওয়াসওয়াসার অংশটা জয়ী হয়ে যায়। কারণ, চোখের সামনে এতো এতো রিভিউ, মুভিটার এতো এতো ছোট ছোট ক্লিপ, এতো এতো রিলস দেখার পরে, নিজের নফসকে অবদমিত রাখা কঠিন হয়ে উঠে বৈকি! তারপর? তারপর সে মুভিটা দেখা শুরু করে। চোখের গুনাহ, শ্রবণের গুনাহ আর অন্তরের গুনাহ—নানাবিধ রঙ বেরঙের এক গুনাহের বেশতিতে জড়িয়ে পড়ে সে। অথচ—দিনটা কিন্তু তিনি শুরু করেছিলেন খুব চমৎকারভাবেই। কুরআন তিলাওয়াত, যিকির-আযকার, নফল সালাত ইত্যাদির মাধ্যমে। আর, দিনের সমাপ্তি টানলেন একটা ব্লকবাস্টার মুভি দেখে যেখানে গুনাহের পসরা সাজানো থরে থরে। মুভির রিভিউটা একটা উদাহরণ মাত্র৷ এটাকে একটা নাটক বা সিরিয়াল বা ওয়েবসিরিজ, কিংবা একটা ইউটিউবের গানের প্লে-লিস্ট, কিংবা বেগানা পুরুষ অথবা নারীর সাথে আড্ডা, কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় একান্ত চ্যাটিং—নানান উদাহরণে সাজিয়ে নিতে পারেন। আল্লাহর রাসুল সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের শিখিয়ে গেছেন—অন্তর জিনিসটা বড় অগোছালো, অস্থির, চঞ্চল, বিচ্যুতি-প্রবণ। যেকোনো সময়, ঠুনকো থেকেও ঠুনকো কারণে অন্তর বিচ্যুতির পথে হাঁটতে পারে৷ ছোট্ট থেকেও ছোট্ট উসিলায় মানুষ গুনাহের সাগরে অবগাহন করতে পারে। তাই, প্রতিদিনের অনেক অনেক দুয়ার ভিড়ে, তিনি আমাদের শিখিয়ে দিয়ে গিয়েছেন যে—আমাদেরকে সবচেয়ে বেশি চাইতে হবে দ্বীনের উপর অন্তরের অবিচলতা, স্থিরতা। কোনো ফাহেশা কাজ দেখলে, কোনো বিচ্যুতির উপকরণ বা উসিলা সামনে এলেই যেন আমরা পথ হারিয়ে না ফেলি। নবিজি সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বেশি বেশি পড়তেন—‘ইয়া মুকাল্লিবাল ক্বুলুব, সাব্বিত ক্বলবি আলা দ্বীনিক।’
আল্লাহর কাছে স্বচ্ছলতা, ধনসম্পদ আর অর্থকড়ি চাইতে কোনো বারণ নেই। তবে, যখনই তাঁর কাছে ধনসম্পদ আর অর্থকড়ি চাইবেন, একইসাথে ধনসম্পদের ফিতনা থেকে মুক্তিও চেয়ে নিবেন। ধনসম্পদের ফিতনা থেকে মুক্তি চাওয়ার অর্থ ধনসম্পদ না চাওয়া নয় বা ধনসম্পদ প্রাপ্তিকে অপছন্দ করাও নয়। ধনসম্পদের ফিতনা থেকে মুক্তি চাওয়ার একটা অর্থ এটাও যে—সাহাবি আবু বাকার রাদিয়াল্লাহু আনহুর মতো একটা দরাজ দিলের অধিকারি হওয়া। নিজের সমস্ত ধনসম্পদ আল্লাহর রাস্তায় দেওয়ার পর যখন তাকে জিগ্যেস করা হলো, ‘পরিবারের জন্য কী রেখে এসেছ?’ জবাবে তিনি বললেন—‘পরিবারের জন্য আমি আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলকে রেখে এসেছি।’ ধনসম্পদের ফিতনা থেকে মুক্তি চাওয়ার একটা অর্থ এটাও যে—সাহাবি উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর মতো আকাশের মতো উন্মুক্ত হৃদয়ের অধিকারি হওয়া। অঢেল সম্পদের মালিক উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজের সম্পদের অধিকাংশটাই ব্যয় করেছিলেন আল্লাহর পথে। মদিনার সবচেয়ে বড় কূপ ‘বীরে রুমা’ তিনি অত্যন্ত উচ্চমূল্যে কিনে মুসলমানদের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন৷ মদিনার সেই কূপ আজও বিদ্যমান৷ আজও মদিনার কৃষিকাজের পানি যোগায় উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর সেই কূপ! ধনসম্পদের ফিতনা থেকে মুক্তি চাওয়ার একটা অর্থ এটাও যে—সাহাবি আবদুর রহমান ইবন আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহুর মতো দিল দরিয়া হওয়া। আল্লাহর রাসুল সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মৃত্যুর পর, উম্মাহাতুল মুমিনীনদের সমস্ত ব্যয়ভার আবদুর রহমান ইবন আউফ একা বহনের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। আল্লাহর কাছে ধনসম্পদ চাইতে পারেন নিঃসংকোচে। তবে, আবু বাকার, উসমান আর আবদুর রহমান ইবন আউফদের মতো একটা নিখাদ অন্তরের ব্যাপারেও চাইতে ভুলে যাবেন না যেন। রাদিয়াল্লাহু আনহুম।
তাকওয়া তথা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে সত্যিকার অর্থে কতোটা ভয় করেন সেটা মেপে দেখতে চান? তাহলে দেখুন—একাকীত্ব আর নির্জনের সময়গুলো আপনি কীভাবে কাটান।
সুরা মুলকের দ্বিতীয় আয়াত, যেখানে আল্লাহ বলছেন তিনি মৃত্যু আর জীবনকে সৃষ্টি করেছেন মানুষকে পরীক্ষা করার জন্য যে—আমলের দিক থেকে কে কার চেয়ে উত্তম’। এই অংশটার সাথে নিজের দুটো গুণবাচক নাম ‘আল আযীয’ এবং ‘আল গফুর’ জুড়ে দেওয়ার রহস্যটা কী তাহলে? এই আয়াতটা মূলত আখিরাতের জীবনকে চিত্রিত করে আমাদের সামনে। কারণ ‘উত্তম আমলের পরীক্ষার’ যে ফলাফল, সেই ফলাফল আমরা দুনিয়াতে পাব না। সেই ফলাফল দেখতে পাব আখিরাতে। এই পরীক্ষায় কে জিতল, কে হারল, কে ফার্স্ট ক্লাস পাবে আর কে পাবে থার্ড গ্রেড—এইসব খোলাসা করা হবে কিয়ামতের মাঠে। যেহেতু আয়াতটা আখিরাত-কেন্দ্রিক, আরও বিশেষভাবে বললে কিয়ামত দিবস-কেন্দ্রিক, সেহেতু আয়াতের সাথে জুড়ে থাকা আল্লাহর ‘আল আযীয’ এবং ‘আল গফুর’ নাম দুটোকেও আমাদেরকে সেভাবে মিলিয়ে পড়তে হবে। চলুন তাহলে, নাম দুটোকে আয়াতের সাথে আমরা একবার মিলিয়ে পড়ি। পড়তে যাওয়ার আগে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার ‘আল আযীয’ এবং ‘আল গফুর’ নামের অর্থ দুটো আরও একবার পরখ করে নিই। আল আযীয—যিনি মহাপরাক্রমশালী। যা ইচ্ছা তা-ই করতে পারেন। আল গফুর—যিনি অতিশয় দয়ালু। বিস্ময়করভাবে তিনি বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। এবার আয়াতটাকে মিলিয়ে পড়ি— ‘তিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু ও জীবন—যাতে তোমাদের পরীক্ষা করতে পারেন আমলের দিক থেকে কে তোমাদের মধ্যে উত্তম। তিনি এতো পরাক্রমশালী যে—তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদের প্রত্যেককে সেদিন আটকাতে পারবেন। সেই ক্ষমতা তিনি রাখেন। যদি তিনি তা করতে চান, তাহলে কেউ নেই তাকে আটকাতে পারবে। কেউ নেই তাকে প্রশ্ন করতে পারবে। তবে, এটাও জেনে রাখো—তিনি শুধু মহাপরাক্রমশালীই নন, একইসাথে তিনি অতিশয় দয়ালুও’। কিয়ামত দিবস-কেন্দ্রিক একটা আয়াতের শেষে ‘আল আযীয’ নামটা নেহায়েত ছন্দগত মিল থেকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ব্যবহার করেননি। সেই দিনের সত্যিকার রাজত্ব হবে কেবলই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার। মুলক শব্দের অর্থই হলো—রাজত্ব। আল্লাহ যদি ইচ্ছা করেন, সেদিন তিনি আমাকে, আপনাকে, আমাদের সকলকে আটকে দিতে পারবেন। এমন ভাববেন না যে, তিনি অন্যায়ভাবে, স্বেচ্ছাচারিতা করে আমাদের আটকাবেন। এটা আল্লাহর শান আর শওকতের পরিপন্থী। আটকানোর জন্য আমাদের জীবন থেকে অসংখ্য ভুল, অসংখ্য গুনাহ, অসংখ্য অবাধ্যতা তিনি বের করে আনতে পারবেন। নবি আর রাসুলগণ ছাড়া, আমাদের আর কার জীবন ফুলের মতো স্বচ্ছ, কোমল আর পবিত্র? আমাদের কার জীবনে পাপ নেই, গুনাহ নেই, সীমালঙ্গন নেই? একটা আস্ত দিন তো বহুদূর, কেবল একটা ঘণ্টার খতিয়ান যদি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিচার করতে যান, ভাবুন তো আমরা ক’জন সেদিন উতরে যেতে পারব? এটাই আল্লাহর ক্ষমতা। তিনি তো কোনোকিছুই ভুলে যান না। তিনি ইচ্ছা করলে কিয়ামতের ময়দানে আমাদের প্রত্যেককে দোষী সাব্যস্ত করে, জাহান্নামে ছুঁড়ে ফেলতে পারবেন। আয়াতটার সাথে ‘আল আযীয’ নামটা রেখে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের বলছেন যে—‘ভুলে যে-ও না আল্লাহ অসীম ক্ষমতাধর। তিনি যদি আটকাতে চান তাহলে তোমাকে আটকানো তাঁর জন্য নিতান্তই সোজা। তোমার পাপের ব্যাপারে উদাসীন হয়ো না। খেয়াল রেখো—আল্লাহ কিন্তু কোনোকিছুই ভুলে যান না। তোমার আমল নিয়ে উল্লসিত হয়ো না, অহংকার করো না। সেসবকে ধুলোধূসরিত করে দেওয়া তাঁর জন্য খুবই সহজ। এই সতর্কবার্তা প্রদানের পর ‘আল গফুর’ নামটা উল্লেখ করে আল্লাহ বলছেন—‘এটাও খেয়ালে রেখো—তোমার রব অতিশয় দয়ালু। তুমি যদি ক্বলবুন সালীম তথা একটা পরিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে তাঁর সামনে হাজির হতে পারো, হতে পারে তোমার গুনাহ সমুদ্রের জলরাশি পরিমাণ, হতে পারে তোমার পাপ আকাশ ছুঁয়েছে, হতে পারে তোমার আমল এতো নগন্য যে আঙুল দিয়ে গোনা যায়—তবু তিনি চাইলে তোমাকে ক্ষমা করে দিতে পারেন। নবিজি সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস থেকেও আমরা জানতে পারি, তিনি বলেছেন— ‘আল্লাহর ক্ষমা তাঁর ক্রোধের উপর বিজয়ী হয়’। এই আয়াতে ‘আল আযীয’ নামটা ব্যবহার করে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর শক্তিমত্তার বিষয়টাই উল্লেখ করেছেন। তারপর ‘আল গফুর’ নামটা দিয়ে জানান দিয়েছেন তাঁর চিরাচরিত ক্ষমাশীলতার। সুরা মুলকের এই আয়াত থেকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার ‘আল আযীয’ নামটা আমাদের হৃদয়ে কাঁপন ধরাক। যেন আমরা গুনাহের ব্যাপারে, আল্লাহর অবাধ্যতার ব্যাপারে, সীমালঙ্গনের ব্যাপারে উন্মত্ত না হয়ে পড়ি। একইসাথে, আল্লাহর ‘আল গফুর’ নামটা আমাদেরকে সেই হতাশা থেকে টেনে তুলুক—যে হতাশা আমাদেরকে তাওবার দরোজার দিকে দৌঁড়ে যেতে বাঁধা দেয়। অনুতপ্ত হৃদয়, অশ্রুসিক্ত চোখ আর প্রকম্পিত অন্তর নিয়ে তাঁর কাছে ছুটে যাওয়ার জন্য যে ধাক্কাটা দরকার, তার সবটাই যেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা খোদাই করে রেখেছেন এই ‘আল গফুর’ নামের মাঝে।
কুরআনের শব্দবন্ধনীগুলো নিয়ে আমার দুর্নিবার আগ্রহ। তিলাওয়াতের সময় অথবা তিলাওয়াত শ্রবণের সময় আমি খুব সচেতনতার সাথে খেয়াল করি কোন শব্দের পর কোন শব্দ আসছে। শব্দের অর্থগুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ি। নির্ভরযোগ্য তাফসিরগুলো থেকে ব্যাখ্যাগুলো দেখে দেখে, শব্দমূলগুলো জেনে জেনে আগানোর চেষ্টা করি। মাঝে মাঝে এত চমৎকৃত হই—সুবহানাল্লাহ! সুরা মুলক তো জীবনে কতোবার পড়েছি, আলহামদুলিল্লাহ। প্রতি রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে এই সুরা তিলাওয়াতের জন্য বলেছেন প্রিয় রাসুল সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুরাটা এমনিতেই আমার ভীষণ প্রিয়, তারউপর এর শব্দবিন্যাসের বৈচিত্রতা যেন তিলাওয়াতে অন্যরকম আবহ তৈরি করে। এক নৈসর্গিক দ্যোতনা যেন কাঁপিয়ে দিয়ে যায় অন্তর। সেদিন সুরা মুলক তিলাওয়াত করতে গিয়ে দ্বিতীয় আয়াতটায় এসে থমকে গেলাম। ‘আল্লাযী খ্বলাক্বাল মাওতা ওয়াল হায়াতা লিআবলুয়াকুম আইয়্যুকুম আহসানু আমালা—ওয়াহুয়াল আযীযুল গফুর’। কেন এই আয়াতে এসে থমকে গেলাম সেই বিষয়টায় যাওয়ার আগে বলে রাখি, সুযোগ পেলেই আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার গুণবাচক নামসমূহ তথা আসমাউল হুসনা নিয়ে পড়াশুনাতে ডুব দিই। আল্লাহকে গভীরভাবে জানতে হলে, আল্লাহর নামগুলো জানার কোনোই বিকল্প নেই। প্রতিটা নামের যত গভীর থেকে গভীরে যাই, আমার কপাল যেন ততই সিজদাহবনত হয়ে পড়ে। সুবহানাল্লাহ—কী অসাধারণ আল্লাহর নামগুলো! একটা মানুষের জীবনে যা কিছু প্রশ্ন, যা কিছু জিজ্ঞাসা, যা কিছু সমস্যা, আনন্দ-বেদনা-হতাশা—সবটার যেন সচিত্র উত্তর এই নামগুলোর মাঝে খোদাই করা আছে। বিশ্ব সংসারের যত অমীমাংসীত রহস্য, তার সবটার জট যেন এই নামগুলোতে এসে ছিঁড়ে যাওয়া তসবিহ দানার মতো ঝরঝর করে ছড়িয়ে পড়ছে। সে এক বিস্ময়কর জ্ঞানের দুনিয়া! সুরা মুলকের দ্বিতীয় আয়াতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলছেন, ‘তিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু ও জীবন—যাতে তোমাদের পরীক্ষা করতে পারেন আমলের দিক থেকে কে তোমাদের মধ্যে উত্তম। আর, তিনি (একদিকে যেমন) মহাপরাক্রমশালী, (আবার অন্যদিকে) অতিশয় ক্ষমাশীল’। এই আয়াতে এসে আমার থমকে যাওয়ার মূল কারণটা হলো আয়াতের শেষে ব্যবহৃত আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নাম দুটো—আল আযীয, আল গফুর। মহাপরাক্রমশালী, অতিশয় ক্ষমাশীল। কুরআনের প্রত্যেকটা বর্ণ, প্রত্যেকটা শব্দ বিপুল অর্থ বহন করে। প্রতিটা বর্ণের পর বর্ণ, প্রতিটা শব্দের পর শব্দ, প্রতিটা আয়াতের পর আয়াত, প্রতিটা সুরার পর সুরা—এমনভাবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সাজিয়েছেন যে—সবখানেই তিনি উপদেশগ্রহণকারীদের জন্য ছড়িয়ে রেখেছেন জ্ঞানের মুক্তোমালা। ভাবুক হৃদয়, চিন্তক মন আর অনুসন্ধিৎসু চোখজোড়া সেসব দেখে আর জেনে বিস্ময়াবিভূত হয়। বিগলিত হয় তার হৃদয়। কুরআনে একটা যতিচিহ্নও এমন নেই যা খামখেয়ালিপূর্ণ। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যখন ‘আর রাহমান’ এবং ‘আর রাহীম’ একসাথে বলেন, নিশ্চয় সেটার রয়েছে নিগুঢ় কোনো কার্যকারণ। তিনি যখন ‘আল আযীয’ এবং ‘আল হাকিম’ একসাথে উচ্চারণ করেন, অতি অবশ্যই সেটার রয়েছে কোনো প্রেক্ষাপট। কুরআন কবিতা নয় যেখানে থাকে নিছক খামখেয়ালিপূর্ণ ছন্দ আর বাক্যবিন্যাসের পসরা। কুরআন হলো আল্লাহর কথা—প্রত্যেকটা বর্ণই এখানে সুচিন্তিতভাবে সাজানো। প্রত্যেকটা যতিচিহ্নই এখানে জীবন্ত। সুরা মুলকের দ্বিতীয় আয়াতে আল্লাহ বলছেন—তিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু আর জীবন। কেন সৃষ্টি করেছেন? ভেঙেই উত্তর দিচ্ছেন স্বয়ং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা—যেন তিনি আমাদের পরীক্ষা করতে পারেন যে, আমল করার ব্যাপারে আমাদের মাঝে কারা উত্তম। এতটুকুতেই চাইলে আয়াতটা শেষ হতে পারত। আয়াতের যা কিছু মূল নির্যাস—সবটাই এখানে খুব সুস্পষ্টভাবে বলে দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মৃত্যু আর জীবনকে এজন্যেই সৃষ্টি করেছেন, যাতে তিনি পরীক্ষা করতে পারেন আমাদের মাঝে কারা আমলের দিক থেকে উত্তম। কিন্তু, মহান রব আয়াতটা সেখানে সমাপ্ত করেননি। আয়াতটির শেষে তিনি নিজের দুটো গুণবাচক নাম ব্যবহার করেছনে—ওয়াহুয়াল আযীযুল গফুর। তিনি মহাপরাক্রমশালী, অতিশয় ক্ষমাশীল। অর্থগত দিক থেকে আল্লাহর ‘আল আযীয’ নামটা খুবই চমৎকার। নামটার রয়েছে কয়েকটা অর্থ, যেমন—মহাপরাক্রমশালী, মহা-সম্মানিত, সর্বশক্তিমান। ‘আল আযীয’ বলতে এমন কাউকে বোঝায় যিনি সমস্তকিছুর নিয়ন্ত্রণ করেন নিজের শক্তি দ্বারা। যাকে হারানো যায় না, পরাজিত করা যায় না। তিনি যা ইচ্ছা করতে পারেন, যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে গড়তে বা ভাঙতে পারেন। আবার, আল্লাহর ‘আল গফুর’ নামটাও অত্যন্ত অর্থবহুল। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যে বান্দার প্রতি কল্পনাতীত দয়ালু—এই ব্যাপারটাই আল্লাহর ‘আল গফুর’ নামের মাঝে পরিস্ফুট হয়ে উঠে। তিনি এমনভাবে বান্দাকে ক্ষমা করেন যে—সেটা বিস্ময়কর!
জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ ৪টি আমলঃ ● সূরা আল-কাহফ পাঠ করা ● অধিক পরিমাণে দরুদ পড়া اَللّٰهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ [“আল্ল-হুম্মা সল্লি ওয়া সাল্লিম ‘আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ (সল্লল্ল-হু আ'লাইহি ওয়া সাল্লাম)”] ● বেশি বেশি ইস্তিগফার পড়া أَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ [“আস্তাগফিরুল্ল-হ”] ● আসর ও মাগরিবের মধ্যবর্তী সময়ে দু'আ করা অবশ্যই বেশি বেশি পৃথিবীর সকল দেশের ম!জলুম, মুজ!হিদ, কার!বন্দী মুসলিম ভাই-বোন ও দ্বীনের দাঈদের জন্য দু'আ করবেন। আল্লাহ তা'আলা সকল জ!লিম, মুন!ফিক, ত!গুত ও কুফফ!রদের হেদায়েত লিখা থাকলে হেদায়েত দিন নয়তো ধ্বংস করে দিন, আমিন।
видео или голосовое, без подписи
видео или голосовое, без подписи
видео или голосовое, без подписи
видео или голосовое, без подписи
видео или голосовое, без подписи
видео или голосовое, без подписи
видео или голосовое, без подписи