tgindex
ঈমান ও আমল

ঈমান ও আমল

Статистика
Последний пост
14 авг.
Последнее чтение
13 авг.
Постов за неделю
8
Всего постов
25
Тип
открытый
Язык
bn
В каталоге с
13 авг.
Подписчики
18 369
−15 за 3 дн.
Сутки
−10
−0,05%
Неделя
 
Месяц
 
Просмотров на пост
902
25 постов
Вовлечённость
4,9%
к подписчикам
Постов в день
1,1
всего 25
Упоминаний
1
каналов
Охват размещения
по 4 постам
1/24сутки в ленте
334
1/48двое суток
382
1/72трое суток
412

Медиана по постам, которые мы застали свежими и померили через сутки.

Посты

  • видео или голосовое, без подписи

  • কিন্তু সায়্যিদ সাহেব চুপ থাকলেন। এর দুই-তিন দিন পর তিনি আমাকে বললেন— مولوی علی! میں نے آپ کی درخواست پوری کر دی۔ মৌলভী আলী! আমি আপনার আবেদন পূরণ করেছি। আমি তাঁর কথার অর্থ বুঝতে পারলাম। আর আশ্চর্যের বিষয় হলো—এর দুই-তিন দিন পরই আমাকে সংবাদ দেওয়া হলো— আমার সেই প্রিয় ছাত্র আলী আহমদ কিয়ানী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেছে। যতটুকু আমি জানি, এরপর আর তার এই অসুস্থতা দেখা দেয়নি। এ ঘটনাকে আপনারা সায়্যিদ সুলাইমান নদভী রহ.-এর কারামত মনে করুন কিংবা অন্য কোনোভাবে ব্যাখ্যা করুন—আমি শুধু ঘটনাটি যেভাবে ঘটেছিল, সেভাবেই উল্লেখ করলাম। কিন্তু আফসোসের বিষয় হলো, এই অসাধারণ মেধাবী ও প্রতিভাবান তরুণের জীবন খুব বেশি দীর্ঘ হলো না। ১৯৫০ ঈসায়ী সালে, একেবারে অল্প বয়সেই তার ইলমের সেই অগ্নিশিখা চিরতরে নিভে গেল। সত্যিই হৃদয় থেকে আফসোস বেরিয়ে আসে— حسرت ان غنچوں پہ ہے جو بن کھلے مر گئے আফসোস সেই কুঁড়িগুলোর জন্য, যারা ফুটে ওঠার আগেই ঝরে গেল। এই ঘটনা যখনই আমার মনে পড়ে, তখন একজন উস্তাদ হিসেবে আমার অন্তর ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। কারণ আলী আহমদ কিয়ানীর মতো প্রতিভাবান ছাত্রের কাছ থেকে আমরা অনেক কিছু আশা করেছিলাম। তার মধ্যে আমরা ভবিষ্যতের একজন বড় আলেম, লেখক ও দ্বীনের খাদেমকে দেখতে পেয়েছিলাম। কিন্তু মানুষের জীবন ও তার পরিণতি আল্লাহর হাতে। আমরা কেবল ঘটনাগুলো দেখি, আর আল্লাহ তাআলা জানেন সেগুলোর প্রকৃত রহস্য। তবুও এ ঘটনা আমাকে ছাত্র-উস্তাদের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক মনে করিয়ে দেয়—ইলমের সঙ্গে আদব, মেধার সঙ্গে বিনয় এবং প্রতিভার সঙ্গে উস্তাদ ও মুরব্বিদের সম্মান থাকা কতটা জরুরি। একজন ছাত্র যতই মেধাবী হোক, যতই যোগ্য হোক, তার ইলম তখনই সৌন্দর্য লাভ করে, যখন তার সঙ্গে থাকে আদব ও বিনয়। আর একজন উস্তাদের হৃদয়ে একজন যোগ্য ছাত্রের জন্য যে ভালোবাসা, আশা ও মমতা থাকে—আলী আহমদের ঘটনাটি তারও এক মর্মস্পর্শী উদাহরণ।

  • উস্তাদের বিরুদ্ধাচরণে ছাত্রের ভয়াবহ পরিণতি . আবুল হাসান আলী নদভী রহ. নিজেই ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন— ১৯৪৩ সাল। সে সময় দারুল উলূম নদওয়াতুল ওলামায় ছাত্রদের মধ্যে একটি আন্দোলন শুরু হয়েছিল। অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিল আমাদেরই কয়েকজন ঘনিষ্ঠ ও প্রিয় ছাত্র। অথচ তাদেরকে দারুল উলূমের সেরা ছাত্রদের মধ্যে গণ্য করা হতো। তাদের নিয়ে আমাদের অনেক আশা ছিল, অনেক স্বপ্ন ছিল। আমরা মনে করতাম, ভবিষ্যতে তারা দ্বীনের অনেক বড় খেদমত করবে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছিল আমার অত্যন্ত প্রিয় ও ঘনিষ্ঠ ছাত্র আলী আহমদ কিয়ানী। আমার দশ বছরের শিক্ষকতা জীবনে এবং পরবর্তীতে নায়েবে মু‘তামাদ ও মু‘তামাদ হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়েও আমি বহু ছাত্র দেখেছি। কিন্তু আলী আহমদ কিয়ানীর চেয়ে অধিক মেধাবী, যোগ্য ও শান্ত স্বভাবের কোনো ছাত্র আমার চোখে পড়েনি। সে ছিল— ذہین، ذی استعداد، سلیم الطبع অর্থাৎ অত্যন্ত মেধাবী, অসাধারণ প্রতিভাবান এবং স্বভাবগতভাবে শান্ত ও নির্মল প্রকৃতির। আরবি দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় বর্ষ থেকেই তার প্রতিভার এমন প্রকাশ ঘটেছিল যে, নাহু-সরফে তার কোনো ভুল হওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল। একবার তার পরীক্ষার খাতা দেখে—তখন সে সম্ভবত আরবি দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় বর্ষে পড়ে—আমার উস্তাদ খলিল আরব সাহেব এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে তিনি বলেছিলেন— یہ کاپیاں مجھے دے دو اور جتنا کہو میں ندوہ کے لیے چندہ لے آؤں এই খাতাগুলো আমাকে দিয়ে দাও। তুমি যত টাকা চাও, আমি নদওয়ার জন্য তত টাকা চাঁদা তুলে আনব। চতুর্থ ও পঞ্চম বর্ষে পৌঁছে সে রীতিমতো আরবিতে বক্তৃতা দিতে শুরু করেছিল। হাজার হাজার শের ও কবিতা তার মুখস্থ ছিল। আল্লামা ইকবাল, কবি আকবর, জাফর আলী খান প্রমুখ কবির কবিতা সে অনর্গল আবৃত্তি করতে পারত। আমার বেশ কিছু আরবি লেখাও সে অনুবাদ করেছিল। এমন মেধাবী ও প্রতিভাবান এই তরুণ যখন ছাত্র আন্দোলনের পর পাকিস্তানের করাচিতে গিয়েছিল, তখন অল্প বয়স হওয়া সত্ত্বেও করাচির ইলমি অঙ্গনে আল্লামা কিয়ানী নামে বেশ পরিচিতি লাভ করেছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সে—ইচ্ছায় হোক কিংবা অনিচ্ছায়—ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে চলে এসেছিল এবং বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিয়েছিল। এতে তার সকল উস্তাদের মনে, বিশেষ করে আমার মনে, গভীর কষ্টের সৃষ্টি হয়েছিল। কারণ সে শুধু আন্দোলনে অংশগ্রহণই করেনি; বরং এর নেতৃত্বও দিয়েছিল। আর সবচেয়ে বড় কষ্টের বিষয় ছিল—এই আন্দোলন সায়্যিদ সুলাইমান নদভী রহ.-এর ব্যক্তিত্ব ও দায়িত্বের ওপর আঘাত হানছিল। অথচ তিনি তখন নদওয়ার অন্যতম প্রধান মুরব্বি ও পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। নদওয়ার জন্য তিনি নিজের বুক পেতে রেখেছিলেন। নদওয়ার ভবিষ্যৎ এবং এখানকার তালিবে ইলমদের তারবিয়ত নিয়ে তাঁর অন্তরে ছিল অনেক বড় বড় স্বপ্ন। এই আন্দোলনের কারণে সায়্যিদ সাহেব মনে অত্যন্ত ব্যথা পেলেন। তাঁর মনে হচ্ছিল, নদওয়ার জন্য তিনি যে স্বপ্ন দেখেছেন, যে পরিশ্রম করেছেন এবং যে মেহনত ও প্রচেষ্টা চালিয়েছেন—সেগুলো যেন তাঁর চোখের সামনে রক্তাক্ত হয়ে যাচ্ছে। তিনি অত্যন্ত ব্যথিত ও ভারাক্রান্ত হয়ে পড়লেন। এর কিছুদিন পর আলী আহমদ কিয়ানী হঠাৎ মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ল। তার অবস্থার এতটাই অবনতি হলো যে, তাকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখতে হতো। একদিন তার বড় ভাই চিকিৎসার জন্য আমার ভাই ডাক্তার সায়্যিদ আব্দুল আলী সাহেবকে তাদের বাড়িতে নিয়ে গেলেন। বিশেষ সম্পর্কের কারণে আমিও তাঁর সঙ্গে গেলাম। আমি সেখানে গিয়ে যখন আমার সেই প্রিয় ছাত্রকে রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় দেখলাম, তখন চোখের পানি ধরে রাখতে পারলাম না। যে যুবক একসময় তার প্রখর মেধা, সুস্থ বিবেচনাবোধ ও অসাধারণ প্রতিভার কারণে সহপাঠীদের কাছেও ঈর্ষার পাত্র ছিল—আজ তার এই কী করুণ দশা! আমি তাকে দেখে অত্যন্ত মর্মাহত হলাম। আমার ভাই ডাক্তার সাহেব তাকে পরীক্ষা করে প্রেসক্রিপশন লিখে দিলেন এবং আমরা সেখান থেকে ফিরে এলাম। এদিকে সায়্যিদ সুলাইমান নদভী সাহেবও এ ঘটনায় এতটাই মর্মাহত ছিলেন যে, তিনি আর দারুল উলূমে অবস্থান করছিলেন না। তিনি আমাদের ঘরেই অবস্থান করছিলেন। একদিন আমি একান্তে হযরতের কাছে আরজ করলাম, হযরত! আমার মনে হচ্ছে, আলী আহমদের মুখ থেকে আপনার ব্যাপারে কোনো বেয়াদবিমূলক কথা বেরিয়ে গিয়েছিল। হয়তো এই বিশৃঙ্খলার ঝাপটায় সে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েছিল এবং কোনো কটুবাক্য উচ্চারণ করে ফেলেছিল। হয়তো জযবা নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে আপনার সঙ্গে কোনো বেয়াদবিমূলক আচরণও করে ফেলেছিল। এরপর আমি হাদিস শরিফের এই বাণী উল্লেখ করলাম— مَنْ آذَى لِي وَلِيًّا فَقَدْ آذَنْتُهُ بِالْحَرْبِ যে আমার কোনো ওলীকে কষ্ট দেয়, আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করি। আমি বললাম, আপনি তো তার মুহসিন, তার মুরব্বি, তার সুহৃদ ও অভিভাবকসুলভ ব্যক্তি। সায়্যিদ সাহেব অত্যন্ত বিনয় ও নম্রতার সঙ্গে উত্তর দিলেন میں کیا چیز ہوں؟ আমি আর কী? আমি দ্বিতীয়বারও তাঁর কাছে আলী আহমদের জন্য দুআর আবেদন করলাম।

  • রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর অনেক মসিবত এসেছে।আল্লাহ তাআলা তাকে নাজাত দিয়েছেন। তায়েফ ও ওহুদে আহত হয়েছেন, আল্লাহ তাআলা তাঁকে সুস্থ করেছেন। একবার ঘোড়া থেকে পড়ে পায়ে ব্যথা পেয়েছেন, যার কারণে মসজিদে যেতে পারেননি, আল্লাহ তাআলা তাঁকে সুস্থ করেছেন। তাঁর সুস্থতা লাভের এই সব আনন্দের স্মৃতিগুলোতে দিবস উদযাপনের কোনো নিয়ম আছে কি? তাহলে আখেরি চাহারশোম্বাহ, যার কোনো ভিত্তিই নেই, তা কীভাবে উদযাপনের বিষয় হতে পারে? ৪. কোনো দিনকে বিশেষ ফযীলতের দিবস মনে করা কিংবা বিশেষ কোনো আমল তাতে বিধিবদ্ধ রয়েছে এমন কথা বলা কিংবা তাকে ধর্মীয় দিবস হিসেবে উদযাপন করা-এই সবগুলো হচ্ছে মুসলমানদের জন্য শরীয়তের বিধানের অন্তর্ভু&ক্ত। অতএব এগুলো শরয়ী দলিল ছাড়া শুধু মনগড়া যুক্তির ভিত্তিতে সাব্যস্ত করা যায় না। এটা শরীয়তের একটি অবিসংবাদিত মূলনীতি। এজন্য উপরোক্ত তথ্য ইতিহাসের দৃষ্টিকোণ থেকে বিশুদ্ধ হলেও এ দিবসকে ঘিরে ওইসব রসম-রেওয়াজ জারি করার কোনো বৈধতা হয় না। ৫. মকসুদুল মোমেনীন পুস্তিকায় যা বলা হয়েছে তা-ও সঠিক নয়। রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাত হয়েছে সোমবারে। এর চার পাঁচ দিন আগে তাঁর সুস্থতার জন্য যে সাত কুঁয়া থেকে সাত মশক পানি আনা হয়েছিল এবং সুস্থতার জন্য তার দেহ মোবারককে ধৌত করা হয়েছিল তা কি বুধবারের ঘটনা না বৃহস্পতিবারের? ইবনে হাজার ও ইবনে কাছীর একে বৃহস্পতিবারের ঘটনা বলেছেন। -ফাতহুল বারী ৭/৭৪৮, কিতাবুল মাগাযী ৪৪৪২; আলবিদায়া ওয়ান্নিহায়া ৪/১৯৩; সীরাতুন নবী, শিবলী নুমানী ২/১১৩ যদি বুধবারের ঘটনা হয়ে থাকে তবে সফর মাসের শেষ বুধবার কীভাবে হচ্ছে? রসমের পৃষ্ঠপোষকতাকারীগণ সকলে ইন্তেকালের তারিখ বারো রবীউল আওয়াল বলে থাকেন। সোমবার যদি বারো রবীউল আওয়াল হয়ে থাকে তাহলে এর আগের বুধবার তো সফর নয়, রবীউল আওয়ালেই হচ্ছে। তাছাড়া এ তথ্যও সঠিক নয় যে, বুধবারের পর রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোসল করেননি। কেননা, এরপর একরাত ইশার নামাযের আগে গোসল করার কথা সহীহ হাদীসে স্পষ্টভাবে উল্লেখিত হয়েছে। -সহীহ মুসলিম হাদীস ৪১৮ [সহীহ বুখারী হাদীস নং ৬৮১-এর সাথে মিলিয়ে পড়ুন- আররাহীকুল মাখতূম, সফীউদ্দীন মোবারকপূরী পৃ. ৫২৫]। আর একথাও ঠিক নয় যে, বুধবারের পর অসুস্থতায় কোনোরূপ উন্নতি হয়নি। বরং এরপর আরেকদিন সুস্থবোধ করেছিলেন এবং যোহরের নামাযে শরীক হয়েছিলেন-একথা সহীহ হাদীসে রয়েছে।-সহীহ বুখারী, হাদীস ৬৬৪, ৬৮০ ও ৬৮১; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৪১৮, আররাহীকুল মাখতূম পৃ. ৫২৬; রাহমাতুল্লিল আলামীন, মানসূরপূরী সোমবার সকালেও সুস্থবোধ করেছিলেন, যার কারণে হযরত আবু বকর সিদ্দীক [রা.] অনুমতি নিয়ে নিজ ঘরে চলে গিয়েছিলেন। -সীরাতে ইবনে ইসহাক পৃ. ৭১১-৭১২; আররাওযুল উনুফ ৭/৫৪৭-৫৪৮ ৬. সারকথা এই যে, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহববত, তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা ও আনুগত্য এবং তাঁর পবিত্র সীরাত ও সুন্নতের অনুসরণ, তাঁর জীবনাদর্শে আপন জীবন গঠন, তাঁর শরীয়তের প্রচার-প্রসার ইত্যাদি হকসমূহ, যা উম্মতের জন্য অবশ্যপালনীয়-এগুলো থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া এবং গাফলতির এই প্রকৃত ব্যাধি সম্পর্কে অসচেতন রাখার জন্য এসব ভিত্তিহীন রসম-রেওয়াজের উৎপত্তি। আল্লাহ তাআলা উম্মতকে সঠিক বুঝ দান করুন এবং রসম ও মুনকারাত থেকে তাদেরকে রক্ষা করুন। আমীন। ৭. ইসলামী শরীয়তে ছুটির যে নীতিমালা রয়েছে সে আলোকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এ তারিখের ছুটি থাকা ঠিক নয়। . -মাসিক আলকাউসার

  • একটি ভিত্তিহীন রসম : আখেরি চাহার শোম্বা কি উদযাপনের দিবস? . সর্বপ্রথম একটি দৈনিক পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরেছি যে, বহু মানুষ সফর মাসের শেষ বুধবারকে একটি বিশেষ দিবস গণ্য করে এবং এতে বিশেষ আমল রয়েছে বলে মনে করে। পরে মনে হল, এ ধরনের ভিত্তিহীন রসম-রেওয়াজের উল্লেখ ‘মকসুদুল মোমেনীন’ জাতীয় পুস্তক-পুস্তিকায় থাকতে পারে। দেখলাম, ‘মকসুদুল মোমেনীন’ ও বার চাঁদের ফযীলতবিষয়ক যেসব অনির্ভরযোগ্য পুস্তক-পুস্তিকা এক শ্রেণীর মানুষের মধ্যে প্রচলিত তাতে এই বিষয়টি রয়েছে। যদি ওই দৈনিকে দিবসটি সম্পর্কে এভাবে মাহাত্ম্য ও করণীয়ের বয়ান না থাকত তবে সম্ভবত প্রচলিত ভুল শিরোনামেও তা উল্লেখ করার উপযুক্ত মনে করতাম না। খাইরুল কুরূনের হাজার বছরেরও বহু পরে উদ্ভাবিত এই রসমের পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানকারীদের মতামতও এ ভিত্তিহীন বিষয়ের ভিত্তি অন্বেষণে বিভিন্নমুখী। উপরোক্ত দৈনিকটির ২৩ সফর ১৪২৮ হিজরি বুধবারের সংখ্যায় লেখা হয়েছে- ‘‘আজ চান্দ্রমাস সফরের শেষ বুধবার। অর্থাৎ আখেরি চাহার শোম্বা। এদিন দু’জাহানের সর্দার মহানবী সাল্লল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রোগমুক্তির দিন। আর এ কারণেই এদিন মুসলমানদের জন্য আনন্দময় ও পবিত্র দিন। হাদীসে বর্ণিত আছে, এক ইহুদি কবিরাজ রাসূল [সা.]-এর চুল মোবারক নিয়ে জাদুটোনা করেছিল। ফলে মহানবী [সা.] অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। অসুস্থতার কারণে তিনি কিছুদিন মসজিদে নববীতে যেতে পারেননি। সফর মাসের শেষ বুধবার তিনি সুস্থতা বোধ করে গোছল করেন এবং দুজন সাহাবীর কাঁধে ভর করে মসজিদে নববীতে গিয়ে জামাআতে নামায আদায় করেন। আলহামদু লিল্লাহ। রাসূল [সা.]-এর রোগমুক্তির সংবাদে খুশি হয়েছিল মুসলিম জাহান। খুশি হয়ে হযরত ওসমান [রা.] তাঁর নিজ খামারের ৭০টি উট জবাই করে গরিব-দুঃখীদের মাঝে বিলিয়ে দিয়েছিলেন। খুশিতে আত্মহারা সাহাবীগণ আনন্দ প্রকাশ ও শুকরিয়া আদায় করেছিলেন রোযা রেখে, নফল নামায পড়ে এবং হামদ-নাত গেয়ে। পবিত্র আখেরি চাহার শোম্বার দিনে আজিমপুর দায়রা শরীফে ঐতিহ্যগতভাবে রোগমুক্তি ও মছিবত দূরের জন্য এক বিশেষ আংটি তৈরি করে থাকে। এছাড়াও এদিনে বিভিন্ন খানকা দরবারে রোগমুক্তির জন্য বিশেষ দুআ ও মোনাজাত করা হয়। অনেকে এদিনে রোগমুক্তির জন্য মান্নত করে গোছল করে থাকেন। অনেকে এদিনে গরিব-দুঃখীদের মাঝে তৈরি খাদ্য বিতরণ করে থাকেন। এ বিশেষ দিনটি সরকারি ঐচ্ছিক ছুটির দিন।এদিনে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকে।’’ অন্যদিকে মকসুদুল মোমেনীনে বলা হয়েছে- ‘‘এই মাসের শেষ বুধবারকে আখেরি চাহার শোম্বাহ বলা হয়। [আখেরি শব্দের অর্থ শেষ এবং চাহার শোম্বাহ শব্দের অর্থ বুধবার]। হিজরি একাদশ সনের সফর মাসের শেষভাগে নবী করীম [দা.] অত্যন্ত অসুস্থ এবং পীড়িত হয়ে পড়েন। তারপর এই মাসের শেষ বুধবার দিন তিনি শরীর একটু সুস্থ বোধ করায় গোছলাদি করে কিছুটা শান্তি লাভ করেন। এই গোছলই হুজুরের জীবনের শেষ গোছল ছিল। এর পর তাঁর জীবনে আর গোছল করার ভাগ্য হয় নাই। অতএব এই দিন মুসলমানদের বিশেষভাবে গোছলাদি করে নফল নামায এবং রোযা ইত্যাদি আদায় করে নবী করীম [দা.]-এর রূহের উপর সওয়াব বখশেষ করা উচিত।’’ এরপর এ দিন সম্পর্কে বিভিন্ন করণীয় উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলো একেবারেই ভিত্তিহীন। যেমনটি ভিত্তিহীন উপরোক্ত উভয় বিবরণ। ১. রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর এক ইহুদি জাদু করেছিল। এটা ছিল হোদায়বিয়ার সন্ধির পরে মহররম মাসের প্রথম দিকের ঘটনা। এ জাদুর প্রভাব কতদিন ছিল সে সম্পর্কে দুটি বর্ণনা রয়েছে। এক বর্ণনায় ছয় মাসের কথা এসেছে, অন্য বর্ণনায় এসেছে চল্লিশ দিনের কথা। কিন্তু এ দুই বিবরণে কোনো সংঘর্ষ নেই। এক বর্ণনায় পুরো সময়ের কথা এসেছে আর অপর বর্ণনায় এসেছে শুধু ওই সময়টুকুর কথা যাতে জাদুর প্রতিক্রিয়া বেশি ছিল। তবে যাইহোক সুস্থতার তারিখ কোনো হিসাব অনুযায়ীই সফরের আখেরি চাহারশোম্বাহ হতে পারে না। -ফাতহুল বারী ১০/২৩৭ : আলমাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়া ২/১৫৪; শরহুয যুরকানী ৯/৪৪৬-৪৪৭ ২. জাদুর ঘটনা হাদীস ও সীরাত গ্রন্থসমূহে বিস্তারিতভাবে এসেছে। কিন্তু সেখানে না একথা আছে যে, সে সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে জামাআতে শরীক হতে পারেননি; আর না আছে মুআওয়াযাতাইন [সূরা ফালাক ও নাস] দ্বারা জাদুর প্রভাব থেকে মুক্ত হওয়ার পর তার গোসলের বয়ান। ৩. রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুস্থতার কারণে খুশি হওয়া কিংবা তার সুস্থতার সংবাদ পড়ে আনন্দিত হওয়া প্রত্যেক মুমিনের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য, কিন্তু একথা দাবি করা যে, সাহাবায়ে কেরাম কিংবা পরবর্তী যুগের মনীষীগণ সে খুশি প্রকাশের জন্য উপরোক্ত পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন কিংবা একে উদযাপনের দিবস ঘোষণা করেছেন, জাহালাত ছাড়া আর কিছু নয়। কেননা, এ দাবির সপক্ষে দুর্বলতম কোনো দলিলও বিদ্যমান নেই।

  • 9 авг.1 0117

    এটাই শয়তানের সবচেয়ে বড় সাফল্য: আপনাকে বড় পাপে ফেলা নয়, আপনার সংবেদনশীলতাটাই মেরে ফেলা। কারণ যার অনুভূতিই মরে গেছে, তাকে আর টেনে নামাতে হয় না। সে নিজেই নামে। তাই মনে রাখুন: শয়তান বালতির মতো টানে—এক টানে নয়, একটু একটু করে। সে ফুটন্ত পানিতে ফেলে না, ঠান্ডা পানিতে বসিয়ে আঁচ বাড়ায়। সে প্রথম দিনেই হারাম দেখায় না, প্রথমে "এতে আর কী সমস্যা" শেখায়। আর তার সবচেয়ে বড় জয় সেদিন, যেদিন আপনার ভুল ধরিয়ে দিলে আপনি বলেন, "তুমি কে আমার ভুল ধরার?" আজ যদি জীবনের কোথাও টের পান পানি একটু একটু গরম হচ্ছে—লাফ দেওয়ার সময় এখনই। ব্যাঙটার মতো অপেক্ষা করবেন না। সংবেদনশীলতা নষ্ট হয়ে গেলে জ্ঞানও তখন কাজ করে না। আপনি জাস্ট চিন্তা ভাবনা ছাড়াই হারামে জড়িয়ে পড়বেন। কারণ আপনার ভেতরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। (দেখুন আপনাকে হতাশ করে দেয়া এই পোষ্টের উদ্দেশ্য নয়। কুরআনে আল্লাহ কোন পাপের এবং তার ভয়ঙ্কর পরিণতির কথা উল্লেখ করার পর সাথে সাথেই বলেছেন—কিন্তু যারা তাওবা করে নিজেদের সংশোধন করে নেয় তারা ছাড়া। কুরআনে এই চিত্রটি বারবার দেখা যায়। অর্থাৎ আপনার পক্ষে এখনো ভালো হওয়া সম্ভব। নতুন করে সংবেদনশীলতার দেয়াল নির্মাণ করা সম্ভব।) হে আল্লাহ, শয়তানের ধীর ফাঁদগুলো চেনার দৃষ্টি আমাদের দান করুন। যে পথে এক পা এগিয়ে গেছি, সে পথ থেকে ফিরে আসার শক্তি দিন। আর আমাদের অন্তরের সেই হায়াটুকু রক্ষা করুন, যা আপনি নিজ হাতে আমাদের ভেতর স্থাপন করেছেন। আমীন। নোমান আলী খান

  • শয়তানের সবচেয়ে ভয়ংকর অস্ত্রের নাম—অধ্যবসায় শয়তানকে নিয়ে আমাদের একটা ভুল ধারণা আছে। আমরা ভাবি, সে বুঝি হঠাৎ ঝাঁপিয়ে পড়ে। একদিন সকালে এসে আপনাকে দিয়ে বিরাট কোনো পাপ করিয়ে ফেলবে। কিন্তু কুরআন তার কর্মপদ্ধতির যে ছবি আঁকে, তা এর ঠিক উল্টো। তার আসল শক্তি তাড়াহুড়োয় নয়। তার আসল শক্তি অপেক্ষায়। সূরা আ'রাফে আদম ও হাওয়া (আ)-এর ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লাহ একটি অসাধারণ শব্দ ব্যবহার করেছেন: فَدَلَّاهُمَا بِغُرُورٍ "সে প্রতারণার মাধ্যমে তাদের ধীরে ধীরে পদস্খলিত করল।" (সূরা আ'রাফ, ৭:২২) "দাল্লাহুমা।" আরবি 'দাল্লা' শব্দটি এসেছে 'দালউ' থেকে, যার অর্থ বালতি। আগের যুগে কুয়া থেকে পানি তোলা হতো দড়ি বাঁধা বালতি দিয়ে। বালতি কুয়ায় ফেলে টেনে টেনে তোলা—এর নাম 'আদলা দালওয়াহু'। এখন ভাবুন, বালতিটা কি এক টানে উঠে আসে? না। ধীরে ধীরে ওঠে। আর সেই প্রক্রিয়া যখন মাত্রাতিরিক্ত ধীর হয়, অস্বাভাবিক লম্বা সময় নেয়—তখন আরবিতে বলা হয় 'দাল্লা'। আল্লাহ শয়তানের কাজ বোঝাতে ঠিক এই শব্দটিই বেছে নিলেন। কেন? কারণ শয়তান আপনাকে পথভ্রষ্ট করতে চায়, কিন্তু সে জানে এক ধাক্কায় তা সম্ভব নয়। সে আপনার কাছে আসে, আপনি বলেন, "আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম।" সে তখন বলে, "আচ্ছা, ঠিক আছে। আমি একটু পর আবার আসব। চিন্তা করো না। আমাদের হাতে সময় আছে।" আমাদের হাতে সময় আছে। সে আবার আসে। আবার আসে। আবার আসে। সে আপনার উপর প্রতিবার মাত্র এক পারসেন্ট করে কাজ করে। একই সূরায় আল্লাহ বলেন: فَوَسْوَسَ لَهُمَا الشَّيْطَانُ "শয়তান তাদের কুমন্ত্রণা দিল।" (সূরা আ'রাফ, ৭:২০) 'ওয়াসওয়াসা' মানে—সে কাছে আসে, ফিসফিস করে, তারপর সরে যায়। আবার আসে, আবার ফিসফিস করে, আবার সরে যায়। একই বার্তা বারবার, যতক্ষণ না আপনি তা গ্রহণ করেন। প্রোপাগান্ডা ঠিক এভাবেই কাজ করে। ভেবে দেখুন, একই বিজ্ঞাপন কেন বারবার দেখানো হয়? কোকের বিজ্ঞাপন দশ-পনেরো বার দেখার পর হঠাৎ ইফতারিতে আপনার কোকের কথা মনে পড়ে। ভাবেন, "এই চিন্তা মাথায় এলো কোত্থেকে?" আসেনি। ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। মনোবিজ্ঞানে একটি পরীক্ষার কথা বলা হয়—স্লো বয়েল। একটি ব্যাঙকে ফুটন্ত পানিতে ছাড়লে সে সাথে সাথে লাফ দিয়ে বেরিয়ে যায়। কিন্তু তাকে স্বাভাবিক পানিতে রেখে পাত্রের নিচে ধীরে ধীরে তাপ দিতে থাকলে? তাপ বাড়তে বাড়তে একসময় তীব্র আকার ধারণ করে, কিন্তু ব্যাঙটা আর লাফ দেয় না। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। সে বুঝতেই পারে না যে পানি গরম হচ্ছিল। শয়তান আপনাকে দিয়ে প্রথম দিনেই হারাম করাতে চায় না। কারণ সে জানে, তখন আপনি বুঝে ফেলবেন এটা ভুল, আর আল্লাহর আশ্রয় চাইবেন। তাই সে আসে নির্দোষ সব বিষয় নিয়ে। আপনি ভাবেন, "এতে আর কী সমস্যা? মানুষ এটাকে শুধু শুধু খারাপ মনে করে।" এরপর সে সামান্য একটু পদস্খলন ঘটায়। আশেপাশের মানুষ বলে, "এটা করো না।" আর আপনি মুখ ঘুরিয়ে বলেন, "এটা কি হারাম? আমি কি কাউকে খুন করেছি? আপনারা এটাকে এত বড় ব্যাপার মনে করছেন কেন?" যেদিন এই কথাটা মুখ দিয়ে বের হয়, বুঝবেন—বালতি অনেকখানি নেমে গেছে। আয়াতে আরেকটি শব্দ আছে: 'গুরুর'। আরবিতে এর অর্থ প্রতারণা, আবার এর দ্বারা অহংকারও বোঝায়। শয়তান মানুষের অহমিকা জাগিয়ে দেয়। মানুষ যখন ছোটখাটো ভুল করে, আর কেউ তা ধরিয়ে দেয়—স্বামী হোক বা স্ত্রী, বাবা হোক বা মা—সে সাথে সাথে 'মাগরুর' হয়ে ওঠে, রেগে ওঠে: "তুমি কে আমার ভুল ধরার?" এভাবে ইগো তার ভালো হওয়ার পথটাই বন্ধ করে দেয়। যে রোগ শয়তানের নিজের ছিল—অহংকারের রোগ—সে সেই রোগই মানুষের ভেতর ঢুকিয়ে দিতে চায়। কারণ যার কাছে সংশোধনের দরজা বন্ধ, তার কাছে ফিসফিসানির দরজা খোলা। আর ভাববেন না আদম ও হাওয়া (আ) এক কুমন্ত্রণাতেই রাজি হয়ে গিয়েছিলেন। আয়াত পড়ে মনে হতে পারে, শয়তান বলল আর তাঁরা সাথে সাথে গাছের দিকে হাঁটা দিলেন। না। শয়তানের অনেক লম্বা সময় লেগেছিল। বহু চেষ্টার পর সে সফল হয়েছিল। স্বয়ং আমাদের আদি পিতামাতার সাথেই যদি তাকে এত ধৈর্য ধরতে হয়, আমাদের সাথে সে কত ধৈর্য নিয়ে কাজ করছে—ভাবতে পারেন? আর এই ধীর প্রক্রিয়ার শেষ পরিণতি কী? আল্লাহ বলেন: بَدَتْ لَهُمَا سَوْآتُهُمَا "তাদের লজ্জাস্থান তাদের নিকট প্রকাশিত হয়ে পড়ল।" (সূরা আ'রাফ, ৭:২২) এখানেই কুরআনের গভীর একটি শিক্ষা। মানুষ যখন হারামের পথ ধরে—হোক তা হারাম খাদ্য, হারাম উপার্জন, হারাম সম্পর্ক—তখন ধীরে ধীরে, কিন্তু নিশ্চিতভাবে, সে তার লজ্জাশীলতা হারিয়ে ফেলে। নির্লজ্জ কিছুর দিকে তাকাতে আর সংকোচ আসে না। চোখ নিচু রাখতে কষ্ট হয়। জিহ্বা দিয়ে এমন শব্দ বের হয় যার উপর নিজেরই নিয়ন্ত্রণ থাকে না। যে হায়া আল্লাহ প্রতিটি মানুষের সহজাত প্রকৃতিতে গেঁথে দিয়েছেন—দুই-তিন বছরের শিশুও যে লজ্জায় কম্বলের নিচে লুকিয়ে পড়ে—সেই হায়া চুরমার হয়ে যায়। প্রথমে যা দেখে আঁতকে উঠতেন, পরে তা স্বাভাবিক লাগে। তারও পরে, সুন্দর লাগে।

  • শয়তানের ক্ষমতা সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকার। যদি কোনো মানুষ দৃঢ়ভাবে সিদ্ধান্ত নেয়—আমি এই গুনাহ করব না, তাহলে অসংখ্য শয়তান একত্র হলেও তাকে জোর করে সেই গুনাহে লিপ্ত করতে পারবে না। ধরা যাক, একজন মানুষ একা একটি ঘরে রয়েছে। তার হাতে স্মার্টফোন, ইন্টারনেট—সবকিছুই আছে। সে চাইলে মুহূর্তেই গুনাহে ডুবে যেতে পারে। কিন্তু যদি সে আল্লাহর ভয়ে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেয় যে গুনাহ করবে না, তাহলে শয়তান তাকে বাধ্য করতে পারবে না। শয়তানের কাজ কেবল কুমন্ত্রণা দেওয়া এবং গুনাহকে আকর্ষণীয় করে উপস্থাপন করা। সে মানুষের ওপর গুনাহ চাপিয়ে দিতে পারে না। শয়তান কিয়ামতের দিন বলবে وَمَا كَانَ لِيَ عَلَيْكُمْ مِنْ سُلْطَانٍ إِلَّا أَنْ دَعَوْتُكُمْ فَاسْتَجَبْتُمْ لِي তোমাদের ওপর আমার কোনো ক্ষমতা ছিল না। আমি শুধু তোমাদের আহ্বান করেছিলাম, আর তোমরাই আমার ডাকে সাড়া দিয়েছিলে। [সূরা ইবরাহিম : ২২] অর্থাৎ, শয়তান গুনাহকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করে, কিন্তু গুনাহ করার সিদ্ধান্ত মানুষ নিজেই নেয়। শয়তানকে একটি শোরুমের সঙ্গে তুলনা করা যায়। সে গুনাহকে আকর্ষণীয়ভাবে সাজিয়ে উপস্থাপন করে। কিন্তু গুনাহের আসল উৎস হলো মানুষের নফস। মানুষ যদি নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং শয়তানের কুমন্ত্রণায় সাড়া না দেয়, তাহলে শয়তান তাকে কোনোভাবেই গুনাহে বাধ্য করতে পারে না। - শাইখ উমায়ের কোব্বাদি

  • প্রশ্ন (২৭/২২৭) : ‘আখেরী চাহার সোম্বা’ কাকে বলে। শরী‘আতে এরূপ কোন দিবসের অনুমোদন আছে কি? . উত্তর : ‘আখেরী চাহার সোম্বা’ কথাটি ফার্সী। এর অর্থ ছফর মাসের শেষ বুধবার। ইরান, ইরাক, ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে এটি দিবস হিসাবে পালিত হয়ে থাকে। এর ভিত্তি হ’ল- মৃত্যুর পাঁচদিন পূর্বে বুধবার রাসূল (ছাঃ)-এর দেহের উত্তাপ ও মাথাব্যথা খুব বৃদ্ধি পায়। তাতে তিনি বারবার বেহুঁশ হয়ে পড়তে থাকেন। অতঃপর তাঁর মাথার উপরে পানি ঢালা হ’লে তিনি একটু হালকা বোধ করলে মসজিদে গিয়ে যোহরের ছালাত আদায় করেন এবং মুছল্লীদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন’ (বুখারী হা/৪৪৪২; ইবনু হিশাম ২/৬৪৯)। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উক্ত দিবস ঘটা করে পালন করা হয় এবং সরকারী ছুটি ঘোষণা করা হয়। অথচ এটি সম্পূর্ণরূপে বিদ‘আতী প্রথা। ছাহাবায়ে কেরামের যামানায় এরূপ প্রথার কোন অস্তিত্ব ছিল না। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘কেউ যদি এমন কোন আমল করে, যার প্রতি আমাদের নির্দেশ নেই তা প্রত্যাখ্যাত’ (বুখারী হা/২৬৯৭; মুসলিম হা/১৭১৮; মিশকাত হা/১৪০)।

  • স্বামী-স্ত্রীর উপার্জন | স্বাধীনতা নাকি দায়িত্ব?

  • ১. ইমাম গাযালী রহ লিখেন, বাদশা হারুনুর রশীদ একবার তার দরবারে চার দেশের চার জন অভিজ্ঞ চিকিৎসককে ডেকে এনেছিলেন। এরপর বাদশা  বললেন, আপনারা প্রত্যেকে এমন কোনো ওষুধের নাম বলুন, যা ব্যবহার করলে সকল রোগ-ব্যধি থেকে মুক্ত থাকা যাবে। প্রথম তিনজন প্রত্যেকে একটি করে ওষুধের নাম বললেন। কিন্তু চতুর্থজনকে যখন জিজ্ঞাসা করা হল, তখন তিনি বললেন, এদের কারও কথা ঠিক নয় এবং যুক্তির মাধ্যমে তা বুঝিয়ে দিলেন। তখন তাকে বলা হল, তাহলে আপনি বলে দিন সেটা কোন মহৌষধ? তিনি তখন বললেন, সেই মহৌষধ হল, ততক্ষণ পর্যন্ত না খাওয়া যতক্ষণ খাবারের প্রতি খুব বেশি আগ্রহ সৃষ্টি না হবে এবং ওই মুহূর্তে খাওয়া বন্ধ করা যখন আরও কিছু খাওয়ার আগ্রহ বাকি থাকে। একথা শুনে সবাই সমস্বরে বলে উঠলেন, আপনার কথাই সঠিক। [ইহইয়াউ উলূমুদ্দীন : ২/১২৬] ২. হারুনুর রশীদের দরবারে একজন খ্রিস্টান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছিলেন। তিনি একদিন প্রখ্যাত আলেম আলী বিন হুসাইন বিন ওয়াকিদ রহ.-কে প্রশ্ন করলেন, আপনাদের কুরআনে তো চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিষয়ে কোনো বিস্তারিত আলোচনা নেই। অথচ জ্ঞান তো দুই প্রকার—১. দেহ সংক্রান্ত জ্ঞান ২. ধর্ম সংক্রান্ত জ্ঞান। আলী রহ. জবাব দিলেন, আপনি হয়তো কুরআনে শরীর সম্পর্কিত আলোচনা দেখতে পান না, তাই এমন বলছেন। অথচ মহান আল্লাহ এক অর্ধ-আয়াতেই শরীর রক্ষা ও সুস্থতার সকল মূলনীতি বলে দিয়েছেন। ডাক্তার বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, মাত্র অর্ধ-আয়াতেই? কোথায় তা? কীভাবে? আলী রহ. বললেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন كُلُوا وَاشْرَبُوا وَلَا تُسْرِفُوا তোমরা খাও ও পান করো, তবে অপচয় করো না। অর্থাৎ—Overeating করো না। অতিরিক্ত খাওয়া পরিহার করো। ডাক্তার তখন চমকে উঠলেন, সত্যিই তো! এর চেয়ে পরিপূর্ণ ও সুন্দর খাদ্যনীতি তো কিছু হতে পারে না। তিনি আবার বললেন, আচ্ছা, আল্লাহর বাণী তো শুনলাম, কিন্তু তোমাদের নবী ﷺ এ বিষয়ে কিছু বলেছেন কি? আলী রহ. জবাব দিলেন, নবীজির বহু হাদীস আছে। তবে সময়ের অভাবে একটি সংক্ষিপ্ত হাদীস বলছি। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, ‘মানুষের বেঁচে থাকার জন্য কয়েক লোকমা খাদ্যই যথেষ্ট। যদি কেউ তবুও বেশি খেতে চায়, তবে পেটকে তিন ভাগে ভাগ করুক— একভাগ খাদ্যের জন্য, একভাগ পানির জন্য এবং একভাগ নিঃশ্বাসের জন্য।’ ডাক্তার তখন অভিভূত হয়ে বললেন, তোমাদের কুরআন ও নবী তো চিকিৎসাবিদ জালিনুস [গ্যালেন]-এর জন্যও কিছুই রেখে যাননি!  [যুহাইলী, তাফসীরে মুনীর : ৮/১৮৪]

  • 8 авг.1 0622

    রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- যার মধ্যে আমানত নেই তার ঈমান নেই। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১২৩৮৩; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ৩০৯৫৬ . আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- যে ব্যক্তি তার ভাইকে কোনো বিষয়ে পরামর্শ দিল, অথচ সে জানে কল্যাণ এর বিপরীতে, তবে সে তার সঙ্গে খেয়ানত করল। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩৬৫৭; মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস ৩৫০ . আবু হুরায়রা রা. নবীজী থেকে আরেকটি হাদীস বর্ণনা করেন- যার কাছে কোনো বিষয়ে পরামর্শ চাওয়া হয় সে আমানতদার। -জামে তিরমিযী, হাদীস ২৩৬৯; আলআদাবুল মুফরাদ, বুখারী, হাদীস ২৫৬; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৫১২৮ . হযরত মাওলানা মনযুর নুমানী রাহ. বলেন- যার কাছে পরামর্শ চাওয়া হয় পরামর্শ গ্রহণকারী তাকে নির্ভরযোগ্য মনে করেই তো তার কাছে যায়। নিজের একটি আমানত তার কাছে সোপর্দ করে। অতএব তার উচিত, আমানতের হক আদায়ে ত্রুটি না করা। অর্থাৎ ভালোভাবে চিন্তা-ভাবনা করেই তাকে কল্যাণমূলক পরামর্শ দেওয়া এবং বিষয়টির গোপনীয়তা বজায় রাখার চেষ্টা করা। অন্যথায় সে এক ধরনের খেয়ানতের অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত হবে। -মাআরিফুল হাদীস ২/১৫১ (২১০)

  • 7 авг.1 094

    🧭 জুম্মা রিমাইন্ডার 🧭 প্রতিটি মুসলিমের নিকট জুমু'আ তথা শুক্রবার একটি কাঙ্ক্ষিত দিন। হাদীসে এই দিনটিকে মুমিনের জন্য সাপ্তাহিক ঈদের দিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতি কদমে এক বছরের সওয়াব! ৫টি শর্ত মেনে জুমু'আর নামাজে গেলে প্রতি কদমে ১ বছরের নফল রোজা ও নফল…

  • 6 авг.1 3144

    দুরুদে ইবরাহীমই সকল দুরুদের পরিপূর্ণ রূপ! দুরুদে ইবরাহীম হাদিসে বর্ণিত সবচেয়ে উত্তম দুরুদ। সাহাবায়ে কেরাম যখন দুরুদ কিভাবে পাঠ করবেন,এ বিষয়ে আল্লাহর রাসুল ﷺ কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তখন তিনি (ﷺ) তাদের দুরুদে ইবরাহীম শিখিয়েছিলেন। দুরুদে ইবরাহীমে কেবল মুহাম্মাদ ﷺ এর জন্যই দুআ করা হয় না,বরং তাঁর পরিবারবর্গের জন্যও শান্তি ও বরকতের দুআ করা হয়। একই সঙ্গে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম ও তাঁর পরিবারবর্গের জন্যও একই দুআ করা হয়। আপনি যখন অন্য ছোট দুরুদগুলো পাঠ করেন, তখন মূলত আল্লাহর রাসুল ﷺ এর জন্যই দুআ করেন। আর কোনো মুসলিমের জন্য দুআ করলে ফেরেশতারাও তার জন্য দুআ করেন। ভাবুন, যখন দুরুদে ইবরাহীম পাঠের মাধ্যমে আপনি দুই শ্রেষ্ঠ নবী এবং তাঁদের পরিবারবর্গের জন্য দুআ করেন, তখন আপনার নিজের ও পরিবারের জন্যও কল্যাণের দুয়ার উন্মুক্ত হয়! অর্থাৎ, কেউ যখন দুরুদে ইবরাহীম পাঠ করে, তখন সে পক্ষান্তরে নিজের পরিবারেরই কল্যাণ কামনা করে। তাই সামগ্রিক কল্যাণ লাভের উদ্দেশ্যে অধিক পরিমাণে দুরুদে ইবরাহীম পাঠ করুন। আল্লাহ চান তো, দুরুদের বরকতেই আল্লাহ আপনার ও আপনার পরিবারের দুনিয়া ও আখিরাত সমৃদ্ধ করে দিবেন।- সংগৃহিত

  • 5 авг.1 330

    জুলাই গণঅভ্যুত্থান, খু*নী হাসিনা ও ফ্যা*সিস্ট আওয়ামীলীগের পতন হয়েছে– একমাত্র আল্লাহ তা'আলার বিশেষ রহমত ও দয়ায়। তাই একমাত্র মাস্টারমাইন্ড হলেন– আল্লাহ তা'আলা। এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আমরা যারা অংশ নিয়েছি- ছাত্র-জনতা সর্বোপরি দেশের সবাই সমানভাবে আন্দোলনে অবদান রেখেছে। যদি সবচেয়ে বেশি ক্রেডিট দিতে হয়, তাহলে সেটা পাওয়ার একমাত্র যোগ্য দাবিদার হলো– যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জীবন দিয়েছে। এরপর যারা আহত হয়েছে, যারা চোখ হারিয়েছে, যারা হাত হারিয়েছে, যারা পা হারিয়েছে। সে বাবা-মায়েরও অবদান রয়েছে, যারা তাদের আদরের সন্তানকে হারিয়েছে। সে স্ত্রীরও অবদান রয়েছে, যে তার সঙ্গী স্বামীকে হারিয়েছে। এবং যারা সামনে থেকে মূল নেতৃত্ব দিয়েছে, তাদের অবদান কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। ইতিহাস বিকৃতি করা এতো সহজ নয়। খু*নী হাসিনার পতন না হলে, সে ছেলেগুলোকে তখনই ফাঁসিতে ঝুলানো হতো, এমনকি তাদের লাশও উধাও করে দিতো। এবং আন্দোলনে নেতৃত্ব ও অংশ নেওয়ার কারণে আমাদেরও মে*রে ফেলা হতো। কিন্তু আপনারা রাজনৈতিক দলের নেতারা ঠিকই নিরাপদে বেঁচে থাকতেন। কারণ, আপনারা তো আন্দোলনের সময় মিডিয়ায় এসে বার বার বলেছিলেন, আন্দোলনে আপনারা অংশ নেননি। এই আন্দোলন আপনাদের নয়। এখন জুলাইয়ের বড় নেতা সেজে বসে আছেন। নিজেদের মাস্টারমাইন্ড, ১ দফার ঘোষক দাবি করেন। তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে এসেও কেউ এমন নির্লজ্জভাবে ইতিহাস বিকৃতি করতে পারে! আমরা যে আশা-আকাঙ্খা নিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিলাম, খু*নী হাসিনার বিরুদ্ধে লড়াই করে পতন করেছিলাম– তা আপনাদের মতো স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক দল ও নেতাদের জন্য ব্যর্থ হয়েছে। আপনারা আমাদের সাথে, দেশের মানুষের সাথে এবং শহীদদের র*ক্তের সাথে বেঈমানী করেছেন। এর জবাব আপনারা পাবেন ইনশাআল্লাহ্। সর্বোপরি বলবো, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা ইতিহাসের সবচেয়ে নিকৃষ্টতম ফ্যা*সিস্টের পতন ঘটাতে পেরেছি ঠিক, তবে আমরা এই জমিনে ইনসাফ কায়েম করতে পারেনি। তাই আমাদের লড়াই এখনো অসমাপ্ত! ইনশাআল্লাহ্, আল্লাহর সাহায্যে এই জমিনে একদিন আল্লাহর দ্বীন কায়েম হবেই। ✊ ইনকিলাব জিন্দাবাদ! - মাহমুদুল হাছান

  • 5 авг.1 026

    видео или голосовое, без подписи

  • 5 авг.1 2755

    দুনিয়াতে পাঠানো হয়েছিলো পথিক হিসেবে, কিন্তু আমরা বোকা মানুষেরা এটাকেই স্থায়ী ঠিকানা ভেবে বসেছি...! আমরা আসলে কোথায় যাচ্ছি? এই দীর্ঘ সফরের চূড়ান্ত গন্তব্য কোথায়? জন্মের পর থেকেই আমরা এমনভাবে দুনিয়াকে আঁকড়ে ধরি, যেন এখানেই আমাদের চিরকাল থাকতে হবে,এটাই আমাদের স্থায়ী ঠিকানা! সুন্দর একটি বাড়ি চাই, অনেক বেশি অর্থ চাই, প্রচুর সম্মান চাই, মানুষ যেন আমাকে মনে রাখে— এসব নিয়েই কেটে যায় পুরো এক জীবন। অথচ, এই পৃথিবীতে আমাদের আগমন ছিল অতিথি হয়ে, মালিক হয়ে নয়। আমাদের অবস্থান কয়েকটি দিনের বেশি কিছুই নয়; প্রকৃত জীবন তো শুরুই হলোনা! كَأَنَّهُمْ يَوْمَ يَرَوْنَهَا لَمْ يَلْبَثُوا إِلَّا عَشِيَّةً أَوْ ضُحَاهَا﴾ "যেদিন তারা কিয়ামতকে প্রত্যক্ষ করবে, সেদিন তাদের মনে হবে যেন তারা (দুনিয়ায়) অবস্থান করেছিল মাত্র এক সন্ধ্যা অথবা এক সকালের সময়।" — সূরা আন-নাযিআত, ৭৯:৪৬ আচ্ছা! যদি আপনি কোনো শহরে মাত্র দুই দিনের জন্য বেড়াতে যেতেন। সেখানে কি নিজের স্থায়ী বাড়ি নির্মাণ করবেন এই চিন্তা করে যেতেন? সব অর্থ কি সেখানেই ব্যয় করে ফেলতেন? নিশ্চয়ই না,কখনোই না। কারণ আপনি জানেন, এটি আপনার আসল ঠিকানা নয়। আর দুনিয়া? এখানে আমাদের অবস্থান আরও অনেক বেশি ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু সেই দুনিয়াকেই আমরা চিরস্থায়ী আবাস বানানোর প্রতিযোগিতায় নেমে গেছি যেন! রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন— "দুনিয়ার সবচেয়ে সুখী জাহান্নামীকে কিয়ামতের দিন একবার জাহান্নামে ডুবানো হবে। তারপর তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, 'তুমি কি কখনো কোনো সুখ দেখেছ?' সে বলবে, 'না, আল্লাহর কসম! কখনো কোনো সুখ দেখিনি।' আর দুনিয়ার সবচেয়ে কষ্টভোগী জান্নাতিকে একবার জান্নাতে ডুবানো হবে। তারপর তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, 'তুমি কি কখনো কোনো কষ্ট দেখেছ?' সে বলবে, 'না, আল্লাহর কসম! কখনো কোনো কষ্ট দেখিনি।'" [সহিহ মুসলিম— ২৮০৭] কি বুঝলেন? এর মানে —জান্নাতে একবার প্রবেশ করেই দুনিয়ার সমস্ত দুঃখ/কষ্ট ভুলে যাবে মানুষ। আর জাহান্নামের একটি মাত্র ডুবই দুনিয়ার সব সুখকে মুছে দেবে স্মৃতি থেকে। তাহলে যে দুনিয়ার সুখ-দুঃখ নিয়ে আমরা দিন-রাত এত ব্যস্ত, আখিরাতের তুলনায় তার মূল্যই বা কতটুকু? চিন্তা করুন না একটু! আমরা এমনভাবে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করি, যেন মৃত্যুর সঙ্গে আমাদের কোনো সাক্ষাৎ নির্ধারিত নেই। আরও একটু পরে তাওবা করব, বৃদ্ধ হলে আমল শুরু করব, সময় হলে কুরআনের কাছে ফিরব —এভাবেই একদিন পুরো জীবন শেষ হয়ে যায়। অথচ মৃত্যু কখনো বলে আসে না— তুমি প্রস্তুত তো? সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় কী জানেন? আমরা এমন একটি জায়গার জন্য নিজেদের নিঃশেষ করে দিচ্ছি, যেখান থেকে একদিন আমাদের জোর করেই বের করে দেওয়া হবে। এই ঘর, এই সম্পদ, এই পরিচয়, এই প্রিয় মানুষ—সবই একসময় পিছনে পড়ে থাকবে। আমাদের সঙ্গে যাবে না ব্যাংক ব্যালেন্স, ডিগ্রি, সৌন্দর্য কিংবা মানুষের প্রশংসা। সঙ্গে যাবে শুধু সেই আমল, যা আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করে গিয়েছিলাম। দুনিয়া খারাপ নয়! দুনিয়ার মোহে ডুবে গিয়ে আখিরাতকে ভুলে যাওয়াটাই ভয়ংকর। কারণ এই দুনিয়া একটি পথ, গন্তব্য নয়; একটি পরীক্ষা, পুরস্কার নয়; একটি ক্ষেত, ফসল কাটার জায়গা নয়। কিন্ত, আমাদের অবস্থা এমন হয়ে গিয়েছে যে! দুইদিনের পথিক হয়ে আমরা এমনভাবে বাচতে চাই, যেন এই দুনিয়াতেই আমার চিরস্থায়ী বসবাস! হে আদমসন্তান! কোথায় তোমার লাস্ট ডিউরেশন /শেষ ঠিকানা?

  • видео или голосовое, без подписи

  • 5 авг.1 0723

    উপমহাদেশের একজন অত্যন্ত সৌভাগ্যবান উমরাহ/জিয়ারতকারী মাসজিদে নববী ﷺ-এর সবচেয়ে পবিত্র অংশ রাওযাতুল জান্নাহ (রিয়াযুল জান্নাহ)-এ সাজদারত অবস্থায় মহান স্রষ্টার ডাকে সাড়া দিয়ে ইন্তিকাল করেছেন। আল্লাহ উনাকে জান্নাতুল ফেরদাউসের আলা মাকাম দান করুন আমিন।

  • 4 авг.1 2313

    গতকাল সেনাপ্রধান , বিদ'আতে দেশ ছেয়ে গিয়েছে- বলে বক্তব্য প্রদান করেছেন। এখানে তিনি সম্ভবত বেরেলোভী সুন্নি সমাজের অতিমাত্রার বিদ'আতকে নির্দেশ করেছেন। কিন্তু সেনাপ্রধানের জেনে রাখা উচিত, বাংলাদেশের বর্তমানে সবচেয়ে বড় বিদ'আত হচ্ছে আল্লাহর আইন বাদ দিয়ে মানুষের তৈরি আইন দিয়ে দেশ পরিচালনা করা। শরীয়তের পরিভাষায় বিদ'আত বলা হয়, শরীয়তের কোনো নীতিমালায় আল্লাহ ও রাসুলের নির্দেশিত পন্থার বাহিরে গিয়ে নতুন কিছু আবিষ্কার করা। নিঃসন্দেহে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, সেকুলারিজম, লিবারেলিজমসহ যাবতীয় মানব তৈরি তন্ত্রমন্ত্র সবচেয়ে বড় মারাত্মক বিদ'আত এবং শির্ক। উপরিউক্ত বিদ'আত ও শির্কের জায়গায় আল্লাহর শরীয়ত স্থাপন করা গেলেই বাকী সব বিদ'আত এমনিতেই কমে যাবে।

ঈমান ও আমল — tgindex