tgindex
রৌদ্রময়ী

রৌদ্রময়ী

Статистика

|| দাওয়াহ || শুদ্ধতা || সাহিত্য ||

Последний пост
14 авг.
Последнее чтение
15 авг.
Постов за неделю
12
Всего постов
25
Тип
открытый
Язык
bn
Категория
Новости и СМИ (по похожим)
В каталоге с
13 авг.
Подписчики
3 149
+5 за 2 дн.
Сутки
0
0,00%
Неделя
 
Месяц
 
Просмотров на пост
316
25 постов
Вовлечённость
10,0%
к подписчикам
Постов в день
1,7
всего 25
Упоминаний
0
каналов
Охват размещения
оценка
1/24сутки в ленте
243
1/48двое суток
278
1/72трое суток
300

Оценка по просмотрам недавних постов: пост набирает почти всё за первые сутки.

Посты

  • তাই আমার কাছে কথাটা খুব সহজ এবং সাদামাটা— দ্বীনের প্রতি যখন মহব্বত চলে আসে, তখন দ্বীন যেখানে সহজ—সেই জায়গাটাই ভালো লাগে। লাক্সারি কম হলেও। সুবিধা কম হলেও। জীবন একটু কঠিন হলেও। ওই যে দ্বীনকে যে ভালোবেসে ফেলেছি,,, শুধু তার সান্নিধ্য তার ঘ্রাণ বেশি ভালো লাগে,,,, কারণ আমি চাই— আমার সন্তান শুধু দুনিয়ায় সফল না হোক, আল্লাহর কাছেও সফল হোক। আল্লাহ আমাদের অন্তরে দ্বীনের সত্যিকারের মহব্বত দান করুন। আমাদের দুনিয়াকে দ্বীনের অধীন করে দিন। আমাদের সন্তান-সন্ততি ও পরবর্তী বংশধরদের ঈমানের ওপর অটল রাখুন। আর যেদিন আমরা আপনার সামনে দাঁড়াব, সেদিন যেন বলতে পারি— ❝হে রব, আমি চেষ্টা করেছি। আমি যে শুধু আপনাকে ভালোবেসেছি। আর আপনার সন্তুষ্টি/ ভালোবাসাই চেয়েছি ❞ আমাদের চেষ্টা কবুল করুন। আমাদের ঈমান হেফাজত করুন। আমাদের পরিবার ও পুরো উম্মাহর জন্য দ্বীনকে সহজ করে দিন। আমীন, ইয়া রব্বাল আলামীন। জীবন একটু কঠিন হলেও রাবেয়া ফারুকী রৌদ্রময়ী

  • অনেকে আমাকে প্রশ্ন করেন—এত সুন্দর, নিরিবিলি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, লাক্সারি, ভালো ফ্যাসিলিটি এবং সাথে সুন্দর মুসলিম কমিউনিটি, ঘরের সাথে মাসজিদ আর দ্বীনের পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও এখান থেকে বের হ‌ওয়ার ব্যাপারে এতটা সিরিয়াস!!!? সত্যি বলতে, এর উত্তর দেওয়ার মতো বড় কোনো জ্ঞান আমার নেই। দ্বীন সম্পর্কে আমার জ্ঞানও খুবই সামান্য। যতটুকু একাডেমিকভাবে শিখেছি, শুনি, পড়ি, বুঝি—সেখান থেকে যে কথাগুলো অন্তরে দাগ কাটে, সেগুলোই নিজের জন্য মনে রাখি, আর কখনো কখনো অন্যদের সঙ্গেও শেয়ার করি। আমার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা খুব সহজ হিসাব। দ্বীনকে যখন একটু একটু করে ভালোবাসতে শুরু করবেন, তখন দেখবেন—দ্বীনের জন্য কিছু জিনিসকে অগ্রাধিকার দিতে নিজের ভেতর থেকেই ইচ্ছা হচ্ছে। তখন প্রশ্নটা আর শুধু থাকে না— “কোথায় জীবন বেশি আরামদায়ক?” “কোথায় বাড়ি সুন্দর?” “কোথায় চিকিৎসা ভালো?” “কোথায় শিক্ষা ব্যবস্থা ভালো?” “কোথায় খাবারে ভেজাল কম?” “কোথায় বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ বেশি উজ্জ্বল?” এসব অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। আমিও এগুলোর মূল্য বুঝি। কিন্তু এর সঙ্গে আরও কিছু প্রশ্ন এসে যায়— আমার ঈমানের ভবিষ্যৎ কী? আমার সন্তানদের ঈমানের ভবিষ্যৎ কী? তারা কোন পরিবেশে বড় হবে? ঘর থেকে বের হলে তারা কী দেখতে দেখতে বড় হবে? তাদের কাছে কোন জিনিসটা স্বাভাবিক হয়ে যাবে? আমার সন্তানদের সন্তানরা—আমার পরবর্তী প্রজন্ম—কোন পরিচয় নিয়ে বড় হবে? এই প্রশ্নগুলো আমাকে ভাবায়। কারণ আমি চাই না, আমার সন্তান শুধু ভালো স্কুলে পড়ুক, ভালো চাকরি করুক, ভালো জীবন পাক। আমি চাই, তারা আল্লাহকে চিনুক। আল্লাহকে ভালোবাসুক। আল্লাহকে ভয় করুক। আল্লাহর ওপর ভরসা করতে শিখুক। হালাল-হারামের পার্থক্য বুঝুক। লজ্জা, শালীনতা, আমানতদারি ও মানুষের হক বুঝুক। আর এজন্য পরিবেশের একটা বড় ভূমিকা আছে—এটা আমি যতটুকু বুঝেছি, ততটুকুই বলছি। যে পরিবেশে নামাজ সহজ, যেখানে মাসজিদ মাদ্রাসা সহজে পাওয়া যায়, যেখানে সন্তানদের জন্য ইসলামিক শিক্ষা ও ভালো সঙ্গ পাওয়া যায়, যেখানে চারপাশে দ্বীন মেনে চলা মানুষ দেখা যায়, যেখানে সন্তানদের কাছে মুসলিম পরিচয়টা স্বাভাবিক ও জীবন্ত একটা বিষয়— তারা কোনো অস্বস্তিতে পড়বে না, সেই পরিবেশ আমার কাছে খুব মূল্যবান। হয়তো সেখানে সব সুযোগ-সুবিধা থাকবে না। হয়তো রাস্তা এত সুন্দর হবে না। হয়তো জীবন এত আরামদায়ক হবে না। হয়তো অনেক কিছুতেই আপস করতে হবে। তবুও যদি সেখানে আমার দ্বীন পালন সহজ হয়, সন্তান-সন্ততিদের ঈমানের পরিবেশ পাওয়া সহজ হয়—তাহলে আমার অন্তর সেই জায়গার দিকেই বেশি টানে। অন্যদিকে, কোনো জায়গা যতই লাক্সারি হোক, যতই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হোক, যতই সুযোগ-সুবিধায় ভরা হোক—যদি সেখানে নিজের চোখের হেফাজত, নিজের নফস, নিজের সন্তানদের ঈমান ও ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষা করা প্রতিনিয়ত কঠিন পরীক্ষা হয়ে যায়, তাহলে সেই আরাম আমার কাছে আর আগের মতো আরাম মনে হয় না। কারণ কিছু বিলাসিতা হয়তো জীবনকে সহজ করে, কিন্তু কিছু পরিবেশ জীবনকে পরীক্ষাও কঠিন করে দিতে পারে প্রতিনিয়ত। আমি কাউকে ছোট করছি না। কোনো জাতি, ধর্ম বা দেশের মানুষকে বিচার করাও আমার উদ্দেশ্য নয়। আমি শুধু নিজের দুর্বলতাটা জানি। আমি জানি, আমার ঈমান খুব শক্ত নয়। আমার সন্তানদের ঈমানও আমার হাতে সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়। আমাদের প্রত্যেকেরই আল্লাহর সাহায্য দরকার। তাই যেখানে দ্বীন মেনে চলার জন্য আমাকে কম লড়াই করতে হবে, যেখানে ভালো পরিবেশ আমাকে আল্লাহর দিকে নিবে, মনে করিয়ে দেবে, যেখানে সন্তানদের দ্বীনের ওপর বড় করার সুযোগ বেশি—আমি কেন সেই পরিবেশটাকে বেছে নিতে চাইব না!? আমাদের রব তো বলেছেন— “হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই আগুন থেকে রক্ষা করো...” — সূরা আত-তাহরীম, ৬৬:৬ এই আয়াতটা পড়লে আমার নিজের কাছেই একটা প্রশ্ন আস— আমি আমার পরিবারের জন্য কী করছি!? শুধু তাদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করার চেষ্টা করছি? নাকি তাদের আখিরাতের ভবিষ্যতের কথাও ভাবছি? কারণ আমরা সবাই একদিন আল্লাহর সামনে দাঁড়াব। সেদিন হয়তো আমি বলতে চাই— “হে আমার রব, আমি সবকিছু পারিনি। আমি অনেক ভুল করেছি। আমার জ্ঞানও অল্প ছিল। কিন্তু আমি চেষ্টা করেছি। যতটুকু বুঝেছি, ততটুকু অনুযায়ী আপনার সন্তুষ্টিকে / দ্বীন কে দুনিয়ার ওপরে রাখার চেষ্টা করেছি। আমার সন্তানদেরও আপনার দিকে রাখার চেষ্টা করেছি।” এই চেষ্টাটুকুই তো চাই। মূল কথা হলো ❝দুনিয়া আমাদের দরকার—অবশ্যই দরকার। কিন্তু দুনিয়া যেন আমাদের দ্বীনের মালিক না হয়ে যায়। ❞ আমরা দুনিয়া উপার্জন করব, কিন্তু হালাল পথে। সন্তানদের ভালো ভবিষ্যৎ দেব, কিন্তু শুধু দুনিয়ার জন্য নয়। ভালো বাড়ি চাইব, ভালো শিক্ষা চাইব, ভালো চিকিৎসা চাইব—কিন্তু সবকিছুর ওপরে চাইব ঈমান। কারণ শেষ পর্যন্ত তো— দুনিয়ার সবচেয়ে সুন্দর জীবনও ক্ষণস্থায়ী তাই নয় কি?। কিন্তু ঈমান নিয়ে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে পারাটাই আসল সফলতা.......

  • видео или голосовое, без подписи

  • মুফতি শামায়েল নদভী ও ত্বোহা ইবনে জলিলকে নিয়ে চট্টগ্রাম ও ঢাকায় দুটো সেমিনার করতে যাচ্ছে সিয়ান পাবলিকেশন। দুটো সেমিনারেই রেজিস্ট্রেশনের অপশন পাবেন এই লিংকে- https://seanpublication.com/sean-seminar/

  • видео или голосовое, без подписи

  • আজকে ছিলো সরকারি ছুটি... ছুটি মানেই আনন্দ! সব স্কুল বন্ধ!! কিন্তু কী উপলক্ষে ছুটি এটা জিজ্ঞেস করলে হয়তো অর্ধেক মানুষ বলতেই পারবে না, আর বাকি অর্ধেক হয়তো বলবে “আখেরী চাহার সোম্বা”। যারা এইটুক বলতে পারছে, তাদের যদি আবার জিজ্ঞেস করা হয় “আখেরী চাহার সোম্বা” কী? তা হয়তো ৯০% মানুষই বলতে পারবে না। গতকাল অফিসে একজন এসে যখন বললো স্যার কালকে ছুটি, আখেরী চাহার সোম্বা উপলক্ষে। এরপর তাকে জিজ্ঞেস করলাম আখেরী চাহার সোম্বা কী? বললো জানিনা স্যার! এরপর আরো ৮/১০ কে জিজ্ঞেস করলাম। একজন শুধু বলতে পারলো।তো নাম যেহেতু আছে, সরকারি ছুটি আছে- এর কোনো অর্থ অবশ্যই আছে। “আখেরী চাহার সোম্বা” আমাদের ইসলাম ধর্মেরই একটা জিনিস। জিনিস মানে একটা দিবস আর কী। তবে এটা আরবি শব্দ না, ফার্সি শব্দ। এর অর্থ হলো- সফর মাসের শেষ বুধবার। এখন এই সফর মাসের শেষ বুধবার কেন আলাদা? আরবি ১২ মাসের দ্বিতীয় মাস হচ্ছে 'সফর' মাস। এরপরে আসে 'রবিউল আওয়াল' মাস। আশা করি 'রবিউল আওয়াল' নামটার সাথে সবাই পরিচিত। আমাদের শেষ ও শ্রেষ্ঠ রাসূল হযরত মুহাম্মদ স্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এই রবিউল আওয়াল মাসেই জন্মগ্রহণ করেন আর এই মাসেই মৃত্যুবরণ করেন। মারা যাওয়ার আগে তিনি বেশ কিছুদিন অসুস্থ ছিলেন। এই অসুস্থতার মধ্যে সফর মাসের শেষের দিকে কোনো এক বুধবার বা বৃহস্পতিবার (যেটা নিয়ে সীরাত বর্ণনাকারীদের মাঝে কিছু মত পার্থক্য আছে) তিনি একটু সুস্থ হন। শেষ বারের মতো ইমামতি করেন। এরপর আবার অসুস্থ হয়ে যান। এরপর তিনি আর কোনোদিন সুস্থ হননি। কিছুদিন পরেই তিনি এই উম্মাতের ভালোবাসা থেকে চিরবিদায় নেন। এখন এই সফর মাসের শেষ বুধবার তিনি শেষবারের মতো সুস্থ হয়েছিলেন বলে কিছু মুসলিম এটা আনন্দের দিন হিসেবে পালন করে, নফল নামাজ পড়ে, সাদকাহ করে। কিন্তু আপনি যদি একটু পড়াশোনা করেন, বা যে কোনো আলেম ওলামার বক্তব্য শোনেন দেখবেন এমন কোনো প্রচলন সাহাবীদের আমলে ছিলো না, বা আমাদের নবী আমাদের শিখিয়ে যাননি যে এই যে আমি এই দিনে সুস্থ হলাম, তোমরা আজীবন এই দিনে আলাদা নফল ইবাদত করবা। যদিও আমরা বেশিরভাগ মানুষই এই দিনে ইবাদত করিনা, তবে যারা করেন তারাও জানেন না কী কারণে করেন, যারা করেন না তারাও জানেন না কী কারণে করেন না। আপনি যদি গুগলে সার্চ দেন, বা উইকিপিডিয়া দেখেন যে কোন কোন দেশ এই দিন পালন করে, তাহলেও দেখবেন এই ভারতীয় উপমহাদেশ ছাড়া সারা বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশে এর কোনো প্রচলন নাই। আমাদের প্রিয় আলেম ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যারের 'হাদিসের নামে জালিয়াতি' বইটাতে সুন্দর করে এই বিষয়ে লেখা আছে। তিনি বলেন, হাদিস তো দূরের কথা এই মর্মে কোনো জাল হাদিসও পাওয়া যায়না যে এই আখেরী চাহার সোম্বা-তে আলাদা কোনো ইবাদত আছে। ইবাদতের মধ্যে নতুন কিছু সৃষ্টিকে বলে বিদআত, তার মানে বোঝা যায় এটা আমাদের সমাজে প্রচলিত একটা বিদআত যা সরকারি ছুটি দ্বারা স্বীকৃত। আমাদের দেশে ২ টা ভুয়া হাদিসের বই এর বেশ প্রচলন আছে- এক হচ্ছে "মোকছুদুল মোমিনিন" আরেকটা হচ্ছে "বার চান্দের ফজিলত" এর বই গুলাতে এমন কিছু ভুয়া তথ্য পাওয়া যায়। আপনারা এই বইগুলো একটু এভয়েড করবেন। আর যে কোনো ফতোয়া একটু যাচাই করে নিবেন। ইসলাম নিয়ে ভুল বলে না অনেকেই? ইবাদত বিষয়ক কেউ কিছু বললেই যে তাকে ভালো মনে করতে হবে এমন ভাবার কোনো কারণ নাই। আল্লাহ কালেমার ভিতরও মুহাম্মদ স্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নাম ঢুকিয়ে দিয়েছেন, মানে আমরা শুধু আল্লাহরই ইবাদত করবো, এবং শুধুমাত্র হযরত মুহাম্মদ স্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তরিকাতেই করবো। বিদআত মানুষকে গোমরাহ করে দেয়, সহিহ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। এই সকল ইবাদত আল্লাহ'র কাছে কবুল তো হয়ই না বরং গুনাহ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এমন আরেকটা দিবস আছে, অকারণেই ছুটি, সেটা হলো “ফাতেহা ই ইয়াজদহম”। এটা নিয়ে পরে আবার লিখবোনে ইনশা'আল্লাহ। আমি একবার আমার ৪/৫ জন জুনিয়রকে এই লম্বা লেকচার দিলাম। তারা খুব চুপচাপ মনোযোগ দিয়ে শুনলো। এরপর একজন সবার আগে বললো- “স্যার সবই বুঝলাম, কিন্তু আপনি যদি কখনো দেশের মন্ত্রী টন্ত্রী হন, এই ২ টা ছুটি কাইটেন না স্যার”। এই জন্যই মেবি এটা নিয়ে কেউ কথা বলেনা। কারণ ছুটিতো পাচ্ছি! হ্যাঁ, আমার যদি সুযোগ থাকতো আমি এই ছুটিগুলো কেটে দিতাম। কিন্তু অবশ্যই অন্য জায়গায় ছুটি বাড়ায়ে দিতাম। যেমন আমার মনে হয় রমজানের শেষ ১০ টা দিন সরকারি ছুটি দিয়ে দেওয়া উচিৎ, যাতে চাইলেই কেউ ইতিকাফে বসতে পারে বা মন ভরে কদর তালাশ করতে পারে। এমন কুরবানি ঈদের আগের দিন গুলোও ইবাদতের জন্য স্বীকৃত সময়। ঐ সময় ও ছুটি দেওয়া যায়। ঈদের আগের ছুটিটা একটু দীর্ঘায়িত করলে ঈদের মধ্যে এতো ট্র‍্যাফিক জ্যামও হয়তো কমে যেতো। আখেরী চাহার সোম্বা আফিয়া আদিবা রৌদ্রময়ী

  • видео или голосовое, без подписи

  • গতকালই আমার এক রোগী এসে খুব দুঃখ প্রকাশ করছিলেন। তাঁর দেবরের স্ত্রী মারা গিয়েছেন ডেঙ্গুতে, দুটো কোলের বাচ্চা রেখে। তাঁর মোবাইলে বাচ্চাদের ছবি দেখে মনটা ভীষণ খারাপ হলো। তিন দিনের জ্বর ছিল, তারপর জ্বর কমেও গিয়েছিল। জ্বর কমার এক দিন পরেই মাথা ঘুরে পড়ে গেলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং পরদিনই মৃত্যু হয় তাঁর। ভাইরাস মানেই আমার কাছে ভীষণ দুর্বোধ্য লাগে, জটিলও মনে হয়। অনেক ভাইরাসের কোনো ওষুধও নেই। ডেঙ্গুকেও আমার বেশ দুর্বোধ্য লাগে। ডেঙ্গু হতে পারে একাধিকবার, চারবার অবধি। আগে ডেঙ্গু হলে পরবর্তীবার আরও জটিল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। একেক সিজনে ডেঙ্গুর একেক রূপ দেখা যায়। অনেকভাবে ডেঙ্গু প্রাণসংহারক হতে পারে। কখনো রক্তচাপ একেবারে কমিয়ে শক সিনড্রোম হয়ে, কখনো প্লাটিলেট কমে মারাত্মক রক্তপাত হয়ে, কখনো বা শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গে আক্রমণ করে, যাকে এক্সপান্ডেড ডেঙ্গু বলা হয়। ডেঙ্গু আপনার হার্ট, লিভার, ব্রেইন, প্যানক্রিয়াস, কিডনি সহ যেকোনো জায়গায় সমস্যা করতে পারে। ডেঙ্গু নিয়ে অনেক কিছুই বলা যায়। আজকে মূলত একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে বলতে চাই। ডেঙ্গুতে জ্বর হরেক রকম হয়। কখনো একেবারে উত্তুঙ্গ জ্বর, কখনো মাঝারি বা একেবারে হালকা জ্বর, বা জ্বরের অস্তিত্ব সম্পর্কে ওয়াকিবহাল না থেকেও এমনকি ডেঙ্গু হতে পারে। তবে বেশির ভাগ সময়ই বেশ ভালোই জ্বর থাকে, সঙ্গে থাকে ভীষণ শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা। তবে ডেঙ্গুতে জ্বরের সময় তেমন কোনো জটিলতা দেখা দেয় না। ভেজাল শুরু হয় যখন ঠিক জ্বরটা কমে আসে। জ্বর কমে যাওয়ার পরের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময়কে বলা হয় জটিল পর্যায় বা ক্রিটিক্যাল ফেজ। এই সময়টাতেই রক্তনালি থেকে রক্তের একটা অংশ বেরিয়ে যেতে থাকে, যাকে প্লাজমা লিকেজ বলা হয়। ফলে ব্লাড প্রেসার কমতে থাকে, রক্ত ঘন হতে থাকে, প্লাটিলেট কমতে থাকে, গায়ে র‍্যাশ উঠতে পারে, পেটে বা বুকে পানি জমতে পারে। অথচ জ্বর কমার আনন্দে আমরা তখন বিশ্রাম-টিশ্রাম ছেড়ে আবারও দাপাদাপি শুরু করি, অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজে যাওয়া শুরু করি এবং স্যালাইন-ফ্যালাইন খাওয়ার কথা ভুলেই যাই। অথচ ডেঙ্গুতে ঠিক এই এক বা দুই দিন অত্যন্ত সাবধানে থাকতে হয়। আমরা হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের এই সময়টাতে খুবই খেয়াল রাখি, প্রয়োজনে স্যালাইন বাড়াই, প্রতিদিন সিবিসি-সহ প্রয়োজনে অন্যান্য পরীক্ষা করাই। তারপর প্লাটিলেট বাড়তে শুরু করলে, রক্ত পাতলা হতে শুরু করলে হাঁফ ছেড়ে বাঁচি। আমি দেখেছি, এই সময়টাতে অসাবধান থাকার কারণে রোগী খারাপ হয়, এতটাই খারাপ হয় যে হাসপাতালে নিয়ে যথাযথ চিকিৎসা শুরু করলেও মারাত্মক পরিণতি এড়ানো যায় না। তখন হয়তো আমরা ডাক্তারকে দায়ী করি, ভাগ্যের দোষ দিই। অথচ সময়মতো সাবধান হলে হয়তোবা বিপদ এড়ানো সম্ভব হতো। তবে একেবারে শতভাগ ক্ষেত্রে ডেঙ্গু এরকম আচরণ করে না, কিন্তু বেশির ভাগ রোগীই এরকমভাবেই সুস্থতার দিকে এগিয়ে যান। ডেঙ্গুতে প্রধান এবং বলতে গেলে একমাত্র চিকিৎসা হচ্ছে স্যালাইন—শিরায় বা মুখে খাওয়া। স্যালাইনের বিকল্প কিন্তু তেমন কিছু নেই। তবে অতিরিক্ত স্যালাইন বিপদ ডেকে আনতে পারে। জ্বরের সময়ে মুখে দিনে তিন থেকে চার প্যাকেট স্যালাইনই যথেষ্ট হতে পারে। সঙ্গে অন্যান্য তরল খাওয়া যেতে পারে। আর শিরায় স্যালাইন সবার লাগে না। যদি দিতে হয়, তাহলে দেখা যায় ভর্তি রোগীকে বেহুদা কারণে গাদা গাদা স্যালাইন দেওয়া হয়। আসলে জ্বরের সময় মুখে খেতে পারলে শিরায় স্যালাইন খুব একটা বেশি প্রয়োজন হয় না। জ্বর কমতে শুরু করলে প্রেসার মেপে স্যালাইনের পরিমাণ এক বা দুই দিনের জন্য বাড়ালেই চলে। আর সকলে খুব উৎকণ্ঠায় থাকেন প্লাটিলেট নিয়ে। আসলে ডেঙ্গুতে প্লাটিলেট অনেক অনেক কমে গেলেও খুব একটা সমস্যা করে না। প্লাটিলেট রক্তে দেওয়ার দরকারও খুব কমই হয়। প্লাটিলেট বাড়ানোর কোনো ওষুধ নেই। শুধু ধৈর্য ধরে ওই জটিল পর্যায়টুকু অতিক্রম করলেই প্লাটিলেট ধীরে ধীরে আবারও বাড়তে থাকে। ডেঙ্গুতে ভয় পাওয়ার দরকার নেই, তবে সচেতন তো থাকতেই হবে। সব রোগীর হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজনও হয় না। কথায় কথায় ওষুধপাতির দরকারও তেমন পড়ে না। শুধু সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত, পর্যাপ্ত স্যালাইন আর প্রচুর বিশ্রাম—বিশেষ করে জ্বর কমে যাওয়ার পর আরও পাঁচ-সাত দিন অন্ততপক্ষে। আর ছোট শিশু, বয়োবৃদ্ধ, গর্ভবতী এবং যাদের আরও অন্যান্য অসুস্থতা আছে, যেমন ডায়াবেটিস, হাই প্রেসার, কিডনি বা হার্টের রোগ ইত্যাদি, তাদের ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে একেবারে প্রথম থেকেই। জ্বর হলে একেবারে প্রথম দিন থেকেই ডেঙ্গু পরীক্ষা করা যায়, তাই জ্বর আসলে পরীক্ষা করে ফেললেই ভালো। শত্রুর উপস্থিতি না জানলে যুদ্ধ করা মুশকিল! সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। ডেঙ্গু আতঙ্ক শাহনূর শারমিন রৌদ্রময়ী

  • видео или голосовое, без подписи

  • হে ঈমানদারগণ! তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, ধৈর্যে দৃঢ়ভাবে অটল থাকো, আল্লাহর পথে অবিচল থাকো এবং আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফল হতে পার। (সূরা আলে ইমরান, ৩: ২০০)» সেই মুহূর্তে মনে হলো— প্রথমে কুরআন আমাকে বলেছিল— اصْبِرُوا — সবর করো। তারপর শিখিয়েছে— صَبْرٌ جَمِيلٌ — সুন্দর সবর করো। আর এবার শিখাল— صَابِرُوا — সবরের উপর দৃঢ় থাকো, সবর করো। সুবহানাল্লাহ! একই বিষয়, অথচ প্রতিবারই যেন নতুন একটি শিক্ষা। প্রথমে সবর। তারপর সুন্দর সবর। তারপর সেই সবরের উপর অবিচল থাকা। এটি শুধু ধৈর্যের আহ্বান নয়; বরং সবরকে জীবনব্যাপী সংগ্রামে রূপ দেওয়ার নির্দেশ। . আল্লাহ আমাকে একদিনে সবকিছু শেখাননি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে, প্রয়োজনের সময়ই নতুন নতুন অর্থ খুলে দিয়েছেন। হয়তো কুরআনের এটাই সৌন্দর্য। একই কিতাব বারবার পড়ি, একই আয়াত বারবার দেখি, অথচ প্রতিবারই মনে হয়— আল্লাহ যেন আজই নতুন করে আমার সঙ্গে কথা বলছেন। . বিদ্র: এটি শুধুই আয়াত পড়ে আমার অনুভূতি বলা। তাফসির পড়লে হয়তো আয়াতগুলো নাযিলের ভিন্ন প্রেক্ষাপট, ভিন্ন আলোচনা জানতে পারতাম। লেখার শুদ্ধটুকু আল্লাহর পক্ষ থেকে, ভুলগুলো আমার অজ্ঞতা ও শয়তানের পক্ষ থেকে। সবরের উপর দৃঢ় থাকো সিরাজাম বিনতে কামাল রৌদ্রময়ী

  • কেউ যখন আমাদের বলে, “একটু সবর করো”, তখন অনেক সময়ই আমরা বিরক্ত হই। মনে হয়, আর কত সবর করব? কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো— কুরআনও বারবার একই কথা বলে, “সবর করো।” তখন মনে প্রশ্ন জাগে, কেন আল্লাহ একটি শব্দ এতবার পুনরাবৃত্তি করেছেন? . “সবর”, “সবর”, “সবর”— এই শব্দটি কম-বেশি শোনেননি, এমন মানুষ হয়তো খুঁজে পাওয়া কঠিন। জীবনের প্রতিটি ধাপেই নাকি সবরের প্রয়োজন। কুরআনেও বিভিন্ন জায়গায় আল্লাহ বারবার সবর করার কথা বলেছেন। একবার ক্লাসে উস্তায একটি কথা বলেছিলেন, যা আজও আমার মনে গেঁথে আছে। তিনি বলেছিলেন— “আমরা প্রায়ই বলি— ‘আমার সবর নেই’, ‘আমি সবর করতে পারি না।’ অথচ এই কথাগুলোর মধ্যেও সবর আছে। কারণ, পৃথিবীর কোনো কিছুই তো সঙ্গে সঙ্গে হয়ে যায় না। একটি কাজ করতে, কোথাও পৌঁছাতে, একটি জিনিস পেতে— অন্তত ৫, ১০ কিংবা ৩০ মিনিটও অপেক্ষা করতে হয়। সেই অপেক্ষাটুকুও সবরের অন্তর্ভুক্ত।” সুবহানাল্লাহ! . তবে আজ আমি একটু ভিন্ন কথা বলব। কুরআন কীভাবে মানুষকে নিজের প্রতি আকৃষ্ট করে রাখে, কীভাবে একই কিতাব জীবনের ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্নভাবে হৃদয়ের সঙ্গে কথা বলে, কীভাবে প্রয়োজনের মুহূর্তে মানসিক স্বস্তি এনে দেয়— সে কথাই বলব। এটি সম্পূর্ণই আমার ব্যক্তিগত অনুভূতি। আলহামদুলিল্লাহ। মা শা আল্লাহ। লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। . পবিত্র কুরআনে “সবর” (صبر) এবং এর বিভিন্ন রূপ— যেমন اصبر، صابرين، صابروا ইত্যাদি— শতাধিকবার উল্লেখ হয়েছে। প্রথমদিকে কুরআনে বারবার পড়তাম— সবর করো। আল্লাহ সবরকারীদের ভালোবাসেন। আল্লাহ সবরকারীদের সঙ্গে আছেন। সবরকারীদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার। আরবি শব্দটি হলো صَبْر (সবর)। এর শাব্দিক অর্থ— নিজেকে আটকে রাখা, সংযত রাখা, দৃঢ়ভাবে টিকে থাকা, অবিচল থাকা। ইসলামে সবর মানে শুধু কষ্ট চুপচাপ সহ্য করা নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করা, সত্যের ওপর অটল থাকা এবং কঠিন সময়েও আল্লাহর প্রতি আস্থা না হারানো। অনেকে মনে করেন, সবর মানে শুধু কান্না চেপে রাখা কিংবা সময়ের অপেক্ষা করা। অথচ কুরআনের ভাষায় সবরের পরিধি অনেক বিস্তৃত। আল্লাহর ইবাদতে অবিচল থাকা— সবর। গুনাহের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নিজেকে সংযত রাখা— সবর। মানুষের কষ্ট, অপমান ও অবিচারের মধ্যেও সত্যের ওপর টিকে থাকা— সবর। বিপদে আল্লাহর ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্ট থাকা— সবর। অর্থাৎ, সবর একটি সক্রিয় ইবাদত; এটি দুর্বলতার নয়, বরং ঈমানের শক্তির পরিচয়। একটি শব্দ যখন কুরআনে এত বেশি পুনরাবৃত্তি হয়, তখন বোঝা যায় এটি একজন মুমিনের জীবনের অন্যতম মৌলিক গুণ। আল্লাহ বলেন— «إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন। (সূরা আল-বাকারাহ, ২: ১৫৩)» আল্লাহ ধনীদের সঙ্গে আছেন এ কথা বলেননি। ক্ষমতাবানদের সঙ্গে আছেন এ কথাও বলেননি। তিনি বলেছেন, তিনি সবরকারীদের সঙ্গে আছেন। একজন মুমিনের জন্য এর চেয়ে বড় সান্ত্বনা আর কী হতে পারে? . কিন্তু একসময় আমার মনোভাব এমন হয়ে গিয়েছিল, এখনো কি পর্যাপ্ত সবর হলো না? আর কত সবর করব? মনে হতো, কুরআন যেন শুধু একটি কথাই বলছে— সবর করো। ঠিক তখনই আল্লাহ আমাকে নতুন দুটি শব্দের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন।যদিও এর আগে কুরআন পড়েছি, অর্থও পড়েছি; কিন্তু এবার যেন শব্দ দুটি নতুনভাবে হৃদয়ে এসে ধরা দিল। صَبْرٌ جَمِيلٌ সবরুন জামীল- সুন্দর ধৈর্য। শব্দার্থ— صَبْرٌ = ধৈর্য جَمِيلٌ = সুন্দর, উত্তম, মর্যাদাপূর্ণ। এই কথাটি প্রথম বলেন নবী ইয়াকুব (আ.), যখন তাঁর প্রিয় সন্তান ইউসুফ (আ.)-এর বিচ্ছেদের সংবাদ তাঁকে দেওয়া হয়। «فَصَبْرٌ جَمِيلٌ অতএব, আমার অবলম্বন সুন্দর ধৈর্য। (সূরা ইউসুফ, ১২: ১৮)» সুন্দর ধৈর্য কেমন? এমন ধৈর্য, যেখানে মানুষের কাছে অভিযোগ কম, আল্লাহর কাছে দোয়া বেশি। যেখানে হতাশা নেই; আছে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ ভরসা। যেখানে কষ্ট আছে, কিন্তু আল্লাহর ফয়সালার প্রতি অসন্তোষ নেই। সুবহানাল্লাহ! আমি তখন ভাবলাম, আমার সবর করার ধরনটাই হয়তো বদলানো প্রয়োজন। বেসবরের মতন শুধু সবর করলেই হবে না। সবর হতে হবে— সবরুন জামীল। অন্য জায়গায় আল্লাহ তাঁর রাসূল ﷺ-কেও নির্দেশ দেন— «فَاصْبِرْ صَبْرًا جَمِيلًا অতএব, আপনি সুন্দর ধৈর্য ধারণ করুন। (সূরা আল-মাআরিজ, ৭০: ৫)» অর্থাৎ, সুন্দর ধৈর্য শুধু ইয়াকুব (আ.)- এর গুণ নয়; এটি প্রতিটি মুমিনের আদর্শ। . এই তো সেদিন সবর নিয়ে নতুন আরও একটি বিষয় জানলাম। আর ভাবছিলাম, না জানি সামনে আরও কত কী শেখার বাকি আছে সবর নিয়েই। আরও ভাবছিলাম, আল্লাহ কেন আমাকে একসঙ্গে সব শিক্ষা দেননি? কেন ধীরে ধীরে, সময় নিয়ে, প্রয়োজনের মুহূর্তে নতুন নতুন অর্থ খুলে দিচ্ছেন? সুবহানাল্লাহ! ঠিক যেমন, যখন যে সমস্যা— তখন তার চিকিৎসা। সূরা আলে ইমরানে আল্লাহ চারটি শক্তিশালী নির্দেশ দিয়েছেন— «يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اصْبِرُوا وَصَابِرُوا وَرَابِطُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

  • видео или голосовое, без подписи

  • পুতুল হয়তো নিজের শক্তিতে কথা বলতে পারে না, কিন্তু মানুষের দুর্বল মনস্তত্ত্ব এবং অশুভ শক্তির মেলবন্ধনে এটি হয়ে উঠতে পারে ধ্বংসের বাহন। ব্ল্যাক ম্যাজিক বা কালো জাদুতে পুতুলের ব্যবহার আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মানুষের অবয়ব নিয়ে খেলা করাটা মোটেও নিরাপদ নয়! পুতুল নিয়ে খেলা রোকাইয়া শেখ রৌদ্রময়ী

  • কোনো বস্তু যখন হুবহু মানুষের মতো দেখতে হয়, কিন্তু আসলে সে মানুষ নয়—তখন আমাদের মনে যে হাড়হিম করা অস্বস্তি তৈরি হয়, মনোবিজ্ঞানে তাকে বলা হয় ‘আনক্যানি ভ্যালি’ (Uncanny Valley)। ১৯৭০ সালে জাপানি রোবটিক্স বিশেষজ্ঞ মাসাহিরো মোরি এই ধারণাটি সামনে আনেন। শপিং মলের নির্জীব ম্যানিকুইন, সিলিকন রোবট কিংবা স্থির দৃষ্টির পুতুল আমাদের মস্তিষ্কে এক ধরণের ‘প্রাইমাল ফিয়ার’ বা আদিম ভয়ের সঞ্চার করে। কারণ আমাদের মস্তিষ্ক বুঝতে পারে না একে মানুষ হিসেবে গ্রহণ করবে নাকি জড় বস্তু হিসেবে। ভেন্ট্রিলোকুইজম বা পুতুল নাচের শিল্পে এই ‘আনক্যানি ভ্যালি’ তার চরম রূপ ধারণ করে। মঞ্চে একজন শিল্পী যখন একটি কাঠের পুতুলকে নিয়ে কথা বলেন, হাসেন বা রাগ করেন, তখন দর্শকের মনে এক বিভ্রম তৈরি হয়। কিন্তু দিনশেষে সেই পুতুলের কোনো আত্মা নেই। প্রচলিত লোকবিশ্বাস বলে, এই প্রাণহীন সত্তাগুলো মানুষের আত্মার প্রতি এক ধরণের গভীর ক্ষোভ পুষে রাখে এবং সুযোগ পেলেই মানুষের জীবনীশক্তি দখল করতে চায়! ইতিহাসে এমন অনেক ঘটনা আছে যেখানে দেখা গেছে, পারফর্মার যত বেশি দক্ষ হচ্ছেন, তার নিয়ন্ত্রণ করা পুতুলটি তত বেশি জীবন্ত হয়ে উঠছে, আর সমান্তরালভাবে শিল্পী নিজে প্রাণহীন হয়ে পড়ছেন। মিথ আছে যে, এই পুতুলগুলো ধীরে ধীরে শিল্পীর মানসিক সুস্থতা শুষে নিয়ে একসময় দাসের বদলে প্রভুর আসনে বসে পড়ে! এমন কিছু বাস্তব উদাহরণ: * এডগার বার্গেন ও চার্লি ম্যাকার্থি: বিংশ শতাব্দীর বিখ্যাত ভেন্ট্রিলোকুইস্ট এডগার বার্গেন তার পুতুল চার্লিকে সত্যিকারের মানুষ মনে করতেন। তিনি চার্লির জন্য আলাদা বেডরুম বানিয়েছিলেন। সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় হলো, বার্গেন তার উইলে নিজের মেয়ের জন্য কিছুই না রাখলেও চার্লির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ১০ হাজার ডলার রেখে গিয়েছিলেন! একটা সময় চার্লি এতটাই জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী হয়ে ওঠে যে, বার্গেন নিজে নিভৃতে চলে যান। তিনি বলতেন, "চার্লি যা করে তা তার নিজের যোগ্যতায় করে, আমি তো শুধু অপারেটর।" * ফোবে ও রুডি: ভেন্ট্রিলোকুইস্ট ফোবে অনুভব করেছিলেন তার পুতুল রুডি তাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। ভয়ে তিনি পারফরম্যান্স ছেড়ে রুডিকে একটি কাঠের বাক্সে বন্দি করেন। কিন্তু এর পর থেকেই তার জীবনে বিপর্যয় নেমে আসে। ফোবে দাবি করতেন, বাক্স থেকে রুডি তাকে নিয়মিত হুমকি দিত। এক সময় তার সেই হাতে (পাপেট আর্ম) ক্যান্সার ধরা পড়ে এবং হাতটি কেটে ফেলতে হয়। ফোবের বিশ্বাস ছিল, এটি রুডিরই প্রতিশোধ। * রবার্ট দ্য ডল: ১৯০৪ সালে তৈরি এই পুতুলটি অভিশপ্ত পুতুলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নাম। বর্তমানে ফ্লোরিডার মিউজিয়ামে রাখা এই পুতুলটির প্রথম মালিক ছিল এক শিশু। সে দাবি করত রবার্ট তার সাথে কথা বলে। কথিত আছে, রবার্ট নিজে নিজে মুখের অঙ্গভঙ্গি বদলাতে পারে এবং তার দিকে তাকালে মানুষের জীবনে বিপর্যয় নেমে আসে। রবার্টের প্রভাব এতটাই প্রবল ছিল যে, ২০০৫ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ তাকে উদ্দেশ্য করে একটি চিঠি লিখেছিল। * অ্যানাবেল: কানেকটিকাটের ওয়ারেন মিউজিয়ামে রাখা এই রাগ ডলটি নিয়ে সিনেমাও হয়েছে। এটিও আনক্যানি ভ্যালির এক বড় উদাহরণ যা মানুষের জীবনে বিভীষিকা বয়ে এনেছিল। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশু দিনের বেশিরভাগ সময় অতিমাত্রায় বাস্তবধর্মী ‘হিউম্যান ডল’ নিয়ে থাকে, বড় হয়ে তাদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা বা সহমর্মিতার অভাব দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কারণ তারা জড় বস্তুকে মানুষের বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করতে শেখে, যা তাদের সামাজিক মনস্তত্ত্বকে বিকৃত করে দেয়। এমনকি আদম পরিবারের সেই কুখ্যাত গণ-আত্মহত্যার স্থান থেকেও উদ্ধার করা হয়েছিল কিছু রহস্যময় মনুষ্যরূপী পুতুল! ইসলাম ধর্মে প্রাণীর ছবি বা মানুষের অবয়বের পুতুল ঘরে রাখা নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি কেবল ধর্মীয় বিধানই নয়, বরং এর পেছনে গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও আধ্যাত্মিক সুরক্ষা বিদ্যমান। ইসলামিক বিশ্বাস অনুযায়ী, যেখানে প্রাণীর ছবি বা মূর্তিসদৃশ পুতুল থাকে, সেখানে রহমতের ফেরেশতারা প্রবেশ করেন না। এটি মূলত শয়তান বা ক্ষতিকর জিনের আবাসস্থলে পরিণত হয়। মানুষের আকৃতি হওয়ার কারণে অশুভ সত্তারা এই পুতুলের কাঠামোকে খুব সহজেই ব্যবহার করতে পারে মানুষকে বিভ্রান্ত বা নিয়ন্ত্রণ করতে। ইসলামে মানুষ যাতে কোনো জড় বস্তুর প্রতি অতিমাত্রায় আবেগপ্রবণ হয়ে না পড়ে, সেই পথ বন্ধ করা হয়েছে। এডগার বার্গেন বা ফোবের মতো যদি কোনো ব্যক্তি পুতুলকে ‘মানুষ’ হিসেবে ভাবতে শুরু করেন, তখন তার ঈমান ও মানসিক ভারসাম্য—উভয়ই হুমকির মুখে পড়ে। মনস্তাত্ত্বিক যে জটিলতা বা ‘আনক্যানি ভ্যালি’র কথা বিজ্ঞান আজ বলছে, ইসলাম ১৪০০ বছর আগেই সেই অস্বস্তি ও বিপদের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। মানুষের আকৃতির নকল তৈরি করা প্রকারান্তরে সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টির সাথে পাল্লা দেওয়ার শামিল, যা মানুষের মনে অহংকার এবং পরে এক ধরণের আত্মিক শূন্যতা তৈরি করে!

  • видео или голосовое, без подписи

  • 8 авг.443308

    আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে মাইন্ড রিফ্রেশ রাখার কয়েকটা টিপস দিয়ে রাখি। ১। রাতে ঘুমানোর আগে শুকনো কাপড় থাকলে ভাজ করে ফেলবেন, ঘর এলোমেলো থাকলে মোটামুটি গুছিয়ে নিবেন, রান্নাঘরের কাজগুলো শেষ করে ফেলবেন। অসমাপ্ত কাজ রেখে ঘুমালে সকালে ঘুম ভাঙতেই ব্রেইন সেই কাজগুলো শেষ করার তাড়া অনুভব করবে তখন দিনটাই শুরু হবে স্ট্রেস দিয়ে। ২। ঘুমানোর আগে আগামী দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ২–৩টা কাজ ঠিক করে রাখবেন তাহলে সকালে কী দিয়ে শুরু করবেন তা নিয়ে পেরেশানি হবেনা। ৩। ঘুম ভাঙার পর সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল হাতে নিবেন না। দিনের শুরুতেই দুর্ঘটনা, খারাপ খবর বা এমন কিছু দেখলে সেটার প্রভাব সারাদিন জুড়েই থেকে যায়। ৪। যতই ব্যস্ত থাকেন সারাদিনে অল্প হলেও কিছু আমল বা যিকির অবশ্যই করবেন। কারণ আল্লাহর স্মরণ ছাড়া মন কখনো প্রকৃত প্রশান্তি পায় না আর পাবেওনা। ৫। কোনো বিপদ বা দুশ্চিন্তা এলেই আগে “হাসবিয়াল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকীল” পড়তে থাকবেন। সমস্যার আগে আল্লাহকে স্মরণ করলে মন দ্রুত স্থির হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। ৬। প্রতিদিন না পারলেও মাঝেমাঝে বারান্দায় বা ছাদে গিয়ে খোলা আকাশ দেখবেন, তাজা বাতাস নিবেন। বিশেষ করে ফজরের পরের ঠান্ডা বাতাসে কিছু সময় কাটাবেন। ৭। মাথায় কোনো দুশ্চিন্তা ঘুরতে থাকলে কাগজে লিখে ফেলবেন কিংবা একান্তই বিশ্বস্ত কারো সাথে শেয়ার করবেন। কেউ না থাকলে জায়নামাজ বিছিয়ে বসে পড়বেন আল্লাহকে বলবেন। আস্তে আস্তে মাথা থেকে বের হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। ৮। স্ক্রিনটাইম যতটা সম্ভব কমিয়ে দিন। আর মাঝে মাঝে চেষ্টা করবেন প্রয়োজন ছাড়া সারাদিনে একবারও ফোন হাতে না নিতে। বিশ্বাস করেন, ওই দিনগুলোই সবচেয়ে সুন্দর কাটবে। সর্বোপরি এটা যেহেতু দুনিয়া তাই সবকিছু একেবারে আমাদের ইচ্ছেমতো কখনোই হবেনা তাই আল্লাহর উপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল রাখবেন, সবরের সাথে চলবেন এবং প্রতিটি বিষয়ে তাঁর কাছেই সাহায্য চাইবেন। মাইন্ড রিফ্রেশ রাখতে... সাদিয়া সামহা রৌদ্রময়ী

  • видео или голосовое, без подписи

  • 6 авг.538163

    সেখানে সুযোগ হলে রবের কাছ থেকে না-হয় সব আবদার পূরণ করে নেবে! মহামহিম রবই তো মনের গভীর গোপন কুঠুরিতে লুকিয়ে রাখা সব আবদার পূরণের একমাত্র মালিক! অনন্ত সেই পরজগতে নীল শাড়িতে এলোমেলো খোলা চুলে প্রিয় মানুষটির হাত ধরে বৃষ্টিতে ভিজবে নাবিলা। কোনো এক বৃষ্টিভেজা দুপুর কেটে যাবে টিনের চালে বৃষ্টির শব্দের গাঢ় আবেশে। জান্নাতের মোহময় স্বপ্নে বিভোর হয়ে অন্য এক জগতে যেন হারিয়ে যায় নাবিলা... অল্প স্বল্প বৃষ্টির গল্প ইসমত আরা রৌদ্রময়ী

  • ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির দিনে হাজারো স্মৃতি এসে ভিড় জমায়—ছেলেবেলার, বড়বেলার। স্মৃতি সুখেরই হোক বা দুঃখের, বড় করুণ! সুখের স্মৃতি রোমন্থনে সাময়িক একটা ভালো লাগার আবেশ ছড়িয়ে গেলেও সেই সময়গুলো হারিয়ে ফেলার জন্য একটা দীর্ঘশ্বাস জাগে। আর কষ্টের স্মৃতিগুলো? কোনো একটা অজুহাত পেলেই এক পশলা বৃষ্টির মতো হুট করে এসে মনটাকে ভিজিয়ে দিয়ে যায়। তবে বৃষ্টিবেলায় নাবিলা ইদানীং আগের মতো বিষাদের কালো আচ্ছাদনে নিজেকে জড়িয়ে রাখে না। বরং বৃষ্টির সময়গুলোতে নিজের শত না-পাওয়ার তালিকা নিয়ে রবের কাছে দুআর ঝাঁপি খুলে বসে। রায়হান আজ ড্রাইভারকে নিয়ে দূরে কোথাও গিয়েছে। বলে গেছে, "আজ তোমাদের রিকশায় যেতে হবে।" নাবিলা তাই সারাহকে নিয়ে আজ স্কুলে রিকশাতেই এসেছে। সারাহকে রিকশা থেকে নামিয়ে স্কুলগেটে পৌঁছে দিয়ে এলো নাবিলা। ফিরে এসে যে জায়গায় রিকশা থেকে নেমেছিল, সেখানে এসে রিকশাওয়ালাকে খুঁজতে লাগল। কিন্তু এদিক-সেদিক কোনো দিকেই রিকশাওয়ালাকে দেখা যাচ্ছে না। — কই, নেই তো! কোথায় গেল? — চলে গেল নাকি? — কিন্তু কেন? নাবিলা খেয়াল করল, রিকশাওয়ালারা সবসময় যেখানে থাকে, জ্যাম আর বৃষ্টির কারণে ট্রাফিক পুলিশ তাদের সেখানে দাঁড়াতে দিচ্ছে না। নাবিলা এদিক-সেদিক খুঁজতে লাগল, কিন্তু কোনো পাত্তা নেই। ওহ! আজ তো সে রিকশাওয়ালার মুখটাও খেয়াল রাখেনি! অন্যদিন ঠিক ঠিক মনে রাখে—চেহারা কিংবা পোশাক। এখন সে কী করবে? সে না-হয় অন্য রিকশা পাবে, কিন্তু আগের চালকের ভাড়া যে বাকি! নাবিলা কয়েকজন রিকশাওয়ালাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করে— — এই যে ভাই! আমি কি আপনার রিকশায় এসেছি? সবাই মাথা নাড়ে। এবার সে রিকশার রেক্সিনের রঙের কথা মনে করে। — ইয়েস! পেস্ট কালার ছিল, বেশ আনকমন! কিন্তু না, এই মুহূর্তে দেখা যাচ্ছে পেস্ট কালারের রেক্সিনও কমন হয়ে গেছে! এতদিন তো ব্লু কালারই কমন ছিল! ঐ যে! দূরে রাস্তার ওপাশে একজন কার জন্য যেন ওয়েট করছে! — এই যে! নাবিলা হাতের ইশারায় ডাকে। রিকশাওয়ালা এপাশে এগিয়ে এলে বলে— — আমি কি আপনার রিকশায় এসেছি? — জ্বী আফা... — তা আপনি ওখানে গেলেন কেন? আমি এদিকে আপনাকে কত খুঁজছি! — আফা, এইদিগে কোনো রিকশারে খাড়াইতে দ্যায় না, হের লাইগা অইদিগ গেলাম। নাবিলা রিকশায় উঠে বসে। আসার সময় বৃষ্টির ঝাঁপটা যেন সারাহর গায়ে না লাগে, সেজন্য ছাতাটা ওদের সামনের দিকে মেলে ধরেছিল। এখন রিকশায় উঠেই ছাতাটা বন্ধ করে ফেলল। কিন্তু এই মুহূর্তে নাবিলার ইচ্ছে করছে ছাতাটা হাত থেকে ফেলে দিতে। ছাতা ফেলে দিয়ে রিকশার হুড নামিয়ে একাকী বৃষ্টিতে ভিজতে। রিকশায় বসে ভিজতে ভিজতে এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়াতে অন্তত আধাঘণ্টা। তারপর যখন হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসবে, আঙুলগুলো কিশমিশের মতো কুঁকড়ে আসবে; তখন রাস্তার পাশের কোনো এক টং দোকানে দাঁড়িয়ে ধোঁয়া ওঠা কড়া লিকারের এক কাপ গরম চা খাবে। নাবিলা তখন কাপের হাতল ধরবে না। ঠান্ডা হাত দুটো যেন উষ্ণতা পায়, সেজন্য কাপটা শক্ত করে ধরে রাখবে। চা খেয়ে বাসায় ফিরে কুসুম গরম পানিতে গোসল সেরে ফ্রেশ হবে। তারপর টাটকা গরম ভাত, সঙ্গে বেশি পেঁয়াজ আর কাঁচামরিচ দিয়ে ভাজা গরম গরম ইলিশ মাছ, আর পটল ভাজা... পেছনের রিকশার ধাক্কায় নাবিলার ভাবনার জাল ছিঁড়ে যায়। সে ভাবে, কিন্তু সে কীভাবে বৃষ্টিতে ভিজবে? বৃষ্টিতে যে তার কাপড় গায়ের সঙ্গে লেপ্টে যাবে! কী বাজে অবস্থা হবে! ছেলে-বুড়ো সবাই তাকিয়ে দেখবে। ভেজা গায়ে এত লোকের ভিড়ে টং দোকানেই বা সে চা খাবে কীভাবে! নাবিলার মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে যায়। ছেলেদের কত আনন্দ! যখন-তখন ইচ্ছে হলেই বৃষ্টিতে ভেজা যায়। নেই কোনো বারণ। ইচ্ছে হলেই টং দোকানে চা খেতে যাওয়া যায়। মেয়েদের ঠিকভাবে পর্দা মেইনটেইন করতে হয় বলেই এ জগতে অনেক কিছু চাইলেই করা যায় না। শুধু টং দোকানে চা খাওয়া নয়, বৃষ্টি এলে আরও কত কত ইচ্ছে যে ভিড় জমায় মনের আঙিনায়! বুক চিরে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে নাবিলার। ঝুম বৃষ্টিতে ওর মনটাও কেমন যেন ভিজে ওঠে। নাবিলার ইচ্ছে করে ভরা বর্ষার ঝুম বৃষ্টিতে প্রিয় মানুষটির হাত ধরে ভিজতে। কখনো সাদা শাড়ি পরে একসঙ্গে পদ্মবিলে চলে যেতে। কোনো একদিন শাপলা বিলে গিয়ে একগাদা শাপলা তুলে ফুলগুলোকে জড়িয়ে ধরে ছবি তুলতে। দায়িত্ব-কর্তব্য পালনের দিক থেকে রায়হানের কোনো ভুল ধরার উপায় নেই। কিন্তু নাবিলার সাদামাটা চাওয়াগুলোর সঙ্গে রায়হানের মন-মানসিকতা মিলতে চায় না। নাবিলা রায়হানের মন পড়তে পারে বলেই ওগুলো আর প্রকাশ করে না। জানে, রায়হান কখনো এগুলো করবে না, তার ভালো লাগবে না। রায়হান সাদামাটা জীবন পছন্দ করে না, অথচ সেই সাদামাটা জীবনের মাঝেই নাবিলা খুঁজে পায় জীবনের সব রঙ। নাবিলা ভাবে, দুনিয়ার জীবনটা তো এমনই হওয়ার কথা। এখানে তো সব আমাদের ইচ্ছেমতো হবে না। সব স্বপ্ন যদি এখানেই পূরণ হয়ে যেত, তবে জান্নাতের কোনো আকাঙ্ক্ষাই থাকত না। জান্নাতের স্বপ্নীল জীবনের জন্য হয়তো আমরা এতটা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতাম না। বুক চিরে আবার আসা দীর্ঘশ্বাস হাওয়ায় ভাসিয়ে দিতে দিতে নাবিলা ভাবে—থাক না! সব স্বপ্ন জমা থাকুক পরকালের জন্য!

  • видео или голосовое, без подписи

রৌদ্রময়ী — tgindex